সুরা নিসা কুরআন মাজিদের ৩য় তম সুরা। নিসা মানে নারী। আর সুরা নিসা তে নারী অধিকার সহ অনেক কিছু বর্ননা করা হয়েছে।
2.ভন্ডনবীদের দমন করেন কে?
a.হযরত আবু বকর
b.হযরত উমর
c.হযরত উসমান
d.হযরত ইমরান
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর (রাঃ) খিলাফতের দায়িত্ব পান। তাঁর সময়ে ৩৩জন ভন্ড নবীর আবির্ভাব ঘটে, যাদেরকে তিনি কঠোর হস্তে দমন করেন।
3.জাহান্নামীদের খাদ্য কোনটি?
a.সাকার
b.সাঈর
c.হালুয়া
d.যাক্কুম
4."না- কখন ও না্ । আল্লাহর কসম , তিনি কখনই আপনাকে অপদস্ত করবে না ।" এটি কার উক্তি?
a.বিবি হাজেরা
b.বিবি খাদীজা
c.বিবি ফাতেমা
d.বিবি মরিয়ম
নবি করিম সা. এর উপর ওহি নাযিল হওয়ার ঘটনা বিবি খাদিজার নিকট বর্ণনা করলে তিনি এ উক্তিটি করেন।
5.কিসের বিধি-বিধান অবিভাজ্য?
a.ঈমানের
b.ইসলামের
c.শরীয়াতের
d.ইজমার
ঈমান অর্থ বিশ্বাস।যারা আল্লাহ,তার রাসুল ও আসমানি কিতাব,আখিরাতে বিশ্বাসী তারাই মুমিন।
6.'ইসলামের সেতু' কোনটি?
a.যাকাত
b.হজ্জ্ব
c.নামায
d.কালিমা
যাকাত ইসলামর সেতু বন্ধন হিসাসে কাজ করে । যাকাতের খাত আটটি । যাকাতের মাধ্যমে ধনী ও দরীদ্রের মাধ্যেকার সম্পর্ক আরো গভির হয় । যাকাতের মধ্যমে অন্য ধর্মের লোকদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা সম্ভব।
7.হজ্জ্বের মাধ্যমে মানুষের মন থেকে দূর হয়-
a.মুনাফেকী
b.হিংসা-বিদ্বেষ
c.কৃপণতা
d.ভ্রাতৃত্ব
হজ্জ হচ্ছে একটি ফরজ ইবাদাত । আল্লাহ তায়ালা সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য হজ্জকে ফরজ করেছেন। হজ্জের মধ্যমে শারীরিক পরিশ্রম ও আর্থিক সম্পদ ব্যয় হয়।
8.কুরআন মাজীদে সাওমের কয়টি মৌলিক উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে?
a.তিনটি
b.চারটি
c.পাঁচটি
d.সাতটি
সাওমের উদ্দেশ্য
একজন মুসলিমের ওপর ফরয হলো, সাওম পালন করা ও কিয়ামুল লাইল করার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা যেসব কথা ও কর্ম হারাম করেছেন তা থেকে রক্ষার অনুশীলন করা। কারণ, সাওম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর আনুগত্য করা, আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা। আর স্বীয় মাওলার আনুগত্য করার মাধ্যমে প্রবৃত্তির চাহিদার বিপরীতে চলার জন্য মানবাত্মার সাথে সার্বক্ষণিক সংগ্রাম করা। আল্লাহ তা‘আলা যে সব বিষয়সমূহ নিষেধ করেছেন তার ওপর ধৈর্যের অনুশীলন করা। সাওমের উদ্দেশ্য শুধু খাওয়া, পান করা ও যাবতীয় সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকাই নয়। এ বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করেছেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ বর্ণনা পাওয়া যায়, যাতে তিনি বলেন,
«الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ، وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ »
“সাওম ঢালস্বরূপ, ফলে সাওম পালনকারী যেন অশ্লীল ও অপকর্ম না করে, যদি কোনো লোক গায়ে পড়ে বিবাদ করে বা গালি দেয় সে যেন বলে আমি সাওম পালনকারী, দু’ বার”।[1]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে আরও একটি হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যাতে তিনি বলেন,
«مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ»
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও তদনুযায়ী আমল করা ছাড়ল না, তার খানা ও পান করা ছেড়ে দেওয়াতে কোনো লাভ নেই”। উল্লিখিত হাদীস এবং এ ছাড়াও আরও অন্যান্য হাদীস দ্বারা এ কথা প্রমাণিত যে, একজন সাওম পালনকারীর ওপর ওয়াজিব হলো, আল্লাহ তা‘আলা যেসব বিষয়কে নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহ তা‘আলা যা করার নির্দেশ দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করা। এ ধরনের সাওম দ্বারা এ আশা করা যায় যে, একজন সাওম পালনকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রাপ্ত হবেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করবেন। আর সাওম পালনকারী তার সিয়াম ও কিয়াম কবুল হওয়ার আশা করতে পারেন।
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৪
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯০৩
9.শিশুদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন-
a.হযরত আনাস (রা)
b.হযরত সা'দ (রা)
c.হযরত উমর (রা)
d.হযরত আলী (রা)
শিশুদের মধ্যে ১০ বছর বয়সে হজরত আলী (রা.) ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। আর মহিলাদের মধ্যে খাদিজা (রা.)
10.ঈমান মানুষের অন্তরে সৃষ্টি করে আল্লাহর প্রতি-
a.অনুরাগ
b.আনুগত্য
c.শান্তি
d.সান্নিধ্য
ঈমান অর্থ হল বিশ্বাস।
আল্লাহর প্রতি একান্ত বিশ্বাসে মানুষের মাঝে আল্লাহর আনুগত্য ও ঈমানের দৃঢ়তার বৃদ্ধি পায়।
11.হিজরতকালে মহানবী (স) কোন গুহায় আশ্রয় নেন?
a.হেরা গুহায়
b.সাওর গুহায়
c.গিরি গুহায়
d.হেকরা গুহায়
হযরত মুহাম্মদ সাঃ যখন তার হিজরতের সাথী আবু বক্কর সিদ্দিক রাঃ কে নিয়ে যখন মদিনার দিকে যাচ্ছিলেন তখন কাফের তাদের ধরার জন্য উভয় দিক হতে অগ্রসর হোন, ফলে তারা আল্লাহর নির্দেশে সাওর পর্বতের গুহায় উভয়ই আশ্রয় নেন।
12.মুসলিম জাতির 'আদি পিতা' কে?
a.হযরত আদম (আ)
b.হযরত ইসমাইল (রা)
c.হযরত ইবরাহীম (আ)
d.হযরত শীষ (আ)
মুসলমানরা বিশ্বাস করে আল্লাহ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মানুষ হিসেবে আদম ও হাওয়া আঃ কে পাঠানো, তাদের ঔরস থেকে পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে, এ জন্য আদম আঃ কে মুসলমানদের আদি পিতা বলা হয়।
13.'যুননূরাইন' কার উপাধি?
a.যরত আলী (রা)
b.হযরত উমর (রা)
c.হযরত উসমান (রা)
d.হযরত আবু বকর (রা)
যুননুরাইন অর্থ 'দুই নুরের অধিকারী'। হযরত ওসমান (রা.) আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেছিলেন। পরে উনার মৃত্যুর পর হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আরেক কন্যা উম্মে রুকাইয়াকে বিয়ে করেছিলেন। নবী করিম সাঃ এর দুই মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন বলে তাঁকে যুননুরাইন উপাধি দেওয়া হয়।
14.সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও সুশাসনের মূল ভিত্তি কী?
a.নাগরিক অধিকার
b.আহদ
c.ইহসান
d.আদল
আদল শব্দের অর্থন্যায় বিচার করা, আদল আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ইনসাফ, সুবিচার বা সমান করে দেয়া ইত্যাদি। আদল হল; কুরআন ও সুন্নাহ মুতাবেক যাবতীয় কথা ও কাজে কম বা বেশি না করে মধ্য - পন্থা অবলম্বন করা। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় আল্লাহর নির্দেশিত বিধান অনুযায়ী যার যা হক্ব ও অধিকার আছে, তা আদায়ের সুষ্ঠু নীতিমালা ও সুব্যবস্থা করার নীতিই আদল, যাকে ইনসাফও বলা হয়।
15.ইসলামের দৃষ্টিতে নারী পুরুষ একে অপরের-
a.প্রতিযোগী
b.সহযোগী
c.কল্যাণকামী
d.সহায়ক
ইসলাম মনে করে, নারী ও পুরুষ অখণ্ড মানব সমাজের দু’টি অপরিহার্য অঙ্গ। পুরুষ মানব সমাজের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করলে, আরেকটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন নারী। নারীকে উপেক্ষা করে মানবতার জন্য যে কর্মসূচী তৈরি হবে তা হবে অসম্পূর্ণ। আল কোরআনের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّـهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّـهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
নিশ্চয়ই মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, ইবাদতকারী পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ ও নারী, খোদাভীরুপুরুষ ও নারী, ছদকা দানকারী পুরুষ ও নারী, রোযাদার পুরুষ ও নারিগণ এবং যে সকল পুরুষ ও নারী তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং যে সকল পুরুষ ও নারী আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের সকলের জন্যেই আল্লাহ তা’য়ালার কাছে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (সূরা আহযাব - ৩৫। )
এই পবিত্র আয়াতে, পুরুষ ও নারীকে পাশা - পাশি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা’য়ালা পুরস্কার দান ও ক্ষমা করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করেন নি।
16.মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ কী?
a.বিদ্যাবুদ্ধি
b.ধন-সম্পদ
c.আখলাক
d.সুনাম-সূখ্যাতি
আখলাক হচ্ছে আচরণের রীতি - নীতির সমষ্টি, যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত ও সংহত করে এবং যাকে চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে মানুষের অনুসরণ করা উচিত। আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম হবে যে তার নিজ চরিত্রকে সুন্দর করে। এ ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল(সাঃ) বলেন,
“তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিসর্বোত্তম, যে চরিত্রে দিক দিয়ে সুন্দর হয়। ” [বুখারী, মুসলিম]
মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ আখলাক
17.মানুষকে প্রধানত কয় ধরনের কর্তব্য পালন করতে হয়?
a.দু' ধরনের
b.তিন ধরনের
c.চার ধরনের
d.আট ধরনের
ব্যাখ্যাঃ কর্তব্য দুই ধরনেরঃ
১/সামাজিক দায়িত্ব /কর্তব্য।
২/মানবিক দায়িত্ব /কর্তব্য
18.হযরত মুয়াব (রা) কে ইয়ামেনে প্রেরণ করা হয়-
a.কাযি হিসেবে
b.প্রধানমন্ত্রী হিসাবে
c.রাষ্ট্রদূত হিসেবে
d.শাসনকর্তা হিসেবে
best ans
হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একটি নাম, একটি অনুপ্রেরণা। যে সকল মহান সাহাবী ইসলামের প্রচার, প্রসার ও নীতি অনুসরণে অগ্রগামী ছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম একজন। ইয়েমেনের রাজাদের দূত দল যখন ইসলামে দীক্ষিত হলেন, বিদায়ের সময় তারা রাসূল (সা.) এর নিকট এমন কোনো ব্যক্তিকে চাইলেন যিনি তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেবেন। তখন রাসূল (সা.) প্রিয় মুয়াজকেই বাছাই করলেন।
19.আল্লাহর আদেশ পালনের পর ফরয বা আবশ্যকীয় কাজ কোনটি?
a.শিক্ষকের সম্মান
b.হালাল রুজি উপার্জন
c.বড়দের সম্মান করা
d.ছোটদের প্রতি স্নেহ করা
আল কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে– ‘নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে। আর আল্লাহকে অধিকহারে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও’ (সূরা: জুমআ, আয়াত: ১০)। প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - এর আপন সুমিষ্ট জবান হতে এ সুসংবাদটিও অনুরণিত হলো– ‘ফরজ আদায়ের পর হালাল পন্থায় উপার্জনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ’ (বায়হাকী)।
20.প্রধান প্রধান আসমানী কিতাব কতটি?
a.৪টি
b.৫টি ৬টি ১০৪টি
c.৬টি ১০৪টি
d.১০৪টি
আল্লাহ তায়ালা সর্বোমোট একশত চারটি আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন তার মধ্যে প্রধান চারটি যথা -
তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কোরআন।
21.সালাত (নামাজ) মানুষকে কি করে?
a.সহনশীল করে
b.নম্র হতে শিক্ষা দেয়
c.মানুষকে মহান করে
d.সৎপথে পরিচালিত করে
নিশ্চয়ই সালাত অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। -সূরা আনকাবূত (২৯) : ৪৫
ইমাম তবারী, ইবনে কাসীর, কুরতুবী, আলূসীসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ তাফসীরকারের মত অনুসারে আয়াতের মর্ম হল, তাকবীর, তাসবীহ, কেরাত, আল্লাহর সামনে কিয়াম ও রুকু-সিজদাহসহ অনেক আমলের সমষ্টি হচ্ছে সালাত। এ কারণে সালাত যেন মুসল্লিকে বলে, তুমি কোনো অশ্লীল বা অন্যায় কাজ করো না। তুমি এমন প্রভুর নাফরমানী করো না, যিনি তোমার কৃত ইবাদতসমূহের প্রকৃত হকদার। তুমি এখন কীভাবে তাঁর অবাধ্য হবে, অথচ তুমি এমন আমল করেছ, যা তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ত্বকে প্রকাশ করে। এরপরও যদি তাঁর অবাধ্য হও তবে এর মাধ্যমে তুমি স্ববিরোধী কাজে লিপ্ত হলে। (আর স্ববিরোধী কাজের মাধ্যমে ব্যক্তি কোন্ স্তরে নেমে আসে সেটা তোমার ভালোই জানা আছে।) -রুহুল মাআনী, ১০/৪৮২
22.সুফীবাদকে ইসলাম ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কে?
a.ইমাম আবু হানিফা (র)
b.আল রাফী
c.ইমাম বোখারী (র)
d.ইমাম গাযযালী (র)
সুফীবাদকে ইসলাম ধর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ইমাম গাযযালী (র)।
আবু হামিদ মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ আল - গাজ্জালি (১০৫৮ - ১১১১) বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই ইমাম গাজ্জালী হিসেবে বেশি পরিচিত, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শিক্ষাবিদ ইমাম আল - গাজ্জালির ১০৫৮ সালে ইরানের খোরাসানের তুশ নগরীতে জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করেন। তার পিতার নামটিও ছিল তার নামের অনুরূপ, মুহাম্মদ।
মুহাম্মদের পিতা অর্থাৎ ইমাম গাজ্জালী - এর দাদার নাম ছিল আহমদ। তার পিতা মুহাম্মদ তখনকার সময়ে একজন স্বনামধন্য সূতা ব্যাবসায়ী ছিলেন। গাজল অর্থ সূতা, নামকরনের এই সামঞ্জস্যতা তাই তার বংশকে গাজ্জালী নামে পরিচিত করেছে।
আবার কারো মতে তিনি হরিণের চক্ষু বিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন, আর গাজাল অর্থ হরিণ, তাই পিতা মাতা তাকে শৈশবে আদর করে গাজ্জালী বলে ডাকতেন। উভয় বর্ণনানুসারে তাকে গাজ্জালী বা গাজালীও বলা হয়।
তিনি সে সময়ে ইরানের শিক্ষা নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেন। জ্ঞান অন্বেষণের জন্য তিনি দেশভ্রমণেও বেরিয়েছিলেন। ১১১১ সালে তিনি মারা যান।
23.পৃথিবীর নিকটতম আসমানের নাম--
a.লাওহে মাহফুজ
b.সপ্তম আসমান
c.বায়তুল ইযযাহ
d.চতুর্থ ফিততিব্ব
মহান আল্লাহ তায়ালা তৈরি করেছেন ৭ আসমান জমিন এবং পৃথিবীকে করেছেন সুসজ্জিত। আর তার আরশে আজিম হলো ৭তম আসমানে কিন্তু তিনি সকল জায়গায় বিরাজমান। তিনি ১তম আসমানে আসেন বান্দার তাহাজ্জুদ নামাজের সময়।
24.ভূগোল শাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রন্থের নাম--
a.কিতাবুল মানাযির
b.মুজম্মল বুলদান
c.কিতাবুল জিবার
d.কানুন ফিততিব্ব
ভূগোল শাস্ত্রের প্রামাণ্য গ্রন্থের নাম - - কিতাবুল জিবার।
25.মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রথম আবিষ্কারক--
a.হাসান ইবনে হাইসাম
b.স্যার আইজ্যাক নিউটন
c.আল বিরুনী
d.আলী-তাবারী
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রথম আবিষ্কারক - - স্যার আইজ্যাক নিউটন।
স্যার আইজ্যাক নিউটন (ইংরেজি: Sir Isaac Newton; ৪ জানুয়ারি ১৬৪৩ - ৩১ মার্চ ১৭২৭) প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। অনেকের মতে, নিউটন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী।
১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে তার বিশ্ব নন্দিত গ্রন্থ ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশিত হয় যাতে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিধৃত করেছিলেন।
এই সূত্র ও মৌল নীতিগুলোই চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, আর তার গবেষণার ফলে উদ্ভূত এই চিরায়ত বলবিজ্ঞান পরবর্তী তিন শতক জুড়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জগতে একক আধিপত্য করেছে।
26.শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তিমূল কি?
a.কঠোর আইন প্রণয়ন
b.আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ
c.আদল
d.প্রশাসনের আন্তরিকতা
আদল (আরবি: عدل, আদল) একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ন্যায়বিচার, এবং এটি ইসলামে আল্লাহর অন্যতম নাম। এটি বাহাই ধর্মের ইনসাফ নামক ধারণার সমার্থক। আদেল এবং আদিল, আদল শব্দটি থেকে প্রাপ্ত পুরুষবাচক নাম এবং এগুলো মুসলিম ও আরব বিশ্বে নাম হিসেবে প্রচলিত।
27.কোন মুসলিম মনীষী অঙ্কশাস্ত্রে বিশ্ববিখ্যাত ছিলেন?
a.আল-বিরুনী
b.আল-আবারী
c.আল-খারিযমী
d.আল-মুকাদ্দসী
মুসলিম মনীষী অঙ্কশাস্ত্রে বিশ্ববিখ্যাত ছিলেন আল - খারিযমী।
আল খারিজমি (৭৮০ - ৮৫০) মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খারিজমি।
খোয়ারিজমি রচিত কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলাতে তিনি রৈখিক এবং দ্বিঘাত সমীকরণ এর প্রথম পদ্ধতিগত সমাধান উপস্থাপন করেন। বীজগণিতে তার প্রধান সাফল্য ছিল বর্গের সাহায্যে দ্বিঘাত সমীকরণের সমধান, এর জন্য তিনি জ্যামিতিক প্রমাণ প্রদান করেন।
সর্বপ্রথম তিনিই বীজগণিতকে স্বাধীন শাখা হিসেবে তুলে ধরেন এবং সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন, তাই খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
28.কোনটি আখলাকে হাসীদাহ নয়?
a.সততা
b.ওয়াদা পালন
c.পরনিন্দা
d.শালীনতা
আখলাকে হামিদাহ বলতে মানুষের দৈনন্দিন কাজ কর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন-পরোপকারিতা,শালীনতাবোধ,সৃষ্টির সেবা,আমানত রক্ষা,শ্রমের মর্যাদা,ক্ষমা ইত্যাদি।
এখানে পরনিন্দা একটি অনুত্তম আচরন যা আখালাকে হামীদার বিপরীত।
29.ইয়ামামার যুদ্ধে কতজন হাফিযে কুরআন শহীদ হয়েছিলেন?
a.৫০ জন
b.৭০ জন
c.৯০ জন
d.১০০ জন
ইয়মামার যুদ্ধে 70 জন কোরআনের হাফিজ শাহাদাত বরণ করেন । আর তখন কোরআন বিলুপ্ত হওয়ার আসংখ্যায় কোরআন সংকলণ বোর্ড গঠন করা হয়।
30.নিচের কোনটি ঈমানের অঙ্গ?
a.স্বদেশপ্রেম
b.রক্তদান
c.রাতজাগা
d.চাষাবাদ করা
ইসলাম স্বাধীনতাকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইসলামে দেশপ্রেমকে ঈমানের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও বিজয় উদযাপন উপলক্ষে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশও দিয়েছে ইসলাম। তাছাড়া বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হুব্বুল ওয়াত্বানে মিনাল ঈমান অর্থাৎ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।’
নিজ জন্মভূমির প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে ভালোবাসা ছিল, তা অসাধারণ। শুধু তাই নয়, ইসলামের নবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে যেমন ছিল স্বদেশ প্রেম তেমনি তার সাহাবায়েকেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈনের মাঝেও বিদ্যমান ছিল এ দেশপ্রেম।
31.আল্লাহর পরিজন কারা?
a.মানুষ
b.ফেরেশতা
c.সমগ্র সৃষ্টি
d.নবীগণ
মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, পোষ্য, পরিচারক সবাই মিলে পরিজন।একটি পরিবার হল মানুষের কাছে দয়া ও ভালবাসার মতো মানবিক গুণাবলী বিকাশের সর্বোত্তম জায়গা।দায়িত্ব পালন কিংবা তাদের জন্য ব্যয়ভার বহন, ভরণ-পোষণ ইসলামে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পরিজনের প্রতি।পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার কিছু পরিজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (স.)। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ: ২১৫)
32.কিসে জীবনের সার্বিক কল্যাণ নিহিত?
a.শরীয়তের বিধি-বিধান পালনে
b.পিতামাতার সন্তুষ্টি অর্জনে
c.নফল ইবাদতে
d.মানব কল্যাণে
শরীয়তের জীবন বিধান হিসাবে চলা প্রত্যেম মানুষের দায়ীত্ব । ধর্মীয় জ্ঞান কখোনো মানুষকে ক্ষতির দিকে নিযে যায় না । তাই সকলের দায়ীত্ব হলো শরীয়ত নিয়ম কানুন মেনে চলা।
33.'আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর হাজ্জ পালন করা অবশ্য।' কোন সুরার অন্তর্গত?
a.সুরা আল-ইমরান
b.সুরা আল-হাজ্জ
c.সুরা আল-নাহল
d.সুরা আল-বাকারা
আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর হাজ্জ পালন করা অবশ্য। ' সুরা আল - ইমরান এর অন্তর্গত।
আল ইমরান মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের তৃতীয় সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ২০০টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ২০টি। আল ইমরান সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।
এই সূরার এক জায়গায় ‘‘আলি - ইমরান’’ বা 'ইমরানের বংশধরদের' কথা বলা হয়েছে । একেই আলামত হিসেবে এর নাম গণ্য করা হয়েছে। (এই সূরাটির নামের শুদ্ধ উচ্চারণ হলো 'আলি ইমরান')।
34.কোন কোন গোত্রের মধ্যে ফিজারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?
a.কুরাইশ ও বনু বকর
b.কুরাইশ ও কাইস
c.বনু বকর ও বনু নযীর
d.জুরহাস ও বনু নযীর
তৎকালীন আরবের প্রধান দুইটি শহর মক্কা ও তায়েফের মধ্য ফিজার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে একপক্ষ গাতাফান গোত্র ছাড়াও কায়েস আয়লান গোত্র এবং অন্য পক্ষ কুরাইশ ও বনু কিনানা গোত্র ছিল। যুদ্ধের প্রদান কারণ কি ছিল তা এখনও বিতর্কিত, কারণ হিসেবে নজদ এলাকার বাণিজ্যপথ এবং রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করা হয়ে থাকে।
35.বুখারী শরীফ কে সংকলন করেন?
a.ইমাম মোহাম্মদ ইবনে ইসমাইল
b.ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ
c.আবদুর রহমান ইবনে শুআইন
d.ইমাম আবু দাউদ
বুখারী শরীফ সংকলন করেন ইমাম মোহাম্মদ ইবনে ইসমাইল।
ইমাম বুখারী (জন্মঃ ১৯৪ হিঃ - মৃত্যুঃ ২৫৬ হিঃ ), আরব রীতি অনুযায়ী বংশধারাসহ পুরো নাম হলো মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ, একজন বিখ্যাত হাদীসবেত্তা ছিলেন।
তিনি "বুখারী শরীফ" নামে একটি হাদীসের সংকলন রচনা করেন, যা মুসলমানদের নিকট হাদীসের সবোর্ত্তম গ্রন্থ বিবেচিত হয়।
তার নাম মুহাম্মদ। উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ। আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস তার উপাধি। বুখারা তার জন্মস্থান বলে তাকে বুখারী বলা হয়।
36.'সাওম' -এর সময়কাল--
a.সুবহে সাদিক থেকে যোহর নামাজ পর্যন্ত
b.সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত
c.সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
d.দিন রাতের চব্বিশ ঘন্টা
রোযা বা রোজা , বা সিয়াম ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়।
সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ - বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা।
ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।
37.প্রধান আসমানী কিতাবের সংখ্যা কয়টি?
a.২টি
b.৩টি
c.৪টি
d.৫টি
আসমানি কিতাব ১০৪ টি কিন্তু প্রধান আসমানি কিতাব ৪ টি। যথা: তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর এবং কুরআন।
38.মসজিদ শব্দের অর্থ কি?
a.নামাজের স্থান
b.পবিত্র স্থান
c.ইবাদতের স্থান
d.সেজদার স্থান
39.আল্লাহ তায়ারার সাথে তুর পর্বতে কার কথোপকথন হয়?
a.হযরত ইব্রাহীম (আ)
b.হযরত সোলায়মান (আ)
c.হযরত ঈসা (আ)
d.হযরত মুসা (আ)
আল্লাহ তায়ারার সাথে তুর পর্বতে কথোপকথন হয় হযরত মুসা (আ)।
হযরত মুসা (আ) ইহুদি, খ্রিস্ট, এবং ইসলাম ধর্মে স্বীকৃত রাসুল বা ঈশ্বরের বার্তাবাহক। তিনি মোজেস নামেও পরিচিত ছিলেন।
কোরআনে মুসা (আলাইহিস সালাম) নাম অন্য নবীদের তুলনায় বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হয় যে মুসা (আলাইহিস সালাম) ১২০ বছর বেচে ছিলেন।
হযরত মুসা (আলাইহিস সালাম) এর সম্প্রদায়ের নাম ছিল বনী - ইসরাঈল। বলা হয়, তার মুজিযাসমূহ বিগত অন্যান্য নবী - রসূলগণের তুলনায় সংখ্যায় বেশি, প্রকাশের বলিষ্ঠতার দিক দিয়েও অধিক।
40.কোন খলিফা সর্বপ্রথম ইসলামী মুদ্রা চালু করেন?
a.হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা)
b.হযরত ওমর (রা)
c.হযরত ওসমান (রা)
d.হযরত আলী (রা)
খলিফা সর্বপ্রথম ইসলামী মুদ্রা চালু করেন হযরত ওমর (রা)।
উমর ইবনুল খাত্তাব (জন্ম ৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দ – মৃত্যু ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা এবং প্রধান সাহাবীদের অন্যতম। আবু বকর এর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় খলীফা হিসেবে দায়িত্ব নেন। উমর ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন।
ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল - ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়। আমীরুল মু’মিনীন উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। ইতিহাসে তাকে প্রথম উমর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
41.মসজিদে নববী কোথায় অবস্থিত?
a.মক্কায়
b.মিশরে
c.মদীনায়
d.ইরাকে
মসজিদে নববীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: -
মসজিদে নববী মানে নবীর মসজিদ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) মদিনা শরিফে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মদীনায় প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) - এর উট যে স্থানে প্রথম বসে পড়েছিল, সেই স্থানটিই হল মসজিদে নববীর কেন্দ্রস্থল। পবিত্র কাবা শরিফ মসজিদে হারামের পরেই মদিনা মসজিদের অবস্থান। মহানবীর হিজরতের আগ পর্যন্ত মদিনার নাম ছিল ইয়াসরিব। মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) ইয়াসরিবের নাম পাল্টে রাখেন মদিনা। হিজরতের পর মুসলমানদের নামাজের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক নির্মিত হয় মদিনা মসজিদ।
42.কোন নবীর উপাধি ছিল ইসরাইল?
a.হযরত ইব্রাহিম (আ)
b.হযরত ঈসা (আ)
c.হযরত ইয়াকুব (আ)
d.হযরত মুসা (আ)
হযরত ইয়াকুব আ: বনি ইসরাঈল বংশে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছেন।
43.কসর শব্দের অর্থ কি?
a.সময়মতো করা
b.পরে করা
c.কম করা
d.বুঝে করা
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের কতই না ভালবাসেন । আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার সফর কালে যাতে অতিরিক্ত কষ্ট না হয় সে জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ মুসাফিরদের জন্য বিধান দিয়েছে।
44.পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম সূরা কোনটি?
a.সূরা মাউন
b.সূরা লাহাব
c.সূরা কাওসার
d.সূরা ফালাক
পবিত্র কোরআনে সর্বোমোট একশত 114 টি সুরা আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ছোট সুরা হলো সুরা আল কাউছার
45.নামাজ কোন ধরনের শব্দ?
a.তুর্কি
b.আরবি
c.ফার্সি
d.উর্দু
অনেক বিদেশী ভাষা বাংলা ভাষায় যুক্ত হয়ে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ করেছে। তেমনই ফার্সি ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। নামাজ ফার্সি ভাষার শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
নামাযের আরবি প্রতিশব্দ সালাত।
কিন্তু ইসলাম যেহুতু অারবি কেন্দ্রিক তাই ইসলামের পরিভাষাগুলো অারবিতে উচ্চারন করাই উত্তম যেমন : সালাত, সওম,
46.পবিত্র কুরআনে কতগুলো আয়াত আছে?
a.৬৬৬০ টি
b.৬৬৬১ টি
c.৬৬৬৪ টি
পবিত্র কুরআনে ৬৬৬৬ টি আয়াত আছে।
ইসলামি ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড অংশে এটি ইসলামের নবি মুহাম্মদের নিকট অবতীর্ণ হয়। ইসলামের অনুসারীরা কুরআনকে একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বলে বিশ্বাস করে।
কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙ্ক্তি সংখ্যা ৬, ৬৬৬ টি; মতান্তরে ৬, ২৩৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়।
47.কোন বয়সের ইবাদত আল্লাহর কাছে খুব প্রিয়?
a.বালক বয়সের
b.যৌবন বয়সের
c.মধ্য বয়সের
d.বৃদ্ধ বয়সের
ব্যাখ্যা: যুবক বয়সের ইবাদত আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় । কোনো যুবক যদি নেক কাজের জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন তাহলে তা আল্লাহ আর ফেরত দেন না সাথে কবুল করেন ।
48.হাদিস সংকলনের যুগ কোনটি?
a.হিজরী দ্বিতীয় শতক
b.হিজরী তৃতীয় শতক
c.হিজরী চতুর্থ শতক
d.হিজরী পঞ্চম শতক
হাদিস সংকলনের যুগ হিজরী তৃতীয় শতক।
রাসূল সা. এর মুখনিসৃত পবিত্র বানী ইসলামের পরিপূর্ণতারই অংশ। আর এই মূল্যবান হাদীসসমূহ রাসুল সা. এর যুগ থেকে বর্তমানে আমাদের নিকট পর্যন্ত পৌছেছে। যুগে যুগে হাদীস সংরক্ষণ ও সংকলনের পেছনে রয়েছে বিশাল ইতিহাস।
এ বিষয়ে আলোচনার পূর্বে আমরা হাদীস শুদ্ধতার মাপকাঠি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব।
মুশরিকুন (মুশরিকের বহুবচন) হল তারা যারা শিরক অনুশীলন করে, যার আক্ষরিক অর্থ "সম্পৃক্ততা" এবং মুসলিমদের ঈশ্বর - আল্লাহ (ঈশ্বরের "সহযোগী" হিসাবে) পাশাপাশি অন্যান্য দেবতা ও দেবতাদের গ্রহণ করা বোঝায়।শব্দটি প্রায়শই বহুদেবতা হিসাবে অনুবাদ করা হয়। কুরআন মুশরিক ও আহলে কিতাবের মধ্যে পার্থক্য করে, পূর্ববর্তী শব্দটি মূর্তিপূজারীদের জন্য সংরক্ষণ করে, যদিও কিছু ধ্রুপদী ভাষ্যকার খ্রিস্টান মতবাদকে শিরকের একটি রূপ বলে মনে করেন। শিরককে কুফরের সবচেয়ে খারাপ রূপ হিসেবে ধরা হয় এবং কুরআনে এটিকে একমাত্র পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা ঈশ্বর ক্ষমা করবেন না (৪:৪৮, ৪:১১৬)
51.আহকামে শরীয়তকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
a.২ ভাগে
b.৩ ভাগে
c.৪ ভাগে
d.৫ ভাগে
আহকামে শরিয়তকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথাঃ (১)কুরআন ( ২)হাদিস ( ৩)ইজমা (৪) কিয়াস
52.ইসলাম কয়টি বিষয়ের উপর ঈমান আনার কথা বলেছে?
a.৪টি
b.৫টি
c.৬টি
d.৭টি
ইসলামে সাতটি বিষয়ের উপর ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে যথা: কালেমা , নামাজ , রোজা , হজ্জ , যাকাত, রিসালাত, আখেরাত ,
53.পবিত্র কুরআনে সর্বশেষ সূরা কোনটি?
a.সূরা ফিল
b.সূরা দহর
c.সূরা আলাক
d.সূরা আন-নাস
পবিত্র কুরআনে সর্বশেষ সূরা আন - নাস।
কুরআনে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে। সকল সূরা মিলিয়ে মোট আয়াতের (আয়াত আরবি শব্দ, এর সাহিত্যিক অর্থ নিদর্শন) সংখ্যা প্রায় ৬, ২৩৬ (মতান্তরে ৬৩৪৮টি অথবা ৬৬৬৬টি)। প্রত্যেকটি সূরার একটি নাম রয়েছে। কোরআন শরীফে প্রথম সূরা আল ফাতিহা এবং সর্বশেষ সূরা আন নাস।
54.পবিত্র কুরআনে মো্ট সূরা কয়টি?
a.১১৪ টি
b.১১৩ টি
c.১১২টি
d.১১১টি
পবিত্র কুরআনে মো্ট সূরা ১১৪টি।
ইসলামের অনুসারীরা কুরআনকে একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বলে বিশ্বাস করে। কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙ্ক্তি সংখ্যা ৬, ৬৬৬ টি; মতান্তরে ৬, ২৩৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়।