🏠 হোম Job Solution Bank Job Admission Academy (School & College) Current Affairs 🔑 লগইন করুন
হোম / Academy / নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) / ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
📝

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

🚀 পরীক্ষা দিন

অধ্যায়-০৫ : আদর্শ জীবনচরিত

📖 জনাব ‘ক’ ও জনাব ‘খ’ দুই ভাই। জনাব ‘ক’ এলাকার যুবকদ... জনাব ‘ক’ ও জনাব ‘খ’ দুই ভাই। জনাব ‘ক’ এলাকার যুবকদের নিয়ে একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন। তাদের মূল কাজ ছিল এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অন্যদিকে জনাব ‘খ’ তাঁর বিশাল ফলের বাগান থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি জনাব আসাদ সাহেব জনাব ‘খ’-কে বলেন, “তোমার এ জনকল্যাণমূলক কাজটির গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। তবে সমাজসেবা শুধু মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সার্বজনীন বিষয়।”
১.
জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে জনাব ‘খ’-এর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইসলামি সমাজসেবার মূল স্পিরিটকে নির্দেশ করে। তিনি যথার্থই বলেছেন যে, সমাজসেবা ও মানবসেবা কেবল মুসলমানদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন বিষয়। ইসলামি খিলাফত পরিচালনার সময় চারজন খলিফাই (খুলাফায়ে রাশেদিন) রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যে কোনো ধর্মেরই হোক না কেন— সমান মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বাইতুল মাল) থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিম দরিদ্র ও বৃদ্ধ নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হযরত উমর (রা.) একদা এক বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে ব্যথিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার জিজিয়া কর মওকুফ করে বাইতুল মাল থেকে আজীবন ভাতার ব্যবস্থা করেন। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর দানশীলতাও ছিল বিশ্বজনীন। উদ্দীপকের জনাব ‘খ’ তাঁর ফলের বাগান থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী জনাব ‘খ’-এর এই নিঃস্বার্থ দানশীলতা খুলাফায়ে রাশেদিনের সেই সুমহান অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিক চেতনার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। ইসলামে মানবসেবাকে সার্বজনীন রূপ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানবতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণই মূল লক্ষ্য, কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ নয়। অতএব, জনাব ‘খ’-এর এই মহৎ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি ইসলামের উদার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজসেবার বাস্তব প্রতিফলন।
২.
জনাব ‘ক’-এর শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর কোন শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাব ‘ক’-এর শান্তিসংঘটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যৌবনে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। আরবের জাহেলিয়াত যুগে সংঘটিত অন্যায় ও রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে নবিজি (স.)-এর মন কেঁদে ওঠে। তৎকালীন আরবে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অন্যায়-অত্যাচার ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরবের সমমনা কিছু যুবকদের সাথে নিয়ে এই শান্তিসংঘ গঠন করেন। উদ্দীপকে জনাব ‘ক’ ঠিক একই লক্ষ্য নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে, যার মূল কাজ হলো এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অতএব, উদ্দেশ্য এবং জনহিতকর কার্যক্রমের দিক থেকে জনাব ‘ক’-এর এই শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর সমাজসংস্কারক ও শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
৩.
হযরত ফাতিমা (রা.)-কে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘খাতুনে জান্নাত’ শব্দের অর্থ হলো জান্নাতের নারীদের নেত্রী বা সর্দারিনী। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর অত্যন্ত আদরের কন্যা এবং তিনি ছিলেন চরম ধৈর্য, পরম পরোপকার, তিল তিল আত্মত্যাগ ও অসাধারণ পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। দুনিয়াবি জাঁকজমক ও বিলাসিতা ত্যাগ করে তিনি আল্লাহর ইবাদত এবং ইসলামের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই অনন্য চারিত্রিক মহত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে জান্নাতের নারীদের সর্দার বা নেত্রী হিসেবে সুসংবাদ প্রদান করেন এবং এই কারণেই তাঁকে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয়।
৪.
হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘তাহেরা’ (পবিত্রা)।
📖 মজিদ সাহেব তাঁর এলাকায় একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। উক্ত... মজিদ সাহেব তাঁর এলাকায় একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। উক্ত ট্রাস্টের কাজ হলো দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই প্রদান ও উপবৃত্তি দেওয়া এবং এতিম অসহায়দের ভরণপোষণ করা। কিন্তু তাঁর বড় ভাই রশিদ সাহেব মনে করেন, সমাজসেবা কেবল মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ। তাই তিনি কেবল দরিদ্র মুসলমানদেরকেই দান করেন। জবাবে মজিদ সাহেব বলেন, “মানব সেবা সার্বজনীন, কোনো ধর্ম-বর্ণের গণ্ডিতে তা আবদ্ধ নয়।”
৫.
রশিদ সাহেবের মনোভাবের অসঙ্গতি খুলাফায়ে রাশেদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: দরিদ্র কেবল মুসলমানদেরই দান করার ব্যাপারে রশিদ সাহেবের যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব, তা খুলাফায়ে রাশেদিনের উদার ও সার্বজনীন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক। খুলাফায়ে রাশেদিনের চারজন খলিফাই ইসলামি খিলাফত পরিচালনার সময় রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যে কোনো ধর্মেরই হোক না কেন— সমান মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলে রাষ্ট্রীয় বাইতুল মাল বা কোষাগার থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিম (জিম্মি) দরিদ্র, বৃদ্ধ ও পঙ্গু নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতা ও মাসোহারা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হযরত উমর (রা.) একদা এক বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে ব্যথিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার জিজিয়া কর মওকুফ করে বাইতুল মাল থেকে আজীবন ভাতার ব্যবস্থা করেন। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর দানশীলতাও ছিল বিশ্বজনীন। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার স্পষ্ট গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানবসেবাকে কেবল ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হয়নি। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব যখন দান-দক্ষিণাকে কেবল মুসলমানদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান, তখন তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের সেই সুমহান অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিক চেতনার চরম লঙ্ঘন করেন। সুতরাং, বলা যায় যে রশিদ সাহেবের এই সংকীর্ণ ধারণা ইসলামের উদার সমাজসেবা ও খুলাফায়ে রাশেদিনের মহান আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও অসঙ্গতিপূর্ণ।
৬.
রশিদ সাহেবের মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের উক্তিটি মহানবি (স.)-এর কোন সমাজসেবামূলক কাজের মূল আদর্শ প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রশিদ সাহেবের সংকীর্ণ মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের সার্বজনীন উক্তিটি মহানবি (স.)-এর গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ (শান্তিসংঘ) এর মূল আদর্শকে প্রকাশ করে। আরবের জাহেলিয়াত যুগে যখন মারামারি এবং গোত্রীয় দাঙ্গা চরম আকার ধারণ করে, তখন মহানবি (স.) মাত্র ২০ বছর বয়সে আরবের অসহায়, আর্ত ও লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তির জন্য সমমনা যুবকদের নিয়ে হিলফুল ফুজুল শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। এই সংঘের মূল দর্শনই ছিল ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের সীমানা ছাড়িয়ে নিঃস্বার্থভাবে মজলুমের পাশে দাঁড়ানো ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব মনে করেন সমাজসেবা কেবল মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য, যা একটি অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যদিকে, মজিদ সাহেব ট্রাস্ট গঠন করে অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সার্বজনীন সেবা করছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, মানবসেবা কোনো ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। মজিদ সাহেবের এই বৈপ্লবিক ও কল্যাণমুখী মনোভাব নবি করিম (স.)-এর হিলফুল ফুজুলের অসাম্প্রদায়িক এবং আর্তমানবতার সেবার মূল আদর্শেরই অনুরূপ প্রতিফলন ঘটায়।
৭.
হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ‘জুন-নুরাইন’ শব্দের অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী। মহানবি (স.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মু কুলসুমকে পরপর বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন বলে হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। প্রথমে রাসুল (স.)-এর কন্যা রুকাইয়া তাঁর সহধর্মিণী ছিলেন। বদর যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) ইন্তেকাল করলে নবিজি তাঁর অপর কন্যা উম্মু কুলসুমকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। ইসলামের ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তির জীবনে এমন বিরল ও মহান সৌভাগের নজির নেই।
৮.
হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘ফারুক’ (সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী)।
📖 সজীব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে।... সজীব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে। তাদের মূল কাজ ছিল এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা, অসহায় মানুষদের সাহায্য করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একই এলাকার মহসিন সাহেব প্রতি বছর তাঁর বিশাল আমবাগান থেকে উপার্জিত আয়ের একটি বড় অংশ গরিবদের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন। তিনি সর্বদা সহজ-সরল জীবনযাপন করেন এবং কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
৯.
মহসিন সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে ধারণ করে— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মহসিন সাহেবের দানশীলতা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে। হযরত উসমান (রা.) আরবের কুরাইশ বংশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু বিপুল ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, লজ্জাশীল এবং মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অкатаরে দানশীলতার কারণে তাঁকে ‘গণি’ বা দানবীর বলা হতো। তিনি মদিনাবাসীর পানির তীব্র কষ্ট দূর করতে স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে ‘বীরে রুমা’ নামক কূপ ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেন, দুর্ভিক্ষে অভাবীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন এবং তাবুক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ খরচ একাই বহন করেন। উদ্দীপকের মহসিন সাহেবও তার আমবাগান থেকে অর্জিত আয়ের বিশাল একটি অংশ গরিবদের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন যা হযরত উসমান (রা.)-এর জনকল্যাণমূলক দানের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি মহসিন সাহেবের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করার বিষয়টি হযরত উসমান (ra.)-এর চারিত্রিক পবিত্রতা ও ধর্মপরায়ণতার আদর্শকে সুষ্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, মহসিন সাহেবের এই মানবহিতৈষী ও নৈতিক চরিত্র হযরত উসমান (রা.)-এর আদর্শেরই একটি উজ্জ্বল স্মারক, তাই উক্তিটি শতভাগ যথার্থ ও সত্য।
১০.
সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম রাসুল (স.)-এর কোন শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যৌবনে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। হিলফুল ফুজুল গঠনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল আরবের দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধ বা হরবুল ফিজার। এই যুদ্ধের বীভৎসতা ও জুলুম-নির্যাতন দেখে নবিজির কোমল প্রাণ কেঁদে ওঠে। ফলশ্রুতিতে আরবে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধ করা এবং মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরবের সমমনা কিছু যুবকদের নিয়ে এই শান্তিসংঘ গঠন করেন। উদ্দীপকে সজীব ও তার বন্ধুরা ঠিক একই লক্ষ্য নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে, যার মূল কাজ হলো এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং অসহায় ও নিঃস্ব মানুষকে সাহায্য করার মাধ্যমে সমাজে শান্তিময় পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা। অতএব, উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের দিক থেকে সজীবের এই যুবসংঘটি মহানবি (স.)-এর সমাজসংস্কার ও শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
১১.
হযরত আবু বকর (রা.)-কে ‘আতীক’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর অন্যতম উপাধি ছিল ‘আতীক’। আতীক শব্দের অর্থ মুক্ত বা প্রাচীন। মহানবি (স.) একদা হযরত আবু বকর (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত।” নবিজি (স.)-এর এই সুসংবাদ এবং তাঁর সুন্দর সুশ্রী অবয়বের কারণে তাঁকে ‘আতীক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও তিনি ইসলাম গ্রহণের প্রাচীনতম বা অগ্রগণ্য ব্যক্তি হওয়ার কারণেও এই উপাধি লাভ করেন।
১২.
হযরত উসমান (রা.) কত বছর খলিফা ছিলেন?
উত্তর: হযরত উসমান (রা.) ১২ বছর খলিফা ছিলেন।
📖 সাদেক সাহেব ও মালেক সাহেব দুই বন্ধু। সাদেক সাহেব প... সাদেক সাহেব ও মালেক সাহেব দুই বন্ধু। সাদেক সাহেব প্রতি বছর তাঁর ফসলের জমি হতে প্রাপ্ত শস্যের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় গরিবদের মাঝে বিতরণ করেন। অন্যদিকে মালেক সাহেব মদিনার সুপেয় পানির অভাব দূরীকরণের জন্য কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণে অর্থ সাহায্য করার মতো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।
১৩.
মালেক সাহেবের ইচ্ছাটি কোন সাহাবির চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ইসলামে তাঁর অবদানের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: মালেক সাহেবের ইচ্ছাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা, জুন্নুরাইন হযরত উসমান (রা.)-এর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সমাজসেবামূলক আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ অকাতরে ইসলামের প্রচার এবং মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেন। মদিনায় হিজরতের পর যখন মুসলমানদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন মদিনার ‘বীরে রুমা’ নামক মিষ্টি পানির কূপটি একজন ইহুদির মালিকানাধীন ছিল, যে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। মহানবি (স.)-এর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত উসমান (রা.) ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে সেই কূপটি ক্রয় করে তা মদিনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াকফ করে দেন। তדוপরি, মদিনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নামাযের স্থানসংকুলান করার লক্ষ্যে তিনি স্বীয় অর্থ ব্যয়ে মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মাণ করেন। উদ্দীপকের মালেক সাহেবও মদিনার পানির অভাব দূরীকরণে কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের অনুরূপ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা হযরত উসমান (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও কালজয়ী জনহিতকর কাজের হুবহু স্মারক। হযরত উসমান (রা.)-এর এই অনন্য দানশীলতার কারণেই তাঁকে ‘গণি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং মালেক সাহেবের ইচ্ছাটির মাধ্যমে খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুমহান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
১৪.
সাদেক সাহেবের ফসলের অংশ বিতরণের কাজটি ইসলামের কোন বিধানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাদেক সাহেবের স্বীয় জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কাজটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘ওশর’ (Ushr)-কে নির্দেশ করে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের জাকাতকে ওশর বলা হয়। ওশর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১/১০)। আল্লাহর দেওয়া বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ এবং কৃত্রিম উপায়ে বা খরচে সেচ দেওয়া ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ (১/২০) অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা শরিয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। উদ্দীপকে সাদেক সাহেব তাঁর নিজের জমিতে উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবী ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এটিই হলো ওশরের বিধান, যা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, সাদেক সাহেবের এই মহৎ ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি সরাসরি ইসলামের ওশরের বিধানেরই যথাযথ প্রতিফলন।
১৫.
বিদায় হজের ভাষণকে কেন মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ১০ম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) বর্ণ, গোত্র, जाति ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার ও সমতার এক কালজয়ী ঘোষণা প্রদান করেন বলে একে মানবাধিকারের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঘোষণাপত্র বলা হয়। এই ভাষণে তিনি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, দাসদাসীদের সাথে সদয় আচরণ, বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলোপ করে তাকওয়া বা সৎকর্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করেন। মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকায় একে মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়।
১৬.
হিলফুল ফুজুল কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়?
উত্তর: হিলফুল ফুজুল ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
📖 করিম সাহেব ও রহিম সাহেব দুই বন্ধু। করিম সাহেব প্রত... করিম সাহেব ও রহিম সাহেব দুই বন্ধু। করিম সাহেব প্রতি বছর তার ফসলের জমি হতে প্রাপ্ত শস্যের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গরিবদের মাঝে বিতরণ করেন। অন্যদিকে রহিম সাহেব মদিনার সুপেয় পানির অভাব দূরীকরণের জন্য কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণে অর্থ সাহায্য করার মতো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।
১৭.
রহিম সাহেবের ইচ্ছাটি কোন সাহাবির চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ইসলামে তাঁর অবদানের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রহিম সাহেবের ইচ্ছাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা, জুন্নুরাইন হযরত উসমান (রা.)-এর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সমাজসেবামূলক আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ অকাতরে ইসলামের প্রচার এবং মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেন। মদিনায় হিজরতের পর যখন মুসলমানদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন মদিনার ‘বীরে রুমা’ নামক মিষ্টি পানির কূপটি একজন ইহুদির মালিকানাধীন ছিল, যে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। মহানবি (স.)-এর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত উসমান (রা.) ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে সেই কূপটি ক্রয় করে তা মদিনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াকফ করে দেন। ত두পরি, মদিনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নামাযের স্থানসংকুলান করার লক্ষ্যে তিনি স্বীয় অর্থ ব্যয়ে মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মাণ করেন। উদ্দীপকের রহিম সাহেবও মদিনার পানির অভাব দূরীকরণে কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের অনুরূপ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা হযরত উসমান (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও কালজয়ী জনহিতকর কাজের হুবহু স্মারক। হযরত উসমান (রা.)-এর এই অনন্য দানশীলতার কারণেই তাঁকে ‘গণি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং রহিম সাহেবের ইচ্ছাটির মাধ্যমে খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুমহান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
১৮.
করিম সাহেবের ফসলের অংশ বিতরণের কাজটি ইসলামের কোন বিধানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের করিম সাহেবের স্বীয় জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কাজটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘ওশর’ (Ushr)-কে নির্দেশ করে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের জাকাতকে ওশর বলা হয়। ওশর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১/১০)। আল্লাহর দেওয়া বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ এবং কৃত্রিম উপায়ে বা খরচে সেচ দেওয়া ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ (১/২০) অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা শরিয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। উদ্দীপকে করিম সাহেব তাঁর নিজের জমিতে উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবী ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এটিই হলো ওশরের বিধান, যা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, করিম সাহেবের এই মহৎ ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি সরাসরি ইসলামের ওশরের বিধানেরই যথাযথ প্রতিফলন।
১৯.
বিদায় হজের ভাষণকে কেন মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ১০ম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) বর্ণ, গোত্র, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার ও সমতার এক কালজয়ী ঘোষণা প্রদান করেন বলে একে মানবাধিকারের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঘোষণাপত্র বলা হয়। এই ভাষণে তিনি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, দাসদাসীদের সাথে সদয় আচরণ, বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলোপ করে তাকওয়া বা সৎকর্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করেন। মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকায় একে মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়।
২০.
হিলফুল ফুজুল কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়?
উত্তর: হিলফুল ফুজুল ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
📖 সজীব ও রাজীব দুই ভাই। সজীব এলাকার যুবকদের সংগঠিত ক... সজীব ও রাজীব দুই ভাই। সজীব এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন, যার মূল কাজ হলো নির্যাতিতকে সাহায্য করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অন্যদিকে, রাজীব এলাকায় একটি চিকিৎসালয় ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জনাব আসাদ সাহেব রাজীবের জনহিতকর কাজ দেখে বলেন, “তোমার এই জনকল্যাণমূলক কাজ মধ্যযুগের একজন প্রখ্যাত মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানীর কথা মনে করিয়ে দেয়, যাঁর লেখা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সর্বজনীন আইনগ্রন্থ ইউরোপের চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
২১.
জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে রাজীবের জনকল্যাণমূলক কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত মনীষীর অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে রাজীবের জনকল্যাণমূলক কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত মনীষী হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র শেখ আবু আলী ইবনে সিনা (Avicenna)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের কারণে তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। জনাব আসাদ সাহেবের উক্তিতে ইঙ্গিতকৃত বিশ্বখ্যাত আইনগ্রন্থটি হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনুপম ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থটি মধ্যযুগ থেকে শুরু করে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ইউরোপের প্রধান প্রধান চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন- মন্টপিলিয়ার ও লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়) মূল পাঠ্যবই হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হতো। ইবনে সিনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহু যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক। তিনি সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট রোগ বাতাস ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং সংক্রামিত হয়। যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের ছোঁয়াচে প্রকৃতি এবং মেনিনজাইটিস (Meningitis) রোগের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো তিনি প্রথম নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেন। ওষুধবিজ্ঞান ও অ্যানাটমি শাস্ত্রে তাঁর অনন্য পর্যবেক্ষণ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। উদ্দীপকের রাজীব এলাকায় চিকিৎসালয় ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে মানবতার কল্যাণে যে সেবার হস্ত প্রসারিত করেছে, তা ইবনে সিনার জ্ঞানসাধনা ও সমাজসেবার সুমহান চেতনার দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। অতএব, মানবসভ্যতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ইবনে সিনার অবদান চিরস্মরণীয় এবং আসাদ সাহেবের বক্তব্যটি তাঁর কালজয়ী মহিমাকে শতভাগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে।
২২.
সজীবের শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর কোন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের শান্তিসংঘটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যুব বয়সে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আরবের অন্ধকার যুগে কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী ‘ফিজার যুদ্ধ’ বা অন্যায় সমরের বীভৎসতা ও নৃশংসতা দেখে নবিজির কোমল মন গভীরভাবে ব্যথিত হয়। যুদ্ধের পর আরবের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ এবং মজলুম ও নির্যাতিতদের সাহায্য করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কার সমমনা যুবকদের একত্রিত করে ‘হিলফুল ফুজুল’ শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। উদ্দীপকের সজীবও হুবহু একই লক্ষ্য নিয়ে এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে একটি শান্তিসংঘ তৈরি করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ও কাজ হলো সমাজের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মারামারি-দাঙ্গা হাঙ্গামা দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সুতরাং, উদ্দেশ্য এবং গঠনপ্রক্রিয়ার দিক থেকে সজীবের এই শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর আদর্শিক ও বাস্তব প্রতিফলন।
২৩.
হযরত ফাতিমা (রা.)-কে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘খাতুনে জান্নাত’ শব্দের অর্থ জান্নাতী নারীদের নেত্রী বা জান্নাতের নারী সমূহের সম্রাজ্ঞী। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর অত্যন্ত আদরের ও সর্বকনিষ্ঠ তনয়া। তাঁর সুমহান চরিত্র, অসীম ধৈর্য, পরম ধার্মিকতা এবং ইবাদত-বন্দেগির জন্য তিনি নারীজাতির আদর্শ। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন যে, ফাতিমা হলো জান্নাতের রমণীকুলের নেত্রী। পরকালীন জীবনে জান্নাতের সকল পুণ্যবতী নারীদের ওপর তাঁর এই নেতৃত্বের সুউচ্চ মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হওয়ায় তাঁকে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয়।
২৪.
হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘তাহেরা’ (পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক)।
📖 মুশফিক সাহেব তাঁর জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অং... মুশফিক সাহেব তাঁর জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় গরিবদের মাঝে বিতরণ করেন। তাঁর এক বন্ধু রফিক সাহেব মদিনার সুপেয় পানির অভাব দূরীকরণে মদিনাবাসীর জন্য কূপ খনন ও মসজিদে নববীর সম্প্রসারণে সাহায্য করার ন্যায় একটি কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। মুশফিক সাহেব তাঁর বন্ধুকে বলেন, ইসলামে মানবসেবার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুল (স.) এ জন্য শান্তি সংঘ গঠন করেছিলেন।
২৫.
রফিক সাহেবের ইচ্ছাটি কোন সাহাবির চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? তাঁর উক্ত কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও।
উত্তর: রফিক সাহেবের ইচ্ছাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা, জুন্নুরাইন হযরত উসমান (রা.)-এর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সমাজসেবামূলক আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ অকাতরে ইসলামের প্রচার এবং মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেন। মদিনায় হিজরতের পর যখন মুসলমানদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন মদিনার ‘বীরে রুমা’ নামক মিষ্টি পানির কূপটি একজন ইহুদির মালিকানাধীন ছিল, যে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। মহানবি (স.)-এর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত উসমান (রা.) ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা (মতান্তরে বিপুল অর্থ) ব্যয় করে সেই কূপটি ক্রয় করে তা মদিনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াকফ করে দেন। ত두পরি, মদিনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নামাযের স্থানসংকুলান করার লক্ষ্যে তিনি স্বীয় অর্থ ব্যয়ে মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মাণ করেন। উদ্দীপকের রফিক সাহেবও মদিনার পানির অভাব দূরীকরণে কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের অনুরূপ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা হযরত উসমান (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও কালজয়ী জনহিতকর কাজের হুবহু স্মারক। হযরত উসমান (রা.)-এর এই অনন্য দানশীলতার কারণেই তাঁকে ‘গণি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং রফিক সাহেবের ইচ্ছাটির মাধ্যমে খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুমহান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
২৬.
মুশফিক সাহেবের ফসলের অংশ বিতরণের কাজটি ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মুশফিক সাহেবের স্বীয় জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কাজটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘ওশর’ (Ushr)-কে নির্দেশ করে。 ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের জাকাতকে ওশর বলা হয়। ওশর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১/১০)। আল্লাহর দেওয়া বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ এবং কৃত্রিম উপায়ে বা খরচে সেচ দেওয়া ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ (১/২০) অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা শরিয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। উদ্দীপকে মুশফিক সাহেব তাঁর নিজের জমিতে উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবী ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এটিই হলো ওশরের বিধান, যা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, মুশফিক সাহেবের এই মহৎ ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি সরাসরি ইসলামের ওশরের বিধানেরই যথাযথ প্রতিফলন।
২৭.
হযরত উমর (রা.)-কে ‘ফারুক’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘ফারুক’ শব্দের অর্থ সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী। হযরত উমর (রা.) প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের পর মক্কার কাফিরদের সমস্ত ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে মুসলমানদের সাথে নিয়ে কাবা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে সালাত আদায় ও হিজরতের ঘোষণা করেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক ও নির্ভীক পদক্ষেপের মাধ্যমে আরবে সত্য এবং মিথ্যার মাঝে স্পষ্ট ব্যবধান সূচিত হয়েছিল। উমরের এই অসীম সাহসিকতা এবং ইসলামের শক্তি ও সত্যের জয় ঘোষণা করায় মহানবি (স.) তাঁকে ‘ফারুক’ বা সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী উপাধিতে ভূষিত করেন।
২৮.
হযরত আবু বকর (রা.)-এর পিতার নাম কী?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর পিতার নাম উসমান, তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনাম ছিল আবু কুহাফা।
📖 মজিদ সাহেব তাঁর এলাকায় একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। উক্ত... মজিদ সাহেব তাঁর এলাকায় একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। উক্ত ট্রাস্টের কাজ হলো দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই প্রদান ও উপবৃত্তি দেওয়া এবং এতিম অসহায়দের ভরণপোষণ করা। কিন্তু তাঁর বড় ভাই রশিদ সাহেব মনে করেন, সমাজসেবা কেবল মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ। তাই তিনি কেবল দরিদ্র মুসলমানদেরকেই দান করেন। জবাবে মজিদ সাহেব বলেন, “মানব সেবা সার্বজনীন, কোনো ধর্ম-বর্ণের গণ্ডিতে তা আবদ্ধ নয়।”
২৯.
রشد সাহেবের মনোভাবের অসঙ্গতি খুলাফায়ে রাশেদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: দরিদ্র কেবল মুসলমানদেরই দান করার ব্যাপারে রশিদ সাহেবের যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব, তা খুলাফায়ে রাশেদিনের উদার ও সার্বজনীন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক। খুলাফায়ে রাশেদিনের চারজন খলিফাই ইসলামি খিলাফত পরিচালনার সময় রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যে কোনো ধর্মেরই হোক না কেন— সমান মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলে রাষ্ট্রীয় বাইতুল মাল বা কোষাগার থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিম (জিম্মি) দরিদ্র, বৃদ্ধ ও পঙ্গু নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতা ও মাসোহারা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হযরত উমর (রা.) একদা এক বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে ব্যথিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার কর মওকুফ করে বাইতুল মাল থেকে আজীবন ভাতার ব্যবস্থা করেন। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর দানশীলতাও ছিল বিশ্বজনীন। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার স্পষ্ট গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানবসেবাকে কেবল ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হয়নি। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব যখন দান-দক্ষিণাকে কেবল মুসলমানদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান, তখন তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের সেই সুমহান অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিক চেতনার চরম লঙ্ঘন করেন। সুতরাং, বলা যায় যে রশিদ সাহেবের এই সংকীর্ণ ধারণা ইসলামের উদার সমাজসেবা ও খুলাফায়ে রাশেদিনের মহান আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও অসঙ্গতিপূর্ণ।
৩০.
রشد সাহেবের মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের উক্তিটি মহানবি (স.)-এর কোন সমাজসেবামূলক কাজের মূল আদর্শ প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রশিদ সাহেবের সংকীর্ণ মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের সার্বজনীন উক্তিটি মহানবি (স.)-এর গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ (শান্তিসংঘ) এর মূল আদর্শকে প্রকাশ করে। আরবের জাহেলিয়াত যুগে যখন মারামারি এবং গোত্রীয় দাঙ্গা চরম আকার ধারণ করে, তখন মহানবি (স.) মাত্র ২০ বছর বয়সে আরবের অসহায়, আর্ত ও লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তির জন্য সমমনা যুবকদের নিয়ে হিলফুল ফুজুল শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। এই সংঘের মূল দর্শনই ছিল ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের সীমানা ছাড়িয়ে নিঃস্বার্থভাবে মজলুমের পাশে দাঁড়ানো ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব মনে করেন সমাজসেবা কেবল মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য, যা একটি অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যদিকে, মজিদ সাহেব ট্রাস্ট গঠন করে অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সার্বজনীন সেবা করছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, মানবসেবা কোনো ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। মজিদ সাহেবের এই বৈপ্লবিক ও কল্যাণমুখী মনোভাব নবি করিম (স.)-এর হিলফুল ফুজুলের অসাম্প্রদায়িক এবং আর্তমানবতার সেবার মূল আদর্শেরই অনুরূপ প্রতিফলন ঘটায়।
৩১.
হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ‘জুন-নুরাইন’ শব্দের অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী। মহানবি (স.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মু কুলসুমকে পরপর বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন বলে হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। প্রথমে রাসুল (স.)-এর কন্যা রুকাইয়া তাঁর সহধর্মিণী ছিলেন。 বদর যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) ইন্তেকাল করলে নবিজি তাঁর অপর কন্যা উম্মু কুলসুমকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। ইসলামের ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তির জীবনে এমন বিরল ও মহান সৌভাগ্যের নজির নেই।
৩২.
হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘ফারুক’ (সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী)।
📖 সজীব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে।... সজীব তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে। তাদের মূল কাজ ছিল এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা, অসহায় মানুষদের সাহায্য করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একই এলাকার মহসিন সাহেব প্রতি বছর তার বিশাল আমবাগান থেকে উপার্জিত আয়ের একটি বড় অংশ গরিবদের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন। তিনি সর্বদা সহজ-সরল জীবনযাপন করেন এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
৩৩.
মহসিন সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে ধারণ করে— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মহসিন সাহেবের দানশীলতা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে। হযরত উসমান (রা.) আরবের কুরাইশ বংশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু বিপুল ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, লজ্জাশীল এবং মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অкатаরে দানশীলতার কারণে তাঁকে ‘গণি’ বা ধনী বা দানবীর বলা হতো। তিনি মদিনাবাসীর পানির তীব্র কষ্ট দূর করতে স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে ‘বীরে রুমা’ নামক কূপ ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেন, দুর্ভিক্ষে অভাবীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন এবং তাবুক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ খরচ একাই বহন করেন। উদ্দীপকের মহসিন সাহেবও তার আমবাগান থেকে অর্জিত আয়ের বিশাল একটি অংশ গরিবদের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন যা হযরত উসমান (রা.)-এর জনকল্যাণমূলক দানের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি মহসিন সাহেবের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করার বিষয়টি হযরত উসমান (রা.)-এর চারিত্রিক পবিত্রতা ও ধর্মপরায়ণতার আদর্শকে সুষ্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, মহসিন সাহেবের এই মানবহিতৈষী ও নৈতিক চরিত্র হযরত উসমান (রা.)-এর আদর্শেরই একটি উজ্জ্বল স্মারক, তাই উক্তিটি শতভাগ যথার্থ ও সত্য।
৩৪.
সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম রাসুল (স.)-এর কোন শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যৌবনে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। হিলফুল ফুজুল গঠনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল আরবের দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধ বা হরবুল ফিজার। এই যুদ্ধের বীভৎসতা ও জুলুম-নির্যাতন দেখে নবিজির কোমল প্রাণ কেঁদে ওঠে। ফলশ্রুতিতে আরবে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অন্যায়-অत्याচার প্রতিরোধ করা এবং মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরবের সমমনা কিছু যুবকদের নিয়ে এই শান্তিসংঘ গঠন করেন। উদ্দীপকে সজীব ও তার বন্ধুরা ঠিক একই লক্ষ্য নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে, যার মূল কাজ হলো এলাকার মারামারি, dাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং অসহায় ও নিঃস্ব মানুষকে সাহায্য করার মাধ্যমে সমাজে শান্তিময় পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা। অতএব, উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের দিক থেকে সজীবের এই যুবসংঘটি মহানবি (স.)-এর সমাজসংস্কার ও শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
৩৫.
হযরত আবু বকর (রা.)-কে ‘আতীক’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর অন্যতম উপাধি ছিল ‘আতীক’। আতীক শব্দের অর্থ মুক্ত বা প্রাচীন। মহানবি (স.) একদা হযরত আবু বকর (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত।” নবিজি (স.)-এর এই সুসংবাদ এবং তাঁর সুন্দর সুশ্রী অবয়বের কারণে道を ‘আতীক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও তিনি ইসলাম গ্রহণের প্রাচীনতম বা অগ্রগণ্য ব্যক্তি হওয়ার কারণেও এই উপাধি লাভ করেন।
৩৬.
হযরত উসমান (রা.) কত বছর খলিফা ছিলেন?
উত্তর: হযরত উসমান (রা.) ১২ বছর খলিফা ছিলেন।
📖 শফিক ও রফিক দুই ভাই। তারা তাদের এলাকায় একটি দাতব্য... শফিক ও রফিক দুই ভাই। তারা তাদের এলাকায় একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ও পাঠাগার স্থাপন করেছে। তাদের দেখাদেখি এলাকার হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে সকল যুবক তাদের এই সমাজসেবামূলক কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এলাকার মুরুব্বি জাহিদ সাহেব যুবকদের এই ঐক্যবদ্ধ কাজ দেখে বলেন, “তোমাদের এই সম্মিলিত প্রয়াস আমাকে মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বিশ্বখ্যাত একটি সর্বজনীন আইনগ্রন্থের কথা মনে করিয়ে দেয়।”
৩৭.
জাহিদ সাহেবের উক্তিতে যে মুসলিম মনীষীর ইঙ্গিত রয়েছে— চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: জাহিদ সাহেবের উক্তিতে ইঙ্গিতকৃত বিখ্যাত মুসলিম মনীষী হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র ইবনে সিনা (র.) এবং তাঁর বিশ্বখ্যাত আইনগ্রন্থটি হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে ইবনে সিনা এক অবিস্মরণীয় নাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অসামান্য ও বৈপ্লবিক অবদানের জন্য তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর রচিত ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ গ্রন্থটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সর্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ, যা মধ্যযুগে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধান পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হতো। ইবনে সিনা সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে, কিছু রোগ বায়ু এবং পানির মাধ্যমে ছড়ায়। তিনি যক্ষ্মা বা টিবি রোগের সংক্রামক প্রকৃতি এবং মেনিনজাইটিস রোগের নিখুঁত বিবরণ দেন। এছাড়াও ওষুধবিজ্ঞান, অস্ত্রোপচার (Surgery) এবং অ্যানাটমি শাস্ত্রে তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তিনি প্রায় ৭৬০টি ওষুধের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উদ্দীপকের জাহিদ সাহেবের বক্তব্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই মহান পথপ্রদর্শকের ঐতিহাসিক অবদান ও তাঁর সর্বজনীন চিকিৎসা-আইনগ্রন্থের অসামান্য মহিমাকে নির্দেশ করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে শতভাগ সত্য এবং এর মূল্যায়ন অপরিসীম।
৩৮.
শফিক ও রফিকের কর্মকাণ্ডে আরবের যুবকদের যে মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে— তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শফিক ও রফিকের কর্মকাণ্ডে আরবের যুবকদের মধ্যে যে পরোপকার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা ফুটে উঠেছে, তা মহানবি (স.)-এর প্রতিষ্ঠিত ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের মূল চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ। আরবের বর্বর যুগে অন্যায়, অবিচার এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য নবিজি (স.) আরবের উৎসাহী যুবকদের নিয়ে এই সংঘ গঠন করেন, যেখানে সকল গোত্রের যুবকেরা অন্যায় প্রতিরোধে একতাবদ্ধ হয়েছিল। উদ্দীপকে শফিক ও রফিক তাদের এলাকায় দাতব্য চিকিৎসালয় ও পাঠাগার স্থাপন করার পর, তাদের এই মহান উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দু ও মুসলিম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল যুবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেয়। যুবকদের এই ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সমাজ সংস্কারের জন্য একজোট হওয়ার মানসিকতা মূলত হিলফুল ফুজুলের আদর্শেরই বাস্তব রূপ। যুবসমাজের এই সম্মিলিত কল্যাণমুখী মানসিকতা সমাজে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
৩৯.
বিদায় হজের ভাষণকে মানবধিকারের ঘোষণাপত্র বলা হয় কেন?
উত্তর: ১০ম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) ভাষণ প্রদান করেন। বর্ণ, গোত্র, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানবজাতির মৌলিক অধিকার ও সমতার এক কালজয়ী ঘোষণা প্রদান করেন বলে একে মানবাধিকারের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঘোষণাপত্র বলা হয়। এই ভাষণে তিনি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, দাসদাসীদের সাথে সদয় আচরণ, বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলোপ করে তাকওয়া বা সৎকর্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করেন। মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকায় একে মানবাধিকারের সনদ বলা হয়।
৪০.
হিলফুল ফুজুল শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হিলফুল ফুজুল শব্দের অর্থ শান্তিসংঘ বা কল্যাণ সমিতি (আক্ষরিক অর্থ ফুজুল নামক ব্যক্তিবর্গের চুক্তি)।
📖 হাজেরা খাতুন একজন শিক্ষিত গৃহিণী। তিনি মনে করেন পর... হাজেরা খাতুন একজন শিক্ষিত গৃহিণী। তিনি মনে করেন পরিবারের পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে তিনি নিজ বাড়িতে একটি ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তিনি অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। কাজের শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও হাজেরা খাতুন পরিবারের সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার সাথে সাথে সন্তানদের ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
৪১.
বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হাজেরা খাতুনের ভূমিকা হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনআদর্শের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা নারী আত্মনির্ভরশীলতায় হাজেরা খাতুনের ভূমিকা উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজা (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শের আলোকে অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তার সার্থক প্রতিফলন। হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের মক্কার সম্ভ্রান্ত ও শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যবসায়ী নারী। তিনি কেবল নিজেই বড় ব্যবসায়ী ছিলেন না, বরং তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর সমস্ত অর্জিত সম্পদ ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে অкатаরে বিলিয়ে দেন। উদ্দীপকের হাজেরা খাতুনও নারীদের স্বাবলম্বী করার মহৎ উদ্দেশ্যে কুটির শিল্প স্থাপন করেন এবং এলাকার অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। হাজেরা খাতুনের এই উদ্যোগটি হযরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা, স্বাবলম্বিতা এবং সমাজহিতৈষী কর্মকাণ্ডের আধুনিক রূপ। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও প্রগতি ফিরিয়ে আনার যে শিক্ষা হযরত খাদিজা (রা.) ১৪০০ বছর আগে দিয়ে গেছেন, হাজেরা খাতুনের ভূমিকা তারই অনুরূপ। অতএব, বলা যায় যে হাজেরা খাতুনের কার্যক্রম হযরত খাদিজা (রা.)-এর আদর্শিক ও অর্থনৈতিক সমাজসেবার মূল চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
৪২.
হাজেরা খাতুনের গৃহস্থালি দায়িত্ব পালন দিকটি কোন মহীয়সী নারীর জীবনআদর্শের প্রতিফলন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাজেরা খাতুনের গৃহস্থালি দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের সুশিক্ষা দেওয়ার দিকটিতে খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা (রা.)-এর পবিত্র জীবনআদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন যেমন একাধারে নবিজির প্রিয় কন্যা, তেমনি তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.)-এর সহধর্মিণী এবং ইমাম হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর রত্নগর্ভা মাতা। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নিজ হাতে ঘাঁতা পেষা, কুয়া থেকে পানি আনা এবং রান্না করাসহ সংসারের যাবতীয় কঠিন কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করতেন। এর পাশাপাশি তিনি সন্তানদের উত্তম নৈতিকতা ও ইসলামের মহান আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন। উদ্দীপকের হাজেরা খাতুনও কুটির শিল্প পরিচালনার সমস্ত ব্যস্ততা সামলিয়ে পারিবারিক ও গৃহস্থালি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন এবং সন্তানদের ইসলামী আদর্শে বড় করে তোলেন, যা হযরত ফাতিমা (রা.)-এর ঘরোয়া দায়িত্বশীলতা ও আদেশ মাতৃত্বের গুণের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
৪৩.
আবু বকর (রা.)-কে ‘সিদ্দিক’ বলা হয় কেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) নবি করিম (স.)-এর মেরাজের ঘটনা কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া সর্বপ্রথম বিশ্বাস করেছিলেন বলে তাঁকে ‘সিদ্দিক’ বা মহাসত্যবাদী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। যখন আরবের কাফিররা মেরাজের অবিশ্বাস্য বিবরণ শুনে উপহাস করছিল, তখন আবু বকর (রা.) দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, রাসুল (স.) যদি বলে থাকেন তবে তা নিঃসন্দেহে সত্য। তাঁর এই পরম বিশ্বাসের স্বীকৃতিস্বরূপ নবিজি তাঁকে ‘সিদ্দিক’ উপাধি দেন।
৪৪.
হযরত ফাতিমা (রা.) কার কন্যা ছিলেন?
উত্তর: হযরত ফাতিমা (রা.) বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সর্বকনিষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রিয় কন্যা ছিলেন।
📖 ইকবাল ও তার বন্ধুরা অবসর সময়ে আড্ডা দিয়ে দিন কাটাত... ইকবাল ও তার বন্ধুরা অবসর সময়ে আড্ডা দিয়ে দিন কাটাত। তাদের অভিভাবকগণ পরামর্শ দিলেন যে, তোমরা শুধু আড্ডা না দিয়ে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ কর। অভিভাবকদের পরামর্শে তারা একটি কল্যাণ সমিতি গঠন করে এলাকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসে। তাদের এই জনহিতকর কাজে এলাকার যুবসমাজ উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের সাথে যোগ দিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, অত্যাচার দূর করতে ব্রতী হয়।
৪৫.
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি উক্ত সমাজসেবামূলক কাজের মূল লক্ষ্যকে নির্দেশ করে— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো— 'তাদের এই জনহিতকর কাজে এলাকার যুবসমাজ উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের সাথে যোগ দিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, অত্যাচার দূর করতে ব্রতী হয়।' এই উক্তিটি মহানবি (স.)-এর 'হিলফুল ফুজুল' বা শান্তিসংঘের মূল লক্ষ্যকে পুরোপুরি নির্দেশ করে। মহানবি (স.) যে উদ্দেশ্যে হিলফুল ফুজুল গঠন করেছিলেন, তার মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল— দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করা এবং অত্যাচারিতকে সাহায্য করা, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করা এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইকবালের কল্যাণ সমিতির জনহিতকর কাজ দেখে এলাকার অন্য যুবকেরাও উদ্বুদ্ধ হয় এবং সমাজ থেকে অন্যায় ও অত্যাচার দূর করার জন্য একতাবদ্ধ হয়। হিলফুল ফুজুলের মূল মন্ত্রই ছিল যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো। সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি যে হিলফুল ফুজুলের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার দূর করার আদেশিক লক্ষ্যকে নির্দেশ করে, তা বিশ্লেষণাত্মকভাবে শতভাগ যথার্থ।
৪৬.
ইকবাল ও তার বন্ধুদের গঠিত কল্যাণ সমিতি মহানবি (স.)-এর কোন সমাজসেবামূলক কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইকবাল ও তার বন্ধুদের গঠিত কল্যাণ সমিতি মহানবি (স.)-এর গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ。 ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বীভৎসতা বাল্যকালেই মহানবি (স.)-এর কোমল মনে গভীর রেখাপাত করে। যুদ্ধ শেষে আরবের অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের আর্তনাদ দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। এই পরিস্থিতিতে আরবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আর্তমানবতার সেবার উদ্দেশ্যে তিনি সমমনা যুবকদের নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন, যা ইতিহাসে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে ইকবাল ও তার বন্ধুরা প্রথম দিকে আড্ডা দিয়ে সময় অপচয় করলেও অভিভাবকদের পরামর্শে তারা একটি কল্যাণ সমিতি গঠন করে এবং এলাকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসে। তাদের এই পদক্ষেপটি মহানবি (স.)-এর যুব বয়সে আর্তমানবতার সেবায় গঠিত ‘হিলফুল ফুজুল’ এর মূল উদ্দেশ্য ও জনকল্যাণমূলক দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়।
৪৭.
মদিনা সনদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মদিনায় বসবাসকারী মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টাব্দ ও পৌত্তলিক প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শান্তি, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, ইতিহাসে তা ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। এই সনদে মোট ৪৭টি ধারা ছিল। এর ফলে মদিনায় একটি আদেশ ও শান্তিময় প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
৪৮.
হযরত মুহাম্মদ (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
📖 মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা রহুল আমিনের একমাত্র সন্তান... মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা রহুল আমিনের একমাত্র সন্তান আঃ রহমান ছয় বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। ১৬ বছর বয়সে রাসূলের (স.) অসংখ্য হাদিস হৃদয়ঙ্গম করেন। পরবর্তীতে রাসূলের (স.) অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদিসের সমন্বয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। একই গ্রামের চাটলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেমন- দ্রবণ, পরিশ্রাবণ, লোহার মরিচা রোধ ইত্যাদি বিষয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বলেন, এজন্যই মধ্যযুগের একজন মুসলিম মনীষীকে এ শাস্ত্রের জনক বলা হয়।
৪৯.
বিজ্ঞান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনীষীকে চিহ্নিতপূর্বক প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বিজ্ঞান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের সাথে রসায়নশাস্ত্রের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের সাদৃশ্য রয়েছে। রসায়নশাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্যই তাঁকে এ শাস্ত্রের জনক বলা হয়, যা প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান দক্ষিণ আরবের আযদ বংশে 7২২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাইয়ানও একজন চিকিৎসক ছিলেন। গণিতশাস্ত্রে শিক্ষা লাভ শেষে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি কুফায় চিকিৎসা জীবন শুরু করলেও এর মধ্যে তিনি রসায়নশাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি কুফায় একটি 'বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা' করে মৃত্যু পর্যন্ত (৮০৪ খ্রি.) সেখানেই গবেষণারত ছিলেন। রসায়নকে তিনি সর্বপ্রথম বিজ্ঞানের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রসায়ন ও বিজ্ঞানের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যথা— পরিশ্রাবণ, দ্রবণ, ভস্মীকরণ, বাষ্পীকরণ, গলানো প্রভৃতি তাঁরই আবিষ্কার। তিনি তাঁর গ্রন্থে ধাতুর শোধন, তরলীকরণ, বাষ্পীকরণ, ইস্পাত তৈরির প্রক্রিয়া, লোহার মরিচা রোধক বার্নিশ, কাপড়ে ও চামড়ায় রং করা, চুল কালো করার খিজাব প্রভৃতির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বর্ণনা করেন। জাবির ইবনে হাইয়ানের এই সকল মৌলিক আবিষ্কারের ফলেই আধুনিক রসায়ন আজকের এই উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই প্রধান শিক্ষকের এই মন্তব্য যে, 'এজন্যই মধ্যযুগের একজন মুসলিম মনীষীকে এ শাস্ত্রের জনক বলা হয়'— শতভাগ যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত।
৫০.
আঃ রহমানের স্মৃতিশক্তির সাথে কোন মুসলিম মনীষীর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আঃ রহমানের স্মৃতিশক্তির সাথে আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম বুখারি (র.)-এর সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। বাল্যকাল থেকে জ্ঞানের প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। তিনি খুব তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। ফলেু ছয় বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করে ফেলেন। দশ বছর বয়স থেকেই হাদিস মুখস্থ করা আরম্ভ করেন। ১৬ বছর বয়সেই তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ও আল্লামা ওয়াকি-এর লেখা হাদিস গ্রন্থদ্বয় মুখস্থ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর মা ও ভাইসহ হজ করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে গমন করেন। সেখানে তিনি হিজাজের মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে হাদিসশাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন। একাধারে ছয় বছর হাদিস বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার পর তিনি হাদিস সংগ্রহ করার জন্য kuফা, বাগদাদ, বসরা, মিশর, সিরিয়া, আসকালান, হিমস, দামেস্ক ইত্যাদি স্থানে গমন করেন। তিনি লক্ষাধিক হাদিস সনদসহ মুখস্থ করেন। তিনি স্বাধীনচেতা ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন বিধায় কোনো রাজা-বাদশার দরবারে গমনাগমন করতেন না। প্রদত্ত উদ্দীপকের আঃ রহমানের স্মৃতিশক্তির কথা ইмам বুখারির স্মৃতিশক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
৫১.
“আমি জ্ঞানের শহর এবং আলি উহার দরজা” – ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জ্ঞান-সাধনায় হযরত আলি (রা.)-এর অসাধারণ বুৎপত্তির প্রেক্ষিতে বলা হয়, আমি জ্ঞানের শহর অর্থাৎ মহানবি (স.) জ্ঞানের শহর এবং আলি উহার দরজা। হযরত আলি (রা.) অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিলেন。 ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন জ্ঞানতাপস ও জ্ঞানসাধক। তিনি সর্বদা জ্ঞানচর্চা করতেন। হাদিস, তাফসির, আরবি সাহিত্য ও আরবি ব্যাকরণে তিনি তাঁর যুগের সেরা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কথিত আছে, "হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন জ্ঞানের শহর, আর আলি হলেন তার দরজা।" তাঁর রচিত 'দিওয়ানু আলি' নামক কাব্যগ্রন্থটি আরবি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। আমরাও সর্বদা হযরত আলি (রা.)-এর মতো জ্ঞান সাধনা করব।
৫২.
دارুল আরকাম কী?
উত্তর: دارুল আরকাম হলো শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মহানবি (স.) কর্তৃক মক্কায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
📖 জামিল সাহেব টোকী এলাকার একজন শিল্পপতি। তিনি এলাকার... জামিল সাহেব টোকী এলাকার একজন শিল্পপতি। তিনি এলাকার মানুষের পানির তীব্র সংকট দূর করার উদ্দেশ্যে দশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে একটি পানির পাম্প স্থাপন করেন। এছাড়া এলাকায় মুসল্লিদের তুলনায় মসজিদ ছোট হওয়ায় তা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেন। তাঁর সহধর্মিণী মিসেস নাবিলা নিয়মিত সালাত আদায়ের পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক বিধানগুলো মেনে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সংসারের সকল কাজ নিজ হাতে সম্পাদন করেন।
৫৩.
জামিল সাহেবের কার্যক্রম হযরত উসমান (রা.)-এর জীবনআদর্শের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: হযরত উসমান (রা.) আরবদের শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন ছিলেন। ৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর সম্পদ অকাতরে মানবসেবা ও ইসলামের জন্য ব্যয় করেছেন। তিনি মদিনাবাসীর পানির অভাব দূর করার জন্য ১৮০০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে একটি কূপ কিনে তা ওয়াকফ করে দেন। মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে প্রচুর খাবার বিতরণ করেন। ব্যক্তিগত খরচে মসজিদে নববির সম্প্রসারণ করেন। তাবুক যুদ্ধে ১০০০০ হাজার মুজাহিদদের ব্যয়ভার একা বহন করেন এবং এক হাজার উট দান করেন। এমনিভাবে হযরত উসমান (রা.) তাঁর দানের হস্ত সর্বদা উন্মুক্ত রাখতেন。 উদ্দীপকের জামিল সাহেব টোকী এলাকার মানুষের পানির অভাব দূর করতে দশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পানির পাম্প স্থাপন করে দেন। এলাকার মসজিদটি মুসল্লিদের তুলনায় ছোট হওয়ায় নিজ অর্থ ব্যয়ে মসজিদ সম্প্রসারিত করে দেন। জামিল সাহেবের উক্ত কাজগুলো হযরত উসমান (রা.)-এর জীবনআদর্শের অনুরূপ। হযরত উসমান (রা.) দানের ক্ষেত্রে যেমন দিল দরিয়া ছিলেন, তেমনি জামিল সাহেবও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাই জামিল সাহেবকে হযরত উসমান (রা.)-এর প্রতিচ্ছবি বললে অত্যুক্তি হবে না।
৫৪.
মিসেস নাবিলার কাজের মাধ্যমে কোন মহীয়সী নারীর আদর্শের সাথে মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মিসেস নাবিলা তার কাজের মাধ্যমে মহীয়সী নারী হযরত ফাতিমাতুজ জোহরা (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। হযরত ফাতিমা (রা.) আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকার পাশাপাশি গৃহস্থালির যাবতীয় কাজকর্ম নিজ হাতে করতেন। তিনি যাতা পিষে গুঁড়ো করতেন, রুটি তৈরি করতেন, কুয়া থেকে পানি টানতেন। মিসেস নাবিলাও ইসলামী জীবনযাপনে নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। নিয়মিত সালাত আদায় করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে সংসারের প্রয়োজনীয় সকল কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করেন। সেজন্য আমরা বলতে পারি, মিসেস নাবিলার কাজকর্ম তথা জীবনচরণ, হযরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবনচরণের অনুরূপ।
৫৫.
‘হযরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায় ও ইনসাফের এক মূর্ত প্রতীক’- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হযরত উমর (রা.) ছিলেন নবি (স.)-এর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং ইনসাফের পরাকাষ্ঠা প্রমাণিত। তাঁর মধ্যে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ছিল প্রবাদতুল্য। তিনি মদ্যপানের কারণে স্বীয় পুত্র আবু শাহমাকে বেত্রাঘাত করে শাস্তি দিয়েছিলেন। জেরুজালেম যাত্রার সময় ভৃত্যকে উটের পিঠে চড়িয়ে নিজে রশি টেনেছিলেন এবং অভাবী মায়ের ক্ষুধার্ত সন্তানদের জন্য নিজ পিঠে করে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, হযরত উমর (রা.) ছিলেন ইনসাফের মূর্ত প্রতীক।
৫৬.
কোন সাহাবি তাবুক যুদ্ধে সকল সম্পদ ব্যয় করেছিলেন?
উত্তর: রাসূল (স.)-এর প্রিয় সহচর, খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) তাবুক যুদ্ধে তাঁর সকল সম্পদ ব্যয় করেছিলেন।
📖 সামাজিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনাব সিহাব চৌ... সামাজিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনাব সিহাব চৌধুরী লোকমান সাহেবকে মানসিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। কিছুদিন পর লোকমান সাহেব প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও এ থেকে বিরত থাকেন। এ ধরনের উদারতা দেখে জনাব সিহাব চৌধুরীর মধ্যে বেশ পরিবর্তন আসে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, কোনো মানুষের সাথে আর অন্যায় আচরণ করবেন না। গোত্র-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলের সাথে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হবেন। সকল কাজকর্মে কুরআন ও হাদিসকে অনুকরণ করে চলবেন।
৫৭.
সিহাব সাহেবের পরিবর্তন বিদায় হজের ভাষণের আলোকে পর্যালোচনা কর।
উত্তর: জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে রাজীবের জনকল্যাণমূলক কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত মনীষী হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র শেখ আবু আলী ইবনে সিনা (Avicenna)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের কারণে তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। জনাব আসাদ সাহেবের উক্তিতে ইঙ্গিতকৃত বিশ্বখ্যাত আইনগ্রন্থটি হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনুপম ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থটি মধ্যযুগ থেকে শুরু করে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ইউরোপের প্রধান প্রধান চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন- মন্টপিলিয়ার ও লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়) মূল পাঠ্যবই হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হতো। ইবনে সিনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহু যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক। তিনি সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট রোগ বাতাস ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং সংক্রামিত হয়। যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের ছোঁয়াচে প্রকৃতি এবং মেনিনজাইটিস (Meningitis) রোগের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো তিনি প্রথম নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেন। ওষুধবিজ্ঞান ও অ্যানাটমি শাস্ত্রে তাঁর অনন্য পর্যবেক্ষণ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। উদ্দীপকের রাজীব এলাকায় চিকিৎসালয় ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে মানবতার কল্যাণে যে সেবার হস্ত প্রসারিত করেছে, তা ইবনে সিনার জ্ঞানসাধনা ও সমাজসেবার সুমহান চেতনার দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। অতএব, মানবসভ্যতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ইবনে সিনার অবদান চিরস্মরণীয় এবং আসাদ সাহেবের বক্তব্যটি তাঁর কালজয়ী মহিমাকে শতভাগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে।
৫৮.
লোকমান সাহেবের আচরণে মহানবি (স.)-এর কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের শান্তিসংঘটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যুব বয়সে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আরবের অন্ধকার যুগে কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী ‘ফিজার যুদ্ধ’ বা অন্যায় সমরের বীভৎসতা ও নৃশংসতা দেখে নবিজির কোমল মন গভীরভাবে ব্যথিত হয়। যুদ্ধের পর আরবের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ এবং মজলুম ও নির্যাতিতদের সাহায্য করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কার সমমনা যুবকদের একত্রিত করে ‘হিলফুল ফুজুল’ শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। উদ্দীপকের সজীবও হুবহু একই লক্ষ্য নিয়ে এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে একটি শান্তিসংঘ তৈরি করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ও কাজ হলো সমাজের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মারামারি-দাঙ্গা হাঙ্গামা দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সুতরাং, উদ্দেশ্য এবং গঠনপ্রক্রিয়ার দিক থেকে সজীবের এই শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর আদর্শিক ও বাস্তব প্রতিফলন।
৫৯.
রাসূলের জীবনআদর্শ অনুকরণীয় কেন?
উত্তর: ‘খাতুনে জান্নাত’ শব্দের অর্থ জান্নাতী নারীদের নেত্রী বা জান্নাতের নারী সমূহের সম্রাজ্ঞী। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর অত্যন্ত আদরের ও সর্বকনিষ্ঠ তনয়া। তাঁর সুমহান চরিত্র, অসীম ধৈর্য, পরম ধার্মিকতা এবং ইবাদত-বন্দেগির জন্য তিনি নারীজাতির আদর্শ। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন যে, ফাতিমা হলো জান্নাতের রমণীকুলের নেত্রী। পরকালীন জীবনে জান্নাতের সকল পুণ্যবতী নারীদের ওপর তাঁর এই নেতৃত্বের সুউচ্চ মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হওয়ায় তাঁকে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয়।
৬০.
মদিনা সনদের ধারা কয়টি?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘তাহেরা’ (পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক)।

অধ্যায়-০৪ : আখলাক

📖 এক শীতের সকালে আবির মাদরাসায় যাওয়ার সময় দেখল এক বৃ... এক শীতের সকালে আবির মাদরাসায় যাওয়ার সময় দেখল এক বৃদ্ধ শীতে কাঁপছে। আবির তার গায়ের চাদরটি বৃদ্ধকে দিল। মাদরাসায় এসে আবির তার এক সহপাঠীর টিফিন বক্স না আনায় নিজের টিফিন তার সাথে ভাগ করে খেল। ক্লাসের শিক্ষক আবিরের এই আচরণে খুশি হয়ে বললেন, ইসলামে এ ধরনের আচরণের অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
৬১.
শিক্ষকের উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে আবিরের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকের করা উক্তিটি— "ইসলামে এ ধরনের আচরণের অনেক গুরুত্ব রয়েছে"— অত্যন্ত যথার্থ, যৌক্তিক এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। নিচে এর বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হলো: আবিরের দুটি কাজই ছিল সমাজ ও মানবতার কল্যাণের সাথে যুক্ত। প্রথমত, শীতে কাঁপতে থাকা বৃদ্ধকে নিজের চাদর দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, সহপাঠীর টিফিন না আনায় নিজের টিফিন তার সাথে ভাগ করে খাওয়া। এই দুটি আচরণই যথাক্রমে 'সৃষ্টির সেবা' এবং 'ভাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা'র উজ্জ্বল উদাহরণ। ইসলামে এই গুণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম কেবল কিছু ইবাদতের সমষ্টি নয়, এটি মানুষের পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করারও বিধান। মহানবি (স.) বলেছেন, "পরস্পর ভালোবাসা, দয়া ও অনুকম্পার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো, যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে গোটা দেহই তার কারণে জাগ্রত ও জ্বরাক্রান্ত থাকে।" (সহিহ মুসলিম)। আবিরের সহপাঠীর সাথে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার ঘটনাটি এই হাদিসের শিক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন। ইসলামে ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানোর ব্যাপারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে জান্নাত লাভের অন্যতম উপায় বলা হয়েছে। শিক্ষক যখন বলেন যে ইসলামে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে, তখন তিনি মূলত এই পরোপকারী ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি নির্দেশ করেছেন। এই ধরনের আচরণ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং সমাজে কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্য থাকে না। অতএব, আবিরের এই চমৎকার মানবিক আচরণের প্রশংসা করে শিক্ষক ইসলামের শিক্ষার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, তা শতভাগ সঠিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৬২.
আবিরের প্রথম কাজটি আখলাকে হামিদার কোন গুণের আওতাভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আবিরের প্রথম কাজটি (বৃদ্ধকে চাদর দেওয়া) আখলাকে হামিদার অন্তর্গত 'সৃষ্টির সেবা' (খিদমাতুল খালক) ও 'দয়া' গুণের আওতাভুক্ত। ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর সৃষ্টিজীবের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। উদ্দীপকে দেখা যায়, শীতের সকালে এক বৃদ্ধকে শীতে কাঁপতে দেখে আবির নিজের গায়ের চাদরটি তাকে দিয়ে দেয়। এটি তীব্র মানবিক অনুভূতি এবং নিঃস্বার্থ পরোপকারের প্রকাশ। মহানবি (স.) বলেছেন, "তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানের মালিক (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" আবিরের এই আচরণের মাধ্যমে ইসলামের এই মহান আদর্শেরই বাস্তব রূপ প্রতিফলিত হয়েছে। অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, যা আবিরের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে।
৬৩.
সৃষ্টির সেবা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আল্লাহর সৃষ্টি জীবসমূহের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাকে সৃষ্টির সেবা বলা হয়। জগতের সব প্রাণী, মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে। ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা এবং যেকোনো বিপন্ন জীবের পাশে দাঁড়ানোই সৃষ্টির সেবার অন্তর্ভুক্ত।
৬৪.
মানবপ্রেম কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও কল্যাণকামিতাকে মানবপ্রেম বলে।
📖 জনাব 'ক' ও জনাব 'খ' একই অফিসে চাকরি করেন। জনাব 'ক'... জনাব 'ক' ও জনাব 'খ' একই অফিসে চাকরি করেন। জনাব 'ক' অফিসের ফাইলপত্র ও হিসাব অত্যন্ত সততার সাথে সংরক্ষণ করেন এবং অফিসের যেকোনো গোপনীয় বিষয় নিজের কাছেই রাখেন। অন্যদিকে জনাব 'খ' অফিসের কাজ শেষ করে নিজের বাসায় ফেরার পথে রিকশায় একটি ব্যাগ পান। তিনি ব্যাগটি খুলে অনেক টাকা দেখতে পান। তিনি লোভ না করে প্রকৃত মালিকের কাছে ব্যাগটি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
৬৫.
জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডটি ইসলামি আদর্শের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডটি ইসলামি আদর্শের আলোকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি মূলত 'আমানত রক্ষা' ও 'লোভ সংবরণ'-এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিচে এর বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হলো: ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের যেকোনো জিনিস বা সম্পদ কুড়িয়ে পেলে তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ইমানি দায়িত্ব। উদ্দীপকে জনাব 'খ' রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ব্যাগটি নিজের লোভের বশবর্তী হয়ে আত্মসাৎ করেননি, বরং সততার পরিচয় দিয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তার এই কাজটি ইসলামের আমানত রক্ষা করার বিধানের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)। জনাব 'খ' যদি সেই টাকা নিজের প্রয়োজনে খরচ করতেন, তবে তা হতো আমানতের খেয়ানত এবং ইসলামে খেয়ানতকারীকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি লোভ লালসা বর্জন করে যে নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ গঠনে অত্যন্ত জরুরি। তার এই সততা ও পরোপকারী মনোভাবের কারণে তিনি ইহকালে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করবেন এবং পরকালে আল্লাহর নিকট বিপুল পুরস্কারে ভূষিত হবেন। পরিশেষে বলা যায়, জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডটি প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি অনুসরণীয় আদর্শ।
৬৬.
জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে কোন গুণের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে ইসলামি আখলাকের 'আমানতদারি' গুণের প্রকাশ ঘটেছে। শরিয়তের পরিভাষায় কারও কাছে কোনো অর্থ, সম্পদ বা বিষয় গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয় এবং তা যথাযথভাবে রক্ষা করাকে আমানতদারি বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'ক' অফিসের ফাইলপত্র ও হিসাব অত্যন্ত সততার সাথে সংরক্ষণ করেন এবং অফিসের যেকোনো গোপনীয় বিষয় নিজের কাছেই গোপন রাখেন। অফিসের এই সম্পদ ও গোপনীয় তথ্য তার কাছে একটি বড় আমানত। তিনি তা অবহেলা বা খেয়ানত না করে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রক্ষা করছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ইমান নেই।" সুতরাং, জনাব 'ক'-এর দায়িত্বশীল আচরণটি ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি তার নিখাদ আমানতদারিরই বহিঃপ্রকাশ।
৬৭.
শালীনতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজীবনে শালীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। শালীনতা মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে। শালীন ও ভদ্র আচরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। শালীন ব্যক্তি সমাজে সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা লাভ করে। এটি মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায় এবং চরিত্রকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ইসলামে চালচলন, কথাবার্তা ও পোশাকে শালীনতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৬৮.
আমানত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আমানত শব্দের অর্থ গচ্ছিত রাখা, নিরাপদ রাখা, রক্ষা করা ইত্যাদি।
📖 মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নি... মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ সবকিছু দেখেন। মেহজাবিনের ভাই সিয়াম একদিন দেখতে পেল, মানুষের ভিড়ের কারণে একজন বয়স্ক মহিলা বাসে উঠতে পারছিলেন না। তখন সিয়াম ঐ মহিলাকে সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে দিল। সিয়ামের বাবা খুশি হয়ে বললেন, আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত।
৬৯.
সিয়ামের কর্মকাণ্ডে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক তার বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সিয়ামের কর্মকাণ্ডে বড়দের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ (জ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান) প্রকাশ পেয়েছে। নিচে সিয়ামের বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে সমাজবদ্ধভাবে বসবাসের জন্য ছোট-বড় সবার প্রতি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিয়াম বাসে উঠতে না পারা একজন বয়স্ক মহিলাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে দেয়, যা তার সুন্দর পারিবারিক শিক্ষা ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সিয়ামের এই কাজে খুশি হয়ে তার বাবা বলেছেন— 'আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত।' এই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক ও ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহানবি (স.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান ও অধিকার চেনে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সুনানে আবু দাউদ)। প্রবীণ বা সিনিয়র নাগরিকরা সমাজের সম্মানিত অংশ। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তারা সমাজ ও পরিবারকে অনেক কিছু দিয়ে থাকেন। বার্ধক্যে উপনীত হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, ফলে তারা আমাদের একটু বাড়তি মনোযোগ, সেবা ও সম্মানের অধিকারী হন। সিয়ামের বাবা এই শাশ্বত সত্যটিকেই তুলে ধরেছেন। সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান প্রদর্শন করলে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়। তরুণ প্রজন্ম যদি প্রবীণদের সম্মান করতে শেখে, তবে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা বা একাকীত্বের স্থান থাকে না। অতএব, সিয়ামের বাবার উক্তিটি সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
৭০.
মেহজাবিনের মধ্যে আখলাকে হামিদার কোন গুণটি কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মেহজাবিনের কর্মকাণ্ডে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ সবকিছু দেখেন। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে তাকওয়া বলা হয়। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে মুত্তাকি বলা হয়। মানুষের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই তাকওয়া। এটি মানুষের মনকে পবিত্র রাখে এবং অসৎ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মেহজাবিনের এই আচরণের মাধ্যমে তাঁর সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে যা একজন প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৭১.
আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন?
উত্তর: আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কারণ এর দ্বারাই মানুষ পূর্ণাঙ্গ মানবতার স্তরে উপনীত হয়। মানবিকতা ও নৈতিকতার আদর্শ আখলাকে হামিদার মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে। মানুষের ইহ ও পরকালীন সুখ, শান্তি উত্তম স্বভাব চরিত্রের ওপরই নির্ভরশীল। সৎচরিত্রবান ব্যক্তি যেমন সমাজে সবার আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মানের পাত্র হন, তেমনি আল্লাহর নিকটও প্রিয়। মহানবি (স.) এর হাদিসে বলা হয়েছে, "তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি যে চরিত্রের দিক থেকে উত্তম।"
৭২.
'শিরক' কাকে বলা হয়?
উত্তর: বাস্তব বা প্রকৃত ঘটনা বা বিষয়ে প্রকাশ করাকে শিরক বলা হয়। (অথবা মূল পরিভাষায়: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে।)
📖 মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নি... মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ সবকিছু দেখেন। মেহজাবিনের ভাই সিয়াম একদিন দেখতে পেল, মানুষের ভিড়ের কারণে একজন বয়স্ক মহিলা বাসে উঠতে পারছিলেন না। তখন সিয়াম ঐ মহিলাকে সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে দিল। সিয়ামের বাবা খুশি হয়ে বললেন, আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত।
৭৩.
সিয়ামের কর্মকাণ্ডে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক তার বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সিয়ামের কর্মকাণ্ডে বড়দের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ (জ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান) প্রকাশ পেয়েছে। নিচে সিয়ামের বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে সমাজবদ্ধভাবে বসবাসের জন্য ছোট-বড় সবার প্রতি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিয়াম বাসে উঠতে না পারা একজন বয়স্ক মহিলাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে দেয়, যা তার সুন্দর পারিবারিক শিক্ষা ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সিয়ামের এই কাজে খুশি হয়ে তার বাবা বলেছেন— 'আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত।' এই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক ও ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহানবি (স.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান ও অধিকার চেনে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সুনানে আবু দাউদ)। প্রবীণ বা সিনিয়র নাগরিকরা সমাজের সম্মানিত অংশ। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তারা সমাজ ও পরিবারকে অনেক কিছু দিয়ে থাকেন। বার্ধক্যে উপনীত হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, ফলে তারা আমাদের একটু বাড়তি মনোযোগ, সেবা ও সম্মানের অধিকারী হন। সিয়ামের বাবা এই শাশ্বত সত্যটিকেই তুলে ধরেছেন। সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান প্রদর্শন করলে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়। তরুণ প্রজন্ম যদি প্রবীণদের সম্মান করতে শেখে, তবে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা বা একাকীত্বের স্থান থাকে না। অতএব, সিয়ামের বাবার উক্তিটি সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
৭৪.
মেহজাবিনের মধ্যে আখলাকে হামিদার কোন গুণটি কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মেহজাবিনের কর্মকাণ্ডে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ সবকিছু দেখেন। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে তাকওয়া বলা হয়। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে মুত্তাকি বলা হয়। মানুষের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই তাকওয়া। এটি মানুষের মনকে পবিত্র রাখে এবং অসৎ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মেহজাবিনের এই আচরণের মাধ্যমে তাঁর সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে যা একজন প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৭৫.
আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন?
উত্তর: আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কারণ এর দ্বারাই মানুষ পূর্ণাঙ্গ মানবতার স্তরে উপনীত হয়। মানবিকতা ও নৈতিকতার আদর্শ আখলাকে হামিদার মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে। মানুষের ইহ ও পরকালীন সুখ, শান্তি উত্তম স্বভাব চরিত্রের ওপরই নির্ভরশীল। সৎচরিত্রবান ব্যক্তি যেমন সমাজে সবার আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মানের পাত্র হন, তেমনি আল্লাহর নিকটও প্রিয়। মহানবি (স.) এর হাদিসে বলা হয়েছে, "তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি যে চরিত্রের দিক থেকে উত্তম।"
৭৬.
'শিরক' কাকে বলা হয়?
উত্তর: বাস্তব বা প্রকৃত ঘটনা বা বিষয়ে প্রকাশ করাকে শিরক বলা হয়। (অথবা মূল পরিভাষায়: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে।)
📖 সাদমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর... সাদমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি যথাসময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করেন এবং অধীনস্থদের সঠিকভাবে তদারকি করেন। তার ওপর অর্পিত সকল কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করেন। তার স্ত্রী ইসরাত খুব হিসাব করে চলেন। ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর সময় শুধুই ভাড়া দেন এবং টিফিনের খাবার বাসা থেকে তৈরি করে দেন। তিনি সংসারের প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করেন।
৭৭.
ইসরাতের আচরণে যা প্রকাশ পেয়েছে তা নির্ধারণপূর্বক এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত ইসরাতের আচরণে মিতব্যয়িতা প্রকাশ পেয়েছে। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো- ইসলামে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম। মিতব্যয়িতা হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় না করে তা সংরক্ষণ করা অথবা অপচয় না করে হিসাব করে চলা। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাত তাঁর ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর সময় শুধু যাতায়াত ভাড়া দেন এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়াতে বাসা থেকে টিফিন তৈরি করে দেন। এটি তাঁর মিতব্যয়ী মানসিকতার চমৎকার প্রতিফলন। ইসলাম অপচয় ও কৃপণতা উভয়কেই কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থ অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।" (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)। অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মিতব্যয়িতা মানুষকে অভাব-অনটন থেকে রক্ষা করে এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইসরাতের এই পরিমিত ও বিচক্ষণ জীবনযাত্রার ফলে তাঁর পরিবার যেমন আর্থিক সংকট থেকে মুক্ত থাকবে, তেমনি সন্তানও ছোটবেলা থেকে সৎ ও পরিচ্ছন্ন অভ্যাসে গড়ে উঠবে। সুতরাং, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নে ইসরাতের এই মিতব্যয়িতার আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয়।
৭৮.
সাদমানের কর্মকাণ্ডে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাদমানের কর্মকাণ্ডে কর্তব্যপরায়ণতা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ তিনি যথাসময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করেন এবং অধীনস্থদের সঠিকভাবে তদারকি করেন। তার ওপর অর্পিত সকল কাজ সঠিকভাবে পালন করেন। কর্তব্যপরায়ণতা মুমিনের অন্যতম গুণ। তারা মনে করেন তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। কারণ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ব্যাপারে মহান আল্লাহর নিকট একদিন পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দিতে হবে। যেমন- মহানবি (স.) বলেছেন, "তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর তোমরা প্রত্যেকেই স্বীয় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।" আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে আমাদের পরীক্ষা করার জন্য নানা দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছেন। পরকালে তিনি আমাদের সকলকে কর্তব্য পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন। সেদিন কর্তব্যপরায়ণগণ সহজে মুক্তি লাভ করবে। তাদের জন্য রয়েছে শান্তির জায়গা জান্নাত। অন্যদিকে যারা কর্তব্য কাজে অবহেলা করেছে, ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি তারা বিপদগ্রস্ত হবে। তারা শাস্তি ভোগ করবে তাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তি জাহান্নাম। সাদমান অফিস থেকে যেসব কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন তা যথাযথভাবে সম্পাদন করেন। তাই তিনি জান্নাত লাভ করবেন।
৭৯.
মানবজীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পবিত্রতা ও সুস্বাস্থ্যর জন্য মানবজীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। পবিত্রতা অর্জনের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হয়। নোংরা অবস্থায় পবিত্রতা অর্জন করা যায় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সুস্বাস্থ্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে বিভিন্ন রোগবালাই আক্রমণ করে। মানুষ দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই সুস্বাস্থ্যর জন্যও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
৮০.
আত্মশুদ্ধি কাকে বলে?
উত্তর: সর্বপ্রকার অনৈসলামিক কথা ও কাজ থেকে নিজ অন্তরকে মুক্ত ও নির্মল রাখাকে আত্মশুদ্ধি বলা হয়।
📖 সুমন সাহেব একজন দানশীল ব্যক্তি। তিনি অভাবগ্রস্ত মা... সুমন সাহেব একজন দানশীল ব্যক্তি। তিনি অভাবগ্রস্ত মানুষকে অকাতরে সাহায্য করেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি সবার সামনে তা প্রকাশ করেন এবং উপকারভোগীকে নানাভাবে খোটা দেন। অপরদিকে তার বন্ধু তারেক সাহেব গোপনে অভাবগ্রস্ত মানুষের মাঝে দান-সাদাকাহ করেন। তারেক সাহেব মনে করেন লোক দেখানো ইবাদত আল্লাহ পছন্দ করেন না।
৮১.
“সুমন সাহেবের তুলনায় তারেক সাহেবের কাজের ধরনই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।” উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “সুমন সাহেবের তুলনায় তারেক সাহেবের কাজের ধরনই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।” উদ্দীপক ও ইসলামের সুমহান বাণীর আলোকে মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ ও বিশ্লেষণাত্মক সত্য। ইসলামের সুমহান জীবনদর্শনে যেকোনো ইবাদত, পুণ্য ও দানের মূল ভিত্তি হলো মনের আন্তরিকতা এবং নিয়তের বিশুদ্ধতা। ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। যদি কোনো আমলে লোক দেখানোর প্রবৃত্তি (রিয়া) প্রবেশ করে, তবে তা আল্লাহর দরবারে প্রত্যাখ্যাত হয়। উদ্দীপকে তারেক সাহেব গোপনে অভাবগ্রস্ত মানুষের মাঝে দান-সাদাকাহ করেন এবং লোক দেখানো ইবাদত পরিহার করেন, যা ইসলামের সুমহান শিক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন। অন্যদিকে, সুমন সাহেব দান করার পর তা লোকসমক্ষে প্রচার করেন এবং উপকারভোগীকে খোটা ও কষ্ট দেন, যা তাঁর দানকে নিষ্ফল ও গুনাহের কাজে পরিণত করেছে। ইসলামে গোপনে দান করাকে অত্যন্ত উৎসাহিত করা হয়েছে এবং খোটা দিয়ে দান গ্রহীতার আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُم بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা খোটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানসমূহকে নষ্ট করো না, যেমন সেই ব্যক্তি নিজের ধনসম্পদ মানুষের দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে..." (সূরা আল-বাকারাহ : ২৬৪)। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কিয়ামতের দিনে আরশের নিচে যে সাত প্রকার মানুষ আশ্রয় পাবেন, তাদের মধ্যে এক প্রকার হলেন— "সেই ব্যক্তি যিনি এতো গোপনে দান করেন যে তাঁর ডান হাত যা দান করে বাঁ হাত তা টের পায় না।" (সহিহ বুখারি)। সুমন সাহেবের দানশীলতা থাকা সত্ত্বেও রিয়া ও খোটা দেওয়ার অহংকারের কারণে তাঁর আমল বাতিল হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে, তারেক সাহেব লোক দেখানো ইবাদতের অমঙ্গল থেকে নিজেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণ গোপনে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে দান করেছেন। এটিই ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা। আল্লাহর নিকট পরিমাণের চেয়ে নিয়তের আন্তরিকতা বেশি মূল্যবান। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার নিরিখে বলা যায়, সুমন সাহেবের তুলনায় তারেক সাহেবের কাজের ধরন ও মানসিকতাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর দরবারে পরম গ্রহণযোগ্য আমল।
৮২.
উদ্দীপকের সুমন সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে জামিমাহর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সুমন সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে জামিমাহর নিন্দনীয় স্বভাব 'রিয়া' বা লোক দেখানোর মানসিকতা ফুটে উঠেছে। ইসলামী পরিভাষায় লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অথবা মানুষের মাঝে বাহবা ও প্রশংসা পাওয়ার নিয়তে কোনো ভালো কাজ বা ইবাদত করাকে 'রিয়া' (الرِّيَاءُ) বলে। উদ্দীপকে দানশীল সুমন সাহেব অভাবগ্রস্ত মানুষকে অকাতরে সাহায্য বা দান করেন, যা প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু তিনি দান করার পরক্ষণেই সবার সামনে তা প্রকাশ করেন এবং দান গ্রহণকারী বা উপকারভোগীকে নানাভাবে খোটা দেন। এটি স্পষ্টত লোক দেখানোর হীন প্রবৃত্তি এবং দম্ভের প্রকাশ। দান-সাদাকাহ মানুষের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুণ্যময় কাজ। তবে তা হতে হবে নিঃস্বার্থ এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। সুমন সাহেব মানুষের মাঝে নিজের উদারতা ও দানশীলতা প্রকাশ করার জন্য এই সাহায্য করেন এবং পরে খোটা দিয়ে উপকারভোগীকে হেয় করেন। সুমন সাহেবের এই লোক দেখানোর স্পৃহা এবং খোটা দেওয়ার অভ্যাস তাঁর আমলকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাঁর চরিত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে চরম নিন্দনীয় দোষ 'রিয়া' প্রকাশ পেয়েছে।
৮৩.
রিয়াকে ছোট শিরক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার নিয়তে কোনো সৎ কাজ বা ইবাদত করাকে রিয়া বলে। ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্যই নির্দিষ্ট। কিন্তু রিয়াকারী ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে মানুষের সুনাম বা দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করে, যা আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করার নামান্তর। যদিও এটি বড় শিরক বা মূর্তিপূজার মতো নয়, তবে এটি ইবাদতের বিশুদ্ধতা ও নিয়তকে ধ্বংস করে দেয়। এই গোপন ও সূক্ষ্ম অংশীদারিত্বের কারণে রাসুলুল্লাহ (স.) রিয়াকে ছোট শিরক বা "শিরকে আসগর" বলে অভিহিত করেছেন।
৮৪.
রিয়া শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিয়া (الرِّيَاءُ) শব্দের অর্থ লোক দেখানো কাজ, প্রদর্শন বা ভণ্ডামি।
📖 সাকিব ও সাদমান দুই বন্ধু। সাকিব প্রায়ই তার সহপাঠীদ... সাকিব ও সাদমান দুই বন্ধু। সাকিব প্রায়ই তার সহপাঠীদের সাথে হাসি-তামাশা করার সময় তাদের শারীরিক ত্রুটি ও বংশমর্যাদা নিয়ে উপহাস করে। সে মনে করে এতে বন্ধুদের সাথে আনন্দ ও হৃদ্যতা বাড়ে। অপরদিকে সাদমান তার বন্ধুদের সাথে সবসময় ভালো ও শালীন আচরণ করে। সে কখনোই বন্ধুদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা উপহাস করে না। সে বিশ্বাস করে, অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।
৮৫.
“সাদমানের মতো ব্যক্তিদের মানসিকতা ও সামাজিক আচরণ একটি শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার।” উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের সুমহান বাণীর আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “সাদমানের মতো ব্যক্তিদের মানসিকতা ও সামাজিক আচরণ একটি শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার।” উদ্দীপক ও ইসলামের সুমহান বাণীর আলোকে উক্তিটি গভীর বিশ্লেষণযোগ্য এবং শতভাগ সত্য। একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও সচ্চরিত্র। উদ্দীপকের সাদমান তার বন্ধুদের সাথে সর্বদা ভদ্র ও শালীন আচরণ করে এবং কখনোই কারো সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উপহাস করে না। তার এই সুকুমার বৃত্তি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়ায়। অপরদিকে সাকিবের উপহাস ও কৌতুক করার অভ্যাস অন্য সহপাঠীদের মনে ক্ষোভ ও মনঃকষ্টের সৃষ্টি করে, যা সামাজিক দূরত্বের মূল কারণ। ইসলামে অপরের মর্যাদা রক্ষা করা এবং কাউকে উপহাস বা বিদ্রূপ না করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ অর্থ : "হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীরা উপহাসকৃত ব্যক্তিদের চেয়ে উত্তম হতে পারে না..." (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)। রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, "এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তাকে হেয় প্রতিপন্ন বা উপহাস করতে পারে না।" (সহিহ মুসলিম)। সাকিবের উপহাসমূলক আচরণে বন্ধুত্ব বা হৃদ্যতা বাড়ে না, বরং তা অহংকার ও ঘৃণার জন্ম দেয়। পক্ষান্তরে সাদমানের মতো শালীন ও শ্রদ্ধাপূর্ণ মানসিকতা সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যকার হিংসা-বিদ্বেষ চিরতরে দূর করে দেয়। সমাজে যখন প্রত্যেকেই একে অপরের আত্মমর্যাদাকে সম্মান করবে, তখন সেখানে কোনো বিভেদ বা হানাহানি থাকবে না। অতএব, সাদমানের মতো আদর্শ আচরণ ও ইসলামের শিক্ষার সঠিক প্রয়োগই একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় সমাজ গঠনের প্রকৃত চাবিকাঠি।
৮৬.
সাকিবের আচরণে আখলাকে জামিমাহর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাকিবের আচরণে আখলাকে জামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্গত 'উপহাস' (বিদ্রূপ)-এর দিকটি ফুটে উঠেছে। ইসলামী পরিভাষায় কাউকে ছোট বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার আকার-আকৃতি, বংশমর্যাদা, শারীরিক ত্রুটি বা হাঁটাচলা নিয়ে হাসাহাসি করা এবং বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি বা কথাবার্তা বলাকে উপহাস (السُّخْرِيَّة) বলা হয়। সাকিব তার সহপাঠীদের শারীরিক ত্রুটি ও বংশমর্যাদা নিয়ে কৌতুক ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, যা সম্পূর্ণরূপে উপহাসের শামিল। ইসলামে মানবসমাজকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ রাখার জন্য অপরের প্রতি সর্বদা সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারো শারীরিক অক্ষমতা বা বংশমর্যাদা নিয়ে ঠাট্টা বা কৌতুক করা জঘন্যতম মানসিক ব্যাধি ও নৈতিক স্খলন। কুরআন মাজিদে এ ধরনের কার্যকলাপকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাকিবের এই আচরণ সুস্থ মানসিকতা ও ইসলামী শালীনতাবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী, যার ফলে তার আচরণে আখলাকে জামিমাহর অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
৮৭.
"উপহাসকারী অন্যকে নয়, প্রকারান্তরে নিজেকেই উপহাস করে।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উপহাস একটি নিন্দনীয় স্বভাব। যখন কেউ অন্যকে উপহাস বা বিদ্রূপ করে, তখন সে মনে করে যে সে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথচ আল্লাহ তায়ালার কাছে উপহাসকারী নিজেই তার মর্যাদাবোধ হারিয়ে ফেলে। কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলে পারস্পরিক বিদ্বেষ ছড়ায় এবং নিজের আত্মিক ও নৈতিক চরিত্র কলুষিত হয়। মূলত অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করার মাধ্যমে উপহাসকারী নিজের মধ্যকার অহংকার ও মন্দ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, যা প্রকারান্তরে তার নিজের ব্যক্তিত্বকেই ধ্বংস করে। তাই বলা হয়, উপহাসকারী অন্যকে নয়, নিজেকেই উপহাস করে।
৮৮.
পরনিন্দা কী?
উত্তর: কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ করাই হলো পরনিন্দা বা গিবত।
📖 ফাহিম ও ওয়াসিম দুই ভাই। ফাহিম এলাকার একজন স্বনামধন... ফাহিম ও ওয়াসিম দুই ভাই। ফাহিম এলাকার একজন স্বনামধন্য ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসার সকল ধরনের আইনকানুন মেনে চলার পাশাপাশি যথাসময়ে কর ও ভ্যাট পরিশোধ করেন। অপরদিকে তাঁর ছোট ভাই ওয়াসিম একজন সরকারি চাকুরিজীবী। তিনি তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব অবহেলা করেন এবং ফাইল আটকে রেখে সেবাগ্রহীতাদের নিকট থেকে অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন।
৮৯.
“ফাহিম ও ওয়াসিমের কর্মফল সামাজিক ও পরকালীন জীবনে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।” বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ফাহিম ও ওয়াসিম দুই ভাই হলেও তাদের চারিত্রিক বৈপরীত্যের কারণে সামাজিক ও পরকালীন প্রতিক্রিয়াও হবে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী— মন্তব্যটি অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের কর্ম ও নৈতিক আচরণের ওপরেই সমাজ এবং পরকালের পরিণতি নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের ফাহিম একজন সৎ ও আদর্শ ব্যবসায়ী, যিনি দেশের আইন মেনে চলেন এবং কর ও ভ্যাট দেন। অপরদিকে ওয়াসিম একজন ফাঁকিবাজ, ঘুষখোর ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা, যিনি অসদুপায়ে আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন। এই দুই ভাইয়ের সামাজিক সম্মান ও আল্লাহর দরবারে জবাবদিহিতা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। সামাজিক ক্ষেত্রে ফাহিম একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর দেশপ্রেম, সততা এবং সুনাগরিকসুলভ দায়িত্ববোধ সমাজের চোখে অত্যন্ত প্রশংসিত এবং তিনি সবার শ্রদ্ধা অর্জন করবেন। অপরদিকে ওয়াসিম সমাজে বিত্তবৈভবের মালিক হলেও লোকচক্ষুর অন্তরালে ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন ঘৃণিত এবং নিন্দিত ব্যক্তি। তাঁর দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের নিপীড়ন সমাজকে কলুষিত করে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য ঘটবে পরকালীন জীবনে। ফাহিমের মতো সৎ ব্যবসায়ী সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেন, "সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবিগণ, সত্যবাদীগণ ও শহীদদের সাথে থাকবেন।" (তিরমিজি)। পক্ষান্তরে, ওয়াসিমের অন্যায় উপার্জন ও ঘুষ গ্রহণের পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, "ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।" (তিরমিজি)। অন্যায্য ও হারাম মাল দিয়ে গঠিত শরীর কোনোদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সুতরাং বলা যায়, ফাহিম ইহকাল ও পরকালে চির সম্মান ও প্রশান্তি লাভ করবেন, অন্যদিকে ওয়াসিম ইহকালে লোকচক্ষুর ঘৃণা এবং পরকালে আল্লাহর কঠিন শাস্তির কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন। অতএব, ফাহিম ও ওয়াসিমের কর্মফল সামাজিক ও পরকালীন জীবনে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে— উক্তিটি শতভাগ সত্য।
৯০.
উদ্দীপকের ফাহিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কোন আদর্শটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গ) উদ্দীপকের ফাহিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক আদর্শ দেশপ্রেম ও সততার অনন্য নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামে সততা ও হালাল উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ইবাদততুল্য গুণ। একজন আদর্শ নাগরিকের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হলো দেশের প্রচলিত আইনকানুন ও নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের অধিকার ও পাওনা যেমন— কর, শুল্ক ও ভ্যাট সঠিকভাবে পরিশোধ করা। ফাহিম সাহেব তাঁর ব্যবসায়িক সকল আইনকানুন মেনে চলেন এবং যথাসময়ে কর ও ভ্যাট পরিশোধ করেন, যা তাঁর গভীর দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। দেশপ্রেম ইমানের একটি বিশেষ দাবি ও মানব চরিত্রের মহত্তম দিক। ফাহিমের মতো সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ীর কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়। তিনি তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের প্রভূত কল্যাণ সাধন করেছেন, যা আখলাকে হামিদাহর অত্যন্ত উজ্জ্বল ও গৌরবোজ্জ্বল একটি দিক।
৯১.
"ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঘুষ হলো কোনো অন্যায় সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে বা নিজের দায়িত্ব পালনে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা। এটি চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক সুবিচার ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার। ঘুষ আদান-প্রদানকারী মূলত অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং সমাজে জুলুম ও বৈষম্যের বিস্তার ঘটায়। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (স.) ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই চরম পাপিষ্ঠ ও জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন— الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي كِلَاهُمَا فِي النَّارِ অর্থ : "ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।" (আত-তিরমিজি)
৯২.
সুদ কাকে বলে?
উত্তর: ঋণ প্রদান করে আসল বা মূলধনের অতিরিক্ত কোনো নির্দিষ্ট সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ লাভ করাই হচ্ছে সুদ।
📖 আজম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করেনন... আজম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করেননি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা দেয়। এতে তিনি সমাজে চরম অপমানিত হন। অপরদিকে তাঁর বন্ধু আকরাম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই তা পরিশোধ করেন এবং ব্যাংকিং লেনদেন সচল রাখেন। এতে আকরাম সাহেব ও ব্যাংকের পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।
৯৩.
“আকরাম সাহেবের সততা ও ওয়াদা রক্ষা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্কের চাবিকাঠি।” মন্তব্যটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “আকরাম সাহেবের সততা ও ওয়াদা রক্ষা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্কের চাবিকাঠি।” উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবধর্মী, যৌক্তিক এবং অনুকরণীয় এক চিরন্তন সত্য। আর্থিক লেনদেন এবং পারস্পরিক সামাজিক বিশ্বাসের মেরুদণ্ড হলো সততা এবং ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। কোনো সামাজিক বা বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের পর তা বিশ্বস্ততার সাথে টিকিয়ে রাখার ওপরই গড়ে ওঠে সুস্থ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। উদ্দীপকের আকরাম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন বা ঋণ গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই তা পরিশোধ করে আমানতদারিতা ও ওয়াদা পালনের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর ফলে আকরাম সাহেব এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক আস্থা আরও বেশি শক্তিশালী হয়, যা তাঁর ব্যবসায়ী জীবনের সুনামের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ইসলামে ওয়াদা পালন করা ও সময়মতো ঋণ পরিশোধ করার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির ওয়াদা ও আমানতদারিতা তার সুদৃঢ় ইমানের বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (স.) ঋণ পরিশোধে সচেষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা করে বলেছেন— "তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধে সবচেয়ে ভালো ও আন্তরিক।" (সহিহ বুখারি)। বিপরীত দিকে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে অবহেলা বা টালবাহানা করে, ইসলাম তাদের কর্মকাণ্ডকে 'জুলুম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং তা সামাজিক বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়, যেমনটি আজম সাহেবের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আজম সাহেব সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করায় তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে এবং তিনি সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন, যা তার সামাজিক জীবনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। পরিশেষে বলা যায়, আকরাম সাহেবের সততা ও ওয়াদা রক্ষার আদর্শ কেবল বাণিজ্যিক আস্থাই বাড়ায় না, বরং সামাজিকভাবে একটি কল্যাণময় ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখে। আজম সাহেবের হীন আচরণ সমাজে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করে, অন্যদিকে আকরাম সাহেবের সৎ আদর্শ সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের গতিশীলতা রক্ষা করে। অতএব, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
৯৪.
আজম সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কোন গুরুত্বপূর্ণ গুণের লঙ্ঘন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আজম সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর ওয়াদা রক্ষা ও আমানতদারিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে। ইসলামী আদর্শে ওয়াদা রক্ষা করা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা অন্যতম প্রধান ইমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। ব্যাংক বা যেকোনো ব্যক্তি থেকে কোনো শর্তে অর্থ ঋণ নিলে তা নির্ধারিত শর্ত ও সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা আমানতদারি এবং ওয়াদা পূরণের অন্তর্ভুক্ত। আজম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন বা ঋণ নিয়ে সময়মতো তা পরিশোধ করেননি, যা সরাসরি ওয়াদা খেলাফ (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ) করার শামিল। ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা ওয়াদা ভঙ্গ করাকে মুনাফিকের লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক লেনদেনে অবহেলা ও চুক্তি লঙ্ঘন করা সামাজিক অপরাধ ও নৈতিক অসততার প্রকাশ ঘটায়। আজম সাহেব চুক্তি অনুসারে ঋণ পরিশোধ না করে চরম দায়িত্বহীনতা ও ইসলামী সুমহান নৈতিক শিক্ষার লঙ্ঘন করেছেন, যার ফলশ্রুতিতে তাকে আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
৯৫.
"নিশ্চয়ই ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি পালন সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক দাবি ও মানুষের মহান মানবিক গুণ। ইসলামে কাউকে কোনো কথা দিলে বা কোনো সামাজিক ও আইনি চুক্তি করলে তা যথাযথভাবে পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওয়াদা ভঙ্গের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন কঠোর জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন— وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا অর্থ : "এবং তোমরা প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পূর্ণ করবে; নিশ্চয়ই ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) কৈফিয়ত তলব করা হবে (জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে)।" (সূরা বনী ইসরাঈল : ৩৪)
৯৬.
আমানতদার কে?
উত্তর: যিনি অন্যের গচ্ছিত সম্পদ বা আমানত সযত্নে সংরক্ষণ করেন এবং কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করে প্রকৃত মালিকের নিকট তা যথাসময়ে ফেরত দেন, তাকে আমানতদার বলা হয়।
📖 মি. রফিক তাঁর এক প্রতিবেশীর বাগান থেকে সুস্বাদু কি... মি. রফিক তাঁর এক প্রতিবেশীর বাগান থেকে সুস্বাদু কিছু আম পেড়ে গোপনে খেয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে প্রতিবেশী আম চুরির ঘটনা জানতে পেরে অসন্তুষ্ট হন এবং সামাজিকভাবে মি. রফিকের সমালোচনা করেন। এতে মি. রফিকের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হয় এবং তিনি লজ্জিত হন। অন্যদিকে মি. রফিকের ছোট ভাই মি. শফিক তাঁর বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করেন। শফিক কর্মচারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন এবং তাদের অধিকার ও পারিশ্রমিক যথাসময়ে মিটিয়ে দেন। ব্যবসার সততা ও অধীনস্থদের প্রতি তাঁর চমৎকার ব্যবহারের কারণে মি. শফিকের ব্যবসায়িক সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৯৭.
“মি. শফিকের মতো ব্যবসায়ীদের উত্তম আচরণ ও সততাই সমাজের আদর্শ ব্যবসায়িক মডেল”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “মি. শফিকের মতো ব্যবসায়ীদের উত্তম আচরণ ও সততাই সমাজের আদর্শ ব্যবসায়িক মডেল”- উক্তিটি ইসলামের সুমহান অর্থনৈতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ এবং বাস্তবসম্মত। ব্যবসায়িক সততা এবং কর্মচারীদের সাথে ভালো ব্যবহার ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। উদ্দীপকের মি. শফিক তাঁর বাবার ব্যবসা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করেন। তিনি একদিকে যেমন তাঁর অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার ও পারিশ্রমিক যথাসময়ে মিটিয়ে দেন, অন্যদিকে সততার সাথে লেনদেন করেন। যার ফলশ্রুতিতে তাঁর ব্যবসায়িক খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেন। ইসলামে ব্যবসাকে অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সততার সাথে তা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ী ছিলেন। সৎ ব্যবসায়ীদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবিগণ, সত্যবাদীগণ (সিদ্দিক) ও শহীদদের সাথে থাকবেন।" (তিরমিযি)। অপরদিকে অধীনস্থদের প্রাপ্য সময়মতো পরিশোধ করা এবং তাদের সাথে মানবিক ব্যবহার করার গুরুত্বারোপ করে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তোমরা শ্রমিকের মজুরি তার গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পরিশোধ করে দাও।" (ইবনে মাজাহ)। মি. শফিকের চরিত্র ও কর্মে ইসলামের এই মহান শ্রমনীতি ও ব্যবসায়িক সততার অপূর্ব বাস্তবায়ন দেখা যায়। তাঁর এই মহৎ আদর্শ যদি বর্তমান ব্যবসায়ী সমাজ অনুসরণ করে, তবে সমাজ থেকে সব রকমের শোষণ, ভেজাল এবং ব্যবসায়িক অসততা দূর হবে। মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। অতএব নির্দ্বিধায় বলা যায়, মি. শফিকের ব্যবসায়িক আদর্শই সমাজ পরিবর্তনের এক অনুকরণীয় মডেল।
৯৮.
উদ্দীপকের মি. রফিকের কর্মকাণ্ডে ইসলামের দৃষ্টিতে কোন ধরনের অন্যায় ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মি. রফিকের কর্মকাণ্ডে ইসলামের দৃষ্টিতে আখলাকে জামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্গত 'অনধিকার চর্চা' এবং অন্যের হক নষ্ট করার মতো গুরুতর অন্যায় ফুটে উঠেছে। ইসলামে অপরের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ বা আত্মসাৎ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মি. রফিক প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়া তাঁর বাগান থেকে সুস্বাদু কিছু আম পেড়ে গোপনে খেয়ে ফেলেছেন, যা মূলগতভাবে চুরির শামিল। এটি অপরের অধিকার বা 'হক্বুল ইবাদ' (বান্দার হক) হরণ করার নামান্তর। ইসলাম মানুষকে অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ না করার এবং আমানতদারি রক্ষা করার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" (সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৮)। মি. রফিকের এই কর্মকাণ্ড কেবল নৈতিক স্খলনই নয়, বরং সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা এবং প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বিনষ্টের অন্যতম কারণ। এ জাতীয় আচরণ একজন আদর্শ মুমিনের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
৯৯.
"অন্যের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ইসলাম সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় রাখার জন্য একে অপরের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করা এবং তা মানুষের মাঝে প্রচার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কোনো মানুষের ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা ভুলত্রুটি মানুষের সামনে প্রকাশ না করে তা গোপন রাখা মহান আল্লাহর একটি গুণ। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্যের সম্মান রক্ষা করবে এবং তার ত্রুটি আড়াল করবে, কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে আল্লাহ তায়ালাও তার গুনাহ ও ত্রুটিসমূহ ঢেকে রেখে তাকে সম্মানিত করবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।" (সহিহ মুসলিম)
১০০.
ফিতনা-ফ্যাসাদ কাকে বলে?
উত্তর: সমাজে বিশৃঙ্খলা, কলহ-বিবাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করাকেই ফিতনা-ফ্যাসাদ বলে।
📖 তন্ময় তার প্রতিবেশী সুজনের ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্... তন্ময় তার প্রতিবেশী সুজনের ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে সুজনের নামে মিথ্যা বদনাম ছড়ায়। এতে সুজনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। অন্যদিকে তন্ময়ের বড় ভাই আকাশ এলাকার যুবকদের মাঝে সুন্দর আচরণ, সচ্চরিত্র গঠন ও পরোপকারের শিক্ষা প্রদান করেন। আকাশের প্রচেষ্টায় এলাকার যুবকদের মাঝে নৈতিক চরিত্রের প্রকাশ ঘটতে থাকে।
১০১.
“আকাশের মতো সচ্চরিত্রবান ও আদর্শ যুবকদের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব।” উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “আকাশের মতো সচ্চরিত্রবান ও আদর্শ যুবকদের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব।” উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজ পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তরুণ ও যুবসমাজ। যুবকদের চরিত্র যদি নৈতিকতা, সততা ও সচ্চরিত্রের মহৎ গুণে গড়ে ওঠে, তবেই সমাজ থেকে অনাচার, হিংসা-বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর হওয়া সম্ভব। উদ্দীপকে আকাশ এলাকার যুবকদের মাঝে সুন্দর আচরণ, সচ্চরিত্র গঠন ও পরোপকারের শিক্ষা প্রদান করেন। তার এই সৎ প্রচেষ্টার ফলেই এলাকার যুবকদের চরিত্রে ইতিবাচক ও নৈতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, যা মূলত একটি আদর্শ সমাজ গড়ার প্রধান পূর্বশর্ত। ইসলামে যুবসমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। সচ্চরিত্র ও নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন যুবকদের সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণীর মানুষকে কিয়ামতের কঠিন দিনে তাঁর আরশের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো— “সেই যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদত-আনুগত্যের মধ্য দিয়ে।” (সহিহ বুখারি)। আকাশের শিক্ষা এলাকার যুবকদের মাঝে উন্নত চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা তন্ময়ের মতো হিংসুক ব্যক্তিদের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। সচ্চরিত্রের অধিকারীরাই সমাজকে সঠিক ও কল্যাণের পথ দেখাতে পারে। যখন যুবসমাজ চরিত্রবান ও পরোপকারী হবে, তখন সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং আকাশের মতো যুবকদের নিঃস্বার্থ কর্মোদ্যোগ ও আদর্শের ফলেই সমাজে প্রকৃত রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়ন আনা সম্ভব।
১০২.
উদ্দীপকে তন্ময়ের আচরণে আখলাকে জামিমাহর কোন আচরণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে তন্ময়ের আচরণে আখলাকে জামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্গত 'হিংসা' ও 'গিবত' (পরনিন্দা)-এর আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামের পরিভাষায় অন্যের সুখ, সমৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে তা ধ্বংস বা বিলোপ হওয়ার এবং নিজে তার মালিক হওয়ার চরম আকাঙ্ক্ষাকে হিংসা বা হাসাদ বলা হয়। একইসাথে কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের কাছে প্রচার করাকে গিবত বা পরনিন্দা বলা হয়। তন্ময় তার প্রতিবেশী সুজনের ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত বা হিংসাগ্রস্ত হয়ে তার নামে মিথ্যা বদনাম (গিবত ও অপবাদ) ছড়ায়। তন্ময়ের এই হীন আচরণটি ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সমাজ ও ব্যক্তির নৈতিকতা ধ্বংসের মূল কারণ। হিংসুক ব্যক্তি নিজের অন্তরে সারাক্ষণ হিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয় এবং অন্যের ক্ষতি করতে ব্যাকুল থাকে। তন্ময় ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে সুজনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছে, যা পবিত্র ইসলাম ধর্মের সুমহান নৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী ও সামাজিক অপরাধ।
১০৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শালীনতার ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শালীনতা মানুষের সুরুচি ও উন্নত ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় শালীনতা বজায় রাখলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। এটি অন্যায়, অপকর্ম ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে মানুষকে বিরত রাখে। সমাজে শালীনতার ব্যাপক চর্চা থাকলে শাসনব্যবস্থা সহজ হয় এবং দুর্নীতি ও অপরাধের প্রবণতা হ্রাস পায়। ফলে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১০৪.
আখলাক কত প্রকার?
উত্তর: আখলাক প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১. আখলাকে হামিদাহ (প্রশংসনীয় চরিত্র) এবং ২. আখলাকে জামিমাহ (নিন্দনীয় চরিত্র)।
📖 সজীব ও রাজীব দুই বন্ধু। সজীব নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ... সজীব ও রাজীব দুই বন্ধু। সজীব নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে এবং তার ঘরবাড়ি, বিছানাপত্র পরিপাটি করে রাখে। সে বলে, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ।” অন্যদিকে রাজীব প্রায়ই অসুস্থ থাকে। সে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকে, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে এবং থুতু বা কফ ফেলে পরিবেশ দূষিত করে। সজীব রাজীবকে বুঝিয়ে বলল যে, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা আল্লাহর আদেশ এবং এটি মানুষের সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
১০৫.
“রাজীবের মতো ব্যক্তিদের অসচেতনতাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।” সজীবের বক্তব্যের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “রাজীবের মতো ব্যক্তিদের অসচেতনতাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।” সজীবের বক্তব্যের আলোকে মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সত্য। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের অসচেতনতা ও নোংরা অভ্যাসের কারণে পরিবেশ প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। উদ্দীপকের রাজীব যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ও কফ-থুতু ফেলে পরিবেশ নোংরা করে, যা জীবাণু ছড়াতে এবং বায়ু ও চারপাশ দূষিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের দায়িত্বহীন আচরণের ফলেই সংক্রামক রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজীবের মতো অনেকেই প্রায়ই অসুস্থ থাকে। ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ করা এবং একে পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি ঈমানদারের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “তোমরা অভিশাপের দুটি কাজ থেকে বিরত থাকো। সাহাবিগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অভিশপ্ত কাজ দুটি কী? তিনি বললেন— যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের রাস্তায় অথবা তাদের বিশ্রামের ছায়াদার জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে।” (সহিহ মুসলিম)। এছাড়া রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাকে ইমানের একটি শাখা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সজীবের কথা ও উপদেশ অত্যন্ত যথার্থ। রাজীব যদি নিজের ঘরবাড়ি ও চারপাশ সজীবের মতো পরিচ্ছন্ন রাখত এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকত, তবে পরিবেশ দূষণ রোধ হতো এবং সে নিজে বারবার অসুস্থ হতো না। অতএব বলা যায়, পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও রোগবালাই থেকে নিরাপদ রাখতে রাজীবের মতো ব্যক্তিদের অসচেতন মানসিকতা পরিবর্তন করে ইসলামের পরিচ্ছন্নতার মহান আদর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
১০৬.
উদ্দীপকে সজীবের আচরণের মাধ্যমে ইসলামের কোন আদর্শটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের আচরণের মাধ্যমে ইসলামের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার (তহারাত) আদর্শটি ফুটে উঠেছে। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামী পরিভাষায় একে বলা হয় তহারাত (طَهَارَةٌ)। তহারাত হলো যাবতীয় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতা ও নোংরামি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। সজীবের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, তার ঘরবাড়ি ও বিছানাপত্র পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখার মাধ্যমে ইসলামের এই সুমহান ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটি বাস্তবায়িত হয়েছে। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম এটিকে ইমানের অংশ ঘোষণা করেছে। মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন— الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ অর্থ : “পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।” (সহিহ মুসলিম)। আল্লাহ তায়ালাও পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-বাকারাহ : ২২২)। সজীবের চরিত্রে ইসলামের এই সুন্দর ও কল্যাণকর জীবনাদর্শের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়, যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অনুসরণীয়।
১০৭.
হিংসা মানুষের সৎ কর্মসমূহকে ধ্বংস করে দেয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হিংসা মানুষের একটি জঘন্যতম মানসিক ব্যাধি। এটি মানুষের সৎ কাজ ও পুণ্যসমূহকে দ্রুত গ্রাস বা ধ্বংস করে ফেলে। হিংসুক ব্যক্তি অন্য কারও ভালো সহ্য করতে পারে না এবং মনে মনে তার অমঙ্গল বা ক্ষতি কামনা করে। এই মানসিকতার ফলে তার অন্তরে ঘৃণা ও ক্ষোভের জন্ম হয়, যা তাকে বিভিন্ন প্রকার অন্যায় ও পাপে লিপ্ত করে। মহানবী (স.) হিংসার কুফল সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন— إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ অর্থ : “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা মানুষের নেক আমল বা পুণ্যসমূহকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে (ধ্বংস করে), যেভাবে আগুন শুকনো কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে।” (আবু দাউদ)
১০৮.
ফিতনা শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ফিতনা (فِتْنَةٌ) আরবি শব্দ। এর অর্থ বিশৃঙ্খলা, কলহ-বিবাদ, দাঙা-হাঙ্গামা, নৈরাজ্য, পরীক্ষা, বিভ্রান্তি ইত্যাদি।
📖 নাহিদ ও সাজিদ দুই ভাই। নাহিদ তাদের বাড়ির কাজের লো... নাহিদ ও সাজিদ দুই ভাই। নাহিদ তাদের বাড়ির কাজের লোকটির সাথে খারাপ আচরণ করে এবং তার কাজের অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়। কিন্তু সে ঠিকমতো পারিশ্রমিক ও খাবার দেয় না। অন্যদিকে সাজিদ তার অধীনস্থ শ্রমিকদের সাথে একই সাথে বসে আহার করে এবং কাজের ফাঁকে তাদের বিশ্রামের সুযোগ দেয়। সাজিদ মনে করে, ভালো আচরণ ও কাজের লোকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের নির্দেশ।
১০৯.
সাজিদের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই একটি শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সাজিদের আদর্শ তথা শ্রমিক ও অধীনস্থদের প্রতি চমৎকার আচরণ ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব- এ উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তব ও যুক্তিযুক্ত। শান্তিময় সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সামাজিক সাম্য ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। সমাজে খেটে খাওয়া শ্রমিক বা গৃহকর্মী সবচেয়ে দুর্বল ও বঞ্চিত শ্রেণী। তাদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই সভ্যতার চাকা সচল থাকে। কিন্তু অনেক সময় সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। সাজিদ তার গৃহকর্মীর সাথে নিজে বসে আহার করে এবং তাদের বিশ্রামের সুযোগ দেয় যা ইসলামের আদর্শের পরিপূরক। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তারা (অধীনস্থরা) তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সুতরাং যার ভাই তার অধীনে কাজ করে, সে যা খায় তাকে যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরিধান করে তাকে যেন তা পরিধান করায় এবং তাকে এমন কষ্টের কাজ না দেয় যা তার সাধ্যাতীত। যদি কোনো কঠিন কাজ তাকে দিতেই হয়, তবে যেন সে নিজেও তাকে সাহায্য করে।" (সহিহ বুখারি)। সাজিদের আচরণে এই সুমহান মানবিক নীতি ফুটে উঠেছে। যখন গৃহকর্মী বা শ্রমিকরা তাদের সঠিক মর্যাদা ও পারিশ্রমিক পাবে এবং ভালো আচরণ পাবে, তখন সমাজে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব দূর হবে। কোনো হিংসা-বিদ্বেষ, অসন্তোষ বা বিশৃঙ্খলা থাকবে না। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হবে। বিপরীত দিকে, নাহিদের মতো খারাপ আচরণের ফলে সমাজে ক্ষোভ, বৈষম্য ও অশান্তি বৃদ্ধি পায়। তাই পরিশেষে বলা যায়, সমাজের সর্বস্তরে যদি সাজিদের মতো শ্রমিকবান্ধব ও কল্যাণকর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবেই শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
১১০.
নাহিদের আচরণে ইসলামী কোন আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নাহিদের আচরণে ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও ভ্রাতৃত্বের মহান আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মানবসমাজ এক অখণ্ড পরিবারের মতো। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু নাহিদ তার বাড়ির কাজের লোকের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী। ইসলামে শ্রমিক ও অধীনস্থদের সাথে ভালো আচরণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের ওপর সাধ্যাতীত কাজ চাপিয়ে দেওয়া এবং তাদের যথাযথ পাওনা বা পারিশ্রমিক সময়মতো ও সঠিকভাবে না দেওয়া মারাত্মক গুনাহের কাজ। উদ্দীপকে নাহিদ তার গৃহকর্মীকে অতিরিক্ত কাজ করায় কিন্তু ঠিকমতো খাবার ও পারিশ্রমিক দেয় না। এটি সরাসরি ইসলাম নির্দেশিত শ্রমিকের অধিকার হরণ ও অবিচারের শামিল। মহানবী (স.) নির্দেশ দিয়েছেন, শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দিতে। তাছাড়া অধীনস্থদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে এবং তাদের সাথে কোমল ব্যবহার করতে হবে। নাহিদ এই সুন্দর বিধানগুলোর অবমাননা করেছে, যার ফলে তার আচরণে চরম অমানবিকতা ও ইসলামের মহান শ্রমনীতির লংঘন স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
১১১.
ফিতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষা মহাশত্রুতা কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা জঘন্য অপরাধ। এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা, হানাহানি ও জানমালের ক্ষতি ডেকে আনে। যার কারণে মানুষের শান্তিময় জীবন বিপর্যস্ত হয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। ফিতনা সমাজে মহামারি আকার ধারণ করলে অসংখ্য নিরীহ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এ কারণে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা একে নরহত্যার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ অর্থ: "আর ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষা মহাশত্রুতা (গুরুতর অপরাধ)।" (সূরা আল-বাকারাহ : ১৯১)
১১২.
গিবত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: গিবত (غِيبَة) শব্দের অর্থ হলো পরনিন্দা করা, পরচর্চা করা বা কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ ত্রুটি অন্যের সামনে প্রকাশ করা।
📖 জনাব নেহার উদ্দিন জেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা। অফিস... জনাব নেহার উদ্দিন জেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা। অফিসে যাওয়ার পথে লক্ষ্য করেন, জীর্ণ-শীর্ণ পোশাক পরিহিত এক বৃদ্ধকে গাড়ির ভাড়া দিতে না পারায় কন্ডাক্টর গালমন্দ করছে। তিনি নিজ পকেট থেকে ভাড়া পরিশোধ করেন, এমনকি স্টেশনে পৌঁছে তাকে একটি পোশাক কিনে দেন। অপরদিকে তার বন্ধু ওয়াসিম পিতার মৃত্যুর পর সংসারের ভার তার কাছে অর্পিত হয়। ভাইবোন আত্মীয়স্বজনের কল্যাণে একজন নিঃস্বার্থ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণমূলক কাজেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
১১৩.
ওয়াসিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি পরিলক্ষিত হয় তা চিহ্নিতপূর্বক তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ওয়াসিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কর্তব্যপরায়ণতার গুণটি পরিলক্ষিত হয়। আখলাকে হামিদাহর অন্যতম হলো কর্তব্যপরায়ণতা। মানুষের সার্বিক উন্নতি ও সফলতার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। কর্তব্যপরায়ণতা হলো যথাযথভাবে কর্তব্য আদায় করা, দায়িত্বসমূহ পালন করা ইত্যাদি। মানুষ হিসেবে আমাদের ওপর নানাবিধ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকা, সময়মতো সুন্দর ও সুচারুভাবে এগুলো পালন করা এবং এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন না করাকেই কর্তব্যপরায়ণতা বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "প্রত্যেকে যা করে তদানুসারে তার স্থান রয়েছে এবং তারা যা করে সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন।" (সূরা আল-আনআম : ১৩২) প্রদত্ত উদ্দীপকের ওয়াসিম পিতার মৃত্যুর পর সংসারের ভার নিজের কাঁধে নেন। তাছাড়া ছোট ভাইবোনদের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কাজ করেন, যা আখলাকে হামিদাহর কর্তব্যপরায়ণতার শামিল। কর্তব্যপরায়ণতা মুমিনের অন্যতম গুণ। মুমিন ব্যক্তি তার সকল কর্তব্য সম্পাদন করেন। আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার পাশাপাশি তিনি বাস্তবজীবনের সব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর একনিষ্ঠ বান্দাদের পরিচয় দিয়ে বলেছেন, "তারা কর্তব্য পালন করে এবং সেদিনের ভয় করে যেদিনের অনিষ্ট হবে ব্যাপক।" (সূরা আদ-দাহর : ৭)। কর্তব্য কাজে অবহেলা করলে পরকালে সেজন্য জবাবদিহি করতে হবে। একটি হাদিসে মহানবি (স.) বলেছেন- كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ অর্থ : "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।" (বুখারি) সুতরাং আমরা কর্তব্যপরায়ণ হতে সচেষ্ট হব এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা লাভ করব।
১১৪.
নেহার উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নেহার উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর মানবসেবার গুণটি ফুটে উঠেছে। খিদমাতুল খালক বা সৃষ্টিজীবের সেবা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক দিক। বিশেষ করে মানুষের সেবা করা, পরিচর্যা করা, যত্ন নেওয়া, বিপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা মানবসেবার অন্তর্ভুক্ত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবা করা মানুষের অন্যতম দায়িত্ব। মানুষ হলো আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কর্তব্য হলো এসব সৃষ্টির প্রতি সদয় হওয়া ও তাদের সাথে যথাযথ ব্যবহার করা। পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করাও মানুষের অন্যতম দায়িত্ব। কেননা পরস্পরের সেবা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়। প্রদত্ত উদ্দীপকে নেহার উদ্দিন অসহায় বৃদ্ধকে গাড়ি ভাড়া ও পোশাক কিনে দিয়ে মূলত উন্নত চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন। কেননা মানবসেবা আখলাকে হামিদাহর অন্যতম বিষয়। মানবসেবা মানুষের উন্নত চরিত্রের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি মানুষের সেবা করে, তিনি মহৎপ্রাণ। সমাজে তিনি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তায়ালাও এরূপ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। যিনি মানুষের সেবা, সাহায্য-সহযোগিতা করেন আল্লাহ তায়ালাও তাঁকে সাহায্য ও দয়া করেন। মহানবি (স.) বলেন- "যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।" (বুখারি) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- إِرْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থ : "তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (তিরমিযি) পরিশেষে বলা যায়, সকল মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আদর্শ। তাই আমাদের উচিত যথাসম্ভব সকল মানুষের সেবা করা।
১১৫.
"ব্যয় করার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ অবলম্বন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মিতব্যয়িতা একটি গুরুত্বপূর্ণ চারিত্রিক গুণ। এটি মানবসমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। পক্ষান্তরে কৃপণতা ও অপচয় সমাজে নানা অশান্তির সৃষ্টি করে। অপচয়কারীর সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে সে নানা অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়। অন্যদিকে কৃপণতা মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও শত্রুতার জন্ম দেয়। সমাজে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। মিতব্যয়িতা মানুষকে অপচয় ও কৃপণতার কুফল থেকে রক্ষা করে। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন- مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ رِفْقُهُ فِي مَعِيشَتِهِ অর্থ : "ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।" (মুসনাদে আহমাদ)
১১৬.
পরিচ্ছন্নতা কী?
উত্তর: শরীর, মন ও অন্যান্য ব্যবহার্য বস্তু সুন্দর ও পবিত্র রাখা, ময়লা-আবর্জনা ও বিশৃঙ্খলা অবস্থা থেকে মুক্ত রাখাই হলো পরিচ্ছন্নতা।
📖 দশম শ্রেণির ছাত্র আরিফ সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে প... দশম শ্রেণির ছাত্র আরিফ সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়। বন্ধু হাসিব চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা দিবে বলে কথা দেয়। কিন্তু আরিফ বারবার ফোন করলেও হাসিব রিসিভ না করে এড়িয়ে যায়। অন্যদিকে তাজুল তার স্ত্রীর একটি স্বর্ণের চেইন প্রতিবেশী মিছবাহের কাছে জমা রাখে। কিছুদিন পর তাজুল চেইনটি ফেরত চাইলে মিছবাহ নির্ধারিত সময় ফেরত দেয়।
১১৭.
মিছবাহের আচরণে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি প্রস্ফুটিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: মিছবাহের আচরণে আখলাকে হামিদাহর আমানতের গুণটি প্রস্ফুটিত হয়েছে। আমানত আরবি শব্দ। এর অর্থ গচ্ছিত রাখা, নিরাপদ রাখা। সাধারণত কারও নিকট কোনো অর্থসম্পদ, কথা গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়। তবে ব্যাপকার্থে শুধু ধনসম্পদ নয় বরং যেকোনো জিনিস গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলে। একজনের জানমাল, সম্মান, কথা-প্রতিজ্ঞা সবকিছুই অন্যের নিকট আমানতস্বরূপ। যিনি গচ্ছিত সম্পদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন এবং তা প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেন তাকে বলা হয় আমিন বা আমানতদার। উদ্দীপকে তাজুল তার স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন প্রতিবেশী মিছবাহের নিকট জমা রাখে, যা একটি আমানত। মিছবাহ তা সযতনে রক্ষা করে এবং তাজুল চাওয়ামাত্রই নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দেয়। তার এই বিশ্বস্ততা আমানতদারিতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমানত রক্ষা করা মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। আমানতের খেয়ানত করলে মুমিন ব্যক্তি মুনাফিকে পরিণত হয়। এজন্য আমানত রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহান আল্লাহ পাক কুরআন মজিদে বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার মালিককে যথাযথভাবে ফেরত দাও।" (সূরা আন-নিসা : ৫৮)। মহানবি (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই।" (মুসনাদে আহমাদ)। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমানতদারিতা ইমানের অঙ্গ। যাদের ইমান আছে তারা আমানতের খেয়ানত করতে পারেন না। আর যারা খেয়ানত করে তারা প্রকৃত মুমিন নয়। তারা প্রতারক ও মুনাফিক। খেয়ানতকারী শুধু মানব সমাজেই ঘৃণিত নয়, সে আল্লাহর কাছেও ঘৃণিত ও অভিশপ্ত। কুরআন মজিদে আছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ খেয়ানতকারীকে পছন্দ করেন না।" (সূরা আল-আনফাল : ৫৮) মিছবাহ তার প্রতিবেশীর গচ্ছিত সম্পদ যথাযথভাবে ফেরত দিয়ে আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ পালন করেছে। তার এই সৎ গুণের কারণে সে সমাজে আদর্শ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে সমাদৃত হবে এবং পরকালেও পুরস্কৃত হবে। সুতরাং বলা যায়, মিছবাহের আচরণে ইসলামের অন্যতম প্রধান নৈতিক গুণ 'আমানতদারিতা' যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে।
১১৮.
হাসিবের আচরণে আখলাকে হামিদাহর কোন গুণটির অভাব পরিলক্ষিত হয় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাসিবের আচরণে আখলাকে হামিদাহর ওয়াদার গুণটির অভাব পরিলক্ষিত হয়। ওয়াদাকে আরবি ভাষায় বলা হয় আল-আহদু (العَهْدُ)। আল-আহদু-এর শাব্দিক অর্থ- ওয়াদা, অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি, চুক্তি কাউকে কোনো কথা দেওয়া বা কোনো কাজ করার ওয়াদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় কারও সাথে কোনোরূপ প্রতিশ্রুতি দিলে, অঙ্গীকার করলে বা কাউকে কোনো কথা দিলে তা যথাযথভাবে রক্ষা করাকে ওয়াদা পালন বলে। উদ্দীপকের হাসিব দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফকে কিছু টাকা দিবে বলে ওয়াদা করেছিল। কিন্তু আরিফ বারবার ফোন দিলেও সে রিসিভ না করে তাড়িয়ে দেয়, যা মূলত ওয়াদা ভঙ্গের শামিল। ওয়াদা পালন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সৎ ও নৈতিক গুণাবলির অধিকারী ব্যক্তিগণ সর্বদা ওয়াদা রক্ষা করে থাকেন। যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে না সে পূর্ণাঙ্গ মুমিন ও দীনদার হতে পারে না। একটি হাদিসে মহানবি (স.) বলেছেন, لَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ- অর্থ : "যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে না, তার দীন নেই।" (মুসনাদে আহমাদ) সুতরাং কাউকে কোনো কথা দিলে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে, প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতে হবে। তাহলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন।
১১৯.
"নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকওয়ার মূল্য অত্যাধিক। ধন-সম্পদ, শক্তি-ক্ষমতা, গাড়ি-বাড়ি থাকলেই মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট মর্যাদা লাভ করতে পারে না। বরং যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে, সেই আল্লাহ তায়ালার নিকট বেশি মর্যাদাবান। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং বলেছেন- إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।" (সূরা আত-তাওবা : ৪)
১২০.
শালীনতা কী?
উত্তর: কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় ভদ্র, সভ্য ও মার্জিত হওয়াই হলো শালীনতা।
📖 জনাব কবির সরকারি চাকরি করেন। তিনি তার কর্মস্থলে জন... জনাব কবির সরকারি চাকরি করেন। তিনি তার কর্মস্থলে জনসাধারণের কাজ করে দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে খুব আয়েশি জীবনযাপন করেন। তার ছেলে জনাব খবির বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। কেউ তাকে চাকরি খোঁজা বা কোনো কর্মে নিযুক্ত হওয়ার কথা বললে তিনি বলেন, কাজ করতে আমার ভালো লাগে না। তাই তার বাবা বড়ই উদ্বিগ্ন।
১২১.
জনাব কবিরের কাজের পরিণতি ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব কবির খুব ঘুষ গ্রহণ করেন। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। 'হালাল তথা বৈধ উপায়ে উপার্জন করা ফরজ। হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারীর দোয়া কবুল হয় না এবং হারাম জীবিকা দ্বারা বর্ধিত শরীর কখনো জান্নাতে যাবে না'— উক্ত বক্তব্যগুলো আমাদের নেতা ও নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর। আর উক্ত বক্তব্যগুলোর সবকটিই জনাব কবিরের জন্য প্রযোজ্য। জনাব কবির কর্মস্থলে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কাজ করেন, যাকে ঘুষ বলা হয়। ঘুষ গ্রহণকারী জিনা হিসাবে জাহান্নামে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। নবি (স.) ঘোষণা করেন— 'ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।' বুখারি ও মুসলিম শরিফের আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে নবি (স.) বলেছেন— 'ঘুষ প্রদানকারী ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ের ওপরই আল্লাহর অভিসম্পাত।' (বুখারি ও মুসলিম) আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নং আয়াতে বলেন, তোমরা পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধনসম্পদের কিয়দংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে জেনে শুনে বিচারকদের নিকট পেশ করো না। আল্লাহ ও তার রাসূলের এত কঠোর নির্দেশের পরও কি এটা আশা করা যায় যে, জনাব কবির দুনিয়ার আরামের মতোই পরকালেও আরাম ভোগ করবেন! না, তা কখনো হবে না। বরং হারাম তাকে জাহান্নামের দোরগোড়ায় উপনীত করবে এবং তিনি আল্লাহর গজবে নিপতিত হবেন।
১২২.
জনাব খবিরের কাজের মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব খবির বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে কর্মহীন আয়েশি জীবনযাপন করছে। কোনো কাজে নিয়োজিত হতে তার চরম অনীহা। তার এ কাজে কর্মবিমুখতা প্রকাশ পেয়েছে। ইসলাম কখনো কর্মবিমুখতা অনুমোদন করে না। তাই জনাব খবিরের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, 'অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে।' (সূরা আল-জুমুআ : ১০) অন্যত্র তিনি বলেন, 'দুনিয়ায় তুমি তোমার অংশ ভুলে যেও না।' উক্ত আয়াতদ্বয়ে সরাসরি কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। নবি (স.) ঘোষণা করেছেন— 'হালাল উপায়ে জীবিকা অন্বেষণ করা ফরজের পর আরও একটি ফরজ কাজ।' (বায়হাকি) আমাদের নবি (স.) ব্যবসা করতেন, ছাগল চড়াতেন, সাহাবাগণ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তাই কর্মমুখী হওয়াই ইসলামের আদর্শ। কথায় বলে— 'অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।' কর্মবিমুখ হয়ে অলস জীবনযাপনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শয়তান তার পিছু লেগে থাকে, তাই তার দ্বারা বহুবিধ পাপাচার ও অপরাধ সংঘটিত হয়। পরিশেষে বলা যায় জনাব খবিরের কর্মবিমুখতা ইসলামি জীবনচারণের পরিপন্থী।
১২৩.
দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না কেন?
উত্তর: মহানবি (স.) বলেছেন, 'দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।' (আবু দাউদ) উক্ত স্বভাবের কারণে ব্যক্তি জীবনে অশান্তি নেমে আসে এবং সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জুলুম, অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার মহামারীর রূপ ধারণ করে। শান্তি, নিরাপত্তা, সামাজিক ঐক্য, সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। তাই দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের ব্যক্তিরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
১২৪.
আখলাকে হামিদাহ অর্থ কী?
উত্তর: আখলাকে হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয় চরিত্র, সৎচরিত্র।

অধ্যায়-০৩ : ইবাদত

📖 জনাব জামিল একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত সালাত... জনাব জামিল একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত সালাত ও সাওম আদায় করেন। তবে তাঁর পর্যাপ্ত ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি যাকাত প্রদান করেন না। তিনি মনে করেন নিজের কষ্টার্জিত টাকা অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অপরদিকে তাঁর প্রতিবেশী জনাব কামাল সাহেবের ওপর যাকাত ফরজ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি এলাকার অভাবী ও গরিব মানুষদের নিয়মিত দান-সদকা ও সাহায্য করেন।
১২৫.
জনাব কামাল সাহেবের কাজের সামাজিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব কামাল সাহেবের কাজের সামাজিক তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং মানবিক মূল্যবোধের এক অনুপম দৃষ্টান্ত। কামাল সাহেবের ওপর যাকাত ফরজ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে এলাকার অভাবী ও গরিবদের নিয়মিত দান-সদকা ও সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন, যা মূলত 'সদকায়ে নাফেলা' বা নফল দানের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর এই মহতী কাজের ফলে সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষগুলো চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার জন্য আর্থিক ও মানসিক অবলম্বন খুঁজে পায়। এর ফলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার অন্যায় বৈষম্য এবং ক্ষোভ দূর হয় এবং পারস্পরিক মায়া, মমতা, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ইসলামে নিঃস্বার্থ সৃষ্টির সেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি বিশেষ তাকিদ দেওয়া হয়েছে। কামাল সাহেবের এই নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস করতে এবং একটি সুশৃঙ্খল, ভালোবাসাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ মানবিক সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
১২৬.
জনাব জামিলের কর্মকাণ্ডে শরিয়তের কোন বিধানের অবমাননা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব জামিলের কর্মকাণ্ডে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ 'যাকাত'-এর সুস্পষ্ট অবমাননা ও লঙ্ঘন প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, কোনো স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছরকাল অতিবাহিত হলে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। উদ্দীপকে জনাব জামিল বিত্তশালী হওয়া সত্ত্বেও কৃপণতা করে যাকাত আদায় করেন না এবং মনে করেন নিজের কষ্টার্জিত টাকা অন্যকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। এটি আল্লাহর অকাট্য বিধানকে সরাসরি অস্বীকার ও অগ্রাহ্য করার শামিল, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
১২৭.
জিহাদ ও সন্ত্রাসের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: জিহাদ ও সন্ত্রাসের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। জিহাদ হলো ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের প্রতিরোধ, আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখা এবং সমাজ সংস্কারের জন্য সাধ্যানুযায়ী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) কর্তৃক অনুমোদিত। পক্ষান্তরে, সন্ত্রাস হলো অবৈধ উপায়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করা, যা সম্পূর্ণরূপে মানবতাবিরোধী এবং ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম।
১২৮.
সাওম ঢালস্বরূপ কেন?
উত্তর: ঢাল যেমন যুদ্ধে শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি সাওম মানুষকে দুনিয়ার সব রকম গুনাহ, মন্দ কাজ এবং পরকালের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে বলে একে ঢালস্বরূপ বলা হয়েছে।
📖 সালেহ সাহেব একজন বিত্তবান ও ধার্মিক ব্যক্তি। প্রতি... সালেহ সাহেব একজন বিত্তবান ও ধার্মিক ব্যক্তি। প্রতি বছর রমজান মাসে তিনি গভীর একাগ্রতার সাথে সাওম ও সালাত আদায় করেন এবং নিজের ব্যবসার লভ্যাংশ হিসাব করে সঠিক নিয়মে তার যাকাত আদায় করেন। তিনি মনে করেন, যাকাত দেওয়ার ফলে তাঁর সম্পদ হ্রাস পায় না, বরং তা পবিত্র ও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তাঁর বড় ভাই মোস্তফা সাহেব একজন কোটিপতি ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও কখনো যাকাতের হিসাব করেন না এবং মনে করেন ব্যবসায় নিজের বুদ্ধিমত্তায় অর্জিত টাকা অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
১২৯.
মোস্তফা সাহেবের মনোভাবের পরিণতি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মোস্তফা সাহেবের মনোভাব ও যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক, যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কঠোরভাবে নিন্দিত এবং পরকালে কঠিন আজাবের কারণ। মোস্তফা সাহেব অহংকার ও কৃপণতাবশত মনে করেন যে নিজের বুদ্ধিমত্তায় অর্জিত টাকা অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যা আল্লাহর অবাধ্যতার শামিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে তা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং তা তাদের জন্য অত্যন্ত অমঙ্গল। তারা যাতে কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে।' (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০)। সুন্নাহ বা হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি অতি বিষধর সাপের রূপ দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সাপটি তাকে দংশন করতে করতে বলবে, 'আমিই তোমার ধন, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।' (বুখারি)। অতএব, মোস্তফা সাহেবের এই মনোভাব কেবল দুনিয়াতে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কৃপণতার পাপ বাড়ায় না, বরং পরকালীন জীবনে তাকে চরম লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের অনিবার্য শাস্তির মুখোমুখি করবে।
১৩০.
সালেহ সাহেবের বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সালেহ সাহেবের বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও অকাট্য। সালেহ সাহেব বিশ্বাস করেন যে যাকাত দিলে সম্পদ হ্রাস পায় না, বরং তা পবিত্র ও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'যাকাত' শব্দের অর্থই হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে যাকাত দাও, তা মূলত তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে।' (সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৯)। এছাড়া হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, 'সদকা বা যাকাত প্রদানের দ্বারা সম্পদ কখনো কমে না।' যাকাত দিলে আল্লাহ সম্পদে বরকত দান করেন এবং তা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সব ধরণের অপবিত্রতা ও অমঙ্গল থেকে রক্ষা পায়। তাই সালেহ সাহেবের বিশ্বাসটি শতভাগ শরিয়তসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত।
১৩১.
হাক্কুল ইবাদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাক্কুল ইবাদ হলো বান্দার হক বা মানুষের প্রতি মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব। ইসলামে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত বা আল্লাহর হক আদায় করলেই চলে না, পাশাপাশি সৃষ্টির সেবা ও পারস্পরিক মানবীয় অধিকার রক্ষা করাও আবশ্যক। মানুষের প্রতি মানুষের এই হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে; যেমন— নিকটাত্মীয়ের হক, প্রতিবেশীর হক, অভাবী লোকের হক ইত্যাদি। বান্দার হক নষ্ট করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দা নিজে তা ক্ষমা করে।
১৩২.
'সাওম' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা।
📖 জনাব 'এক্স' একজন সৎ ব্যবসায়ী। তিনি সর্বদা আল্লাহর... জনাব 'এক্স' একজন সৎ ব্যবসায়ী। তিনি সর্বদা আল্লাহর ইবাদত করার পাশাপাশি অত্যন্ত সততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। তিনি ওজনে কম দেন না এবং কোনো অবৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মুমিনের পুরো জীবনটাই ইবাদত হতে পারে। অন্যদিকে তাঁর প্রতিবেশী জনাব 'ওয়াই' মনে করেন, ইবাদত শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই তিনি ধর্মীয় কাজ শেষ করে নিজের ইচ্ছামতো ও অনৈতিক পন্থায় অর্থ উপার্জন করেন।
১৩৩.
জনাব 'এক্স'-এর বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব 'এক্স'-এর বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে সম্পূর্ণ নির্ভুল, যুক্তিযুক্ত এবং প্রশংসনীয়। তিনি বিশ্বাস করেন একজন মুমিনের পুরো জীবনটাই ইবাদত হতে পারে, যা ইসলামের মূল শিক্ষার সাথে শতভাগ সংগতিপূর্ণ। ইসলামে ইবাদতকে কেবল নির্দিষ্ট উপাসনালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। জনাব 'এক্স' একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ওজনে কম না দেওয়া, হালাল পণ্য বিক্রি করা এবং সততা বজায় রাখার মাধ্যমে সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, 'সততা ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গী হবেন।' (তিরমিজি)। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, একজন মুমিন যখন তার জীবিকা নির্বাহ, পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক লেনদেন আল্লাহর আইন মেনে সম্পন্ন করে, তখন তার প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং, জনাব 'এক্স'-এর সামগ্রিক জীবনকে ইবাদতের আওতাভুক্ত মনে করার বিশ্বাসটি ইসলামী শরিয়তের অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত ও সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
১৩৪.
জনাব 'ওয়াই'-এর ধারণার সাথে ইবাদতের প্রকৃত পরিধির বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
উত্তর: জনাব 'ওয়াই'-এর ধারণা ইবাদতের প্রকৃত ও ব্যাপক পরিধির সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ এবং আংশিক। 'ওয়াই' মনে করেন ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের মতো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের গণ্ডি অত্যন্ত ব্যাপক। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (Complete Code of Life)। ইবাদতের স্তম্ভ বা রুকনগুলো পালন করার পর মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি বৈধ কাজই ইবাদতে পরিণত হতে পারে, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করা হয়। যেহেতু জনাব 'ওয়াই' আনুষ্ঠানিক ইবাদতের পর অনৈতিক পন্থায় অর্থ উপার্জন করেন ও খেয়ালখুশিমতো চলেন, তাই তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি সামগ্রিক ও প্রকৃত ইবাদতের ধারণার সাথে চরমভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
১৩৫.
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন কেবল একমাত্র তাঁরই ইবাদত, দাসত্ব ও আনুগত্য করার জন্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, 'আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।' (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)। এর মূল তাৎপর্য হলো মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলবে।
১৩৬.
ইবাদত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইবাদত শব্দের অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য, বশ্যতা স্বীকার করা বা বন্দনা করা।
📖 আহসান ও সালমান দুই বন্ধু। আহসান সাহেব প্রচুর ধন-সম... আহসান ও সালমান দুই বন্ধু। আহসান সাহেব প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক। তিনি প্রতি বছর হিসাব-নিকাশ করে তাঁর মালের নির্দিষ্ট অংশ নির্দিষ্ট খাতে বণ্টন করে দেন। তিনি মনে করেন, এতে তাঁর মালের পবিত্রতা অর্জন হয় ও প্রবৃদ্ধি ঘটে। অপরদিকে তাঁর বন্ধু সালমান সাহেবও একজন ধনী ব্যক্তি কিন্তু তিনি কৃপণ ও বিলাসী প্রকৃতির। তিনি মনে করেন, কষ্টার্জিত মাল অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি যাকাত দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
১৩৭.
সালমান সাহেবের মনোভাবের পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সালমান সাহেবের মনোভাব ও যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, যা কুরআন ও হাদিসের আলোকে কঠোরভাবে নিন্দিত এবং পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ। সালমান সাহেব কৃপণতা ও বিলাসী মনমানসিকতার কারণে মনে করেন যে কষ্টার্জিত সম্পদ অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও বিধানের সরাসরি অবাধ্যতা। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, 'আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাঁদের দিয়েছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে তা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং তা তাদের জন্য অত্যন্ত অমঙ্গল। তারা যাতে কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে।' (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০)। হাদিস শরিফেও এসেছে, যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি বিষধর সাপের রূপ দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সাপটি তাকে দংশন করতে করতে বলবে, 'আমিই তোমার ধন, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।' (বুখারি)। অতএব, সালমান সাহেবের এই মনোভাব কেবল সামাজিক বৈষম্যই বাড়ায় না, বরং পরকালীন জীবনে তাঁকে চরম লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করবে।
১৩৮.
আহসান সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আহসান সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের অন্যতম মৌলিক ও আর্থিক ফরজ ইবাদত 'যাকাত' প্রতিফলিত হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান যদি নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক পণ্য) সম্পদের মালিক হন এবং তা যদি তাঁর কাছে এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবে সেই সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ (শতকরা আড়াই ভাগ) নির্ধারিত খাতে অভাবী ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা আবশ্যক। উদ্দীপকে আহসান সাহেব প্রতি বছর নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ হিসাব-নিকাশ করে নির্দিষ্ট খাতে বণ্টন করে দেন এবং বিশ্বাস করেন এর মাধ্যমে সম্পদের প্রবৃদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জিত হয়, যা যাকাতের হুবহু মূল বাণী ও বাস্তবায়নকেই নির্দেশ করে।
১৩৯.
যাকাতের নামকরণের সার্থকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বছরান্তে তাঁর সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (২.৫০%) আল্লাহর নির্ধারিত খাতে দান করার মাধ্যমে নিজের অবশিষ্ট সম্পদকে লোভ, কৃপণতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেন। একই সাথে এই দানের ফলে সমাজে দরিদ্রদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বরকত ও প্রবৃদ্ধি ঘটে। অর্থ ও উদ্দেশ্য উভয় দিক থেকেই এই পবিত্রতা ও বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকার কারণে একে যাকাত নামকরণ করা সম্পূর্ণ সার্থক ও যৌক্তিক।
১৪০.
নিসাব কী?
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলে।
📖 সাফওয়ান ও সোবহান দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, ইবাদত... সাফওয়ান ও সোবহান দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, ইবাদত শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই সে এই ইবাদতগুলো পালনের পর বাকি সময় নিজের ইচ্ছামতো ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম পরিচালনা করে। অন্যদিকে সোবহান বিশ্বাস করে, মানুষের পুরো জীবনটাই ইবাদতের আওতাভুক্ত। তাই সে দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর দেওয়া বিধান এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রদর্শিত পথ অনুযায়ী সম্পন্ন করে।
১৪১.
সোবহানের বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সোবহানের বিশ্বাসটি ইসলামী শরিয়তের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক, নির্ভুল এবং যথার্থ। সোবহান বিশ্বাস করে যে মানুষের পুরো জীবনটাই ইবাদতের আওতাভুক্ত, যা ইসলামের মূল দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়। ইসলামে ইবাদতকে কেবল উপাসনালয়ের গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা হয়নি। একজন মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত— অর্থাৎ তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড আল্লাহর নির্দেশিত হালাল-হারামের বিধান মেনে এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন করে, তখন তার প্রতিটি বৈধ কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি ন্যায়সঙ্গতভাবে জীবিকা নির্বাহ করা, পরিবারের দেখাশোনা করা এবং মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করাও সওয়াবের কাজ। সোবহান তার দৈনন্দিন ও ব্যবসায়িক জীবন আল্লাহর আইন অনুযায়ী পরিচালনা করার মাধ্যমে ইসলামের এই ব্যাপক ইবাদতের ধারণাকেই বাস্তবায়ন করছে। অতএব, সোবহানের এই সামগ্রিক জীবনকে ইবাদত মনে করার বিশ্বাসটি শতভাগ যৌক্তিক ও শরিয়তসম্মত।
১৪২.
সাফওয়ানের ধারণার সাথে ইবাদতের প্রকৃত পরিধির বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের ধারণা ইবাদতের প্রকৃত ও ব্যাপক পরিধির সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সাফওয়ান মনে করে ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। আনুষ্ঠানিক ইবাদত বা রুকনগুলো ইসলামের অপরিহার্য স্তম্ভ হলেও মানুষের পুরো জীবনটাই ইবাদতে রূপান্তরিত হতে পারে যদি তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সাফওয়ান ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজের ইচ্ছামতো ও খেয়ালখুশিমতো জীবন পরিচালনা করে, যা ইবাদতের আংশিক রূপ। এটি ইসলামের সামগ্রিক ইবাদতের ধারণার সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।
১৪৩.
আল্লাহ তায়ালা জিন ও মানবজাতিকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা জিন ও মানবজাতিকে কেবল তাঁরই ইবাদত, দাসত্ব ও আনুগত্য করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, 'আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।' (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)। এর অর্থ হলো মানুষ তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে এবং তাঁর বশ্যতা স্বীকার করবে।
১৪৪.
ইবাদত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইবাদত শব্দের অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য, বশ্যতা স্বীকার করা বা বন্দনা করা।
📖 জনাব 'ক' সাহেব তার সমস্ত ধন-সম্পদ হিসাব করে এক বছর... জনাব 'ক' সাহেব তার সমস্ত ধন-সম্পদ হিসাব করে এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট হারে কিছু অর্থ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন এবং ভাবলেন এর ফলে তার সম্পদ আরও পবিত্র ও বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে জনাব 'খ' সাহেব একজন চাকরিজীবী। তিনি রমজান মাসে রোজা পালন করেন এবং সৎ পথে চলেন। কিন্তু তিনি অনাহারী মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করতে পারেন না এবং মনে করেন রোজা কেবল উপোস থাকার নাম।
১৪৫.
জনাব 'খ' সাহেবের মনোভাবের সাথে সাওমের প্রকৃত শিক্ষার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
উত্তর: জনাব 'খ' সাহেবের মনোভাবের সাথে সাওমের প্রকৃত আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শিক্ষার চরম বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 'খ' সাহেব মনে করেন সাওম বা রোজা কেবল সারাদিন না খেয়ে বা উপোস থাকার নাম এবং তিনি অনাহারী মানুষের কষ্ট অনুভব করতে পারেন না, যা সাওমের মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সাওমের প্রকৃত শিক্ষা কেবল শারীরিক উপোস থাকা নয়, বরং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা এবং অন্তরের পশুত্ব ও লোভ-লালসাকে দমন করা। সামাজিক দিক থেকে সাওমের অন্যতম বড় শিক্ষা হলো, সারাদিন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান ও ধনী ব্যক্তিরা গরিব ও অনাহারী মানুষের ক্ষুধার তীব্রতা এবং অনাহারের কষ্ট বাস্তবভাবে নিজেরা উপলব্ধি করতে পারবে। এই অনুভূতি ধনীদের অন্তরে দরিদ্রদের প্রতি দয়া, সহানুভূতির ও সহমর্মিতার জন্ম দেয়, যা তাদের দান-সদকা করতে অনুপ্রাণিত করে। যেহেতু জনাব 'খ' সাহেব এই ক্ষুধার কষ্ট বা সহানুভূতি অনুভব করতে পারেন না, তাই তাঁর এই মনোভাব সাওমের মূল মর্মবাণী ও শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
১৪৬.
জনাব 'ক' সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব 'ক' সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের অন্যতম আর্থিক ফরজ ইবাদত 'যাকাত'-এর প্রতিফলন ঘটেছে। ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের অর্থ) এক বছরকাল স্থায়ী থাকলে তার সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫০%) নির্দিষ্ট খাতে বা অভাবী লোকদের মাঝে বণ্টন করা ফরজ। উদ্দীপকে জনাব 'ক' সাহেব বছর শেষে তাঁর সম্পদের হিসাব করে নির্দিষ্ট হারে গরিবদের মাঝে অর্থ বিলিয়ে দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করেন যে এর মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র ও বৃদ্ধি পায়। এই বিশ্বাস ও কাজ হুবহু যাকাতের মূল ধারণাকে নির্দেশ করে, কারণ 'যাকাত' শব্দের অর্থই হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া।
১৪৭.
যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয় কেন?
উত্তর: যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয় কারণ এটি সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনীদের ধন-সম্পদ যেমন পবিত্র হয়, তেমনি দরিদ্র ও অভাবী মানুষের অর্থনৈতিক সংকট দূর হয়। এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের দূরত্ব কমিয়ে তাদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন বা মেলবন্ধন তৈরি করে, যার ফলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
১৪৮.
নিসাব কী?
উত্তর: শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলে।
📖 জসিম উদ্দিন একজন প্রবাসী। বন্যায় তার এক প্রতিবেশী... জসিম উদ্দিন একজন প্রবাসী। বন্যায় তার এক প্রতিবেশীর ঘর নষ্ট হলে তিনি নিজ খরচে প্রতিবেশীর ঘর নির্মাণ করে দেন। অন্যদিকে জসিম উদ্দিনের বন্ধু সাদিকুল ইসলাম বছর শেষে তার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে গরিব ও অভাবীকে অতিরিক্ক অংশ কিনে দিলে তার প্রতিবেশী সুমন সাদিকুল ইসলামকে বলল, অন্যের জন্য তোমার কষ্টার্জিত টাকা খরচ করা সম্পদশালীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
১৪৯.
সাদিকুলের কাজটি চিহ্নিতপূর্বক সুমনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সাদিকুল ইসলামের কাজটি হলো মূলত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ 'যাকাত' প্রদান করা। তিনি বছর শেষে তাঁর সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব ও অভাবীদের মাঝে বণ্টন করেছেন, যা শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত হিসেবে গণ্য। সুমনের বক্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ যাকাত হলো ধনী ও গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার অন্যতম হাতিয়ার। সাদিকুল তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ থেকে নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি সমাজে অন্যান্য বিত্তবানদের জন্য একটি উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। যদি সমাজের সকল বিত্তবান ব্যক্তি এভাবে তাদের সম্পদের সঠিক হিসাব করে যাকাত প্রদান করে, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন হবে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই সুমনের এই মূল্যায়ণ সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৫০.
জনাব জসিম উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে কোন প্রকারের ইবাদত সম্পাদন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জনাব জসিম উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক ইবাদত সম্পাদিত হয়েছে। মানুষের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যকে হাক্কুল ইবাদ বলা হয়। ইসলামে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করলেই চলে না, পাশাপাশি সৃষ্টির সেবা ও মানুষের কল্যাণ করাও ইবাদতের অংশ। জসিম উদ্দিন একজন প্রবাসী হয়েও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশীর ঘর নিজ খরচে নির্মাণ করে দিয়েছেন, যা সরাসরি মানবতার সেবা ও প্রতিবেশীর হকের আওতাভুক্ত। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এটি এক প্রকার সামাজিক ইবাদত।
১৫১.
হজকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয় কেন?
উত্তর: হজকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়। কারণ মুসলিম জাতির এত বড় মহামিলন আর কোথাও কখনো হয় না। সারাবিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র জিলহজ মাসে বায়তুল্লাহর জিয়ারতের জন্য মক্কায় একত্রিত হন। তাঁরা আরাফাতের ময়দানে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আমল হতে এ হজ চালু হয়। হজের মাধ্যমে উপস্থিত হাজিগণ বিশ্ববাসীকে এ বার্তা দেন যে, বিশ্বের সব মুসলমান এক জাতি। তাই তারা সাদা হোক বা কালো হোক, ধনী হোক অথবা গরিব তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা সবাই আল্লাহর দাস। কফিনের সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় তাদের গন্তব্য চিরশান্তির স্থান জান্নাত। এজন্যই এটিকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়।
১৫২.
ইবাদত কাকে বলে?
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্মে আল্লাহর বিধিবিধান মেনে চলাকে ইবাদত বলে।
📖 শান্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রহিম উদ... শান্তিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রহিম উদ্দিন। একদিন জুমার নামাজ আদায় করার জন্য প্রথম সারিতে দাঁড়ান। দিনমজুর মফিজ মিয়া তখন নামাজ আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে চেয়ারম্যান সাহেব ধমক দিয়ে মফিজ মিয়াকে বলেন, তুমি পিছনের সারিতে গিয়ে দাঁড়াও। চেয়ারম্যান সাহেবের বড় ভাই জমির উদ্দিন আরবি বছরের বিশেষ একটি মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করেন এবং সারা মাস ইবাদত পালন করেন। তিনি মনে করেন, ঐ মাসের বিশেষ ইবাদত মানুষকে যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে।
১৫৩.
জনাব জমির উদ্দিন যে ইবাদত পালন করেন তা চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ইমাম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের অন্যতম একটি ইবাদত তথা সাওম-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা সাওম হলো ঢালস্বরূপ। সকল ধরনের মন্দ কাজের থেকে দূরে থাকতে সাওম আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। সাওমের সামাজিক গুরুত্ব অত্যধিক। সাওম পালনের মাধ্যমে একজন লোক ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে। সমাজের দরিদ্র ও অভাবীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে চলে। মারামারি পাপকর্মকারী ব্যক্তি অন্যায়-অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে। হানাহানি থেকে দূরে থাকে। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। অধিক সওয়াব পাওয়ার আশায় একে অপরকে সাহরি ও ইফতার করায় এবং অভাবীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এতে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয়। সুতরাং গুণাহমুক্ত জীবন লাভের আশায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় এবং সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে আমাদের সাওম পালন করা উচিত। তাই আমরা বলতে পারি, ইমাম সাহেবের ইঙ্গিতকৃত ইবাদত সাওমের সামাজিক গুরুত্ব ব্যাপক।
১৫৪.
জনাব রহিম উদ্দিনের আচরণে সালাতের কোন শিক্ষাটি উপেক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব রহিম উদ্দিনের আচরণে সালাতের সাম্যের শিক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে। সালাতের অন্যতম শিক্ষা হলো এখানে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সবাই সমান। তাই সবাই সালাতে এক কাতারে দাঁড়ায়। এখানে ধনীর পাশে গরিব দাঁড়াতে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি রাজার পাশে চাকর দাঁড়ালেও তাকে সেখান থেকে পিছনে পাঠানো যাবে না। সালাতে সকলে এক আল্লাহর গোলাম হিসেবে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ায়, সেখানে সবার একই পরিচয়। আর তা হলো সবাই আল্লাহর গোলাম। তাই রহিম উদ্দিন দিনমজুর মফিজ মিয়াকে জুমার সালাতে তার পাশে হতে সরে গিয়ে পিছনের সারিতে দাঁড়াতে বলে সালাতের উক্ত শিক্ষাকে উপেক্ষা করেছে।
১৫৫.
ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক আদর্শিক ও আন্তরিক হওয়া উচিত এটি আত্মার সম্পর্কযুক্ত। এ সম্পর্ক পিতা-পুত্রের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, আদর্শবান শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎপথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। পক্ষান্তরে ছাত্রও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের ও নৈতিকতার উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে নিজে থেকে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ করে শিক্ষক থেকে বড় জ্ঞানী হতে পারে। নবি ও রাসূলগণ হলেন আদর্শ শিক্ষক আর তাঁদের উম্মত হলো তাঁদের ছাত্র। রাসূলুল্লাহ (স.) এ উম্মতের জ্ঞানীদেরকে নবিদের উত্তরাধিকারী বলেছেন।
১৫৬.
হাক্কুল্লাহ কী?
উত্তর: হাক্কুল্লাহ হলো আল্লাহর হক।
📖 আবদুল্লাহপুর গ্রামের শিহাবউদ্দিন প্রচুর ধন-সম্পদের... আবদুল্লাহপুর গ্রামের শিহাবউদ্দিন প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক। বছর শেষে সম্পদের হিসাব করে নির্ধারিত হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করলেন। তিনি মনে করেন, এ কাজটি হলো 'ইসলামের সেতুবন্ধ'। অন্যদিকে জনি সাহেব জোহরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে বসে ইমাম সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শুনছিলেন। তিনি বললেন, মানুষ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মন্দ কাজে প্ররোচিত হয়। এমন একটি ইবাদত আছে যার মাধ্যমে এ মন্দ কাজগুলো থেকে দূরে থাকা যায়। আমাদের নিয়মিত সে ইবাদত পালন করা উচিত।
১৫৭.
ইমাম সাহেবের বক্তব্যে যে ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ইমাম সাহেবের বক্তব্যে যে ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো 'সাওম'। সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে। সাওম একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ফরজ ইবাদত। সামাজিক গুরুত্ব: ১. সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি: সাওম পালনের মাধ্যমে ধনীরা ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের অনাহারের কষ্ট বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এতে তাদের মনে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির সৃষ্টি হয়। ২. পারষ্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি: সাওমের মাধ্যমে মানুষ লোভ-লালসা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি মন্দ স্বভাব থেকে দূরে থাকে, যা সামাজিক শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনে। ৩. আত্মশুদ্ধি ও শৃঙ্খল জীবন: সাওম মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায় এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
১৫৮.
শিহাবউদ্দিনের কাজটি কী হিসেবে গণ্য? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে শিহাবউদ্দিনের কাজটি ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত তথা যাকাতকে নির্দেশ করেছে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ ভাগ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। ইসলামে যাকাত গরিবের প্রতি ধনীর দয়া নয় বরং এটি অধিকার। যাকাত হলো এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে যাকাত প্রদানকারী ব্যক্তির সম্পদ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য সচল হয় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়। যা ধনী-গরিবের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। তাই যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি, শিহাবউদ্দিন ফরজ ইবাদত হিসেবে যাকাত প্রদান করেছেন।
১৫৯.
'ইলম' অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জ্ঞানার্জন মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। এছাড়াও একজন ব্যক্তি তখনই প্রকৃত মুসলমান হয়, যখন সে ইসলামের সকল বিধিবিধান সঠিকভাবে পালন করে। ইসলামী বিধিবিধান মানার জন্য জ্ঞান আবশ্যক। তাই ইলম অন্বেষণ বা জ্ঞানার্জনকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ করা হয়েছে।
১৬০.
'জিহাদে কাবির' কাকে বলে?
উত্তর: জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করাকে জিহাদে কাবির বলা হয়।
📖 বানু মিয়া একজন চাকরিজীবী। তিনি ঢাকায় থাকেন। গ্রা... বানু মিয়া একজন চাকরিজীবী। তিনি ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে তাঁর ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তাকে ঢাকায় এনে নিজ খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। দরিদ্র প্রতিবেশী রহিমের মেয়ের বিয়েতেও তিনি প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে জসিম একজন শ্রমজীবী। তিনি রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন করেন তাতেই সংসার চালান। এমনকি এক চোরাকারবারি তাকে প্রচুর টাকার বিনিময়ে অবৈধ মালামাল বহনের প্রস্তাব দিলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে।
১৬১.
জসিমের উপার্জনের পন্থাটি শরিয়তের পরিভাষায় চিহ্নিত করে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জসিমের উপার্জনের পন্থাটি শরিয়তের পরিভাষায় হালাল। আমাদের জীবনে হালালের প্রভাব ব্যাপক। ইসলামী পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত, শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হালাল কথা, কাজ বা বস্তু সবই হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা যেসব কথা বা কাজের অনুমতি দিয়েছেন সেগুলো হালাল কাজ হিসেবে স্বীকৃত। উদ্দীপকে জসিম স্বহস্তে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন, যা শরিয়তের ভাষায় হালাল বা বৈধ। মানবজীবনে হালালের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমাদের জন্য কোনটি উপকারী ও কোনটি অপকারী তা আল্লাহই ভালো জানেন। যেসব দ্রব্য ও বিষয় মানুষের জন্য কল্যাণকর তাই তিনি হালাল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا অর্থ : "হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর।" (সূরা আল-বাকারা : ১৬৮) হালাল বস্তু মানুষকে ইবাদতে উৎসাহিত করে। মানুষ অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতে পারে। এছাড়াও হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে; অন্তরে নূর সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অন্যায় ও অসংগতিকে ঘৃণা করতে থাকে। তাই বলা যায়, হালাল পন্থায় উপার্জন মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব রাখে। মানুষকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়।
১৬২.
বানু মিয়া কোন প্রকারের ইবাদত পালন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বানু মিয়া হাক্কুল ইবাদ পালন করেছেন। বান্দা বা মানুষের সাথে সম্পর্কিত অধিকার বা হককে হাক্কুল ইবাদ বলা হয়। মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. নিকটাত্মীয়ের হক, ২. দূরাত্মীয়ের হক, ৩. প্রতিবেশীর হক, ৪. দেশবাসীর হক, ৫. শাসক-শাসিতের হক, ৬. সাধারণ মুসলমানের হক, ৭. অভাবী লোকের হক এবং ৮. অমুসলিমের হক। রাসূল (স.) বলেছেন, "এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথা— সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাজায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম) সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বানু মিয়া বোনকে চিকিৎসা করানো এবং প্রতিবেশীকে সাহায্য করা হাক্কুল ইবাদের অংশ।
১৬৩.
যাকাতের নামকরণের সার্থকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। যাদের ওপর যাকাত ফরজ অর্থাৎ যারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তারা যাকাত দিলে তাদের সম্পদের সম্পদ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বৃদ্ধি পায়। তাই তাকে যাকাত বলা যৌক্তিক।
১৬৪.
সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, "সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।"
📖 রফিক ও শফিক দুই ভাই। রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর... রফিক ও শফিক দুই ভাই। রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। তাছাড়া তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন। অন্যদিকে শফিক সাহেব প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম পালন করেন এবং জাকাত আদায় করেন। কিন্তু তিনি তাঁর প্রতিবেশীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন না।
১৬৫.
উদ্দীপকে বর্ণিত শফিক সাহেবের কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় আচরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত শফিক সাহেবের ধর্মীয় আচরণ ও কর্মকাণ্ড একপেশে এবং অসম্পূর্ণ; ইসলামি শরিয়তের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার আলোকে এর যথার্থতা নেই। শফিক সাহেব প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম পালন করেন এবং জাকাত আদায় করেন, যা ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর হক (হক্কুল্লাহ) পালিত হয়। কিন্তু একই সাথে তিনি তাঁর প্রতিবেশীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন না। এর দ্বারা তিনি গুরুতরভাবে 'হক্কুল ইবাদত' বা বান্দার অধিকার ও পারস্পরিক সামাজিক কর্তব্য লঙ্ঘন করছেন। ইসলামে আল্লাহর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী পাশে ক্ষুধার্ত থাকে।" আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শফিক সাহেব সাওম ও জাকাত আদায় করলেও সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বান্দার অধিকার নষ্ট করলে মহান আল্লাহ তা কখনোই ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দারা (প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন) তাঁকে ক্ষমা করেন। পরিশেষে বলা যায়, শফিক সাহেবের ধর্মীয় আচরণ আংশিক ও ত্রুটিপূর্ণ। তাঁর ইবাদতের যথার্থ পূর্ণতা ও পরকালীন মুক্তির জন্য অবশ্যই সাওম ও জাকাত আদায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে উত্তম আচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
১৬৬.
রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক 'হক্কুল্লাহ' (আল্লাহর অধিকার) এবং 'হক্কুল ইবাদত' (বান্দার অধিকার) উভয়ের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করেন, যা হক্কুল ইবাদত বা মানুষের অধিকার ও আমানত রক্ষার অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, যা ইসলামের প্রধান রোকন এবং আল্লাহর প্রতি বান্দার অবশ্য পালনীয় সরাসরি ইবাদত অর্থাৎ হক্কুল্লাহ। ইসলামে এই দুটি দিকের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ডে কর্তব্যপরায়ণতা এবং ধর্মপ্রাণতার এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে, যা একজন আদর্শ মুসলিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১৬৭.
সালাত কীভাবে মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে কারণ এটি মানুষের মনে আল্লাহর ভয় ও সার্বক্ষণিক নজরদারির অনুভূতি জাগ্রত করে। সালাত আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে এবং তার মধ্যে আধ্যাত্মিক পবিত্রতা তৈরি হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)। নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করলে মানুষের মন থেকে খারাপ চিন্তা দূর হয়ে যায় এবং সে পাপাচার থেকে বেঁচে থাকে।
১৬৮.
আখলাক শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখলাক শব্দের অর্থ হলো চরিত্র, স্বভাব, আচরণ বা অভ্যাস।
📖 রাসেল সাহেব তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো... রাসেল সাহেব তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। প্রতিবেশীদের আপদে-বিপদে সাধ্যমতো সাহায্য ও খোঁজখবর নেন। আর তাঁর ভাই সাজ্জাদ সাহেব প্রতি বছর নির্দিষ্ট মেয়াদে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকেন এবং রাতে দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করেন। কিন্তু তিনি নিজের অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাদের সময়মতো পারিশ্রমিক ও বোনাস দেন না।
১৬৯.
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজ্জাদ সাহেবের ইবাদতগুলোর যথার্থতা সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত সাজ্জাদ সাহেবের ইবাদতগুলোর চর্চা একপেশে এবং অসম্পূর্ণ; ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর পূর্ণাঙ্গ যথার্থতা নেই। সাজ্জাদ সাহেব প্রতি বছর নির্দিষ্ট মেয়াদে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকেন (সাওম পালন করেন) এবং রাতে দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আল্লাহর হক (হক্কুল্লাহ) আদায়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তিনি তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাদের সময়মতো পারিশ্রমিক ও বোনাস দেন না। এর মাধ্যমে তিনি গুরুতরভাবে 'হক্কুল ইবাদত' বা বান্দার অধিকার লঙ্ঘন করছেন। ইসলামে শ্রমিক ও কর্মচারীদের অধিকার সুরক্ষায় কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। মহানবি (স.) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছেন, "তোমরা যা খাবে তোমাদের অধীনস্থদেরও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরও তা পরাবে।" অন্য একটি হাদিসে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ কর।" সাজ্জাদ সাহেব নামাজ ও রোজা রাখলেও তাঁর অধীনস্থদের অধিকার হরণ করে চরম গুনাহের কাজ করছেন। ইসলামে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বান্দার অধিকার নষ্ট করলে মহান আল্লাহ তা কখনোই ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দা বা কর্মচারী নিজে তা ক্ষমা করে। অতএব, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, সাজ্জাদ সাহেবের ব্যক্তিগত ইবাদত বা হক্কুল্লাহর অংশটি পালিত হলেও, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব অর্থাৎ হক্কুল ইবাদতের অংশটি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে তাঁর এই ইবাদতগুলো পরিপূর্ণ কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়; এর যথার্থ পূর্ণতা অর্জনের জন্য তাঁকে অবশ্যই কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
১৭০.
রাসেল সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রাসেল সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক 'হক্কুল ইবাদত' বা বান্দার অধিকার আদায়ের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মানুষ সামাজিক জীব। তাকে সমাজে পারস্পরিক সাহায্য ও সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করতে হয়। রাসেল সাহেব তাঁর ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং কর্তব্যগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করেন এবং প্রতিবেশীদের আপদে-বিপদে সাধ্যমতো সাহায্য ও খোঁজখবর নেন। ইসলামে আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হকের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূল (স.) বলেছেন, "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।" রাসেল সাহেবের এই পরোপকারী ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বান্দার প্রতি মানুষের হক্কুল ইবাদতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে, যা একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত।
১৭১.
নিসাব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদকে নিসাব বলে। কোনো ব্যক্তির নিকট সাড়ে সাত তোলা (ভরি) সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে সে নিসাবের মালিক বলে গণ্য হবে। এই পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট পূর্ণ এক বছরকাল গচ্ছিত থাকে, তবে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ হয়।
১৭২.
ইবাদত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইবাদত শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব করা, আনুগত্য করা ও বন্দিগি করা।
📖 জনাব আসলাম ও জনাব আকরাম একই গ্রামের বাসিন্দা। জনাব... জনাব আসলাম ও জনাব আকরাম একই গ্রামের বাসিন্দা। জনাব আসলাম তাঁর উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এ বছর হজ্জ পালন করেন। তিনি প্রতি বছরই তাঁর অলঙ্কার ও ব্যবসার উদ্বৃত্ত অর্থের সঠিক হিসাব করে গরিব-দুঃখীদের মাঝে দান করেন। অন্যদিকে জনাব আকরাম অনেক সম্পদের মালিক হলেও হজ্জ কিংবা যাকাত কোনোটিই আদায় করেন না। তিনি মনে করেন কষ্টার্জিত অর্থ অন্যকে দান করলে নিজের সম্পদ কমে যাবে এবং তাঁর এই সঞ্চিত অর্থই তাঁর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার একমাত্র গ্যারান্টি।
১৭৩.
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আকরামের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আকরামের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ শরিয়ত পরিপন্থী, যা তাঁর চরম কুসংস্কার, কৃপণতা ও অজ্ঞতার প্রকাশ ঘটায়। ইসলামে হজ্জ ও যাকাত কেবল ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়, বরং এগুলো ইসলামের পঞ্চ ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ এবং শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ ইবাদত। জনাব আকরাম প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কৃপণতাবশত ও সম্পদ কমে যাওয়ার অমূলক আশঙ্কায় হজ্জ এবং যাকাত আদায়ের অবহেলা করছেন। তাঁর ধারণা, কষ্টার্জিত অর্থ অন্যকে দান করলে সম্পদ কমে যাবে এবং সঞ্চিত অর্থই তাঁর নিরাপত্তার একমাত্র চাবিকাঠি— যা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, যাকাত দিলে সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায় এবং পবিত্র হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, "তোমরা যদি যাকাত দাও তবে তোমাদের সম্পদ দ্বিগুণ বা বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে।" পক্ষান্তরে, যাকাত ও হজ্জ অস্বীকার বা অবহেলা করার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করেছেন যে, যারা সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় (যাকাত) করে না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। পরকালে এই সঞ্চিত সম্পদ আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপালে, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। আকরাম সাহেব তাঁর সম্পদকে ইহকালীন নিরাপত্তার একমাত্র নিশ্চয়তা ভাবছেন, অথচ পরকালীন জবাবদিহিতা এবং আযাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। পরিশেষে বলা যায়, জনাব আকরামের এই অবহেলামূলক মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড ইসলামে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তাঁর উচিত অবিলম্বে তওবা করে তাঁর সম্পদের হজ্জ ও যাকাত আদায় করে একজন খাঁটি মুমিন হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।
১৭৪.
জনাব আসলামের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন ফরজ বিধান পালিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব আসলামের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান— হজ্জ ও যাকাত পালিত হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, জনাব আসলাম তাঁর উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এ বছর হজ্জ পালন করেছেন, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার আদায় করা ফরজ বা আবশ্যক ইবাদত। এছাড়াও তিনি প্রতি বছরই তাঁর অলঙ্কার ও ব্যবসার উদ্বৃত্ত অর্থের সঠিক হিসাব করে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের মাঝে যাকাত বণ্টন করেন। যাকাত আদায় করা ইসলামের অন্যতম আর্থিক ফরজ ইবাদত এবং ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি। জনাব আসলাম তাঁর অলঙ্কার ও ব্যবসার উদ্বৃত্ত অর্থের যাকাত দিয়ে নিজের দায়িত্ব ও আল্লাহর নির্দেশ যথার্থভাবে পালন করেছেন, যা তাঁর ধর্মপ্রাণ মনোভাব ও ফরজ ইবাদত আদায়ের প্রতি গভীর নিষ্ঠার পরিচয় বহন করে।
১৭৫.
যাকাতকে 'ইসলামের সেতু' বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাতকে ইসলামের সেতু বা 'ক্বনতারাতুল ইসলাম' বলা হয়েছে কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে উভয়ের মাঝে সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন মজবুত করে। সেতু যেমন নদীর দুই কূলকে একত্রিত করে যোগাযোগ সহজ করে তোলে, তেমনি যাকাতও সমাজের বিত্তশালী ও বঞ্চিত মানুষের ব্যবধান কমিয়ে একটি সুন্দর সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর ফলে ধনীদের মনে করুণা ও সহানুভূতি জাগে এবং দরিদ্রদের মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ বিদায় নেয়।
১৭৬.
হজ্জ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হজ্জ শব্দের অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা ভ্রমণ করা।
📖 রফিক সাহেব প্রতি বছর হিসাব করে তাঁর মালের যাকাত আদ... রফিক সাহেব প্রতি বছর হিসাব করে তাঁর মালের যাকাত আদায় করেন। এ বছর তিনি যাকাতের টাকা দিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি রিকশা কিনে দেন। এলাকার একজন আলিম তাঁর এ মহতী কাজের প্রশংসা করে জুমার খুতবায় বলেন, যাকাত কেবল পরকালীন মুক্তির উপায় নয়, বরং তা সমাজের বৈষম্য দূর করার মোক্ষম হাতিয়ার। তবে তিনি আরও বলেন, কেবল সম্পদশালীরাই নয়, অন্যরাও নানাভাবে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিয়ে পুণ্য অর্জন করতে পারে।
১৭৭.
আলিম সাহেবের খুতবার শেষ বক্তব্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: আলিম সাহেবের খুতবার শেষ বক্তব্য— "কেবল সম্পদশালীরাই নয়, অন্যরাও নানাভাবে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিয়ে পুণ্য অর্জন করতে পারে"— কথাটি অত্যন্ত সত্য, যুক্তিযুক্ত এবং ইসলামি আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। ইসলামে সমাজসেবা বা ইবাদতের পরিধি কেবল অর্থ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শারীরিক শ্রম, সৎ পরামর্শ, ভালো কাজের আদেশ, মন্দ কাজের নিষেধ, মানুষের কষ্টদায়ক বস্তু রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা এবং অন্যের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো— এ সবই অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এগুলো সবই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাও একটি সদকা বা পুণ্য কাজ।" যারা সম্পদশালী নন, তারাও কায়িক শ্রমের মাধ্যমে সমাজসেবা করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ— রাস্তাঘাট সংস্কার করা, গাছ লাগানো, অসুস্থ মানুষের সেবা করা, জ্ঞান দান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সমাজের প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে অপরের উপকারে আসতে পারে এবং সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় অংশ নিয়ে আল্লাহর দরবারে সর্বোচ্চ পুণ্য ও মর্যাদা অর্জন করতে পারে। অতএব, আলিম সাহেবের খুতবার শেষ বক্তব্যটি বাস্তবসম্মত এবং ইসলামি শিক্ষার যথার্থ প্রতিফলন।
১৭৮.
রফিক সাহেবের যাকাত আদায়ের পদ্ধতিটির গুরুত্ব ইসলামি অর্থনীতির আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রফিক সাহেবের যাকাত আদায়ের পদ্ধতিটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। তিনি যাকাতের টাকা দিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের রিকশা কিনে দিয়েছেন। এর ফলে অভাবগ্রস্ত লোকেরা স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ইসলামি অর্থনীতিতে যাকাত বিতরণের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে অভাবমুক্ত করা, যেন পরবর্তী বছর সে নিজে যাকাত দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। রফিক সাহেবের এই সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বেকারত্ব দূরীকরণে এবং দরিদ্রদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এটি সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি ও পরনির্ভরশীলতা দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে অত্যন্ত সহায়ক।
১৭৯.
যাকাতকে ইসলামের সেতু বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাতকে ইসলামের সেতু বলা হয়েছে কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান দূর করে উভয়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন তৈরি করে। সেতু যেমন নদীর দুই কূলকে সংযুক্ত করে, তেমনি যাকাত সমাজের সম্পদশালী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের মাঝে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনীদের মনে দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি হয় এবং দরিদ্রদের মন থেকে ধনীদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়। ফলে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
১৮০.
নিসাব কী?
উত্তর: শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদকে নিসাব বলে।
📖 মফিজ ও কালাম দুই ভাই। মফিজ মিয়া পৈতৃক সূত্রে পাওয়া... মফিজ ও কালাম দুই ভাই। মফিজ মিয়া পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩ বিঘা আবাদি জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। কিন্তু কোনো বছরই সালাত ও সাওম পালন করেন না। পক্ষান্তরে কালাম ৫ বছর যাবৎ সৌদি আরবে চাকুরি করে অনেক টাকা উপার্জন করে নিজ গ্রামে একটি অট্টালিকা তৈরি করেছেন। কালাম প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম ও নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন এবং হজ্জ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু পিতা-মাতার খোঁজখবর নেন না এবং প্রতিবেশীকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন।
১৮১.
উদ্দীপকে বর্ণিত কালামের কাজগুলো ও ধর্মীয় অনুভূতির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত কালামের কাজগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ইসলামের মৌলিক কিছু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিক ইবাদত (যেমন— সালাত, সাওম পালন এবং হজ্জের নিয়ত করা) নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করলেও সমাজ ও পরিবারের প্রতি তাঁর যে আবশ্যিক দায়িত্ব বা 'হক্কুল ইবাদত', তা তিনি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। ইসলাম কেবল কতিপয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের নাম নয়। ইসলামে আল্লাহর হকের (হক্কুল্লাহ) পাশাপাশি বান্দার হকের (হক্কুল ইবাদত) ওপর সমান গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কালাম সাহেব পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়েন ও সাওম পালন করেন, যা প্রশংসনীয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু তিনি তাঁর নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার খোঁজখবর নেন না এবং প্রতিবেশীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য জ্ঞান করেন। ইসলামে পিতা-মাতার সেবা করাকে জিহাদের সমতুল্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা না করলে ঈমানদার হওয়া যায় না বলে রাসূল (স.) সতর্ক করেছেন। রাসূল (স.) বলেছেন, "সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী পাশে ক্ষুধার্ত থাকে।" কালাম সাহেব পিতা-মাতার খোঁজখবর না নিয়ে ও প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে চরম গুনাহের কাজ করছেন। তিনি আল্লাহর হক আদায় করলেও বান্দার হক নষ্ট করায় পরকালে তাঁর এই নামাজ ও রোজা কোনো উপকারে আসবে না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দারা (পিতা-মাতা ও প্রতিবেশী) তাঁকে ক্ষমা করবেন। অতএব বলা যায়, কালাম সাহেবের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইবাদতের চর্চা একপেশে এবং অসম্পূর্ণ; তাঁর ইবাদতের যথার্থ পূর্ণতা অর্জনের জন্য অবশ্যই পিতা-মাতা ও প্রতিবেশীর অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।
১৮২.
মফিজ মিয়ার আচরণে ইসলামের কোন বিষয়ের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মফিজ মিয়ার আচরণে মূলত হালাল উপার্জনের গুরুত্ব বা আত্মনির্ভরশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। মফিজ মিয়া পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩ বিঘা আবাদি জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে নিজের কায়িক শ্রমে হালাল উপায়ে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। ইসলামে কায়িক শ্রমের ও হালাল জীবিকার অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। নবি (স.) বলেছেন, "নিজের হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উৎকৃষ্ট খাদ্য কেউ কখনো খায়নি।" কিন্তু একই সাথে মফিজ মিয়া সালাত ও সাওমের মতো ইসলামের অন্যতম প্রধান রোকন বা ফরজ ইবাদতগুলো পালন করেন না, যা তাঁর চরম অবহেলা ও ধর্মীয় উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। একজন মুসলিমের জন্য একই সাথে হালাল উপার্জন যেমন ফরজ, তেমনি সালাত ও সাওম পালন করাও আবশ্যক। মফিজ মিয়ার কর্মোদ্যোগ ইতিবাচক হলেও ইবাদতে তাঁর এ উদাসীনতা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী।
১৮৩.
খিদমতে খালক বলতে কী বোঝায়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: খিদমতে খালক অর্থ আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করা। ব্যাপক অর্থে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও প্রকৃতির পরিচর্যা ও কল্যাণ সাধন করা খিদমতে খালকের অন্তর্ভুক্ত। সৃষ্টির সেবা করার মাধ্যমে আল্লাহর পরম নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভ করা যায়। কারণ সকল সৃষ্টিই আল্লাহর সুবিশাল পরিবারের সদস্য। দরিদ্রের সাহায্য করা, ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেওয়া, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা করা এবং পরোপকার করা সবই সৃষ্টির সেবার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এটিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
১৮৪.
সাওমের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: সাওমের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।
📖 সুহান ও সুহানা দুই ভাইবোন। তারা দুজনে মিলে বাড়ির প... সুহান ও সুহানা দুই ভাইবোন। তারা দুজনে মিলে বাড়ির পাশের একটি জমিতে সবজি চাষ শুরু করে। প্রথম বছরেই তারা ভালো ফলন ও বেশ লাভ করে। সুহান তার লাভের পুরো টাকা দিয়ে একটি রিকশা কিনে তা দৈনিক ভাড়ায় রিকশাচালক মান্নানকে দেয়। সুহানা তার লাভের টাকার কিছু অংশ দিয়ে একটি সেলাই মেশিন কিনে পাশের বাড়ির দরিদ্র লিলিকে তা দান করে দেয়। লিলির স্বামী রিকশাচালক মান্নান। সেলাইয়ের কাজ করে লিলি ও রিকশা চালিয়ে মান্নান তাদের অভাব অনটন দূর করে স্বাবলম্বী হয়।
১৮৫.
'সুহানা এবং সুহানের কাজের মধ্যে সুহানার কাজটিই অধিক পুণ্যময়'— উক্তিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা সুহানের কাজের চেয়ে সুহানার কাজের মাঝে নিঃস্বার্থ পরোপকার ও দানের মহত্ত্ব ফুটে উঠেছে। সুহান তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে রিকশা কিনে দৈনিক ভাড়ায় মান্নানকে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে মান্নানের হালাল উপার্জনের পথ সুগম হলেও সুহানের কাজটি ছিল একটি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বা ভাড়ার চুক্তি, যার মাধ্যমে সুহান নিজেও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল। পক্ষান্তরে, সুহানা তার লাভের অংশ দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে দরিদ্র লিলিকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে দান করে দেয়। এখানে সুহানার কোনো ব্যক্তিগত বৈষয়িক স্বার্থ বা লাভের আশা ছিল না। ইসলামে নিঃস্বার্থ দান, অভাবগ্রস্তকে সাহায্য এবং দানশীলতার মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, 'তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করবে।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)। সুহানা লিলির অভাব দূরীকরণে নিজের কষ্টার্জিত লভ্যাংশ থেকে নিঃস্বার্থভাবে সেলাই মেশিন দান করে তাকে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করেছে। এতে তার মহৎ মানবিক গুণাবলি ও ইসলামের প্রকৃত সমাজকল্যাণমূলক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে সুহানের রিকশা ভাড়া দেওয়ার কাজটি ইতিবাচক ও কর্মসংস্থানমূলক হলেও তা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ দান ছিল না। অতএব, তুলনামূলক বিচারে এবং ইসলামে পরোপকার ও নিঃস্বার্থ দানের মহৎ মর্যাদার কারণে সুহানার কাজটিই অধিক পুণ্যময় এবং উত্তম।
১৮৬.
গ. সুহানের কাজটি দ্বারা কোন ধরনের ইবাদত প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুহানের কাজটি দ্বারা সৃষ্টির সেবা বা খিদমতে খালক নামক ইবাদত প্রকাশ পেয়েছে। খিদমতে খালক অর্থ আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করা। সকল সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবারভুক্ত। আল্লাহর অনুগ্রহ ও ভালোবাসা পেতে হলে তাঁর সৃষ্টির সেবা করতে হবে। উদ্দীপকে সুহান তার সবজি চাষের লভ্যাংশ দিয়ে রিকশা কিনে তা দৈনিক ভাড়ায় দরিদ্র মান্নানকে দেয়। এর মাধ্যমে মান্নানের উপার্জনের পথ তৈরি হয় এবং সে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। সুহানের এই কাজ বেকারত্ব দূরীকরণে ও অভাবী মানুষের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে খিদমতে খালক বা সৃষ্টির সেবা হিসেবে অতি উত্তম ইবাদত।
১৮৭.
'শ্রমের মর্যাদা' সম্পর্কে একটি আয়াত অনুবাদসহ লেখ।
উত্তর: শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করবে।' (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ১০)
১৮৮.
আল-মাউন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আল-মাউন শব্দের অর্থ হলো— গৃহস্থালির ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
📖 আজমল সাহেব প্রতিবছরের মতো এ বছরও নির্দিষ্ট মাসে রা... আজমল সাহেব প্রতিবছরের মতো এ বছরও নির্দিষ্ট মাসে রাতের শেষ প্রহরে কিছু খেয়ে সারাদিন অনাহারে থাকেন। তবে অফিসে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করেন। তার ছোট ভাই আলম ব্যাংকে জমাকৃত ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা থেকে বছরান্তে ১৫,০০০ (পনেরো হাজার) টাকা গরিব-দুঃখী ও অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দেন। ঘটনাটি দেখে মাওলানা আকমল হোসেন উপলব্ধি করে বলেন, জমাকৃত সম্পদ শরিয়তের হুকুম অনুযায়ী দান না করলে সম্পূর্ণ দান নিষ্ফল হবে।
১৮৯.
আজমল সাহেব ইসলামের যে বিধান পালন করেন তা চিহ্নিতপূর্বক তার শিক্ষা সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: আজমল সাহেব ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত সাওম পালন করেন। আর এর উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। সাওম আরবি শব্দ। এর ফারসি প্রতিশব্দ হলো রোজা। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাওম হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নারী ও পুরুষের ওপর রমযান মাসের এক মাস সাওম পালন করা ফরজ। এটি ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সাওমের শিক্ষা ও গুরুত্ব অপরিসীম। প্রদত্ত উদ্দীপকের আজমল সাহেব রমযান মাসে রাতের শেষ প্রহরে সাহরি খেয়ে সারাদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সাওম পালন করে থাকেন। তবে তিনি সাওমের মূল শিক্ষা অর্থাৎ তাকওয়া এবং দায়িত্বশীলতার চর্চা পূর্ণরূপে করতে পারেননি, কারণ তিনি অর্পিত দায়িত্বে গড়িমসি করেন। সাওম কেবল অনাহারে থাকা নয়, বরং মানুষের আচরণকে পরিশুদ্ধ করা এবং দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
১৯০.
জনাব আলম কি যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেছেন? তাঁর জমাকৃত টাকার যাকাতের হিসাব নিরূপণ কর।
উত্তর: না, জনাব আলম যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেননি। তাঁর জমাকৃত যাকাত-যোগ্য পরিমাণ হলো ১০,০০,০০০ টাকা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সাহিবে নিসাবকে বছরান্তে জমাকৃত টাকার ২.৫% হারে যাকাত আদায় করতে হয়। আলম সাহেব যেহেতু ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকার মালিক তাই তাকে নিম্নোক্ত হিসাবে যাকাত আদায় করতে হবে: ১০০ টাকায় যাকাত আদায় করতে হবে = ২.৫ টাকা ১ টাকায় যাকাত আদায় করতে হবে = ২.৫ / ১০০ টাকা ১০,০০,০০০ টাকায় যাকাত আদায় করতে হবে = (২.৫ * ১০,০০,০০০) / ১০০ টাকা = ২৫,০০০ টাকা। অতএব আলম সাহেব ২৫,০০০ টাকা যাকাত আদায় করলে তাঁর যাকাত আদায় হতো। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আলম সাহেবের যাকাত আদায় হয়নি, কারণ তিনি মাত্র ১৫,০০০ টাকা বিতরণ করেছেন যা ২৫,০০০ টাকার চেয়ে কম।
১৯১.
ইসলামে বান্দার হকের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে একসাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এই সহানুভূতি ও দায়িত্বই হক্কুল ইবাদত (বান্দার হক বা অধিকার)। কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়, ইসলামে বান্দার হক তথা মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বান্দার অধিকার বা হক নষ্ট করলে মহান আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দা তা ক্ষমা করে।
১৯২.
হক্কুল্লাহ কী?
উত্তর: আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যই হলো হক্কুল্লাহ।
📖 সাজ্জাদ ও সাকিব সাহেব দুই বন্ধু। সাজ্জাদ সাহেব একট... সাজ্জাদ ও সাকিব সাহেব দুই বন্ধু। সাজ্জাদ সাহেব একটি পোশাক শিল্পের মালিক। গত রমযানের ঈদে শ্রমিকদের বোনাস দিতে গড়িমসি করায় কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পেতে একদিন কর্মবিরতি পালন করে। আর সাকিব সাহেব মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন। একদিন ছাত্র জীবনের শিক্ষক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে এলে তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এবং চিকিৎসার অধিকাংশ ব্যয়ভার বহনসহ যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
১৯৩.
সাকিব সাহেবের কাজটি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সাকিব সাহেবের কাজটি মূলত শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও পরোপকারিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। সাকিব সাহেব একজন চিকিৎসক। তিনি হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ও রোগীদের সেবা দেন। তাঁর শিক্ষক যখন হাসপাতালে আসেন, তখন তিনি তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব ও খরচ নিজে বহন করেন। এর দ্বারা প্রকাশ পায় সাকিব সাহেব তাঁর শিক্ষকের সুযোগ্য উত্তরসূরি। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সন্তানসম স্নেহ-মমতা ও নৈতিক শিক্ষায় ভবিষ্যৎ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাদের এ নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই সাকিব সাহেবের মতো সোনার মানুষের সৃষ্টি হয়। সমাজ ও জাতির কল্যাণে যারা নিজেদের নিয়োজিত রাখেন, তাদের মধ্যে শিক্ষকগণ অন্যতম। সাকিব সাহেব শুধু তার শিক্ষকের প্রতিই আন্তরিক নন, বরং নিজের পেশার প্রতিও সৎ এবং নিষ্ঠাবান। তিনি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে পরোপকার ও খিদমতে খালকের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, শিক্ষকেরা যে উদ্দেশ্যে তাদের মহান দায়িত্ব পালন করেন, সাকিব সাহেব তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাই 'সাকিব তার শিক্ষকের যথার্থ উত্তরসূরি' কথাটি সম্পূর্ণ সত্য ও যৌক্তিক।
১৯৪.
সাজ্জাদ সাহেবের আচরণে কোন আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাজ্জাদ সাহেবের আচরণে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের ইসলামি আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। সাজ্জাদ সাহেব একজন পোশাক কারখানার মালিক। তিনি শ্রমিকের পাওনা বেতন ও বোনাস দিতে গড়িমসি করেন। এতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। সাজ্জাদ সাহেবের এ কাজটি দ্বারা নবি (স.)-এর আদেশ লঙ্ঘিত হয়েছে। নবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ কর।" সাজ্জাদ সাহেব মুসলিম হয়েও নবি (স.)-এর আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। তার এ কাজ দ্বারা হক্কুল ইবাদত বিঘ্নিত হয়েছে এবং তার অসৎ চরিত্রের প্রকাশ ঘটেছে। সাজ্জাদ সাহেবের স্মরণ রাখা দরকার, শ্রমিকরা কষ্ট করে পণ্য উৎপাদন করার কারণে তার কারখানা চালু থাকে এবং তিনি শিল্পপতি হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। শ্রমিকদের পাওনা হক্কুল ইবাদত বা বান্দার অধিকার। হক্কুল ইবাদত পালনে মহান আল্লাহ কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন। তাই সাজ্জাদ সাহেবের উক্ত আচরণের সংশোধন হওয়া জরুরি।
১৯৫.
শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও— হাদীসটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনে মাজাহ) এ হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত দরিদ্র ও নিম্ন শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি নিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরি হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উদ্দীপাহের সাথে কাজ করবে; ফলে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসূল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
১৯৬.
কে আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর?
উত্তর: শিক্ষকসমাজ আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর।
📖 জনাব শফিকুর রহমান একজন রিকশাচালক। ব্যক্তিগত জীবনে... জনাব শফিকুর রহমান একজন রিকশাচালক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলেন। কেউ অসুস্থ হলে তার রিকশায় হাসপাতালে নিয়ে যান। একদা রিকশাচালক জনাব শফিকুর রহমান জনৈক যাত্রীর ব্যাগসহ রেখে যাওয়া পাঁচ লক্ষ টাকা স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা দেন। প্রধান শিক্ষক সাহেব টাকার মালিকের ব্যাগে সংরক্ষিত ঠিকানার মাধ্যমে টাকাসহ ব্যাগ মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
১৯৭.
জনাব শফিকুর রহমানের কর্মকাণ্ডগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: আমরা তার কর্মকাণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই— তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতি পূর্ণ অনুগতশীল, সমাজের মানুষ হিসেবে উদার ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী এবং সততার বিচারে একদম খাঁটি লোক। একজন মুসলিমের যেসব গুণ থাকা অপরিহার্য, তার চরিত্রে সেসব গুণের সমাবেশ ঘটেছে। তিনি হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদতের যথার্থ রক্ষক। তিনি তার কাজের দ্বারা প্রমাণ করেছেন— মানুষ হওয়ার জন্য পেশা বড় বিষয় নয় বরং সৎচরিত্র ও উন্নত নৈতিকতাই মুখ্য বিষয়। পরিশেষে বলা যায়, মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত তথা গোলামি করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। আর ইবাদতে হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদত সমভাবে মনোযোগী হতে হবে। জনাব শফিকুর রহমান তার কর্মকাণ্ডে হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদত পালনে পরিপূর্ণ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
১৯৮.
প্রধান শিক্ষক সাহেবের কাজের মাধ্যমে কোন ধরনের ইবাদত পালন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের কাজের মাধ্যমে আমানত প্রত্যর্পণের ইবাদত পালিত হয়েছে। এটা ফরজ বা অবশ্যই করণীয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা আমানত তার প্রাপককে ফিরিয়ে দাও।" এখানে আল্লাহ আমানত বা (গচ্ছিত ধন) প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ করেছেন। সেজন্য এটা পালন করা ফরজ। শফিকুর রহমান জনৈক যাত্রীর পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যাগ প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা রাখলে প্রধান শিক্ষক টাকা ও ব্যাগ মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে তার সততা ও আমানতদারিতার পরিচয় মিলে। তিনি চাইলে কোনো অজুহাতে টাকা আত্মসাৎ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে আল্লাহর আদেশের কথা স্মরণ করে টাকা ও ব্যাগ মালিককে দিয়ে দেন। তাই তার এ কাজ দ্বারা ফরজ ইবাদত পালন হয়েছে। অন্যদিকে, তার এ কাজ দ্বারা আদর্শ শিক্ষকের চরিত্রও ফুটে উঠেছে।
১৯৯.
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসূল (স.) প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা। মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। তাই ইসলামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ মানুষের জন্য খোলা নেই। এ পথে চলতে হলে ইসলামকে জানতে ও শিখতে হবে। অতএব বলা যায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদর্শে জীবন গড়ার জন্যই ইসলাম শিক্ষা করা হয়।
২০০.
হজের ওয়াজিব কয়টি?
উত্তর: হজের ওয়াজিব সাতটি।

অধ্যায়-০২ : শরিয়তের উৎস

📖 রাফসান ও সালমান দুই বন্ধু। রাফসান বিশ্বাস করে আল্ল... রাফসান ও সালমান দুই বন্ধু। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর গুণাবলি অদ্বিতীয়। অন্যদিকে সালমান দাবি করে আল্লাহর সাথে তাঁর কাজের অংশীদার আছে। সে বলে সূর্য ও নক্ষত্রও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
২০১.
রাফসান ও সালমানের বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাফসানের বিশ্বাসটি ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানব জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর গুণাবলির কোনো তুলনা হয় না। তাওহীদের এই বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, তখন সে দুনিয়ার অন্য কোনো শক্তির নিকট মাথা নত করে না। এটি মানব চরিত্রকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার মুক্ত করে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, সালমানের বিশ্বাস মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে, যা আল-কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম (নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম)। শিরকের পরিণতি হলো জাহান্নাম এবং আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। অতএব, রাফসানের তাওহীদি বিশ্বাসই মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সঠিক পথ এবং সালমানের ভ্রান্ত ধারণা থেকে তা সম্পূর্ণ মুক্ত।
২০২.
উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে শিরক-এর প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সালমান দাবি করেছে আল্লাহর কাজের অংশীদার আছে এবং সূর্য ও নক্ষত্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভাগ্য নির্ধারণ বা মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। আল্লাহর এই ক্ষমতার সাথে প্রাকৃতিক উপাদানকে অংশীদার মনে করায় সালমানের আচরণটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২০৩.
নিফাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মুখে ঈমানের স্বীকার করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফরি গোপন রাখাকে নিফাক বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রূপ আচরণ করে তাকে মুনাফিক বলে।
২০৪.
সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় জুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা।
📖 রাফসান ও সালমান দুই বন্ধু। রাফসান বিশ্বাস করে আল্ল... রাফসান ও সালমান দুই বন্ধু। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর গুণাবলি অদ্বিতীয়। অন্যদিকে সালমান দাবি করে আল্লাহর সাথে তাঁর কাজের অংশীদার আছে। সে বলে সূর্য ও নক্ষত্রও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
২০৫.
রাফসান ও সালমানের বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাফসানের বিশ্বাসটি ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানব জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর গুণাবলির কোনো তুলনা হয় না। তাওহীদের এই বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, তখন সে দুনিয়ার অন্য কোনো শক্তির নিকট মাথা নত করে না। এটি মানব চরিত্রকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার মুক্ত করে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, সালমানের বিশ্বাস মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে, যা আল-কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম (নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম)। শিরকের পরিণতি হলো জাহান্নাম এবং আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। অতএব, রাফসানের তাওহীদি বিশ্বাসই মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সঠিক পথ এবং সালমানের ভ্রান্ত ধারণা থেকে তা সম্পূর্ণ মুক্ত।
২০৬.
উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে শিরক-এর প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সালমান দাবি করেছে আল্লাহর কাজের অংশীদার আছে এবং সূর্য ও নক্ষত্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভাগ্য নির্ধারণ বা মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। আল্লাহর এই ক্ষমতার সাথে প্রাকৃতিক উপাদানকে অংশীদার মনে করায় সালমানের আচরণটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২০৭.
নিফাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মুখে ঈমানের স্বীকার করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফরি গোপন রাখাকে নিফাক বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রূপ আচরণ করে তাকে মুনাফিক বলে।
২০৮.
সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় জুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা।
📖 রাফসান ও সালমান দুই বন্ধু। রাফসান বিশ্বাস করে আল্ল... রাফসান ও সালমান দুই বন্ধু। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর গুণাবলি অদ্বিতীয়। অন্যদিকে সালমান দাবি করে আল্লাহর সাথে তাঁর কাজের অংশীদার আছে। সে বলে সূর্য ও নক্ষত্রও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
২০৯.
রাফসান ও সালমানের বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাফসানের বিশ্বাসটি ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানব জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর গুণাবলির কোনো তুলনা হয় না। তাওহীদের এই বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, তখন সে দুনিয়ার অন্য কোনো শক্তির নিকট মাথা নত করে না। এটি মানব চরিত্রকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার মুক্ত করে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, সালমানের বিশ্বাস মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে, যা আল-কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম (নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম)। শিরকের পরিণতি হলো জাহান্নাম এবং আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। অতএব, রাফসানের তাওহীদি বিশ্বাসই মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সঠিক পথ এবং সালমানের ভ্রান্ত ধারণা থেকে তা সম্পূর্ণ মুক্ত।
২১০.
উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে শিরক-এর প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সালমান দাবি করেছে আল্লাহর কাজের অংশীদার আছে এবং সূর্য ও নক্ষত্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভাগ্য নির্ধারণ বা মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। আল্লাহর এই ক্ষমতার সাথে প্রাকৃতিক উপাদানকে অংশীদার মনে করায় সালমানের আচরণটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২১১.
নিফাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মুখে ঈমানের স্বীকার করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফরি গোপন রাখাকে নিফাক বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রূপ আচরণ করে তাকে মুনাফিক বলে।
২১২.
সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় জুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা।
📖 জাকির ও নাসের দুই বন্ধু। জাকির নিয়মিত সালাত আদায়... জাকির ও নাসের দুই বন্ধু। জাকির নিয়মিত সালাত আদায় করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে। নাসের তাকে বলে, এখনই এত সালাত আদায়ের প্রয়োজন কী? শেষ বয়সে তওবা করে নিলেই হবে। নাসেরের এ কথা শুনে জাকির বলে, মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যু হতে পারে। অতএব পরকালের সম্বল দুনিয়াতেই অর্জন করতে হবে।
২১৩.
জাকিরের বক্তব্যটির যৌক্তিকতা পরকাল দর্শনের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জাকিরের বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক আকিদা ও পরকাল দর্শনের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ। মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো বয়স বা সময় আল্লাহ নির্ধারিত করে দেননি। আল-কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।' জাকির যথার্থই বলেছে যে, যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং পরকালের সম্বল দুনিয়াতেই অর্জন করতে হবে। মহানবি (স.) বলেছেন, 'দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।' অর্থাৎ শস্যক্ষেত্রে ভালো বীজ বপন না করলে যেমন ফসল আশা করা যায় না, তেমনি দুনিয়াতে সৎ কাজ না করলে পরকালে জান্নাত লাভ করা সম্ভব নয়। নাসেরের শেষ বয়সে তওবা করার ধারণাটি বিভ্রান্তিকর, কারণ মানুষ শেষ বয়স পর্যন্ত বাঁচার সুযোগ নাও পেতে পারে। তাই জাকিরের সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী বিশ্বাসই মানুষকে প্রতিনিয়ত সৎ পথে চলতে সাহায্য করে এবং তা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
২১৪.
উদ্দীপকের নাসেরের বক্তব্যে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের নাসেরের বক্তব্যে পরকালের অন্যতম স্তর 'আখিরাত' বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের প্রতি উদাসীন্য ও অবজ্ঞার প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি আকিদায় আখিরাত বা পরকালের গুরুত্ব অপরিসীম। নাসের মনে করে যে যুবক বয়সে ইবাদত না করে শেষ বয়সে তওবা করলেই চলবে, যা মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের ধারণার পরিপন্থী। তার এই বক্তব্য মূলত মানুষের ইহকালীন আমল ও পরকালীন জবাবদিহিতাকে সাময়িকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার এক ধরনের অজুহাত। এই ধারণা মানুষকে অলস ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করে, যা আখিরাতের চেতনার বিপরীত।
২১৫.
তাকদীরে বিশ্বাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাকদীর হলো ভাগ্য। ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর হুকুমেই ঘটে—এই বিশ্বাসই হলো তাকদীরে বিশ্বাস। তাকদীরে বিশ্বাস মানুষের মনে চরম বিপদেও ধৈর্য ও সান্ত্বনা জোগায়। এটি মানুষকে অহংকারমুক্ত করে এবং সফলতায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। পরকালীন মুক্তির জন্য আকাইদের এ বিষয়ে বিশ্বাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২১৬.
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
📖 সালমা বেগম একজন শিক্ষিকা। তিনি সবসময় আল্লাহর গুণে... সালমা বেগম একজন শিক্ষিকা। তিনি সবসময় আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ক্ষমার গুণাবলি অর্জন করতে বলেন। অন্যদিকে তার সহকর্মী শায়লা বেগম পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ করতে ভালোবাসেন এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাথে অহংকারপূর্ণ আচরণ করেন।
২১৭.
শায়লা বেগমের আচরণের কুফল বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: শায়লা বেগমের আচরণ আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এর কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। মহান আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু, নম্র এবং অহংকারমুক্ত। অহংকার কেবল আল্লাহরই চাদর বা বৈশিষ্ট্য, মানুষের জন্য অহংকার করা সম্পূর্ণ হারাম। শায়লা বেগম পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ও দরিদ্রদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করেন। আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আল-মুতাকাব্বির' (পরাক্রমশালী/অহংকারী) বলতে বোঝায় যে সকল মহত্ত্ব ও গৌরব একমাত্র আল্লাহর। মানুষ যখন অহংকার করে, তখন সে আল্লাহর বৈশিষ্ট্যে হস্তক্ষেপ করে, যা জঘন্য অপরাধ। রাসূল (স.) বলেছেন, 'যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।' এছাড়া হিংসা মানুষের পুণ্যগুলোকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেমন আগুন কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। শায়লা বেগমের এই আচরণ সমাজকে কলুষিত করে এবং তাঁর পরকালীন জীবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অতএব, তাঁর এই অনৈতিক আচরণসমূহ বর্জন করে আল্লাহর ক্ষমাপরায়ণ ও দয়ালু গুণের আদর্শ গ্রহণ করা উচিত।
২১৮.
উদ্দীপকের সালমা বেগমের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর কোন গুণবাচক নামের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমা বেগমের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আল-গাফুর' ও 'আল-আদল'-এর শিক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তাআলার সুন্দর সুন্দর গুণবাচক নাম রয়েছে, যা মানুষকে উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করে। সালমা বেগম নিজে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেন। আল্লাহর একটি নাম হলো 'আল-গাফুর' যার অর্থ অতি ক্ষমাশীল এবং আরেকটি নাম 'আল-আদল' যার অর্থ পরম ন্যায়পরায়ণ। সালমা বেগম তাঁর প্রাত্যহিক আচরণ ও শিক্ষকতায় এই মহান গুণাবলি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একজন আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যা আল্লাহর গুণেরই বাস্তব প্রতিফলন।
২১৯.
তাওহীদ মানুষের মনে কীরূপ প্রভাব ফেলে?
উত্তর: তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করে। এটি মানুষকে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষের মন থেকে অন্য সবকিছুর ভয় দূর হয় এবং মানব চরিত্রে একতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়।
২২০.
‘নবী’ কারা?
উত্তর: যাঁদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আসমানি কিতাব আসেনি বরং পূর্ববর্তী রাসূলের কিতাব প্রচার করতেন, তাঁদের নবী বলা হয়।
📖 সজীব সাহেব ও তার বন্ধুদের আড্ডায় পরকাল নিয়ে কথা... সজীব সাহেব ও তার বন্ধুদের আড্ডায় পরকাল নিয়ে কথা হচ্ছিল। সজীব সাহেব বললেন, দুনিয়ায় যে যেমন কাজ করবে পরকালে সে তেমন ফল ভোগ করবে। এ সময় তার বন্ধু রফিক সাহেব বললেন, তোমরা যাই বল না কেন, আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিতকরণ, হিসাব-নিকাশ ইত্যাদির কোনো ভিত্তি নেই। মানুষের ইহকালীন জীবনই শেষ জীবন।
২২১.
সজীব সাহেবের বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সজীব সাহেবের বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক আকিদা ও পরকালীন দর্শনের আলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং যথার্থ। ইসলাম মনে করে, দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। এখানে মানুষ স্বাধীনভাবে ভালো বা মন্দ কাজ করার সুযোগ পায়। মহানবি (স.) বলেছেন— 'দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।' অর্থাৎ শস্যক্ষেত্রে যেমন বীজ বপন করলে অনুরূপ ফসল পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি দুনিয়াতে মানুষ যে ধরনের আমল বা কর্ম করবে, পরকালে সে অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নামের ফল ভোগ করবে। সজীব সাহেবের বক্তব্য আল-কুরআনের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে— 'যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তাও দেখতে পাবে।' (সূরা আয-যালযালাহ: ৭-৮)। পরকালের এই জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের চেতনা মানুষকে পার্থিব জীবনে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন হতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং, সজীব সাহেবের উক্তিটি মানুষের ইহকালীন নৈতিক চরিত্র গঠনে এবং পরকালীন মুক্তির প্রধান ভিত্তি হিসেবে শতভাগ যথার্থ।
২২২.
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বক্তব্যে আকাইদের কোন বিষয়ের অস্বীকার প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বক্তব্যে আকাইদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 'আখিরাত' বা পরকালকে অস্বীকার করার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলে। আখিরাতে বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং এটি আখিরাতের শস্যক্ষেত্রস্বরূপ। উদ্দীপকের রফিক সাহেব মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ এবং পরকালীন জীবনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং মনে করেছেন মানুষের ইহকালীন জীবনই শেষ জীবন। তাঁর এই মনোভাব সম্পূর্ণ কুফরি ধারণার অন্তর্ভুক্ত। আখিরাতকে অস্বীকার করলে মানুষ চরম স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে এবং নৈতিকতা থেকে দূরে সরে যায়, যা রফিক সাহেবের কথায় প্রতিফলিত হয়েছে।
২২৩.
রিসালাত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি বা পয়গাম পৌঁছানো। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহ তাআলার পবিত্র বাণী, আদেশ-নিষেধ ও পরিচয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়। আর যারা এই দায়িত্ব পালন করেন তাঁদের নবী বা রাসূল বলা হয়।
২২৪.
‘খাতামুন নাবিইয়ীন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘খাতামুন নাবিইয়ীন’ শব্দের অর্থ নবীকুল শিরোমণি বা নবীদের সমাপ্তি (সর্বশেষ নবী)।
📖 পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে শফিকের পরিব... পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে শফিকের পরিবার এখন নিঃস্ব। এ অবস্থায় তার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে পড়ে। অপরপক্ষে একই গ্রামের জহির মিয়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার দরিদ্র প্রতিবেশীদের কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করে না। সে মনে করে এ সম্পদ তার নিজের অর্জিত এবং এর ওপর অন্য কারও কোনো অধিকার নেই।
২২৫.
জহির মিয়ার ধারণাটি ইসলামের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: জহির মিয়ার ধারণাটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও ধন-সম্পদ বণ্টনের নীতিমালার আলোকে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মনে করে, মহাবিশ্বের এবং মানুষের সমস্ত ধন-সম্পদের প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। মানুষকে কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এগুলোর আমানতদার বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বানানো হয়েছে। আল-কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে— 'এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।' (সূরা আজ-যারিয়াত: ১৯)। জহির মিয়ার ধারণা যে এই সম্পদ সম্পূর্ণ তার নিজের অর্জিত এবং এতে দরিদ্রদের কোনো অধিকার নেই— এটি চরম অহংকার ও কারুনের চিন্তাধারার শামিল। এই মনোভাব মানুষকে কৃপণ ও অমানবিক করে তোলে এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। সম্পদশালী ব্যক্তিদের দায়িত্ব হলো যাকাত ও সাদকাহর মাধ্যমে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো। অতএব, জহির মিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ অনৈসলামিক এবং তা সমাজ ও ধর্মের পরিপন্থী।
২২৬.
উদ্দীপকের শফিকের আচরণে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের শফিকের আচরণে কুফর-এর প্রকাশ ঘটেছে। কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা বা গোপন করা। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর গুণাবলি, বিধান বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোর কোনো একটিকে অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। শফিক নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ধৈর্যের পরিচয় না দিয়ে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে পড়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। শফিক তা না করে আল্লাহর প্রতি ঈমান হারিয়ে কুফরি আচরণ করেছে, যা তার পরকালীন জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক।
২২৭.
আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘আসমাউল হুসনা’ শব্দের অর্থ আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ। মহান আল্লাহ তাআলার গুণবাচক ও সুন্দর নামসমূহকে একত্রে আসমাউল হুসনা বলা হয়। আল-কুরআনে এসেছে, আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। যেমন: আর-রাহমান, আর-রাহীম, আল-গাফফুর ইত্যাদি।
২২৮.
মুনাফিকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কয়টি?
উত্তর: মুনাফিকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ৩টি (কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে)।
📖 সাদিক ও লাবিব দুই ভাই। তারা একজন আলেমের মুখে শুনল... সাদিক ও লাবিব দুই ভাই। তারা একজন আলেমের মুখে শুনল যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মানুষের ভালো-মন্দ কাজের ওজন করবেন। যাদের ভালো কাজের পাল্লা ভারী হবে তারা সফলকাম হবে। আর যাদের ভালো কাজের পাল্লা হালকা হবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আলেমের এ বক্তব্য শুনে বড় ভাই সাদিক অত্যন্ত ভয় পেয়ে যায় এবং পাপ কাজ পরিহার করে সৎ পথে চলতে শুরু করে। কিন্তু ছোট ভাই লাবিবের মাঝে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সে পূর্বের ন্যায় খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করতে থাকে।
২২৯.
উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দুই ভাইয়ের আচরণের ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: আলেম সাহেবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দুই ভাইয়ের আচরণের ভিন্নতার কারণ হলো পরকালীন জবাবদিহিতা ও আকিদার প্রতি বিশ্বাসের গভীরতা। বড় ভাই সাদিক আলেম সাহেবের বক্তব্য শুনে পরকালের ভয় এবং মিযানের পাল্লায় পাপের শাস্তির কথা চিন্তা করে নিজের জীবনকে সংশোধন করেছে। তার বিশ্বাস ছিল দৃঢ়, যা তাকে পাপের পথ থেকে সরিয়ে সৎ পথে পরিচালিত করেছে। পক্ষান্তরে, ছোট ভাই লাবিব পরকাল ও মিযানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। তার বিশ্বাসের দুর্বলতার কারণে সে উদাসীন ও খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করে চলেছে। আকিদার প্রতি বিশ্বাস মানুষের চরিত্র ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। সাদিকের মাঝে আখিরাতের ভয় জাগ্রত হওয়ায় সে সৎকর্মশীল হয়েছে, যা প্রতিটি মুমিনের আদর্শ হওয়া উচিত। অন্যদিকে লাবিবের উদাসীনতা তাকে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করার ঝুঁকিতে ফেলেছে। সুতরাং, পরকালের হিসাব ও মিযানের প্রতি বাস্তব বিশ্বাসই মানুষের নৈতিক আচরণ পরিবর্তনের মূল নিয়ামক, যা উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের ভিন্ন আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
২৩০.
আলেম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের আকিদাগত কোন বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে আলেম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের আকিদাগত 'মিযান'-এর বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাকে আকিদা বলা হয়। পরকালের মানুষের আমলসমূহ পরিমাপের জন্য আল্লাহ তাআলা যে দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবেন, তাকেই মিযান বলে। মিযান হলো ন্যায়বিচারের প্রতীক। আলেম সাহেবের বক্তব্যে কিয়ামতের দিন মানুষের ভালো-মন্দ কাজের ওজন করার কথা বলা হয়েছে। যার নেকির পাল্লা ভারী হবে সে লাভ করবে জান্নাত, আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে। আলেম সাহেবের এই বর্ণনাটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামি আকিদার মিযান ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে মানুষের পার্থিব জীবনের কৃতকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
২৩১.
তাকদীরে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর: তাকদীর অর্থ ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তাআলাই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণকারী। তাকদীরে বিশ্বাস করা আকাইদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ওপর বিশ্বাস রাখলে মানুষ চরম বিপদেও হতাশ হয় না এবং সুখে ও সাফল্যে অহংকারী হয় না। এটি মানুষকে ধৈর্যশীল ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল হতে শেখায়, তাই তাকদীরে বিশ্বাস করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
২৩২.
‘শাফাআত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘শাফাআত’ শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুকম্পা বা প্রার্থনা করা।
📖 জনাব মুহাাইমিন একজন শিক্ষক। তিনি মহানবি (স.)-এর এক... জনাব মুহাাইমিন একজন শিক্ষক। তিনি মহানবি (স.)-এর একটি হাদিস থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিবছর তার গ্রামের রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষরোপণ করেন। এতে তিনি আনন্দ অনুভব করেন। অন্যদিকে জনাব মুহাাইমিনের বন্ধু মিনহাজের দোকানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় করা হয়। তার দোকানে কোনো প্রকার ভেজালের সুযোগ নেই। ওই অঞ্চলের মানুষ তার দোকান থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পছন্দ করেন। মিনহাজের স্ত্রী নুজহাত বলেন, সৎ ব্যবসায়ীগণ কিয়ামতের দিন নবিগণের সঙ্গী হবেন।
২৩৩.
মিনহাজ ব্যবসার ক্ষেত্রে যে হাদিসের অনুসরণ করেছেন তা নির্ধারণপূর্বক তাঁর স্ত্রীর উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মিনহাজ ব্যবসার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদিসের অনুসরণ করেছেন— "বিশ্বস্ত, সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহীদগণের সঙ্গে থাকবেন।" (ইবনে মাজাহ) মিনহাজ ভেজাল না করে ন্যায্যমূল্যে সততার সাথে ব্যবসা করেন। এজন্য তার স্ত্রী বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ীগণ কিয়ামতের দিন নবিগণের সঙ্গী হবেন। উপরিউক্ত হাদিসের প্রতিফলন তাঁর এ বক্তব্যে পাওয়া যায়। ব্যবসায় সততার মাধ্যমে মানুষ পার্থিব উন্নতি সাধন করে থাকে। জাগতিক উন্নতির মোহে মানুষ অনেক সময় অসৎ পথ বেছে নেয়। অর্থের লোভে ধোঁকা বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়। উক্ত হাদিসে ব্যবসায় সততা অবলম্বন করার প্রেক্ষিতে সততা ও বিশ্বস্ততা অবলম্বন করা প্রতিটি মুসলমান ব্যবসায়ীর জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য, যা মিনহাজের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে।
২৩৪.
জনাব মুহাাইমিনের কাজটিকে কী হিসেবে গণ্য করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব মুহাাইমিনের কাজটিকে সাদকাহ বলে গণ্য করা যায়। রাসূল (স.)-এর হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত। মহানবি (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা কোনো ফসল আবাদ করে। এরপর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু ভক্ষণ করে তবে তা তার জন্য সাদকাহ হিসেবে গণ্য হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম) জনাব মুহাাইমিন প্রতিবছর তার গ্রামের রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করেন। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ উপকৃত হন। তিনি উক্ত হাদিসের ওপর আমল করেন। তাই তাঁর এ কাজটি সাদকাহ হিসেবে গণ্য হবে।
২৩৫.
কীভাবে ফরজে কিফায়া সামষ্টিকভাব ফরজ কাজ? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাব ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানদের ওপর ফরজ; কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কিছু লোকের আদায় করার দ্বারা সমাজের বাকি সবাই সে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায়। তবে যদি সমাজের কেউই আদায় না করে তবে সকলেই গুনাহগার হবে। যেমন— জানাযার সালাত।
২৩৬.
‘হারাম’ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব কাজ বা বস্তু কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলে।
📖 don't wrap: জনাব ইমরান একজন সরকারি কর্মকর্তা। অফিস... don't wrap: জনাব ইমরান একজন সরকারি কর্মকর্তা। অফিসে যাওয়ার পথে একজন অসহায় লোক তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে সাধ্যানুযায়ী তাকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। ইমরানের প্রতিবেশী জনাব ইরফান খুবই ধার্মিক লোক। তিনি তার সন্তানদের একদিন বোঝাতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের কতই না সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করেছেন। মনে রেখ, মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সৎকর্মের ওপর নির্ভরশীল। অসৎকর্ম করলে মানুষ পশুর থেকেও নিম্ন স্তরে নেমে যায়।
২৩৭.
জনাব ইরফান যে সূরার আলোকে তার সন্তানদের বোঝালেন তা চিহ্নিতপূর্বক ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব ইরফান উদ্দীপকে তার সন্তানদের সূরা আত-তীন-এর আলোকে বুঝিয়েছেন। সূরা আত-তীনের ৪, ৫ ও ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে— "নিশ্চয় আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি। এরপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি সর্বনিম্নস্তরে। কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। তাদের জন্য তো রয়েছে অশেষ পুরস্কার।" জনাব ইরফানের বক্তব্য উক্ত আয়াতগুলোর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। জনাব ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্য হলো— "অসৎ কর্ম করলে মানুষ পশুর থেকেও নিম্ন স্তরে নেমে যায়।" তার এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অসৎ কর্ম মানুষের আত্মাকে কলুষিত করে। ফলে তার কাছে মন্দ কাজই ভালো লাগে। অন্যায় কাজ করে সে আনন্দ লাভ করে। তার বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়, তার পাশবিক সত্তা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তার কর্মকাণ্ড এতটাই নীচ ও ঘৃণ্য হয়, যা পশুর মধ্যেই দেখা যায়। অর্থাৎ অসৎকর্ম মানুষকে পশুতে পরিণত করে। তাই অসৎ কর্ম থেকে বিরত থাকা দরকার। তা না হলে মানুষের মানবিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হবে এবং পাশবিকতা বিস্তার ঘটবে।
২৩৮.
জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের কোন সূরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের সূরা আদ-দুহার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। সূরা আদ-দুহার ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "সুতরাং আপনি ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হবেন না এবং প্রার্থীকে ধমক দিবেন না।" এ আয়াত দুটির শিক্ষা হলো ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গরিব-দুঃখী, ইয়াতিম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা। অভাবী, সাহায্যপ্রার্থী ও ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না। তাদের গালমন্দ কিংবা মারধর করা যাবে না এবং তাদের ধমকও দেওয়া যাবে না। বরং তাদের সাথে সর্বদা সদাচরণ করতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে জনাব ইমরানের নিকট একজন অসহায় লোক সাহায্যপ্রার্থী হলে তিনি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে তাকে সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করেন। ফলে তাঁর কাজে সূরা আদ-দুহার মূল শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
২৩৯.
হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয় কেন?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা কুরআনে মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লের্ষণ করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে, 'তোমরা সালাত কায়েম কর।' কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কোন সময়ে সালাত আদায় করতে হবে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা আল-কুরআনে পাওয়া যায় না। বরং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সালাতের সমস্ত নিয়মকানুন তাঁর হাদিস বা হাদিসের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। তাই হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়।
২৪০.
ইজমা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মাহর মধ্য হতে পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) একমত পোষণ করাকে ইজমা বলে।
📖 দৃশ্যপট : ১ মতি মিয়ার বাড়িতে চাতালে আইজুল মাতবর... দৃশ্যপট : ১ মতি মিয়ার বাড়িতে চাতালে আইজুল মাতবর বেড়াতে এলেন। জুল মাতবর নিয়মিত জামাতে সালাত আদায় করেন। মসজিদে আযান হলে জুল মাতবর মতি মিয়াকে বললেন, চলুন ভাই, মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করে আসি। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ভাইকে দেখানোর জন্য মতি মিয়া তার সাথে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করল। অপরদিকে আরেকদিন মতি মিয়ার কাছে তার প্রতিবেশী এক টুকরা রশি চাইলে সে বলল, থাকলেই কি সবকিছু দিতে হবে? দৃশ্যপট : ২ সাদিয়া একটি গ্রন্থ থেকে কিছু আবৃত্তি করছে। এমন সময় তার বান্ধবী সামিয়া এসে বলল, তুমি কী আবৃত্তি করছ? আমি তো তোমার সাথে গল্প করতে এসেছি। তখন সাদিয়া বলল, "আমি এমন এক গ্রন্থ থেকে আবৃত্তি করছি যার দশটি অক্ষর উচ্চারণ করলে একশত নেকি পাওয়া যাবে। সুতরাং তোমার সাথে গল্প করে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না।"
২৪১.
সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি চিহ্নিত করে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন। কেননা রাসূল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ। আল-কুরআনের গুরুত্ব অত্যধিক। এটা আমাদের প্রতি একটি নিয়ামত; যা পার্থিব জীবনে চলার যাবতীয় দিকনির্দেশনা এবং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশ দেয়। আল-কুরআন হলো একটি কল্যাণময় কিতাব যার থেকে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন চিন্তাশীল ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন— "وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ" অর্থ: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" (সূরা আল-কামার : ২২)। তাই একজন ফরাসি পণ্ডিত যথার্থই বলেছেন, 'কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।' কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাই রাসূল (স.) বলেছেন, "আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।" (বায়হাকি) সর্বোপরি কুরআন মানুষকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত করে। তাই সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন।
২৪২.
দৃশ্যপট : ১ এ মতি মিয়ার চরিত্রে কোন সূরার শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এ মতি মিয়ার চরিত্রে সূরা আল-মাউন-এর শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। সূরা আল-মাউনে আল্লাহ তাআলা যে বিষয়গুলো শিক্ষা দিয়েছেন, তা হলো বিচার দিবসকে অস্বীকার করা জঘন্য কাজ। এটি কাফির মুনাফিকদের কাজ। ইয়াতিম ও দুস্থদের তাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। ইয়াতিম, মিসকিনদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে উৎসাহ দিতে হবে। কোনোক্রমেই সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না। বরং বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সালাত আদায় করতে হবে। সালাতে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহাধ্বংস। উদ্দীপকের মতি মিয়া ভাইকে দেখানোর জন্য নামায পড়েছে এবং প্রতিবেশীকে কোনো সাহায্য না করায় এ সূরার শিক্ষায় সুস্পষ্ট লঙ্ঘন লক্ষ করা যায়।
২৪৩.
শানে নুযূল জানা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শানে নুযূল হলো সূরা বা আয়াত নাজিলের পটভূমি। শানে নুযূল জানার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এর উল্লেখযোগ্য হলো— ক. এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়। খ. আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ अवगत হওয়া যায়।
২৪৪.
‘ফরজে আইন’ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে।
📖 জনাব ইমরান একজন সরকারি কর্মকর্তা। অফিসে যাওয়ার পথ... জনাব ইমরান একজন সরকারি কর্মকর্তা। অফিসে যাওয়ার পথে একজন অসহায় লোক তার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে সাধ্যানুযায়ী তাকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। ইমরানের প্রতিবেশী জনাব ইরফান খুবই ধার্মিক লোক। তিনি তার সন্তানদের একদিন বোঝাতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের কতই না সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করেছেন। মনে রেখ, মানুষের সম্মান ও মর্যাদা সৎকর্মের ওপর নির্ভরশীল। অসৎকর্ম করলে মানুষ পশুর থেকেও নিম্ন স্তরে নেমে যায়।
২৪৫.
জনাব ইরফান যে সূরার আলোকে তার সন্তানদের বোঝালেন তা চিহ্নিতপূর্বক ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব ইরফান যে সূরার আলোকে তার সন্তানদের বোঝালেন তা চিহ্নিতপূর্বক ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। জনাব ইরফান উদ্দীপকে তার সন্তানদের সূরা আত-তীন-এর আলোকে বুঝিয়েছেন। সূরার সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎপর্য হলো সৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা ধরে রাখতে পারে। পক্ষান্তরে অসৎ কর্মের মাধ্যমে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে পৌঁছে যায়। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সুন্দরতম করে সৃষ্টি করেছেন। তাকে দান করেছেন বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান। তাকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা দিয়েছেন। আর এ কারণে মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়। সুন্দর আকৃতি এবং শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতার পাশাপাশি মানুষকে সুন্দর আচরণ ও চারিত্রিক গুণের অধিকারী হতে হবে। যদি কোনো মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ-নিষেধ অমান্য করে এবং অসৎ কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়। তখন তার স্থান হয় জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। সুতরাং মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে অবশ্যই ঈমান আনতে হবে এবং নেক আমল করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, সৎকর্মশীল মানুষই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার অধিকারী।
২৪৬.
জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের কোন সূরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের সূরা আদ-দুহার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। সূরা আদ-দুহার ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "সুতরাং আপনি ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হবেন না এবং প্রার্থীকে ধমক দিবেন না।" এ আয়াত দুটির শিক্ষা হলো ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গরিব-দুঃখী, ইয়াতিম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা। অভাবী, সাহায্যপ্রার্থী ও ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না। তাদের গালমন্দ কিংবা মারধর করা যাবে না এবং তাদের ধমকও দেওয়া যাবে না। বরং তাদের সাথে সর্বদা সদাচরণ করতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে জনাব ইমরানের নিকট একজন অসহায় লোক সাহায্যপ্রার্থী হলে তিনি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে তাকে সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করেন। ফলে তাঁর কাজে সূরা আদ-দুহার মূল শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
২৪৭.
হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয় কেন?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা কুরআনে মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে, 'তোমরা সালাত কায়েম কর।' কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কোন সময়ে সালাত আদায় করতে হবে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা আল-কুরআনে পাওয়া যায় না। বরং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সালাতের সমস্ত নিয়মকানুন তাঁর হাদিস বা হাদিসের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। তাই হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়।
২৪৮.
ইজমা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মাহর মধ্য হতে পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) একমত পোষণ করাকে ইজমা বলে।
📖 দৃশ্যপট : ১ মতি মিয়ার বাড়িতে চাতালে আইজুল মাতবর... দৃশ্যপট : ১ মতি মিয়ার বাড়িতে চাতালে আইজুল মাতবর বেড়াতে এলেন। জুল মাতবর নিয়মিত জামাতে সালাত আদায় করেন। মসজিদে আযান হলে জুল মাতবর মতি মিয়াকে বললেন, চলুন ভাই, মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করে আসি। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ভাইকে দেখানোর জন্য মতি মিয়া তার সাথে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করল। অপরদিকে আরেকদিন মতি মিয়ার কাছে তার প্রতিবেশী এক টুকরা রশি চাইলে সে বলল, থাকলেই কি সবকিছু দিতে হবে? দৃশ্যপট : ২ সাদিয়া একটি গ্রন্থ থেকে কিছু আবৃত্তি করছে। এমন সময় তার বান্ধবী সামিয়া এসে বলল, তুমি কী আবৃত্তি করছ? আমি তো তোমার সাথে গল্প করতে এসেছি। তখন সাদিয়া বলল, "আমি এমন এক গ্রন্থ থেকে আবৃত্তি করছি যার দশটি অক্ষর উচ্চারণ করলে একশত নেকি পাওয়া যাবে। সুতরাং তোমার সাথে গল্প করে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না।"
২৪৯.
সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি চিহ্নিত করে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন। কেননা রাসূল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ। আল-কুরআনের গুরুত্ব অত্যধিক। এটা আমাদের প্রতি একটি নিয়ামত; যা পার্থিব জীবনে চলার যাবতীয় দিকনির্দেশনা এবং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশ দেয়। আল-কুরআন হলো একটি কল্যাণময় কিতাব যার থেকে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন চিন্তাশীল ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন— "وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ" অর্থ: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" (সূরা আল-কামার : ২২)। তাই একজন ফরাসি পণ্ডিত যথার্থই বলেছেন, 'কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।' কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাই রাসূল (স.) বলেছেন, "আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।" (বায়হাকি) সর্বোপরি কুরআন মানুষকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত করে। তাই সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন।
২৫০.
দৃশ্যপট : ১ এ মতি মিয়ার চরিত্রে কোন সূরার শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এ মতি মিয়ার চরিত্রে সূরা আল-মাউন-এর শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। সূরা আল-মাউনে আল্লাহ তাআলা যে বিষয়গুলো শিক্ষা দিয়েছেন, তা হলো বিচার দিবসকে অস্বীকার করা জঘন্য কাজ। এটি কাফির মুনাফিকদের কাজ। ইয়াতিম ও দুস্থদের তাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। 'ইয়াতিম, মিসকিনদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে উৎসাহ দিতে হবে। কোনোক্রমেই সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না। বরং বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সালাত আদায় করতে হবে। সালাতে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহাধ্বংস। উদ্দীপকের মতি মিয়া ভাইকে দেখানোর জন্য নামায পড়েছে এবং প্রতিবেশীকে কোনো সাহায্য না করায় এ সূরার শিক্ষায় সুস্পষ্ট লঙ্ঘন লক্ষ করা যায়।
২৫১.
শানে নুযূল জানা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শানে নুযূল হলো সূরা বা আয়াত নাজিলের পটভূমি। শানে নুযূল জানার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এর উল্লেখযোগ্য হলো— ক. এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়। খ. আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ অবগত হওয়া যায়।
২৫২.
‘ফরজে আইন’ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে।
📖 সাজিদ সাহেব একজন ধনী ব্যক্তি। তিনি সালাত আদায়ের ব্... সাজিদ সাহেব একজন ধনী ব্যক্তি। তিনি সালাত আদায়ের ব্যাপারে খুবই উদাসীন। শুক্রবার দিন সকালবেলায় বারান্দায় বসে তিনি চা খাচ্ছিলেন। এমন সময় একজন এতিম ভিক্ষুক এসে তার নিকট কিছু সাহায্য চাইলে, তিনি রেগে গিয়ে তাকে গেটের বাইরে বের করে দেন। অন্যদিকে রমিজ সাহেবের ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় তার বন্ধুরা তাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। এতে তিনি দুঃখ পান এবং হতাশ হয়ে পড়েন। ফলে তার প্রতিবেশী আমান সাহেব তাকে ধৈর্যধারণ করার জন্য বলেন। তিনি আরও বলেন, মানবজীবনে সুখ-দুঃখ থাকবেই।
২৫৩.
আমান সাহেবের বক্তব্যটিতে কোন সূরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখপূর্বক তার শেষ বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে আমান সাহেবের বক্তব্যটিতে সূরা আল-ইনশিরাহ-এর শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। সূরা আল-ইনশিরাহ মক্কি সূরাসমূহের অন্যতম। এর আয়াত সংখ্যা ৮টি। এ সূরায় মহান আল্লাহ দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদের সময় ধৈর্যধারণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। উদ্দীপকে আমান সাহেবের শেষোক্ত বক্তব্যটি হলো, মানবজীবনে সুখ-দুঃখ থাকবেই। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, জীবন কখনো চিরসুখের হয় না। বরং সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন। সুতরাং দুঃখ ও কষ্টে হতাশ হওয়া যাবে না। বরং ধৈর্যসহকারে এর মোকাবিলা করতে হবে। সেই সাথে নিজের করণীয় কর্তব্য পালন করে যেতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, সুখ-দুঃখ মেনে নিয়েই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। হতাশ হয়ে বসে থাকা যাবে না। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। তাই সময়কে কাজে লাগাতে হবে এবং দায়িত্ব কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
২৫৪.
সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোন সূরার শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে সূরা আল-মাউনের শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। সূরা আল-মাউন আল-কুরআনের ১০৭তম সূরা। এই সূরায় মহান আল্লাহ কাফির ও মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও কাজের বর্ণনা দিয়েছেন। পাশাপাশি মানুষকে এহেন কাজ সম্পর্কে সতর্কও করেছেন। উদ্দীপকে সাজিদ সাহেবের মতো ব্যক্তিদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা আল-মাউন নাযিল করেছেন। সূরা আল-মাউনের শিক্ষা হলো এতিম ও দুস্থদের তাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে এবং এ ব্যাপারে অন্যদেরও উৎসাহ দিতে হবে। এই সূরার আরও শিক্ষা হলো, কোনোক্রমেই সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না। বরং বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে। কিন্তু সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ড এসবের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই বলা যায়, সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে সূরা আল-মাউনের শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে।
২৫৫.
কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর বিধিবিধান সম্পর্কে জানা যায়। পবিত্র কুরআন হলো সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করা যায়। সঠিকভাবে ইসলামি জীবনযাপন করা যায়। কুরআন তিলাওয়াত করে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লাভ করা যায়। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “আমার উম্মতের উত্তম (নফল) ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।”
২৫৬.
শরীয়ত কী?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় শরীয়ত হলো ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতি।
📖 উদ্দীপকটি ছবিতে সরাসরি সম্পূর্ণ দেওয়া নেই (শুধুমাত... উদ্দীপকটি ছবিতে সরাসরি সম্পূর্ণ দেওয়া নেই (শুধুমাত্র প্রশ্নের উত্তরের অংশে ইঙ্গিত রয়েছে, তবে প্রশ্ন নম্বর ১৫ এর উদ্দীপকটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট)। ১৪ নং প্রশ্নের উত্তরের আলোকে উদ্দীপকের চরিত্রসমূহ হলো জনাব 'খ' এবং একজন ভিক্ষুক।
২৫৭.
সূরা আল-মাউনের শিক্ষার আলোকে জনাব 'খ'-এর স্ত্রীর পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সূরা আল-মাউনের শিক্ষার আলোকে বলা যায়, জনাব 'খ'-এর স্ত্রী ভয়াবহ দুর্ভাগের শিকার হবে। সূরা আল-মাউন পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সূরা এবং এ সূরার আয়াত সংখ্যা ৭টি। মহান আল্লাহ এ সূরায় কাফির ও মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও কাজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং এসব ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করেছেন। উদ্দীপকে জনাব 'খ'-এর স্ত্রী তার এক প্রতিবেশীকে একটু লবণ দিয়ে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছে। তার এহেন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা আল-মাউনের ৪নং ও ৭নং আয়াতে যথাক্রমে বলেন, “সুতরাং দুর্ভোগ (ধ্বংস) সেই সালাত আদায়কারীদের এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাটো বস্তু অন্যকে দেয় না।” যারা না চাইতেও আয়াতে আল্লাহর তীব্র অভিশাপ করেছেন। এরূপ ব্যক্তিরা আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করতে পারে না। পরিশেষে বলা যায়, জনাব 'খ'-এর স্ত্রী তার এহেন কাজের দরুন দুনিয়াতে আল্লাহর দয়া থেকে বঞ্চিত হবে। নানা দুর্ভাগের শিকার হবে। পরকালেও তিরস্কৃত হবে।
২৫৮.
জনাব 'খ'-এর কাজটি কোন সূরার শিক্ষার পরিপন্থী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব 'খ'-এর কাজটি সূরা আদ-দুহার শিক্ষার পরিপন্থী। সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১। এ সূরায় মানুষকে কিছু নৈতিক উপদেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে জনাব 'খ' এক ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দিয়ে বরং ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ সূরা আদ-দুহার ১০নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ অর্থ : এবং (সাহায্য) প্রার্থীকে ধমক দেবেন না। অর্থাৎ কেউ যদি ভিক্ষা চায় বা কোনো সাহায্য চায় তাহলে তাকে ধমক দেওয়া যাবে না। বরং সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে। তাও না পারলে হাসিমুখে বিদায় দিতে হবে। কিন্তু উদ্দীপকে জনাব 'খ' এ শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করেছেন। তাই বলা যায়, জনাব 'খ' সূরা আদ-দুহার শিক্ষার পরিপন্থী কাজ করেছেন।
২৫৯.
“কোনোকিছুই তাঁর সদৃশ নয়”- এ আয়াতটির মর্মার্থ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত আয়াতের মর্মার্থ হলো কোনোকিছুই মহান আল্লাহর সমতুল্য নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “কোনোকিছুই তাঁর সদৃশ নয়।” অর্থাৎ আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি সকল ক্ষমতার মালিক। তিনি যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। তাঁর এ গুণ ও ক্ষমতা তাঁর সমতুল্য দ্বিতীয় আর কেউ নেই।
২৬০.
শরীয়ত কী?
উত্তর: শরীয়ত হলো ইসলামী কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতি।
📖 হাসান ও হুসাইন দুই ভাই। হাসান নিয়মিত সালাত আদায় কর... হাসান ও হুসাইন দুই ভাই। হাসান নিয়মিত সালাত আদায় করে। ব্যবসায়িক লেনদেনে সে সততা বজায় রাখে। তবে তার এক প্রতিবেশী প্রায়ই ময়লা-আবর্জনা হাসানের যাতায়াতের পথে ফেলে তাকে কষ্ট দেয়। হাসান এতে রাগ না করে বরং ধৈর্যের সাথে প্রতিবেশীর জন্য আল্লাহর নিকট হেদায়েত কামনা করে। অপরদিকে হুসাইন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেও ওজনে কম দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে এবং মাপে কম দিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে ভালোবাসে।
২৬১.
হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিণতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অত্যন্ত জঘನ್ಯ, পাপের কাজ এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের আলোকে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। হুসাইন সালাত আদায় করলেও ব্যবসায় ওজনে কম দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে এবং মাপে কম দিয়ে অবৈধভাবে অধিক মুনাফা অর্জন করে। ইসলামে ওজনে বা মাপে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মুতাফফিফিনের ১-৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয়, আর যখন তাদের মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।' একই সাথে ওজনে কম দেওয়াকে পূর্ববর্তী বহু জাতির ধ্বংসের কারণ হিসেবে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন- হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের কওম)। Targeted ব্যবসায়িক সততা ও জবাবদিহিতা লঙ্ঘন করে হুসাইন অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করে, যা ধোঁকাবাজির শামিল। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)। হুসাইনের মতো অসৎ ব্যবসায়ীদের উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ হারাম এবং হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে হাদিসে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন অসৎ ব্যবসায়ীরা চরম লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। অতএব, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা না করলে আখেরাতে হুসাইনের জন্য কঠিন আজাব নির্ধারিত রয়েছে। তাই তার এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
২৬২.
হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের ক্ষমা, ধৈর্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের মহান নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের শিক্ষার সাথে হুবহু মিলে যায়। ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও হাসান রাগ না করে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং প্রতিবেশীর হেদায়েত কামনা করেছে। এটি আমাদের প্রিয়নবি (স.)-এর মক্কার জীবনে বুড়ি কর্তৃক যাতায়াতের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে নবিজি (স.) বুড়ির অসুস্থতায় তার সেবা করেছিলেন। হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে কঠোর তাগিদ রয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, 'কসম আল্লাহর! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার অনিষ্ট ও কষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।' (সহিহ বুখারি)। হাসান প্রতিবেশীর অন্যায়ের জবাবে অন্যায় না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছে ও উত্তম আচরণের পরিচয় দিয়েছে, যা হাদিসের প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা।
২৬৩.
কুরআন মাজিদ সংরক্ষণে হযরত আবু বকর (রা.)-এর অবদান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফিজে কুরআন সাহাবি শহিদ হন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলন ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। প্রথমে দ্বিধাবোধ করলেও পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা.) এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কুরআনের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করে গ্রন্থাকারে প্রথম পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করেন।
২৬৪.
'আল-হাদি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'আল-হাদি' শব্দের অর্থ হলো— পথপ্রদর্শক, হেদায়েতকারী ইত্যাদি।
📖 হাসান ও হুসাইন দুই ভাই। হাসান নিয়মিত সালাত আদায় কর... হাসান ও হুসাইন দুই ভাই। হাসান নিয়মিত সালাত আদায় করে। ব্যবসায়িক লেনদেনে সে সততা বজায় রাখে। তবে তার এক প্রতিবেশী প্রায়ই ময়লা-আবর্জনা হাসানের যাতায়াতের পথে ফেলে তাকে কষ্ট দেয়। হাসান এতে রাগ না করে বরং ধৈর্যের সাথে প্রতিবেশীর জন্য আল্লাহর নিকট হেদায়েত কামনা করে। অপরদিকে হুসাইন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলেও ওজনে কম দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে এবং মাপে কম দিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে ভালোবাসে।
২৬৫.
হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিণতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অত্যন্ত জঘন্য, পাপের কাজ এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের আলোকে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। হুসাইন সালাত আদায় করলেও ব্যবসায় ওজনে কম দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে এবং মাপে কম দিয়ে অবৈধভাবে অধিক মুনাফা অর্জন করে। ইসলামে ওজনে বা মাপে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মুতাফফিফিনের ১-৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয়, আর যখন তাদের মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।' একই সাথে ওজনে কম দেওয়াকে পূর্ববর্তী বহু জাতির ধ্বংসের কারণ হিসেবে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন- হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের কওম)। Targeted ব্যবসায়িক সততা ও জবাবদিহিতা লঙ্ঘন করে হুসাইন অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করে, যা ধোঁকাবাজির শামিল। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)। হুসাইনের মতো অসৎ ব্যবসায়ীদের উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ হারাম এবং হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে হাদিসে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন অসৎ ব্যবসায়ীরা চরম লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। অতএব, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা না করলে আখেরাতে হুসাইনের জন্য কঠিন আজাব নির্ধারিত রয়েছে। তাই তার এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
২৬৬.
হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের ক্ষমা, ধৈর্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের মহান নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের শিক্ষার সাথে হুবহু মিলে যায়। ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও হাসান রাগ না করে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং প্রতিবেশীর হেদায়েত কামনা করেছে। এটি আমাদের প্রিয়নবি (স.)-এর মক্কার জীবনে বুড়ি কর্তৃক যাতায়াতের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে নবিজি (স.) বুড়ির অসুস্থতায় তার সেবা করেছিলেন। হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে কঠোর তাগিদ রয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, 'কসম আল্লাহর! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার অনিষ্ট ও কষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।' (সহিহ বুখারি)। হাসান প্রতিবেশীর অন্যায়ের জবাবে অন্যায় না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছে ও উত্তম আচরণের পরিচয় দিয়েছে, যা হাদিসের প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা।
২৬৭.
কুরআন মাজিদ সংরক্ষণে হযরত আবু বকর (রা.)-এর অবদান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফিজে কুরআন সাহাবি শহিদ হন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলন ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। প্রথমে দ্বিধাবোধ করলেও পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা.) এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কুরআনের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করে গ্রন্থাকারে প্রথম পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করেন।
২৬৮.
'আল-হাদি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'আল-হাদি' শব্দের অর্থ হলো— পথপ্রদর্শক, হেদায়েতকারী ইত্যাদি।
📖 রাফিক তার আমবাগানে বেশ কিছু নতুন চারা রোপণ করে। সে... রাফিক তার আমবাগানে বেশ কিছু নতুন চারা রোপণ করে। সে চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করে। তার বাগানের উৎপাদিত আম পরিবারের চাহিদা পূরণ করে এবং উদ্বৃত্ত আম বাজারে বিক্রি করে সে বেশ লাভবান হয়। গ্রামের মানুষেরা তার বাগানের ছায়ায় এসে বিশ্রাম নেয় এবং পাখিরাও সেখান থেকে ফল খায়। অন্যদিকে, তার বন্ধু শফিক মাপে কম দিয়ে এবং ভেজাল পণ্য বিক্রি করে অধিক মুনাফা লাভ করে। শফিক মনে করে, ব্যবসায়িক লাভই তার একমাত্র লক্ষ্য এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের সাথে ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই।
২৬৯.
শফিকের ব্যবসায়িক মনোভাব ও কার্যক্রম ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের শফিকের ব্যবসায়িক মনোভাব ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ, অনৈতিক এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের পরিপন্থী। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল এবং একটি উৎকৃষ্ট পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও মাপে কম দেওয়া, পণ্যে ভেজাল মেশানো এবং কৃত্রিম উপায়ে অধিক মুনাফা লোটার মানসিকতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। শফিক মনে করে যে ব্যবসায়িক লাভই একমাত্র লক্ষ্য এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের সাথে ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই— তার এই ধারণা চরম বিভ্রান্তিকর। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যদি তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী হয়। শফিক মাপে কম দেয়, অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সূরা আর-রাহমানে ঘোষণা করেছেন, 'তোমরা ওজনে কম দিও না।' এবং সূরা আল-মুতাফফিফিনে ওজনে কমদাতাদের জন্য কঠোর ধ্বংসের বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাছাড়া শফিক অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করে, যা ধোঁকাবাজির শামিল। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)। ইসলামি অর্থনীতিতে সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং হালাল উপায়ে অর্জিত মুনাফাকে বরকতময় করা হয়েছে, পক্ষান্তরে অসদুপায় ও প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। অতএব, শফিকের এই অনৈতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ধর্মবিমুখ মনোভাব দুনিয়াতে মানুষের আস্থা হারানোর পাশাপাশি আখিরাতেও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করবে। তাই তার এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
২৭০.
রাফিকের আমবাগান করার কাজটি হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের রাফিকের আমবাগান করা এবং তা থেকে পরিবেশ ও মানুষের উপকৃত হওয়ার বিষয়টি ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসের আলোকে রাফিকের এই চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজটি 'সদকায়ে জারিয়া' বা চলমান দান হিসেবে গণ্য হবে। হাদিস শরিফে বৃক্ষরোপণের ফজিলত সম্পর্কে প্রিয়নবি (স.) ইরশাদ করেছেন, 'কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা ফসল আবাদ করে, আর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।' (সহিহ বুখারি)। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফিকের বাগানের আম পরিবারের চাহিদা পূরণ করছে, উদ্বৃত্ত আম বাজারে বিক্রি করে সে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং একই সাথে গ্রামের ক্লান্ত মানুষেরা সেই গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে ও পাখিরা ফল খাচ্ছে। অতএব, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী রাফিকের এই জনকল্যাণমূলক কাজটি সরাসরি হাদিসের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন এবং পরকালে এর জন্য সে বিপুল সওয়াব লাভ করবে।
২৭১.
আল-কুরআনকে মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো বলা হয় কেন?
উত্তর: আল-কুরআন হলো মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী যা মানবজাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও মুক্তির পথপ্রদর্শক। এটি মানুষকে অন্ধকার, কুসংস্কার ও পথভ্রষ্টতা থেকে বের করে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের সরল পথ প্রদর্শন করে। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সর্বক্ষেত্রের সঠিক দিকনির্দেশনা আল-কুরআনে বিদ্যমান। তাই আল-কুরআনকে মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো বা 'নূর' বলা হয়।
২৭২.
হাদিস শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হাদিস শব্দের অর্থ হলো— বাণী, কথা, নতুন, প্রাচীন রীতির পরিবর্তন ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলা হয়।
📖 জনাব 'ক' ও জনাব 'খ' দুজনেই ব্যবসায়ী। জনাব 'ক' রমজ... জনাব 'ক' ও জনাব 'খ' দুজনেই ব্যবসায়ী। জনাব 'ক' রমজান মাসে অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। ফলে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। অপরদিকে জনাব 'খ' সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি মাপে কম দেন না এবং কোনো ভেজাল পণ্যও বিক্রি করেন না। তিনি বলেন, আল-কুরআনে আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন।
২৭৩.
জনাব 'খ'-এর উক্তিটির যথার্থতা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাব 'খ'-এর উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ এবং এটি সুরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতের খণ্ডিতাংশ, যেখানে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন।' ইসলামে হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনকে ইবাদতের সমতুল্য করা হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে জীবিকা অর্জনের অন্যতম প্রধান ও উৎকৃষ্ট মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জনাব 'খ' একজন আদর্শ ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন, মাপে কম দেন না এবং পণ্যে কোনো প্রকার ভেজাল মেশান না। তাঁর এই সততাপূর্ণ আচরণ প্রিয়নবি (স.)-এর সুন্নাহর হুবহু প্রতিফলন। মহানবি (স.) সৎ ব্যবসায়ীদের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবিগণ, সিদ্দিকগণ এবং শহিদগণের সঙ্গী হবেন।' (জামে আত-তিরমিযী)। বিপরীতপক্ষে, ইসলামে সূদ, ঘুষ, ভেজাল এবং মাপে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম করা হয়েছে। কারণ এগুলো সমাজে শোষণ, বৈষম্য এবং অশান্তির সৃষ্টি করে। জনাব 'খ' আল্লাহর এই বিধানকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং নিজের ব্যবসায়িক জীবনে তা বাস্তবায়ন করেছেন। এর ফলে তিনি যেমন দুনিয়াতে মানুষের আস্থা ও সম্মান লাভ করেছেন, তেমনি পরকালেও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত ও সর্বোত্তম প্রতিদান লাভ করবেন। অতএব, তাঁর উক্তি ও কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে ইসলামি অর্থনীতি ও জীবনদর্শনের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ এবং শতভাগ যথার্থ।
২৭৪.
জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড শরিয়তের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ, গুনাহের কাজ এবং এটি ইসলামের অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'এহতিকার' বা 'মজুতদারি' বলা হয়। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল ও উৎসাহিত করা হলেও মজুতদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহানবি (স.) এ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি চাল-ডাল বা খাদ্যশস্য মজুত রাখে, সে অপরাধী বা পাপী।' (সহিহ মুসলিম)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি পণ্যদ্রব্য আমদানি করে সে রিজিকপ্রাপ্ত হয়, আর যে মজুতদারি করে সে অভিশপ্ত।' সুতরাং, জনাব 'ক'-এর এই কর্মকাণ্ড সমাজবিরোধী ও চরম অমানবিক কাজ, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ।
২৭৫.
'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে'— বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মহান আল্লাহ সূরা আল-ইনশিরাহ-এর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।' এটি একটি চিরন্তন সত্য বাণী। মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট আসতেই পারে। কিন্তু এ অবস্থায় ভেঙে পড়া যাবে না। কেননা, চরম দুঃখের পরেই পরম সুখের আগমন ঘটে। মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবিগণ দীন প্রচার করতে গিয়ে কাফিরদের দ্বারা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও কষ্টের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে সুখ, স্বস্তি ও মক্কা বিজয়ের মতো মহাসাফল্য দান করেছিলেন। সুতরাং, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বস্তি ও সফলতা আসবেই।
২৭৬.
নাস্ (نص) শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নাস্ (نص) শব্দের অর্থ হলো— স্পষ্ট প্রমাণ, সুনির্দিষ্ট বিধান ইত্যাদি।

প্রথম অধ্যায়: আকাইদ

📖 জনাব ‘ক’ খুব ভালো চিত্রশিল্পী। তিনি একদা একটি সুন্... জনাব ‘ক’ খুব ভালো চিত্রশিল্পী। তিনি একদা একটি সুন্দর ছবি আঁকলেন এবং দাবি করলেন এর কোনো স্রষ্টা বা চিত্রশিল্পী নেই, ছবিটি এমনি এমনি তৈরি হয়েছে। তার এই অবাস্তব দাবি শুনে উপস্থিত বন্ধুমহল তাকে পাগল আখ্যায়িত করল।
২৭৭.
জনাব ‘ক’-এর ধারণার অসারতা প্রমাণে মহাবিশ্বের সৃষ্টির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব ‘ক’-এর ধারণার অসারতা প্রমাণে মহাবিশ্বের সৃষ্টির যৌক্তিকতা অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং অকাট্য। জনাব 'ক' মনে করেন একটি সুন্দর ছবি কোনো চিত্রশিল্পী ছাড়া এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অযৌক্তিক। এই বাস্তবতার আলোকে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমাদের এই বিশাল পৃথিবী, সূর্য, নক্ষত্ররাজি এবং মহাবিশ্বের কোটি কোটি গ্যালাক্সি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে আবর্তিত হচ্ছে। যদি কোনো চালক বা স্রষ্টা না থাকত, তবে গ্রহগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটত এবং বিশ্বজগৎ ধ্বংস হয়ে যেত। আল-কুরআনে বলা হয়েছে— 'যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া: ২২)। অতএব, একটি ক্ষুদ্র বস্তুর সৃষ্টির পেছনে যদি কারিগরের প্রয়োজন হয়, তবে এই অনন্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির পেছনে একজন মহান স্রষ্টা অবশ্যই আছেন। সুতরাং, স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকারকারী জনাব 'ক'-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ অসার, ভিত্তিহীন ও যুক্তি পরিপন্থী।
২৭৮.
উদ্দীপকের বন্ধুমহলের উক্তিটি তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের বন্ধুমহলের উক্তিটি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। মহাবিশ্ব এবং এর মধ্যকার সবকিছুর একজন স্রষ্টা আছেন, যিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা। একটি সামান্য ছবি যদি চিত্রশিল্পী ছাড়া এমনি এমনি তৈরি হতে না পারে, তবে এই বিশাল ও সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব, গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য কোনো স্রষ্টা ছাড়া কীভাবে সৃষ্টি হতে পারে? বন্ধুমহল যখন জনাব 'ক'-এর অবাস্তব দাবি (ছবিটি এমনি এমনি তৈরি হয়েছে) শুনে তাকে পাগল বলল, তখন তারা মূলত যুক্তি ও স্বভাবজাত বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্রষ্টার অস্তিত্বকে সমর্থন করল। ইসলামের তাওহীদ শিক্ষা দেয় যে, মহাবিশ্বের এই সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা একজন পরম একক সত্তার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ, যা বন্ধুমহলের বক্তব্যের মূল সুর।
২৭৯.
নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: যাঁদের নিকট আসমাউল কিতাব এসেছে এবং নতুন শরিয়ত প্রদত্ত হয়েছে, তাঁদের রাসূল বলা হয়। আর যাঁদের নিকট কোনো নতুন কিতাব বা শরিয়ত আসেনি, বরং পূর্ববর্তী রাসূলের শরিয়ত প্রচার ও পুনরুজ্জীবিত করতেন, তাঁদের নবী বলা হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন।
২৮০.
আসমাউল হুসনা কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম গুণবাচক নামসমূহকে একত্রে আসমাউল হুসনা বলা হয়।

অধ্যায়-০১ : আকাইদ ও নৈতিক জীবন

📖 কামাল ও জামাল দুই ভাই। কামাল তাঁর ব্যবসার আয়ের একট... কামাল ও জামাল দুই ভাই। কামাল তাঁর ব্যবসার আয়ের একটি অংশ প্রতি বছর হিসাব করে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বণ্টন করে দেন। তিনি মনে করেন, এতে তাঁর সম্পদ পবিত্র ও নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে জামাল সাহেব প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কাউকে কোনো সাহায্য করেন না। তিনি বলেন, "আমার অর্জিত সম্পদ আমি কেন অন্যকে দেব? দান করলে আমার সম্পদ কমে যাবে।"
২৮১.
"জামাল সাহেবের মনোভাবের পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ"— ইসলামের আকিদা ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি ইসলামের শরিয়ত ও আকিদার আলোকে একশত ভাগ সত্য ও যথার্থ। জামাল সাহেবের কৃপণতা ও যাকাত না দেওয়ার মনোভাব তাঁর জন্য পরকালে অত্যন্ত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণ হবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জামাল সাহেব প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও সম্পদ কমে যাওয়ার ভয়ে কাউকে সাহায্য করেন না বা যাকাত আদায় করেন না। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। যাকাত না দেওয়া মানে আল্লাহর ফরজ বিধানকে অমান্য করা এবং গরিবের অধিকার হরণ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, যারা সোনা-রূপা বা ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় বা যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে এবং বলা হবে, "স্বাদ গ্রহণ করো যা তোমরা পুঞ্জীভূত করেছিলে।" এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, যাকাত না দেওয়া সম্পদ কিয়ামতের দিন বিষধর সাপে পরিণত হয়ে মালিককে দংশন করতে থাকবে। অতএব, বলা যায় যে কৃপণতা ও ফরজ ইবাদত অমান্য করার কারণে জামাল সাহেবের পরকালীন পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।
২৮২.
কামালের কাজের মাধ্যমে ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কামাল সাহেবের কাজের মাধ্যমে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম অর্থনৈতিক ইবাদত 'যাকাত'-এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি তাঁর ব্যবসার আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রতি বছর হিসাব করে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বণ্টন করে দেন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরের শেষে তার সম্পদের ২.৫% বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ নির্দিষ্ট খাতগুলোতে বণ্টন করা ফরজ। কামাল সাহেব এই বিধান মেনে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাঁর সম্পদকে অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করছে এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
২৮৩.
নিসাব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলা হয়। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের উদ্বৃত্ত সম্পদ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ হয়।
২৮৪.
যাকাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া।
📖 আসিফ সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ঘুষ গ্রহণ ক... আসিফ সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ঘুষ গ্রহণ করেন না এবং অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, পরকালে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে তাঁর সহকর্মী তারেক সাহেব বলেন, "দুনিয়ায় যেভাবে পারো অর্থ ও ক্ষমতা অর্জন করো। মরার পর কী হবে তা কেউ দেখেনি, কাজেই পরকাল নিয়ে ভেবে বর্তমানের সুখ নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।" তাই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
২৮৫.
"আসিফ সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করার মূল হাতিয়ার"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং বাস্তবসম্মত। আসিফ সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা সমাজ থেকে দুর্নীতি ও অন্যায় দূর করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। উদ্দীপকে দেখা যায়, আসিফ সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কোনো প্রকার ঘুষ বা দুর্নীতির সাথে জড়িত নন এবং নিজের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন। এর মূল কারণ হলো তাঁর এই অটল বিশ্বাস যে, পরকালে তাকে তাঁর প্রতিটি কাজের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, দুনিয়ার জীবন হলো ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন অনন্ত। মানুষ দুনিয়াতে যা করবে, পরকালে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। কেবল মাত্র আইন বা পার্থিব শাস্তির ভয় দেখিয়ে মানুষকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত রাখা সম্ভব নয়, কারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে মানুষ অপরাধে লিপ্ত হতে পারে— যেমনটি তারেক সাহেব করেছেন। কিন্তু আসিফ সাহেবের মতো যার অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার বিশ্বাস জাগ্রত থাকে, সে গোপনে বা প্রকাশ্যে কখনোই কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি করতে পারে না। এই ধরনের বিশ্বাস যখন সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে গড়ে উঠবে, তখন সমাজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্নীতি, জুলুম ও পাপাচার দূর হয়ে যাবে। অতএব, বলা যায় যে আসিফ সাহেবের আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত ও শান্তিময় করার মূল চালিকাশক্তি।
২৮৬.
আসিফ সাহেবের আচরণের মধ্য দিয়ে কোন বিশ্বাসের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আসিফ সাহেবের আচরণের মধ্য দিয়ে ইসলামের অন্যতম মূল আকিদা 'আখিরাত' বা পরকাল এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার বিশ্বাসের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। তারেক সাহেব মনে করেন পরকাল বলতে কিছু নেই এবং মরার পর কী হবে তা কেউ দেখেনি, তাই তিনি দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও অবৈধ অর্থ উপার্জনকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানিয়েছেন। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, আখিরাতে অবিশ্বাসের ফলেই মানুষ এমন চরম নীতিহীন ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠে। তাঁর মনে পরকালীন শাস্তি বা জবাবদিহিতার কোনো ভয় নেই বলেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তাঁর ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ দেয়।
২৮৭.
তাকওয়া বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাকওয়া শব্দের অর্থ বিরত থাকা, আত্মরক্ষা করা, ভয় করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, পাপাচার ও আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে শরিয়ত মোতাবেক জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলে। তাকওয়া হলো মানুষের চরিত্রের সর্বোত্তম গুণ, যা মানুষকে সৎ ও খাঁটি মুমিন হতে সাহায্য করে।
২৮৮.
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
📖 ধনাঢ্য ব্যক্তি ফরহাদ সাহেব যাকাত দিতে চান না। তিনি... ধনাঢ্য ব্যক্তি ফরহাদ সাহেব যাকাত দিতে চান না। তিনি বলেন, "আমি কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেছি, সুতরাং আমার টাকা আমি কেন অন্যকে দেব? যাকাত দিলে আমার সম্পদ কমে যাবে।" তাঁর বন্ধু সালেহ সাহেব তাঁকে বললেন, "ফরহাদ ভাই, আপনার সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে। যাকাত দিলে সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায় ও পবিত্র হয়। আর যাকাত না দিলে পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।"
২৮৯.
সালেহ সাহেবের বক্তব্যের তাৎপর্য এবং ফরহাদ সাহেবের পরিণতির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সালেহ সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং শরিয়তের অকাট্য বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি যথার্থই বলেছেন যে, ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে এবং যাকাত দিলে সম্পদ অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয় ও আল্লাহর বরকতে বৃদ্ধি পায়। একই সাথে তিনি যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরকালীন শাস্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত। এটি অস্বীকার করা বা না দেওয়া সমাজ ও ধর্মের দৃষ্টিতে একটি বড় অপরাধ। ফরহাদ সাহেব যদি সালেহ সাহেবের এই কল্যাণকর ও তাত্ত্বিক নসিহত মেনে না নেন এবং যাকাত না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে তাঁর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রথমত, তিনি হাক্কুল ইবাদ এবং আল্লাহর ফরজ বিধান লঙ্ঘন করার কারণে পাপাচারী হিসেবে গণ্য হবেন। দ্বিতীয়ত, পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা স্বর্ণ-রৌপ্য বা ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় বা যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টির জন্য তিনি দায়ী থাকবেন এবং পরকালে কঠিন জাহান্নামের আজাব ভোগ করবেন। অতএব, ফরহাদ সাহেবের উচিত নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত তওবা করা এবং সম্পদের যাকাত আদায় করা।
২৯০.
ফরহাদ সাহেবের বক্তব্যের অসারতা উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফরহাদ সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও ইসলামি অর্থনৈতিক দর্শনের পরিপন্থী, তাই এটি সম্পূর্ণ অসার ও ভিত্তিহীন। ফরহাদ সাহেব মনে করেন যাকাত দিলে তাঁর সম্পদ কমে যাবে এবং তিনি নিজের পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ অন্যকে দিতে নারাজ। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ। মানুষের সম্পদে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার (হাক্কুল ইবাদ) রয়েছে, যা মহান আল্লাহ নিজেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যাকাত কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং ধনীদের সম্পদে গরিবদের পাওনা অধিকার। ফরহাদ সাহেবের এই ধারণা যে যাকাত দিলে সম্পদ কমে, তা ভুল; কারণ যাকাত দিলে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং আল্লাহর বরকতে সম্পদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। তাঁর এই মনোভাব মূলত কৃপণতা ও ধর্মীয় বিধানের প্রতি অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
২৯১.
নিসাব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলা হয়। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর সাড়ে সাত তোলা (ভরি) সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের উদ্বৃত্ত সম্পদ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবে তাকে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বলা হয় এবং তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ হয়।
২৯২.
যাকাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া।
📖 জনাব আশরাফ সাহেব মনে করেন, আখিরাত বলতে কিছু নেই, ম... জনাব আশরাফ সাহেব মনে করেন, আখিরাত বলতে কিছু নেই, মানুষের পার্থিব জীবনই সব। তাই তিনি তাঁর যাবতীয় কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নৈতিকতার তোয়াক্কা করেন না। অপরদিকে তাঁর ছোট ভাই জনাব আরিফ সাহেব বিশ্বাস করেন যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন অনন্ত। তিনি নিয়মিত সালাত আদায় করেন, মানুষের সাথে সৎ ব্যবহার করেন এবং অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন।
২৯৩.
"জনাব আরিফ সাহেবের মনোভাবই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ"— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও চিরন্তন সত্য। জনাব আরিফ সাহেবের মনোভাব ইসলামের মূল আকিদা 'আখিরাত' ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানবজীবনে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি। উদ্দীপকে দেখা যায়, আরিফ সাহেব বিশ্বাস করেন দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন অনন্ত। এই বিশ্বাসের কারণে তিনি নিয়মিত সালাত আদায় করেন, মানুষের সাথে সৎ ও সুন্দর ব্যবহার করেন এবং সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। ইসলামি জীবনদর্শনে আখিরাতের বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎ কর্মশীল বানায়। মানুষ যখন জানে যে তার প্রতিটি ছোট-বড় কাজের হিসাব আল্লাহর দরবারে দিতে হবে এবং তার ভিত্তিতে জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে, তখন সে সমাজে কোনো অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে না। আরিফ সাহেবের মতো মনোভাব সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে, যা ইহকালীন শান্তির মূল ভিত্তি। অন্যদিকে, এই সৎ কর্ম ও ইবাদতের ফলেই পরকালে আল্লাহর অনুগ্রহে জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করা সম্ভব। অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, জনাব আরিফ সাহেবের মনোভাবই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র উপায়।
২৯৪.
জনাব আশরাফ সাহেবের চিন্তাভাবনার নেতিবাচক প্রভাব উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব আশরাফ সাহেবের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে আখিরাত বা পরকালকে অস্বীকার করার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, যা তাঁর জীবনে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি মনে করেন পার্থিব জীবনই সব এবং এর পর আর কোনো জীবন নেই। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, আখিরাতকে অস্বীকার করার কারণে মানুষ স্বেচ্ছাচারী ও নীতিহীন হয়ে পড়ে। আশরাফ সাহেবও পরকালের জবাবদিহিতাকে বিশ্বাস না করায় তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মজীবনে নৈতিকতার তোয়াক্কা করছেন না। আল্লাহর ভয় এবং পরকালের শাস্তির চিন্তা না থাকলে মানুষ খুব সহজেই অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচারের দিকে ধাবিত হয়। আশরাফ সাহেবের এই চিন্তাভাবনা মূলত তাঁর নৈতিক স্খলন ঘটিয়েছে এবং তাঁকে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্তের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
২৯৫.
কিয়ামত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় মহাবিশ্ব ধ্বংসের পর মানুষের পুনরুত্থান এবং আল্লাহর আদালতে হাজির হওয়ার অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত সময়কে কিয়ামত বলে। মহান আল্লাহর আদেশে হযরত ইসরাফিল (আ.) যখন সিঙায় ফুঁ দেবেন, তখন এই সুন্দর পৃথিবী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর দ্বিতীয়বার ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথে সকল মানুষ জীবিত হয়ে আল্লাহর দরবারে বিচারের জন্য সমবেত হবে।
২৯৬.
মিজান শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মিজান শব্দের অর্থ পরিমাপক যন্ত্র বা তুলাদণ্ড।
📖 জুলফিকার সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসায় অধিক মু... জুলফিকার সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের আশায় পণ্যে ভেজাল মেশান এবং ওজনে কম দেন। তাঁর বন্ধু লোকমান সাহেব তাঁকে বললেন, "ভাই, দুনিয়ার এই অবৈধ লাভ পরকালে আপনার জন্য কঠিন শাস্তির কারণ হবে। আমাদের প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে।" জুলফিকার সাহেব তা হেসে উড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, "পরকাল বলতে কিছু নেই, মরলেই সব শেষ।"
২৯৭.
লোকমান সাহেবের বক্তব্যের তাৎপর্য এবং জুলফিকার সাহেবের পরিণতির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন কর।
উত্তর: লোকমান সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ইসলামের মূল আকিদা 'আখিরাত' ও জবাবদিহিতার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। লোকমান সাহেব জুলফিকার সাহেবকে সতর্ক করেছেন যে দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী অবৈধ লাভ পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের ভয়াবহ শাস্তির কারণ হবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দুনিয়া হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র। মানুষ দুনিয়াতে যা করবে, পরকালে তার ফল ভোগ করবে। জুলফিকার সাহেব লোকমান সাহেবের এই অকাট্য সত্যকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং পরকালকে অস্বীকার করেছেন। পরকালকে অস্বীকার করা স্পষ্ট কুফর। এই কুফরি আকিদা এবং দুনিয়ার অন্যায় কাজের কারণে জুলফিকার সাহেবের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরকালে তাকে আল্লাহর কঠিন আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং ওজনে কম দেওয়া ও প্রতারণার জন্য জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক আজাব ভোগ করতে হবে। অতএব, লোকমান সাহেবের বক্তব্য মেনে জুলফিকার সাহেবের এখনই তওবা করা উচিত।
২৯৮.
জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর.।
উত্তর: জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি হলো তাঁর অনৈতিকতা, সততার অভাব এবং ব্যবসায়িক অসততা (পণ্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়া)। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে চরম অপরাধ। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল ও বরকতময় করা হয়েছে, তবে তা হতে হবে সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। জুলফিকার সাহেব অধিক মুনাফার লোভে অন্যায়ভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন, যা মানুষের অধিকার বা হাক্কুল ইবাদ হরণ করার শামিল। তাঁর এই আচরণ তাঁর নৈতিক স্খলন ও পাপাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
২৯৯.
তাওহিদ মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য সমস্ত শক্তির দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়। মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে সমস্ত বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা একমাত্র আল্লাহ, তখন সে অন্য কোনো সৃষ্টি, বস্তু বা মানুষের সামনে মাথা নত করে না। এটি মানুষকে হীনম্মন্যতা থেকে দূরে রাখে এবং তার আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধি করে।
৩০০.
রিসালাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি, সংবাদ পৌঁছানো বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা।
📖 সাকিব ও রাফি দুই বন্ধু। সাকিব অত্যন্ত সৎ ও নীতিবান... সাকিব ও রাফি দুই বন্ধু। সাকিব অত্যন্ত সৎ ও নীতিবান। সে মনে করে দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, বরং মৃত্যুর পর এক অনন্ত জীবন রয়েছে এবং সেখানে মানুষের ভালো-মন্দ কাজের জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে রাফি দুনিয়ার ভোগ-বিলাসকেই সব মনে করে। সে বলে, "পরকাল বলতে কিছু নেই। মানুষ মারা গেলে পচে-গলে মাটির সাথে মিশে যায়, ব্যাস! সব শেষ। তাই পরকালের চিন্তা না করে দুনিয়াটা মনের মতো উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।"
৩০১.
"রাফির দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। রাফির দৃষ্টিভঙ্গি হলো পরকালহীন বস্তুবাদ ও নাস্তিক্যবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার বিশ্বাসই হলো মানুষের চরিত্র রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। রাফি পরকালকে অস্বীকার করে মনে করে মরলেই সব শেষ, তাই সে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়েছে। যখন একজন মানুষের মনে আল্লাহর ভয় এবং মৃত্যুর পর পরকালে জবাবদিহি করার কোনো অনুভূতি থাকে না, তখন সে যেকোনো অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করে না। সমাজ জীবনে এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে স্বার্থপর, লোভী ও স্বেচ্ছাচারী করে তোলে। ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি, শোষণ ও বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। মানুষ যখন কেবল নিজের ক্ষণস্থায়ী বস্তুগত সুখের কথা ভাবে, তখন সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কোনো ভিত্তি থাকে না। অতএব, বলা যায় যে পরকালকে অস্বীকারকারী রাফির এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে।
৩০২.
সাকিবের চিন্তাভাবনার মধ্যে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাকিবের চিন্তাভাবনার মধ্যে ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে। সাকিব মনে করে দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর এক অনন্ত জীবন রয়েছে এবং সেখানে সব কাজের জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী, মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায় না, বরং এক নতুন ও চিরস্থায়ী জীবনের শুরু হয়, যাকে আখিরাত বলে। আখিরাতের কয়েকটি স্তর রয়েছে, যেমন— কবর, কিয়ামত, হাশর, মিজান, জান্নাত ও জাহান্নাম। সাকিব এই সত্য উপলব্ধি করেছে যে, দুনিয়ার জীবন হলো পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং এখানে সৎভাবে জীবনযাপন করলে আখিরাতে মুক্তি পাওয়া যাবে। তার এই জবাবদিহিতার মানসিকতা তাকে একজন আদর্শ ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
৩০৩.
শাফাআতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য শাফাআতের গুরুত্ব অপরিসীম। হাশরের ময়দানে যখন মানুষ চরম বিপদে পড়বে, তখন মহান আল্লাহর অনুমতি নিয়ে নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ পাপীদের ক্ষমা এবং পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ বা শাফাআত করবেন। শাফাআতের মাধ্যমেই অনেক গুনাহগার বান্দা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
৩০৪.
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
📖 সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন... সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন্দর পৃথিবীর সবকিছুই এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি কাজ করছে। অন্যদিকে সাফাত মনে করে, সবকিছু প্রকৃতির নিয়মে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংস হচ্ছে। এর কোনো একক নিয়ন্ত্রক নেই। তাই সে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করে।
৩০৫.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৩০৬.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, ग्रह, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৩০৭.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৩০৮.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
📖 সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন... সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন্দর পৃথিবীর সবকিছুই এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি কাজ করছে। অন্যদিকে সাফাত মনে করে, সবকিছু প্রকৃতির নিয়মে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংস হচ্ছে। এর কোনো একক নিয়ন্ত্রক নেই। তাই সে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করে।
৩০৯.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৩১০.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, ग्रह, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৩১১.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৩১২.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
📖 শফিক সাহেব তাঁর এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তি... শফিক সাহেব তাঁর এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি প্রায়ই বলেন, "নবি-রাসুলদের কথা প্রাচীনকালের জন্য প্রযোজ্য ছিল। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে তাঁদের দেখানো শরিয়তের নিয়ম-কানুন ও হালাল-হারামের বাধানিষেধ মেনে চলা প্রগতির পরিপন্থী এবং অনুন্নত মানসিকতার পরিচয়। আমাদের স্বাধীনভাবে নিজেদের ইচ্ছামতো জীবন পরিচালনা করা উচিত।"
৩১৩.
শফিক সাহেবের মনোভাবের অসারতা প্রমাণপূর্বক ইসলামি জীবনদর্শনে শরিয়তের অপরিহার্যতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের মনোভাব সম্পূর্ণ অসার, যুক্তিহীন এবং গোমরাহিতে পরিপূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে আল্লাহর শরিয়ত ও নবি-রাসুলদের দেখানো পথকে প্রগতির পরিপন্থী বলা এক ধরনের চরম অজ্ঞতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের বাহ্যিক জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তরের পরিশুদ্ধি, নৈতিক চরিত্র গঠন ও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না। নবি-রাসুলগণ মানবজাতির জন্য যে হালাল-হারামের বাধানিষেধ ও শরিয়তের কাঠামো নিয়ে এসেছেন, তা যুগে যুগে মানুষের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুশৃঙ্খল এবং শান্তিময় করার একমাত্র মাধ্যম। শরিয়ত ছাড়া সমাজ হয়ে ওঠে লাগামহীন ও পাশবিক, যেখানে জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। শরিয়তের হালাল-হারামের বিধান মানুষের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, শফিক সাহেবের স্বাধীনভাবে খেয়ালখুশিমতো চলার মনোভাব মানব সমাজে অশান্তি ও নৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইসলামি জীবনদর্শনে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য শরিয়তের অনুসরণ অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য।
৩১৪.
শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম প্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'রিসালাত' এবং 'শরিয়ত'-এর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নবি-রাসুলদের আদর্শ ও শরিয়তের বিধানকে আধুনিক যুগের প্রগতির পরিপন্থী মনে করেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী。 ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবি-রাসুলগণ আল্লাহর মনোনীত বান্দা, যাঁরা মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁদের আনীত শরিয়ত ও আদর্শ কোনো নির্দিষ্ট কালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বজনীন ও সর্বকালীন। শফিক সাহেবের এই দৃষ্টিভঙ্গি মূলত ঐশ্বরিক বিধান ও নবিদের চিরন্তন দায়িত্বকে অস্বীকার ও অবমাননা করার শামিল।
৩১৫.
আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির সঠিক হেদায়েত, নৈতিক ও আত্মিক কল্যাণ এবং জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ বিধান প্রদানের উদ্দেশ্যে আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর পরিচয়, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম এবং পরকালীন জীবনের পুরস্কার ও শাস্তির কথা জানতে পারে। এক কথায়, মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্যই আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে।
৩১৬.
খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ নবিগণের সমাপ্তি বা সর্বশেষ নবি।
📖 শফিক সাহেব তাঁর এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তি... শফিক সাহেব তাঁর এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি প্রায়ই বলেন, "নবি-রাসুলদের কথা প্রাচীনকালের জন্য প্রযোজ্য ছিল। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে তাঁদের দেখানো শরিয়তের নিয়ম-কানুন ও হালাল-হারামের বাধানিষেধ মেনে চলা প্রগতির পরিপন্থী এবং অনুন্নত মানসিকতার পরিচয়। আমাদের স্বাধীনভাবে নিজেদের ইচ্ছামতো জীবন পরিচালনা করা উচিত।"
৩১৭.
শফিক সাহেবের মনোভাবের অসারতা প্রমাণপূর্বক ইসলামি জীবনদর্শনে শরিয়তের অপরিহার্যতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের মনোভাব সম্পূর্ণ অসার, যুক্তিহীন এবং গোমরাহিতে পরিপূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে আল্লাহর শরিয়ত ও নবি-রাসুলদের দেখানো পথকে প্রগতির পরিপন্থী বলা এক ধরনের চরম অজ্ঞতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের বাহ্যিক জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তরের পরিশুদ্ধি, নৈতিক চরিত্র গঠন ও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না। নবি-রাসুলগণ মানবজাতির জন্য যে হালাল-হারামের বাধানিষেধ ও শরিয়তের কাঠামো নিয়ে এসেছেন, তা যুগে যুগে মানুষের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুশৃঙ্খল এবং শান্তিময় করার একমাত্র মাধ্যম। শরিয়ত ছাড়া সমাজ হয়ে ওঠে লাগামহীন ও পাশবিক, যেখানে জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। শরিয়তের হালাল-হারামের বিধান মানুষের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, শফিক সাহেবের স্বাধীনভাবে খেয়ালখুশিমতো চলার মনোভাব মানব সমাজে অশান্তি ও নৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইসলামি জীবনদর্শনে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য শরিয়তের অনুসরণ অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য।
৩১৮.
শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম প্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'রিসালাত' এবং 'শরিয়ত'-এর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নবি-রাসুলদের আদর্শ ও শরিয়তের বিধানকে আধুনিক যুগের প্রগতির পরিপন্থী মনে করেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবি-রাসুলগণ আল্লাহর মনোনীত বান্দা, যাঁরা মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁদের আনীত শরিয়ত ও আদর্শ কোনো নির্দিষ্ট কালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বজনীন ও সর্বকালীন। শফিক সাহেবের এই দৃষ্টিভঙ্গি মূলত ঐশ্বরিক বিধান ও নবিদের চিরন্তন দায়িত্বকে অস্বীকার ও অবমাননা করার শামিল।
৩১৯.
আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির সঠিক হেদায়েত, নৈতিক ও আত্মিক কল্যাণ এবং জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ বিধান প্রদানের উদ্দেশ্যে আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর পরিচয়, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম এবং পরকালীন জীবনের পুরস্কার ও শাস্তির কথা জানতে পারে। এক কথায়, মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্যই আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে।
৩২০.
খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ নবিগণের সমাপ্তি বা সর্বশেষ নবি।
📖 সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন... সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন্দর পৃথিবীর সবকিছুই এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি কাজ করছে। অন্যদিকে সাফাত মনে করে, সবকিছু প্রকৃতির নিয়মে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংস হচ্ছে। এর কোনো একক নিয়ন্ত্রক নেই। তাই সে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করে।
৩২১.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৩২২.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৩২৩.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৩২৪.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
📖 সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন... সাফওয়ান ও সাফাত দুই ভাই। সাফওয়ান মনে করে, এই সুন্দর পৃথিবীর সবকিছুই এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি কাজ করছে। অন্যদিকে সাফাত মনে করে, সবকিছু প্রকৃতির নিয়মে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংস হচ্ছে। এর কোনো একক নিয়ন্ত্রক নেই। তাই সে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করে।
৩২৫.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৩২৬.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৩২৭.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৩২৮.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
📖 জুলফিকার সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসায় অধিক মু... জুলফিকার সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের আশায় পণ্যে ভেজাল মেশান এবং ওজনে কম দেন। তাঁর বন্ধু লোকমান সাহেব তাঁকে বললেন, "ভাই, দুনিয়ার এই অবৈধ লাভ পরকালে আপনার জন্য কঠিন শাস্তির কারণ হবে। আমাদের প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে।" জুলফিকার সাহেব তা হেসে উড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, "পরকাল বলতে কিছু নেই, মরলেই সব শেষ।"
৩২৯.
লোকমান সাহেবের বক্তব্যের তাৎপর্য এবং জুলফিকার সাহেবের পরিণতির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন কর।
উত্তর: লোকমান সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ইসলামের মূল আকিদা 'আখিরাত' ও জবাবদিহিতার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। লোকমান সাহেব জুলফিকার সাহেবকে সতর্ক করেছেন যে দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী অবৈধ লাভ পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের ভয়াবহ শাস্তির কারণ হবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দুনিয়া হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র। মানুষ দুনিয়াতে যা করবে, পরকালে তার ফল ভোগ করবে। জুলফিকার সাহেব লোকমান সাহেবের এই অকাট্য সত্যকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং পরকালকে অস্বীকার করেছেন। পরকালকে অস্বীকার করা স্পষ্ট কুফর। এই কুফরি আকিদা এবং দুনিয়ার অন্যায় কাজের কারণে জুলফিকার সাহেবের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরকালে তাকে আল্লাহর কঠিন আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং ওজনে কম দেওয়া ও প্রতারণার জন্য জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক আজাব ভোগ করতে হবে। অতএব, লোকমান সাহেবের বক্তব্য মেনে জুলফিকার সাহেবের এখনই তওবা করা উচিত।
৩৩০.
জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি হলো তাঁর অনৈতিকতা, সততার অভাব এবং ব্যবসায়িক অসততা (পণ্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়া)। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে চরম অপরাধ। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল ও বরকতময় করা হয়েছে, তবে তা হতে হবে সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। জুলফিকার সাহেব অধিক মুনাফার লোভে অন্যায়ভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন, যা মানুষের অধিকার বা হাক্কুল ইবাদ হরণ করার শামিল। তাঁর এই আচরণ তাঁর নৈতিক স্খলন ও পাপাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
৩৩১.
তাওহিদ মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য সমস্ত শক্তির দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়। মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে সমস্ত বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা একমাত্র আল্লাহ, তখন সে অন্য কোনো সৃষ্টি, বস্তু বা মানুষের সামনে মাথা নত করে না। এটি মানুষকে হীনম্মন্যতা থেকে দূরে রাখে এবং তার আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধি করে।
৩৩২.
রিসালাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি, সংবাদ পৌঁছানো বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা।
📖 রিপন ও তার বন্ধুরা মিলে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়... রিপন ও তার বন্ধুরা মিলে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছে। তারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবা করে এবং বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে। কিন্তু রিপন প্রায়ই বলে, "আমরা মানুষের উপকার করছি আমাদের নিজেদের আত্মতৃপ্তির জন্য, এর জন্য পরকালে কোনো হিসাব দিতে হবে না বা কোনো পুরস্কার পাওয়া যাবে না। জীবন তো একটাই, যা করার এই পৃথিবীতেই করে যেতে হবে।"
৩৩৩.
রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে চরম নৈতিক বিপর্যয় এবং স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করতে পারে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি সাময়িকভাবে কিছু ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে সমাজ জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার বিশ্বাসই হলো মানুষের চরিত্র রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার কাজের কোনো পরকালীন বিচার বা পুরস্কার নেই, তখন সে কেবল সাময়িক আবেগ বা লোকদেখানো আত্মতৃপ্তির জন্য কাজ করে। এই ধরনের বিশ্বাস মানুষকে যেকোনো মুহূর্তে স্বার্থপর ও পাপাচারী করে তুলতে পারে, কারণ তার মনে কোনো স্থায়ী ঐশ্বরিক ভয় বা জবাবদিহিতা থাকে না। সমাজ থেকে আল্লাহর ভয় উঠে গেলে মানুষ অনায়াসেই দুর্নীতি, অবিচার ও অপরাধে লিপ্ত হতে পারে। অতএব, রিপনের এই পরকালহীন দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক ভিত দুর্বল করে সমাজকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।
৩৩৪.
রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের অস্বীকৃতি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের সরাসরি অস্বীকৃতি ঘটেছে। রিপন ভালো কাজ করলেও সে মনে করে পরকালে কোনো হিসাব দিতে হবে না এবং মৃত্যুর পরেই সব শেষ, যা কুফর ও পরকালহীন বস্তুবাদের নামান্তর। ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী, আখিরাত হলো মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবন। এই জীবনে দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। রিপনের এই বিশ্বাসের অভাব তার মহৎ কাজকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যহীন করে তোলে, কারণ ইমান ও আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কোনো সৎকাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩৩৫.
নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা জরুরি কেন?
উত্তর: নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। নবি-রাসুলগণ হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্যের দিশারী। তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তাআলার পরিচয়, সঠিক পথ এবং জীবন পরিচালনার বিধান জানতে পেরেছে। তাই নবুয়ত ও রিসালাতে বিশ্বাস না করলে ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয় না।
৩৩৬.
আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আসমাউল হুসনা বলতে মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহকে বোঝায়।
📖 রিপন ও তার বন্ধুরা মিলে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়... রিপন ও তার বন্ধুরা মিলে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছে। তারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবা করে এবং বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে। কিন্তু রিপন প্রায়ই বলে, "আমরা মানুষের উপকার করছি আমাদের নিজেদের আত্মতৃপ্তির জন্য, এর জন্য পরকালে কোনো হিসাব দিতে হবে না বা কোনো পুরস্কার পাওয়া যাবে না। জীবন তো একটাই, যা করার এই পৃথিবীতেই করে যেতে হবে।"
৩৩৭.
ঘ. রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে চরম নৈতিক বিপর্যয় এবং স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করতে পারে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি সাময়িকভাবে কিছু ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে সমাজ জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার বিশ্বাসই হলো মানুষের চরিত্র রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার কাজের কোনো পরকালীন বিচার বা পুরস্কার নেই, তখন সে কেবল সাময়িক আবেগ বা লোকদেখানো আত্মতৃপ্তির জন্য কাজ করে। এই ধরনের বিশ্বাস মানুষকে যেকোনো মুহূর্তে স্বার্থপর ও পাপাচারী করে তুলতে পারে, কারণ তার মনে কোনো স্থায়ী ঐশ্বরিক ভয় বা জবাবদিহিতা থাকে না। সমাজ থেকে আল্লাহর ভয় উঠে গেলে মানুষ অনায়াসেই দুর্নীতি, অবিচার ও অপরাধে লিপ্ত হতে পারে। অতএব, রিপনের এই পরকালহীন দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক ভিত দুর্বল করে সমাজকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।
৩৩৮.
রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের অস্বীকৃতি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের সরাসরি অস্বীকৃতি ঘটেছে। রিপন ভালো কাজ করলেও সে মনে করে পরকালে কোনো হিসাব দিতে হবে না এবং মৃত্যুর পরেই সব শেষ, যা কুফর ও পরকালহীন বস্তুবাদের নামান্তর। ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী, আখিরাত হলো মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবন। এই জীবনে দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। রিপনের এই বিশ্বাসের অভাব তার মহৎ কাজকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যহীন করে তোলে, কারণ ইমান ও আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কোনো সৎকাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩৩৯.
নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা জরুরি কেন?
উত্তর: নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। নবি-রাসুলগণ হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্যের দিশারী। তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তাআলার পরিচয়, সঠিক পথ এবং জীবন পরিচালনার বিধান জানতে পেরেছে। তাই নবুয়ত ও রিসালাতে বিশ্বাস না করলে ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয় না।
৩৪০.
আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আসমাউল হুসনা বলতে মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহকে বোঝায়।
📖 আরিফ সাহেব মনে করেন, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা... আরিফ সাহেব মনে করেন, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা হলেও বিশ্বজগৎ পরিচালনার দায়িত্ব তিনি দেব-দেবী ও প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাই তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির উপাসনা করেন। অন্যদিকে তাঁর বন্ধু জামিল সাহেব বিশ্বাস করেন, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মহান আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো শক্তির কোনো ক্ষমতা নেই এবং সব কাজের জন্য আল্লাহর কাছে जवाबदिही করতে হবে।
৩৪১.
"জামিল সাহেবের বিশ্বাসই মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরি করে"— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। জামিল সাহেবের বিশ্বাস হলো তাওহিদ এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার প্রতি অবিচল আস্থা, যা মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরির মূল চালিকাশক্তি। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং মৃত্যুর পর তাকে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর দরবারে जवाबदिही করতে হবে, তখন সে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়। এই জবাবদিহিতার ভয় মানুষকে গোপনে বা প্রকাশ্যে অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। জামিল সাহেবের এই বিশ্বাসই মানুষকে নীতিবান, সৎকর্মশীল এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
৩৪২.
আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থী বিষয় প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের মূল ভিত্তি 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মনে করেন আল্লাহ সৃষ্টির পর বিশ্বজগৎ পরিচালনার দায়িত্ব দেব-দেবী ও প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ বিরোধী। ইসলামি পরিভাষা অনুযায়ী, আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অংশীদার বা শরিক সাব্যস্ত করাই হলো শিরক। আরিফ সাহেব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আল্লাহর পরিবর্তে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির উপাসনা করেন, যা চরম শিরক এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল।
৩৪৩.
কুফরের কুফল ও পরিণতি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কুফর মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় এবং পাপাচার ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। পরকালে কাফিরের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক চিরস্থায়ী শাস্তি এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি।
৩৪৪.
তাওহিদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে স্বীকার করা।
📖 আরিফ সাহেব মনে করেন, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা... আরিফ সাহেব মনে করেন, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা হলেও বিশ্বজগৎ পরিচালনার দায়িত্ব তিনি দেব-দেবী ও প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তাই তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির উপাসনা করেন। অন্যদিকে তাঁর বন্ধু জামিল সাহেব বিশ্বাস করেন, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মহান আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো শক্তির কোনো ক্ষমতা নেই এবং সব কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
৩৪৫.
"জামিল সাহেবের বিশ্বাসই মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরি করে"— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। জামিল সাহেবের বিশ্বাস হলো তাওহিদ এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার প্রতি অবিচল আস্থা, যা মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরির মূল চালিকাশক্তি। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং মৃত্যুর পর তাকে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে, তখন সে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়। এই জবাবদিহিতার ভয় মানুষকে গোপনে বা প্রকাশ্যে অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। জামিল সাহেবের এই বিশ্বাসই মানুষকে নীতিবান, সৎকর্মশীল এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
৩৪৬.
আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থী বিষয় প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের মূল ভিত্তি 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মনে করেন আল্লাহ সৃষ্টির পর বিশ্বজগৎ পরিচালনার দায়িত্ব দেব-দেবী ও প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ বিরোধী। ইসলামি পরিভাষা অনুযায়ী, আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অংশীদার বা শরিক সাব্যস্ত করাই হলো শিরক। আরিফ সাহেব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আল্লাহর পরিবর্তে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির উপাসনা করেন, যা চরম শিরক এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল।
৩৪৭.
কুফরের কুফল ও পরিণতি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কুফর মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় এবং পাপাচার ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। পরকালে কাফিরের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক চিরস্থায়ী শাস্তি এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি।
৩৪৮.
তাওহিদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে স্বীকার করা।
📖 জনাব 'ক' ও জনাব 'খ' দুই বন্ধু। জনাব 'ক' মনে করেন য... জনাব 'ক' ও জনাব 'খ' দুই বন্ধু। জনাব 'ক' মনে করেন যে, দুনিয়াতে সব কাজ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সম্পন্ন হয়, তাই মানুষের কোনো কিছু করার নেই। মানুষ নিষ্ক্রিয় পুতুলের মতো। অন্যদিকে জনাব 'খ' মনে করেন যে, মানুষের কোনো কাজের পেছনে আল্লাহর ইচ্ছার প্রয়োজন নেই, মানুষ নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করে এবং নিজের সব কাজের একক ক্ষমতা তার নিজের।
৩৪৯.
জনাব 'খ'-এর বক্তব্যের সাথে ইসলামের আকিদার তুলনাপূর্বক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব 'খ'-এর বক্তব্যও ইসলামের সঠিক আকিদার পরিপন্থী এবং এটি চরমপন্থী কাদারিয়া মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জনাব 'খ' মনে করেন মানুষের কাজের পেছনে আল্লাহর কোনো ইচ্ছার প্রয়োজন নেই এবং মানুষই তার সব কাজের একক ক্ষমতার অধিকারী, যা আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল। ইসলামের সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো 'তাকদির' ও 'স্বাধীন ইচ্ছা'-এর মধ্যবর্তী পথ। মহাবিশ্বের সবকিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা ও পরিমাপ আল্লাহর হাতে এবং তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই ঘটে না। তবে আল্লাহ মানুষকে কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ কর্মের ইচ্ছা পোষণ করে এবং আল্লাহ তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেন। অতএব, জনাব 'খ'-এর মতো আল্লাহর ইচ্ছাকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিজেকে সব ক্ষমতার উৎস মনে করা ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মস্ত বড় ভুল। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো মানুষের প্রচেষ্টা ও আল্লাহর ইচ্ছার মেলবন্ধন।
৩৫০.
জনাব 'ক'-এর বিশ্বাসের সাথে ইসলামের আকিদার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
উত্তর: জনাব 'ক'-এর বিশ্বাস ইসলামি আকিদার 'তাকদির' সংক্রান্ত সঠিক ধারণার সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। জনাব 'ক' মনে করেন দুনিয়ার সব কাজ কেবল আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে এবং মানুষের এখানে কোনো স্বাধীনতা বা দায়িত্ব নেই, যা জাবরিয়া মতবাদের অনুরূপ। ইসলামের সঠিক আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালো ও মন্দ কাজের পথ বেছে নেওয়ার জন্য সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা ও বুদ্ধি দিয়েছেন। মানুষ একদম নিষ্ক্রিয় পুতুল নয়। আল্লাহ মানুষের কাজের স্রষ্টা হলেও, মানুষ নিজের ইচ্ছায় কাজ করার চেষ্টা করে এবং সেই চেষ্টার ভিত্তিতেই পরকালে তার বিচার হবে। তাই মানুষের দায়িত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করা ইসলামি আকিদা বহির্ভূত।
৩৫১.
রিসালাতে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য রিসালাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। নবি-রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বাণী নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করা এবং তাদের দেখানো পথে চলা মানুষের কর্তব্য। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে আল্লাহর তাওহিদ, বিধান এবং পরকাল সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করা যায় না। তাই মুমিন হওয়ার জন্য রিসালাতে বিশ্বাস একান্ত প্রয়োজন।
৩৫২.
তাকদির শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাকদির শব্দের অর্থ ভাগ্য, নিয়তি বা পরিমাপ।
📖 সাজিদ ও রাফি দুই ভাই। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে স... সাজিদ ও রাফি দুই ভাই। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তাই সে দুনিয়ার জীবনকে উপভোগ করার জন্য যা ইচ্ছা তাই করে। অন্যদিকে রাফি বিশ্বাস করে মানুষের মৃত্যুর পর আরেকটি জীবন আছে। যেখানে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও মন্দ কাজের জন্য শাস্তি পেতে হবে। তাই রাফি সর্বদা সৎ পথে চলে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে।
৩৫৩.
"রাফির বিশ্বাসই সৎকর্মশীল হতে ও নৈতিক জীবন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে"— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রাফির বিশ্বাসটি হলো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ 'আখিরাত' বা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীল হতে এবং নৈতিক জীবন গঠনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দুনিয়ার জীবন হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র (দুনিয়া মাজরাআতুল আখিরাহ)। এখানে সে যা বপন করবে, পরকালে ঠিক তারই ফসল তুলবে। ভালো কাজের জন্য রয়েছে চিরসুখের জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য রয়েছে ভয়াবহ জাহান্নাম। উদ্দীপকের রাফি এই পরকালীন পুরস্কার ও শাস্তির কথা গভীরভাবে বিশ্বাস করে বলেই সে সর্বদা সৎ পথে চলে এবং সব ধরনের অন্যায় ও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) জাগ্রত করে এবং গোপনে বা প্রকাশ্য কোনো অবস্থাতেই অন্যায় করতে দেয় না। অতএব, বলা যায় যে রাফির মতো আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই হচ্ছে মানব জীবনে সৎকর্মশীলতা অর্জন ও সুশৃঙ্খল নৈতিক চরিত্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি।
৩৫৪.
সাজিদের কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়ের অভাব প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাজিদের কর্মকাণ্ডে 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের চরম অভাব প্রকাশ পেয়েছে। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবনের অবসান ঘটে, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের চিরস্থায়ী পরকালীন জীবন শুরু হয়। সাজিদের এই বিশ্বাসের অভাবের কারণেই সে দুনিয়ার জীবনকে কেবল উপভোগের বস্তু মনে করে যা ইচ্ছা তাই করছে। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকার ফলে তার মধ্যে কোনো জবাবদিহিতা বা পাপের ভয় কাজ করছে না। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, পরকালের জবাবদিহিতার ভয় না থাকলে মানুষ চরম স্বেচ্ছাচারী, অনৈতিক ও পাপাচারী হয়ে ওঠে, সাজিদের কর্মকাণ্ডে ঠিক এই নৈতিক স্খলনের বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
৩৫৫.
তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্ববাদ আর রিসালাত হলো আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব। নবি-রাসুলগণ তাওহিদের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন। সুতরাং রিসালাতে বিশ্বাস না করলে তাওহিদের সত্যতা উপলব্ধি করা যায় না। তাই এ দুটি বিষয়ের প্রতি সমানভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক।
৩৫৬.
ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ কী?
উত্তর: ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ হলো বিস্তারিত বিশ্বাস।
📖 সাজিদ ও রাফি দুই ভাই। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে স... সাজিদ ও রাফি দুই ভাই। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তাই সে দুনিয়ার জীবনকে উপভোগ করার জন্য যা ইচ্ছা তাই করে। অন্যদিকে রাফি বিশ্বাস করে মানুষের মৃত্যুর পর আরেকটি জীবন আছে। যেখানে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও মন্দ কাজের জন্য শাস্তি পেতে হবে। তাই রাফি সর্বদা সৎ পথে চলে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে।
৩৫৭.
"রাফির বিশ্বাসই সৎকর্মশীল হতে ও নৈতিক জীবন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে"— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রাফির বিশ্বাসটি হলো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ 'আখিরাত' বা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীল হতে এবং নৈতিক জীবন গঠনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দুনিয়ার জীবন হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র (দুনিয়া মাজরাআতুল আখিরাহ)। এখানে সে যা বপন করবে, পরকালে ঠিক তারই ফসল তুলবে। ভালো কাজের জন্য রয়েছে চিরসুখের জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য রয়েছে ভয়াবহ জাহান্নাম। উদ্দীপকের রাফি এই পরকালীন পুরস্কার ও শাস্তির কথা গভীরভাবে বিশ্বাস করে বলেই সে সর্বদা সৎ পথে চলে এবং সব ধরনের অন্যায় ও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) জাগ্রত করে এবং গোপনে বা প্রকাশ্য কোনো অবস্থাতেই অন্যায় করতে দেয় না। অন্যদিকে সাজিদের মতো যারা আখিরাতকে অস্বীকার করে, তারা দুনিয়ার মোহে অন্ধ হয়ে নৈতিকতা বিসর্জন দেয়। অতএব, বলা যায় যে রাফির মতো আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই হচ্ছে মানব জীবনে সৎকর্মশীলতা অর্জন ও সুশৃঙ্খল নৈতিক চরিত্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি।
৩৫৮.
সাজিদের চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়ের অভাব প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাজিদের চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ডে মূলত 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের চরম অভাব প্রকাশ পেয়েছে। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবনের অবসান ঘটে, যা ইসলামের মৌলিক আকিদা ও পরকালীন বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের চিরস্থায়ী পরকালীন জীবন শুরু হয়। সাজিদের এই বিশ্বাসের অভাবের কারণেই সে দুনিয়ার জীবনকে কেবল উপভোগের বস্তু মনে করে যা ইচ্ছা তাই করছে। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকার ফলে তার মধ্যে কোনো জবাবদিহিতা বা পাপের ভয় কাজ করছে না। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, পরকালের জবাবদিহিতার ভয় না থাকলে মানুষ চরম স্বেচ্ছাচারী, অনৈতিক ও পাপাচারী হয়ে ওঠে, সাজিদের কর্মকাণ্ডে ঠিক এই নৈতিক স্খলনের বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
৩৫৯.
তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্ববাদ, আর রিসালাত হলো আল্লাহর বাণী ও বিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব। নবি-রাসুলগণ হলেন তাওহিদের বার্তা বাহক। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে তাওহিদের প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা অসম্ভব। তাই ইসলামে ঈমানের ক্ষেত্রে এ দুটি বিষয়ের প্রতি সমানভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক।
৩৬০.
ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ কী?
উত্তর: ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ হলো বিস্তারিত বিশ্বাস। অর্থাৎ ঈমানের মৌলিক সাতটি বিষয়কে বিস্তারিতভাবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করা।
📖 বাবুল মিয়া ইসলামের বিধিবিধান পালন করে না। সে মনে... বাবুল মিয়া ইসলামের বিধিবিধান পালন করে না। সে মনে করে, এসব অর্থহীন, এগুলোর মোটেই প্রয়োজন নেই। এমনকি সম্প্রতি সে গলায় একটি চেইন বেঁধে বিধর্মীদের ক্রুশচিহ্ন ব্যবহার করে। অন্যদিকে মকবুল জোরপূর্বক ক্ষমতার বলে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে থাকে। এলাকার মুরব্বি নাসিম মিয়া বলেন, "একদিন এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। সকলকে আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে দুনিয়ার সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে।"
৩৬১.
নাসিম মিয়ার বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করে মকবুল মিয়ার কাজের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: নাসিম মিয়ার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং তা আখিরাত ও কিয়ামতের অকাট্য সত্যকে নির্দেশ করে। মকবুল মিয়া ক্ষমতার দাপটে যে অনৈতিক কাজগুলো করছে, পরকালে তাকে এর জন্য কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। নাসিম মিয়ার সতর্কবাণী অনুযায়ী, এই পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে এবং প্রতিটি মানুষকে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে তার সমস্ত অন্যায় ও জুলুমের হিসাব দিতে হবে। মকবুল মিয়ার অনৈতিক কাজের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ আল্লাহ তায়ালা জালিমদের শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
৩৬২.
বাবুল মিয়ার কার্যকলাপে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।
উত্তর: বাবুল মিয়ার কার্যকলাপে কুফর প্রকাশ পেয়েছে। কুফর (الكُفْرُ) শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার মনোনিত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করাকে কুফর বলা হয়। কুফর হলো ইমানের বিপরীত। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলির প্রতি বিশ্বাসের নাম ইমান। আর এসব বিষয়ে অবিশ্বাস করা হলো কুফর। প্রদত্ত উদ্দীপকের বাবুল মিয়া ইসলামের বিধিবিধান পালন করে না, এগুলোকে সে নিরর্থক মনে করে। তাছাড়া সে গলায় বিধর্মীদের ক্রুশচিহ্ন ব্যবহার করে, যা কুফরের নামান্তর। কেননা মহান...
৩৬৩.
"এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই"— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আল-কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সন্দেহমুক্ত কিতাব। দুনিয়ার কোনো গ্রন্থই নির্ভুল বা অকাট্য নয়। কিন্তু কুরআন নির্ভুল এবং এটি সন্দেহেরও বাইরে। সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে এমন কোনো বিষয়ই এতে নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এটি (কুরআন) সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" (সূরা আল-বাকারা : ২)
৩৬৪.
কবর কী?
উত্তর: মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়ে মানুষ যেখানে অবস্থান করে তা-ই কবর।
📖 ফরিদ ও সেলিম দুই বন্ধু। তারা উভয়ে একটি দর্শনীয় স... ফরিদ ও সেলিম দুই বন্ধু। তারা উভয়ে একটি দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গেল। ফরিদ সেখানে মাটির তৈরি মূর্তি ও পাথরের কারুকার্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিজদাহ্ করার মতো মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করে। এরপর উভয়ে ক্যাফেতে নাস্তা করার এক পর্যায়ে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সেলিম মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, নবি-রাসুলগণের আগমনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকাই যুক্তিসঙ্গত।
৩৬৫.
নবি-রাসুলগণের আগমন বিষয়ে সেলিমের বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর: নবি-রাসুলগণের আগমনের ব্যাপারে সেলিমের বক্তব্য যথার্থ নয়। বরং তা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পরিপন্থী। সেলিম মন্তব্য করে, নবি-রাসুলগণের আগমনের ধারা অব্যাহত থাকাই যুক্তিসঙ্গত। সেলিমের এ মন্তব্য তার নিজস্ব খেয়ালখুশিমতো। তার এ বক্তব্যের সাথে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা মতে, নবুয়তের ধারা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যুগে যুগে মানুষের নিকট মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেছেন। রাসুল (স.)-এর মাধ্যমে রিসালাতের এ ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। নবুয়তের এ ধারা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে খতমে নবুয়ত বলে। খতমে নবুয়তে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম অঙ্গ। খতমে নবুয়তে অবিশ্বাসী ইমানদার হতে পারে না। যেমনটি আমরা দেখতে পাই উদ্দীপকের সেলিমের মনোভাব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "মুহাম্মদ (স.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি।" (সূরা আল-আহযাব : ৪০) আমাদের প্রিয়নবি (স.) হলেন খাতামুন নাবিয়্যিন। তিনি সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি নেই। কিয়ামত পর্যন্ত আসবেনও না। তাঁর পরবর্তীতে যারা নবুয়ত দাবি করেছে তারা সবাই ভন্ড, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেননা মহানবি (স.) বলেছেন, "আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।" (সহিহ মুসলিম) উপরিউক্ত আলোচনায় এটাই প্রমাণিত হয়, সেলিমের মন্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত।
৩৬৬.
ফরিদের আচরণে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফরিদের আচরণে শিরক প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে মাটির তৈরি মূর্তি ও পাথরের কারুকার্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিজদাহ্ করার মতো মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করে। শিরক (الشِّرْكُ) শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক। শিরক হলো তাওহিদের বিপরীত। শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।" (সূরা লুকমান : ১৩) বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কী হতে পারে? আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা : ৪৮) বস্তুত আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।" (সূরা আল-মায়েদা : ৭২) প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এরূপ কাজ থেকে সকলেরই সদাসর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। ভুলক্রমে আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করে ফেললে সাথে সাথে পুনরায় ইমান আনতে হবে। অতঃপর বিশুদ্ধ অন্তরে তওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। সাথে সাথে ভবিষ্যতে এরূপ পাপ না করার শপথ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ও করুণার মাধ্যমে পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। সুতরাং ফরিদের উচিত খালেস মনে তওবা করা।
৩৬৭.
আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের মধ্যে আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অন্যতম। তাই মুমিন হওয়ার জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। এছাড়া মুমিনের নিকট পরকালীন কল্যাণই মুখ্য বিষয়। পরকালীন শাস্তি হতে মুক্তি ও শান্তি লাভের আশায় মুমিন ব্যক্তি ইহকালে সুন্দর জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়। আর আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন না করলে দুনিয়ার জীবন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্যই আখিরাতে বিশ্বাসী হওয়া অত্যাবশ্যক।
৩৬৮.
ইসলামের ব্যবহারিক অর্থ কী?
উত্তর: ইসলামের ব্যবহারিক অর্থ হলো আল্লাহর দেওয়া বিধান এবং রাসুল (স.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার জন্য নিজেকে আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করা।
১.
"জামাল সাহেবের মনোভাবের পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ"— ইসলামের আকিদা ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি ইসলামের শরিয়ত ও আকিদার আলোকে একশত ভাগ সত্য ও যথার্থ। জামাল সাহেবের কৃপণতা ও যাকাত না দেওয়ার মনোভাব তাঁর জন্য পরকালে অত্যন্ত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণ হবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জামাল সাহেব প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও সম্পদ কমে যাওয়ার ভয়ে কাউকে সাহায্য করেন না বা যাকাত আদায় করেন না। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। যাকাত না দেওয়া মানে আল্লাহর ফরজ বিধানকে অমান্য করা এবং গরিবের অধিকার হরণ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, যারা সোনা-রূপা বা ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় বা যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে এবং বলা হবে, "স্বাদ গ্রহণ করো যা তোমরা পুঞ্জীভূত করেছিলে।" এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, যাকাত না দেওয়া সম্পদ কিয়ামতের দিন বিষধর সাপে পরিণত হয়ে মালিককে দংশন করতে থাকবে। অতএব, বলা যায় যে কৃপণতা ও ফরজ ইবাদত অমান্য করার কারণে জামাল সাহেবের পরকালীন পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।
২.
কামালের কাজের মাধ্যমে ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কামাল সাহেবের কাজের মাধ্যমে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম অর্থনৈতিক ইবাদত 'যাকাত'-এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি তাঁর ব্যবসার আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রতি বছর হিসাব করে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বণ্টন করে দেন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরের শেষে তার সম্পদের ২.৫% বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ নির্দিষ্ট খাতগুলোতে বণ্টন করা ফরজ। কামাল সাহেব এই বিধান মেনে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাঁর সম্পদকে অপবিত্রতা থেকে রক্ষা করছে এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
৩.
নিসাব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলা হয়। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের উদ্বৃত্ত সম্পদ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ হয়।
৪.
যাকাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া।
৫.
"আসিফ সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করার মূল হাতিয়ার"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং বাস্তবসম্মত। আসিফ সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা সমাজ থেকে দুর্নীতি ও অন্যায় দূর করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। উদ্দীপকে দেখা যায়, আসিফ সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কোনো প্রকার ঘুষ বা দুর্নীতির সাথে জড়িত নন এবং নিজের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেন। এর মূল কারণ হলো তাঁর এই অটল বিশ্বাস যে, পরকালে তাকে তাঁর প্রতিটি কাজের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, দুনিয়ার জীবন হলো ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন অনন্ত। মানুষ দুনিয়াতে যা করবে, পরকালে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। কেবল মাত্র আইন বা পার্থিব শাস্তির ভয় দেখিয়ে মানুষকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত রাখা সম্ভব নয়, কারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে মানুষ অপরাধে লিপ্ত হতে পারে— যেমনটি তারেক সাহেব করেছেন। কিন্তু আসিফ সাহেবের মতো যার অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার বিশ্বাস জাগ্রত থাকে, সে গোপনে বা প্রকাশ্যে কখনোই কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি করতে পারে না। এই ধরনের বিশ্বাস যখন সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে গড়ে উঠবে, তখন সমাজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্নীতি, জুলুম ও পাপাচার দূর হয়ে যাবে। অতএব, বলা যায় যে আসিফ সাহেবের আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত ও শান্তিময় করার মূল চালিকাশক্তি।
৬.
আসিফ সাহেবের আচরণের মধ্য দিয়ে কোন বিশ্বাসের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আসিফ সাহেবের আচরণের মধ্য দিয়ে ইসলামের অন্যতম মূল আকিদা 'আখিরাত' বা পরকাল এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার বিশ্বাসের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। তারেক সাহেব মনে করেন পরকাল বলতে কিছু নেই এবং মরার পর কী হবে তা কেউ দেখেনি, তাই তিনি দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও অবৈধ অর্থ উপার্জনকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানিয়েছেন। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, আখিরাতে অবিশ্বাসের ফলেই মানুষ এমন চরম নীতিহীন ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠে। তাঁর মনে পরকালীন শাস্তি বা জবাবদিহিতার কোনো ভয় নেই বলেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তাঁর ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ দেয়।
৭.
তাকওয়া বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাকওয়া শব্দের অর্থ বিরত থাকা, আত্মরক্ষা করা, ভয় করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, পাপাচার ও আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে শরিয়ত মোতাবেক জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলে। তাকওয়া হলো মানুষের চরিত্রের সর্বোত্তম গুণ, যা মানুষকে সৎ ও খাঁটি মুমিন হতে সাহায্য করে।
৮.
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
৯.
সালেহ সাহেবের বক্তব্যের তাৎপর্য এবং ফরহাদ সাহেবের পরিণতির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সালেহ সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং শরিয়তের অকাট্য বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি যথার্থই বলেছেন যে, ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে এবং যাকাত দিলে সম্পদ অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয় ও আল্লাহর বরকতে বৃদ্ধি পায়। একই সাথে তিনি যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরকালীন শাস্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত। এটি অস্বীকার করা বা না দেওয়া সমাজ ও ধর্মের দৃষ্টিতে একটি বড় অপরাধ। ফরহাদ সাহেব যদি সালেহ সাহেবের এই কল্যাণকর ও তাত্ত্বিক নসিহত মেনে না নেন এবং যাকাত না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে তাঁর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রথমত, তিনি হাক্কুল ইবাদ এবং আল্লাহর ফরজ বিধান লঙ্ঘন করার কারণে পাপাচারী হিসেবে গণ্য হবেন। দ্বিতীয়ত, পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা স্বর্ণ-রৌপ্য বা ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় বা যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপাল, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টির জন্য তিনি দায়ী থাকবেন এবং পরকালে কঠিন জাহান্নামের আজাব ভোগ করবেন। অতএব, ফরহাদ সাহেবের উচিত নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত তওবা করা এবং সম্পদের যাকাত আদায় করা।
১০.
ফরহাদ সাহেবের বক্তব্যের অসারতা উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফরহাদ সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও ইসলামি অর্থনৈতিক দর্শনের পরিপন্থী, তাই এটি সম্পূর্ণ অসার ও ভিত্তিহীন। ফরহাদ সাহেব মনে করেন যাকাত দিলে তাঁর সম্পদ কমে যাবে এবং তিনি নিজের পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ অন্যকে দিতে নারাজ। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ। মানুষের সম্পদে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার (হাক্কুল ইবাদ) রয়েছে, যা মহান আল্লাহ নিজেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যাকাত কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং ধনীদের সম্পদে গরিবদের পাওনা অধিকার। ফরহাদ সাহেবের এই ধারণা যে যাকাত দিলে সম্পদ কমে, তা ভুল; কারণ যাকাত দিলে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং আল্লাহর বরকতে সম্পদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। তাঁর এই মনোভাব মূলত কৃপণতা ও ধর্মীয় বিধানের প্রতি অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
১১.
নিসাব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলা হয়। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর সাড়ে সাত তোলা (ভরি) সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের উদ্বৃত্ত সম্পদ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবে তাকে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বলা হয় এবং তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ হয়।
১২.
যাকাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া।
১৩.
"জনাব আরিফ সাহেবের মনোভাবই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ"— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও চিরন্তন সত্য। জনাব আরিফ সাহেবের মনোভাব ইসলামের মূল আকিদা 'আখিরাত' ও আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানবজীবনে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি। উদ্দীপকে দেখা যায়, আরিফ সাহেব বিশ্বাস করেন দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন অনন্ত। এই বিশ্বাসের কারণে তিনি নিয়মিত সালাত আদায় করেন, মানুষের সাথে সৎ ও সুন্দর ব্যবহার করেন এবং সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। ইসলামি জীবনদর্শনে আখিরাতের বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎ কর্মশীল বানায়। মানুষ যখন জানে যে তার প্রতিটি ছোট-বড় কাজের হিসাব আল্লাহর দরবারে দিতে হবে এবং তার ভিত্তিতে জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে, তখন সে সমাজে কোনো অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে না। আরিফ সাহেবের মতো মনোভাব সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে, যা ইহকালীন শান্তির মূল ভিত্তি। অন্যদিকে, এই সৎ কর্ম ও ইবাদতের ফলেই পরকালে আল্লাহর অনুগ্রহে জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করা সম্ভব। অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, জনাব আরিফ সাহেবের মনোভাবই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র উপায়।
১৪.
জনাব আশরাফ সাহেবের চিন্তাভাবনার নেতিবাচক প্রভাব উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব আশরাফ সাহেবের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে আখিরাত বা পরকালকে অস্বীকার করার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, যা তাঁর জীবনে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি মনে করেন পার্থিব জীবনই সব এবং এর পর আর কোনো জীবন নেই। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, আখিরাতকে অস্বীকার করার কারণে মানুষ স্বেচ্ছাচারী ও নীতিহীন হয়ে পড়ে। আশরাফ সাহেবও পরকালের জবাবদিহিতাকে বিশ্বাস না করায় তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মজীবনে নৈতিকতার তোয়াক্কা করছেন না। আল্লাহর ভয় এবং পরকালের শাস্তির চিন্তা না থাকলে মানুষ খুব সহজেই অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচারের দিকে ধাবিত হয়। আশরাফ সাহেবের এই চিন্তাভাবনা মূলত তাঁর নৈতিক স্খলন ঘটিয়েছে এবং তাঁকে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্তের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
১৫.
কিয়ামত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় মহাবিশ্ব ধ্বংসের পর মানুষের পুনরুত্থান এবং আল্লাহর আদালতে হাজির হওয়ার অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত সময়কে কিয়ামত বলে। মহান আল্লাহর আদেশে হযরত ইসরাফিল (আ.) যখন সিঙায় ফুঁ দেবেন, তখন এই সুন্দর পৃথিবী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর দ্বিতীয়বার ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথে সকল মানুষ জীবিত হয়ে আল্লাহর দরবারে বিচারের জন্য সমবেত হবে।
১৬.
মিজান শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মিজান শব্দের অর্থ পরিমাপক যন্ত্র বা তুলাদণ্ড।
১৭.
লোকমান সাহেবের বক্তব্যের তাৎপর্য এবং জুলফিকার সাহেবের পরিণতির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন কর।
উত্তর: লোকমান সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ইসলামের মূল আকিদা 'আখিরাত' ও জবাবদিহিতার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। লোকমান সাহেব জুলফিকার সাহেবকে সতর্ক করেছেন যে দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী অবৈধ লাভ পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের ভয়াবহ শাস্তির কারণ হবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দুনিয়া হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র। মানুষ দুনিয়াতে যা করবে, পরকালে তার ফল ভোগ করবে। জুলফিকার সাহেব লোকমান সাহেবের এই অকাট্য সত্যকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং পরকালকে অস্বীকার করেছেন। পরকালকে অস্বীকার করা স্পষ্ট কুফর। এই কুফরি আকিদা এবং দুনিয়ার অন্যায় কাজের কারণে জুলফিকার সাহেবের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরকালে তাকে আল্লাহর কঠিন আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং ওজনে কম দেওয়া ও প্রতারণার জন্য জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক আজাব ভোগ করতে হবে। অতএব, লোকমান সাহেবের বক্তব্য মেনে জুলফিকার সাহেবের এখনই তওবা করা উচিত।
১৮.
জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর.।
উত্তর: জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি হলো তাঁর অনৈতিকতা, সততার অভাব এবং ব্যবসায়িক অসততা (পণ্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়া)। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে চরম অপরাধ। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল ও বরকতময় করা হয়েছে, তবে তা হতে হবে সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। জুলফিকার সাহেব অধিক মুনাফার লোভে অন্যায়ভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন, যা মানুষের অধিকার বা হাক্কুল ইবাদ হরণ করার শামিল। তাঁর এই আচরণ তাঁর নৈতিক স্খলন ও পাপাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
১৯.
তাওহিদ মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য সমস্ত শক্তির দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়। মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে সমস্ত বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা একমাত্র আল্লাহ, তখন সে অন্য কোনো সৃষ্টি, বস্তু বা মানুষের সামনে মাথা নত করে না। এটি মানুষকে হীনম্মন্যতা থেকে দূরে রাখে এবং তার আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধি করে।
২০.
রিসালাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি, সংবাদ পৌঁছানো বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা।
২১.
"রাফির দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। রাফির দৃষ্টিভঙ্গি হলো পরকালহীন বস্তুবাদ ও নাস্তিক্যবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার বিশ্বাসই হলো মানুষের চরিত্র রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। রাফি পরকালকে অস্বীকার করে মনে করে মরলেই সব শেষ, তাই সে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়েছে। যখন একজন মানুষের মনে আল্লাহর ভয় এবং মৃত্যুর পর পরকালে জবাবদিহি করার কোনো অনুভূতি থাকে না, তখন সে যেকোনো অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করে না। সমাজ জীবনে এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে স্বার্থপর, লোভী ও স্বেচ্ছাচারী করে তোলে। ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি, শোষণ ও বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। মানুষ যখন কেবল নিজের ক্ষণস্থায়ী বস্তুগত সুখের কথা ভাবে, তখন সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার কোনো ভিত্তি থাকে না। অতএব, বলা যায় যে পরকালকে অস্বীকারকারী রাফির এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে।
২২.
সাকিবের চিন্তাভাবনার মধ্যে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাকিবের চিন্তাভাবনার মধ্যে ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে। সাকিব মনে করে দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর এক অনন্ত জীবন রয়েছে এবং সেখানে সব কাজের জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী, মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায় না, বরং এক নতুন ও চিরস্থায়ী জীবনের শুরু হয়, যাকে আখিরাত বলে। আখিরাতের কয়েকটি স্তর রয়েছে, যেমন— কবর, কিয়ামত, হাশর, মিজান, জান্নাত ও জাহান্নাম। সাকিব এই সত্য উপলব্ধি করেছে যে, দুনিয়ার জীবন হলো পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং এখানে সৎভাবে জীবনযাপন করলে আখিরাতে মুক্তি পাওয়া যাবে। তার এই জবাবদিহিতার মানসিকতা তাকে একজন আদর্শ ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
২৩.
শাফাআতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য শাফাআতের গুরুত্ব অপরিসীম। হাশরের ময়দানে যখন মানুষ চরম বিপদে পড়বে, তখন মহান আল্লাহর অনুমতি নিয়ে নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ পাপীদের ক্ষমা এবং পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ বা শাফাআত করবেন। শাফাআতের মাধ্যমেই অনেক গুনাহগার বান্দা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
২৪.
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
২৫.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
২৬.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, ग्रह, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
২৭.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
২৮.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
২৯.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৩০.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, ग्रह, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৩১.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৩২.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
৩৩.
শফিক সাহেবের মনোভাবের অসারতা প্রমাণপূর্বক ইসলামি জীবনদর্শনে শরিয়তের অপরিহার্যতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের মনোভাব সম্পূর্ণ অসার, যুক্তিহীন এবং গোমরাহিতে পরিপূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে আল্লাহর শরিয়ত ও নবি-রাসুলদের দেখানো পথকে প্রগতির পরিপন্থী বলা এক ধরনের চরম অজ্ঞতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের বাহ্যিক জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তরের পরিশুদ্ধি, নৈতিক চরিত্র গঠন ও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না। নবি-রাসুলগণ মানবজাতির জন্য যে হালাল-হারামের বাধানিষেধ ও শরিয়তের কাঠামো নিয়ে এসেছেন, তা যুগে যুগে মানুষের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুশৃঙ্খল এবং শান্তিময় করার একমাত্র মাধ্যম। শরিয়ত ছাড়া সমাজ হয়ে ওঠে লাগামহীন ও পাশবিক, যেখানে জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। শরিয়তের হালাল-হারামের বিধান মানুষের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, শফিক সাহেবের স্বাধীনভাবে খেয়ালখুশিমতো চলার মনোভাব মানব সমাজে অশান্তি ও নৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইসলামি জীবনদর্শনে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য শরিয়তের অনুসরণ অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য।
৩৪.
শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম প্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'রিসালাত' এবং 'শরিয়ত'-এর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নবি-রাসুলদের আদর্শ ও শরিয়তের বিধানকে আধুনিক যুগের প্রগতির পরিপন্থী মনে করেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী。 ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবি-রাসুলগণ আল্লাহর মনোনীত বান্দা, যাঁরা মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁদের আনীত শরিয়ত ও আদর্শ কোনো নির্দিষ্ট কালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বজনীন ও সর্বকালীন। শফিক সাহেবের এই দৃষ্টিভঙ্গি মূলত ঐশ্বরিক বিধান ও নবিদের চিরন্তন দায়িত্বকে অস্বীকার ও অবমাননা করার শামিল।
৩৫.
আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির সঠিক হেদায়েত, নৈতিক ও আত্মিক কল্যাণ এবং জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ বিধান প্রদানের উদ্দেশ্যে আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর পরিচয়, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম এবং পরকালীন জীবনের পুরস্কার ও শাস্তির কথা জানতে পারে। এক কথায়, মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্যই আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে।
৩৬.
খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ নবিগণের সমাপ্তি বা সর্বশেষ নবি।
৩৭.
শফিক সাহেবের মনোভাবের অসারতা প্রমাণপূর্বক ইসলামি জীবনদর্শনে শরিয়তের অপরিহার্যতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের মনোভাব সম্পূর্ণ অসার, যুক্তিহীন এবং গোমরাহিতে পরিপূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে আল্লাহর শরিয়ত ও নবি-রাসুলদের দেখানো পথকে প্রগতির পরিপন্থী বলা এক ধরনের চরম অজ্ঞতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের বাহ্যিক জীবনকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তরের পরিশুদ্ধি, নৈতিক চরিত্র গঠন ও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না। নবি-রাসুলগণ মানবজাতির জন্য যে হালাল-হারামের বাধানিষেধ ও শরিয়তের কাঠামো নিয়ে এসেছেন, তা যুগে যুগে মানুষের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুশৃঙ্খল এবং শান্তিময় করার একমাত্র মাধ্যম। শরিয়ত ছাড়া সমাজ হয়ে ওঠে লাগামহীন ও পাশবিক, যেখানে জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। শরিয়তের হালাল-হারামের বিধান মানুষের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, শফিক সাহেবের স্বাধীনভাবে খেয়ালখুশিমতো চলার মনোভাব মানব সমাজে অশান্তি ও নৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইসলামি জীবনদর্শনে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য শরিয়তের অনুসরণ অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য।
৩৮.
শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শফিক সাহেবের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম প্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'রিসালাত' এবং 'শরিয়ত'-এর প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নবি-রাসুলদের আদর্শ ও শরিয়তের বিধানকে আধুনিক যুগের প্রগতির পরিপন্থী মনে করেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবি-রাসুলগণ আল্লাহর মনোনীত বান্দা, যাঁরা মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁদের আনীত শরিয়ত ও আদর্শ কোনো নির্দিষ্ট কালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বজনীন ও সর্বকালীন। শফিক সাহেবের এই দৃষ্টিভঙ্গি মূলত ঐশ্বরিক বিধান ও নবিদের চিরন্তন দায়িত্বকে অস্বীকার ও অবমাননা করার শামিল।
৩৯.
আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করার উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির সঠিক হেদায়েত, নৈতিক ও আত্মিক কল্যাণ এবং জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ বিধান প্রদানের উদ্দেশ্যে আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর পরিচয়, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম এবং পরকালীন জীবনের পুরস্কার ও শাস্তির কথা জানতে পারে। এক কথায়, মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্যই আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে।
৪০.
খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: খাতামুন্নাবিইয়ীন শব্দের অর্থ নবিগণের সমাপ্তি বা সর্বশেষ নবি।
৪১.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৪২.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৪৩.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৪৪.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
৪৫.
"সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে"— উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের আকিদার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। সাফাতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো নাস্তিক্যবাদ ও তাওহিদহীন বস্তুবাদের নামান্তর, যা মানুষের নৈতিক চরিত্র ও সমাজ জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। ইসলামের আকিদা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের একজন একক নিয়ন্ত্রক আছেন এবং মানুষের মৃত্যুর পর তার সমস্ত কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য আখিরাতের মুখোমুখি হতে হবে। সাফাত এই পরম সত্যকে অস্বীকার করে মনে করে সবকিছু আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে এবং এর কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। এই জবাবদিহিতা ও ঐশ্বরিক শক্তির ভয় না থাকার কারণে সাফাত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করছে। যখন সমাজে সাফাতের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটে, তখন মানুষের মধ্য থেকে পাপাচারের ভয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ লোপ পায়। মানুষ তখন কেবল নিজের স্বার্থ ও পাশবিক প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, দুর্নীতি এবং বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। অতএব, বলা যায় যে আল্লাহর অস্তিত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে অস্বীকারকারী সাফাতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব চরিত্রকে কলুষিত করে এবং সমাজ জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
৪৬.
সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে ইসলামের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান মৌলিক বিশ্বাস 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিফলন ঘটেছে। সাফওয়ান মনে করে মহাবিশ্বের সবকিছু এক মহাসত্যের নিয়মে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এবং এর পেছনে কোনো মহান চালিকাশক্তি রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও প্রকৃতির এই নিখুঁত শৃঙ্খলা কোনো একক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক ছাড়া আপনা-আপনি চলতে পারে না। যদি একাধিক স্রষ্টা থাকত, তবে এই মহাবিশ্বের নিয়ম ভেঙে পড়ত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। সাফওয়ানের এই যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি মূলত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদেরই প্রমাণ বহন করে, যা তাওহিদ বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
৪৭.
তাওহিদে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে মানুষ মুমিন হতে পারে না। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল হতে অনুপ্রাণিত করে, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে সঠিক পথ দেখায়। এছাড়া তাওহিদ মানুষকে মানসিক প্রশান্তি ও আত্মমর্যাদা দান করে।
৪৮.
ঈমানের মূল কথা কী?
উত্তর: ঈমানের মূল কথা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
৪৯.
লোকমান সাহেবের বক্তব্যের তাৎপর্য এবং জুলফিকার সাহেবের পরিণতির ওপর একটি বিশ্লেষণাত্মক মূল্যায়ন কর।
উত্তর: লোকমান সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ইসলামের মূল আকিদা 'আখিরাত' ও জবাবদিহিতার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। লোকমান সাহেব জুলফিকার সাহেবকে সতর্ক করেছেন যে দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী অবৈধ লাভ পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের ভয়াবহ শাস্তির কারণ হবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, দুনিয়া হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র। মানুষ দুনিয়াতে যা করবে, পরকালে তার ফল ভোগ করবে। জুলফিকার সাহেব লোকমান সাহেবের এই অকাট্য সত্যকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং পরকালকে অস্বীকার করেছেন। পরকালকে অস্বীকার করা স্পষ্ট কুফর। এই কুফরি আকিদা এবং দুনিয়ার অন্যায় কাজের কারণে জুলফিকার সাহেবের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরকালে তাকে আল্লাহর কঠিন আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং ওজনে কম দেওয়া ও প্রতারণার জন্য জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক আজাব ভোগ করতে হবে। অতএব, লোকমান সাহেবের বক্তব্য মেনে জুলফিকার সাহেবের এখনই তওবা করা উচিত।
৫০.
জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জুলফিকার সাহেবের চরিত্রের নেতিবাচক দিকটি হলো তাঁর অনৈতিকতা, সততার অভাব এবং ব্যবসায়িক অসততা (পণ্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়া)। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে চরম অপরাধ। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল ও বরকতময় করা হয়েছে, তবে তা হতে হবে সততা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। জুলফিকার সাহেব অধিক মুনাফার লোভে অন্যায়ভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন, যা মানুষের অধিকার বা হাক্কুল ইবাদ হরণ করার শামিল। তাঁর এই আচরণ তাঁর নৈতিক স্খলন ও পাপাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
৫১.
তাওহিদ মানুষের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষকে এক আল্লাহ ছাড়া অন্য সমস্ত শক্তির দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়। মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে সমস্ত বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা একমাত্র আল্লাহ, তখন সে অন্য কোনো সৃষ্টি, বস্তু বা মানুষের সামনে মাথা নত করে না। এটি মানুষকে হীনম্মন্যতা থেকে দূরে রাখে এবং তার আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধি করে।
৫২.
রিসালাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি, সংবাদ পৌঁছানো বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা।
৫৩.
রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে চরম নৈতিক বিপর্যয় এবং স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করতে পারে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি সাময়িকভাবে কিছু ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে সমাজ জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার বিশ্বাসই হলো মানুষের চরিত্র রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার কাজের কোনো পরকালীন বিচার বা পুরস্কার নেই, তখন সে কেবল সাময়িক আবেগ বা লোকদেখানো আত্মতৃপ্তির জন্য কাজ করে। এই ধরনের বিশ্বাস মানুষকে যেকোনো মুহূর্তে স্বার্থপর ও পাপাচারী করে তুলতে পারে, কারণ তার মনে কোনো স্থায়ী ঐশ্বরিক ভয় বা জবাবদিহিতা থাকে না। সমাজ থেকে আল্লাহর ভয় উঠে গেলে মানুষ অনায়াসেই দুর্নীতি, অবিচার ও অপরাধে লিপ্ত হতে পারে। অতএব, রিপনের এই পরকালহীন দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক ভিত দুর্বল করে সমাজকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।
৫৪.
রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের অস্বীকৃতি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের সরাসরি অস্বীকৃতি ঘটেছে। রিপন ভালো কাজ করলেও সে মনে করে পরকালে কোনো হিসাব দিতে হবে না এবং মৃত্যুর পরেই সব শেষ, যা কুফর ও পরকালহীন বস্তুবাদের নামান্তর। ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী, আখিরাত হলো মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবন। এই জীবনে দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। রিপনের এই বিশ্বাসের অভাব তার মহৎ কাজকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যহীন করে তোলে, কারণ ইমান ও আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কোনো সৎকাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।
৫৫.
নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা জরুরি কেন?
উত্তর: নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। নবি-রাসুলগণ হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্যের দিশারী। তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তাআলার পরিচয়, সঠিক পথ এবং জীবন পরিচালনার বিধান জানতে পেরেছে। তাই নবুয়ত ও রিসালাতে বিশ্বাস না করলে ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয় না।
৫৬.
আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আসমাউল হুসনা বলতে মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহকে বোঝায়।
৫৭.
ঘ. রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রিপনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে চরম নৈতিক বিপর্যয় এবং স্বেচ্ছাচারিতা তৈরি করতে পারে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি সাময়িকভাবে কিছু ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে সমাজ জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, আখিরাত বা পরকালীন জবাবদিহিতার বিশ্বাসই হলো মানুষের চরিত্র রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে তার কাজের কোনো পরকালীন বিচার বা পুরস্কার নেই, তখন সে কেবল সাময়িক আবেগ বা লোকদেখানো আত্মতৃপ্তির জন্য কাজ করে। এই ধরনের বিশ্বাস মানুষকে যেকোনো মুহূর্তে স্বার্থপর ও পাপাচারী করে তুলতে পারে, কারণ তার মনে কোনো স্থায়ী ঐশ্বরিক ভয় বা জবাবদিহিতা থাকে না। সমাজ থেকে আল্লাহর ভয় উঠে গেলে মানুষ অনায়াসেই দুর্নীতি, অবিচার ও অপরাধে লিপ্ত হতে পারে। অতএব, রিপনের এই পরকালহীন দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের নৈতিক ভিত দুর্বল করে সমাজকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।
৫৮.
রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের কোন মৌলিক বিশ্বাসের অস্বীকৃতি ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রিপনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের সরাসরি অস্বীকৃতি ঘটেছে। রিপন ভালো কাজ করলেও সে মনে করে পরকালে কোনো হিসাব দিতে হবে না এবং মৃত্যুর পরেই সব শেষ, যা কুফর ও পরকালহীন বস্তুবাদের নামান্তর। ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী, আখিরাত হলো মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবন। এই জীবনে দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। রিপনের এই বিশ্বাসের অভাব তার মহৎ কাজকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যহীন করে তোলে, কারণ ইমান ও আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কোনো সৎকাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।
৫৯.
নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা জরুরি কেন?
উত্তর: নবুয়ত ও রিসালাতের ওপর বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। নবি-রাসুলগণ হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্যের দিশারী। তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তাআলার পরিচয়, সঠিক পথ এবং জীবন পরিচালনার বিধান জানতে পেরেছে। তাই নবুয়ত ও রিসালাতে বিশ্বাস না করলে ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয় না।
৬০.
আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আসমাউল হুসনা বলতে মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহকে বোঝায়।
৬১.
"জামিল সাহেবের বিশ্বাসই মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরি করে"— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। জামিল সাহেবের বিশ্বাস হলো তাওহিদ এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার প্রতি অবিচল আস্থা, যা মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরির মূল চালিকাশক্তি। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং মৃত্যুর পর তাকে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর দরবারে जवाबदिही করতে হবে, তখন সে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়। এই জবাবদিহিতার ভয় মানুষকে গোপনে বা প্রকাশ্যে অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। জামিল সাহেবের এই বিশ্বাসই মানুষকে নীতিবান, সৎকর্মশীল এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
৬২.
আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থী বিষয় প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের মূল ভিত্তি 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মনে করেন আল্লাহ সৃষ্টির পর বিশ্বজগৎ পরিচালনার দায়িত্ব দেব-দেবী ও প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ বিরোধী। ইসলামি পরিভাষা অনুযায়ী, আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অংশীদার বা শরিক সাব্যস্ত করাই হলো শিরক। আরিফ সাহেব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আল্লাহর পরিবর্তে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির উপাসনা করেন, যা চরম শিরক এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল।
৬৩.
কুফরের কুফল ও পরিণতি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কুফর মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় এবং পাপাচার ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। পরকালে কাফিরের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক চিরস্থায়ী শাস্তি এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি।
৬৪.
তাওহিদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে স্বীকার করা।
৬৫.
"জামিল সাহেবের বিশ্বাসই মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরি করে"— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য। জামিল সাহেবের বিশ্বাস হলো তাওহিদ এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার প্রতি অবিচল আস্থা, যা মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল আচরণ তৈরির মূল চালিকাশক্তি। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং মৃত্যুর পর তাকে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে, তখন সে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়। এই জবাবদিহিতার ভয় মানুষকে গোপনে বা প্রকাশ্যে অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। জামিল সাহেবের এই বিশ্বাসই মানুষকে নীতিবান, সৎকর্মশীল এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
৬৬.
আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের কোন বিশ্বাসের পরিপন্থী বিষয় প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আরিফ সাহেবের বিশ্বাসের মধ্যে ইসলামের মূল ভিত্তি 'তাওহিদ' বা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মনে করেন আল্লাহ সৃষ্টির পর বিশ্বজগৎ পরিচালনার দায়িত্ব দেব-দেবী ও প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যা ইসলামের আকিদার সম্পূর্ণ বিরোধী। ইসলামি পরিভাষা অনুযায়ী, আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অংশীদার বা শরিক সাব্যস্ত করাই হলো শিরক। আরিফ সাহেব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আল্লাহর পরিবর্তে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির উপাসনা করেন, যা চরম শিরক এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল।
৬৭.
কুফরের কুফল ও পরিণতি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কুফর মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়। কাফির ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় এবং পাপাচার ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। পরকালে কাফিরের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক চিরস্থায়ী শাস্তি এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি।
৬৮.
তাওহিদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে স্বীকার করা।
৬৯.
জনাব 'খ'-এর বক্তব্যের সাথে ইসলামের আকিদার তুলনাপূর্বক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব 'খ'-এর বক্তব্যও ইসলামের সঠিক আকিদার পরিপন্থী এবং এটি চরমপন্থী কাদারিয়া মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জনাব 'খ' মনে করেন মানুষের কাজের পেছনে আল্লাহর কোনো ইচ্ছার প্রয়োজন নেই এবং মানুষই তার সব কাজের একক ক্ষমতার অধিকারী, যা আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল। ইসলামের সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হলো 'তাকদির' ও 'স্বাধীন ইচ্ছা'-এর মধ্যবর্তী পথ। মহাবিশ্বের সবকিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা ও পরিমাপ আল্লাহর হাতে এবং তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই ঘটে না। তবে আল্লাহ মানুষকে কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ কর্মের ইচ্ছা পোষণ করে এবং আল্লাহ তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেন। অতএব, জনাব 'খ'-এর মতো আল্লাহর ইচ্ছাকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিজেকে সব ক্ষমতার উৎস মনে করা ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মস্ত বড় ভুল। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো মানুষের প্রচেষ্টা ও আল্লাহর ইচ্ছার মেলবন্ধন।
৭০.
জনাব 'ক'-এর বিশ্বাসের সাথে ইসলামের আকিদার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
উত্তর: জনাব 'ক'-এর বিশ্বাস ইসলামি আকিদার 'তাকদির' সংক্রান্ত সঠিক ধারণার সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। জনাব 'ক' মনে করেন দুনিয়ার সব কাজ কেবল আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে এবং মানুষের এখানে কোনো স্বাধীনতা বা দায়িত্ব নেই, যা জাবরিয়া মতবাদের অনুরূপ। ইসলামের সঠিক আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালো ও মন্দ কাজের পথ বেছে নেওয়ার জন্য সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা ও বুদ্ধি দিয়েছেন। মানুষ একদম নিষ্ক্রিয় পুতুল নয়। আল্লাহ মানুষের কাজের স্রষ্টা হলেও, মানুষ নিজের ইচ্ছায় কাজ করার চেষ্টা করে এবং সেই চেষ্টার ভিত্তিতেই পরকালে তার বিচার হবে। তাই মানুষের দায়িত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করা ইসলামি আকিদা বহির্ভূত।
৭১.
রিসালাতে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য রিসালাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। নবি-রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বাণী নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করা এবং তাদের দেখানো পথে চলা মানুষের কর্তব্য। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে আল্লাহর তাওহিদ, বিধান এবং পরকাল সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করা যায় না। তাই মুমিন হওয়ার জন্য রিসালাতে বিশ্বাস একান্ত প্রয়োজন।
৭২.
তাকদির শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাকদির শব্দের অর্থ ভাগ্য, নিয়তি বা পরিমাপ।
৭৩.
"রাফির বিশ্বাসই সৎকর্মশীল হতে ও নৈতিক জীবন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে"— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রাফির বিশ্বাসটি হলো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ 'আখিরাত' বা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীল হতে এবং নৈতিক জীবন গঠনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দুনিয়ার জীবন হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র (দুনিয়া মাজরাআতুল আখিরাহ)। এখানে সে যা বপন করবে, পরকালে ঠিক তারই ফসল তুলবে। ভালো কাজের জন্য রয়েছে চিরসুখের জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য রয়েছে ভয়াবহ জাহান্নাম। উদ্দীপকের রাফি এই পরকালীন পুরস্কার ও শাস্তির কথা গভীরভাবে বিশ্বাস করে বলেই সে সর্বদা সৎ পথে চলে এবং সব ধরনের অন্যায় ও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) জাগ্রত করে এবং গোপনে বা প্রকাশ্য কোনো অবস্থাতেই অন্যায় করতে দেয় না। অতএব, বলা যায় যে রাফির মতো আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই হচ্ছে মানব জীবনে সৎকর্মশীলতা অর্জন ও সুশৃঙ্খল নৈতিক চরিত্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি।
৭৪.
সাজিদের কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়ের অভাব প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাজিদের কর্মকাণ্ডে 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের চরম অভাব প্রকাশ পেয়েছে। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবনের অবসান ঘটে, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের চিরস্থায়ী পরকালীন জীবন শুরু হয়। সাজিদের এই বিশ্বাসের অভাবের কারণেই সে দুনিয়ার জীবনকে কেবল উপভোগের বস্তু মনে করে যা ইচ্ছা তাই করছে। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকার ফলে তার মধ্যে কোনো জবাবদিহিতা বা পাপের ভয় কাজ করছে না। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, পরকালের জবাবদিহিতার ভয় না থাকলে মানুষ চরম স্বেচ্ছাচারী, অনৈতিক ও পাপাচারী হয়ে ওঠে, সাজিদের কর্মকাণ্ডে ঠিক এই নৈতিক স্খলনের বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
৭৫.
তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্ববাদ আর রিসালাত হলো আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব। নবি-রাসুলগণ তাওহিদের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন। সুতরাং রিসালাতে বিশ্বাস না করলে তাওহিদের সত্যতা উপলব্ধি করা যায় না। তাই এ দুটি বিষয়ের প্রতি সমানভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক।
৭৬.
ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ কী?
উত্তর: ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ হলো বিস্তারিত বিশ্বাস।
৭৭.
"রাফির বিশ্বাসই সৎকর্মশীল হতে ও নৈতিক জীবন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে"— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রাফির বিশ্বাসটি হলো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ 'আখিরাত' বা পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। এই বিশ্বাসই মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীল হতে এবং নৈতিক জীবন গঠনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে, দুনিয়ার জীবন হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র (দুনিয়া মাজরাআতুল আখিরাহ)। এখানে সে যা বপন করবে, পরকালে ঠিক তারই ফসল তুলবে। ভালো কাজের জন্য রয়েছে চিরসুখের জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য রয়েছে ভয়াবহ জাহান্নাম। উদ্দীপকের রাফি এই পরকালীন পুরস্কার ও শাস্তির কথা গভীরভাবে বিশ্বাস করে বলেই সে সর্বদা সৎ পথে চলে এবং সব ধরনের অন্যায় ও পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখে। এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) জাগ্রত করে এবং গোপনে বা প্রকাশ্য কোনো অবস্থাতেই অন্যায় করতে দেয় না। অন্যদিকে সাজিদের মতো যারা আখিরাতকে অস্বীকার করে, তারা দুনিয়ার মোহে অন্ধ হয়ে নৈতিকতা বিসর্জন দেয়। অতএব, বলা যায় যে রাফির মতো আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই হচ্ছে মানব জীবনে সৎকর্মশীলতা অর্জন ও সুশৃঙ্খল নৈতিক চরিত্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি।
৭৮.
সাজিদের চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়ের অভাব প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাজিদের চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ডে মূলত 'আখিরাত' বা পরকাল বিশ্বাসের চরম অভাব প্রকাশ পেয়েছে। সাজিদ মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথেই মানুষের জীবনের অবসান ঘটে, যা ইসলামের মৌলিক আকিদা ও পরকালীন বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের চিরস্থায়ী পরকালীন জীবন শুরু হয়। সাজিদের এই বিশ্বাসের অভাবের কারণেই সে দুনিয়ার জীবনকে কেবল উপভোগের বস্তু মনে করে যা ইচ্ছা তাই করছে। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকার ফলে তার মধ্যে কোনো জবাবদিহিতা বা পাপের ভয় কাজ করছে না। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে, পরকালের জবাবদিহিতার ভয় না থাকলে মানুষ চরম স্বেচ্ছাচারী, অনৈতিক ও পাপাচারী হয়ে ওঠে, সাজিদের কর্মকাণ্ডে ঠিক এই নৈতিক স্খলনের বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
৭৯.
তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাওহিদ ও রিসালাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্ববাদ, আর রিসালাত হলো আল্লাহর বাণী ও বিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব। নবি-রাসুলগণ হলেন তাওহিদের বার্তা বাহক। রিসালাতে বিশ্বাস না করলে তাওহিদের প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা অসম্ভব। তাই ইসলামে ঈমানের ক্ষেত্রে এ দুটি বিষয়ের প্রতি সমানভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক।
৮০.
ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ কী?
উত্তর: ঈমানে মুফাসসাল-এর অর্থ হলো বিস্তারিত বিশ্বাস। অর্থাৎ ঈমানের মৌলিক সাতটি বিষয়কে বিস্তারিতভাবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করা।
৮১.
নাসিম মিয়ার বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করে মকবুল মিয়ার কাজের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: নাসিম মিয়ার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং তা আখিরাত ও কিয়ামতের অকাট্য সত্যকে নির্দেশ করে। মকবুল মিয়া ক্ষমতার দাপটে যে অনৈতিক কাজগুলো করছে, পরকালে তাকে এর জন্য কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। নাসিম মিয়ার সতর্কবাণী অনুযায়ী, এই পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে এবং প্রতিটি মানুষকে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে তার সমস্ত অন্যায় ও জুলুমের হিসাব দিতে হবে। মকবুল মিয়ার অনৈতিক কাজের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ আল্লাহ তায়ালা জালিমদের শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
৮২.
বাবুল মিয়ার কার্যকলাপে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।
উত্তর: বাবুল মিয়ার কার্যকলাপে কুফর প্রকাশ পেয়েছে। কুফর (الكُفْرُ) শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার মনোনিত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করাকে কুফর বলা হয়। কুফর হলো ইমানের বিপরীত। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলির প্রতি বিশ্বাসের নাম ইমান। আর এসব বিষয়ে অবিশ্বাস করা হলো কুফর। প্রদত্ত উদ্দীপকের বাবুল মিয়া ইসলামের বিধিবিধান পালন করে না, এগুলোকে সে নিরর্থক মনে করে। তাছাড়া সে গলায় বিধর্মীদের ক্রুশচিহ্ন ব্যবহার করে, যা কুফরের নামান্তর। কেননা মহান...
৮৩.
"এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই"— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আল-কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সন্দেহমুক্ত কিতাব। দুনিয়ার কোনো গ্রন্থই নির্ভুল বা অকাট্য নয়। কিন্তু কুরআন নির্ভুল এবং এটি সন্দেহেরও বাইরে। সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে এমন কোনো বিষয়ই এতে নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এটি (কুরআন) সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" (সূরা আল-বাকারা : ২)
৮৪.
কবর কী?
উত্তর: মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়ে মানুষ যেখানে অবস্থান করে তা-ই কবর।
৮৫.
নবি-রাসুলগণের আগমন বিষয়ে সেলিমের বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর: নবি-রাসুলগণের আগমনের ব্যাপারে সেলিমের বক্তব্য যথার্থ নয়। বরং তা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পরিপন্থী। সেলিম মন্তব্য করে, নবি-রাসুলগণের আগমনের ধারা অব্যাহত থাকাই যুক্তিসঙ্গত। সেলিমের এ মন্তব্য তার নিজস্ব খেয়ালখুশিমতো। তার এ বক্তব্যের সাথে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা মতে, নবুয়তের ধারা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যুগে যুগে মানুষের নিকট মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেছেন। রাসুল (স.)-এর মাধ্যমে রিসালাতের এ ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। নবুয়তের এ ধারা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে খতমে নবুয়ত বলে। খতমে নবুয়তে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম অঙ্গ। খতমে নবুয়তে অবিশ্বাসী ইমানদার হতে পারে না। যেমনটি আমরা দেখতে পাই উদ্দীপকের সেলিমের মনোভাব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "মুহাম্মদ (স.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি।" (সূরা আল-আহযাব : ৪০) আমাদের প্রিয়নবি (স.) হলেন খাতামুন নাবিয়্যিন। তিনি সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি নেই। কিয়ামত পর্যন্ত আসবেনও না। তাঁর পরবর্তীতে যারা নবুয়ত দাবি করেছে তারা সবাই ভন্ড, মিথ্যাবাদী ও প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেননা মহানবি (স.) বলেছেন, "আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।" (সহিহ মুসলিম) উপরিউক্ত আলোচনায় এটাই প্রমাণিত হয়, সেলিমের মন্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত।
৮৬.
ফরিদের আচরণে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফরিদের আচরণে শিরক প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে মাটির তৈরি মূর্তি ও পাথরের কারুকার্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিজদাহ্ করার মতো মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করে। শিরক (الشِّرْكُ) শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক। শিরক হলো তাওহিদের বিপরীত। শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।" (সূরা লুকমান : ১৩) বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কী হতে পারে? আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা : ৪৮) বস্তুত আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।" (সূরা আল-মায়েদা : ৭২) প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এরূপ কাজ থেকে সকলেরই সদাসর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। ভুলক্রমে আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করে ফেললে সাথে সাথে পুনরায় ইমান আনতে হবে। অতঃপর বিশুদ্ধ অন্তরে তওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। সাথে সাথে ভবিষ্যতে এরূপ পাপ না করার শপথ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালার দয়ায় ও করুণার মাধ্যমে পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। সুতরাং ফরিদের উচিত খালেস মনে তওবা করা।
৮৭.
আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের মধ্যে আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অন্যতম। তাই মুমিন হওয়ার জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। এছাড়া মুমিনের নিকট পরকালীন কল্যাণই মুখ্য বিষয়। পরকালীন শাস্তি হতে মুক্তি ও শান্তি লাভের আশায় মুমিন ব্যক্তি ইহকালে সুন্দর জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়। আর আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন না করলে দুনিয়ার জীবন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্যই আখিরাতে বিশ্বাসী হওয়া অত্যাবশ্যক।
৮৮.
ইসলামের ব্যবহারিক অর্থ কী?
উত্তর: ইসলামের ব্যবহারিক অর্থ হলো আল্লাহর দেওয়া বিধান এবং রাসুল (স.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনার জন্য নিজেকে আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করা।
১.
রাফসান ও সালমানের বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাফসানের বিশ্বাসটি ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানব জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর গুণাবলির কোনো তুলনা হয় না। তাওহীদের এই বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, তখন সে দুনিয়ার অন্য কোনো শক্তির নিকট মাথা নত করে না। এটি মানব চরিত্রকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার মুক্ত করে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, সালমানের বিশ্বাস মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে, যা আল-কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম (নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম)। শিরকের পরিণতি হলো জাহান্নাম এবং আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। অতএব, রাফসানের তাওহীদি বিশ্বাসই মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সঠিক পথ এবং সালমানের ভ্রান্ত ধারণা থেকে তা সম্পূর্ণ মুক্ত।
২.
উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে শিরক-এর প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সালমান দাবি করেছে আল্লাহর কাজের অংশীদার আছে এবং সূর্য ও নক্ষত্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভাগ্য নির্ধারণ বা মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। আল্লাহর এই ক্ষমতার সাথে প্রাকৃতিক উপাদানকে অংশীদার মনে করায় সালমানের আচরণটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
৩.
নিফাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মুখে ঈমানের স্বীকার করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফরি গোপন রাখাকে নিফাক বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রূপ আচরণ করে তাকে মুনাফিক বলে।
৪.
সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় জুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা।
৫.
রাফসান ও সালমানের বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাফসানের বিশ্বাসটি ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানব জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর গুণাবলির কোনো তুলনা হয় না। তাওহীদের এই বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, তখন সে দুনিয়ার অন্য কোনো শক্তির নিকট মাথা নত করে না। এটি মানব চরিত্রকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার মুক্ত করে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, সালমানের বিশ্বাস মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে, যা আল-কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম (নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম)। শিরকের পরিণতি হলো জাহান্নাম এবং আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। অতএব, রাফসানের তাওহীদি বিশ্বাসই মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সঠিক পথ এবং সালমানের ভ্রান্ত ধারণা থেকে তা সম্পূর্ণ মুক্ত।
৬.
উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে শিরক-এর প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সালমান দাবি করেছে আল্লাহর কাজের অংশীদার আছে এবং সূর্য ও নক্ষত্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভাগ্য নির্ধারণ বা মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। আল্লাহর এই ক্ষমতার সাথে প্রাকৃতিক উপাদানকে অংশীদার মনে করায় সালমানের আচরণটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
৭.
নিফাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মুখে ঈমানের স্বীকার করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফরি গোপন রাখাকে নিফাক বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রূপ আচরণ করে তাকে মুনাফিক বলে।
৮.
সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় জুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা।
৯.
রাফসান ও সালমানের বিশ্বাসের পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রাফসানের বিশ্বাসটি ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মানব জীবনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাফসান বিশ্বাস করে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর গুণাবলির কোনো তুলনা হয় না। তাওহীদের এই বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও গভীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক, তখন সে দুনিয়ার অন্য কোনো শক্তির নিকট মাথা নত করে না। এটি মানব চরিত্রকে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার মুক্ত করে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, সালমানের বিশ্বাস মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে, যা আল-কুরআনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় জুলুম (নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম)। শিরকের পরিণতি হলো জাহান্নাম এবং আল্লাহ শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। অতএব, রাফসানের তাওহীদি বিশ্বাসই মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র সঠিক পথ এবং সালমানের ভ্রান্ত ধারণা থেকে তা সম্পূর্ণ মুক্ত।
১০.
উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমানের দাবিতে শিরক-এর প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সাথে অন্য কোনো সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। সালমান দাবি করেছে আল্লাহর কাজের অংশীদার আছে এবং সূর্য ও নক্ষত্র মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। ভাগ্য নির্ধারণ বা মহাবিশ্ব পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। আল্লাহর এই ক্ষমতার সাথে প্রাকৃতিক উপাদানকে অংশীদার মনে করায় সালমানের আচরণটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ বা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
১১.
নিফাক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মুখে ঈমানের স্বীকার করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফরি গোপন রাখাকে নিফাক বলা হয়। যে ব্যক্তি এই রূপ আচরণ করে তাকে মুনাফিক বলে।
১২.
সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় জুলুম হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা।
১৩.
জাকিরের বক্তব্যটির যৌক্তিকতা পরকাল দর্শনের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জাকিরের বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক আকিদা ও পরকাল দর্শনের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ। মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো বয়স বা সময় আল্লাহ নির্ধারিত করে দেননি। আল-কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।' জাকির যথার্থই বলেছে যে, যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং পরকালের সম্বল দুনিয়াতেই অর্জন করতে হবে। মহানবি (স.) বলেছেন, 'দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।' অর্থাৎ শস্যক্ষেত্রে ভালো বীজ বপন না করলে যেমন ফসল আশা করা যায় না, তেমনি দুনিয়াতে সৎ কাজ না করলে পরকালে জান্নাত লাভ করা সম্ভব নয়। নাসেরের শেষ বয়সে তওবা করার ধারণাটি বিভ্রান্তিকর, কারণ মানুষ শেষ বয়স পর্যন্ত বাঁচার সুযোগ নাও পেতে পারে। তাই জাকিরের সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী বিশ্বাসই মানুষকে প্রতিনিয়ত সৎ পথে চলতে সাহায্য করে এবং তা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
১৪.
উদ্দীপকের নাসেরের বক্তব্যে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের নাসেরের বক্তব্যে পরকালের অন্যতম স্তর 'আখিরাত' বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের প্রতি উদাসীন্য ও অবজ্ঞার প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামি আকিদায় আখিরাত বা পরকালের গুরুত্ব অপরিসীম। নাসের মনে করে যে যুবক বয়সে ইবাদত না করে শেষ বয়সে তওবা করলেই চলবে, যা মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের ধারণার পরিপন্থী। তার এই বক্তব্য মূলত মানুষের ইহকালীন আমল ও পরকালীন জবাবদিহিতাকে সাময়িকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার এক ধরনের অজুহাত। এই ধারণা মানুষকে অলস ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করে, যা আখিরাতের চেতনার বিপরীত।
১৫.
তাকদীরে বিশ্বাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তাকদীর হলো ভাগ্য। ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর হুকুমেই ঘটে—এই বিশ্বাসই হলো তাকদীরে বিশ্বাস। তাকদীরে বিশ্বাস মানুষের মনে চরম বিপদেও ধৈর্য ও সান্ত্বনা জোগায়। এটি মানুষকে অহংকারমুক্ত করে এবং সফলতায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। পরকালীন মুক্তির জন্য আকাইদের এ বিষয়ে বিশ্বাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৬.
আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখিরাত শব্দের অর্থ পরকাল বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন।
১৭.
শায়লা বেগমের আচরণের কুফল বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: শায়লা বেগমের আচরণ আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এর কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। মহান আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু, নম্র এবং অহংকারমুক্ত। অহংকার কেবল আল্লাহরই চাদর বা বৈশিষ্ট্য, মানুষের জন্য অহংকার করা সম্পূর্ণ হারাম। শায়লা বেগম পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ও দরিদ্রদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন করেন। আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আল-মুতাকাব্বির' (পরাক্রমশালী/অহংকারী) বলতে বোঝায় যে সকল মহত্ত্ব ও গৌরব একমাত্র আল্লাহর। মানুষ যখন অহংকার করে, তখন সে আল্লাহর বৈশিষ্ট্যে হস্তক্ষেপ করে, যা জঘন্য অপরাধ। রাসূল (স.) বলেছেন, 'যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।' এছাড়া হিংসা মানুষের পুণ্যগুলোকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেমন আগুন কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। শায়লা বেগমের এই আচরণ সমাজকে কলুষিত করে এবং তাঁর পরকালীন জীবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অতএব, তাঁর এই অনৈতিক আচরণসমূহ বর্জন করে আল্লাহর ক্ষমাপরায়ণ ও দয়ালু গুণের আদর্শ গ্রহণ করা উচিত।
১৮.
উদ্দীপকের সালমা বেগমের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর কোন গুণবাচক নামের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমা বেগমের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আল-গাফুর' ও 'আল-আদল'-এর শিক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তাআলার সুন্দর সুন্দর গুণবাচক নাম রয়েছে, যা মানুষকে উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করে। সালমা বেগম নিজে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং শিক্ষার্থীদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেন। আল্লাহর একটি নাম হলো 'আল-গাফুর' যার অর্থ অতি ক্ষমাশীল এবং আরেকটি নাম 'আল-আদল' যার অর্থ পরম ন্যায়পরায়ণ। সালমা বেগম তাঁর প্রাত্যহিক আচরণ ও শিক্ষকতায় এই মহান গুণাবলি চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একজন আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যা আল্লাহর গুণেরই বাস্তব প্রতিফলন।
১৯.
তাওহীদ মানুষের মনে কীরূপ প্রভাব ফেলে?
উত্তর: তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস মানুষের মনে আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করে। এটি মানুষকে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষের মন থেকে অন্য সবকিছুর ভয় দূর হয় এবং মানব চরিত্রে একতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়।
২০.
‘নবী’ কারা?
উত্তর: যাঁদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আসমানি কিতাব আসেনি বরং পূর্ববর্তী রাসূলের কিতাব প্রচার করতেন, তাঁদের নবী বলা হয়।
২১.
সজীব সাহেবের বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সজীব সাহেবের বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক আকিদা ও পরকালীন দর্শনের আলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং যথার্থ। ইসলাম মনে করে, দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। এখানে মানুষ স্বাধীনভাবে ভালো বা মন্দ কাজ করার সুযোগ পায়। মহানবি (স.) বলেছেন— 'দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।' অর্থাৎ শস্যক্ষেত্রে যেমন বীজ বপন করলে অনুরূপ ফসল পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি দুনিয়াতে মানুষ যে ধরনের আমল বা কর্ম করবে, পরকালে সে অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নামের ফল ভোগ করবে। সজীব সাহেবের বক্তব্য আল-কুরআনের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে— 'যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে এবং যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তাও দেখতে পাবে।' (সূরা আয-যালযালাহ: ৭-৮)। পরকালের এই জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের চেতনা মানুষকে পার্থিব জীবনে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন হতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং, সজীব সাহেবের উক্তিটি মানুষের ইহকালীন নৈতিক চরিত্র গঠনে এবং পরকালীন মুক্তির প্রধান ভিত্তি হিসেবে শতভাগ যথার্থ।
২২.
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বক্তব্যে আকাইদের কোন বিষয়ের অস্বীকার প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বক্তব্যে আকাইদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 'আখিরাত' বা পরকালকে অস্বীকার করার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলে। আখিরাতে বিশ্বাস করা ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং এটি আখিরাতের শস্যক্ষেত্রস্বরূপ। উদ্দীপকের রফিক সাহেব মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ এবং পরকালীন জীবনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং মনে করেছেন মানুষের ইহকালীন জীবনই শেষ জীবন। তাঁর এই মনোভাব সম্পূর্ণ কুফরি ধারণার অন্তর্ভুক্ত। আখিরাতকে অস্বীকার করলে মানুষ চরম স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে এবং নৈতিকতা থেকে দূরে সরে যায়, যা রফিক সাহেবের কথায় প্রতিফলিত হয়েছে।
২৩.
রিসালাত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি বা পয়গাম পৌঁছানো। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহ তাআলার পবিত্র বাণী, আদেশ-নিষেধ ও পরিচয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়। আর যারা এই দায়িত্ব পালন করেন তাঁদের নবী বা রাসূল বলা হয়।
২৪.
‘খাতামুন নাবিইয়ীন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘খাতামুন নাবিইয়ীন’ শব্দের অর্থ নবীকুল শিরোমণি বা নবীদের সমাপ্তি (সর্বশেষ নবী)।
২৫.
জহির মিয়ার ধারণাটি ইসলামের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: জহির মিয়ার ধারণাটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও ধন-সম্পদ বণ্টনের নীতিমালার আলোকে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলাম মনে করে, মহাবিশ্বের এবং মানুষের সমস্ত ধন-সম্পদের প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। মানুষকে কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এগুলোর আমানতদার বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বানানো হয়েছে। আল-কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে— 'এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।' (সূরা আজ-যারিয়াত: ১৯)। জহির মিয়ার ধারণা যে এই সম্পদ সম্পূর্ণ তার নিজের অর্জিত এবং এতে দরিদ্রদের কোনো অধিকার নেই— এটি চরম অহংকার ও কারুনের চিন্তাধারার শামিল। এই মনোভাব মানুষকে কৃপণ ও অমানবিক করে তোলে এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। সম্পদশালী ব্যক্তিদের দায়িত্ব হলো যাকাত ও সাদকাহর মাধ্যমে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো। অতএব, জহির মিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ অনৈসলামিক এবং তা সমাজ ও ধর্মের পরিপন্থী।
২৬.
উদ্দীপকের শফিকের আচরণে কোন বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের শফিকের আচরণে কুফর-এর প্রকাশ ঘটেছে। কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা বা গোপন করা। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর গুণাবলি, বিধান বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোর কোনো একটিকে অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। শফিক নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ধৈর্যের পরিচয় না দিয়ে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে পড়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। শফিক তা না করে আল্লাহর প্রতি ঈমান হারিয়ে কুফরি আচরণ করেছে, যা তার পরকালীন জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক।
২৭.
আসমাউল হুসনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘আসমাউল হুসনা’ শব্দের অর্থ আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ। মহান আল্লাহ তাআলার গুণবাচক ও সুন্দর নামসমূহকে একত্রে আসমাউল হুসনা বলা হয়। আল-কুরআনে এসেছে, আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। যেমন: আর-রাহমান, আর-রাহীম, আল-গাফফুর ইত্যাদি।
২৮.
মুনাফিকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কয়টি?
উত্তর: মুনাফিকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ৩টি (কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে)।
২৯.
উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দুই ভাইয়ের আচরণের ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: আলেম সাহেবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দুই ভাইয়ের আচরণের ভিন্নতার কারণ হলো পরকালীন জবাবদিহিতা ও আকিদার প্রতি বিশ্বাসের গভীরতা। বড় ভাই সাদিক আলেম সাহেবের বক্তব্য শুনে পরকালের ভয় এবং মিযানের পাল্লায় পাপের শাস্তির কথা চিন্তা করে নিজের জীবনকে সংশোধন করেছে। তার বিশ্বাস ছিল দৃঢ়, যা তাকে পাপের পথ থেকে সরিয়ে সৎ পথে পরিচালিত করেছে। পক্ষান্তরে, ছোট ভাই লাবিব পরকাল ও মিযানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। তার বিশ্বাসের দুর্বলতার কারণে সে উদাসীন ও খেয়ালখুশিমতো জীবনযাপন করে চলেছে। আকিদার প্রতি বিশ্বাস মানুষের চরিত্র ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। সাদিকের মাঝে আখিরাতের ভয় জাগ্রত হওয়ায় সে সৎকর্মশীল হয়েছে, যা প্রতিটি মুমিনের আদর্শ হওয়া উচিত। অন্যদিকে লাবিবের উদাসীনতা তাকে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করার ঝুঁকিতে ফেলেছে। সুতরাং, পরকালের হিসাব ও মিযানের প্রতি বাস্তব বিশ্বাসই মানুষের নৈতিক আচরণ পরিবর্তনের মূল নিয়ামক, যা উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের ভিন্ন আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
৩০.
আলেম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের আকিদাগত কোন বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে আলেম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের আকিদাগত 'মিযান'-এর বিষয়টির ইঙ্গিত রয়েছে। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাকে আকিদা বলা হয়। পরকালের মানুষের আমলসমূহ পরিমাপের জন্য আল্লাহ তাআলা যে দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবেন, তাকেই মিযান বলে। মিযান হলো ন্যায়বিচারের প্রতীক। আলেম সাহেবের বক্তব্যে কিয়ামতের দিন মানুষের ভালো-মন্দ কাজের ওজন করার কথা বলা হয়েছে। যার নেকির পাল্লা ভারী হবে সে লাভ করবে জান্নাত, আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে। আলেম সাহেবের এই বর্ণনাটি সম্পূর্ণরূপে ইসলামি আকিদার মিযান ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে মানুষের পার্থিব জীবনের কৃতকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
৩১.
তাকদীরে বিশ্বাস করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর: তাকদীর অর্থ ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তাআলাই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণকারী। তাকদীরে বিশ্বাস করা আকাইদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ওপর বিশ্বাস রাখলে মানুষ চরম বিপদেও হতাশ হয় না এবং সুখে ও সাফল্যে অহংকারী হয় না। এটি মানুষকে ধৈর্যশীল ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল হতে শেখায়, তাই তাকদীরে বিশ্বাস করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
৩২.
‘শাফাআত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘শাফাআত’ শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুকম্পা বা প্রার্থনা করা।
৩৩.
মিনহাজ ব্যবসার ক্ষেত্রে যে হাদিসের অনুসরণ করেছেন তা নির্ধারণপূর্বক তাঁর স্ত্রীর উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মিনহাজ ব্যবসার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদিসের অনুসরণ করেছেন— "বিশ্বস্ত, সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহীদগণের সঙ্গে থাকবেন।" (ইবনে মাজাহ) মিনহাজ ভেজাল না করে ন্যায্যমূল্যে সততার সাথে ব্যবসা করেন। এজন্য তার স্ত্রী বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ীগণ কিয়ামতের দিন নবিগণের সঙ্গী হবেন। উপরিউক্ত হাদিসের প্রতিফলন তাঁর এ বক্তব্যে পাওয়া যায়। ব্যবসায় সততার মাধ্যমে মানুষ পার্থিব উন্নতি সাধন করে থাকে। জাগতিক উন্নতির মোহে মানুষ অনেক সময় অসৎ পথ বেছে নেয়। অর্থের লোভে ধোঁকা বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়। উক্ত হাদিসে ব্যবসায় সততা অবলম্বন করার প্রেক্ষিতে সততা ও বিশ্বস্ততা অবলম্বন করা প্রতিটি মুসলমান ব্যবসায়ীর জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য, যা মিনহাজের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে।
৩৪.
জনাব মুহাাইমিনের কাজটিকে কী হিসেবে গণ্য করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব মুহাাইমিনের কাজটিকে সাদকাহ বলে গণ্য করা যায়। রাসূল (স.)-এর হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত। মহানবি (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা কোনো ফসল আবাদ করে। এরপর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু ভক্ষণ করে তবে তা তার জন্য সাদকাহ হিসেবে গণ্য হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম) জনাব মুহাাইমিন প্রতিবছর তার গ্রামের রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করেন। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ উপকৃত হন। তিনি উক্ত হাদিসের ওপর আমল করেন। তাই তাঁর এ কাজটি সাদকাহ হিসেবে গণ্য হবে।
৩৫.
কীভাবে ফরজে কিফায়া সামষ্টিকভাব ফরজ কাজ? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ফরজে কিফায়া হলো সামষ্টিকভাব ফরজ কাজ। অর্থাৎ যেসব কাজ মুসলমানদের ওপর ফরজ; কিন্তু সমাজের কতিপয় মুসলমান যদি আদায় করে তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। কিছু লোকের আদায় করার দ্বারা সমাজের বাকি সবাই সে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায়। তবে যদি সমাজের কেউই আদায় না করে তবে সকলেই গুনাহগার হবে। যেমন— জানাযার সালাত।
৩৬.
‘হারাম’ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব কাজ বা বস্তু কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশে অবশ্য পরিত্যাজ্য, বর্জনীয় তাকে হারাম বলে।
৩৭.
জনাব ইরফান যে সূরার আলোকে তার সন্তানদের বোঝালেন তা চিহ্নিতপূর্বক ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব ইরফান উদ্দীপকে তার সন্তানদের সূরা আত-তীন-এর আলোকে বুঝিয়েছেন। সূরা আত-তীনের ৪, ৫ ও ৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে— "নিশ্চয় আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি। এরপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি সর্বনিম্নস্তরে। কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। তাদের জন্য তো রয়েছে অশেষ পুরস্কার।" জনাব ইরফানের বক্তব্য উক্ত আয়াতগুলোর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। জনাব ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্য হলো— "অসৎ কর্ম করলে মানুষ পশুর থেকেও নিম্ন স্তরে নেমে যায়।" তার এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অসৎ কর্ম মানুষের আত্মাকে কলুষিত করে। ফলে তার কাছে মন্দ কাজই ভালো লাগে। অন্যায় কাজ করে সে আনন্দ লাভ করে। তার বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়, তার পাশবিক সত্তা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তার কর্মকাণ্ড এতটাই নীচ ও ঘৃণ্য হয়, যা পশুর মধ্যেই দেখা যায়। অর্থাৎ অসৎকর্ম মানুষকে পশুতে পরিণত করে। তাই অসৎ কর্ম থেকে বিরত থাকা দরকার। তা না হলে মানুষের মানবিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হবে এবং পাশবিকতা বিস্তার ঘটবে।
৩৮.
জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের কোন সূরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের সূরা আদ-দুহার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। সূরা আদ-দুহার ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "সুতরাং আপনি ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হবেন না এবং প্রার্থীকে ধমক দিবেন না।" এ আয়াত দুটির শিক্ষা হলো ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গরিব-দুঃখী, ইয়াতিম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা। অভাবী, সাহায্যপ্রার্থী ও ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না। তাদের গালমন্দ কিংবা মারধর করা যাবে না এবং তাদের ধমকও দেওয়া যাবে না। বরং তাদের সাথে সর্বদা সদাচরণ করতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে জনাব ইমরানের নিকট একজন অসহায় লোক সাহায্যপ্রার্থী হলে তিনি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে তাকে সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করেন। ফলে তাঁর কাজে সূরা আদ-দুহার মূল শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
৩৯.
হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয় কেন?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা কুরআনে মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লের্ষণ করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে, 'তোমরা সালাত কায়েম কর।' কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কোন সময়ে সালাত আদায় করতে হবে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা আল-কুরআনে পাওয়া যায় না। বরং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সালাতের সমস্ত নিয়মকানুন তাঁর হাদিস বা হাদিসের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। তাই হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়।
৪০.
ইজমা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মাহর মধ্য হতে পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) একমত পোষণ করাকে ইজমা বলে।
৪১.
সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি চিহ্নিত করে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন। কেননা রাসূল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ। আল-কুরআনের গুরুত্ব অত্যধিক। এটা আমাদের প্রতি একটি নিয়ামত; যা পার্থিব জীবনে চলার যাবতীয় দিকনির্দেশনা এবং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশ দেয়। আল-কুরআন হলো একটি কল্যাণময় কিতাব যার থেকে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন চিন্তাশীল ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন— "وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ" অর্থ: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" (সূরা আল-কামার : ২২)। তাই একজন ফরাসি পণ্ডিত যথার্থই বলেছেন, 'কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।' কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাই রাসূল (স.) বলেছেন, "আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।" (বায়হাকি) সর্বোপরি কুরআন মানুষকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত করে। তাই সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন।
৪২.
দৃশ্যপট : ১ এ মতি মিয়ার চরিত্রে কোন সূরার শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এ মতি মিয়ার চরিত্রে সূরা আল-মাউন-এর শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। সূরা আল-মাউনে আল্লাহ তাআলা যে বিষয়গুলো শিক্ষা দিয়েছেন, তা হলো বিচার দিবসকে অস্বীকার করা জঘন্য কাজ। এটি কাফির মুনাফিকদের কাজ। ইয়াতিম ও দুস্থদের তাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। ইয়াতিম, মিসকিনদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে উৎসাহ দিতে হবে। কোনোক্রমেই সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না। বরং বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সালাত আদায় করতে হবে। সালাতে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহাধ্বংস। উদ্দীপকের মতি মিয়া ভাইকে দেখানোর জন্য নামায পড়েছে এবং প্রতিবেশীকে কোনো সাহায্য না করায় এ সূরার শিক্ষায় সুস্পষ্ট লঙ্ঘন লক্ষ করা যায়।
৪৩.
শানে নুযূল জানা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শানে নুযূল হলো সূরা বা আয়াত নাজিলের পটভূমি। শানে নুযূল জানার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এর উল্লেখযোগ্য হলো— ক. এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়। খ. আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ अवगत হওয়া যায়।
৪৪.
‘ফরজে আইন’ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে।
৪৫.
জনাব ইরফান যে সূরার আলোকে তার সন্তানদের বোঝালেন তা চিহ্নিতপূর্বক ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব ইরফান যে সূরার আলোকে তার সন্তানদের বোঝালেন তা চিহ্নিতপূর্বক ইরফানের সর্বশেষ বক্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। জনাব ইরফান উদ্দীপকে তার সন্তানদের সূরা আত-তীন-এর আলোকে বুঝিয়েছেন। সূরার সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎপর্য হলো সৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা ধরে রাখতে পারে। পক্ষান্তরে অসৎ কর্মের মাধ্যমে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে পৌঁছে যায়। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সুন্দরতম করে সৃষ্টি করেছেন। তাকে দান করেছেন বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান। তাকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা দিয়েছেন। আর এ কারণে মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়। সুন্দর আকৃতি এবং শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতার পাশাপাশি মানুষকে সুন্দর আচরণ ও চারিত্রিক গুণের অধিকারী হতে হবে। যদি কোনো মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ-নিষেধ অমান্য করে এবং অসৎ কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়। তখন তার স্থান হয় জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। সুতরাং মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে অবশ্যই ঈমান আনতে হবে এবং নেক আমল করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, সৎকর্মশীল মানুষই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার অধিকারী।
৪৬.
জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের কোন সূরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব ইমরানের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের সূরা আদ-দুহার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। সূরা আদ-দুহার ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "সুতরাং আপনি ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হবেন না এবং প্রার্থীকে ধমক দিবেন না।" এ আয়াত দুটির শিক্ষা হলো ধনী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত গরিব-দুঃখী, ইয়াতিম ও ভিক্ষুকদের কল্যাণ করা। অভাবী, সাহায্যপ্রার্থী ও ইয়াতিমদের প্রতি কঠোর হওয়া যাবে না। তাদের গালমন্দ কিংবা মারধর করা যাবে না এবং তাদের ধমকও দেওয়া যাবে না। বরং তাদের সাথে সর্বদা সদাচরণ করতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে জনাব ইমরানের নিকট একজন অসহায় লোক সাহায্যপ্রার্থী হলে তিনি কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে তাকে সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করেন। ফলে তাঁর কাজে সূরা আদ-দুহার মূল শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
৪৭.
হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয় কেন?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা কুরআনে মজিদে বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। আর মহানবি (স.) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে এসব বিধিবিধান ও বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে, 'তোমরা সালাত কায়েম কর।' কিন্তু কোথায়, কীভাবে, কোন সময়ে সালাত আদায় করতে হবে এর কোনো পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা আল-কুরআনে পাওয়া যায় না। বরং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সালাতের সমস্ত নিয়মকানুন তাঁর হাদিস বা হাদিসের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। তাই হাদিসকে আল-কুরআনের ব্যাখ্যা বলা হয়।
৪৮.
ইজমা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো বিষয়ে একই যুগের মুসলিম উম্মাহর মধ্য হতে পুণ্যবান মুজতাহিদগণের (গবেষক) একমত পোষণ করাকে ইজমা বলে।
৪৯.
সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি চিহ্নিত করে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন। কেননা রাসূল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফও পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে। আর এ নেকির পরিমাণ হলো দশ গুণ। আল-কুরআনের গুরুত্ব অত্যধিক। এটা আমাদের প্রতি একটি নিয়ামত; যা পার্থিব জীবনে চলার যাবতীয় দিকনির্দেশনা এবং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশ দেয়। আল-কুরআন হলো একটি কল্যাণময় কিতাব যার থেকে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন চিন্তাশীল ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন— "وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ" অর্থ: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" (সূরা আল-কামার : ২২)। তাই একজন ফরাসি পণ্ডিত যথার্থই বলেছেন, 'কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।' কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাই রাসূল (স.) বলেছেন, "আমার উম্মতের উত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।" (বায়হাকি) সর্বোপরি কুরআন মানুষকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতে উদ্ভাসিত করে। তাই সাদিয়ার প্রাধান্য দেওয়া গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন।
৫০.
দৃশ্যপট : ১ এ মতি মিয়ার চরিত্রে কোন সূরার শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এ মতি মিয়ার চরিত্রে সূরা আল-মাউন-এর শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। সূরা আল-মাউনে আল্লাহ তাআলা যে বিষয়গুলো শিক্ষা দিয়েছেন, তা হলো বিচার দিবসকে অস্বীকার করা জঘন্য কাজ। এটি কাফির মুনাফিকদের কাজ। ইয়াতিম ও দুস্থদের তাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে। 'ইয়াতিম, মিসকিনদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলকে উৎসাহ দিতে হবে। কোনোক্রমেই সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না। বরং বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সালাত আদায় করতে হবে। সালাতে উদাসীন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মহাধ্বংস। উদ্দীপকের মতি মিয়া ভাইকে দেখানোর জন্য নামায পড়েছে এবং প্রতিবেশীকে কোনো সাহায্য না করায় এ সূরার শিক্ষায় সুস্পষ্ট লঙ্ঘন লক্ষ করা যায়।
৫১.
শানে নুযূল জানা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শানে নুযূল হলো সূরা বা আয়াত নাজিলের পটভূমি। শানে নুযূল জানার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এর উল্লেখযোগ্য হলো— ক. এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়। খ. আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ অবগত হওয়া যায়।
৫২.
‘ফরজে আইন’ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব ফরজ বিধান সকলের ওপর পালন করা অত্যাবশ্যক তাকে ফরজে আইন বলে।
৫৩.
আমান সাহেবের বক্তব্যটিতে কোন সূরার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখপূর্বক তার শেষ বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে আমান সাহেবের বক্তব্যটিতে সূরা আল-ইনশিরাহ-এর শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। সূরা আল-ইনশিরাহ মক্কি সূরাসমূহের অন্যতম। এর আয়াত সংখ্যা ৮টি। এ সূরায় মহান আল্লাহ দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদের সময় ধৈর্যধারণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। উদ্দীপকে আমান সাহেবের শেষোক্ত বক্তব্যটি হলো, মানবজীবনে সুখ-দুঃখ থাকবেই। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, জীবন কখনো চিরসুখের হয় না। বরং সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন। সুতরাং দুঃখ ও কষ্টে হতাশ হওয়া যাবে না। বরং ধৈর্যসহকারে এর মোকাবিলা করতে হবে। সেই সাথে নিজের করণীয় কর্তব্য পালন করে যেতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, সুখ-দুঃখ মেনে নিয়েই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। হতাশ হয়ে বসে থাকা যাবে না। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। তাই সময়কে কাজে লাগাতে হবে এবং দায়িত্ব কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
৫৪.
সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোন সূরার শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে সূরা আল-মাউনের শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। সূরা আল-মাউন আল-কুরআনের ১০৭তম সূরা। এই সূরায় মহান আল্লাহ কাফির ও মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও কাজের বর্ণনা দিয়েছেন। পাশাপাশি মানুষকে এহেন কাজ সম্পর্কে সতর্কও করেছেন। উদ্দীপকে সাজিদ সাহেবের মতো ব্যক্তিদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা আল-মাউন নাযিল করেছেন। সূরা আল-মাউনের শিক্ষা হলো এতিম ও দুস্থদের তাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং তাদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে এবং এ ব্যাপারে অন্যদেরও উৎসাহ দিতে হবে। এই সূরার আরও শিক্ষা হলো, কোনোক্রমেই সালাতে অবহেলা করা যাবে না। লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করা যাবে না। বরং বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে। কিন্তু সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ড এসবের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই বলা যায়, সাজিদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে সূরা আল-মাউনের শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে।
৫৫.
কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর বিধিবিধান সম্পর্কে জানা যায়। পবিত্র কুরআন হলো সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষা আয়ত্ত করা যায়। সঠিকভাবে ইসলামি জীবনযাপন করা যায়। কুরআন তিলাওয়াত করে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লাভ করা যায়। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “আমার উম্মতের উত্তম (নফল) ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত।”
৫৬.
শরীয়ত কী?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় শরীয়ত হলো ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতি।
৫৭.
সূরা আল-মাউনের শিক্ষার আলোকে জনাব 'খ'-এর স্ত্রীর পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সূরা আল-মাউনের শিক্ষার আলোকে বলা যায়, জনাব 'খ'-এর স্ত্রী ভয়াবহ দুর্ভাগের শিকার হবে। সূরা আল-মাউন পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সূরা এবং এ সূরার আয়াত সংখ্যা ৭টি। মহান আল্লাহ এ সূরায় কাফির ও মুনাফিকদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও কাজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং এসব ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করেছেন। উদ্দীপকে জনাব 'খ'-এর স্ত্রী তার এক প্রতিবেশীকে একটু লবণ দিয়ে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছে। তার এহেন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা আল-মাউনের ৪নং ও ৭নং আয়াতে যথাক্রমে বলেন, “সুতরাং দুর্ভোগ (ধ্বংস) সেই সালাত আদায়কারীদের এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাটো বস্তু অন্যকে দেয় না।” যারা না চাইতেও আয়াতে আল্লাহর তীব্র অভিশাপ করেছেন। এরূপ ব্যক্তিরা আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করতে পারে না। পরিশেষে বলা যায়, জনাব 'খ'-এর স্ত্রী তার এহেন কাজের দরুন দুনিয়াতে আল্লাহর দয়া থেকে বঞ্চিত হবে। নানা দুর্ভাগের শিকার হবে। পরকালেও তিরস্কৃত হবে।
৫৮.
জনাব 'খ'-এর কাজটি কোন সূরার শিক্ষার পরিপন্থী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব 'খ'-এর কাজটি সূরা আদ-দুহার শিক্ষার পরিপন্থী। সূরা আদ-দুহা আল-কুরআনের ৯৩তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১। এ সূরায় মানুষকে কিছু নৈতিক উপদেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে জনাব 'খ' এক ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দিয়ে বরং ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ সূরা আদ-দুহার ১০নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ অর্থ : এবং (সাহায্য) প্রার্থীকে ধমক দেবেন না। অর্থাৎ কেউ যদি ভিক্ষা চায় বা কোনো সাহায্য চায় তাহলে তাকে ধমক দেওয়া যাবে না। বরং সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করতে হবে। তাও না পারলে হাসিমুখে বিদায় দিতে হবে। কিন্তু উদ্দীপকে জনাব 'খ' এ শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করেছেন। তাই বলা যায়, জনাব 'খ' সূরা আদ-দুহার শিক্ষার পরিপন্থী কাজ করেছেন।
৫৯.
“কোনোকিছুই তাঁর সদৃশ নয়”- এ আয়াতটির মর্মার্থ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত আয়াতের মর্মার্থ হলো কোনোকিছুই মহান আল্লাহর সমতুল্য নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “কোনোকিছুই তাঁর সদৃশ নয়।” অর্থাৎ আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি সকল ক্ষমতার মালিক। তিনি যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। তাঁর এ গুণ ও ক্ষমতা তাঁর সমতুল্য দ্বিতীয় আর কেউ নেই।
৬০.
শরীয়ত কী?
উত্তর: শরীয়ত হলো ইসলামী কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতি।
৬১.
হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিণতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অত্যন্ত জঘನ್ಯ, পাপের কাজ এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের আলোকে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। হুসাইন সালাত আদায় করলেও ব্যবসায় ওজনে কম দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে এবং মাপে কম দিয়ে অবৈধভাবে অধিক মুনাফা অর্জন করে। ইসলামে ওজনে বা মাপে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মুতাফফিফিনের ১-৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয়, আর যখন তাদের মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।' একই সাথে ওজনে কম দেওয়াকে পূর্ববর্তী বহু জাতির ধ্বংসের কারণ হিসেবে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন- হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের কওম)। Targeted ব্যবসায়িক সততা ও জবাবদিহিতা লঙ্ঘন করে হুসাইন অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করে, যা ধোঁকাবাজির শামিল। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)। হুসাইনের মতো অসৎ ব্যবসায়ীদের উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ হারাম এবং হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে হাদিসে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন অসৎ ব্যবসায়ীরা চরম লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। অতএব, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা না করলে আখেরাতে হুসাইনের জন্য কঠিন আজাব নির্ধারিত রয়েছে। তাই তার এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
৬২.
হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের ক্ষমা, ধৈর্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের মহান নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের শিক্ষার সাথে হুবহু মিলে যায়। ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও হাসান রাগ না করে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং প্রতিবেশীর হেদায়েত কামনা করেছে। এটি আমাদের প্রিয়নবি (স.)-এর মক্কার জীবনে বুড়ি কর্তৃক যাতায়াতের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে নবিজি (স.) বুড়ির অসুস্থতায় তার সেবা করেছিলেন। হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে কঠোর তাগিদ রয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, 'কসম আল্লাহর! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার অনিষ্ট ও কষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।' (সহিহ বুখারি)। হাসান প্রতিবেশীর অন্যায়ের জবাবে অন্যায় না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছে ও উত্তম আচরণের পরিচয় দিয়েছে, যা হাদিসের প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা।
৬৩.
কুরআন মাজিদ সংরক্ষণে হযরত আবু বকর (রা.)-এর অবদান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফিজে কুরআন সাহাবি শহিদ হন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলন ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। প্রথমে দ্বিধাবোধ করলেও পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা.) এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কুরআনের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করে গ্রন্থাকারে প্রথম পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করেন।
৬৪.
'আল-হাদি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'আল-হাদি' শব্দের অর্থ হলো— পথপ্রদর্শক, হেদায়েতকারী ইত্যাদি।
৬৫.
হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিণতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হুসাইনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অত্যন্ত জঘন্য, পাপের কাজ এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের আলোকে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। হুসাইন সালাত আদায় করলেও ব্যবসায় ওজনে কম দেয়, ভেজাল পণ্য বিক্রি করে এবং মাপে কম দিয়ে অবৈধভাবে অধিক মুনাফা অর্জন করে। ইসলামে ওজনে বা মাপে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মুতাফফিফিনের ১-৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয়, আর যখন তাদের মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।' একই সাথে ওজনে কম দেওয়াকে পূর্ববর্তী বহু জাতির ধ্বংসের কারণ হিসেবে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন- হযরত শুআইব আলাইহিস সালামের কওম)। Targeted ব্যবসায়িক সততা ও জবাবদিহিতা লঙ্ঘন করে হুসাইন অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করে, যা ধোঁকাবাজির শামিল। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)। হুসাইনের মতো অসৎ ব্যবসায়ীদের উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ হারাম এবং হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে হাদিসে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন অসৎ ব্যবসায়ীরা চরম লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। অতএব, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা না করলে আখেরাতে হুসাইনের জন্য কঠিন আজাব নির্ধারিত রয়েছে। তাই তার এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
৬৬.
হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে? হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের হাসানের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের ক্ষমা, ধৈর্য এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের মহান নৈতিক আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের শিক্ষার সাথে হুবহু মিলে যায়। ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও হাসান রাগ না করে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং প্রতিবেশীর হেদায়েত কামনা করেছে। এটি আমাদের প্রিয়নবি (স.)-এর মক্কার জীবনে বুড়ি কর্তৃক যাতায়াতের পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে নবিজি (স.) বুড়ির অসুস্থতায় তার সেবা করেছিলেন। হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে কঠোর তাগিদ রয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, 'কসম আল্লাহর! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার অনিষ্ট ও কষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।' (সহিহ বুখারি)। হাসান প্রতিবেশীর অন্যায়ের জবাবে অন্যায় না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছে ও উত্তম আচরণের পরিচয় দিয়েছে, যা হাদিসের প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা।
৬৭.
কুরআন মাজিদ সংরক্ষণে হযরত আবু বকর (রা.)-এর অবদান ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মহানবি (স.)-এর ইন্তেকালের পর ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফিজে কুরআন সাহাবি শহিদ হন। এতে হযরত উমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-কে কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলন ও সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। প্রথমে দ্বিধাবোধ করলেও পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা.) এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কুরআনের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করে গ্রন্থাকারে প্রথম পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করেন।
৬৮.
'আল-হাদি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'আল-হাদি' শব্দের অর্থ হলো— পথপ্রদর্শক, হেদায়েতকারী ইত্যাদি।
৬৯.
শফিকের ব্যবসায়িক মনোভাব ও কার্যক্রম ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের শফিকের ব্যবসায়িক মনোভাব ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ, অনৈতিক এবং ইসলামের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিধানের পরিপন্থী। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল এবং একটি উৎকৃষ্ট পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও মাপে কম দেওয়া, পণ্যে ভেজাল মেশানো এবং কৃত্রিম উপায়ে অধিক মুনাফা লোটার মানসিকতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। শফিক মনে করে যে ব্যবসায়িক লাভই একমাত্র লক্ষ্য এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের সাথে ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই— তার এই ধারণা চরম বিভ্রান্তিকর। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যদি তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী হয়। শফিক মাপে কম দেয়, অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সূরা আর-রাহমানে ঘোষণা করেছেন, 'তোমরা ওজনে কম দিও না।' এবং সূরা আল-মুতাফফিফিনে ওজনে কমদাতাদের জন্য কঠোর ধ্বংসের বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাছাড়া শফিক অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করে, যা ধোঁকাবাজির শামিল। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সহিহ মুসলিম)। ইসলামি অর্থনীতিতে সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং হালাল উপায়ে অর্জিত মুনাফাকে বরকতময় করা হয়েছে, পক্ষান্তরে অসদুপায় ও প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। অতএব, শফিকের এই অনৈতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ধর্মবিমুখ মনোভাব দুনিয়াতে মানুষের আস্থা হারানোর পাশাপাশি আখিরাতেও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করবে। তাই তার এই কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
৭০.
রাফিকের আমবাগান করার কাজটি হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের রাফিকের আমবাগান করা এবং তা থেকে পরিবেশ ও মানুষের উপকৃত হওয়ার বিষয়টি ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাদিসের আলোকে রাফিকের এই চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজটি 'সদকায়ে জারিয়া' বা চলমান দান হিসেবে গণ্য হবে। হাদিস শরিফে বৃক্ষরোপণের ফজিলত সম্পর্কে প্রিয়নবি (স.) ইরশাদ করেছেন, 'কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষরোপণ করে কিংবা ফসল আবাদ করে, আর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু কিছু ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।' (সহিহ বুখারি)। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফিকের বাগানের আম পরিবারের চাহিদা পূরণ করছে, উদ্বৃত্ত আম বাজারে বিক্রি করে সে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং একই সাথে গ্রামের ক্লান্ত মানুষেরা সেই গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে ও পাখিরা ফল খাচ্ছে। অতএব, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী রাফিকের এই জনকল্যাণমূলক কাজটি সরাসরি হাদিসের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন এবং পরকালে এর জন্য সে বিপুল সওয়াব লাভ করবে।
৭১.
আল-কুরআনকে মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো বলা হয় কেন?
উত্তর: আল-কুরআন হলো মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী যা মানবজাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও মুক্তির পথপ্রদর্শক। এটি মানুষকে অন্ধকার, কুসংস্কার ও পথভ্রষ্টতা থেকে বের করে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের সরল পথ প্রদর্শন করে। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সর্বক্ষেত্রের সঠিক দিকনির্দেশনা আল-কুরআনে বিদ্যমান। তাই আল-কুরআনকে মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো বা 'নূর' বলা হয়।
৭২.
হাদিস শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হাদিস শব্দের অর্থ হলো— বাণী, কথা, নতুন, প্রাচীন রীতির পরিবর্তন ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় মহানবি (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলা হয়।
৭৩.
জনাব 'খ'-এর উক্তিটির যথার্থতা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাব 'খ'-এর উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ এবং এটি সুরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতের খণ্ডিতাংশ, যেখানে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন।' ইসলামে হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনকে ইবাদতের সমতুল্য করা হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে জীবিকা অর্জনের অন্যতম প্রধান ও উৎকৃষ্ট মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জনাব 'খ' একজন আদর্শ ও সৎ ব্যবসায়ী। তিনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন, মাপে কম দেন না এবং পণ্যে কোনো প্রকার ভেজাল মেশান না। তাঁর এই সততাপূর্ণ আচরণ প্রিয়নবি (স.)-এর সুন্নাহর হুবহু প্রতিফলন। মহানবি (স.) সৎ ব্যবসায়ীদের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবিগণ, সিদ্দিকগণ এবং শহিদগণের সঙ্গী হবেন।' (জামে আত-তিরমিযী)। বিপরীতপক্ষে, ইসলামে সূদ, ঘুষ, ভেজাল এবং মাপে কম দেওয়াকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম করা হয়েছে। কারণ এগুলো সমাজে শোষণ, বৈষম্য এবং অশান্তির সৃষ্টি করে। জনাব 'খ' আল্লাহর এই বিধানকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং নিজের ব্যবসায়িক জীবনে তা বাস্তবায়ন করেছেন। এর ফলে তিনি যেমন দুনিয়াতে মানুষের আস্থা ও সম্মান লাভ করেছেন, তেমনি পরকালেও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত ও সর্বোত্তম প্রতিদান লাভ করবেন। অতএব, তাঁর উক্তি ও কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে ইসলামি অর্থনীতি ও জীবনদর্শনের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ এবং শতভাগ যথার্থ।
৭৪.
জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড শরিয়তের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ, গুনাহের কাজ এবং এটি ইসলামের অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাকে ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'এহতিকার' বা 'মজুতদারি' বলা হয়। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল ও উৎসাহিত করা হলেও মজুতদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহানবি (স.) এ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি চাল-ডাল বা খাদ্যশস্য মজুত রাখে, সে অপরাধী বা পাপী।' (সহিহ মুসলিম)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি পণ্যদ্রব্য আমদানি করে সে রিজিকপ্রাপ্ত হয়, আর যে মজুতদারি করে সে অভিশপ্ত।' সুতরাং, জনাব 'ক'-এর এই কর্মকাণ্ড সমাজবিরোধী ও চরম অমানবিক কাজ, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ।
৭৫.
'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে'— বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মহান আল্লাহ সূরা আল-ইনশিরাহ-এর ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।' এটি একটি চিরন্তন সত্য বাণী। মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট আসতেই পারে। কিন্তু এ অবস্থায় ভেঙে পড়া যাবে না। কেননা, চরম দুঃখের পরেই পরম সুখের আগমন ঘটে। মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবিগণ দীন প্রচার করতে গিয়ে কাফিরদের দ্বারা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও কষ্টের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে সুখ, স্বস্তি ও মক্কা বিজয়ের মতো মহাসাফল্য দান করেছিলেন। সুতরাং, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বস্তি ও সফলতা আসবেই।
৭৬.
নাস্ (نص) শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নাস্ (نص) শব্দের অর্থ হলো— স্পষ্ট প্রমাণ, সুনির্দিষ্ট বিধান ইত্যাদি।
১.
জনাব ‘ক’-এর ধারণার অসারতা প্রমাণে মহাবিশ্বের সৃষ্টির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব ‘ক’-এর ধারণার অসারতা প্রমাণে মহাবিশ্বের সৃষ্টির যৌক্তিকতা অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং অকাট্য। জনাব 'ক' মনে করেন একটি সুন্দর ছবি কোনো চিত্রশিল্পী ছাড়া এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অযৌক্তিক। এই বাস্তবতার আলোকে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমাদের এই বিশাল পৃথিবী, সূর্য, নক্ষত্ররাজি এবং মহাবিশ্বের কোটি কোটি গ্যালাক্সি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে আবর্তিত হচ্ছে। যদি কোনো চালক বা স্রষ্টা না থাকত, তবে গ্রহগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটত এবং বিশ্বজগৎ ধ্বংস হয়ে যেত। আল-কুরআনে বলা হয়েছে— 'যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া: ২২)। অতএব, একটি ক্ষুদ্র বস্তুর সৃষ্টির পেছনে যদি কারিগরের প্রয়োজন হয়, তবে এই অনন্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টির পেছনে একজন মহান স্রষ্টা অবশ্যই আছেন। সুতরাং, স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকারকারী জনাব 'ক'-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ অসার, ভিত্তিহীন ও যুক্তি পরিপন্থী।
২.
উদ্দীপকের বন্ধুমহলের উক্তিটি তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের বন্ধুমহলের উক্তিটি তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। মহাবিশ্ব এবং এর মধ্যকার সবকিছুর একজন স্রষ্টা আছেন, যিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা। একটি সামান্য ছবি যদি চিত্রশিল্পী ছাড়া এমনি এমনি তৈরি হতে না পারে, তবে এই বিশাল ও সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব, গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য কোনো স্রষ্টা ছাড়া কীভাবে সৃষ্টি হতে পারে? বন্ধুমহল যখন জনাব 'ক'-এর অবাস্তব দাবি (ছবিটি এমনি এমনি তৈরি হয়েছে) শুনে তাকে পাগল বলল, তখন তারা মূলত যুক্তি ও স্বভাবজাত বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্রষ্টার অস্তিত্বকে সমর্থন করল। ইসলামের তাওহীদ শিক্ষা দেয় যে, মহাবিশ্বের এই সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা একজন পরম একক সত্তার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ, যা বন্ধুমহলের বক্তব্যের মূল সুর।
৩.
নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: যাঁদের নিকট আসমাউল কিতাব এসেছে এবং নতুন শরিয়ত প্রদত্ত হয়েছে, তাঁদের রাসূল বলা হয়। আর যাঁদের নিকট কোনো নতুন কিতাব বা শরিয়ত আসেনি, বরং পূর্ববর্তী রাসূলের শরিয়ত প্রচার ও পুনরুজ্জীবিত করতেন, তাঁদের নবী বলা হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন।
৪.
আসমাউল হুসনা কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম গুণবাচক নামসমূহকে একত্রে আসমাউল হুসনা বলা হয়।
১.
জনাব কামাল সাহেবের কাজের সামাজিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব কামাল সাহেবের কাজের সামাজিক তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং মানবিক মূল্যবোধের এক অনুপম দৃষ্টান্ত। কামাল সাহেবের ওপর যাকাত ফরজ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে এলাকার অভাবী ও গরিবদের নিয়মিত দান-সদকা ও সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন, যা মূলত 'সদকায়ে নাফেলা' বা নফল দানের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর এই মহতী কাজের ফলে সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষগুলো চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার জন্য আর্থিক ও মানসিক অবলম্বন খুঁজে পায়। এর ফলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার অন্যায় বৈষম্য এবং ক্ষোভ দূর হয় এবং পারস্পরিক মায়া, মমতা, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। ইসলামে নিঃস্বার্থ সৃষ্টির সেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি বিশেষ তাকিদ দেওয়া হয়েছে। কামাল সাহেবের এই নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস করতে এবং একটি সুশৃঙ্খল, ভালোবাসাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ মানবিক সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
২.
জনাব জামিলের কর্মকাণ্ডে শরিয়তের কোন বিধানের অবমাননা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব জামিলের কর্মকাণ্ডে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ 'যাকাত'-এর সুস্পষ্ট অবমাননা ও লঙ্ঘন প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, কোনো স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছরকাল অতিবাহিত হলে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। উদ্দীপকে জনাব জামিল বিত্তশালী হওয়া সত্ত্বেও কৃপণতা করে যাকাত আদায় করেন না এবং মনে করেন নিজের কষ্টার্জিত টাকা অন্যকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। এটি আল্লাহর অকাট্য বিধানকে সরাসরি অস্বীকার ও অগ্রাহ্য করার শামিল, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
৩.
জিহাদ ও সন্ত্রাসের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: জিহাদ ও সন্ত্রাসের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। জিহাদ হলো ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের প্রতিরোধ, আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখা এবং সমাজ সংস্কারের জন্য সাধ্যানুযায়ী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) কর্তৃক অনুমোদিত। পক্ষান্তরে, সন্ত্রাস হলো অবৈধ উপায়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করা, যা সম্পূর্ণরূপে মানবতাবিরোধী এবং ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম।
৪.
সাওম ঢালস্বরূপ কেন?
উত্তর: ঢাল যেমন যুদ্ধে শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি সাওম মানুষকে দুনিয়ার সব রকম গুনাহ, মন্দ কাজ এবং পরকালের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে বলে একে ঢালস্বরূপ বলা হয়েছে।
৫.
মোস্তফা সাহেবের মনোভাবের পরিণতি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মোস্তফা সাহেবের মনোভাব ও যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক, যা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কঠোরভাবে নিন্দিত এবং পরকালে কঠিন আজাবের কারণ। মোস্তফা সাহেব অহংকার ও কৃপণতাবশত মনে করেন যে নিজের বুদ্ধিমত্তায় অর্জিত টাকা অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যা আল্লাহর অবাধ্যতার শামিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, 'আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে তা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং তা তাদের জন্য অত্যন্ত অমঙ্গল। তারা যাতে কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে।' (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০)। সুন্নাহ বা হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি অতি বিষধর সাপের রূপ দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সাপটি তাকে দংশন করতে করতে বলবে, 'আমিই তোমার ধন, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।' (বুখারি)। অতএব, মোস্তফা সাহেবের এই মনোভাব কেবল দুনিয়াতে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কৃপণতার পাপ বাড়ায় না, বরং পরকালীন জীবনে তাকে চরম লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের অনিবার্য শাস্তির মুখোমুখি করবে।
৬.
সালেহ সাহেবের বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সালেহ সাহেবের বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও অকাট্য। সালেহ সাহেব বিশ্বাস করেন যে যাকাত দিলে সম্পদ হ্রাস পায় না, বরং তা পবিত্র ও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় 'যাকাত' শব্দের অর্থই হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে যাকাত দাও, তা মূলত তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে।' (সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৯)। এছাড়া হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, 'সদকা বা যাকাত প্রদানের দ্বারা সম্পদ কখনো কমে না।' যাকাত দিলে আল্লাহ সম্পদে বরকত দান করেন এবং তা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সব ধরণের অপবিত্রতা ও অমঙ্গল থেকে রক্ষা পায়। তাই সালেহ সাহেবের বিশ্বাসটি শতভাগ শরিয়তসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত।
৭.
হাক্কুল ইবাদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাক্কুল ইবাদ হলো বান্দার হক বা মানুষের প্রতি মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব। ইসলামে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত বা আল্লাহর হক আদায় করলেই চলে না, পাশাপাশি সৃষ্টির সেবা ও পারস্পরিক মানবীয় অধিকার রক্ষা করাও আবশ্যক। মানুষের প্রতি মানুষের এই হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে; যেমন— নিকটাত্মীয়ের হক, প্রতিবেশীর হক, অভাবী লোকের হক ইত্যাদি। বান্দার হক নষ্ট করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দা নিজে তা ক্ষমা করে।
৮.
'সাওম' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা।
৯.
জনাব 'এক্স'-এর বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব 'এক্স'-এর বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে সম্পূর্ণ নির্ভুল, যুক্তিযুক্ত এবং প্রশংসনীয়। তিনি বিশ্বাস করেন একজন মুমিনের পুরো জীবনটাই ইবাদত হতে পারে, যা ইসলামের মূল শিক্ষার সাথে শতভাগ সংগতিপূর্ণ। ইসলামে ইবাদতকে কেবল নির্দিষ্ট উপাসনালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। জনাব 'এক্স' একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ওজনে কম না দেওয়া, হালাল পণ্য বিক্রি করা এবং সততা বজায় রাখার মাধ্যমে সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, 'সততা ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গী হবেন।' (তিরমিজি)। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, একজন মুমিন যখন তার জীবিকা নির্বাহ, পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক লেনদেন আল্লাহর আইন মেনে সম্পন্ন করে, তখন তার প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং, জনাব 'এক্স'-এর সামগ্রিক জীবনকে ইবাদতের আওতাভুক্ত মনে করার বিশ্বাসটি ইসলামী শরিয়তের অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত ও সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
১০.
জনাব 'ওয়াই'-এর ধারণার সাথে ইবাদতের প্রকৃত পরিধির বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
উত্তর: জনাব 'ওয়াই'-এর ধারণা ইবাদতের প্রকৃত ও ব্যাপক পরিধির সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ এবং আংশিক। 'ওয়াই' মনে করেন ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের মতো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের গণ্ডি অত্যন্ত ব্যাপক। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (Complete Code of Life)। ইবাদতের স্তম্ভ বা রুকনগুলো পালন করার পর মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি বৈধ কাজই ইবাদতে পরিণত হতে পারে, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করা হয়। যেহেতু জনাব 'ওয়াই' আনুষ্ঠানিক ইবাদতের পর অনৈতিক পন্থায় অর্থ উপার্জন করেন ও খেয়ালখুশিমতো চলেন, তাই তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি সামগ্রিক ও প্রকৃত ইবাদতের ধারণার সাথে চরমভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
১১.
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন কেবল একমাত্র তাঁরই ইবাদত, দাসত্ব ও আনুগত্য করার জন্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, 'আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।' (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)। এর মূল তাৎপর্য হলো মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলবে।
১২.
ইবাদত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইবাদত শব্দের অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য, বশ্যতা স্বীকার করা বা বন্দনা করা।
১৩.
সালমান সাহেবের মনোভাবের পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সালমান সাহেবের মনোভাব ও যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, যা কুরআন ও হাদিসের আলোকে কঠোরভাবে নিন্দিত এবং পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ। সালমান সাহেব কৃপণতা ও বিলাসী মনমানসিকতার কারণে মনে করেন যে কষ্টার্জিত সম্পদ অন্যকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও বিধানের সরাসরি অবাধ্যতা। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, 'আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাঁদের দিয়েছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে তা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং তা তাদের জন্য অত্যন্ত অমঙ্গল। তারা যাতে কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে।' (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০)। হাদিস শরিফেও এসেছে, যে ব্যক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি বিষধর সাপের রূপ দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সাপটি তাকে দংশন করতে করতে বলবে, 'আমিই তোমার ধন, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।' (বুখারি)। অতএব, সালমান সাহেবের এই মনোভাব কেবল সামাজিক বৈষম্যই বাড়ায় না, বরং পরকালীন জীবনে তাঁকে চরম লাঞ্ছনা ও জাহান্নামের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করবে।
১৪.
আহসান সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আহসান সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের অন্যতম মৌলিক ও আর্থিক ফরজ ইবাদত 'যাকাত' প্রতিফলিত হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলমান যদি নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক পণ্য) সম্পদের মালিক হন এবং তা যদি তাঁর কাছে এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, তবে সেই সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ (শতকরা আড়াই ভাগ) নির্ধারিত খাতে অভাবী ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা আবশ্যক। উদ্দীপকে আহসান সাহেব প্রতি বছর নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ হিসাব-নিকাশ করে নির্দিষ্ট খাতে বণ্টন করে দেন এবং বিশ্বাস করেন এর মাধ্যমে সম্পদের প্রবৃদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জিত হয়, যা যাকাতের হুবহু মূল বাণী ও বাস্তবায়নকেই নির্দেশ করে।
১৫.
যাকাতের নামকরণের সার্থকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বছরান্তে তাঁর সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (২.৫০%) আল্লাহর নির্ধারিত খাতে দান করার মাধ্যমে নিজের অবশিষ্ট সম্পদকে লোভ, কৃপণতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেন। একই সাথে এই দানের ফলে সমাজে দরিদ্রদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বরকত ও প্রবৃদ্ধি ঘটে। অর্থ ও উদ্দেশ্য উভয় দিক থেকেই এই পবিত্রতা ও বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকার কারণে একে যাকাত নামকরণ করা সম্পূর্ণ সার্থক ও যৌক্তিক।
১৬.
নিসাব কী?
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলে।
১৭.
সোবহানের বিশ্বাসের যৌক্তিকতা ইসলামী শরিয়তের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সোবহানের বিশ্বাসটি ইসলামী শরিয়তের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক, নির্ভুল এবং যথার্থ। সোবহান বিশ্বাস করে যে মানুষের পুরো জীবনটাই ইবাদতের আওতাভুক্ত, যা ইসলামের মূল দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়। ইসলামে ইবাদতকে কেবল উপাসনালয়ের গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা হয়নি। একজন মানুষ যখন ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত— অর্থাৎ তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড আল্লাহর নির্দেশিত হালাল-হারামের বিধান মেনে এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন করে, তখন তার প্রতিটি বৈধ কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি ন্যায়সঙ্গতভাবে জীবিকা নির্বাহ করা, পরিবারের দেখাশোনা করা এবং মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করাও সওয়াবের কাজ। সোবহান তার দৈনন্দিন ও ব্যবসায়িক জীবন আল্লাহর আইন অনুযায়ী পরিচালনা করার মাধ্যমে ইসলামের এই ব্যাপক ইবাদতের ধারণাকেই বাস্তবায়ন করছে। অতএব, সোবহানের এই সামগ্রিক জীবনকে ইবাদত মনে করার বিশ্বাসটি শতভাগ যৌক্তিক ও শরিয়তসম্মত।
১৮.
সাফওয়ানের ধারণার সাথে ইবাদতের প্রকৃত পরিধির বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাফওয়ানের ধারণা ইবাদতের প্রকৃত ও ব্যাপক পরিধির সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সাফওয়ান মনে করে ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদতের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। আনুষ্ঠানিক ইবাদত বা রুকনগুলো ইসলামের অপরিহার্য স্তম্ভ হলেও মানুষের পুরো জীবনটাই ইবাদতে রূপান্তরিত হতে পারে যদি তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সাফওয়ান ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজের ইচ্ছামতো ও খেয়ালখুশিমতো জীবন পরিচালনা করে, যা ইবাদতের আংশিক রূপ। এটি ইসলামের সামগ্রিক ইবাদতের ধারণার সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।
১৯.
আল্লাহ তায়ালা জিন ও মানবজাতিকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ তায়ালা জিন ও মানবজাতিকে কেবল তাঁরই ইবাদত, দাসত্ব ও আনুগত্য করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, 'আমি জিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।' (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)। এর অর্থ হলো মানুষ তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে এবং তাঁর বশ্যতা স্বীকার করবে।
২০.
ইবাদত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইবাদত শব্দের অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য, বশ্যতা স্বীকার করা বা বন্দনা করা।
২১.
জনাব 'খ' সাহেবের মনোভাবের সাথে সাওমের প্রকৃত শিক্ষার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
উত্তর: জনাব 'খ' সাহেবের মনোভাবের সাথে সাওমের প্রকৃত আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শিক্ষার চরম বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 'খ' সাহেব মনে করেন সাওম বা রোজা কেবল সারাদিন না খেয়ে বা উপোস থাকার নাম এবং তিনি অনাহারী মানুষের কষ্ট অনুভব করতে পারেন না, যা সাওমের মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সাওমের প্রকৃত শিক্ষা কেবল শারীরিক উপোস থাকা নয়, বরং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা এবং অন্তরের পশুত্ব ও লোভ-লালসাকে দমন করা। সামাজিক দিক থেকে সাওমের অন্যতম বড় শিক্ষা হলো, সারাদিন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান ও ধনী ব্যক্তিরা গরিব ও অনাহারী মানুষের ক্ষুধার তীব্রতা এবং অনাহারের কষ্ট বাস্তবভাবে নিজেরা উপলব্ধি করতে পারবে। এই অনুভূতি ধনীদের অন্তরে দরিদ্রদের প্রতি দয়া, সহানুভূতির ও সহমর্মিতার জন্ম দেয়, যা তাদের দান-সদকা করতে অনুপ্রাণিত করে। যেহেতু জনাব 'খ' সাহেব এই ক্ষুধার কষ্ট বা সহানুভূতি অনুভব করতে পারেন না, তাই তাঁর এই মনোভাব সাওমের মূল মর্মবাণী ও শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
২২.
জনাব 'ক' সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব 'ক' সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের অন্যতম আর্থিক ফরজ ইবাদত 'যাকাত'-এর প্রতিফলন ঘটেছে। ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের অর্থ) এক বছরকাল স্থায়ী থাকলে তার সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫০%) নির্দিষ্ট খাতে বা অভাবী লোকদের মাঝে বণ্টন করা ফরজ। উদ্দীপকে জনাব 'ক' সাহেব বছর শেষে তাঁর সম্পদের হিসাব করে নির্দিষ্ট হারে গরিবদের মাঝে অর্থ বিলিয়ে দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করেন যে এর মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র ও বৃদ্ধি পায়। এই বিশ্বাস ও কাজ হুবহু যাকাতের মূল ধারণাকে নির্দেশ করে, কারণ 'যাকাত' শব্দের অর্থই হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া।
২৩.
যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয় কেন?
উত্তর: যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয় কারণ এটি সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনীদের ধন-সম্পদ যেমন পবিত্র হয়, তেমনি দরিদ্র ও অভাবী মানুষের অর্থনৈতিক সংকট দূর হয়। এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের দূরত্ব কমিয়ে তাদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন বা মেলবন্ধন তৈরি করে, যার ফলে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
২৪.
নিসাব কী?
উত্তর: শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের নির্ধারিত পরিমাণকে নিসাব বলে।
২৫.
সাদিকুলের কাজটি চিহ্নিতপূর্বক সুমনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সাদিকুল ইসলামের কাজটি হলো মূলত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ 'যাকাত' প্রদান করা। তিনি বছর শেষে তাঁর সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব ও অভাবীদের মাঝে বণ্টন করেছেন, যা শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত হিসেবে গণ্য। সুমনের বক্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক। কারণ যাকাত হলো ধনী ও গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার অন্যতম হাতিয়ার। সাদিকুল তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ থেকে নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি সমাজে অন্যান্য বিত্তবানদের জন্য একটি উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। যদি সমাজের সকল বিত্তবান ব্যক্তি এভাবে তাদের সম্পদের সঠিক হিসাব করে যাকাত প্রদান করে, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন হবে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই সুমনের এই মূল্যায়ণ সম্পূর্ণ যথার্থ।
২৬.
জনাব জসিম উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে কোন প্রকারের ইবাদত সম্পাদন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জনাব জসিম উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক ইবাদত সম্পাদিত হয়েছে। মানুষের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যকে হাক্কুল ইবাদ বলা হয়। ইসলামে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করলেই চলে না, পাশাপাশি সৃষ্টির সেবা ও মানুষের কল্যাণ করাও ইবাদতের অংশ। জসিম উদ্দিন একজন প্রবাসী হয়েও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশীর ঘর নিজ খরচে নির্মাণ করে দিয়েছেন, যা সরাসরি মানবতার সেবা ও প্রতিবেশীর হকের আওতাভুক্ত। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এটি এক প্রকার সামাজিক ইবাদত।
২৭.
হজকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয় কেন?
উত্তর: হজকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়। কারণ মুসলিম জাতির এত বড় মহামিলন আর কোথাও কখনো হয় না। সারাবিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র জিলহজ মাসে বায়তুল্লাহর জিয়ারতের জন্য মক্কায় একত্রিত হন। তাঁরা আরাফাতের ময়দানে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আমল হতে এ হজ চালু হয়। হজের মাধ্যমে উপস্থিত হাজিগণ বিশ্ববাসীকে এ বার্তা দেন যে, বিশ্বের সব মুসলমান এক জাতি। তাই তারা সাদা হোক বা কালো হোক, ধনী হোক অথবা গরিব তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা সবাই আল্লাহর দাস। কফিনের সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় তাদের গন্তব্য চিরশান্তির স্থান জান্নাত। এজন্যই এটিকে বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন বলা হয়।
২৮.
ইবাদত কাকে বলে?
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্মে আল্লাহর বিধিবিধান মেনে চলাকে ইবাদত বলে।
২৯.
জনাব জমির উদ্দিন যে ইবাদত পালন করেন তা চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ইমাম সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের অন্যতম একটি ইবাদত তথা সাওম-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা সাওম হলো ঢালস্বরূপ। সকল ধরনের মন্দ কাজের থেকে দূরে থাকতে সাওম আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। সাওমের সামাজিক গুরুত্ব অত্যধিক। সাওম পালনের মাধ্যমে একজন লোক ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে। সমাজের দরিদ্র ও অভাবীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে চলে। মারামারি পাপকর্মকারী ব্যক্তি অন্যায়-অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে। হানাহানি থেকে দূরে থাকে। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। অধিক সওয়াব পাওয়ার আশায় একে অপরকে সাহরি ও ইফতার করায় এবং অভাবীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এতে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয়। সুতরাং গুণাহমুক্ত জীবন লাভের আশায়, আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় এবং সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে আমাদের সাওম পালন করা উচিত। তাই আমরা বলতে পারি, ইমাম সাহেবের ইঙ্গিতকৃত ইবাদত সাওমের সামাজিক গুরুত্ব ব্যাপক।
৩০.
জনাব রহিম উদ্দিনের আচরণে সালাতের কোন শিক্ষাটি উপেক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব রহিম উদ্দিনের আচরণে সালাতের সাম্যের শিক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে। সালাতের অন্যতম শিক্ষা হলো এখানে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সবাই সমান। তাই সবাই সালাতে এক কাতারে দাঁড়ায়। এখানে ধনীর পাশে গরিব দাঁড়াতে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি রাজার পাশে চাকর দাঁড়ালেও তাকে সেখান থেকে পিছনে পাঠানো যাবে না। সালাতে সকলে এক আল্লাহর গোলাম হিসেবে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ায়, সেখানে সবার একই পরিচয়। আর তা হলো সবাই আল্লাহর গোলাম। তাই রহিম উদ্দিন দিনমজুর মফিজ মিয়াকে জুমার সালাতে তার পাশে হতে সরে গিয়ে পিছনের সারিতে দাঁড়াতে বলে সালাতের উক্ত শিক্ষাকে উপেক্ষা করেছে।
৩১.
ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক আদর্শিক ও আন্তরিক হওয়া উচিত এটি আত্মার সম্পর্কযুক্ত। এ সম্পর্ক পিতা-পুত্রের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, আদর্শবান শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎপথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। পক্ষান্তরে ছাত্রও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের ও নৈতিকতার উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে নিজে থেকে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ করে শিক্ষক থেকে বড় জ্ঞানী হতে পারে। নবি ও রাসূলগণ হলেন আদর্শ শিক্ষক আর তাঁদের উম্মত হলো তাঁদের ছাত্র। রাসূলুল্লাহ (স.) এ উম্মতের জ্ঞানীদেরকে নবিদের উত্তরাধিকারী বলেছেন।
৩২.
হাক্কুল্লাহ কী?
উত্তর: হাক্কুল্লাহ হলো আল্লাহর হক।
৩৩.
ইমাম সাহেবের বক্তব্যে যে ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ইমাম সাহেবের বক্তব্যে যে ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো 'সাওম'। সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে। সাওম একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ফরজ ইবাদত। সামাজিক গুরুত্ব: ১. সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি: সাওম পালনের মাধ্যমে ধনীরা ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের অনাহারের কষ্ট বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এতে তাদের মনে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতির সৃষ্টি হয়। ২. পারষ্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি: সাওমের মাধ্যমে মানুষ লোভ-লালসা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি মন্দ স্বভাব থেকে দূরে থাকে, যা সামাজিক শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনে। ৩. আত্মশুদ্ধি ও শৃঙ্খল জীবন: সাওম মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায় এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
৩৪.
শিহাবউদ্দিনের কাজটি কী হিসেবে গণ্য? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে শিহাবউদ্দিনের কাজটি ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত তথা যাকাতকে নির্দেশ করেছে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ ভাগ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। ইসলামে যাকাত গরিবের প্রতি ধনীর দয়া নয় বরং এটি অধিকার। যাকাত হলো এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে যাকাত প্রদানকারী ব্যক্তির সম্পদ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য সচল হয় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়। যা ধনী-গরিবের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। তাই যাকাতকে ইসলামের সেতুবন্ধ বলা হয়। সুতরাং আমরা বলতে পারি, শিহাবউদ্দিন ফরজ ইবাদত হিসেবে যাকাত প্রদান করেছেন।
৩৫.
'ইলম' অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জ্ঞানার্জন মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। এছাড়াও একজন ব্যক্তি তখনই প্রকৃত মুসলমান হয়, যখন সে ইসলামের সকল বিধিবিধান সঠিকভাবে পালন করে। ইসলামী বিধিবিধান মানার জন্য জ্ঞান আবশ্যক। তাই ইলম অন্বেষণ বা জ্ঞানার্জনকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ করা হয়েছে।
৩৬.
'জিহাদে কাবির' কাকে বলে?
উত্তর: জ্ঞানের সাহায্যে জিহাদ করাকে জিহাদে কাবির বলা হয়।
৩৭.
জসিমের উপার্জনের পন্থাটি শরিয়তের পরিভাষায় চিহ্নিত করে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জসিমের উপার্জনের পন্থাটি শরিয়তের পরিভাষায় হালাল। আমাদের জীবনে হালালের প্রভাব ব্যাপক। ইসলামী পরিভাষায় যেসব বিষয়ের বৈধ হওয়া কুরআন-হাদিস দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত, শরিয়তে তাকে হালাল বলা হয়। হালাল কথা, কাজ বা বস্তু সবই হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা যেসব কথা বা কাজের অনুমতি দিয়েছেন সেগুলো হালাল কাজ হিসেবে স্বীকৃত। উদ্দীপকে জসিম স্বহস্তে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন, যা শরিয়তের ভাষায় হালাল বা বৈধ। মানবজীবনে হালালের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমাদের জন্য কোনটি উপকারী ও কোনটি অপকারী তা আল্লাহই ভালো জানেন। যেসব দ্রব্য ও বিষয় মানুষের জন্য কল্যাণকর তাই তিনি হালাল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا অর্থ : "হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর।" (সূরা আল-বাকারা : ১৬৮) হালাল বস্তু মানুষকে ইবাদতে উৎসাহিত করে। মানুষ অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতে পারে। এছাড়াও হালাল ও পবিত্র দ্রব্য মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে; অন্তরে নূর সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অন্যায় ও অসংগতিকে ঘৃণা করতে থাকে। তাই বলা যায়, হালাল পন্থায় উপার্জন মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব রাখে। মানুষকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়।
৩৮.
বানু মিয়া কোন প্রকারের ইবাদত পালন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বানু মিয়া হাক্কুল ইবাদ পালন করেছেন। বান্দা বা মানুষের সাথে সম্পর্কিত অধিকার বা হককে হাক্কুল ইবাদ বলা হয়। মানুষের প্রতি মানুষের হক বা অধিকারকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. নিকটাত্মীয়ের হক, ২. দূরাত্মীয়ের হক, ৩. প্রতিবেশীর হক, ৪. দেশবাসীর হক, ৫. শাসক-শাসিতের হক, ৬. সাধারণ মুসলমানের হক, ৭. অভাবী লোকের হক এবং ৮. অমুসলিমের হক। রাসূল (স.) বলেছেন, "এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথা— সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাজায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা, মজলুমকে সাহায্য করা ও হাঁচির জবাব দেওয়া।" (বুখারি ও মুসলিম) সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বানু মিয়া বোনকে চিকিৎসা করানো এবং প্রতিবেশীকে সাহায্য করা হাক্কুল ইবাদের অংশ।
৩৯.
যাকাতের নামকরণের সার্থকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাত শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। যাদের ওপর যাকাত ফরজ অর্থাৎ যারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তারা যাকাত দিলে তাদের সম্পদের সম্পদ পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বৃদ্ধি পায়। তাই তাকে যাকাত বলা যৌক্তিক।
৪০.
সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: সাওমের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, "সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।"
৪১.
উদ্দীপকে বর্ণিত শফিক সাহেবের কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় আচরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত শফিক সাহেবের ধর্মীয় আচরণ ও কর্মকাণ্ড একপেশে এবং অসম্পূর্ণ; ইসলামি শরিয়তের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার আলোকে এর যথার্থতা নেই। শফিক সাহেব প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম পালন করেন এবং জাকাত আদায় করেন, যা ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর হক (হক্কুল্লাহ) পালিত হয়। কিন্তু একই সাথে তিনি তাঁর প্রতিবেশীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন না। এর দ্বারা তিনি গুরুতরভাবে 'হক্কুল ইবাদত' বা বান্দার অধিকার ও পারস্পরিক সামাজিক কর্তব্য লঙ্ঘন করছেন। ইসলামে আল্লাহর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী পাশে ক্ষুধার্ত থাকে।" আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শফিক সাহেব সাওম ও জাকাত আদায় করলেও সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বান্দার অধিকার নষ্ট করলে মহান আল্লাহ তা কখনোই ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দারা (প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন) তাঁকে ক্ষমা করেন। পরিশেষে বলা যায়, শফিক সাহেবের ধর্মীয় আচরণ আংশিক ও ত্রুটিপূর্ণ। তাঁর ইবাদতের যথার্থ পূর্ণতা ও পরকালীন মুক্তির জন্য অবশ্যই সাওম ও জাকাত আদায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে উত্তম আচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
৪২.
রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক 'হক্কুল্লাহ' (আল্লাহর অধিকার) এবং 'হক্কুল ইবাদত' (বান্দার অধিকার) উভয়ের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করেন, যা হক্কুল ইবাদত বা মানুষের অধিকার ও আমানত রক্ষার অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, যা ইসলামের প্রধান রোকন এবং আল্লাহর প্রতি বান্দার অবশ্য পালনীয় সরাসরি ইবাদত অর্থাৎ হক্কুল্লাহ। ইসলামে এই দুটি দিকের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ডে কর্তব্যপরায়ণতা এবং ধর্মপ্রাণতার এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে, যা একজন আদর্শ মুসলিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৪৩.
সালাত কীভাবে মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে কারণ এটি মানুষের মনে আল্লাহর ভয় ও সার্বক্ষণিক নজরদারির অনুভূতি জাগ্রত করে। সালাত আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে এবং তার মধ্যে আধ্যাত্মিক পবিত্রতা তৈরি হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)। নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করলে মানুষের মন থেকে খারাপ চিন্তা দূর হয়ে যায় এবং সে পাপাচার থেকে বেঁচে থাকে।
৪৪.
আখলাক শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখলাক শব্দের অর্থ হলো চরিত্র, স্বভাব, আচরণ বা অভ্যাস।
৪৫.
উদ্দীপকে বর্ণিত সাজ্জাদ সাহেবের ইবাদতগুলোর যথার্থতা সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত সাজ্জাদ সাহেবের ইবাদতগুলোর চর্চা একপেশে এবং অসম্পূর্ণ; ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর পূর্ণাঙ্গ যথার্থতা নেই। সাজ্জাদ সাহেব প্রতি বছর নির্দিষ্ট মেয়াদে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকেন (সাওম পালন করেন) এবং রাতে দীর্ঘ সময় সালাত আদায় করেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আল্লাহর হক (হক্কুল্লাহ) আদায়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তিনি তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন এবং তাদের সময়মতো পারিশ্রমিক ও বোনাস দেন না। এর মাধ্যমে তিনি গুরুতরভাবে 'হক্কুল ইবাদত' বা বান্দার অধিকার লঙ্ঘন করছেন। ইসলামে শ্রমিক ও কর্মচারীদের অধিকার সুরক্ষায় কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। মহানবি (স.) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছেন, "তোমরা যা খাবে তোমাদের অধীনস্থদেরও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরও তা পরাবে।" অন্য একটি হাদিসে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ কর।" সাজ্জাদ সাহেব নামাজ ও রোজা রাখলেও তাঁর অধীনস্থদের অধিকার হরণ করে চরম গুনাহের কাজ করছেন। ইসলামে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বান্দার অধিকার নষ্ট করলে মহান আল্লাহ তা কখনোই ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দা বা কর্মচারী নিজে তা ক্ষমা করে। অতএব, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, সাজ্জাদ সাহেবের ব্যক্তিগত ইবাদত বা হক্কুল্লাহর অংশটি পালিত হলেও, সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব অর্থাৎ হক্কুল ইবাদতের অংশটি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে তাঁর এই ইবাদতগুলো পরিপূর্ণ কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়; এর যথার্থ পূর্ণতা অর্জনের জন্য তাঁকে অবশ্যই কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
৪৬.
রাসেল সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রাসেল সাহেবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক 'হক্কুল ইবাদত' বা বান্দার অধিকার আদায়ের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মানুষ সামাজিক জীব। তাকে সমাজে পারস্পরিক সাহায্য ও সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করতে হয়। রাসেল সাহেব তাঁর ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং কর্তব্যগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করেন এবং প্রতিবেশীদের আপদে-বিপদে সাধ্যমতো সাহায্য ও খোঁজখবর নেন। ইসলামে আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হকের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূল (স.) বলেছেন, "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।" রাসেল সাহেবের এই পরোপকারী ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বান্দার প্রতি মানুষের হক্কুল ইবাদতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে, যা একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত।
৪৭.
নিসাব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদকে নিসাব বলে। কোনো ব্যক্তির নিকট সাড়ে সাত তোলা (ভরি) সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের ব্যবসায়িক পণ্য থাকলে সে নিসাবের মালিক বলে গণ্য হবে। এই পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদ যদি কোনো ব্যক্তির নিকট পূর্ণ এক বছরকাল গচ্ছিত থাকে, তবে তার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরজ হয়।
৪৮.
ইবাদত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইবাদত শব্দের অর্থ হলো দাসত্ব করা, আনুগত্য করা ও বন্দিগি করা।
৪৯.
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আকরামের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আকরামের মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ শরিয়ত পরিপন্থী, যা তাঁর চরম কুসংস্কার, কৃপণতা ও অজ্ঞতার প্রকাশ ঘটায়। ইসলামে হজ্জ ও যাকাত কেবল ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়, বরং এগুলো ইসলামের পঞ্চ ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ এবং শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ ইবাদত। জনাব আকরাম প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কৃপণতাবশত ও সম্পদ কমে যাওয়ার অমূলক আশঙ্কায় হজ্জ এবং যাকাত আদায়ের অবহেলা করছেন। তাঁর ধারণা, কষ্টার্জিত অর্থ অন্যকে দান করলে সম্পদ কমে যাবে এবং সঞ্চিত অর্থই তাঁর নিরাপত্তার একমাত্র চাবিকাঠি— যা ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, যাকাত দিলে সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায় এবং পবিত্র হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, "তোমরা যদি যাকাত দাও তবে তোমাদের সম্পদ দ্বিগুণ বা বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে।" পক্ষান্তরে, যাকাত ও হজ্জ অস্বীকার বা অবহেলা করার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করেছেন যে, যারা সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় (যাকাত) করে না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। পরকালে এই সঞ্চিত সম্পদ আগুনে উত্তপ্ত করে তাদের কপালে, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। আকরাম সাহেব তাঁর সম্পদকে ইহকালীন নিরাপত্তার একমাত্র নিশ্চয়তা ভাবছেন, অথচ পরকালীন জবাবদিহিতা এবং আযাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। পরিশেষে বলা যায়, জনাব আকরামের এই অবহেলামূলক মানসিকতা ও কর্মকাণ্ড ইসলামে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তাঁর উচিত অবিলম্বে তওবা করে তাঁর সম্পদের হজ্জ ও যাকাত আদায় করে একজন খাঁটি মুমিন হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।
৫০.
জনাব আসলামের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের কোন ফরজ বিধান পালিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব আসলামের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান— হজ্জ ও যাকাত পালিত হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, জনাব আসলাম তাঁর উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এ বছর হজ্জ পালন করেছেন, যা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার আদায় করা ফরজ বা আবশ্যক ইবাদত। এছাড়াও তিনি প্রতি বছরই তাঁর অলঙ্কার ও ব্যবসার উদ্বৃত্ত অর্থের সঠিক হিসাব করে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের মাঝে যাকাত বণ্টন করেন। যাকাত আদায় করা ইসলামের অন্যতম আর্থিক ফরজ ইবাদত এবং ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি। জনাব আসলাম তাঁর অলঙ্কার ও ব্যবসার উদ্বৃত্ত অর্থের যাকাত দিয়ে নিজের দায়িত্ব ও আল্লাহর নির্দেশ যথার্থভাবে পালন করেছেন, যা তাঁর ধর্মপ্রাণ মনোভাব ও ফরজ ইবাদত আদায়ের প্রতি গভীর নিষ্ঠার পরিচয় বহন করে।
৫১.
যাকাতকে 'ইসলামের সেতু' বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাতকে ইসলামের সেতু বা 'ক্বনতারাতুল ইসলাম' বলা হয়েছে কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে উভয়ের মাঝে সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন মজবুত করে। সেতু যেমন নদীর দুই কূলকে একত্রিত করে যোগাযোগ সহজ করে তোলে, তেমনি যাকাতও সমাজের বিত্তশালী ও বঞ্চিত মানুষের ব্যবধান কমিয়ে একটি সুন্দর সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর ফলে ধনীদের মনে করুণা ও সহানুভূতি জাগে এবং দরিদ্রদের মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ বিদায় নেয়।
৫২.
হজ্জ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হজ্জ শব্দের অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা ভ্রমণ করা।
৫৩.
আলিম সাহেবের খুতবার শেষ বক্তব্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: আলিম সাহেবের খুতবার শেষ বক্তব্য— "কেবল সম্পদশালীরাই নয়, অন্যরাও নানাভাবে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিয়ে পুণ্য অর্জন করতে পারে"— কথাটি অত্যন্ত সত্য, যুক্তিযুক্ত এবং ইসলামি আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। ইসলামে সমাজসেবা বা ইবাদতের পরিধি কেবল অর্থ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শারীরিক শ্রম, সৎ পরামর্শ, ভালো কাজের আদেশ, মন্দ কাজের নিষেধ, মানুষের কষ্টদায়ক বস্তু রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা এবং অন্যের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো— এ সবই অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এগুলো সবই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাও একটি সদকা বা পুণ্য কাজ।" যারা সম্পদশালী নন, তারাও কায়িক শ্রমের মাধ্যমে সমাজসেবা করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ— রাস্তাঘাট সংস্কার করা, গাছ লাগানো, অসুস্থ মানুষের সেবা করা, জ্ঞান দান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সমাজের প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে অপরের উপকারে আসতে পারে এবং সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় অংশ নিয়ে আল্লাহর দরবারে সর্বোচ্চ পুণ্য ও মর্যাদা অর্জন করতে পারে। অতএব, আলিম সাহেবের খুতবার শেষ বক্তব্যটি বাস্তবসম্মত এবং ইসলামি শিক্ষার যথার্থ প্রতিফলন।
৫৪.
রফিক সাহেবের যাকাত আদায়ের পদ্ধতিটির গুরুত্ব ইসলামি অর্থনীতির আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রফিক সাহেবের যাকাত আদায়ের পদ্ধতিটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। তিনি যাকাতের টাকা দিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের রিকশা কিনে দিয়েছেন। এর ফলে অভাবগ্রস্ত লোকেরা স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ইসলামি অর্থনীতিতে যাকাত বিতরণের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে অভাবমুক্ত করা, যেন পরবর্তী বছর সে নিজে যাকাত দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। রফিক সাহেবের এই সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বেকারত্ব দূরীকরণে এবং দরিদ্রদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এটি সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি ও পরনির্ভরশীলতা দূর করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে অত্যন্ত সহায়ক।
৫৫.
যাকাতকে ইসলামের সেতু বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যাকাতকে ইসলামের সেতু বলা হয়েছে কারণ এটি ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান দূর করে উভয়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন তৈরি করে। সেতু যেমন নদীর দুই কূলকে সংযুক্ত করে, তেমনি যাকাত সমাজের সম্পদশালী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের মাঝে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনীদের মনে দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি হয় এবং দরিদ্রদের মন থেকে ধনীদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়। ফলে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
৫৬.
নিসাব কী?
উত্তর: শরিয়তের পরিভাষায় যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদকে নিসাব বলে।
৫৭.
উদ্দীপকে বর্ণিত কালামের কাজগুলো ও ধর্মীয় অনুভূতির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত কালামের কাজগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ইসলামের মৌলিক কিছু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিক ইবাদত (যেমন— সালাত, সাওম পালন এবং হজ্জের নিয়ত করা) নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করলেও সমাজ ও পরিবারের প্রতি তাঁর যে আবশ্যিক দায়িত্ব বা 'হক্কুল ইবাদত', তা তিনি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। ইসলাম কেবল কতিপয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের নাম নয়। ইসলামে আল্লাহর হকের (হক্কুল্লাহ) পাশাপাশি বান্দার হকের (হক্কুল ইবাদত) ওপর সমান গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কালাম সাহেব পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়েন ও সাওম পালন করেন, যা প্রশংসনীয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু তিনি তাঁর নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার খোঁজখবর নেন না এবং প্রতিবেশীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য জ্ঞান করেন। ইসলামে পিতা-মাতার সেবা করাকে জিহাদের সমতুল্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা না করলে ঈমানদার হওয়া যায় না বলে রাসূল (স.) সতর্ক করেছেন। রাসূল (স.) বলেছেন, "সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী পাশে ক্ষুধার্ত থাকে।" কালাম সাহেব পিতা-মাতার খোঁজখবর না নিয়ে ও প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে চরম গুনাহের কাজ করছেন। তিনি আল্লাহর হক আদায় করলেও বান্দার হক নষ্ট করায় পরকালে তাঁর এই নামাজ ও রোজা কোনো উপকারে আসবে না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দারা (পিতা-মাতা ও প্রতিবেশী) তাঁকে ক্ষমা করবেন। অতএব বলা যায়, কালাম সাহেবের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইবাদতের চর্চা একপেশে এবং অসম্পূর্ণ; তাঁর ইবাদতের যথার্থ পূর্ণতা অর্জনের জন্য অবশ্যই পিতা-মাতা ও প্রতিবেশীর অধিকার যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।
৫৮.
মফিজ মিয়ার আচরণে ইসলামের কোন বিষয়ের গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মফিজ মিয়ার আচরণে মূলত হালাল উপার্জনের গুরুত্ব বা আত্মনির্ভরশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। মফিজ মিয়া পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩ বিঘা আবাদি জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে নিজের কায়িক শ্রমে হালাল উপায়ে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। ইসলামে কায়িক শ্রমের ও হালাল জীবিকার অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। নবি (স.) বলেছেন, "নিজের হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উৎকৃষ্ট খাদ্য কেউ কখনো খায়নি।" কিন্তু একই সাথে মফিজ মিয়া সালাত ও সাওমের মতো ইসলামের অন্যতম প্রধান রোকন বা ফরজ ইবাদতগুলো পালন করেন না, যা তাঁর চরম অবহেলা ও ধর্মীয় উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। একজন মুসলিমের জন্য একই সাথে হালাল উপার্জন যেমন ফরজ, তেমনি সালাত ও সাওম পালন করাও আবশ্যক। মফিজ মিয়ার কর্মোদ্যোগ ইতিবাচক হলেও ইবাদতে তাঁর এ উদাসীনতা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী।
৫৯.
খিদমতে খালক বলতে কী বোঝায়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: খিদমতে খালক অর্থ আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করা। ব্যাপক অর্থে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ও প্রকৃতির পরিচর্যা ও কল্যাণ সাধন করা খিদমতে খালকের অন্তর্ভুক্ত। সৃষ্টির সেবা করার মাধ্যমে আল্লাহর পরম নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভ করা যায়। কারণ সকল সৃষ্টিই আল্লাহর সুবিশাল পরিবারের সদস্য। দরিদ্রের সাহায্য করা, ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেওয়া, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা করা এবং পরোপকার করা সবই সৃষ্টির সেবার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এটিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
৬০.
সাওমের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: সাওমের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা।
৬১.
'সুহানা এবং সুহানের কাজের মধ্যে সুহানার কাজটিই অধিক পুণ্যময়'— উক্তিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক। কেননা সুহানের কাজের চেয়ে সুহানার কাজের মাঝে নিঃস্বার্থ পরোপকার ও দানের মহত্ত্ব ফুটে উঠেছে। সুহান তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে রিকশা কিনে দৈনিক ভাড়ায় মান্নানকে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে মান্নানের হালাল উপার্জনের পথ সুগম হলেও সুহানের কাজটি ছিল একটি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বা ভাড়ার চুক্তি, যার মাধ্যমে সুহান নিজেও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল। পক্ষান্তরে, সুহানা তার লাভের অংশ দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে দরিদ্র লিলিকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে দান করে দেয়। এখানে সুহানার কোনো ব্যক্তিগত বৈষয়িক স্বার্থ বা লাভের আশা ছিল না। ইসলামে নিঃস্বার্থ দান, অভাবগ্রস্তকে সাহায্য এবং দানশীলতার মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, 'তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করবে।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)। সুহানা লিলির অভাব দূরীকরণে নিজের কষ্টার্জিত লভ্যাংশ থেকে নিঃস্বার্থভাবে সেলাই মেশিন দান করে তাকে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করেছে। এতে তার মহৎ মানবিক গুণাবলি ও ইসলামের প্রকৃত সমাজকল্যাণমূলক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে সুহানের রিকশা ভাড়া দেওয়ার কাজটি ইতিবাচক ও কর্মসংস্থানমূলক হলেও তা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ দান ছিল না। অতএব, তুলনামূলক বিচারে এবং ইসলামে পরোপকার ও নিঃস্বার্থ দানের মহৎ মর্যাদার কারণে সুহানার কাজটিই অধিক পুণ্যময় এবং উত্তম।
৬২.
গ. সুহানের কাজটি দ্বারা কোন ধরনের ইবাদত প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুহানের কাজটি দ্বারা সৃষ্টির সেবা বা খিদমতে খালক নামক ইবাদত প্রকাশ পেয়েছে। খিদমতে খালক অর্থ আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করা। সকল সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবারভুক্ত। আল্লাহর অনুগ্রহ ও ভালোবাসা পেতে হলে তাঁর সৃষ্টির সেবা করতে হবে। উদ্দীপকে সুহান তার সবজি চাষের লভ্যাংশ দিয়ে রিকশা কিনে তা দৈনিক ভাড়ায় দরিদ্র মান্নানকে দেয়। এর মাধ্যমে মান্নানের উপার্জনের পথ তৈরি হয় এবং সে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। সুহানের এই কাজ বেকারত্ব দূরীকরণে ও অভাবী মানুষের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে খিদমতে খালক বা সৃষ্টির সেবা হিসেবে অতি উত্তম ইবাদত।
৬৩.
'শ্রমের মর্যাদা' সম্পর্কে একটি আয়াত অনুবাদসহ লেখ।
উত্তর: শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করবে।' (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ১০)
৬৪.
আল-মাউন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আল-মাউন শব্দের অর্থ হলো— গৃহস্থালির ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
৬৫.
আজমল সাহেব ইসলামের যে বিধান পালন করেন তা চিহ্নিতপূর্বক তার শিক্ষা সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: আজমল সাহেব ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত সাওম পালন করেন। আর এর উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। সাওম আরবি শব্দ। এর ফারসি প্রতিশব্দ হলো রোজা। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় সাওম হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নারী ও পুরুষের ওপর রমযান মাসের এক মাস সাওম পালন করা ফরজ। এটি ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সাওমের শিক্ষা ও গুরুত্ব অপরিসীম। প্রদত্ত উদ্দীপকের আজমল সাহেব রমযান মাসে রাতের শেষ প্রহরে সাহরি খেয়ে সারাদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সাওম পালন করে থাকেন। তবে তিনি সাওমের মূল শিক্ষা অর্থাৎ তাকওয়া এবং দায়িত্বশীলতার চর্চা পূর্ণরূপে করতে পারেননি, কারণ তিনি অর্পিত দায়িত্বে গড়িমসি করেন। সাওম কেবল অনাহারে থাকা নয়, বরং মানুষের আচরণকে পরিশুদ্ধ করা এবং দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
৬৬.
জনাব আলম কি যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেছেন? তাঁর জমাকৃত টাকার যাকাতের হিসাব নিরূপণ কর।
উত্তর: না, জনাব আলম যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেননি। তাঁর জমাকৃত যাকাত-যোগ্য পরিমাণ হলো ১০,০০,০০০ টাকা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সাহিবে নিসাবকে বছরান্তে জমাকৃত টাকার ২.৫% হারে যাকাত আদায় করতে হয়। আলম সাহেব যেহেতু ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকার মালিক তাই তাকে নিম্নোক্ত হিসাবে যাকাত আদায় করতে হবে: ১০০ টাকায় যাকাত আদায় করতে হবে = ২.৫ টাকা ১ টাকায় যাকাত আদায় করতে হবে = ২.৫ / ১০০ টাকা ১০,০০,০০০ টাকায় যাকাত আদায় করতে হবে = (২.৫ * ১০,০০,০০০) / ১০০ টাকা = ২৫,০০০ টাকা। অতএব আলম সাহেব ২৫,০০০ টাকা যাকাত আদায় করলে তাঁর যাকাত আদায় হতো। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আলম সাহেবের যাকাত আদায় হয়নি, কারণ তিনি মাত্র ১৫,০০০ টাকা বিতরণ করেছেন যা ২৫,০০০ টাকার চেয়ে কম।
৬৭.
ইসলামে বান্দার হকের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে একসাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এই সহানুভূতি ও দায়িত্বই হক্কুল ইবাদত (বান্দার হক বা অধিকার)। কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়, ইসলামে বান্দার হক তথা মানবাধিকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বান্দার অধিকার বা হক নষ্ট করলে মহান আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট বান্দা তা ক্ষমা করে।
৬৮.
হক্কুল্লাহ কী?
উত্তর: আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত অধিকার বা কর্তব্যই হলো হক্কুল্লাহ।
৬৯.
সাকিব সাহেবের কাজটি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পাঠের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: সাকিব সাহেবের কাজটি মূলত শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও পরোপকারিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। সাকিব সাহেব একজন চিকিৎসক। তিনি হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ও রোগীদের সেবা দেন। তাঁর শিক্ষক যখন হাসপাতালে আসেন, তখন তিনি তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব ও খরচ নিজে বহন করেন। এর দ্বারা প্রকাশ পায় সাকিব সাহেব তাঁর শিক্ষকের সুযোগ্য উত্তরসূরি। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সন্তানসম স্নেহ-মমতা ও নৈতিক শিক্ষায় ভবিষ্যৎ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাদের এ নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই সাকিব সাহেবের মতো সোনার মানুষের সৃষ্টি হয়। সমাজ ও জাতির কল্যাণে যারা নিজেদের নিয়োজিত রাখেন, তাদের মধ্যে শিক্ষকগণ অন্যতম। সাকিব সাহেব শুধু তার শিক্ষকের প্রতিই আন্তরিক নন, বরং নিজের পেশার প্রতিও সৎ এবং নিষ্ঠাবান। তিনি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে পরোপকার ও খিদমতে খালকের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, শিক্ষকেরা যে উদ্দেশ্যে তাদের মহান দায়িত্ব পালন করেন, সাকিব সাহেব তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাই 'সাকিব তার শিক্ষকের যথার্থ উত্তরসূরি' কথাটি সম্পূর্ণ সত্য ও যৌক্তিক।
৭০.
সাজ্জাদ সাহেবের আচরণে কোন আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাজ্জাদ সাহেবের আচরণে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের ইসলামি আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। সাজ্জাদ সাহেব একজন পোশাক কারখানার মালিক। তিনি শ্রমিকের পাওনা বেতন ও বোনাস দিতে গড়িমসি করেন। এতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। সাজ্জাদ সাহেবের এ কাজটি দ্বারা নবি (স.)-এর আদেশ লঙ্ঘিত হয়েছে। নবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ কর।" সাজ্জাদ সাহেব মুসলিম হয়েও নবি (স.)-এর আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। তার এ কাজ দ্বারা হক্কুল ইবাদত বিঘ্নিত হয়েছে এবং তার অসৎ চরিত্রের প্রকাশ ঘটেছে। সাজ্জাদ সাহেবের স্মরণ রাখা দরকার, শ্রমিকরা কষ্ট করে পণ্য উৎপাদন করার কারণে তার কারখানা চালু থাকে এবং তিনি শিল্পপতি হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। শ্রমিকদের পাওনা হক্কুল ইবাদত বা বান্দার অধিকার। হক্কুল ইবাদত পালনে মহান আল্লাহ কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন। তাই সাজ্জাদ সাহেবের উক্ত আচরণের সংশোধন হওয়া জরুরি।
৭১.
শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও— হাদীসটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (ইবনে মাজাহ) এ হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত দরিদ্র ও নিম্ন শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি নিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরি হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উদ্দীপাহের সাথে কাজ করবে; ফলে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসূল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
৭২.
কে আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর?
উত্তর: শিক্ষকসমাজ আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর।
৭৩.
জনাব শফিকুর রহমানের কর্মকাণ্ডগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: আমরা তার কর্মকাণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই— তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতি পূর্ণ অনুগতশীল, সমাজের মানুষ হিসেবে উদার ও মহৎ চরিত্রের অধিকারী এবং সততার বিচারে একদম খাঁটি লোক। একজন মুসলিমের যেসব গুণ থাকা অপরিহার্য, তার চরিত্রে সেসব গুণের সমাবেশ ঘটেছে। তিনি হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদতের যথার্থ রক্ষক। তিনি তার কাজের দ্বারা প্রমাণ করেছেন— মানুষ হওয়ার জন্য পেশা বড় বিষয় নয় বরং সৎচরিত্র ও উন্নত নৈতিকতাই মুখ্য বিষয়। পরিশেষে বলা যায়, মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত তথা গোলামি করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে। আর ইবাদতে হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদত সমভাবে মনোযোগী হতে হবে। জনাব শফিকুর রহমান তার কর্মকাণ্ডে হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদত পালনে পরিপূর্ণ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
৭৪.
প্রধান শিক্ষক সাহেবের কাজের মাধ্যমে কোন ধরনের ইবাদত পালন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষকের কাজের মাধ্যমে আমানত প্রত্যর্পণের ইবাদত পালিত হয়েছে। এটা ফরজ বা অবশ্যই করণীয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা আমানত তার প্রাপককে ফিরিয়ে দাও।" এখানে আল্লাহ আমানত বা (গচ্ছিত ধন) প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ করেছেন। সেজন্য এটা পালন করা ফরজ। শফিকুর রহমান জনৈক যাত্রীর পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যাগ প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা রাখলে প্রধান শিক্ষক টাকা ও ব্যাগ মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে তার সততা ও আমানতদারিতার পরিচয় মিলে। তিনি চাইলে কোনো অজুহাতে টাকা আত্মসাৎ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে আল্লাহর আদেশের কথা স্মরণ করে টাকা ও ব্যাগ মালিককে দিয়ে দেন। তাই তার এ কাজ দ্বারা ফরজ ইবাদত পালন হয়েছে। অন্যদিকে, তার এ কাজ দ্বারা আদর্শ শিক্ষকের চরিত্রও ফুটে উঠেছে।
৭৫.
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসূল (স.) প্রদর্শিত পথে জীবনযাপন করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা। মানুষের জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম। তাই ইসলামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা ব্যতীত অন্য কোনো পথ মানুষের জন্য খোলা নেই। এ পথে চলতে হলে ইসলামকে জানতে ও শিখতে হবে। অতএব বলা যায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদর্শে জীবন গড়ার জন্যই ইসলাম শিক্ষা করা হয়।
৭৬.
হজের ওয়াজিব কয়টি?
উত্তর: হজের ওয়াজিব সাতটি।
১.
শিক্ষকের উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে আবিরের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকের করা উক্তিটি— "ইসলামে এ ধরনের আচরণের অনেক গুরুত্ব রয়েছে"— অত্যন্ত যথার্থ, যৌক্তিক এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। নিচে এর বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হলো: আবিরের দুটি কাজই ছিল সমাজ ও মানবতার কল্যাণের সাথে যুক্ত। প্রথমত, শীতে কাঁপতে থাকা বৃদ্ধকে নিজের চাদর দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, সহপাঠীর টিফিন না আনায় নিজের টিফিন তার সাথে ভাগ করে খাওয়া। এই দুটি আচরণই যথাক্রমে 'সৃষ্টির সেবা' এবং 'ভাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা'র উজ্জ্বল উদাহরণ। ইসলামে এই গুণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম কেবল কিছু ইবাদতের সমষ্টি নয়, এটি মানুষের পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করারও বিধান। মহানবি (স.) বলেছেন, "পরস্পর ভালোবাসা, দয়া ও অনুকম্পার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো, যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে গোটা দেহই তার কারণে জাগ্রত ও জ্বরাক্রান্ত থাকে।" (সহিহ মুসলিম)। আবিরের সহপাঠীর সাথে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার ঘটনাটি এই হাদিসের শিক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন। ইসলামে ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ানোর ব্যাপারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে জান্নাত লাভের অন্যতম উপায় বলা হয়েছে। শিক্ষক যখন বলেন যে ইসলামে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে, তখন তিনি মূলত এই পরোপকারী ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি নির্দেশ করেছেন। এই ধরনের আচরণ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং সমাজে কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্য থাকে না। অতএব, আবিরের এই চমৎকার মানবিক আচরণের প্রশংসা করে শিক্ষক ইসলামের শিক্ষার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, তা শতভাগ সঠিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
২.
আবিরের প্রথম কাজটি আখলাকে হামিদার কোন গুণের আওতাভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আবিরের প্রথম কাজটি (বৃদ্ধকে চাদর দেওয়া) আখলাকে হামিদার অন্তর্গত 'সৃষ্টির সেবা' (খিদমাতুল খালক) ও 'দয়া' গুণের আওতাভুক্ত। ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর সৃষ্টিজীবের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। উদ্দীপকে দেখা যায়, শীতের সকালে এক বৃদ্ধকে শীতে কাঁপতে দেখে আবির নিজের গায়ের চাদরটি তাকে দিয়ে দেয়। এটি তীব্র মানবিক অনুভূতি এবং নিঃস্বার্থ পরোপকারের প্রকাশ। মহানবি (স.) বলেছেন, "তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানের মালিক (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" আবিরের এই আচরণের মাধ্যমে ইসলামের এই মহান আদর্শেরই বাস্তব রূপ প্রতিফলিত হয়েছে। অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, যা আবিরের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে।
৩.
সৃষ্টির সেবা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আল্লাহর সৃষ্টি জীবসমূহের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাকে সৃষ্টির সেবা বলা হয়। জগতের সব প্রাণী, মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে। ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, তৃষ্ণার্তকে পানি দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা এবং যেকোনো বিপন্ন জীবের পাশে দাঁড়ানোই সৃষ্টির সেবার অন্তর্ভুক্ত।
৪.
মানবপ্রেম কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও কল্যাণকামিতাকে মানবপ্রেম বলে।
৫.
জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডটি ইসলামি আদর্শের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডটি ইসলামি আদর্শের আলোকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি মূলত 'আমানত রক্ষা' ও 'লোভ সংবরণ'-এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিচে এর বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হলো: ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের যেকোনো জিনিস বা সম্পদ কুড়িয়ে পেলে তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ইমানি দায়িত্ব। উদ্দীপকে জনাব 'খ' রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ব্যাগটি নিজের লোভের বশবর্তী হয়ে আত্মসাৎ করেননি, বরং সততার পরিচয় দিয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তার এই কাজটি ইসলামের আমানত রক্ষা করার বিধানের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)। জনাব 'খ' যদি সেই টাকা নিজের প্রয়োজনে খরচ করতেন, তবে তা হতো আমানতের খেয়ানত এবং ইসলামে খেয়ানতকারীকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি লোভ লালসা বর্জন করে যে নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ গঠনে অত্যন্ত জরুরি। তার এই সততা ও পরোপকারী মনোভাবের কারণে তিনি ইহকালে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করবেন এবং পরকালে আল্লাহর নিকট বিপুল পুরস্কারে ভূষিত হবেন। পরিশেষে বলা যায়, জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডটি প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি অনুসরণীয় আদর্শ।
৬.
জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে কোন গুণের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে ইসলামি আখলাকের 'আমানতদারি' গুণের প্রকাশ ঘটেছে। শরিয়তের পরিভাষায় কারও কাছে কোনো অর্থ, সম্পদ বা বিষয় গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয় এবং তা যথাযথভাবে রক্ষা করাকে আমানতদারি বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব 'ক' অফিসের ফাইলপত্র ও হিসাব অত্যন্ত সততার সাথে সংরক্ষণ করেন এবং অফিসের যেকোনো গোপনীয় বিষয় নিজের কাছেই গোপন রাখেন। অফিসের এই সম্পদ ও গোপনীয় তথ্য তার কাছে একটি বড় আমানত। তিনি তা অবহেলা বা খেয়ানত না করে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রক্ষা করছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ইমান নেই।" সুতরাং, জনাব 'ক'-এর দায়িত্বশীল আচরণটি ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি তার নিখাদ আমানতদারিরই বহিঃপ্রকাশ।
৭.
শালীনতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবজীবনে শালীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। শালীনতা মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে। শালীন ও ভদ্র আচরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। শালীন ব্যক্তি সমাজে সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা লাভ করে। এটি মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায় এবং চরিত্রকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। ইসলামে চালচলন, কথাবার্তা ও পোশাকে শালীনতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৮.
আমানত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আমানত শব্দের অর্থ গচ্ছিত রাখা, নিরাপদ রাখা, রক্ষা করা ইত্যাদি।
৯.
সিয়ামের কর্মকাণ্ডে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক তার বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সিয়ামের কর্মকাণ্ডে বড়দের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ (জ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান) প্রকাশ পেয়েছে। নিচে সিয়ামের বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে সমাজবদ্ধভাবে বসবাসের জন্য ছোট-বড় সবার প্রতি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিয়াম বাসে উঠতে না পারা একজন বয়স্ক মহিলাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে দেয়, যা তার সুন্দর পারিবারিক শিক্ষা ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সিয়ামের এই কাজে খুশি হয়ে তার বাবা বলেছেন— 'আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত।' এই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক ও ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহানবি (স.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান ও অধিকার চেনে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সুনানে আবু দাউদ)। প্রবীণ বা সিনিয়র নাগরিকরা সমাজের সম্মানিত অংশ। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তারা সমাজ ও পরিবারকে অনেক কিছু দিয়ে থাকেন। বার্ধক্যে উপনীত হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, ফলে তারা আমাদের একটু বাড়তি মনোযোগ, সেবা ও সম্মানের অধিকারী হন। সিয়ামের বাবা এই শাশ্বত সত্যটিকেই তুলে ধরেছেন। সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান প্রদর্শন করলে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়। তরুণ প্রজন্ম যদি প্রবীণদের সম্মান করতে শেখে, তবে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা বা একাকীত্বের স্থান থাকে না। অতএব, সিয়ামের বাবার উক্তিটি সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
১০.
মেহজাবিনের মধ্যে আখলাকে হামিদার কোন গুণটি কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মেহজাবিনের কর্মকাণ্ডে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ সবকিছু দেখেন। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে তাকওয়া বলা হয়। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে মুত্তাকি বলা হয়। মানুষের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই তাকওয়া। এটি মানুষের মনকে পবিত্র রাখে এবং অসৎ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মেহজাবিনের এই আচরণের মাধ্যমে তাঁর সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে যা একজন প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
১১.
আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন?
উত্তর: আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কারণ এর দ্বারাই মানুষ পূর্ণাঙ্গ মানবতার স্তরে উপনীত হয়। মানবিকতা ও নৈতিকতার আদর্শ আখলাকে হামিদার মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে। মানুষের ইহ ও পরকালীন সুখ, শান্তি উত্তম স্বভাব চরিত্রের ওপরই নির্ভরশীল। সৎচরিত্রবান ব্যক্তি যেমন সমাজে সবার আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মানের পাত্র হন, তেমনি আল্লাহর নিকটও প্রিয়। মহানবি (স.) এর হাদিসে বলা হয়েছে, "তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি যে চরিত্রের দিক থেকে উত্তম।"
১২.
'শিরক' কাকে বলা হয়?
উত্তর: বাস্তব বা প্রকৃত ঘটনা বা বিষয়ে প্রকাশ করাকে শিরক বলা হয়। (অথবা মূল পরিভাষায়: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে।)
১৩.
সিয়ামের কর্মকাণ্ডে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক তার বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সিয়ামের কর্মকাণ্ডে বড়দের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ (জ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান) প্রকাশ পেয়েছে। নিচে সিয়ামের বাবার উক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে সমাজবদ্ধভাবে বসবাসের জন্য ছোট-বড় সবার প্রতি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিয়াম বাসে উঠতে না পারা একজন বয়স্ক মহিলাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে দেয়, যা তার সুন্দর পারিবারিক শিক্ষা ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সিয়ামের এই কাজে খুশি হয়ে তার বাবা বলেছেন— 'আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত।' এই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক ও ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহানবি (স.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান ও অধিকার চেনে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।' (সুনানে আবু দাউদ)। প্রবীণ বা সিনিয়র নাগরিকরা সমাজের সম্মানিত অংশ। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তারা সমাজ ও পরিবারকে অনেক কিছু দিয়ে থাকেন। বার্ধক্যে উপনীত হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, ফলে তারা আমাদের একটু বাড়তি মনোযোগ, সেবা ও সম্মানের অধিকারী হন। সিয়ামের বাবা এই শাশ্বত সত্যটিকেই তুলে ধরেছেন। সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান প্রদর্শন করলে সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়। তরুণ প্রজন্ম যদি প্রবীণদের সম্মান করতে শেখে, তবে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা বা একাকীত্বের স্থান থাকে না। অতএব, সিয়ামের বাবার উক্তিটি সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
১৪.
মেহজাবিনের মধ্যে আখলাকে হামিদার কোন গুণটি কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মেহজাবিনের কর্মকাণ্ডে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে মেহজাবিন আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ সবকিছু দেখেন। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে তাকওয়া বলা হয়। যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে মুত্তাকি বলা হয়। মানুষের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই তাকওয়া। এটি মানুষের মনকে পবিত্র রাখে এবং অসৎ ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মেহজাবিনের এই আচরণের মাধ্যমে তাঁর সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে যা একজন প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
১৫.
আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন?
উত্তর: আখলাকে হামিদাকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কারণ এর দ্বারাই মানুষ পূর্ণাঙ্গ মানবতার স্তরে উপনীত হয়। মানবিকতা ও নৈতিকতার আদর্শ আখলাকে হামিদার মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে। মানুষের ইহ ও পরকালীন সুখ, শান্তি উত্তম স্বভাব চরিত্রের ওপরই নির্ভরশীল। সৎচরিত্রবান ব্যক্তি যেমন সমাজে সবার আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মানের পাত্র হন, তেমনি আল্লাহর নিকটও প্রিয়। মহানবি (স.) এর হাদিসে বলা হয়েছে, "তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি যে চরিত্রের দিক থেকে উত্তম।"
১৬.
'শিরক' কাকে বলা হয়?
উত্তর: বাস্তব বা প্রকৃত ঘটনা বা বিষয়ে প্রকাশ করাকে শিরক বলা হয়। (অথবা মূল পরিভাষায়: আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে।)
১৭.
ইসরাতের আচরণে যা প্রকাশ পেয়েছে তা নির্ধারণপূর্বক এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত ইসরাতের আচরণে মিতব্যয়িতা প্রকাশ পেয়েছে। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো- ইসলামে মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম। মিতব্যয়িতা হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় না করে তা সংরক্ষণ করা অথবা অপচয় না করে হিসাব করে চলা। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাত তাঁর ছেলেকে স্কুলে পাঠানোর সময় শুধু যাতায়াত ভাড়া দেন এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়াতে বাসা থেকে টিফিন তৈরি করে দেন। এটি তাঁর মিতব্যয়ী মানসিকতার চমৎকার প্রতিফলন। ইসলাম অপচয় ও কৃপণতা উভয়কেই কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থ অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।" (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)। অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মিতব্যয়িতা মানুষকে অভাব-অনটন থেকে রক্ষা করে এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইসরাতের এই পরিমিত ও বিচক্ষণ জীবনযাত্রার ফলে তাঁর পরিবার যেমন আর্থিক সংকট থেকে মুক্ত থাকবে, তেমনি সন্তানও ছোটবেলা থেকে সৎ ও পরিচ্ছন্ন অভ্যাসে গড়ে উঠবে। সুতরাং, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নে ইসরাতের এই মিতব্যয়িতার আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয়।
১৮.
সাদমানের কর্মকাণ্ডে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাদমানের কর্মকাণ্ডে কর্তব্যপরায়ণতা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ তিনি যথাসময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করেন এবং অধীনস্থদের সঠিকভাবে তদারকি করেন। তার ওপর অর্পিত সকল কাজ সঠিকভাবে পালন করেন। কর্তব্যপরায়ণতা মুমিনের অন্যতম গুণ। তারা মনে করেন তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। কারণ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ব্যাপারে মহান আল্লাহর নিকট একদিন পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দিতে হবে। যেমন- মহানবি (স.) বলেছেন, "তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর তোমরা প্রত্যেকেই স্বীয় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।" আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে আমাদের পরীক্ষা করার জন্য নানা দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছেন। পরকালে তিনি আমাদের সকলকে কর্তব্য পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন। সেদিন কর্তব্যপরায়ণগণ সহজে মুক্তি লাভ করবে। তাদের জন্য রয়েছে শান্তির জায়গা জান্নাত। অন্যদিকে যারা কর্তব্য কাজে অবহেলা করেছে, ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি তারা বিপদগ্রস্ত হবে। তারা শাস্তি ভোগ করবে তাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তি জাহান্নাম। সাদমান অফিস থেকে যেসব কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন তা যথাযথভাবে সম্পাদন করেন। তাই তিনি জান্নাত লাভ করবেন।
১৯.
মানবজীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পবিত্রতা ও সুস্বাস্থ্যর জন্য মানবজীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। পবিত্রতা অর্জনের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হয়। নোংরা অবস্থায় পবিত্রতা অর্জন করা যায় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সুস্বাস্থ্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে বিভিন্ন রোগবালাই আক্রমণ করে। মানুষ দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই সুস্বাস্থ্যর জন্যও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
২০.
আত্মশুদ্ধি কাকে বলে?
উত্তর: সর্বপ্রকার অনৈসলামিক কথা ও কাজ থেকে নিজ অন্তরকে মুক্ত ও নির্মল রাখাকে আত্মশুদ্ধি বলা হয়।
২১.
“সুমন সাহেবের তুলনায় তারেক সাহেবের কাজের ধরনই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।” উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “সুমন সাহেবের তুলনায় তারেক সাহেবের কাজের ধরনই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।” উদ্দীপক ও ইসলামের সুমহান বাণীর আলোকে মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ ও বিশ্লেষণাত্মক সত্য। ইসলামের সুমহান জীবনদর্শনে যেকোনো ইবাদত, পুণ্য ও দানের মূল ভিত্তি হলো মনের আন্তরিকতা এবং নিয়তের বিশুদ্ধতা। ইবাদত হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। যদি কোনো আমলে লোক দেখানোর প্রবৃত্তি (রিয়া) প্রবেশ করে, তবে তা আল্লাহর দরবারে প্রত্যাখ্যাত হয়। উদ্দীপকে তারেক সাহেব গোপনে অভাবগ্রস্ত মানুষের মাঝে দান-সাদাকাহ করেন এবং লোক দেখানো ইবাদত পরিহার করেন, যা ইসলামের সুমহান শিক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন। অন্যদিকে, সুমন সাহেব দান করার পর তা লোকসমক্ষে প্রচার করেন এবং উপকারভোগীকে খোটা ও কষ্ট দেন, যা তাঁর দানকে নিষ্ফল ও গুনাহের কাজে পরিণত করেছে। ইসলামে গোপনে দান করাকে অত্যন্ত উৎসাহিত করা হয়েছে এবং খোটা দিয়ে দান গ্রহীতার আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُم بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা খোটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানসমূহকে নষ্ট করো না, যেমন সেই ব্যক্তি নিজের ধনসম্পদ মানুষের দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে..." (সূরা আল-বাকারাহ : ২৬৪)। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কিয়ামতের দিনে আরশের নিচে যে সাত প্রকার মানুষ আশ্রয় পাবেন, তাদের মধ্যে এক প্রকার হলেন— "সেই ব্যক্তি যিনি এতো গোপনে দান করেন যে তাঁর ডান হাত যা দান করে বাঁ হাত তা টের পায় না।" (সহিহ বুখারি)। সুমন সাহেবের দানশীলতা থাকা সত্ত্বেও রিয়া ও খোটা দেওয়ার অহংকারের কারণে তাঁর আমল বাতিল হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে, তারেক সাহেব লোক দেখানো ইবাদতের অমঙ্গল থেকে নিজেকে দূরে রেখে সম্পূর্ণ গোপনে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে দান করেছেন। এটিই ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা। আল্লাহর নিকট পরিমাণের চেয়ে নিয়তের আন্তরিকতা বেশি মূল্যবান। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার নিরিখে বলা যায়, সুমন সাহেবের তুলনায় তারেক সাহেবের কাজের ধরন ও মানসিকতাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর দরবারে পরম গ্রহণযোগ্য আমল।
২২.
উদ্দীপকের সুমন সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে জামিমাহর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সুমন সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে জামিমাহর নিন্দনীয় স্বভাব 'রিয়া' বা লোক দেখানোর মানসিকতা ফুটে উঠেছে। ইসলামী পরিভাষায় লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অথবা মানুষের মাঝে বাহবা ও প্রশংসা পাওয়ার নিয়তে কোনো ভালো কাজ বা ইবাদত করাকে 'রিয়া' (الرِّيَاءُ) বলে। উদ্দীপকে দানশীল সুমন সাহেব অভাবগ্রস্ত মানুষকে অকাতরে সাহায্য বা দান করেন, যা প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু তিনি দান করার পরক্ষণেই সবার সামনে তা প্রকাশ করেন এবং দান গ্রহণকারী বা উপকারভোগীকে নানাভাবে খোটা দেন। এটি স্পষ্টত লোক দেখানোর হীন প্রবৃত্তি এবং দম্ভের প্রকাশ। দান-সাদাকাহ মানুষের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুণ্যময় কাজ। তবে তা হতে হবে নিঃস্বার্থ এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। সুমন সাহেব মানুষের মাঝে নিজের উদারতা ও দানশীলতা প্রকাশ করার জন্য এই সাহায্য করেন এবং পরে খোটা দিয়ে উপকারভোগীকে হেয় করেন। সুমন সাহেবের এই লোক দেখানোর স্পৃহা এবং খোটা দেওয়ার অভ্যাস তাঁর আমলকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাঁর চরিত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে চরম নিন্দনীয় দোষ 'রিয়া' প্রকাশ পেয়েছে।
২৩.
রিয়াকে ছোট শিরক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার নিয়তে কোনো সৎ কাজ বা ইবাদত করাকে রিয়া বলে। ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্যই নির্দিষ্ট। কিন্তু রিয়াকারী ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে মানুষের সুনাম বা দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করে, যা আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করার নামান্তর। যদিও এটি বড় শিরক বা মূর্তিপূজার মতো নয়, তবে এটি ইবাদতের বিশুদ্ধতা ও নিয়তকে ধ্বংস করে দেয়। এই গোপন ও সূক্ষ্ম অংশীদারিত্বের কারণে রাসুলুল্লাহ (স.) রিয়াকে ছোট শিরক বা "শিরকে আসগর" বলে অভিহিত করেছেন।
২৪.
রিয়া শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিয়া (الرِّيَاءُ) শব্দের অর্থ লোক দেখানো কাজ, প্রদর্শন বা ভণ্ডামি।
২৫.
“সাদমানের মতো ব্যক্তিদের মানসিকতা ও সামাজিক আচরণ একটি শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার।” উক্তিটি উদ্দীপক ও ইসলামের সুমহান বাণীর আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “সাদমানের মতো ব্যক্তিদের মানসিকতা ও সামাজিক আচরণ একটি শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার।” উদ্দীপক ও ইসলামের সুমহান বাণীর আলোকে উক্তিটি গভীর বিশ্লেষণযোগ্য এবং শতভাগ সত্য। একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ গঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও সচ্চরিত্র। উদ্দীপকের সাদমান তার বন্ধুদের সাথে সর্বদা ভদ্র ও শালীন আচরণ করে এবং কখনোই কারো সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উপহাস করে না। তার এই সুকুমার বৃত্তি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়ায়। অপরদিকে সাকিবের উপহাস ও কৌতুক করার অভ্যাস অন্য সহপাঠীদের মনে ক্ষোভ ও মনঃকষ্টের সৃষ্টি করে, যা সামাজিক দূরত্বের মূল কারণ। ইসলামে অপরের মর্যাদা রক্ষা করা এবং কাউকে উপহাস বা বিদ্রূপ না করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ অর্থ : "হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীরা উপহাসকৃত ব্যক্তিদের চেয়ে উত্তম হতে পারে না..." (সূরা আল-হুজুরাত : ১১)। রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, "এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তাকে হেয় প্রতিপন্ন বা উপহাস করতে পারে না।" (সহিহ মুসলিম)। সাকিবের উপহাসমূলক আচরণে বন্ধুত্ব বা হৃদ্যতা বাড়ে না, বরং তা অহংকার ও ঘৃণার জন্ম দেয়। পক্ষান্তরে সাদমানের মতো শালীন ও শ্রদ্ধাপূর্ণ মানসিকতা সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যকার হিংসা-বিদ্বেষ চিরতরে দূর করে দেয়। সমাজে যখন প্রত্যেকেই একে অপরের আত্মমর্যাদাকে সম্মান করবে, তখন সেখানে কোনো বিভেদ বা হানাহানি থাকবে না। অতএব, সাদমানের মতো আদর্শ আচরণ ও ইসলামের শিক্ষার সঠিক প্রয়োগই একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় সমাজ গঠনের প্রকৃত চাবিকাঠি।
২৬.
সাকিবের আচরণে আখলাকে জামিমাহর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাকিবের আচরণে আখলাকে জামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্গত 'উপহাস' (বিদ্রূপ)-এর দিকটি ফুটে উঠেছে। ইসলামী পরিভাষায় কাউকে ছোট বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার আকার-আকৃতি, বংশমর্যাদা, শারীরিক ত্রুটি বা হাঁটাচলা নিয়ে হাসাহাসি করা এবং বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি বা কথাবার্তা বলাকে উপহাস (السُّخْرِيَّة) বলা হয়। সাকিব তার সহপাঠীদের শারীরিক ত্রুটি ও বংশমর্যাদা নিয়ে কৌতুক ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, যা সম্পূর্ণরূপে উপহাসের শামিল। ইসলামে মানবসমাজকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ রাখার জন্য অপরের প্রতি সর্বদা সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারো শারীরিক অক্ষমতা বা বংশমর্যাদা নিয়ে ঠাট্টা বা কৌতুক করা জঘন্যতম মানসিক ব্যাধি ও নৈতিক স্খলন। কুরআন মাজিদে এ ধরনের কার্যকলাপকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাকিবের এই আচরণ সুস্থ মানসিকতা ও ইসলামী শালীনতাবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী, যার ফলে তার আচরণে আখলাকে জামিমাহর অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
২৭.
"উপহাসকারী অন্যকে নয়, প্রকারান্তরে নিজেকেই উপহাস করে।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উপহাস একটি নিন্দনীয় স্বভাব। যখন কেউ অন্যকে উপহাস বা বিদ্রূপ করে, তখন সে মনে করে যে সে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথচ আল্লাহ তায়ালার কাছে উপহাসকারী নিজেই তার মর্যাদাবোধ হারিয়ে ফেলে। কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলে পারস্পরিক বিদ্বেষ ছড়ায় এবং নিজের আত্মিক ও নৈতিক চরিত্র কলুষিত হয়। মূলত অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করার মাধ্যমে উপহাসকারী নিজের মধ্যকার অহংকার ও মন্দ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, যা প্রকারান্তরে তার নিজের ব্যক্তিত্বকেই ধ্বংস করে। তাই বলা হয়, উপহাসকারী অন্যকে নয়, নিজেকেই উপহাস করে।
২৮.
পরনিন্দা কী?
উত্তর: কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ করাই হলো পরনিন্দা বা গিবত।
২৯.
“ফাহিম ও ওয়াসিমের কর্মফল সামাজিক ও পরকালীন জীবনে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।” বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ফাহিম ও ওয়াসিম দুই ভাই হলেও তাদের চারিত্রিক বৈপরীত্যের কারণে সামাজিক ও পরকালীন প্রতিক্রিয়াও হবে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী— মন্তব্যটি অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের কর্ম ও নৈতিক আচরণের ওপরেই সমাজ এবং পরকালের পরিণতি নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের ফাহিম একজন সৎ ও আদর্শ ব্যবসায়ী, যিনি দেশের আইন মেনে চলেন এবং কর ও ভ্যাট দেন। অপরদিকে ওয়াসিম একজন ফাঁকিবাজ, ঘুষখোর ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা, যিনি অসদুপায়ে আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন। এই দুই ভাইয়ের সামাজিক সম্মান ও আল্লাহর দরবারে জবাবদিহিতা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। সামাজিক ক্ষেত্রে ফাহিম একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর দেশপ্রেম, সততা এবং সুনাগরিকসুলভ দায়িত্ববোধ সমাজের চোখে অত্যন্ত প্রশংসিত এবং তিনি সবার শ্রদ্ধা অর্জন করবেন। অপরদিকে ওয়াসিম সমাজে বিত্তবৈভবের মালিক হলেও লোকচক্ষুর অন্তরালে ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন ঘৃণিত এবং নিন্দিত ব্যক্তি। তাঁর দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের নিপীড়ন সমাজকে কলুষিত করে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য ঘটবে পরকালীন জীবনে। ফাহিমের মতো সৎ ব্যবসায়ী সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেন, "সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবিগণ, সত্যবাদীগণ ও শহীদদের সাথে থাকবেন।" (তিরমিজি)। পক্ষান্তরে, ওয়াসিমের অন্যায় উপার্জন ও ঘুষ গ্রহণের পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, "ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।" (তিরমিজি)। অন্যায্য ও হারাম মাল দিয়ে গঠিত শরীর কোনোদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সুতরাং বলা যায়, ফাহিম ইহকাল ও পরকালে চির সম্মান ও প্রশান্তি লাভ করবেন, অন্যদিকে ওয়াসিম ইহকালে লোকচক্ষুর ঘৃণা এবং পরকালে আল্লাহর কঠিন শাস্তির কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন। অতএব, ফাহিম ও ওয়াসিমের কর্মফল সামাজিক ও পরকালীন জীবনে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে— উক্তিটি শতভাগ সত্য।
৩০.
উদ্দীপকের ফাহিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কোন আদর্শটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গ) উদ্দীপকের ফাহিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক আদর্শ দেশপ্রেম ও সততার অনন্য নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামে সততা ও হালাল উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ইবাদততুল্য গুণ। একজন আদর্শ নাগরিকের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হলো দেশের প্রচলিত আইনকানুন ও নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের অধিকার ও পাওনা যেমন— কর, শুল্ক ও ভ্যাট সঠিকভাবে পরিশোধ করা। ফাহিম সাহেব তাঁর ব্যবসায়িক সকল আইনকানুন মেনে চলেন এবং যথাসময়ে কর ও ভ্যাট পরিশোধ করেন, যা তাঁর গভীর দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। দেশপ্রেম ইমানের একটি বিশেষ দাবি ও মানব চরিত্রের মহত্তম দিক। ফাহিমের মতো সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ীর কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়। তিনি তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের প্রভূত কল্যাণ সাধন করেছেন, যা আখলাকে হামিদাহর অত্যন্ত উজ্জ্বল ও গৌরবোজ্জ্বল একটি দিক।
৩১.
"ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঘুষ হলো কোনো অন্যায় সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে বা নিজের দায়িত্ব পালনে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা। এটি চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক সুবিচার ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার। ঘুষ আদান-প্রদানকারী মূলত অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং সমাজে জুলুম ও বৈষম্যের বিস্তার ঘটায়। এ কারণে রাসুলুল্লাহ (স.) ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই চরম পাপিষ্ঠ ও জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন— الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي كِلَاهُمَا فِي النَّارِ অর্থ : "ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।" (আত-তিরমিজি)
৩২.
সুদ কাকে বলে?
উত্তর: ঋণ প্রদান করে আসল বা মূলধনের অতিরিক্ত কোনো নির্দিষ্ট সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ লাভ করাই হচ্ছে সুদ।
৩৩.
“আকরাম সাহেবের সততা ও ওয়াদা রক্ষা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্কের চাবিকাঠি।” মন্তব্যটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “আকরাম সাহেবের সততা ও ওয়াদা রক্ষা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্কের চাবিকাঠি।” উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবধর্মী, যৌক্তিক এবং অনুকরণীয় এক চিরন্তন সত্য। আর্থিক লেনদেন এবং পারস্পরিক সামাজিক বিশ্বাসের মেরুদণ্ড হলো সততা এবং ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। কোনো সামাজিক বা বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের পর তা বিশ্বস্ততার সাথে টিকিয়ে রাখার ওপরই গড়ে ওঠে সুস্থ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। উদ্দীপকের আকরাম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন বা ঋণ গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই তা পরিশোধ করে আমানতদারিতা ও ওয়াদা পালনের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর ফলে আকরাম সাহেব এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক আস্থা আরও বেশি শক্তিশালী হয়, যা তাঁর ব্যবসায়ী জীবনের সুনামের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ইসলামে ওয়াদা পালন করা ও সময়মতো ঋণ পরিশোধ করার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির ওয়াদা ও আমানতদারিতা তার সুদৃঢ় ইমানের বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (স.) ঋণ পরিশোধে সচেষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা করে বলেছেন— "তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধে সবচেয়ে ভালো ও আন্তরিক।" (সহিহ বুখারি)। বিপরীত দিকে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে অবহেলা বা টালবাহানা করে, ইসলাম তাদের কর্মকাণ্ডকে 'জুলুম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং তা সামাজিক বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়, যেমনটি আজম সাহেবের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আজম সাহেব সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করায় তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে এবং তিনি সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন, যা তার সামাজিক জীবনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। পরিশেষে বলা যায়, আকরাম সাহেবের সততা ও ওয়াদা রক্ষার আদর্শ কেবল বাণিজ্যিক আস্থাই বাড়ায় না, বরং সামাজিকভাবে একটি কল্যাণময় ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখে। আজম সাহেবের হীন আচরণ সমাজে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করে, অন্যদিকে আকরাম সাহেবের সৎ আদর্শ সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের গতিশীলতা রক্ষা করে। অতএব, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
৩৪.
আজম সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কোন গুরুত্বপূর্ণ গুণের লঙ্ঘন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আজম সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর ওয়াদা রক্ষা ও আমানতদারিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে। ইসলামী আদর্শে ওয়াদা রক্ষা করা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা অন্যতম প্রধান ইমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। ব্যাংক বা যেকোনো ব্যক্তি থেকে কোনো শর্তে অর্থ ঋণ নিলে তা নির্ধারিত শর্ত ও সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা আমানতদারি এবং ওয়াদা পূরণের অন্তর্ভুক্ত। আজম সাহেব ব্যাংক থেকে লোন বা ঋণ নিয়ে সময়মতো তা পরিশোধ করেননি, যা সরাসরি ওয়াদা খেলাফ (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ) করার শামিল। ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা ওয়াদা ভঙ্গ করাকে মুনাফিকের লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক লেনদেনে অবহেলা ও চুক্তি লঙ্ঘন করা সামাজিক অপরাধ ও নৈতিক অসততার প্রকাশ ঘটায়। আজম সাহেব চুক্তি অনুসারে ঋণ পরিশোধ না করে চরম দায়িত্বহীনতা ও ইসলামী সুমহান নৈতিক শিক্ষার লঙ্ঘন করেছেন, যার ফলশ্রুতিতে তাকে আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
৩৫.
"নিশ্চয়ই ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি পালন সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক দাবি ও মানুষের মহান মানবিক গুণ। ইসলামে কাউকে কোনো কথা দিলে বা কোনো সামাজিক ও আইনি চুক্তি করলে তা যথাযথভাবে পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ওয়াদা ভঙ্গের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন কঠোর জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন— وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا অর্থ : "এবং তোমরা প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পূর্ণ করবে; নিশ্চয়ই ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) কৈফিয়ত তলব করা হবে (জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে)।" (সূরা বনী ইসরাঈল : ৩৪)
৩৬.
আমানতদার কে?
উত্তর: যিনি অন্যের গচ্ছিত সম্পদ বা আমানত সযত্নে সংরক্ষণ করেন এবং কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করে প্রকৃত মালিকের নিকট তা যথাসময়ে ফেরত দেন, তাকে আমানতদার বলা হয়।
৩৭.
“মি. শফিকের মতো ব্যবসায়ীদের উত্তম আচরণ ও সততাই সমাজের আদর্শ ব্যবসায়িক মডেল”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “মি. শফিকের মতো ব্যবসায়ীদের উত্তম আচরণ ও সততাই সমাজের আদর্শ ব্যবসায়িক মডেল”- উক্তিটি ইসলামের সুমহান অর্থনৈতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ এবং বাস্তবসম্মত। ব্যবসায়িক সততা এবং কর্মচারীদের সাথে ভালো ব্যবহার ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। উদ্দীপকের মি. শফিক তাঁর বাবার ব্যবসা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করেন। তিনি একদিকে যেমন তাঁর অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার ও পারিশ্রমিক যথাসময়ে মিটিয়ে দেন, অন্যদিকে সততার সাথে লেনদেন করেন। যার ফলশ্রুতিতে তাঁর ব্যবসায়িক খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেন। ইসলামে ব্যবসাকে অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং সততার সাথে তা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ী ছিলেন। সৎ ব্যবসায়ীদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবিগণ, সত্যবাদীগণ (সিদ্দিক) ও শহীদদের সাথে থাকবেন।" (তিরমিযি)। অপরদিকে অধীনস্থদের প্রাপ্য সময়মতো পরিশোধ করা এবং তাদের সাথে মানবিক ব্যবহার করার গুরুত্বারোপ করে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তোমরা শ্রমিকের মজুরি তার গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পরিশোধ করে দাও।" (ইবনে মাজাহ)। মি. শফিকের চরিত্র ও কর্মে ইসলামের এই মহান শ্রমনীতি ও ব্যবসায়িক সততার অপূর্ব বাস্তবায়ন দেখা যায়। তাঁর এই মহৎ আদর্শ যদি বর্তমান ব্যবসায়ী সমাজ অনুসরণ করে, তবে সমাজ থেকে সব রকমের শোষণ, ভেজাল এবং ব্যবসায়িক অসততা দূর হবে। মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। অতএব নির্দ্বিধায় বলা যায়, মি. শফিকের ব্যবসায়িক আদর্শই সমাজ পরিবর্তনের এক অনুকরণীয় মডেল।
৩৮.
উদ্দীপকের মি. রফিকের কর্মকাণ্ডে ইসলামের দৃষ্টিতে কোন ধরনের অন্যায় ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মি. রফিকের কর্মকাণ্ডে ইসলামের দৃষ্টিতে আখলাকে জামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্গত 'অনধিকার চর্চা' এবং অন্যের হক নষ্ট করার মতো গুরুতর অন্যায় ফুটে উঠেছে। ইসলামে অপরের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ বা আত্মসাৎ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মি. রফিক প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়া তাঁর বাগান থেকে সুস্বাদু কিছু আম পেড়ে গোপনে খেয়ে ফেলেছেন, যা মূলগতভাবে চুরির শামিল। এটি অপরের অধিকার বা 'হক্বুল ইবাদ' (বান্দার হক) হরণ করার নামান্তর। ইসলাম মানুষকে অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ না করার এবং আমানতদারি রক্ষা করার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" (সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৮)। মি. রফিকের এই কর্মকাণ্ড কেবল নৈতিক স্খলনই নয়, বরং সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা এবং প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বিনষ্টের অন্যতম কারণ। এ জাতীয় আচরণ একজন আদর্শ মুমিনের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
৩৯.
"অন্যের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ইসলাম সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় রাখার জন্য একে অপরের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করা এবং তা মানুষের মাঝে প্রচার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কোনো মানুষের ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা ভুলত্রুটি মানুষের সামনে প্রকাশ না করে তা গোপন রাখা মহান আল্লাহর একটি গুণ। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অন্যের সম্মান রক্ষা করবে এবং তার ত্রুটি আড়াল করবে, কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে আল্লাহ তায়ালাও তার গুনাহ ও ত্রুটিসমূহ ঢেকে রেখে তাকে সম্মানিত করবেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।" (সহিহ মুসলিম)
৪০.
ফিতনা-ফ্যাসাদ কাকে বলে?
উত্তর: সমাজে বিশৃঙ্খলা, কলহ-বিবাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করাকেই ফিতনা-ফ্যাসাদ বলে।
৪১.
“আকাশের মতো সচ্চরিত্রবান ও আদর্শ যুবকদের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব।” উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “আকাশের মতো সচ্চরিত্রবান ও আদর্শ যুবকদের মাধ্যমেই সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব।” উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজ পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তরুণ ও যুবসমাজ। যুবকদের চরিত্র যদি নৈতিকতা, সততা ও সচ্চরিত্রের মহৎ গুণে গড়ে ওঠে, তবেই সমাজ থেকে অনাচার, হিংসা-বিদ্বেষ ও অন্যায় দূর হওয়া সম্ভব। উদ্দীপকে আকাশ এলাকার যুবকদের মাঝে সুন্দর আচরণ, সচ্চরিত্র গঠন ও পরোপকারের শিক্ষা প্রদান করেন। তার এই সৎ প্রচেষ্টার ফলেই এলাকার যুবকদের চরিত্রে ইতিবাচক ও নৈতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, যা মূলত একটি আদর্শ সমাজ গড়ার প্রধান পূর্বশর্ত। ইসলামে যুবসমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। সচ্চরিত্র ও নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন যুবকদের সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণীর মানুষকে কিয়ামতের কঠিন দিনে তাঁর আরশের সুশীতল ছায়াতলে স্থান দেবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো— “সেই যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদত-আনুগত্যের মধ্য দিয়ে।” (সহিহ বুখারি)। আকাশের শিক্ষা এলাকার যুবকদের মাঝে উন্নত চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা তন্ময়ের মতো হিংসুক ব্যক্তিদের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। সচ্চরিত্রের অধিকারীরাই সমাজকে সঠিক ও কল্যাণের পথ দেখাতে পারে। যখন যুবসমাজ চরিত্রবান ও পরোপকারী হবে, তখন সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং আকাশের মতো যুবকদের নিঃস্বার্থ কর্মোদ্যোগ ও আদর্শের ফলেই সমাজে প্রকৃত রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়ন আনা সম্ভব।
৪২.
উদ্দীপকে তন্ময়ের আচরণে আখলাকে জামিমাহর কোন আচরণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে তন্ময়ের আচরণে আখলাকে জামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্গত 'হিংসা' ও 'গিবত' (পরনিন্দা)-এর আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামের পরিভাষায় অন্যের সুখ, সমৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে তা ধ্বংস বা বিলোপ হওয়ার এবং নিজে তার মালিক হওয়ার চরম আকাঙ্ক্ষাকে হিংসা বা হাসাদ বলা হয়। একইসাথে কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের কাছে প্রচার করাকে গিবত বা পরনিন্দা বলা হয়। তন্ময় তার প্রতিবেশী সুজনের ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত বা হিংসাগ্রস্ত হয়ে তার নামে মিথ্যা বদনাম (গিবত ও অপবাদ) ছড়ায়। তন্ময়ের এই হীন আচরণটি ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সমাজ ও ব্যক্তির নৈতিকতা ধ্বংসের মূল কারণ। হিংসুক ব্যক্তি নিজের অন্তরে সারাক্ষণ হিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয় এবং অন্যের ক্ষতি করতে ব্যাকুল থাকে। তন্ময় ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে সুজনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছে, যা পবিত্র ইসলাম ধর্মের সুমহান নৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী ও সামাজিক অপরাধ।
৪৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শালীনতার ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শালীনতা মানুষের সুরুচি ও উন্নত ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় শালীনতা বজায় রাখলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। এটি অন্যায়, অপকর্ম ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে মানুষকে বিরত রাখে। সমাজে শালীনতার ব্যাপক চর্চা থাকলে শাসনব্যবস্থা সহজ হয় এবং দুর্নীতি ও অপরাধের প্রবণতা হ্রাস পায়। ফলে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪৪.
আখলাক কত প্রকার?
উত্তর: আখলাক প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১. আখলাকে হামিদাহ (প্রশংসনীয় চরিত্র) এবং ২. আখলাকে জামিমাহ (নিন্দনীয় চরিত্র)।
৪৫.
“রাজীবের মতো ব্যক্তিদের অসচেতনতাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।” সজীবের বক্তব্যের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: “রাজীবের মতো ব্যক্তিদের অসচেতনতাই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।” সজীবের বক্তব্যের আলোকে মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সত্য। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের অসচেতনতা ও নোংরা অভ্যাসের কারণে পরিবেশ প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। উদ্দীপকের রাজীব যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ও কফ-থুতু ফেলে পরিবেশ নোংরা করে, যা জীবাণু ছড়াতে এবং বায়ু ও চারপাশ দূষিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের দায়িত্বহীন আচরণের ফলেই সংক্রামক রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজীবের মতো অনেকেই প্রায়ই অসুস্থ থাকে। ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ করা এবং একে পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি ঈমানদারের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “তোমরা অভিশাপের দুটি কাজ থেকে বিরত থাকো। সাহাবিগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অভিশপ্ত কাজ দুটি কী? তিনি বললেন— যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের রাস্তায় অথবা তাদের বিশ্রামের ছায়াদার জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে।” (সহিহ মুসলিম)। এছাড়া রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলাকে ইমানের একটি শাখা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সজীবের কথা ও উপদেশ অত্যন্ত যথার্থ। রাজীব যদি নিজের ঘরবাড়ি ও চারপাশ সজীবের মতো পরিচ্ছন্ন রাখত এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকত, তবে পরিবেশ দূষণ রোধ হতো এবং সে নিজে বারবার অসুস্থ হতো না। অতএব বলা যায়, পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও রোগবালাই থেকে নিরাপদ রাখতে রাজীবের মতো ব্যক্তিদের অসচেতন মানসিকতা পরিবর্তন করে ইসলামের পরিচ্ছন্নতার মহান আদর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
৪৬.
উদ্দীপকে সজীবের আচরণের মাধ্যমে ইসলামের কোন আদর্শটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের আচরণের মাধ্যমে ইসলামের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার (তহারাত) আদর্শটি ফুটে উঠেছে। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামী পরিভাষায় একে বলা হয় তহারাত (طَهَارَةٌ)। তহারাত হলো যাবতীয় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতা ও নোংরামি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। সজীবের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, তার ঘরবাড়ি ও বিছানাপত্র পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখার মাধ্যমে ইসলামের এই সুমহান ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটি বাস্তবায়িত হয়েছে। পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম এটিকে ইমানের অংশ ঘোষণা করেছে। মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন— الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ অর্থ : “পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।” (সহিহ মুসলিম)। আল্লাহ তায়ালাও পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-বাকারাহ : ২২২)। সজীবের চরিত্রে ইসলামের এই সুন্দর ও কল্যাণকর জীবনাদর্শের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়, যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অনুসরণীয়।
৪৭.
হিংসা মানুষের সৎ কর্মসমূহকে ধ্বংস করে দেয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হিংসা মানুষের একটি জঘন্যতম মানসিক ব্যাধি। এটি মানুষের সৎ কাজ ও পুণ্যসমূহকে দ্রুত গ্রাস বা ধ্বংস করে ফেলে। হিংসুক ব্যক্তি অন্য কারও ভালো সহ্য করতে পারে না এবং মনে মনে তার অমঙ্গল বা ক্ষতি কামনা করে। এই মানসিকতার ফলে তার অন্তরে ঘৃণা ও ক্ষোভের জন্ম হয়, যা তাকে বিভিন্ন প্রকার অন্যায় ও পাপে লিপ্ত করে। মহানবী (স.) হিংসার কুফল সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন— إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ অর্থ : “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা মানুষের নেক আমল বা পুণ্যসমূহকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে (ধ্বংস করে), যেভাবে আগুন শুকনো কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে।” (আবু দাউদ)
৪৮.
ফিতনা শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ফিতনা (فِتْنَةٌ) আরবি শব্দ। এর অর্থ বিশৃঙ্খলা, কলহ-বিবাদ, দাঙা-হাঙ্গামা, নৈরাজ্য, পরীক্ষা, বিভ্রান্তি ইত্যাদি।
৪৯.
সাজিদের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই একটি শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: সাজিদের আদর্শ তথা শ্রমিক ও অধীনস্থদের প্রতি চমৎকার আচরণ ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব- এ উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তব ও যুক্তিযুক্ত। শান্তিময় সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সামাজিক সাম্য ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। সমাজে খেটে খাওয়া শ্রমিক বা গৃহকর্মী সবচেয়ে দুর্বল ও বঞ্চিত শ্রেণী। তাদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই সভ্যতার চাকা সচল থাকে। কিন্তু অনেক সময় সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। সাজিদ তার গৃহকর্মীর সাথে নিজে বসে আহার করে এবং তাদের বিশ্রামের সুযোগ দেয় যা ইসলামের আদর্শের পরিপূরক। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "তারা (অধীনস্থরা) তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সুতরাং যার ভাই তার অধীনে কাজ করে, সে যা খায় তাকে যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরিধান করে তাকে যেন তা পরিধান করায় এবং তাকে এমন কষ্টের কাজ না দেয় যা তার সাধ্যাতীত। যদি কোনো কঠিন কাজ তাকে দিতেই হয়, তবে যেন সে নিজেও তাকে সাহায্য করে।" (সহিহ বুখারি)। সাজিদের আচরণে এই সুমহান মানবিক নীতি ফুটে উঠেছে। যখন গৃহকর্মী বা শ্রমিকরা তাদের সঠিক মর্যাদা ও পারিশ্রমিক পাবে এবং ভালো আচরণ পাবে, তখন সমাজে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব দূর হবে। কোনো হিংসা-বিদ্বেষ, অসন্তোষ বা বিশৃঙ্খলা থাকবে না। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হবে। বিপরীত দিকে, নাহিদের মতো খারাপ আচরণের ফলে সমাজে ক্ষোভ, বৈষম্য ও অশান্তি বৃদ্ধি পায়। তাই পরিশেষে বলা যায়, সমাজের সর্বস্তরে যদি সাজিদের মতো শ্রমিকবান্ধব ও কল্যাণকর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবেই শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
৫০.
নাহিদের আচরণে ইসলামী কোন আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নাহিদের আচরণে ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও ভ্রাতৃত্বের মহান আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মানবসমাজ এক অখণ্ড পরিবারের মতো। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু নাহিদ তার বাড়ির কাজের লোকের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী। ইসলামে শ্রমিক ও অধীনস্থদের সাথে ভালো আচরণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের ওপর সাধ্যাতীত কাজ চাপিয়ে দেওয়া এবং তাদের যথাযথ পাওনা বা পারিশ্রমিক সময়মতো ও সঠিকভাবে না দেওয়া মারাত্মক গুনাহের কাজ। উদ্দীপকে নাহিদ তার গৃহকর্মীকে অতিরিক্ত কাজ করায় কিন্তু ঠিকমতো খাবার ও পারিশ্রমিক দেয় না। এটি সরাসরি ইসলাম নির্দেশিত শ্রমিকের অধিকার হরণ ও অবিচারের শামিল। মহানবী (স.) নির্দেশ দিয়েছেন, শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দিতে। তাছাড়া অধীনস্থদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে এবং তাদের সাথে কোমল ব্যবহার করতে হবে। নাহিদ এই সুন্দর বিধানগুলোর অবমাননা করেছে, যার ফলে তার আচরণে চরম অমানবিকতা ও ইসলামের মহান শ্রমনীতির লংঘন স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
৫১.
ফিতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষা মহাশত্রুতা কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা জঘন্য অপরাধ। এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা, হানাহানি ও জানমালের ক্ষতি ডেকে আনে। যার কারণে মানুষের শান্তিময় জীবন বিপর্যস্ত হয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। ফিতনা সমাজে মহামারি আকার ধারণ করলে অসংখ্য নিরীহ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এ কারণে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা একে নরহত্যার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ অর্থ: "আর ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষা মহাশত্রুতা (গুরুতর অপরাধ)।" (সূরা আল-বাকারাহ : ১৯১)
৫২.
গিবত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: গিবত (غِيبَة) শব্দের অর্থ হলো পরনিন্দা করা, পরচর্চা করা বা কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ ত্রুটি অন্যের সামনে প্রকাশ করা।
৫৩.
ওয়াসিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি পরিলক্ষিত হয় তা চিহ্নিতপূর্বক তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ওয়াসিমের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কর্তব্যপরায়ণতার গুণটি পরিলক্ষিত হয়। আখলাকে হামিদাহর অন্যতম হলো কর্তব্যপরায়ণতা। মানুষের সার্বিক উন্নতি ও সফলতার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। কর্তব্যপরায়ণতা হলো যথাযথভাবে কর্তব্য আদায় করা, দায়িত্বসমূহ পালন করা ইত্যাদি। মানুষ হিসেবে আমাদের ওপর নানাবিধ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকা, সময়মতো সুন্দর ও সুচারুভাবে এগুলো পালন করা এবং এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন না করাকেই কর্তব্যপরায়ণতা বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "প্রত্যেকে যা করে তদানুসারে তার স্থান রয়েছে এবং তারা যা করে সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন।" (সূরা আল-আনআম : ১৩২) প্রদত্ত উদ্দীপকের ওয়াসিম পিতার মৃত্যুর পর সংসারের ভার নিজের কাঁধে নেন। তাছাড়া ছোট ভাইবোনদের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কাজ করেন, যা আখলাকে হামিদাহর কর্তব্যপরায়ণতার শামিল। কর্তব্যপরায়ণতা মুমিনের অন্যতম গুণ। মুমিন ব্যক্তি তার সকল কর্তব্য সম্পাদন করেন। আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার পাশাপাশি তিনি বাস্তবজীবনের সব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর একনিষ্ঠ বান্দাদের পরিচয় দিয়ে বলেছেন, "তারা কর্তব্য পালন করে এবং সেদিনের ভয় করে যেদিনের অনিষ্ট হবে ব্যাপক।" (সূরা আদ-দাহর : ৭)। কর্তব্য কাজে অবহেলা করলে পরকালে সেজন্য জবাবদিহি করতে হবে। একটি হাদিসে মহানবি (স.) বলেছেন- كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ অর্থ : "তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।" (বুখারি) সুতরাং আমরা কর্তব্যপরায়ণ হতে সচেষ্ট হব এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা লাভ করব।
৫৪.
নেহার উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নেহার উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর মানবসেবার গুণটি ফুটে উঠেছে। খিদমাতুল খালক বা সৃষ্টিজীবের সেবা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক দিক। বিশেষ করে মানুষের সেবা করা, পরিচর্যা করা, যত্ন নেওয়া, বিপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা মানবসেবার অন্তর্ভুক্ত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবা করা মানুষের অন্যতম দায়িত্ব। মানুষ হলো আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কর্তব্য হলো এসব সৃষ্টির প্রতি সদয় হওয়া ও তাদের সাথে যথাযথ ব্যবহার করা। পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করাও মানুষের অন্যতম দায়িত্ব। কেননা পরস্পরের সেবা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়। প্রদত্ত উদ্দীপকে নেহার উদ্দিন অসহায় বৃদ্ধকে গাড়ি ভাড়া ও পোশাক কিনে দিয়ে মূলত উন্নত চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন। কেননা মানবসেবা আখলাকে হামিদাহর অন্যতম বিষয়। মানবসেবা মানুষের উন্নত চরিত্রের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি মানুষের সেবা করে, তিনি মহৎপ্রাণ। সমাজে তিনি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তায়ালাও এরূপ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। যিনি মানুষের সেবা, সাহায্য-সহযোগিতা করেন আল্লাহ তায়ালাও তাঁকে সাহায্য ও দয়া করেন। মহানবি (স.) বলেন- "যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।" (বুখারি) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- إِرْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ অর্থ : "তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (তিরমিযি) পরিশেষে বলা যায়, সকল মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা করা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আদর্শ। তাই আমাদের উচিত যথাসম্ভব সকল মানুষের সেবা করা।
৫৫.
"ব্যয় করার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ অবলম্বন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মিতব্যয়িতা একটি গুরুত্বপূর্ণ চারিত্রিক গুণ। এটি মানবসমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। পক্ষান্তরে কৃপণতা ও অপচয় সমাজে নানা অশান্তির সৃষ্টি করে। অপচয়কারীর সম্পদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে সে নানা অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়। অন্যদিকে কৃপণতা মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও শত্রুতার জন্ম দেয়। সমাজে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। মিতব্যয়িতা মানুষকে অপচয় ও কৃপণতার কুফল থেকে রক্ষা করে। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন- مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ رِفْقُهُ فِي مَعِيشَتِهِ অর্থ : "ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।" (মুসনাদে আহমাদ)
৫৬.
পরিচ্ছন্নতা কী?
উত্তর: শরীর, মন ও অন্যান্য ব্যবহার্য বস্তু সুন্দর ও পবিত্র রাখা, ময়লা-আবর্জনা ও বিশৃঙ্খলা অবস্থা থেকে মুক্ত রাখাই হলো পরিচ্ছন্নতা।
৫৭.
মিছবাহের আচরণে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি প্রস্ফুটিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: মিছবাহের আচরণে আখলাকে হামিদাহর আমানতের গুণটি প্রস্ফুটিত হয়েছে। আমানত আরবি শব্দ। এর অর্থ গচ্ছিত রাখা, নিরাপদ রাখা। সাধারণত কারও নিকট কোনো অর্থসম্পদ, কথা গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলা হয়। তবে ব্যাপকার্থে শুধু ধনসম্পদ নয় বরং যেকোনো জিনিস গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলে। একজনের জানমাল, সম্মান, কথা-প্রতিজ্ঞা সবকিছুই অন্যের নিকট আমানতস্বরূপ। যিনি গচ্ছিত সম্পদ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন এবং তা প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেন তাকে বলা হয় আমিন বা আমানতদার। উদ্দীপকে তাজুল তার স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন প্রতিবেশী মিছবাহের নিকট জমা রাখে, যা একটি আমানত। মিছবাহ তা সযতনে রক্ষা করে এবং তাজুল চাওয়ামাত্রই নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দেয়। তার এই বিশ্বস্ততা আমানতদারিতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমানত রক্ষা করা মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। আমানতের খেয়ানত করলে মুমিন ব্যক্তি মুনাফিকে পরিণত হয়। এজন্য আমানত রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহান আল্লাহ পাক কুরআন মজিদে বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার মালিককে যথাযথভাবে ফেরত দাও।" (সূরা আন-নিসা : ৫৮)। মহানবি (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই।" (মুসনাদে আহমাদ)। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমানতদারিতা ইমানের অঙ্গ। যাদের ইমান আছে তারা আমানতের খেয়ানত করতে পারেন না। আর যারা খেয়ানত করে তারা প্রকৃত মুমিন নয়। তারা প্রতারক ও মুনাফিক। খেয়ানতকারী শুধু মানব সমাজেই ঘৃণিত নয়, সে আল্লাহর কাছেও ঘৃণিত ও অভিশপ্ত। কুরআন মজিদে আছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ খেয়ানতকারীকে পছন্দ করেন না।" (সূরা আল-আনফাল : ৫৮) মিছবাহ তার প্রতিবেশীর গচ্ছিত সম্পদ যথাযথভাবে ফেরত দিয়ে আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ পালন করেছে। তার এই সৎ গুণের কারণে সে সমাজে আদর্শ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে সমাদৃত হবে এবং পরকালেও পুরস্কৃত হবে। সুতরাং বলা যায়, মিছবাহের আচরণে ইসলামের অন্যতম প্রধান নৈতিক গুণ 'আমানতদারিতা' যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে।
৫৮.
হাসিবের আচরণে আখলাকে হামিদাহর কোন গুণটির অভাব পরিলক্ষিত হয় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাসিবের আচরণে আখলাকে হামিদাহর ওয়াদার গুণটির অভাব পরিলক্ষিত হয়। ওয়াদাকে আরবি ভাষায় বলা হয় আল-আহদু (العَهْدُ)। আল-আহদু-এর শাব্দিক অর্থ- ওয়াদা, অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি, চুক্তি কাউকে কোনো কথা দেওয়া বা কোনো কাজ করার ওয়াদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় কারও সাথে কোনোরূপ প্রতিশ্রুতি দিলে, অঙ্গীকার করলে বা কাউকে কোনো কথা দিলে তা যথাযথভাবে রক্ষা করাকে ওয়াদা পালন বলে। উদ্দীপকের হাসিব দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফকে কিছু টাকা দিবে বলে ওয়াদা করেছিল। কিন্তু আরিফ বারবার ফোন দিলেও সে রিসিভ না করে তাড়িয়ে দেয়, যা মূলত ওয়াদা ভঙ্গের শামিল। ওয়াদা পালন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সৎ ও নৈতিক গুণাবলির অধিকারী ব্যক্তিগণ সর্বদা ওয়াদা রক্ষা করে থাকেন। যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে না সে পূর্ণাঙ্গ মুমিন ও দীনদার হতে পারে না। একটি হাদিসে মহানবি (স.) বলেছেন, لَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ- অর্থ : "যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে না, তার দীন নেই।" (মুসনাদে আহমাদ) সুতরাং কাউকে কোনো কথা দিলে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে, প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতে হবে। তাহলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন।
৫৯.
"নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকওয়ার মূল্য অত্যাধিক। ধন-সম্পদ, শক্তি-ক্ষমতা, গাড়ি-বাড়ি থাকলেই মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট মর্যাদা লাভ করতে পারে না। বরং যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে, সেই আল্লাহ তায়ালার নিকট বেশি মর্যাদাবান। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং বলেছেন- إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।" (সূরা আত-তাওবা : ৪)
৬০.
শালীনতা কী?
উত্তর: কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় ভদ্র, সভ্য ও মার্জিত হওয়াই হলো শালীনতা।
৬১.
জনাব কবিরের কাজের পরিণতি ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব কবির খুব ঘুষ গ্রহণ করেন। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। 'হালাল তথা বৈধ উপায়ে উপার্জন করা ফরজ। হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারীর দোয়া কবুল হয় না এবং হারাম জীবিকা দ্বারা বর্ধিত শরীর কখনো জান্নাতে যাবে না'— উক্ত বক্তব্যগুলো আমাদের নেতা ও নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর। আর উক্ত বক্তব্যগুলোর সবকটিই জনাব কবিরের জন্য প্রযোজ্য। জনাব কবির কর্মস্থলে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কাজ করেন, যাকে ঘুষ বলা হয়। ঘুষ গ্রহণকারী জিনা হিসাবে জাহান্নামে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। নবি (স.) ঘোষণা করেন— 'ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামী।' বুখারি ও মুসলিম শরিফের আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে নবি (স.) বলেছেন— 'ঘুষ প্রদানকারী ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ের ওপরই আল্লাহর অভিসম্পাত।' (বুখারি ও মুসলিম) আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১৮৮ নং আয়াতে বলেন, তোমরা পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধনসম্পদের কিয়দংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে জেনে শুনে বিচারকদের নিকট পেশ করো না। আল্লাহ ও তার রাসূলের এত কঠোর নির্দেশের পরও কি এটা আশা করা যায় যে, জনাব কবির দুনিয়ার আরামের মতোই পরকালেও আরাম ভোগ করবেন! না, তা কখনো হবে না। বরং হারাম তাকে জাহান্নামের দোরগোড়ায় উপনীত করবে এবং তিনি আল্লাহর গজবে নিপতিত হবেন।
৬২.
জনাব খবিরের কাজের মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব খবির বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে কর্মহীন আয়েশি জীবনযাপন করছে। কোনো কাজে নিয়োজিত হতে তার চরম অনীহা। তার এ কাজে কর্মবিমুখতা প্রকাশ পেয়েছে। ইসলাম কখনো কর্মবিমুখতা অনুমোদন করে না। তাই জনাব খবিরের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, 'অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে।' (সূরা আল-জুমুআ : ১০) অন্যত্র তিনি বলেন, 'দুনিয়ায় তুমি তোমার অংশ ভুলে যেও না।' উক্ত আয়াতদ্বয়ে সরাসরি কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। নবি (স.) ঘোষণা করেছেন— 'হালাল উপায়ে জীবিকা অন্বেষণ করা ফরজের পর আরও একটি ফরজ কাজ।' (বায়হাকি) আমাদের নবি (স.) ব্যবসা করতেন, ছাগল চড়াতেন, সাহাবাগণ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তাই কর্মমুখী হওয়াই ইসলামের আদর্শ। কথায় বলে— 'অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।' কর্মবিমুখ হয়ে অলস জীবনযাপনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শয়তান তার পিছু লেগে থাকে, তাই তার দ্বারা বহুবিধ পাপাচার ও অপরাধ সংঘটিত হয়। পরিশেষে বলা যায় জনাব খবিরের কর্মবিমুখতা ইসলামি জীবনচারণের পরিপন্থী।
৬৩.
দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না কেন?
উত্তর: মহানবি (স.) বলেছেন, 'দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।' (আবু দাউদ) উক্ত স্বভাবের কারণে ব্যক্তি জীবনে অশান্তি নেমে আসে এবং সমাজ জীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জুলুম, অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার মহামারীর রূপ ধারণ করে। শান্তি, নিরাপত্তা, সামাজিক ঐক্য, সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। তাই দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের ব্যক্তিরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৬৪.
আখলাকে হামিদাহ অর্থ কী?
উত্তর: আখলাকে হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয় চরিত্র, সৎচরিত্র।
১.
জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে জনাব ‘খ’-এর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইসলামি সমাজসেবার মূল স্পিরিটকে নির্দেশ করে। তিনি যথার্থই বলেছেন যে, সমাজসেবা ও মানবসেবা কেবল মুসলমানদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন বিষয়। ইসলামি খিলাফত পরিচালনার সময় চারজন খলিফাই (খুলাফায়ে রাশেদিন) রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যে কোনো ধর্মেরই হোক না কেন— সমান মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বাইতুল মাল) থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিম দরিদ্র ও বৃদ্ধ নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হযরত উমর (রা.) একদা এক বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে ব্যথিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার জিজিয়া কর মওকুফ করে বাইতুল মাল থেকে আজীবন ভাতার ব্যবস্থা করেন। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর দানশীলতাও ছিল বিশ্বজনীন। উদ্দীপকের জনাব ‘খ’ তাঁর ফলের বাগান থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী জনাব ‘খ’-এর এই নিঃস্বার্থ দানশীলতা খুলাফায়ে রাশেদিনের সেই সুমহান অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিক চেতনার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। ইসলামে মানবসেবাকে সার্বজনীন রূপ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানবতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণই মূল লক্ষ্য, কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ নয়। অতএব, জনাব ‘খ’-এর এই মহৎ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি ইসলামের উদার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজসেবার বাস্তব প্রতিফলন।
২.
জনাব ‘ক’-এর শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর কোন শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাব ‘ক’-এর শান্তিসংঘটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যৌবনে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। আরবের জাহেলিয়াত যুগে সংঘটিত অন্যায় ও রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে নবিজি (স.)-এর মন কেঁদে ওঠে। তৎকালীন আরবে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অন্যায়-অত্যাচার ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরবের সমমনা কিছু যুবকদের সাথে নিয়ে এই শান্তিসংঘ গঠন করেন। উদ্দীপকে জনাব ‘ক’ ঠিক একই লক্ষ্য নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে, যার মূল কাজ হলো এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অতএব, উদ্দেশ্য এবং জনহিতকর কার্যক্রমের দিক থেকে জনাব ‘ক’-এর এই শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর সমাজসংস্কারক ও শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
৩.
হযরত ফাতিমা (রা.)-কে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘খাতুনে জান্নাত’ শব্দের অর্থ হলো জান্নাতের নারীদের নেত্রী বা সর্দারিনী। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর অত্যন্ত আদরের কন্যা এবং তিনি ছিলেন চরম ধৈর্য, পরম পরোপকার, তিল তিল আত্মত্যাগ ও অসাধারণ পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। দুনিয়াবি জাঁকজমক ও বিলাসিতা ত্যাগ করে তিনি আল্লাহর ইবাদত এবং ইসলামের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই অনন্য চারিত্রিক মহত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে জান্নাতের নারীদের সর্দার বা নেত্রী হিসেবে সুসংবাদ প্রদান করেন এবং এই কারণেই তাঁকে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয়।
৪.
হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘তাহেরা’ (পবিত্রা)।
৫.
রশিদ সাহেবের মনোভাবের অসঙ্গতি খুলাফায়ে রাশেদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: দরিদ্র কেবল মুসলমানদেরই দান করার ব্যাপারে রশিদ সাহেবের যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব, তা খুলাফায়ে রাশেদিনের উদার ও সার্বজনীন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক। খুলাফায়ে রাশেদিনের চারজন খলিফাই ইসলামি খিলাফত পরিচালনার সময় রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যে কোনো ধর্মেরই হোক না কেন— সমান মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলে রাষ্ট্রীয় বাইতুল মাল বা কোষাগার থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিম (জিম্মি) দরিদ্র, বৃদ্ধ ও পঙ্গু নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতা ও মাসোহারা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হযরত উমর (রা.) একদা এক বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে ব্যথিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার জিজিয়া কর মওকুফ করে বাইতুল মাল থেকে আজীবন ভাতার ব্যবস্থা করেন। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর দানশীলতাও ছিল বিশ্বজনীন। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার স্পষ্ট গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানবসেবাকে কেবল ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হয়নি। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব যখন দান-দক্ষিণাকে কেবল মুসলমানদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান, তখন তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের সেই সুমহান অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিক চেতনার চরম লঙ্ঘন করেন। সুতরাং, বলা যায় যে রশিদ সাহেবের এই সংকীর্ণ ধারণা ইসলামের উদার সমাজসেবা ও খুলাফায়ে রাশেদিনের মহান আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও অসঙ্গতিপূর্ণ।
৬.
রশিদ সাহেবের মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের উক্তিটি মহানবি (স.)-এর কোন সমাজসেবামূলক কাজের মূল আদর্শ প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রশিদ সাহেবের সংকীর্ণ মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের সার্বজনীন উক্তিটি মহানবি (স.)-এর গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ (শান্তিসংঘ) এর মূল আদর্শকে প্রকাশ করে। আরবের জাহেলিয়াত যুগে যখন মারামারি এবং গোত্রীয় দাঙ্গা চরম আকার ধারণ করে, তখন মহানবি (স.) মাত্র ২০ বছর বয়সে আরবের অসহায়, আর্ত ও লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তির জন্য সমমনা যুবকদের নিয়ে হিলফুল ফুজুল শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। এই সংঘের মূল দর্শনই ছিল ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের সীমানা ছাড়িয়ে নিঃস্বার্থভাবে মজলুমের পাশে দাঁড়ানো ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব মনে করেন সমাজসেবা কেবল মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য, যা একটি অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যদিকে, মজিদ সাহেব ট্রাস্ট গঠন করে অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সার্বজনীন সেবা করছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, মানবসেবা কোনো ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। মজিদ সাহেবের এই বৈপ্লবিক ও কল্যাণমুখী মনোভাব নবি করিম (স.)-এর হিলফুল ফুজুলের অসাম্প্রদায়িক এবং আর্তমানবতার সেবার মূল আদর্শেরই অনুরূপ প্রতিফলন ঘটায়।
৭.
হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ‘জুন-নুরাইন’ শব্দের অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী। মহানবি (স.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মু কুলসুমকে পরপর বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন বলে হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। প্রথমে রাসুল (স.)-এর কন্যা রুকাইয়া তাঁর সহধর্মিণী ছিলেন। বদর যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) ইন্তেকাল করলে নবিজি তাঁর অপর কন্যা উম্মু কুলসুমকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। ইসলামের ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তির জীবনে এমন বিরল ও মহান সৌভাগের নজির নেই।
৮.
হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘ফারুক’ (সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী)।
৯.
মহসিন সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে ধারণ করে— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মহসিন সাহেবের দানশীলতা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে ব্যবসা পরিচালনা করার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে। হযরত উসমান (রা.) আরবের কুরাইশ বংশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু বিপুল ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, লজ্জাশীল এবং মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অкатаরে দানশীলতার কারণে তাঁকে ‘গণি’ বা দানবীর বলা হতো। তিনি মদিনাবাসীর পানির তীব্র কষ্ট দূর করতে স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে ‘বীরে রুমা’ নামক কূপ ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেন, দুর্ভিক্ষে অভাবীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন এবং তাবুক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ খরচ একাই বহন করেন। উদ্দীপকের মহসিন সাহেবও তার আমবাগান থেকে অর্জিত আয়ের বিশাল একটি অংশ গরিবদের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন যা হযরত উসমান (রা.)-এর জনকল্যাণমূলক দানের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি মহসিন সাহেবের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করার বিষয়টি হযরত উসমান (ra.)-এর চারিত্রিক পবিত্রতা ও ধর্মপরায়ণতার আদর্শকে সুষ্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, মহসিন সাহেবের এই মানবহিতৈষী ও নৈতিক চরিত্র হযরত উসমান (রা.)-এর আদর্শেরই একটি উজ্জ্বল স্মারক, তাই উক্তিটি শতভাগ যথার্থ ও সত্য।
১০.
সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম রাসুল (স.)-এর কোন শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যৌবনে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। হিলফুল ফুজুল গঠনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল আরবের দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধ বা হরবুল ফিজার। এই যুদ্ধের বীভৎসতা ও জুলুম-নির্যাতন দেখে নবিজির কোমল প্রাণ কেঁদে ওঠে। ফলশ্রুতিতে আরবে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধ করা এবং মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরবের সমমনা কিছু যুবকদের নিয়ে এই শান্তিসংঘ গঠন করেন। উদ্দীপকে সজীব ও তার বন্ধুরা ঠিক একই লক্ষ্য নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে, যার মূল কাজ হলো এলাকার মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং অসহায় ও নিঃস্ব মানুষকে সাহায্য করার মাধ্যমে সমাজে শান্তিময় পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা। অতএব, উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের দিক থেকে সজীবের এই যুবসংঘটি মহানবি (স.)-এর সমাজসংস্কার ও শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
১১.
হযরত আবু বকর (রা.)-কে ‘আতীক’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর অন্যতম উপাধি ছিল ‘আতীক’। আতীক শব্দের অর্থ মুক্ত বা প্রাচীন। মহানবি (স.) একদা হযরত আবু বকর (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত।” নবিজি (স.)-এর এই সুসংবাদ এবং তাঁর সুন্দর সুশ্রী অবয়বের কারণে তাঁকে ‘আতীক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও তিনি ইসলাম গ্রহণের প্রাচীনতম বা অগ্রগণ্য ব্যক্তি হওয়ার কারণেও এই উপাধি লাভ করেন।
১২.
হযরত উসমান (রা.) কত বছর খলিফা ছিলেন?
উত্তর: হযরত উসমান (রা.) ১২ বছর খলিফা ছিলেন।
১৩.
মালেক সাহেবের ইচ্ছাটি কোন সাহাবির চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ইসলামে তাঁর অবদানের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: মালেক সাহেবের ইচ্ছাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা, জুন্নুরাইন হযরত উসমান (রা.)-এর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সমাজসেবামূলক আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ অকাতরে ইসলামের প্রচার এবং মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেন। মদিনায় হিজরতের পর যখন মুসলমানদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন মদিনার ‘বীরে রুমা’ নামক মিষ্টি পানির কূপটি একজন ইহুদির মালিকানাধীন ছিল, যে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। মহানবি (স.)-এর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত উসমান (রা.) ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে সেই কূপটি ক্রয় করে তা মদিনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াকফ করে দেন। তדוপরি, মদিনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নামাযের স্থানসংকুলান করার লক্ষ্যে তিনি স্বীয় অর্থ ব্যয়ে মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মাণ করেন। উদ্দীপকের মালেক সাহেবও মদিনার পানির অভাব দূরীকরণে কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের অনুরূপ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা হযরত উসমান (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও কালজয়ী জনহিতকর কাজের হুবহু স্মারক। হযরত উসমান (রা.)-এর এই অনন্য দানশীলতার কারণেই তাঁকে ‘গণি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং মালেক সাহেবের ইচ্ছাটির মাধ্যমে খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুমহান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
১৪.
সাদেক সাহেবের ফসলের অংশ বিতরণের কাজটি ইসলামের কোন বিধানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সাদেক সাহেবের স্বীয় জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কাজটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘ওশর’ (Ushr)-কে নির্দেশ করে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের জাকাতকে ওশর বলা হয়। ওশর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১/১০)। আল্লাহর দেওয়া বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ এবং কৃত্রিম উপায়ে বা খরচে সেচ দেওয়া ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ (১/২০) অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা শরিয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। উদ্দীপকে সাদেক সাহেব তাঁর নিজের জমিতে উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবী ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এটিই হলো ওশরের বিধান, যা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, সাদেক সাহেবের এই মহৎ ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি সরাসরি ইসলামের ওশরের বিধানেরই যথাযথ প্রতিফলন।
১৫.
বিদায় হজের ভাষণকে কেন মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ১০ম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) বর্ণ, গোত্র, जाति ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার ও সমতার এক কালজয়ী ঘোষণা প্রদান করেন বলে একে মানবাধিকারের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঘোষণাপত্র বলা হয়। এই ভাষণে তিনি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, দাসদাসীদের সাথে সদয় আচরণ, বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলোপ করে তাকওয়া বা সৎকর্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করেন। মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকায় একে মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়।
১৬.
হিলফুল ফুজুল কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়?
উত্তর: হিলফুল ফুজুল ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
১৭.
রহিম সাহেবের ইচ্ছাটি কোন সাহাবির চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ইসলামে তাঁর অবদানের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: রহিম সাহেবের ইচ্ছাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা, জুন্নুরাইন হযরত উসমান (রা.)-এর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সমাজসেবামূলক আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ অকাতরে ইসলামের প্রচার এবং মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেন। মদিনায় হিজরতের পর যখন মুসলমানদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন মদিনার ‘বীরে রুমা’ নামক মিষ্টি পানির কূপটি একজন ইহুদির মালিকানাধীন ছিল, যে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। মহানবি (স.)-এর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত উসমান (রা.) ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে সেই কূপটি ক্রয় করে তা মদিনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াকফ করে দেন। ত두পরি, মদিনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নামাযের স্থানসংকুলান করার লক্ষ্যে তিনি স্বীয় অর্থ ব্যয়ে মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মাণ করেন। উদ্দীপকের রহিম সাহেবও মদিনার পানির অভাব দূরীকরণে কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের অনুরূপ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা হযরত উসমান (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও কালজয়ী জনহিতকর কাজের হুবহু স্মারক। হযরত উসমান (রা.)-এর এই অনন্য দানশীলতার কারণেই তাঁকে ‘গণি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং রহিম সাহেবের ইচ্ছাটির মাধ্যমে খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুমহান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
১৮.
করিম সাহেবের ফসলের অংশ বিতরণের কাজটি ইসলামের কোন বিধানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের করিম সাহেবের স্বীয় জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কাজটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘ওশর’ (Ushr)-কে নির্দেশ করে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের জাকাতকে ওশর বলা হয়। ওশর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১/১০)। আল্লাহর দেওয়া বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ এবং কৃত্রিম উপায়ে বা খরচে সেচ দেওয়া ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ (১/২০) অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা শরিয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। উদ্দীপকে করিম সাহেব তাঁর নিজের জমিতে উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবী ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এটিই হলো ওশরের বিধান, যা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, করিম সাহেবের এই মহৎ ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি সরাসরি ইসলামের ওশরের বিধানেরই যথাযথ প্রতিফলন।
১৯.
বিদায় হজের ভাষণকে কেন মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ১০ম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) বর্ণ, গোত্র, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার ও সমতার এক কালজয়ী ঘোষণা প্রদান করেন বলে একে মানবাধিকারের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঘোষণাপত্র বলা হয়। এই ভাষণে তিনি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, দাসদাসীদের সাথে সদয় আচরণ, বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলোপ করে তাকওয়া বা সৎকর্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করেন। মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকায় একে মানবাধিকারের বিশ্বজনীন ঘোষণাপত্র বলা হয়।
২০.
হিলফুল ফুজুল কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়?
উত্তর: হিলফুল ফুজুল ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
২১.
জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে রাজীবের জনকল্যাণমূলক কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত মনীষীর অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে রাজীবের জনকল্যাণমূলক কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত মনীষী হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র শেখ আবু আলী ইবনে সিনা (Avicenna)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের কারণে তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। জনাব আসাদ সাহেবের উক্তিতে ইঙ্গিতকৃত বিশ্বখ্যাত আইনগ্রন্থটি হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনুপম ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থটি মধ্যযুগ থেকে শুরু করে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ইউরোপের প্রধান প্রধান চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন- মন্টপিলিয়ার ও লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়) মূল পাঠ্যবই হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হতো। ইবনে সিনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহু যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক। তিনি সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট রোগ বাতাস ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং সংক্রামিত হয়। যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের ছোঁয়াচে প্রকৃতি এবং মেনিনজাইটিস (Meningitis) রোগের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো তিনি প্রথম নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেন। ওষুধবিজ্ঞান ও অ্যানাটমি শাস্ত্রে তাঁর অনন্য পর্যবেক্ষণ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। উদ্দীপকের রাজীব এলাকায় চিকিৎসালয় ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে মানবতার কল্যাণে যে সেবার হস্ত প্রসারিত করেছে, তা ইবনে সিনার জ্ঞানসাধনা ও সমাজসেবার সুমহান চেতনার দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। অতএব, মানবসভ্যতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ইবনে সিনার অবদান চিরস্মরণীয় এবং আসাদ সাহেবের বক্তব্যটি তাঁর কালজয়ী মহিমাকে শতভাগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে।
২২.
সজীবের শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর কোন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের শান্তিসংঘটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যুব বয়সে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আরবের অন্ধকার যুগে কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী ‘ফিজার যুদ্ধ’ বা অন্যায় সমরের বীভৎসতা ও নৃশংসতা দেখে নবিজির কোমল মন গভীরভাবে ব্যথিত হয়। যুদ্ধের পর আরবের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ এবং মজলুম ও নির্যাতিতদের সাহায্য করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কার সমমনা যুবকদের একত্রিত করে ‘হিলফুল ফুজুল’ শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। উদ্দীপকের সজীবও হুবহু একই লক্ষ্য নিয়ে এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে একটি শান্তিসংঘ তৈরি করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ও কাজ হলো সমাজের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মারামারি-দাঙ্গা হাঙ্গামা দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সুতরাং, উদ্দেশ্য এবং গঠনপ্রক্রিয়ার দিক থেকে সজীবের এই শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর আদর্শিক ও বাস্তব প্রতিফলন।
২৩.
হযরত ফাতিমা (রা.)-কে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘খাতুনে জান্নাত’ শব্দের অর্থ জান্নাতী নারীদের নেত্রী বা জান্নাতের নারী সমূহের সম্রাজ্ঞী। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর অত্যন্ত আদরের ও সর্বকনিষ্ঠ তনয়া। তাঁর সুমহান চরিত্র, অসীম ধৈর্য, পরম ধার্মিকতা এবং ইবাদত-বন্দেগির জন্য তিনি নারীজাতির আদর্শ। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন যে, ফাতিমা হলো জান্নাতের রমণীকুলের নেত্রী। পরকালীন জীবনে জান্নাতের সকল পুণ্যবতী নারীদের ওপর তাঁর এই নেতৃত্বের সুউচ্চ মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হওয়ায় তাঁকে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয়।
২৪.
হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘তাহেরা’ (পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক)।
২৫.
রফিক সাহেবের ইচ্ছাটি কোন সাহাবির চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? তাঁর উক্ত কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও।
উত্তর: রফিক সাহেবের ইচ্ছাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা, জুন্নুরাইন হযরত উসমান (রা.)-এর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও সমাজসেবামূলক আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। হযরত উসমান (রা.) ছিলেন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর বিপুল ধন-সম্পদ অকাতরে ইসলামের প্রচার এবং মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেন। মদিনায় হিজরতের পর যখন মুসলমানদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, তখন মদিনার ‘বীরে রুমা’ নামক মিষ্টি পানির কূপটি একজন ইহুদির মালিকানাধীন ছিল, যে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। মহানবি (স.)-এর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে হযরত উসমান (রা.) ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা (মতান্তরে বিপুল অর্থ) ব্যয় করে সেই কূপটি ক্রয় করে তা মদিনাবাসীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াকফ করে দেন। ত두পরি, মদিনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নামাযের স্থানসংকুলান করার লক্ষ্যে তিনি স্বীয় অর্থ ব্যয়ে মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মাণ করেন। উদ্দীপকের রফিক সাহেবও মদিনার পানির অভাব দূরীকরণে কূপ খনন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণের অনুরূপ কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা হযরত উসমান (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও কালজয়ী জনহিতকর কাজের হুবহু স্মারক। হযরত উসমান (রা.)-এর এই অনন্য দানশীলতার কারণেই তাঁকে ‘গণি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং রফিক সাহেবের ইচ্ছাটির মাধ্যমে খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুমহান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
২৬.
মুশফিক সাহেবের ফসলের অংশ বিতরণের কাজটি ইসলামের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মুশফিক সাহেবের স্বীয় জমিতে উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করার কাজটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘ওশর’ (Ushr)-কে নির্দেশ করে。 ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের জাকাতকে ওশর বলা হয়। ওশর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১/১০)। আল্লাহর দেওয়া বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ এবং কৃত্রিম উপায়ে বা খরচে সেচ দেওয়া ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ (১/২০) অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা শরিয়তের ফরজ বা বাধ্যতামূলক বিধান। উদ্দীপকে মুশফিক সাহেব তাঁর নিজের জমিতে উৎপাদিত শস্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অভাবী ও গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এটিই হলো ওশরের বিধান, যা সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও মানবিক ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, মুশফিক সাহেবের এই মহৎ ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডটি সরাসরি ইসলামের ওশরের বিধানেরই যথাযথ প্রতিফলন।
২৭.
হযরত উমর (রা.)-কে ‘ফারুক’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘ফারুক’ শব্দের অর্থ সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী। হযরত উমর (রা.) প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের পর মক্কার কাফিরদের সমস্ত ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে মুসলমানদের সাথে নিয়ে কাবা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে সালাত আদায় ও হিজরতের ঘোষণা করেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক ও নির্ভীক পদক্ষেপের মাধ্যমে আরবে সত্য এবং মিথ্যার মাঝে স্পষ্ট ব্যবধান সূচিত হয়েছিল। উমরের এই অসীম সাহসিকতা এবং ইসলামের শক্তি ও সত্যের জয় ঘোষণা করায় মহানবি (স.) তাঁকে ‘ফারুক’ বা সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী উপাধিতে ভূষিত করেন।
২৮.
হযরত আবু বকর (রা.)-এর পিতার নাম কী?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর পিতার নাম উসমান, তাঁর কুনিয়াত বা ডাকনাম ছিল আবু কুহাফা।
২৯.
রشد সাহেবের মনোভাবের অসঙ্গতি খুলাফায়ে রাশেদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: দরিদ্র কেবল মুসলমানদেরই দান করার ব্যাপারে রশিদ সাহেবের যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব, তা খুলাফায়ে রাশেদিনের উদার ও সার্বজনীন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক। খুলাফায়ে রাশেদিনের চারজন খলিফাই ইসলামি খিলাফত পরিচালনার সময় রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যে কোনো ধর্মেরই হোক না কেন— সমান মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.)-এর শাসন আমলে রাষ্ট্রীয় বাইতুল মাল বা কোষাগার থেকে মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিম (জিম্মি) দরিদ্র, বৃদ্ধ ও পঙ্গু নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতা ও মাসোহারা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হযরত উমর (রা.) একদা এক বৃদ্ধ ইহুদিকে ভিক্ষা করতে দেখে ব্যথিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার কর মওকুফ করে বাইতুল মাল থেকে আজীবন ভাতার ব্যবস্থা করেন। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলি (রা.)-এর দানশীলতাও ছিল বিশ্বজনীন। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার স্পষ্ট গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানবসেবাকে কেবল ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হয়নি। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব যখন দান-দক্ষিণাকে কেবল মুসলমানদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান, তখন তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের সেই সুমহান অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবিক চেতনার চরম লঙ্ঘন করেন। সুতরাং, বলা যায় যে রশিদ সাহেবের এই সংকীর্ণ ধারণা ইসলামের উদার সমাজসেবা ও খুলাফায়ে রাশেদিনের মহান আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও অসঙ্গতিপূর্ণ।
৩০.
রشد সাহেবের মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের উক্তিটি মহানবি (স.)-এর কোন সমাজসেবামূলক কাজের মূল আদর্শ প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রশিদ সাহেবের সংকীর্ণ মনোভাবের বিপরীতে মজিদ সাহেবের সার্বজনীন উক্তিটি মহানবি (স.)-এর গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ (শান্তিসংঘ) এর মূল আদর্শকে প্রকাশ করে। আরবের জাহেলিয়াত যুগে যখন মারামারি এবং গোত্রীয় দাঙ্গা চরম আকার ধারণ করে, তখন মহানবি (স.) মাত্র ২০ বছর বয়সে আরবের অসহায়, আর্ত ও লাঞ্ছিত মানুষের মুক্তির জন্য সমমনা যুবকদের নিয়ে হিলফুল ফুজুল শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। এই সংঘের মূল দর্শনই ছিল ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের সীমানা ছাড়িয়ে নিঃস্বার্থভাবে মজলুমের পাশে দাঁড়ানো ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। উদ্দীপকের রশিদ সাহেব মনে করেন সমাজসেবা কেবল মুসলমানদের জন্যই প্রযোজ্য, যা একটি অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যদিকে, মজিদ সাহেব ট্রাস্ট গঠন করে অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সার্বজনীন সেবা করছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, মানবসেবা কোনো ধর্মের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। মজিদ সাহেবের এই বৈপ্লবিক ও কল্যাণমুখী মনোভাব নবি করিম (স.)-এর হিলফুল ফুজুলের অসাম্প্রদায়িক এবং আর্তমানবতার সেবার মূল আদর্শেরই অনুরূপ প্রতিফলন ঘটায়।
৩১.
হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ বলা হয় কেন?
উত্তর: ‘জুন-নুরাইন’ শব্দের অর্থ দুই জ্যোতির অধিকারী। মহানবি (স.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মু কুলসুমকে পরপর বিয়ে করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন বলে হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জুন-নুরাইন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। প্রথমে রাসুল (স.)-এর কন্যা রুকাইয়া তাঁর সহধর্মিণী ছিলেন。 বদর যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) ইন্তেকাল করলে নবিজি তাঁর অপর কন্যা উম্মু কুলসুমকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। ইসলামের ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তির জীবনে এমন বিরল ও মহান সৌভাগ্যের নজির নেই।
৩২.
হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: হযরত উমর (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘ফারুক’ (সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী)।
৩৩.
মহসিন সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে ধারণ করে— উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মহসিন সাহেবের দানশীলতা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে। হযরত উসমান (রা.) আরবের কুরাইশ বংশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু বিপুল ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, লজ্জাশীল এবং মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অкатаরে দানশীলতার কারণে তাঁকে ‘গণি’ বা ধনী বা দানবীর বলা হতো। তিনি মদিনাবাসীর পানির তীব্র কষ্ট দূর করতে স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে ‘বীরে রুমা’ নামক কূপ ক্রয় করে ওয়াকফ করে দেন, দুর্ভিক্ষে অভাবীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন এবং তাবুক যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ খরচ একাই বহন করেন। উদ্দীপকের মহসিন সাহেবও তার আমবাগান থেকে অর্জিত আয়ের বিশাল একটি অংশ গরিবদের মাঝে অкатаরে বিলিয়ে দেন যা হযরত উসমান (রা.)-এর জনকল্যাণমূলক দানের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি মহসিন সাহেবের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং কুরআন-হাদিসের অনুশাসন মেনে সততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করার বিষয়টি হযরত উসমান (রা.)-এর চারিত্রিক পবিত্রতা ও ধর্মপরায়ণতার আদর্শকে সুষ্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায় যে, মহসিন সাহেবের এই মানবহিতৈষী ও নৈতিক চরিত্র হযরত উসমান (রা.)-এর আদর্শেরই একটি উজ্জ্বল স্মারক, তাই উক্তিটি শতভাগ যথার্থ ও সত্য।
৩৪.
সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম রাসুল (স.)-এর কোন শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের যুবসংঘের কার্যক্রম মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যৌবনে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। হিলফুল ফুজুল গঠনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল আরবের দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধ বা হরবুল ফিজার। এই যুদ্ধের বীভৎসতা ও জুলুম-নির্যাতন দেখে নবিজির কোমল প্রাণ কেঁদে ওঠে। ফলশ্রুতিতে আরবে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অন্যায়-অत्याচার প্রতিরোধ করা এবং মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরবের সমমনা কিছু যুবকদের নিয়ে এই শান্তিসংঘ গঠন করেন। উদ্দীপকে সজীব ও তার বন্ধুরা ঠিক একই লক্ষ্য নিয়ে একটি যুবসংঘ তৈরি করে, যার মূল কাজ হলো এলাকার মারামারি, dাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করা এবং অসহায় ও নিঃস্ব মানুষকে সাহায্য করার মাধ্যমে সমাজে শান্তিময় পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা। অতএব, উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের দিক থেকে সজীবের এই যুবসংঘটি মহানবি (স.)-এর সমাজসংস্কার ও শান্তিসংঘ ‘হিলফুল ফুজুল’ এর একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
৩৫.
হযরত আবু বকর (রা.)-কে ‘আতীক’ বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর অন্যতম উপাধি ছিল ‘আতীক’। আতীক শব্দের অর্থ মুক্ত বা প্রাচীন। মহানবি (স.) একদা হযরত আবু বকর (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত।” নবিজি (স.)-এর এই সুসংবাদ এবং তাঁর সুন্দর সুশ্রী অবয়বের কারণে道を ‘আতীক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও তিনি ইসলাম গ্রহণের প্রাচীনতম বা অগ্রগণ্য ব্যক্তি হওয়ার কারণেও এই উপাধি লাভ করেন।
৩৬.
হযরত উসমান (রা.) কত বছর খলিফা ছিলেন?
উত্তর: হযরত উসমান (রা.) ১২ বছর খলিফা ছিলেন।
৩৭.
জাহিদ সাহেবের উক্তিতে যে মুসলিম মনীষীর ইঙ্গিত রয়েছে— চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর: জাহিদ সাহেবের উক্তিতে ইঙ্গিতকৃত বিখ্যাত মুসলিম মনীষী হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র ইবনে সিনা (র.) এবং তাঁর বিশ্বখ্যাত আইনগ্রন্থটি হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে ইবনে সিনা এক অবিস্মরণীয় নাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর অসামান্য ও বৈপ্লবিক অবদানের জন্য তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর রচিত ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ গ্রন্থটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সর্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ, যা মধ্যযুগে ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধান পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হতো। ইবনে সিনা সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে, কিছু রোগ বায়ু এবং পানির মাধ্যমে ছড়ায়। তিনি যক্ষ্মা বা টিবি রোগের সংক্রামক প্রকৃতি এবং মেনিনজাইটিস রোগের নিখুঁত বিবরণ দেন। এছাড়াও ওষুধবিজ্ঞান, অস্ত্রোপচার (Surgery) এবং অ্যানাটমি শাস্ত্রে তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তিনি প্রায় ৭৬০টি ওষুধের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উদ্দীপকের জাহিদ সাহেবের বক্তব্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই মহান পথপ্রদর্শকের ঐতিহাসিক অবদান ও তাঁর সর্বজনীন চিকিৎসা-আইনগ্রন্থের অসামান্য মহিমাকে নির্দেশ করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে শতভাগ সত্য এবং এর মূল্যায়ন অপরিসীম।
৩৮.
শফিক ও রফিকের কর্মকাণ্ডে আরবের যুবকদের যে মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে— তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: শফিক ও রফিকের কর্মকাণ্ডে আরবের যুবকদের মধ্যে যে পরোপকার, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা ফুটে উঠেছে, তা মহানবি (স.)-এর প্রতিষ্ঠিত ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের মূল চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ। আরবের বর্বর যুগে অন্যায়, অবিচার এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য নবিজি (স.) আরবের উৎসাহী যুবকদের নিয়ে এই সংঘ গঠন করেন, যেখানে সকল গোত্রের যুবকেরা অন্যায় প্রতিরোধে একতাবদ্ধ হয়েছিল। উদ্দীপকে শফিক ও রফিক তাদের এলাকায় দাতব্য চিকিৎসালয় ও পাঠাগার স্থাপন করার পর, তাদের এই মহান উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দু ও মুসলিম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল যুবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেয়। যুবকদের এই ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সমাজ সংস্কারের জন্য একজোট হওয়ার মানসিকতা মূলত হিলফুল ফুজুলের আদর্শেরই বাস্তব রূপ। যুবসমাজের এই সম্মিলিত কল্যাণমুখী মানসিকতা সমাজে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
৩৯.
বিদায় হজের ভাষণকে মানবধিকারের ঘোষণাপত্র বলা হয় কেন?
উত্তর: ১০ম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স.) ভাষণ প্রদান করেন। বর্ণ, গোত্র, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানবজাতির মৌলিক অধিকার ও সমতার এক কালজয়ী ঘোষণা প্রদান করেন বলে একে মানবাধিকারের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ ঘোষণাপত্র বলা হয়। এই ভাষণে তিনি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, দাসদাসীদের সাথে সদয় আচরণ, বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব বিলোপ করে তাকওয়া বা সৎকর্মের ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের আদর্শ ঘোষণা করেন। মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকায় একে মানবাধিকারের সনদ বলা হয়।
৪০.
হিলফুল ফুজুল শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হিলফুল ফুজুল শব্দের অর্থ শান্তিসংঘ বা কল্যাণ সমিতি (আক্ষরিক অর্থ ফুজুল নামক ব্যক্তিবর্গের চুক্তি)।
৪১.
বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হাজেরা খাতুনের ভূমিকা হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবনআদর্শের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা নারী আত্মনির্ভরশীলতায় হাজেরা খাতুনের ভূমিকা উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজা (রা.)-এর মহান জীবনআদর্শের আলোকে অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তার সার্থক প্রতিফলন। হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের মক্কার সম্ভ্রান্ত ও শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যবসায়ী নারী। তিনি কেবল নিজেই বড় ব্যবসায়ী ছিলেন না, বরং তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁর সমস্ত অর্জিত সম্পদ ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে অкатаরে বিলিয়ে দেন। উদ্দীপকের হাজেরা খাতুনও নারীদের স্বাবলম্বী করার মহৎ উদ্দেশ্যে কুটির শিল্প স্থাপন করেন এবং এলাকার অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। হাজেরা খাতুনের এই উদ্যোগটি হযরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা, স্বাবলম্বিতা এবং সমাজহিতৈষী কর্মকাণ্ডের আধুনিক রূপ। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও প্রগতি ফিরিয়ে আনার যে শিক্ষা হযরত খাদিজা (রা.) ১৪০০ বছর আগে দিয়ে গেছেন, হাজেরা খাতুনের ভূমিকা তারই অনুরূপ। অতএব, বলা যায় যে হাজেরা খাতুনের কার্যক্রম হযরত খাদিজা (রা.)-এর আদর্শিক ও অর্থনৈতিক সমাজসেবার মূল চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
৪২.
হাজেরা খাতুনের গৃহস্থালি দায়িত্ব পালন দিকটি কোন মহীয়সী নারীর জীবনআদর্শের প্রতিফলন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাজেরা খাতুনের গৃহস্থালি দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের সুশিক্ষা দেওয়ার দিকটিতে খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা (রা.)-এর পবিত্র জীবনআদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন যেমন একাধারে নবিজির প্রিয় কন্যা, তেমনি তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.)-এর সহধর্মিণী এবং ইমাম হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর রত্নগর্ভা মাতা। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নিজ হাতে ঘাঁতা পেষা, কুয়া থেকে পানি আনা এবং রান্না করাসহ সংসারের যাবতীয় কঠিন কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করতেন। এর পাশাপাশি তিনি সন্তানদের উত্তম নৈতিকতা ও ইসলামের মহান আদর্শে গড়ে তুলেছিলেন। উদ্দীপকের হাজেরা খাতুনও কুটির শিল্প পরিচালনার সমস্ত ব্যস্ততা সামলিয়ে পারিবারিক ও গৃহস্থালি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন এবং সন্তানদের ইসলামী আদর্শে বড় করে তোলেন, যা হযরত ফাতিমা (রা.)-এর ঘরোয়া দায়িত্বশীলতা ও আদেশ মাতৃত্বের গুণের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
৪৩.
আবু বকর (রা.)-কে ‘সিদ্দিক’ বলা হয় কেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) নবি করিম (স.)-এর মেরাজের ঘটনা কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া সর্বপ্রথম বিশ্বাস করেছিলেন বলে তাঁকে ‘সিদ্দিক’ বা মহাসত্যবাদী উপাধিতে ভূষিত করা হয়। যখন আরবের কাফিররা মেরাজের অবিশ্বাস্য বিবরণ শুনে উপহাস করছিল, তখন আবু বকর (রা.) দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, রাসুল (স.) যদি বলে থাকেন তবে তা নিঃসন্দেহে সত্য। তাঁর এই পরম বিশ্বাসের স্বীকৃতিস্বরূপ নবিজি তাঁকে ‘সিদ্দিক’ উপাধি দেন।
৪৪.
হযরত ফাতিমা (রা.) কার কন্যা ছিলেন?
উত্তর: হযরত ফাতিমা (রা.) বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সর্বকনিষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রিয় কন্যা ছিলেন।
৪৫.
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি উক্ত সমাজসেবামূলক কাজের মূল লক্ষ্যকে নির্দেশ করে— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো— 'তাদের এই জনহিতকর কাজে এলাকার যুবসমাজ উদ্বুদ্ধ হয় এবং তাদের সাথে যোগ দিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, অত্যাচার দূর করতে ব্রতী হয়।' এই উক্তিটি মহানবি (স.)-এর 'হিলফুল ফুজুল' বা শান্তিসংঘের মূল লক্ষ্যকে পুরোপুরি নির্দেশ করে। মহানবি (স.) যে উদ্দেশ্যে হিলফুল ফুজুল গঠন করেছিলেন, তার মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল— দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করা এবং অত্যাচারিতকে সাহায্য করা, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করা এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইকবালের কল্যাণ সমিতির জনহিতকর কাজ দেখে এলাকার অন্য যুবকেরাও উদ্বুদ্ধ হয় এবং সমাজ থেকে অন্যায় ও অত্যাচার দূর করার জন্য একতাবদ্ধ হয়। হিলফুল ফুজুলের মূল মন্ত্রই ছিল যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো। সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি যে হিলফুল ফুজুলের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার দূর করার আদেশিক লক্ষ্যকে নির্দেশ করে, তা বিশ্লেষণাত্মকভাবে শতভাগ যথার্থ।
৪৬.
ইকবাল ও তার বন্ধুদের গঠিত কল্যাণ সমিতি মহানবি (স.)-এর কোন সমাজসেবামূলক কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইকবাল ও তার বন্ধুদের গঠিত কল্যাণ সমিতি মহানবি (স.)-এর গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ。 ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বীভৎসতা বাল্যকালেই মহানবি (স.)-এর কোমল মনে গভীর রেখাপাত করে। যুদ্ধ শেষে আরবের অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের আর্তনাদ দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। এই পরিস্থিতিতে আরবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আর্তমানবতার সেবার উদ্দেশ্যে তিনি সমমনা যুবকদের নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন, যা ইতিহাসে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে ইকবাল ও তার বন্ধুরা প্রথম দিকে আড্ডা দিয়ে সময় অপচয় করলেও অভিভাবকদের পরামর্শে তারা একটি কল্যাণ সমিতি গঠন করে এবং এলাকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসে। তাদের এই পদক্ষেপটি মহানবি (স.)-এর যুব বয়সে আর্তমানবতার সেবায় গঠিত ‘হিলফুল ফুজুল’ এর মূল উদ্দেশ্য ও জনকল্যাণমূলক দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়।
৪৭.
মদিনা সনদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মদিনায় বসবাসকারী মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টাব্দ ও পৌত্তলিক প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শান্তি, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, ইতিহাসে তা ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। এই সনদে মোট ৪৭টি ধারা ছিল। এর ফলে মদিনায় একটি আদেশ ও শান্তিময় প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
৪৮.
হযরত মুহাম্মদ (স.) কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
৪৯.
বিজ্ঞান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনীষীকে চিহ্নিতপূর্বক প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বিজ্ঞান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডের সাথে রসায়নশাস্ত্রের জনক জাবির ইবনে হাইয়ানের সাদৃশ্য রয়েছে। রসায়নশাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্যই তাঁকে এ শাস্ত্রের জনক বলা হয়, যা প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান দক্ষিণ আরবের আযদ বংশে 7২২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাইয়ানও একজন চিকিৎসক ছিলেন। গণিতশাস্ত্রে শিক্ষা লাভ শেষে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি কুফায় চিকিৎসা জীবন শুরু করলেও এর মধ্যে তিনি রসায়নশাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি কুফায় একটি 'বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা' করে মৃত্যু পর্যন্ত (৮০৪ খ্রি.) সেখানেই গবেষণারত ছিলেন। রসায়নকে তিনি সর্বপ্রথম বিজ্ঞানের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রসায়ন ও বিজ্ঞানের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যথা— পরিশ্রাবণ, দ্রবণ, ভস্মীকরণ, বাষ্পীকরণ, গলানো প্রভৃতি তাঁরই আবিষ্কার। তিনি তাঁর গ্রন্থে ধাতুর শোধন, তরলীকরণ, বাষ্পীকরণ, ইস্পাত তৈরির প্রক্রিয়া, লোহার মরিচা রোধক বার্নিশ, কাপড়ে ও চামড়ায় রং করা, চুল কালো করার খিজাব প্রভৃতির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বর্ণনা করেন। জাবির ইবনে হাইয়ানের এই সকল মৌলিক আবিষ্কারের ফলেই আধুনিক রসায়ন আজকের এই উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই প্রধান শিক্ষকের এই মন্তব্য যে, 'এজন্যই মধ্যযুগের একজন মুসলিম মনীষীকে এ শাস্ত্রের জনক বলা হয়'— শতভাগ যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত।
৫০.
আঃ রহমানের স্মৃতিশক্তির সাথে কোন মুসলিম মনীষীর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আঃ রহমানের স্মৃতিশক্তির সাথে আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম বুখারি (র.)-এর সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। বাল্যকাল থেকে জ্ঞানের প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। তিনি খুব তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। ফলেু ছয় বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করে ফেলেন। দশ বছর বয়স থেকেই হাদিস মুখস্থ করা আরম্ভ করেন। ১৬ বছর বয়সেই তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ও আল্লামা ওয়াকি-এর লেখা হাদিস গ্রন্থদ্বয় মুখস্থ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর মা ও ভাইসহ হজ করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে গমন করেন। সেখানে তিনি হিজাজের মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে হাদিসশাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন। একাধারে ছয় বছর হাদিস বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার পর তিনি হাদিস সংগ্রহ করার জন্য kuফা, বাগদাদ, বসরা, মিশর, সিরিয়া, আসকালান, হিমস, দামেস্ক ইত্যাদি স্থানে গমন করেন। তিনি লক্ষাধিক হাদিস সনদসহ মুখস্থ করেন। তিনি স্বাধীনচেতা ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন বিধায় কোনো রাজা-বাদশার দরবারে গমনাগমন করতেন না। প্রদত্ত উদ্দীপকের আঃ রহমানের স্মৃতিশক্তির কথা ইмам বুখারির স্মৃতিশক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
৫১.
“আমি জ্ঞানের শহর এবং আলি উহার দরজা” – ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জ্ঞান-সাধনায় হযরত আলি (রা.)-এর অসাধারণ বুৎপত্তির প্রেক্ষিতে বলা হয়, আমি জ্ঞানের শহর অর্থাৎ মহানবি (স.) জ্ঞানের শহর এবং আলি উহার দরজা। হযরত আলি (রা.) অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিলেন。 ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন জ্ঞানতাপস ও জ্ঞানসাধক। তিনি সর্বদা জ্ঞানচর্চা করতেন। হাদিস, তাফসির, আরবি সাহিত্য ও আরবি ব্যাকরণে তিনি তাঁর যুগের সেরা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কথিত আছে, "হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন জ্ঞানের শহর, আর আলি হলেন তার দরজা।" তাঁর রচিত 'দিওয়ানু আলি' নামক কাব্যগ্রন্থটি আরবি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। আমরাও সর্বদা হযরত আলি (রা.)-এর মতো জ্ঞান সাধনা করব।
৫২.
دارুল আরকাম কী?
উত্তর: دارুল আরকাম হলো শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মহানবি (স.) কর্তৃক মক্কায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
৫৩.
জামিল সাহেবের কার্যক্রম হযরত উসমান (রা.)-এর জীবনআদর্শের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর: হযরত উসমান (রা.) আরবদের শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন ছিলেন। ৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর সম্পদ অকাতরে মানবসেবা ও ইসলামের জন্য ব্যয় করেছেন। তিনি মদিনাবাসীর পানির অভাব দূর করার জন্য ১৮০০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে একটি কূপ কিনে তা ওয়াকফ করে দেন। মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে প্রচুর খাবার বিতরণ করেন। ব্যক্তিগত খরচে মসজিদে নববির সম্প্রসারণ করেন। তাবুক যুদ্ধে ১০০০০ হাজার মুজাহিদদের ব্যয়ভার একা বহন করেন এবং এক হাজার উট দান করেন। এমনিভাবে হযরত উসমান (রা.) তাঁর দানের হস্ত সর্বদা উন্মুক্ত রাখতেন。 উদ্দীপকের জামিল সাহেব টোকী এলাকার মানুষের পানির অভাব দূর করতে দশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পানির পাম্প স্থাপন করে দেন। এলাকার মসজিদটি মুসল্লিদের তুলনায় ছোট হওয়ায় নিজ অর্থ ব্যয়ে মসজিদ সম্প্রসারিত করে দেন। জামিল সাহেবের উক্ত কাজগুলো হযরত উসমান (রা.)-এর জীবনআদর্শের অনুরূপ। হযরত উসমান (রা.) দানের ক্ষেত্রে যেমন দিল দরিয়া ছিলেন, তেমনি জামিল সাহেবও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তাই জামিল সাহেবকে হযরত উসমান (রা.)-এর প্রতিচ্ছবি বললে অত্যুক্তি হবে না।
৫৪.
মিসেস নাবিলার কাজের মাধ্যমে কোন মহীয়সী নারীর আদর্শের সাথে মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মিসেস নাবিলা তার কাজের মাধ্যমে মহীয়সী নারী হযরত ফাতিমাতুজ জোহরা (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। হযরত ফাতিমা (রা.) আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকার পাশাপাশি গৃহস্থালির যাবতীয় কাজকর্ম নিজ হাতে করতেন। তিনি যাতা পিষে গুঁড়ো করতেন, রুটি তৈরি করতেন, কুয়া থেকে পানি টানতেন। মিসেস নাবিলাও ইসলামী জীবনযাপনে নিজেকে ব্যাপৃত রাখেন। নিয়মিত সালাত আদায় করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে সংসারের প্রয়োজনীয় সকল কাজ নিজ হাতে সম্পন্ন করেন। সেজন্য আমরা বলতে পারি, মিসেস নাবিলার কাজকর্ম তথা জীবনচরণ, হযরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবনচরণের অনুরূপ।
৫৫.
‘হযরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায় ও ইনসাফের এক মূর্ত প্রতীক’- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হযরত উমর (রা.) ছিলেন নবি (স.)-এর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং ইনসাফের পরাকাষ্ঠা প্রমাণিত। তাঁর মধ্যে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ছিল প্রবাদতুল্য। তিনি মদ্যপানের কারণে স্বীয় পুত্র আবু শাহমাকে বেত্রাঘাত করে শাস্তি দিয়েছিলেন। জেরুজালেম যাত্রার সময় ভৃত্যকে উটের পিঠে চড়িয়ে নিজে রশি টেনেছিলেন এবং অভাবী মায়ের ক্ষুধার্ত সন্তানদের জন্য নিজ পিঠে করে খাদ্য পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, হযরত উমর (রা.) ছিলেন ইনসাফের মূর্ত প্রতীক।
৫৬.
কোন সাহাবি তাবুক যুদ্ধে সকল সম্পদ ব্যয় করেছিলেন?
উত্তর: রাসূল (স.)-এর প্রিয় সহচর, খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) তাবুক যুদ্ধে তাঁর সকল সম্পদ ব্যয় করেছিলেন।
৫৭.
সিহাব সাহেবের পরিবর্তন বিদায় হজের ভাষণের আলোকে পর্যালোচনা কর।
উত্তর: জনাব আসাদ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে রাজীবের জনকল্যাণমূলক কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত মনীষী হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র শেখ আবু আলী ইবনে সিনা (Avicenna)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের কারণে তাঁকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। জনাব আসাদ সাহেবের উক্তিতে ইঙ্গিতকৃত বিশ্বখ্যাত আইনগ্রন্থটি হলো ‘আল-কানুন ফিত-তিব’ (The Canon of Medicine), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অনুপম ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থটি মধ্যযুগ থেকে শুরু করে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ইউরোপের প্রধান প্রধান চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন- মন্টপিলিয়ার ও লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়) মূল পাঠ্যবই হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হতো। ইবনে সিনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহু যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক। তিনি সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট রোগ বাতাস ও পানির মাধ্যমে ছড়ায় এবং সংক্রামিত হয়। যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের ছোঁয়াচে প্রকৃতি এবং মেনিনজাইটিস (Meningitis) রোগের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো তিনি প্রথম নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেন। ওষুধবিজ্ঞান ও অ্যানাটমি শাস্ত্রে তাঁর অনন্য পর্যবেক্ষণ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। উদ্দীপকের রাজীব এলাকায় চিকিৎসালয় ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে মানবতার কল্যাণে যে সেবার হস্ত প্রসারিত করেছে, তা ইবনে সিনার জ্ঞানসাধনা ও সমাজসেবার সুমহান চেতনার দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। অতএব, মানবসভ্যতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ইবনে সিনার অবদান চিরস্মরণীয় এবং আসাদ সাহেবের বক্তব্যটি তাঁর কালজয়ী মহিমাকে শতভাগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে।
৫৮.
লোকমান সাহেবের আচরণে মহানবি (স.)-এর কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের সজীবের শান্তিসংঘটি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কৈশোর ও যুব বয়সে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ বা শান্তিসংঘের পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আরবের অন্ধকার যুগে কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী ‘ফিজার যুদ্ধ’ বা অন্যায় সমরের বীভৎসতা ও নৃশংসতা দেখে নবিজির কোমল মন গভীরভাবে ব্যথিত হয়। যুদ্ধের পর আরবের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর্তমানবতার সেবা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ এবং মজলুম ও নির্যাতিতদের সাহায্য করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) মক্কার সমমনা যুবকদের একত্রিত করে ‘হিলফুল ফুজুল’ শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। উদ্দীপকের সজীবও হুবহু একই লক্ষ্য নিয়ে এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে একটি শান্তিসংঘ তৈরি করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ও কাজ হলো সমাজের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মারামারি-দাঙ্গা হাঙ্গামা দূর করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সুতরাং, উদ্দেশ্য এবং গঠনপ্রক্রিয়ার দিক থেকে সজীবের এই শান্তিসংঘটি মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুজুল’ এর আদর্শিক ও বাস্তব প্রতিফলন।
৫৯.
রাসূলের জীবনআদর্শ অনুকরণীয় কেন?
উত্তর: ‘খাতুনে জান্নাত’ শব্দের অর্থ জান্নাতী নারীদের নেত্রী বা জান্নাতের নারী সমূহের সম্রাজ্ঞী। হযরত ফাতিমা (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর অত্যন্ত আদরের ও সর্বকনিষ্ঠ তনয়া। তাঁর সুমহান চরিত্র, অসীম ধৈর্য, পরম ধার্মিকতা এবং ইবাদত-বন্দেগির জন্য তিনি নারীজাতির আদর্শ। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন যে, ফাতিমা হলো জান্নাতের রমণীকুলের নেত্রী। পরকালীন জীবনে জান্নাতের সকল পুণ্যবতী নারীদের ওপর তাঁর এই নেতৃত্বের সুউচ্চ মর্যাদা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হওয়ায় তাঁকে ‘খাতুনে জান্নাত’ বলা হয়।
৬০.
মদিনা সনদের ধারা কয়টি?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর উপাধি ছিল ‘তাহেরা’ (পবিত্র ও নিষ্কলঙ্ক)।
📄

পিডিএফ তৈরি হচ্ছে...

অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।