🏠 হোম Job Solution Bank Job Admission School Current Affairs 🔑 লগইন করুন
📝

অর্থনীতি

🚀 পরীক্ষা দিন

অধ্যায়-1 ( অর্থনীতি পরিচয়)

📖 রাজীব একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি যে দেশে বসবাস... রাজীব একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবসায় পরিচালনা করা গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ের ওপর হস্তক্ষেপ নিয়েছেন, যেখানে সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করে না। ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে।
১.
জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করতে চাচ্ছেন সে দেশের অর্থব্যবস্থা চিহ্নিতপূর্বক উক্ত অর্থব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ সাধিত হবে বলে কি তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করতে চাচ্ছেন তা হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ। উক্ত অর্থব্যবস্থায় অর্থাৎ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ সাধিত হবে না বলে আমি মনে করি। ধনতন্ত্রের অর্থনেতিক দর্শন অনুযায়ী, ব্যক্তির ইচ্ছামতো সম্পত্তি করায়ত্ত বা বৃদ্ধি করার ইচ্ছা তার কর্মোদ্যমের মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত এবং উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন, মানবকল্যাণ নয়। উৎপাদনের উপকরণসমূহের ব্যক্তিমালিকানা আইনের দ্বারা স্বীকৃত। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত হওয়ায় পুঁজিপতির সৃষ্টি হয়। মুনাফাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার ফলে পুঁজিপতিদের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয় বলে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকশ্রেণির সৃষ্টি হয়। ধনতন্ত্রে শ্রমিকশ্রেণি অদৃশ্যভাবে পুঁজিপতিদের হাতে বন্দি। পুঁজিপতিরা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একজন শ্রমিকের যতটুকু মূল্য (Value added) হয়, মজুরি তা অপেক্ষা কম নির্ধারণ করে। উদ্দীপকে জনাব রাজীব সম্প্রতি এমন একটি দেশে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। প্রত্যেকে নিজের স্বার্থকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করেন। এসব বৈশিষ্ট্য ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় যেহেতু প্রত্যেকে নিজের স্বার্থকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে তাই এই অর্থব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ সাধন হবে না।
২.
জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশের অর্থব্যবস্থা কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় উদ্যোগে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ অর্থব্যবস্থায় ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মতো সম্পত্তির ব্যক্তিমালিকানা, মুনাফা অর্জনের সুযোগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বাধীনতা স্বীকৃত। দেশের মৌলিক ও ভারী শিল্প, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। মিশ্র অর্থনীতিতে ধনতন্ত্রের ন্যায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার দ্বারা উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগ সম্পন্ন হয়। দ্রব্যের দাম তার চাহিদা ও জোগান দ্বারা নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকে জনাব রাজীবের দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবসায় পরিচালনা করা গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করে, যা মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সুতরাং দেখা যায়, জনাব রাজীবের দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
৩.
খ. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার অনুপস্থিতি কেন? ব্যাখ্যা
উত্তর: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যবসায় বাণিজ্যের সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র। তাই এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অনুপস্থিত। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে জাতীয় চাহিদা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের এবং সামাজিক মালিকানার অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফা থাকে না।
৪.
অর্থনীতি কাকে বলে?
উত্তর: যে শাস্ত্র মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি এবং সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের মধ্যে সমন্বয় সাধন সম্পর্কিত পঠন পাঠন ও বিশ্লেষণ করে তাকে অর্থনীতি বলে।
📖 মি. লিটন 'ক' দেশে বেড়াতে গিয়ে দেখেন সেখানে কারখানা... মি. লিটন 'ক' দেশে বেড়াতে গিয়ে দেখেন সেখানে কারখানার মালিকেরা নিজের ইচ্ছেমতো উৎপাদন কাজ পরিচালনা করতে পারেন না। শুধু তাই নয়, ক্রেতারাও কেনাকাটা করতে গেলে তাদের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। অপরদিকে লিটনের বন্ধু সেলিম 'খ' দেশে বসবাস করেন। সেলিম একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর বড় ছেলে সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামের বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করেন।
৫.
উদ্দীপকের 'খ' দেশে যে অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে তা চিহ্নিতপূর্বক উক্ত দেশে দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ভূমিকা আছে কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' দেশে যে অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে তা হচ্ছে মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থার দেশের দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা আছে। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ ও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি গণদ্রব্য ও সেবা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে দ্রব্যের মূল্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্যের উৎপাদন কিংবা ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। উদ্দীপকের সেলিম 'খ' দেশে বসবাস করেন এবং তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর বড় ছেলে সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামের বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করেন। উদ্দীপকের এ বর্ণনার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে দ্রব্যমূল্যের একটা সীমানা নির্ধারণ করে দিতে পারে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে 'খ' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে যেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ভূমিকা পালন করতে পারে।
৬.
'ক' দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের সম্পদ ও উৎপাদনের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে। শিল্পকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি নির্দেশেই পরিচালিত হয়। অর্থাৎ এখানে ব্যক্তিমালিকানার কোনো স্থান নেই। সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় শোষণের কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত উৎপাদিত দ্রব্যটি ভোগ করে থাকেন। কোনো ভোক্তা ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ ব্যয় করে কিছু ভোগ করতে পারেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন পরিচালিত হওয়ায় সেখানে বহু সংখ্যক বেসরকারি উদ্যোক্তার অবাধ প্রতিযোগিতা থাকে না। এছাড়া এ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না এবং কৃষিশিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান থাকে না। উদ্দীপকে 'ক' দেশের কারখানার মালিকেরা নিজের ইচ্ছামতো উৎপাদন কাজ পরিচালনা করতে পারেন না এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার সময় সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। উদ্দীপকের এ বিষয়টির সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, 'ক' দেশের সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। তাই 'ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
৭.
কানাডার মতো উন্নত দেশের মাথাপিছু আয় বেশি কেন?
উত্তর: কানাডার মতো উন্নত দেশে জাতীয় উৎপাদন অনেক বেশি বলে তাদের মাথাপিছু আয় বেশি। যেসব দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে এবং এই উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি অব্যাহত আছে এমন দেশকে উন্নত দেশ বলে। উন্নত দেশে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগিয়ে অধিক উৎপাদন হয়, যার ফলে কানাডার মতো উন্নত দেশে মাথাপিছু আয় বেশি।
৮.
মুদ্রাস্ফীতি কী?
উত্তর: দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাই হলো মুদ্রাস্ফীতি।
📖 জনাব 'ক' তাঁর নিজ দেশে একটি পোশাক কারখানা স্থাপন ক... জনাব 'ক' তাঁর নিজ দেশে একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করলেন। জনাব 'ক'-এর মুনাফা দেখে তার কয়েকজন বন্ধু আরও কয়েকটি পোশাক কারখানা প্রতিষ্ঠা করলেন। তার এক বন্ধু লোকসানের কারণে কারখানা বন্ধ করে দিলেন। সরকার কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করল না। অপরপক্ষে 'জনাব 'খ' তাঁর দেশে একটি মাল্টিন্যাশনাল কারখানা স্থাপন করতে চাইলেন। কিন্তু সরকার অনুমতি দিল না। জনাব 'খ'-এর দেশে সকল কারখানা সরকার পরিচালনা করে।
৯.
জনাব 'খ'-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্যপূর্ণ কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: সঠিক নয়
১০.
জনাব 'ক'-এর দেশে যে ধরনের অর্থব্যবস্থা দেখা যায় তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . জনাব 'ক'-এর দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায়। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। ধনতান্ত্রিক দেশে কলকারখানা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনায় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। বাজারে চাহিদা ও জোগান দ্বারা দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক ভোক্তা তার নিজস্ব পছন্দ, ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকে জনাব 'ক' তাঁর নিজ দেশে পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। তাঁর দেখাদেখি তার কয়েকজন বন্ধু কারখানা স্থাপন করলেও সরকারি সরকার কোনোপ্রকার বিধিনিষেধ আরোপ করল না। এক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তার দেশে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য কোনো সরকারি বিধিনিষেধ নেই। যা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। সুতরাং দেখা যায়, জনাব 'ক'-এর দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাই এ দেশ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ।
১১.
অধ্যাপক এল. রবিন্স-এর অর্থনীতির সংজ্ঞাটি অধিক গ্রহণযোগ্য কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক এল. রবিন্স প্রদত্ত সংজ্ঞাটি সর্বাধিক বিজ্ঞানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অধ্যাপক এল. রবিন্স বলেন, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।" তিনি মানুষের অভাব পূরণের জন্য সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ জন্য অর্থনীতিবিদগণ তাঁর সংজ্ঞাকে বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেছেন।
১২.
ইসলামী অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
📖 জামাল ও জলি দুই ভাইবোন। জামাল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠ... জামাল ও জলি দুই ভাইবোন। জামাল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং জলি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। জামালের কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়। অন্যদিকে জলির কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাজার চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
১৩.
জামালের দেশের অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত'— উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে জামালের কারখানার উৎপাদিত পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়, যা সমাজতান্ত্রিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। তবে উদ্দীপকের উক্তিটিতে বলা হয়েছে 'জামালের দেশের অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত'— এই উক্তিটির সাথে পুরোপুরি একমত হওয়া যায় না। কারণ বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক নয়, বরং মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সম্পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক বা সম্পূর্ণ ধনতান্ত্রিক কোনো অর্থব্যবস্থাই এককভাবে উপযুক্ত নয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বেসরকারি উদ্যোগ ব্যাহত হয়, আবার ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিশ্র অর্থব্যবস্থাই সবচেয়ে উপযুক্ত, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি অবস্থান করে। এখানে ব্যক্তি যেমন স্বাধীনভাবে উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তেমনি জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা যেমন— যাতায়াত, জ্বালানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, কেবল জামালের দেশের সম্পূর্ণ রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থব্যবস্থা নয়, বরং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ও সহায়ক। ...প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। এর ফলে শ্রমিকদের প্রান্তিক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা তার আয় বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে। সুতরাং দেখা যায়, মোস্তফা সাহেবের প্রথম পদক্ষেপ অর্থাৎ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়।
১৪.
উদ্দীপকে জলির অর্থব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে জলির কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাজার চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং তা বেসরকারি মালিকানাধীন। এ বৈশিষ্ট্যটি মূলত ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এখানে বাজার ব্যবস্থার স্বাধীনতা থাকে এবং উৎপাদকের মূল লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা।
১৫.
"উৎপাদন উপাদানগুলোর বিকল্প ব্যবহার কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: উৎপাদনের উপকরণ বা উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) সাধারণত সীমিত এবং এদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে। এর অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট সম্পদ বা উপাদান একই সাথে একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। যেমন— একটি জমিতে ধান চাষ করা হলে একই সময়ে সেখানে গম চাষ করা সম্ভব নয়। তাই তীব্রতা বা গুরুত্ব অনুসারে সমাজকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, সম্পদটি কোন কাজে ব্যবহার করা সবচেয়ে লাভজনক বা বেশি জরুরি। বিকল্প ব্যবহারের ফলেই সীমিত সম্পদ দিয়ে সর্বোচ্চ অভাব পূরণ করা সম্ভব হয়।
১৬.
সুযোগ ব্যয় কাকে বলে?
উত্তর: কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ বা ভোগ ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগের পরিমাণ বা সুযোগকেই অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বলে।
📖 মুনিক ও রানাক যাতায়াত থেকে ঢাকা যাবে। মুনিক বাংলাদ... মুনিক ও রানাক যাতায়াত থেকে ঢাকা যাবে। মুনিক বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকিট কাটে কিন্তু রানাক টিকিট না পাওয়ায় বেসরকারি নভোএয়ারের ফ্লাইটে বেশি দামে টিকিট কাটে। পরবর্তীতে তাদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মূলত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে।
১৭.
উদ্দীপকের কার্যাবলির মাধ্যমে কি এই ধরনের অর্থব্যবস্থার উন্নয়নশীলতা চিল তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হ্যাঁ, উদ্দীপকের কার্যাবলির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মিশ্র অর্থব্যবস্থাটি একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর এবং উন্নয়নশীল। মিশ্র অর্থনীতিতে একদিকে যেমন ব্যক্তিমালিকানা ও উদ্যোগের স্বাধীনতা থাকে, যা নতুন নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করে; তেমনি অন্যদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জনকল্যাণ সুনিশ্চিত হয়। বেসরকারি খাতের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন, আর সরকারি খাতের মূল উদ্দেশ্য থাকে জনগণের সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। এই দুই খাতের সুষম ও সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই একটি উন্নয়নশীল দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে ধাবিত হতে পারে, যা উদ্দীপকের মিশ্র অর্থনৈতিক কার্যাবলির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৮.
উদ্দীপকের মুনিক ও রানাকের দেশের অর্থব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মুনিক ও রানাকের দেশটিতে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মুনিক সরকারি বিমান সংস্থা (বাংলাদেশ বিমান)-এ টিকিট কাটে, যা রাষ্ট্রীয় খাতের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে রানাক বেসরকারি বিমান সংস্থা (নভোএয়ার)-এ টিকিট কাটে, যা বেসরকারি উদ্যোগের প্রকাশ ঘটায়। যেহেতু এই দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মালিকানা পাশাপাশি সহাবস্থান করছে, তাই এই দেশের অর্থব্যবস্থাটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা।
১৯.
"বিকল্প অর্থব্যবস্থা শিক্ষা চালাতে বা গিয়ে মাঠে চলতে হয়"— অর্থনৈতিক ইউনিক ও রচনাচক্র (এদের অর্থব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা কর)।
উত্তর: সঠিক নয়
২০.
ইসলামি অর্থব্যবস্থা কী?
উত্তর: ইসলামী শরীয়াহ্র বিধি-বিধানের ওপর বিশ্বাসকে ভিত্তি করে মানুষের অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তোলার যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
📖 জনাব আবুল হোসেন একজন দরিদ্র কৃষক। তাঁর নিজের কোনো... জনাব আবুল হোসেন একজন দরিদ্র কৃষক। তাঁর নিজের কোনো জমি নেই। তিনি অন্যের জমিতে চাষাবাদ করেন। যৌথ পরিবারে বসবাস করায় পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি। আয় কম হওয়ায় সংসার বড়ই কাটছাঁট করে চালাতে তার অনেক সমস্যা হয়। পরিবারের অভাবের চাহিদাও অন্যান্য। তারপরও আবুল হোসেন সবার চাহিদা পূরণ করতে চেষ্টা করেন।
২১.
জনাব আবুল হোসেনের অর্থনৈতিক কোন ধারণাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর এ সমস্যা দূর করতে পারবে বলে তুমি মনে কর? আলোচনা কর।
উত্তর: জনাব আবুল হোসেনের এই অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের সমস্যা দূর করতে হলে অর্থনীতির 'নির্বাচন বা বাছাই' (Choice) এবং 'সম্পদের দক্ষ বা বিকল্প ব্যবহার' ধারণাটি কাজে লাগাতে হবে। মানুষের জীবনে অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে তীব্রতা বা প্রয়োজনীয়তার আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে সবচেয়ে জরুরি অভাবগুলো প্রথমে পূরণ করতে হয় এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো পরবর্তীতে পূরণের জন্য স্থগিত রাখতে হয়। উদ্দীপকে আবুল হোসেনের যৌথ পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি এবং আয় কম হওয়ায় তাকে সংসার চালাতে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। তিনি যদি পরিবারের সকল অভাব একসাথে পূরণ করার চেষ্টা না করে, প্রথমে অভাবের তীব্রতা অনুযায়ী খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাছাই (নির্বাচন) করে পূরণ করেন এবং সীমিত সম্পদের সঠিক ও দক্ষ বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করেন, তবেই তাঁর এই পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
২২.
জনাব আবুল হোসেনের বর্ণিত সমস্যা সম্পদ ছাড়াও আর কোন উপাদানের অভাবের প্রকাশ তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায় যে, জনাব আবুল হোসেনের ক্ষেত্রে সম্পদ বা আয়ের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি 'জমির স্বল্পতা বা সীমাবদ্ধতা' ফুটিয়ে তুলেছে। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য ভূমি বা জমি অত্যন্ত মৌলিক একটি উপাদান। উদ্দীপকে আবুল হোসেন একজন দিনমজুর বা গরিব চাষা যার নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাকে অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। ফলে কঠোর পরিশ্রম করেও সে তার অসীম অভাব মেটাতে পারছে না। সুতরাং এখানে সম্পদের বা অর্থের অভাবের পাশাপাশি অন্যতম প্রধান উৎপাদন উপাদান 'ভূমি বা জমির' অভাবই তাঁর প্রধান অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার কারণ।
২৩.
অর্থব্যবস্থাকে কেন সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন?
উত্তর: ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় বা মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে অনেক সময় উৎপাদকেরা একচেটিয়া কারবার, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা সর্বোচ্চকরণের চেষ্টা করে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। এই ধরনের বাজার ব্যর্থতা দূরীকরণের লক্ষ্যে, দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
২৪.
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা কী?
উত্তর: যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে।
📖 সুমন ও করমালি গরিব চাষা। তারা কঠোর পরিশ্রম করেও অভ... সুমন ও করমালি গরিব চাষা। তারা কঠোর পরিশ্রম করেও অভাব দূর করতে পারছে না। তাদের জমি কম থাকায় অন্য মানুষের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।
২৫.
ঘ. "সুমনের অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে"— ধারণাটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ...অভিজ্ঞতার নিরিখে বলা যায়, উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর মিশ্র অর্থব্যবস্থাই বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে দেশের আপামর জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক ও কল্যাণকর।
২৬.
সুমনের অভাব পূরণের ক্ষেত্রে কোনটি কার্যকর? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুমনের অভাব পূরণের ক্ষেত্রে অর্থনীতির 'নির্বাচন বা বাছাই' ধারণাটি কার্যকর। মানুষের জীবনে অভাব অসীম হলেও সম্পদ সীমিত হওয়ায় তীব্রতা অনুযায়ী জরুরি অভাবগুলো আগে পূরণ করতে হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
২৭.
মানুষ কেন অর্থনৈতিক কাজ করে?
উত্তর: মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান বা অভাবসমূহ মেটানোর লক্ষ্যেই মূলত অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে।
২৮.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়
উত্তর: মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
📖 জসীম একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। দেশীয় সুতা দিয়ে কা... জসীম একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। দেশীয় সুতা দিয়ে কাপড় তৈরির জন্য একটি ছোট কারখানা গড়ে তোলেন। তাঁর বন্ধু জলি তাকে আরও কয়েকটি সাবান কারখানা গড়ে তোলার জন্য অনুরোধ করে। সে জলিকে বলে সে যেকোনো কলকারখানা গড়ে তুলতে পারে, তার জন্য কোনো সরকারি অনুমোদন লাগে না।
৩০.
গ. জসীমের নির্দেশিত অর্থব্যবস্থাই আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত, জসীমের উক্তির কি তুমি মনে কর? সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায় যে, জসীম ও জলিলদের ক্ষেত্রে কলকারখানা তৈরির কোনো বিধিনিষেধ বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। যা মূলত ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত, যেখানে জসীমের নির্দেশিত অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য একমাত্র উপযুক্ত ব্যবস্থা— এই উক্তির সাথে আমি একমত নই। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই
৩১.
সুযোগ ব্যয় বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ বা ভোগ ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগের পরিমাণ বা সুযোগকেই অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বলে।
৩২.
অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা, "অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।"
📖 'X' দেশের জনগণ ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা... 'X' দেশের জনগণ ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ভোগ করে। কিন্তু 'Y' দেশের জনগণ ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারলেও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করে। অপরপক্ষে 'Z' দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সরকারি বিধি মোতাবেক উৎপাদন ও ভোগ পরিচালিত হয়।
৩৩.
'Y' ও 'Z' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'Y' দেশটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার দেশ এবং 'Z' দেশটি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ। মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক পার্থক্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধরন: 'Y' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। অন্যদিকে, 'Z' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধরন হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। ২. সম্পদের মালিকানা: 'Y' দেশের তথা মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পদের রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত মালিকানা বিদ্যমান। অন্যদিকে, 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশের সম্পদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি মালিকানা বিদ্যমান। ৩. উদ্যোগ: 'Y' দেশের তথা মিশ্র উৎপাদন ব্যবস্থায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উভয় ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার শুধু সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে থাকে। ৪. ভোক্তার স্বাধীনতা: 'Y' দেশের তথা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। পক্ষান্তরে, 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশে ভোক্তার কোনো স্বাধীনতা নেই। ৫. স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা: 'Y' দেশের তথা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে, 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশে দামব্যবস্থার কোনো অস্তিত্ব নেই। দেশের নাম অর্থনৈতিক অবস্থা X উৎপাদনের উদ্দেশ্য বেশি মুনাফা করা, ধনী ও দরিদ্র লোকদের আয়ের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি, রাষ্ট্র শুধু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি দেখাশোনা করে। Y ব্যক্তিমালিকানার কোনো অস্তিত্ব থাকে না, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
৩৪.
'X' দেশ কোন ধরনের অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: 'X' দেশ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে। ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সমাজের অধিকাংশ সম্পদ বা উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। ব্যক্তি এগুলো হস্তান্তর ও ভোগ করে থাকে। ধনতন্ত্রে অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন— উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এসব উদ্যোগে সরকারের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এ ব্যবস্থায় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনে প্রথমে অনেক ফার্ম অবাধে প্রতিযোগিতা করে। ফলে তখন দ্রব্যের দাম কম থাকে এবং নতুন নতুন আবিষ্কার সম্ভব হয়। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষির মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। ধনতন্ত্রে উৎপাদক সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন করে। প্রত্যেক ভোক্তা তার নিজস্ব পছন্দ, ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকে 'X' দেশের জনগণ ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ভোগ করে, যা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে বলা যায়, 'X' দেশ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে।
৩৫.
বাণিজ্যে সবাই কীভাবে উপকৃত হয়?
উত্তর: বাণিজ্যে সবাই বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সস্তায় গাড়ি তৈরি করে; তবে আমাদের রয়েছে সস্তায় পোশাক তৈরির সামর্থ্য। এখন আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সস্তা পোশাকের বিনিময়ে সস্তা গাড়ির বাণিজ্য করি তাহলে আমাদের উভয়েরই লাভ হবে। এভাবে বাণিজ্যে সবাই উপকৃত হয়।
৩৬.
অভাব নির্বাচন কী?
উত্তর: মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ অভাবের মধ্যে প্রয়োজনীয় ও অতি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো বাছাই করার প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।m
📖 'X' দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে পছন্দানুযায়ী উৎপাদন ও ভ... 'X' দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে পছন্দানুযায়ী উৎপাদন ও ভোগ করে। প্রশাসনিক 'Y' দেশের সাথে 'X' দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূলত মুক্ত বাজার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তবে প্রশাসনিক কারণে 'Y' দেশের কলকারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ থাকে।
৩৭.
'Y' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি চিহ্নিত করে তার বৈশিষ্ট্যের ওপর আলোকপাত কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'Y' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকের 'Y' দেশে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ রয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। নিচে মিশ্র অর্থব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো: ১. সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান: এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি যেমন নিজের কলকারখানা ও সম্পত্তি গড়ে তুলতে পারে, তেমনি পাশাপাশি রাষ্ট্রও জাতীয় স্বার্থে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। ২. ভোক্তার স্বাধীনতা: মিশ্র অর্থনীতিতে ভোক্তা তার আয় ও রুচি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈধ দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ৩. স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা: অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্রব্যের মূল্য বাজার চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে নির্ধারিত হলেও জনস্বার্থে সরকার মূল্যস্তর নির্ধারণ বা বাজার মনিটরিং করার ক্ষমতা রাখে। ৪. মুনাফা অর্জন ও জনকল্যাণ: বেসরকারি খাতের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা সর্বোচ্চকরণ, অন্যদিকে সরকারি খাতের মূল উদ্দেশ্য থাকে জনগণের সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
৩৮.
উদ্দীপকে 'X' দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'X' দেশে ধনтическая বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, 'X' দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে পছন্দানুযায়ী উৎপাদন ও ভোগ করতে পারে এবং সেখানে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাজার প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাই এটি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল রূপকে নির্দেশ করে।
৩৯.
উৎপাদন উপাদানগুলোর বিকল্প ব্যবহার কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: উৎপাদনের উপকরণ বা উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) সাধারণত সীমিত এবং এদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে।এর অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট সম্পদ বা উপাদান একই সাথে একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। যেমন— একটি জমিতে ধান চাষ করা হলে একই সময়ে সেখানে গম চাষ করা সম্ভব নয়। তাই তীব্রতা বা গুরুত্ব অনুসারে সমাজকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, সম্পদটি কোন কাজে ব্যবহার করা সবচেয়ে লাভজনক বা বেশি জরুরি। বিকল্প ব্যবহারের ফলেই সীমিত সম্পদ দিয়ে সর্বোচ্চ অভাব পূরণ করা সম্ভব হয়।
৪০.
সুযোগ ব্যয় কাকে বলে?
উত্তর: ক. কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ বা ভোগ ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগের পরিমাণ বা সুযোগকেই অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বলে।
📖 চিত্র-১ : আবিরের বাবা তাকে মোটরের পোশাক কিনে দিতে... চিত্র-১ : আবিরের বাবা তাকে মোটরের পোশাক কিনে দিতে চাইল। চিত্র-২ : পোশাকের দাম নির্ধারিত হোৱাশিস (দাম কিণাশ)। চিত্র-৩ : সিলিন্ডা কিংবা নিজের ফ্রিকশন প্রতিযোগিতায় জুতিয়তান্তিজিক গরিব বই উপাত্তরে পোহাতারে। চিত্র-৪ : কোভিড-১৯-এর সময় সরকার উৎপাদনকালীন বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি ভর্তুকি প্রদান করেছিল।
৪১.
চিত্র-৩ ও চিত্র-৪ এর মধ্যে কোনটি অর্থনীতির দৃষ্টিতে অধিক যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।
উত্তর: . উদ্দীপকের চিত্র-৩ ও চিত্র-৪ এর মধ্যে চিত্র-৪ (কোভিড-১৯ এর সময় সরকারের ভর্তুকি প্রদান) অর্থনীতির দৃষ্টিতে অধিক যুক্তিযুক্ত। নিচে আমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো— চিত্র-৩ এ দেখানো হয়েছে যেখানে প্রতিযোগিতা বা বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একচেটিয়া বা অসম প্রতিযোগিতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা অনেক সময় সাধারণ ভোক্তা বা ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। পক্ষান্তরে, চিত্র-৪ এ কোভিড-১৯ এর মতো বৈশ্বিক অতিমারী বা চরম সংকটের সময়ে সরকার কর্তৃক উৎপাদনকালীন বাজারে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও উৎপাদন সচল রাখার জন্য ভর্তুকি বা প্রণোদনা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। মিশ্র বা কল্যাণমুখী অর্থব্যবস্থায় যেকোনো চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় বা মন্দা দূরীকরণে সরকারের এই ধরনের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের ভর্তুকি প্রদানের ফলে কলকারখানার উৎপাদন খরচ কমে, উৎপাদকরা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারে এবং পণ্যসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। এটি যেমন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সাহায্য করে, তেমনি জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অতএব, সামগ্রিক জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে চিত্র-৪ এর পদক্ষেপটি অর্থনীতির দৃষ্টিতে অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৪২.
চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর বিষয় দুটি কোন অর্থনৈতিক ধারণাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গ. উদ্দীপকের চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর বিষয় দুটি অর্থনীতির 'অভাব নির্বাচন ও পছন্দ' এবং 'স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা' ধারণাকে নির্দেশ করে। চিত্র-১ এ দেখা যায় আবিরের বাবা তাকে মোটরের পোশাক কিনে দিতে চাইল, যা মানুষের অসীম অভাবের মধ্যে তীব্রতা অনুসারে বিশেষ কোনো একটি অভাব পূরণের প্রয়াস বা নির্বাচনকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে চিত্র-২ এ পোশাকের দাম নির্ধারিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি দেখানো হয়েছে, যা মূলত মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষি বা চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত মূল্য বা দাম ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
৪৩.
উৎপাদন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাধারণত উৎপাদন বলতে কোনো কিছু সৃষ্টি করাকে বোঝায়। তবে অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকে বোঝায়।আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে তার নতুন উপযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। যেমন— কাঠ থেকে মানুষ নতুন কোনো পদার্থ সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারে না, কেবল প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদের রূপ বা চেয়ার-টেবিল তৈরি করা হলে তার উপযোগ বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনীতিতে উৎপাদন হিসেবে পরিচিত।
৪৪.
অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো— অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।
📖 জনৈক ক দেশের প্রধান কাজ। সেখানে উৎপাদন, বিনিময়, ভো... জনৈক ক দেশের প্রধান কাজ। সেখানে উৎপাদন, বিনিময়, ভোগের যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীরা ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে মূলধন বিনিয়োগ ও ক্রয়-বিক্রয় করে। অপরদিকে, জনৈক খ দেশে বসবাস করেন। সেখানে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যক্তিগত বা সরকারি উদ্যোগে সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে।
৪৫.
খ দেশের অর্থব্যবস্থাটিই কি এ দেশের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাবে আকরাম চৌধুরী তার শ্রমিকদের ভালো কাজের জন্য বোনাস বা বোনাসের অতিরিক্ত অংশ ঘোষণা দিয়েছেন, যা কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরি এবং লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর ফলে শ্রমিকদের কাজের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মালিকের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যার ফলে অতিরিক্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এবং মানুষ আনন্দ পাবে। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়। যা উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপ কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।
৪৬.
উদ্দীপকের ক দেশে কোন ধরণের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে জনাবে আকরাম চৌধুরী তার শ্রমিকদের ভালো কাজের জন্য বোনাস বা বোনাসের অতিরিক্ত অংশ ঘোষণা দিয়েছেন, যা কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরি এবং লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর ফলে শ্রমিকদের কাজের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মালিকের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যার ফলে অতিরিক্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এবং মানুষ আনন্দ পাবে। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়। যা উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপ কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।
৪৭.
মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় অভাবের কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়।
৪৮.
অর্থনৈতিক দুষ্প্রাপ্যতা কাকে বলে?
উত্তর: . মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
📖 মি. X এমন একটি দেশে বাস করে যেখানে রাষ্ট্রের সকল ক... মি. X এমন একটি দেশে বাস করে যেখানে রাষ্ট্রের সকল কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। ভোক্তারা স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে পছন্দমতো কোনো দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। ব্যবসায়িক ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। ব্যক্তিগত মুনাফামুক্ত জাতীয় উৎপাদন ও সামাজিক কল্যাণমূলক উৎপাদন পরিচালনা করা হয়ে থাকে।
৪৯.
মি. Y-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য আছে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে মি. Y এর দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর আমরা জানি, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থাও হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। তাই মি. Y এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বাংলাদেশ ইত্যাদি। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকের মি. Y এর দেশেও ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে, তবে সরকার ধারাবাহিক উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থাৎ এতে ব্যক্তিস্বাধীনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও রয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির মূল রূপ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ঠিক একই নীতি অনুসরণ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, মি. Y-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
৫০.
মি. X-এর দেশে কোন ধরণের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে মি. X-এর দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা ন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এসব মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পদ বা অর্থের প্রয়োজন হয়। আর সেই প্রয়োজনীয় সম্পদ বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই মানুষকে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল, বাণিজ্যিক বা সেবাধর্মী অর্থনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হতে হয়। বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, বরং সমাজ বা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তাদের ইচ্ছামতো ভোগের স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. X-এর দেশে রাষ্ট্রের সকল কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং ভোক্তারা স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে পছন্দমতো কোনো দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। তাছাড়া সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
৫১.
মানুষ অর্থনৈতিক কাজ কেন করে?
উত্তর: . মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান বা অভাবসমূহ মেটানোর লক্ষ্যেই মূলত অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে।
৫২.
মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে
উত্তর: মূল্যস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। সাধারণ
📖 সাধারণ দশম শ্রেণির ছাত্র। সে ক্রিকেট খেলা খুবই পছন... সাধারণ দশম শ্রেণির ছাত্র। সে ক্রিকেট খেলা খুবই পছন্দ করে। সে টেলিভিশনে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের ভিতর অনুষ্ঠিত একটি ক্রিকেট ম্যাচের ধারা দেখছিল। কিন্তু বাবার আদেশ পছন্দ না হওয়ায় বাবা গিয়ে তাকে ম্যাচ আটকে করার কথা দেয়। ঘটনা-২ : জনাব আকরাম চৌধুরী একজন শিল্পপতি। তিনি তাঁর শ্রমিকদের মাঠে ঘোষণা দিলেন যে, "কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরির পাশাপাশি কোম্পানির লভ্যাংশের অংশ দেওয়া হবে।
৫৩.
. জনাব আকরাম চৌধুরী গৃহীত পদক্ষেপটি কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কীরূপ ভূমিকা রাখবে? ঘটনা-২ এর আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপটি কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো— অর্থনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো— "মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়" (People respond to incentives)। কোনো কাজে মানুষ অতিরিক্ত সুবিধা বা প্রণোদনা পেলে কাজটি অধিকতর যত্ন ও আগ্রহের সাথে সম্পন্ন করে। প্রণোদনা হলো মানুষের কাজের গতি বাড়ানোর একটি অতিরিক্ত উৎস। উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরী তাঁর শ্রমিকদের অতিরিক্ত শ্রমের বিনিময়ে তিনগুণ মজুরি এবং কোম্পানির লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থনৈতিক প্রণোদনার ফলে শ্রমিকদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিকরা কারখানাকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে সর্বোচ্চ শ্রম দিতে উদ্বুদ্ধ হবে, যা শেষ পর্যন্ত কারখানার সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখবে। সুতরাং বলা যায়, জনাব আকরাম চৌধুরীর এই কল্যাণকর উদ্যোগটি "মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়" নীতি অনুসরণ করে কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ...উদহারণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের বাসের ভাড়া যদি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট না হয়ে বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো তাহলে তা জনগণের স্বার্থ বিরোধী হতো। তবে বাংলাদেশে এইক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করে ভাড়া জনবান্ধব করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্দীপকে জনাবে আকরাম চৌধুরী তার শ্রমিকদের ভালো কাজের জন্য বোনাস বা বোনাসের অতিরিক্ত অংশ ঘোষণা দিয়েছেন, যা কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরি এবং লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর ফলে শ্রমিকদের কাজের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মালিকের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যার ফলে অতিরিক্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এবং মানুষ আনন্দ পাবে। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়। যা উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপ কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।
৫৪.
. উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ অর্থনীতির কোন মৌলিক নীতিটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ অর্থনীতির "কোনো কিছু পেতে হলে অন্য একটি জিনিস ত্যাগ করতে হয়" (People face trade-offs) মৌলিক নীতিটি প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সময় দিয়ে কোনো একটি দ্রব্যের ভোগ বৃদ্ধি করতে গেলে অন্য দ্রব্যের ভোগ যতটুকু ছাড়তে হয়, তাকেই সুযোগ ব্যয় বলে। উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ সাধারণ ক্রিকেট ম্যাচ দেখা পছন্দ করলেও বাবার আদেশে তাকে ম্যাচ দেখা বাদ দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। অর্থাৎ তাকে পড়াশোনার জন্য ম্যাচ দেখার আনন্দ ত্যাগ করতে হয়েছে। যা অর্থনীতির "কোনো কিছু পেতে হলে অন্য একটি জিনিস ত্যাগ করতে হয়" বা Trade-off নীতিকে নির্দেশ করে।
৫৫.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।
৫৬.
বেকার কাকে বলে?
উত্তর: কোনো ব্যক্তি প্রচলিত বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না— এমন পরিস্থিতিকে বেকার বলা হয়।
📖 রিকেলের তেলের দাম সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো ব... রিকেলের তেলের দাম সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় না। উচ্চ আয়ের ভোক্তারা তাদের পছন্দমতো দ্রব্য ভোগ করতে পারেন। উদ্দীপক-২ : নুশরাত সুলতানা শীতকালীন ছুটিতে 'X' দেশে বেড়াতে যান। সেখানকার মার্কেটে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জ্যাকেট কিনতে চাইলেন। দোকানদার জানাল, ওই জ্যাকেটের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানদার আরও বললেন, এ দেশে সরকারের অনুমতি ব্যতীত কোনো পণ্য উৎপাদন করা যায় না।
৫৮.
উদ্দীপক-২-এ যে অর্থব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে, তা কি জনকল্যাণের জন্য কলকারখানার স্বৈরাচারী রূপ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপক-২-এ 'X' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে জনকল্যাণের জন্য কলকারখানার স্বৈরাচারী রূপ বলা যায় না। এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো— সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র বা সমাজ। এখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে সমাজ তথা জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই মূল লক্ষ্য থাকে। এ ব্যবস্থায় কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে হবে এবং কার জন্য বণ্টিত হবে— তা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ বা সরকার সমাজকল্যাণকে সামনে রেখে নির্ধারণ করে দেয়। উদ্দীপকে নুশরাত সুলতানা 'X' দেশে বেড়াতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জ্যাকেট কিনতে চাইলে দোকানদার তা দিতে পারেনি এবং জানায় যে, সরকারের অনুমতি ব্যতীত দেশে কোনো পণ্য উৎপাদন করা যায় না। অর্থাৎ, সেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও অবাধ ভোগের সুযোগ সীমিত থাকায় বাহ্যিকভাবে একে স্বৈরাচারী মনে হতে পারে; কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং সম্পদের সুষম বণ্টন করা। অতএব বলা যায়, 'X' দেশের অর্থব্যবস্থাটি স্বৈরাচারী নয়, বরং এটি একটি সমাজকল্যাণমুখী ও পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা।
৫৯.
উদ্দীপক-১ এ উল্লিখিত দেশটিতে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপক-১ এ উল্লিখিত দেশটিতে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থায় মুক্ত বাজারে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় এবং ভোক্তার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। উদ্দীপক-১ এ দেখা যায়, সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় না এবং উচ্চ আয়ের ভোক্তারা তাদের পছন্দমতো দ্রব্য ভোগ করতে পারেন। এ বৈশিষ্ট্যগুলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অনুরূপ।
৬০.
অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: ক. অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা, "অর্থনীতি এমন একটি বজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।" ...হয়ে থাকে। যে পরিকল্পনা অনুসারে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া হয় না। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে কারখানাও স্থাপন করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিগত লাভের কোনো সুযোগ থাকে না। উৎপাদন পরিচালিত হয় সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে। উদ্দীপকে 'খ' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আমি 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না এবং ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থায় দেশের সকল কলকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক হলো সরকার। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে তা নির্ধারিত হয়। 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে আমার সমর্থনের কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষণহীন সমাজ গঠন: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজকে শোষণমুক্ত করা সম্ভব হয়। ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: এই ব্যবস্থায় উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুষমভাবে বণ্টিত হয়, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিশ্চিত ভূমিকা রাখে। ৩. বেকারত্ব দূরীকরণ: সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পায়।
📖 মিতু দুই বান্ধবী। কিছু দিনমজুর মিলে কাজ করে। তারা... মিতু দুই বান্ধবী। কিছু দিনমজুর মিলে কাজ করে। তারা একটি গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চাইলে সরকার কোনো জিনিসপত্রের আবেদন গ্রহণ করে না। তারা তখন অল্প খরচে কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎপাদনে লিপ্ত হয়। মিতু দেখল তার আর কোনো কলকারখানা ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎপাদন করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের সবকিছু সরকারিভাবে পরিচালিত হয়।
৬১.
উদ্দীপকের মিতুর দেশের অর্থব্যবস্থায় 'ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সামাজিক স্বার্থ বা জনকল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে'— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মিতুর দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সামাজিক স্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো— সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না; সমস্ত সম্পদের মালিক হলো রাষ্ট্র। এই ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিগত মুনাফা বা শোষণের সুযোগ থাকে না। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে হবে এবং কার মধ্যে বণ্টিত হবে। উৎপাদকের মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত লাভ বা সম্পদ পাহাড় করা নয়, বরং সমাজের সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করা। উদ্দীপকে মিতুর দেশের সরকার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো কারখানা করতে দেয়নি, কারণ সেখানে সবকিছু রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় সরকার পূর্ণ কর্মসংস্থান, নিখরচায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে। পরিশেষে বলা যায়, মিতুর দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা ও মুনাফাখোরী দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
৬২.
দৃশ্যপট-১ এর অর্থনৈতিক অর্থব্যবস্থার ধরন বর্ণনা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, বরং সমাজ বা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তাদের ইচ্ছামতো ভোগের স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিতু ও তার বান্ধবী ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চাইলে সরকার তা অনুমোদন করেনি। তাদের দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎপাদন করার কোনো সুযোগ নেই এবং সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
৬৩.
সরকার কীভাবে বাজারব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন করতে পারে?
উত্তর: বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকার নানা ধরনের আইনি ও নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বাজারব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন করতে পারে।সাধারণত মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে একচেটিয়া কারবার, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এমতাবস্থায় সরকার ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় আইন প্রণয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ (Price Ceiling), বাজার মনিটরিং এবং ভ্যাট বা শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারব্যবস্থার কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।
৬৪.
মুদ্রাস্ফীতি কী
উত্তর: . সাধারণ মূল্যস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
📖 জনি এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। সে স্কুল ড্রে... জনি এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। সে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগসহ একটি নতুন সাইকেল ক্রয় করে দেওয়ার জন্য বাবাকে বলল। পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাবা তাকে জনিকে বুঝিয়ে স্কুল ড্রেস এবং স্কুল ব্যাগ ক্রয় করে দিলেন এবং সাইকেল পরে ক্রয় করে দিবেন বললেন। জনিও বাবার সাথে সহমত পোষণ করল।
৬৫.
"তুমি যে জ্ঞান জনিকে অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর। অর্জন করেছো উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় ছাড়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও বিষয় রয়েছে"— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে মানুষের দৈনন্দিন ও সমাজ জীবনের অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক কাজ কেবল অভাব পূরণ কিংবা পছন্দ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর বাইরেও অর্থনৈতিক জীবন ও ব্যবস্থার আরও বেশ কিছু দিক রয়েছে। যেমন— মানুষের বিভিন্ন প্রকার মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য মানুষকে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো গড়ে ওঠে। আবার, প্রতিটি মানুষের সমাজ ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মতাদর্শের অধীনে পরিচালিত হয়। যেমন— ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কিংবা মিশ্র সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই সকল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সাথে জড়িত উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ এবং সমাজ ব্যবস্থার অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদানসমূহও এর সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ...উদ্দীপকের করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অর্থাৎ তাঁর সমগোত্রীয় ধারণার অর্থব্যবস্থা যেখানে সমষ্টিগত মালিকানা ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়, তা মূলত সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থারই বৈশিষ্ট্য।
৬৬.
জনিকে অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জনিকে অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে— ধারণাটি মূলত অর্থনীতিতে 'অভাব নির্বাচন ও পছন্দ' (Choice) ধারণাকে নির্দেশ করে। মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় অভাবের কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। তখন মানুষকে তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। উদ্দীপকে জনির অনলাইন ক্লাসের জন্য সাইকেল বা স্কুল ড্রেসের প্রয়োজন হলেও বাবার পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি জনিকে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সাইকেলের অভাবটি পরে পূরণের সিদ্ধান্ত নেন। এখানে সাইকেলের চেয়ে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে, যা অর্থনীতির 'পছন্দ বা নির্বাচন' ধারণাকে নির্দেশ করে।
৬৭.
বাণিজ্য দ্বারা মানুষ কীভাবে উপকৃত হয়?
উত্তর: ans no
৬৮.
.অধ্যাপক রবিন্সের অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: . অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের মতে, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।"
📖 'ক' ও 'খ' দুটি দেশ। 'ক' দেশে সম্পদ, উৎপাদন ও অন্যা... 'ক' ও 'খ' দুটি দেশ। 'ক' দেশে সম্পদ, উৎপাদন ও অন্যান্য উপকরণের ওপর ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে। অন্যদিকে, 'খ' দেশে সম্পদ, উৎপাদন, ব্যবসায় ও অন্যান্য উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি পরিচালনায় হয়। এখানে ভোক্তা নিজের ইচ্ছামতো কোনো কলকারখানা দ্রব্য ভোগ করতে পারে না।
৬৯.
তুমি কি 'খ' দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে 'খ' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আমি 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না এবং ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থায় দেশের সকল কলকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক হলো সরকার। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে তা নির্ধারিত হয়। 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে আমার সমর্থনের কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষণহীন সমাজ গঠন: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজকে শোষণমুক্ত করা সম্ভব হয়। ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: এই ব্যবস্থায় উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুষমভাবে বণ্টিত হয়, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিশ্চিত ভূমিকা রাখে। ৩. বেকারত্ব দূরীকরণ: সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পায়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি কল্যাণমুখী ও পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা যা দেশের আপামর জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই আমি 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি।
৭০.
দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকে 'ক' দেশে সম্পদ, উৎপাদন ও অন্যান্য উপকরণের ওপর ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করছে, তাই এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে।
৭১.
. সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝামায়?
উত্তর: . মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
৭২.
র্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো— অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।
📖 আব্বাস মিয়া দীর্ঘদিন 'A' দেশে বাস করেন। সম্প্রতি... আব্বাস মিয়া দীর্ঘদিন 'A' দেশে বাস করেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন এবং জ্যেষ্ঠ ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁর প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনান। সেখানকার মানুষের মাথাপিছু আয় অত্যন্ত বেশি। সেখানে তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, তাঁর মালিকপক্ষ কলকারখানা তৈরির আগে সরকারের অনুমতি নিতে হয়নি। আবার সে তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে।
৭৩.
. 'A' দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ans no
৭৪.
. 'A' দেশে প্রচলিত অর্থব্যবস্থার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ans no
৭৫.
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর: ans no
৭৬.
অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: ans no
📖 লিটু ও টিটু বরিশাল থেকে ঢাকা যাবে। লিটু একটি সরকার... লিটু ও টিটু বরিশাল থেকে ঢাকা যাবে। লিটু একটি সরকারি বিমানে টিকিট কাটে; কিন্তু টিটু টিকিট না পেয়ে বেশি দামে বেসরকারি একটি বিমানে টিকিট কাটে। তারা বুঝতে পারে বেসরকারি সংস্থার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা।
৭৭.
উক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই কি সবচেয়ে উত্তম বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে জামিল সাহেবের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেশের উন্নয়নের জন্য কল্যাণকর হওয়ায় এই অর্থব্যবস্থা অধিক গ্রহণযোগ্য। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন মুনাফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। মুনাফার প্রত্যাশায় উদ্যোক্তারা ঝুঁকি গ্রহণ করে এবং নতুন নতুন দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে। ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় বিভিন্ন উৎপাদনকারীর মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিরাজ করে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কম হয় এবং দ্রব্যমূল্য হ্রাস পায়। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় প্রত্যেকে ভোক্তা স্বাধীনভাবে তার রুচি ও ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারে। যা ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতীক খাদক ও বিক্রেতাগণ নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে। এতে একচেটিয়া একনায়কতন্ত্র হ্রাস পায়। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা অনুপস্থিত, যা সম্পদশালী ব্যক্তিদের নতুন কলকারখানা স্থাপনে নিরুৎসাহিত করতে পারে। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত আয়ের কোনো সুযোগ থাকে না। উপরন্তু, উৎপাদন প্রক্রিয়াসহ ভোক্তাদের ভোগও সরকার নির্ধারণ করে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভোক্তার স্বাধীনতা হ্রাস পাওয়ায় এই অর্থব্যবস্থার ধারণায় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ব্যাহত হয়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মনির দেশের তুলনায় জামিল দেশের অর্থব্যবস্থা অপেক্ষা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা অধিক কল্যাণকর।
৭৮.
উদ্দীপকে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে তা উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবাধে ভোগ করতে পারে ও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি গণদ্রব্য (মহাসড়ক) ও সেবা (স্বাস্থ্যসেবা) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রধানত সরকার পরিচালনা করে। উদ্দীপকে লিটু সরকারি বিমানের টিকিট কাটে, যা সম্পত্তির সরকারি মালিকানাকে নির্দেশ করে। আবার টিটু বেসরকারি বিমানের টিকিট কাটে, যা সম্পত্তির বেসরকারি মালিকানাকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ দেশটিতে সম্পত্তির সরকারি এবং বেসরকারি উভয় মালিকানা সহাবস্থান করে। উদ্দীপকের দেশটিতে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় মালিকানা বিরাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৭৯.
অ্যাডাম স্মিথকে অর্থনীতির জনক বলা হয় কেন?
উত্তর: . অ্যাডাম স্মিথের একটা বইয়ের মাধ্যমে অর্থনীতি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তাই তাকে অর্থনীতির জনক বলা হয়। প্রাচীন এবং মধ্যযুগে অর্থনীতিবিষয়ক আলোচনা ক্রমশ নানা বিষয়ের সমন্বয়ে জটিল হতে থাকে। রাজনৈতিক অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়, যখন ইংরেজি অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে তাঁর বিখ্যাত বই "An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations" রচনা করেন। আধুনিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি অ্যাডাম স্মিথের এ বইটি। তাই অ্যাডাম স্মিথকে অর্থনীতির জনক বলা হয়।
৮০.
অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো— অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে। অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় মানুষের অর্থ উপার্জনের এবং অভাব মোচনের জন্য সেই অর্থর ব্যয় অর্থাৎ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন।
📖 দৃশ্যপট-১ : মূল্যস্তর (%) কর্মহীন লোকের হার (%)... দৃশ্যপট-১ : মূল্যস্তর (%) কর্মহীন লোকের হার (%) ২০ ১২ ২৫ ৮ ৩০ ৫ দৃশ্যপট-২ : জুসের বাজার ┌──────────────────────────────┐ │ ▼ ┌────┴────┐ ┌──────────┐ │প্রাণ ম্যাংগো│ │কামাল ও │ │জুস │ │জামালের │ └────┬────┘ │পরিবার │ ▲ └──────────┤ │ │ └──────────────────────────────┘ জুসের ফ্যাক্টরির জন্য শ্রমিকের বাজার
৮১.
আলোকে তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।. তুমি কি মনে কর, প্রাণ ম্যাংগো জুস ও জামাল এবং কামালের পরিবার পরস্পর নির্ভরশীল? উদ্দীপকের
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২ এ আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে। হ্যাঁ, আমি মনে করি, প্রাণ ম্যাংগো জুস ও কামাল এবং কামালের পরিবার পরস্পর নির্ভরশীল। অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি থাকে। যথা— ফার্মসমূহ ও পরিবারসমূহ। ফার্ম বা ফার্মের মালিকরা উৎপাদনের উপাদানগুলো ক্রয় করেন। পরিবারসমূহ তাদের আয়-উপার্জনের সাহায্যে ফার্মের কাছ থেকে ক্রয় করেন দ্রব্য বা সেবা। এভাবে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা এবং আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহের মাধ্যমে সমগ্র অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। একেই আমরা নাম দিয়েছি "আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ।" উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি রয়েছে। যথা— প্রাণ ম্যাংগো জুস ও কামাল এবং কামালের পরিবার। প্রাণ ম্যাংগো জুসের মালিক কামাল ও কামালের পরিবারের কাছ থেকে জুস ফ্যাক্টরির জন্য শ্রমিক ক্রয় করে। উৎপাদনের উপাদানগুলো সংগঠিত জুস উৎপাদন করে এবং সেগুলোই জুসের বাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে, কামাল ও কামালের পরিবার তাদের শ্রম বিক্রি করে আয় করে। পরিবার তাদের আয়-উপার্জনের সাহায্যে জুসের বাজার থেকে জুস ক্রয় করে। এভাবে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা এবং আয়ের মাধ্যমে পরস্পর নির্ভরশীল থাকে। আর এ নির্ভরশীলতা অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। সুতরাং বলা যায়, প্রাণ ম্যাংগো জুস ও কামাল এবং কামালের পরিবার পরস্পর নির্ভরশীল।
৮২.
. দৃশ্যপট-১ দ্বারা অর্থনীতির কোন নীতিটি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর.
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ দ্বারা অর্থনীতির "সমাজে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মধ্যে স্বল্পকালীন বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে" নীতিটি নির্দেশিত হয়েছে। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। আর কোনো শ্রমিক বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না— এরা হলো বেকার। সাধারণত অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমলে বেকারত্ব বাড়ে। আবার মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বেকারত্ব কমে। উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ এ ছকের মাধ্যমে মূল্যস্তর এবং কর্মহীন লোকের হারের মধ্যকার সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। লক্ষ করা যায়, মূল্যস্তর বাড়লে কর্মহীন লোকের হার কমে, আবার মূল্যস্তর কমলে কর্মহীন লোকের হার বাড়ে। অর্থাৎ মূল্যস্তর ও কর্মহীন লোকের হারের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে মূল্যস্তর ২০% হলে কর্মহীন লোকের হার ১২% হয়। মূল্যস্তর বেড়ে ২৫% হলে, কর্মহীন লোকের হারের সংখ্যা কমে ৮% হয়। আবার মূল্যস্তর আরও বেড়ে ৩০% হলে কর্মহীন লোকের হারের সংখ্যা আরও কমে ৫% হয়। অর্থাৎ মূল্যস্তরের হার যত বাড়তে থাকে, কর্মহীন লোকের হার তত কমতে থাকে। যা অর্থনীতির "সমাজে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মধ্যে স্বল্পকালীন বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে" নীতিকে নির্দেশ করে।
৮৩.
প্রণোদনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে কীরূপ ভূমিকা পালন করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . প্রণোদনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ প্রণোদনা দিলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিতে প্রতিটি কাজের জন্য উৎসাহ বা প্রণোদনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কাজে মানুষ প্রণোদনা পায় বলে কাজটি অধিকতর যত্নের সাথে করে। তখন কাজটি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। প্রণোদনা হলো একটি অতিরিক্ত প্রাপ্তি। আর এ অতিরিক্ত প্রাপ্তির জন্য মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়।
৮৪.
নির্বাচন কী?
উত্তর: অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিপ্রয়োজনীয় অভাবগুলো মানুষ অগ্রাধিকারভিত্তিতে পূরণ করে। এটাই হলো অভাব নির্বাচন বা বাছাই।
📖 জনাব মারুফ 'X' দেশের নাগরিক। সে বাজারে গিয়ে ক্রেতা... জনাব মারুফ 'X' দেশের নাগরিক। সে বাজারে গিয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতাগণের মধ্যে দরকষাকষির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান রয়েছে সাধারণ উৎপাদন ব্যবস্থা যা বাজার প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে। প্রশাসনিকভাবে তার ছোট ভাই মজিদ 'Y' দেশে বসবাস করে, যেখানে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত দামে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা হয় এবং রাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তিগত লাভের সুযোগ লক্ষ্য করা যায় না।
৮৫.
তুমি কি মজিদের দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের সাজিদ যে দেশে বসবাস করে সেই দেশটি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কী উৎপাদন হবে, তা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। এখানে সমস্ত সম্পদ ও উৎপাদন উপকরণের মালিক হচ্ছে রাষ্ট্র বা সমাজ। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত বিচারে কী উৎপাদিত হবে, তার জন্য কী প্রযুক্তি বাছাই হবে, কার কী দাম হবে, কার কী আয় ও ভোগ হবে ইত্যাদি সব নির্ধারণ করে দেয়। তাদের এ আদেশ অনেকটা আইনের মতো সকল অর্থনৈতিক খেলোয়াড়কে মেনে চলতে হয়। তাই এ ব্যবস্থাকে নির্দেশমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে জাতীয় চাহিদা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের এবং সামাজিক মালিকানার অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফা থাকে না।
৮৬.
উদ্দীপকের মারুফের দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে মাজেদের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ধরনের অর্থব্যবস্থাকে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বলে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমগ্র ইউরোপে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির সূত্রপাত ঘটে। এ অর্থব্যবস্থায় বাজার দ্বারাই উপকরণের মালিকদের এবং ক্রেতা-বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং উৎপাদনের বণ্টন কী রকম হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা হচ্ছেন ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত সম্পদের তথা উৎপাদন উপকরণের ব্যক্তি মালিক এবং বাজারে তাদের আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমেই এসবের দাম ও অন্য সবকিছু নির্ধারিত হয়। 'X' দেশের নাগরিক জনাব মাজেদের দেশে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। তাছাড়া উক্ত দেশটিতে জনগণের মধ্যে আয় বৈষম্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সমস্ত বৈশিষ্ট্য ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মাজেদের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
৮৭.
কীভাবে বাণিজ্যবাদ সবাইকে উপকৃত করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে বাণিজ্যে সবাই উপকৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সস্তায় গাড়ি তৈরি করে। অন্যদিকে তবে আমাদের রয়েছে সস্তায় পোশাক তৈরির সামর্থ্য। এখন আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সস্তায় পোশাকের বিনিময়ে সস্তা গাড়ির বাণিজ্য করি তাহলে আমাদের উভয়েরই লাভ হবে।
৮৮.
মিশ্র অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।
📖 বাদল এক একর জমি নিয়ে একটি পোশাক কারখানা স্থাপনের ম... বাদল এক একর জমি নিয়ে একটি পোশাক কারখানা স্থাপনের মালিক। তিনি বাজারে প্রতিযোগিতার টিকে থাকার জন্য সবসময় তার কারখানার তৈরিকৃত পোশাকের গুণগত মানের দিকে খেয়াল রাখতেন এবং বিক্রয় মূল্যও যথাসম্ভব কম রাখার চেষ্টা করতেন। তাছাড়া পরিবেশদূষণ রোধের জন্য তার কারখানায় ইটিপি (ETP) প্ল্যান্ট স্থাপন করেন। উদ্দীপক-২ : রিপন এক একর জমিতে ডালিম চাষ করে মোট মুনাফা লাভ করেন। ডালিম চাষ করে মোট মুনাফা পান। পরবর্তীতে সে তার এলাকার দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের উন্নত মানের ডালিম সরবরাহ করে সাহায্য করতে লাগলেন।
৮৯.
উদ্দীপক-২ এর ঘটনাটি কোন ধরনের অর্থনৈতিক মতাদর্শকে নির্দেশ করে? তোমার মতামতের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: . উদ্দীপক-২ এর ডালিম চাষের ঘটনাটি মূলত কল্যাণমুখী বা সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মতাদর্শের দিকে ইঙ্গিত করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো— উদ্দীপকে রিপন ডালিম চাষ করে মোট মুনাফা অর্জন করার পর, সেই মুনাফার একটি বড় অংশ নিজের ভোগের জন্য ব্যবহার না করে এলাকার দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার কাজে ব্যয় করেন। সাধারণত ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত লাভ বা মুনাফা অর্জন করাই মূল লক্ষ্য থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক বা কল্যাণমুখী অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামাজিক কল্যাণ ও মানবসেবাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রিপনের কাজের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা সর্বোচ্চকরণ ছিল না, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করা। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা মূলত কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, রিপনের এই কল্যাণকর উদ্যোগটি সমাজের বৈষম্য দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, যা সমাজতান্ত্রিক ও কল্যাণধর্মী অর্থনীতির মূল লক্ষ্য।
৯০.
. উদ্দীপক-১ এ অর্থনীতির যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপক-১ এ বাদলের বর্ণিত অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ও নীতিসমূহ প্রতিফলিত হয়েছে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদল তাঁর পোশাক কারখানার মালিক। তিনি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান ঠিক রাখতেন এবং বিক্রয় মূল্য কম রাখতেন। তাছাড়া পরিবেশের ক্ষতি যেন না হয়, সেজন্য কারখানায় ইটিপি স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ, এখানে ব্যক্তিগত মালিকানা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, যা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থারই মূল পরিচয় বহন করে।
৯১.
অর্থনীতির দুই ধরনের প্রতিনিধির নাম লেখ।
উত্তর: খ. প্রতিনিধি অর্থনীতিতে দুই ধরনের থাকে। যথা— পরিবারসমূহ ও ব্যবসায়সমূহ (ফার্ম)।
৯২.
অ্যাডাম স্মিথের কী বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম
উত্তর: . অ্যাডাম স্মিথের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম হলো— "An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations"।
📖 মি. মামুন 'A' দেশের একটি বেসরকারি কলকারখানার ব্যবস... মি. মামুন 'A' দেশের একটি বেসরকারি কলকারখানার ব্যবস্থাপক। তাঁর বন্ধু জনাব 'B' দেশের একটি খনিজ খনির ব্যবস্থাপক। মি. মামুন তাঁর দেশের কলকারখানা লিডারের ইচ্ছে অনুযায়ী চালাতে পারেন না; সেখানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি মেনে উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালনা করতে হয়। অন্য একদিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, জনগণ সেখানে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগ করে। অন্যদিকে, জনাব 'B' দেশের কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি উদ্যোগে নতুন কলকারখানা স্থাপিত বা পরিচালিত হতে পারে না।
৯৩.
তুমি কি 'B' দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের 'B' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আমি 'B' দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না এবং ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থায় দেশের সকল কলকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক হলো সরকার। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে তা নির্ধারিত হয়। 'B' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে আমার সমর্থনের কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষণহীন সমাজ গঠন: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজকে শোষণমুক্ত করা সম্ভব হয়। ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: এই ব্যবস্থায় উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুষমভাবে বণ্টিত হয়, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিশ্চিত ভূমিকা রাখে। ৩. বেকারত্ব দূরীকরণ: সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পায়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি কল্যাণমুখী ও পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা যা দেশের আপামর জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই আমি 'B' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। ...অনুমতি নিয়ে মি. মামুন তাঁর শ্রেণি (অন্যপক্ষে 'B' দেশের খনিজ খনির ব্যবস্থাপক) খনির কাজ পরিচালনা করছেন। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া হয় না। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে কারখানাও স্থাপন করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিগত লাভের কোনো সুযোগ থাকে না। উৎপাদন পরিচালিত হয় সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে। উদ্দীপকের মি. মামুন 'A' দেশে বাস করেন। তিনি সেখানকার কলকারখানা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো চালাতে পারেন না, সেখানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি মেনে উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালনা করতে হয়। আবার অন্যদিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, জনগণ সেখানে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও উপভোগ করে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করছে, তাই এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, মি. মামুন ও ডনের অর্থব্যবস্থা মিশ্র অর্থব্যবস্থা এবং 'B' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক ও নীতিগত পার্থক্য বিদ্যমান।
৯৪.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের অর্থব্যবস্থা অর্থনীতির ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: . উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একইসাথে ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করে। এই অর্থব্যবস্থায় একদিকে যেমন ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বজায় থাকে, তেমনি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে। উদ্দীপকে মি. মামুন 'A' দেশে বাস করেন। তিনি সেখানকার কলকারখানা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো চালাতে পারেন না, সেখানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি মেনে উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালনা করতে হয়। আবার অন্যদিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, জনগণ সেখানে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও উপভোগ করে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করছে, তাই এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে।
৯৫.
দুষ্প্রাতা বলতে প্যকী বোঝায়?
উত্তর: . মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।
৯৬.
. অর্থনীতিবিদেরা মূলধন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক. সাধারণত মূলধন বলতে টাকা-পয়সাকে বোঝায়, তবে অর্থনীতিতে মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের যে অংশ বর্তমান ভোগে ব্যবহার না করে অধিকতর উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
📖 করিম সাহেব তার বসবাসরত দেশে সরকারের অনুমতি নিয়ে এক... করিম সাহেব তার বসবাসরত দেশে সরকারের অনুমতি নিয়ে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে চাইলেন; কিন্তু সরকারের অনুমতি পাননি। কারণ ঐ দেশে বেসরকারি মালিকানায় কোনো শিল্প স্থাপন করা যায় না। অন্যদিকে, জনাব রাকিব সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নিজ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করেন। তার দেশে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
৯৭.
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাকিব সাহেবের বসবাসরত দেশের অর্থব্যবস্থাকে কি একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলা যায়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত রাকিব সাহেবের বসবাসরত দেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর আমরা জানি মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলা যায়। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে।
৯৮.
করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানগুলোর মালিক হলো সরকার। রাষ্ট্র বা সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে সকল পরিকল্পনা... (বাকি অংশ পরের পৃষ্ঠায়) ...করে থাকে। যে পরিকল্পনা অনুসারে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া হয় না। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে কারখানাও স্থাপন করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিগত লাভের কোনো সুযোগ থাকে না। উৎপাদন পরিচালিত হয় সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে। উদ্দীপকে করিম সাহেবের দেশে দেখা যায়, তিনি নিজের ইচ্ছায় বা স্বাধীনভাবে কোনো কলকারখানা স্থাপন করতে পারেননি। কারণ ওই দেশে বেসরকারি মালিকানায় কোনো শিল্প স্থাপন করা যায় না এবং সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
৯৯.
বাণিজ্যবাদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত (১৫৯০-১৭৬০) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে প্রসার ঘটে, তাকে 'বাণিজ্যবাদ' বলা হয়। দেশের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্য উদ্বৃত্তকরণের লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা বেশি রপ্তানি করত এবং খুব সামান্যই আমদানি করত। ইংল্যান্ডের উৎপাদিত পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করে মূল্যবান ধাতু (সোনা, রুপা, হীরা ইত্যাদি) আমদানি করা হতো।
১০০.
ইসলামী অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ওপর বিশ্বাসকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
📖 শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদেরকে জা... শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদেরকে জানান, অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি থাকে। একপক্ষ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে এবং অন্যপক্ষ তা ক্রয় করে। এভাবে সমগ্র অর্থনীতি চক্রাকারে আবর্তিত হয়। উদ্দীপক-২ : ফয়সাল সাহেব স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী। পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়, কোন অভাবটি আগে পূরণ করবে এবং কোনটি পরে পূরণ করবে তা ভেবে তিনি দিশেহারা।
১০১.
ফয়সাল সাহেবের সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় অর্থনীতির ভাষায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেবের সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়কে অর্থনীতির ভাষায় নির্বাচন বা বাছাই বলা হয়। মানুষের অভাব অসীম; কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। সীমাহীন অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে দুষ্প্রাপ্য সম্পদের নিয়োগবিন্যাসই অর্থনীতির প্রধান সমস্যা। মানুষের অভাব পূরণের উপায়গুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য বলে পছন্দ বা নির্বাচনের সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে। মানুষের সব অভাবের গুরুত্ব এক রকম নয়। কোনোটির গুরুত্ব বেশি, আবার কোনোটির গুরুত্ব কম। কোনো উপকরণ দ্বারা একটি উদ্দেশ্য পূরণ করতে গেলে অন্য একটি উদ্দেশ্য ত্যাগ করতে হয়। এমতাবস্থায় যে উপকরণগুলোর প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক সে অনুযায়ী অভাব পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে সীমিত সম্পদের সাহায্যে অসীম অভাব পূরণ সম্ভব হবে। উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেব স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী; কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা একই সাথে অনেক অভাব বোধ করেন। ফলে তিনি মনে করেন এ টাকা তার জন্য যথেষ্ট নয়। এটিই হলো অর্থনীতির মূল সমস্যা। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থনীতিতে নির্বাচন ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সুতরাং নির্বাচনের মাধ্যমে উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেব তার অভাব পূরণ করতে পারবে।
১০২.
উদ্দীপক-১ এ অর্থনীতির যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপক-১ এ অর্থনীতির আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে চিত্রে তা দেখানো হলো— ব্যয় দ্রব্য ও সেবার বিক্রয় ┌──────────────► বাজার ►──────────────┐ │ │ দ্রব্য ও সেবা বিক্রয় দ্রব্য ও সেবা ক্রয় │ │ ┌─────┴─────┐ ┌─────┴─────┐ │ কারখানা │ │ পরিবার │ │ (ফার্ম) │ │ │ └─────▲─────┘ └─────┬─────┘ │ │ উৎপাদনের উপকরণ শ্রম │ │ │ উৎপাদনের ▼ └◄───────────── উপকরণসমূহের ◄────────────────┘ মজুরি বাজার আয় উদ্দীপকে দেখা যায়, একপক্ষ দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে এবং অন্যপক্ষ অর্থাৎ পরিবার কাজ করে যে বেতন পায় তা দিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়। এক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, পরিবার কারখানার উপকরণ হিসেবে শ্রমের জোগান দেয়। কারখানা তা দিয়ে দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে জোগান দেয়। সেই দ্রব্যসামগ্রী আবার পরিবার তার প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা ক্রয় করে প্রয়োজন মেটায়। অতএব বলা যায়, পরিবার ও কারখানাটি আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ নির্দেশ করে যা চিত্রে দেখানো হয়েছে।
১০৩.
মুদ্রাস্ফীতির সাথে বেকারত্বের সম্পর্ক কীরূপ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মুদ্রাস্ফীতির সাথে বেকারত্বের সম্পর্ক বিপরীত। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। আর কোনো শ্রমিক বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না— এরা হলো বেকার। সাধারণত অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমলে বেকারত্ব বাড়ে। আবার মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বেকারত্ব কমে।
১০৪.
অ্যাডাম স্মিথের অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা, "অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।
📖 মি. X এমন একটি দেশে বাস করে যেখানে রাষ্ট্রের সকল ক... মি. X এমন একটি দেশে বাস করে যেখানে রাষ্ট্রের সকল কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। ভোক্তা স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে উৎপাদন ভোগ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুসারে শিল্পের উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়। অপরপক্ষে, মি. Y যে দেশে বাস করে, সেখানে ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে সরকারের ধারাবাহিক উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
১০৫.
মি. Y-এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য আছে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে মি. Y এর দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর আমরা জানি, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থাও হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। তাই মি. Y এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বাংলাদেশ ইত্যাদি। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকের মি. Y এর দেশেও ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে, তবে সরকার ধারাবাহিক উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থাৎ এতে ব্যক্তিস্বাধীনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও রয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির মূল রূপ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ঠিক একই নীতি অনুসরণ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, মি. Y-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান। ...উদ্দীপকে মি. Y এর দেশে ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে সরকারের প্রয়োজনে উৎপাদন ও জোগান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মি. Y এর দেশের অর্থব্যবস্থা আর বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা উভয়ই মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বহন করে। অর্থাৎ মি. Y এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য আছে।
১০৬.
. উদ্দীপকের মি. X-এর দেশের অর্থব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মি. X অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ সম্পদ (ভূমি, কলকারখানা, খনি ইত্যাদি) ও উৎপাদনের উপাদানগুলোর এর দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। উদ্দীপকে সমাজতান্ত্রিক মালিকানা থাকে রাষ্ট্র বা সমাজের হাতে। এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকারি বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ভোক্তারা নিজের ইচ্ছামতো কলকারখানা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে না বা পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণ ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। উদ্দীপকে মি. X এর দেশেও দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের সকল কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং ভোক্তা স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুসারে উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ন্ত্রিত হয়, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য। তাই মি. X এর দেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
১০৭.
সুযোগ ব্যয়ের ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: একটি মুদ্রা বা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য অন্য একটি পণ্য বা সেবার সুযোগ ত্যাগ করাকে বা ত্যাগের পরিমাণকে সুযোগ ব্যয় বলে। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ থেকে অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে নির্বাচন করতে হয়। কোনো একটি দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ বৃদ্ধি করতে গেলে অন্য দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ যতটুকু ছাড়তে হয়, তাকেই প্রথমোক্ত দ্রব্যের সুযোগ ব্যয় বলে।
১০৮.
অর্থনীতির মৌলিক নীতি কয়টি?
উত্তর: . অর্থনীতির মৌলিক নীতি ১০টি।
📖 বসীর একজন শ্রমিক। সে একটি কারখানায় অল্প বেতনে কাজ... বসীর একজন শ্রমিক। সে একটি কারখানায় অল্প বেতনে কাজ করে। সে যা বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভাব মেটাতে প্রায়ই তাকে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের অনেক অভাবের সাথে তাকে প্রায়ই কাটছাঁট করতে হয়। কিন্তু একটি অভাব পূরণের সাথে সাথে আরেকটি নতুন অভাব দেখা দেয়। ফলে অভাব পূরণের ক্ষেত্রে তাকে অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হয়।
১০৯.
no
উত্তর: . উদ্দীপকে বসীরের সমস্যাটি তথা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের সমস্যা দূর করতে পারলে বা দূর করার ক্ষেত্রে অর্থনীতির ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো— আমাদের দেশে অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যেই নিহিত। তা শুধু আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাই নয় বরং গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক সমস্যা। মানুষের অভাব অসীম হলেও অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দ্বারা মানুষের সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করা যায় না। কাজেই সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতাই হলো মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। অন্যদিকে, এই সীমিত সম্পদ বিকল্প ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ একই সম্পদ বিভিন্ন অভাব পূরণের ব্যবহার করা হয়। সুতরাং সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের জন্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার বাড়াই করাও অর্থনৈতিক সমস্যা। প্রতিটি সমাজের মানুষ নিজের সীমিত সম্পদের সাহায্যে অসীম অভাব পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে পছন্দ বা নির্বাচন করতে হয়। অভাবে আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে তীব্র অভাবগুলো প্রথমে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য অভাব ত্যাগ করতে হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি তথা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। তা অর্থনীতির বিভিন্ন দিকসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাধান করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
১১০.
বসীরকে যে অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তা কী মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা? ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ. উদ্দীপকের বসীর কীভাবে তার পরিবারের সমস্যা দূর করতে পারবে তা অর্থনীতির ভাষায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বসীরকে যে অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তা অবশ্যই মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। অর্থনীতিতে দুটি মৌলিক ধারণা 'দুষ্প্রাপ্যতা' ও 'পছন্দ'। ধরা যাক বসীর একজন দিনমজুর। বসীর কি প্রতিদিন সব কাজ করতে পারবে? না। বসীর ইচ্ছে করলেই পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারবে? না। বসীর যদি চাকরি করতে চায় তবে দোকানে বা ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে হবে। এগুলো হলো তার অভাব বা চাহিদা। আবার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, মনে করি বসীরদের এক বিঘা জমি আছে। ওই জমিতে ধান চাষ করলে ২০ কুইন্টাল ধান উৎপাদন করা যায়। ওই জমিতে ধান চাষ না করে যদি গম চাষ করা হয় তবে ১০ কুইন্টাল গম উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে ২০ কুইন্টাল ধান উৎপাদন করতে গেলে ১০ কুইন্টাল গমের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়— এটিই মূলত সুযোগ ব্যয়। উদ্দীপকে বসীরকেও তার সীমিত আয়ের মধ্যে সর্বাধিক তীব্র অভাবটি নির্বাচন করে পূরণ করতে হয়েছে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো ত্যাগ করতে হয়েছে। যা মূলত পছন্দ ও নির্বাচনের সমস্যা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বসীরের সমস্যাটি অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
১১১.
মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: "মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।উদ্দীপকে বসীর একজন সাধারণ দিনমজুর বা শ্রমিক। সে যা বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভাব মেটাতে প্রায়ই তাকে অনেক অভাবের মধ্যে কাটছাঁট করতে হয় এবং একটি অভাব পূরণের সাথে সাথে আরেকটি নতুন অভাব দেখা দেয়। এটি মূলত অর্থনীতিতে সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা ও অসীম অভাবের ধারণাকে নির্দেশ করে। অর্থনীতিতে এ দুটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে তীব্রতা অনুসারে অভাব নির্বাচন বা বাছাই করতে হয়।
১১২.
. বাণিজ্যবাদ কাকে বলে?
উত্তর: ষোড়শ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত (১৫০০-১৭৫০) ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে অর্থনৈতিক কার্যকলাপে যে বিশেষ ধারা বা চিন্তা গড়ে উঠেছিল, তাকে 'বাণিজ্যবাদ' (Mercantilism) বলা হয়।
📖 ২০২২ মাসুদ আর ডন একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। প... ২০২২ মাসুদ আর ডন একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। পোশাক কারখানায় উৎপাদন সংক্রান্ত সকল কাজ কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরিচালিত হয়। পক্ষান্তরে, ইমরান আর সেন্টু একটি ওষুধ তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। অপরদিকে, ইমরান আর সেন্টুর একটি ওষুধ তৈরির কারখানা স্থাপন করেছেন যেখানে বেসরকারি উদ্যোগে কোনো কলকারখানা স্থাপিত বা পরিচালিত হতে পারে না এবং তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
১১৩.
ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য কতটুকু? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থা হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান, যা নিচে আলোচনা করা হলো: • মালিকানার ক্ষেত্রে পার্থক্য: ইমরানের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা থাকার কারণে সেখানে বেসরকারি উদ্যোগে কোনো কলকারখানা স্থাপিত হতে পারে না, সমস্ত সম্পদ ও কারখানার মালিক রাষ্ট্র। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা থাকায় এখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি অবস্থান করে। ব্যক্তি এখানে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, আবার রাষ্ট্রও বিভিন্ন বড় বড় শিল্প নিয়ন্ত্রণ করে। • অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নেই, এর প্রধান লক্ষ্য সমাজ তথা মানুষের কল্যাণ সাধন। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন এবং সরকারি খাতের লক্ষ্য থাকে জনকল্যাণ। • ভোক্তার স্বাধীনতা: ইমরানের দেশে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে উৎপাদন ও বণ্টন নির্ধারিত হয় বলে ভোক্তার স্বাধীন পছন্দ বা ভোগের সুযোগ সীমিত। কিন্তু বাংলাদেশে ভোক্তাগণ তাদের আয় ও রুচি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈধ দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারেন। সুতরাং বলা যায়, ইমরানের দেশের সম্পূর্ণ রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের মিশ্র অর্থব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক ও নীতিগত ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। প্রশ্ন ১৩ । দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ বসীর একজন শ্রমিক। সে একটি কারখানায় অল্প বেতনে কাজ করে। সে যা বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভাব মেটাতে প্রায়ই তাকে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের অনেক অভাবের সাথে তাকে প্রায়ই কাটছাঁট করতে হয়। কিন্তু একটি অভাব পূরণের সাথে সাথে আরেকটি নতুন অভাব দেখা দেয়। ফলে অভাব পূরণের ক্ষেত্রে তাকে অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হয়।
১১৪.
. মাসুদ ও ডনের অর্থব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে মাসুদ ও ডনের দেশে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুনাফা অর্জন করা। উদ্দীপকে দেখা যায়, মাসুদ আর ডন একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন এবং সেখানে উৎপাদন সংক্রান্ত সকল কাজ কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিমালিকানা ও উদ্যোগের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই এটি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।
১১৫.
একটি দ্রব্য ভোগ করতে হলে অন্য একটি দ্রব্য ত্যাগ করতে হয়"— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: একটি দ্রব্য ভোগ করতে হলে আরেকটি দ্রব্য ত্যাগ করতে হয়— এই বিষয়টি অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) ধারণাকে নির্দেশ করে। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ তার সকল অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ দিয়ে কোনো একটি দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ বৃদ্ধি করতে গেলে অন্য দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ যতটুকু ছাড়তে হয়, তাকেই প্রথমোক্ত দ্রব্যের সুযোগ ব্যয় বলে।
১১৬.
ইসলামিক অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামী শরীয়াহ্র বিধি-বিধানের ওপর ভিত্তি করে মানুষের অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তোলার যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে ইসলামিক অর্থব্যবস্থা বলে।
📖 ফার্মাসিউটিক্যালস, বর্তমানে গ্যারেজের পরিবর্তে ওষু... ফার্মাসিউটিক্যালস, বর্তমানে গ্যারেজের পরিবর্তে ওষুধের দোকান, ডাক্তারের চিকিৎসালয়, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি ইত্যাদি।
১১৭.
চিহ্নিত বিষয়টি বর্তমান বিশ্বে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়"— বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়সমূহের মধ্যে আয়-ব্যয়ের বৃত্তাকার প্রবাহের প্রবাহ, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করছি। অর্থনীতিতে দুই ধরনের এজেন্সি (Agency) থাকে। যথা— ফার্মসমূহ ও পরিবারসমূহ। ফার্ম বা কলকারখানা মালিকরা উৎপাদনের উপাদানসমূহ ক্রয় করেন। পরিবারসমূহ সেগুলো সম্বলিত করে সেবা উৎপাদন করে এবং উৎপাদনকারী বাজারে তা বিক্রয় করেন। অন্যদিকে... (বাকি অংশ ছবির নিচে কেটে গেছে) ...পরিবারসমূহ সেবা উৎপাদন করে এবং উৎপাদনকারী বাজারে তা বিক্রয় করে। অন্যদিকে, পরিবারসমূহ ফার্ম বা কলকারখানার নিকট হতে উপাদান ক্রয়ের মাধ্যমে বা উপাদানের মালিক হিসেবে আয় লাভ করে। আবার পরিবারসমূহ ফার্মের নিকট হতে উৎপাদিত দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করার জন্য বা ভোগ করার জন্য যে ব্যয় করে, তা ব্যবসায়ী বা ফার্মের আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে। এভাবে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ সচল থাকে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে এশিয়ার অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে।
১১৮.
. উদ্দীপকে বিদ্যমান বিষয়গুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ধারণার সাথে সম্পর্কিত? চিহ্নিত করে আলোচনা করো।
উত্তর: বাজার ব্যবস্থায় কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত দামের যে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, তাকে স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা বলে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের বিষয়গুলো আমার পাঠ্যবইয়ের 'অর্থনৈতিক কার্যাবলি' এবং 'উৎপাদনের উপাদান বা উপকরণসমূহের' ধারণার সাথে সম্পর্কিত। নিচে বিষয়টি আলোচনা করা হলো— ব্যয় ও সেবা বিক্রয় ┌──────────────────────────────┐ │ ▼ ┌────┴────┐ ┌──────────┐ │ পরিবার │ │ ব্যবসায় │ └────┬────┘ └──────────▲ ▲ │ └──────────────────────────────┘ আয় ও উপাদান সরবরাহ চিত্র অনুসারে মানুষের পরিবার উৎপাদনের বাজারে শ্রম বিক্রি করে আয় লাভ করে থাকে। আবার তাদের কার্যপরিচালনাপ্রসূত উপকরণসমূহ বাজারে ওষুধ প্রদান করে উৎপাদকের উপকরণ হিসেবে কাজ করে। ওষুধের ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদনের উপকরণ ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করে। তারা ওষুধ বাজার বা ওষুধের দোকানে বিক্রয়ের মাধ্যমে আয় লাভ করে। এটাকে আমরা ব্যবসায় বা বাজার ব্যবস্থা বলতে পারি। আবার অন্য ডাক্তার তার উপকরণের উপকরণ এর বিনিময়ে সেবা তৈরি করা ওষুধ ও ভোক্তাদের সেবা দান করছে। অতএব বলা যায়, সাধারণ ফার্মাসিউটিক্যালস, বর্তমান গ্যারেজের পরিবর্তে ওষুধের দোকান, ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা, উৎপাদনের উপকরণের বাজার এবং বিভিন্ন ফার্মের আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ নির্দেশ করে।
১১৯.
স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বাজার ব্যবস্থায় কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত দামের যে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, তাকে স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা বলে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
১২০.
মুদ্রাস্ফীতি কী?
উত্তর: সাধারণ মূল্যস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
📖 দীপ্তকে তার আম্মু বললেন, এবার যদি পরীক্ষায় ভালো ফল... দীপ্তকে তার আম্মু বললেন, এবার যদি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারো তবে তোমাকে একটা স্মার্টফোন কিনে দেব। স্কুলের অনলাইন ক্লাসগুলো ভালোমতো করার জন্য ফোনটা দরকার। ফোনের দাম বেশি হওয়ায় বাবা বললেন স্মার্টফোনের পরিবর্তে একটা সাইকেল কিনে দেব যাতে সময়মতো স্কুলে যাতায়াত করতে পারো। দীপ্তও তার বাবার সিদ্ধান্তের সাথে সহমত পোষণ করল। ঘটনা-২ : বিক্রমপুরের মজনু মিয়ার ২ বিঘা জমি ছিল। জমির পাশে রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার কারণে ময়লা ও ধূলিকণা বেশি হওয়ায় এলাকার চেয়ারম্যান তাকে জরিমানা করেন। তাছাড়া জমির পাশে অনেক উঁচু উঁচু বিল্ডিং হওয়ায় জমিতে রোদ না পাওয়ায় সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে বাড়ির পাশে ইটের ভাটা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটের ভাটা নির্মাণ করলেন।
১২১.
ঘটনা-২-এর সমস্যাটি নিবারণে সরকার কীভাবে ভূমিকা ঘটনা-১-এ অর্থনীতির কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। রাখতে পারে? মতামত দাও।
উত্তর: ans no
১২২.
এ অর্থনীতির কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ অর্থনীতির অত্যন্ত মৌলিক বিষয় 'অভাব নির্বাচন ও পছন্দ' (Choice) প্রকাশ পেয়েছে। মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় অভাবের কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন মানুষকে তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দীপ্তর অনলাইন ক্লাসের জন্য স্মার্টফোন প্রয়োজন হলেও বাবার পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি দীপ্তকে সময়মতো স্কুলে যাতায়াতের জন্য সাইকেল কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীপ্তও তা মেনে নেয়। এখানে স্মার্টফোনের চেয়ে সাইকেলের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে, যা অর্থনীতির 'পছন্দ বা নির্বাচন' ধারণাকে নির্দেশ করে।
১২৩.
সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষের সব অভাব পূরণ করা যায় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না বলেই মানুষকে অভাবের তীব্রতা বা গুরুত্ব অনুযায়ী তা নির্বাচন বা বাছাই করে. অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।" নিতে হয়। যে অভাবটি মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি জরুরি, সীমিত সম্পদ দিয়ে প্রথমে সেই অভাবটি পূরণ করা হয় এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো পরবর্তীতে পূরণের জন্য ত্যাগ করা হয়। সম্পদের সঠিক ও বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল সীমিত সম্পদ দিয়ে তীব্র অভাবসমূহ দূর করা সম্ভব হয়।
১২৪.
. অধ্যাপক মার্শাল কর্তৃক প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।"
📖 রবিন দেশপ্রেমের টানে 'A' রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান... রবিন দেশপ্রেমের টানে 'A' রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানে যোগদান সম্পন্ন করেছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি সংগঠনটির স্বার্থে কোনো নতুন কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করতে বা ইচ্ছেমতো উৎপাদনে হাত বাড়াতে পারেন না। উৎপাদন প্রক্রিয়া ইচ্ছামতো ভোক্তারা ভোগ করতে পারেন না। আলগা কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না।
১২৫.
'A' রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার কি কোনো মিল রয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: 'A' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার কিছু ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। যেমন— (i) ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাব: বাংলাদেশে 'A' রাষ্ট্রের মতো উৎপাদনের উপাদান, যেমন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি মালিকানা বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়। (ii) জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিকল্পনা করার মাধ্যমে মূলত জনকল্যাণ অর্জনের চেষ্টা করা হয় এবং তা অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকে। (iii) বাজারের স্বাধীনতা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও পুরোপুরি অবাধ উৎপাদন ও জোগানের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার অনেক সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (iv) স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও কোনো কোনো পণ্য-সেবার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (v) সম্পদের মালিকানা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও কিছু সম্পদ বা উৎপাদন বা কলকারখানা সম্পূর্ণ সরকারি বা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থেকে দেশ ও সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে পরিচালিত হতে দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, 'A' রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে।
১২৬.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' রাষ্ট্রে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তাদের ইচ্ছামতো ভোগের স্বাধীনতা থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, রবিন দেশের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটির স্বার্থে কোনো নতুন কলকারখানা প্রতিষ্ঠা বা ইচ্ছেমতো উৎপাদনে হাত বাড়াতে পারছেন না। এমনকি উৎপাদন প্রক্রিয়াও ভোক্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ভোগ করতে পারেন না এবং এখানে কোনো মুক্ত বাজার ব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা কাজ করে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থনীতির নির্দেশক। অতএব বলা যায়, 'A' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
১২৭.
মানুষ কেন অর্থনৈতিক কাজ করে?
উত্তর: মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান বা অভাবসমূহ মেটানোর লক্ষ্যেই মূলত অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে। জীবনধারণের প্রধান প্রধান উপাদান হলো— অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এসব মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পদ বা অর্থের প্রয়োজন হয়। আর সেই প্রয়োজনীয় সম্পদ বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই মানুষকে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল, বাণিজ্যিক বা সেবাধর্মী অর্থনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হতে হয়।
১২৮.
অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।"
📖 রনি এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। সে স্কুল ড্রে... রনি এ বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। সে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগসহ একটি নতুন সাইকেল ক্রয় করে দেওয়ার জন্য বাবাকে বলল। পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাবা তাকে রনিকে বুঝিয়ে স্কুল ড্রেস এবং স্কুল ব্যাগ ক্রয় করে দিলেন এবং সাইকেল পরে ক্রয় করে দিবেন বললেন। রনিও বাবার সাথে সহমত পোষণ করল।
১২৯.
"আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যে নিহিত"— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: . "আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যেই নিহিত"— উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি মূলত অসীম অভাব এবং সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। মানুষের অভাব অসীম হলেও অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দ্বারা মানুষের সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করা যায় না। কাজেই সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতাই হলো মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। অন্যদিকে, এই সীমিত সম্পদ বিকল্প ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ একই সম্পদ বিভিন্ন অভাব পূরণের ব্যবহার করা হয়। সুতরাং সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের জন্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার বাড়াই করাও অর্থনৈতিক সমস্যা। প্রতিটি সমাজের মানুষ নিজের সীমিত সম্পদের সাহায্যে অসীম অভাব পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে পছন্দ বা নির্বাচন করতে হয়। অভাবে আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে তীব্র অভাবগুলো প্রথমে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য অভাব ত্যাগ করতে হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি তথা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। তা শুধু আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাই নয় বরং গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক সমস্যা। সুতরাং বলা যায়, আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যেই নিহিত— উক্তিটি যথার্থ।
১৩০.
. উদ্দীপকের ঘটনাটি কোন অর্থনীতিবিদের সংজ্ঞার অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঘটনাটি অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের সংজ্ঞার অনুরূপ। অধ্যাপক এল. রবিন্স অর্থনীতির অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তার মতে, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষের... ...বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।" এ সংজ্ঞায়িত অর্থনৈতিক ধারণার মূল কথা হলো অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদ। উদ্দীপকের রনি স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগসহ একটি নতুন সাইকেলের আবদার করলেও পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাবা তাকে রনিকে বুঝিয়ে ড্রেস ও ব্যাগ ক্রয় করে দিলেন। যা মূলত অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধনকে নির্দেশ করে। আর আমরা জানি, অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের সংজ্ঞায় মানুষের অভাব অসীম এবং অভাবের প্রকৃতি ও পরিমাণ বিভিন্ন রকমের। অভাব পূরণকারী সম্পদ ও সময় খুবই সীমিত। এই বৈশিষ্ট্য উল্লেখ আছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের সংজ্ঞার অনুরূপ।
১৩১.
মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূনেমিকা পালন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বাংলাদেশ, ভারত ইত্যাদি। অনেকে এ অর্থব্যবস্থাকে একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলে করে।
১৩২.
অধ্যাপক প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ। মার্শাল
উত্তর: অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।"
📖 জসিম একজন আইটি-পাবলিশার্স। অতিমারীকালিন স্বাস্থ্য... জসিম একজন আইটি-পাবলিশার্স। অতিমারীকালিন স্বাস্থ্য ভাতা অন্য কোনো অবদান নেই। কোভিড পরিস্থিতিতে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যের দাম জনাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র আর্থিক অনগ্রসরতার কারণে জনগণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্ষোভের মুখে সরকারকে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হয়।
১৩৩.
জসির দৈনন্দিন জীবনে উক্ত সমস্যা সমাধানের কারণ বদলে তুমি হলে কী করতে? অর্থনৈতিক আলোকে বিষণ শ্লেকমের।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত মুদ্রাস্ফীতির সমস্যাটি জসিমের মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আমি যদি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতাম, তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতাম: ১. ব্যয় সংকোচন ও বাজেট প্রণয়ন: মুদ্রাস্ফীতির সময়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়। তাই বিলাসবহুল বা অপ্রয়োজনীয় ভোগ বাদ দিয়ে কেবল মৌলিক ও অপরিহার্য চাহিদাসমূহ পূরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করতাম এবং কঠোরভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতাম। ২. বিকল্প দ্রব্যের ব্যবহার: কোনো নির্দিষ্ট দ্রব্যের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে তার সমগুণসম্পন্ন তুলনামূলক কম দামি বিকল্প দ্রব্য (Substitutes) ব্যবহার করার চেষ্টা করতাম। ৩. অতিরিক্ত আয়ের উৎস খোঁজা: তথ্যপ্রযুক্তির বা আইটি ক্ষেত্রের দক্ষতা ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং বা পার্ট-টাইম কোনো কাজের মাধ্যমে মূল আয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতাম, যাতে বর্ধিত ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়। ৪. সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার: নগদ অর্থ হাত বা ঘরে জমিয়ে না রেখে তা কোনো উৎপাদনশীল বা লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতাম, কারণ মুদ্রাস্ফীতির সময়ে নগদ টাকার মান কমে যায়, কিন্তু সম্পদের মূল্য বজায় থাকে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা ও মিতব্যয়িতাই একমাত্র উপায়, যা জসিমের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারত।
১৩৪.
উদ্দীপকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ পাঠ্যবইয়ের আলোকে চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে বর্ণিত দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণটি হলো 'মুদ্রাস্ফীতি' (Inflation)। পাঠ্যবইয়ের আলোকে, যখন বাজারে পণ্য ও সেবার জোগানের তুলনায় অর্থের বা মুদ্রার সরবরাহ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়, তখন অর্থের মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সাধারণ মূল্যস্তর বা দ্রব্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এই অবস্থাকেই মুদ্রাস্ফীতি বলে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, কোভিড পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক বাজারে মুদ্রা বা অর্থের সরবরাহ বেড়ে গেছে। বাজারে অর্থের পরিমাণ বাড়লেও সেই অনুপাতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বাড়েনি। ফলে অতিরিক্ত অর্থের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়লেও বাজারে দ্রব্যের ঘাটতি দেখা দেয় এবং দ্রব্যের দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। উদ্দীপকের এই পরিস্থিতিটি অর্থনীতির মুদ্রাস্ফীতির ধারণাকেই নির্দেশ করে।
১৩৫.
ব্যাংক আমানত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ব্যাংক আমানত বলতে বোঝায়, জনগণ বা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্বৃত্ত বা সঞ্চিত অর্থ যখন নিরাপত্তার জন্য অথবা মুনাফা বা সুদের আশায় ব্যাংকের কাছে জমা রাখে। ব্যাংক আমানত মূলত তিন প্রকার হয়ে থাকে— চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত এবং স্থায়ী আমানত। ব্যাংক এই আমানতের বিপরীতে আমানতকারীকে নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফা প্রদান করে থাকে এবং জনগণের এই সঞ্চিত অর্থ পরবর্তীতে ব্যাংক বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করে।
১৩৬.
'ক্রেডিট কোন ধরনের মুদ্রা?
উত্তর: 'ক্রেডিট কার্ড' হলো এক ধরনের ইলেকট্রনিক বা হিসাব মুদ্রা (হস্তান্তরযোগ্য ঋণপত্র বা প্লাস্টিক মানি)।
📖 মাসেই 'A' দেশে যাবেন রুবেল। সম্প্রতি তিনি মাতৃভূমি... মাসেই 'A' দেশে যাবেন রুবেল। সম্প্রতি তিনি মাতৃভূমি বাংলাদেশের বেলকুচি এসে ছোট ভাইকে তার প্রবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনান। সেখানকার মানুষের মাথাপিছু আয় অত্যন্ত বেশি। সেখানে তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, মালিকপক্ষ কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। আবার সে তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। আগামী মাসের শুরুতে অর্থনীতির সংক্রান্তি লেখা।
১৩৭.
'A' দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: 'A' দেশের অর্থব্যবস্থার (সমাজতান্ত্রিক) সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার (মিশ্র) পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত, যেখানে সমস্ত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সম্পদের মালিকানা সরকারের হাতে থাকে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy)। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র— উভয় ব্যবস্থারই একটি সুষম সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। এই দুই অর্থব্যবস্থার মূল পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ: • মালিকানার ক্ষেত্রে পার্থক্য: 'A' দেশে বা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা থাকে, কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না (যেমনটি উদ্দীপকে কারখানার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতায় দেখা গেছে)। কিন্তু বাংলাদেশে বা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় বেসরকারি ও সরকারি মালিকানা পাশাপাশি সহাবস্থান করে। এখানে ব্যক্তি নিজের নামে সম্পত্তি ও কলকারখানা গড়ে তুলতে পারে, আবার পাশাপাশি রাষ্ট্রও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। • ভোক্তার স্বাধীনতা: 'A' দেশে ভোক্তার পূর্ণ স্বাধীনতা নেই; সে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা থাকার কারণে ভোক্তাগণ তাদের পছন্দ, রুচি ও আয় অনুযায়ী যেকোনো বৈধ দ্রব্য স্বাধীনভাবে ক্রয় ও ভোগ করতে পারেন। • মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া: 'A' দেশে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তে সরকার বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করে দেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থা বা চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রব্যের মূল্য নির্ধারিত হয়, তবে বিশেষ প্রয়োজনে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। পরিশেষে বলা যায়, 'A' দেশের অর্থব্যবস্থা যেখানে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ও ব্যক্তিস্বাধীনতাহীন, সেখানে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের এক অপূর্ব সমন্বয়। তাই 'A' দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার ব্যাপক ও মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
১৩৮.
দেশের স্বরূপ বর্ণ'A' না কর।
উত্তর: 'A' দেশের অর্থনৈতিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ বর্ণনা করা হলো: উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের অর্থব্যবস্থাটি মূলত সমাজতান্ত্রিক (Socialist) বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা। রুবেলের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, সেখানকার অর্থনীতিতে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ প্রকাশ করে:১. কাজ করেন, সেই কারখানার মালিকপক্ষকে কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে সরকারের অনুমতি নিতে হয়েছে। ২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ: এই অর্থব্যবস্থায় কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের প্রধান উপাদান বা সম্পদগুলোর ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না, বরং তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, রুবেল যে প্রতিষ্ঠানে হবে এবং কার জন্য হবে— তা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ বা সরকার নির্ধারণ করে। ৩. ভোক্তার স্বাধীনতার অভাব: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন ভোক্তা নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। সরকার মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে যে সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী বাজারে সরবরাহ করে, ভোক্তাকে তা থেকেই পছন্দ করতে হয়। উদ্দীপকে স্পষ্ট বলা আছে, রুবেল তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। অতএব, সরকারি নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং ভোক্তার সীমিত স্বাধীনতা— এই উপাদানগুলোর মাধ্যমে 'A' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
১৩৯.
'A' দেশে প্রচলিত অর্থনীতির সংজ্ঞা অর্থনৈতিক অর্থব্যবস্থার দাও।
উত্তর: 'A' দেশে প্রচলিত অর্থনীতি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সংজ্ঞা নিম্নরূপ: যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ তথা সমাজ বা রাষ্ট্রের সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় বা সমষ্টিগত মালিকানায় থাকে এবং সরকারি বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বলে।
১৪০.
অর্থনীতির প্রথম দিককার গ্রন্থখানি লেখ।
উত্তর: প্রথম অর্থনীতির গ্রন্থখানি হলো— অ্যাডাম স্মিথ-এর "An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations" (১৭৭৬)। দিককার
📖 একদিন আবির তার ছোট ভাই নাফিসকে বলছিল— "তুমি পত্রিক... একদিন আবির তার ছোট ভাই নাফিসকে বলছিল— "তুমি পত্রিকার পাতা উল্টালে দেখতে পাবে প্রতিদিন বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে নতুন নতুন মুদ্রা এবং ব্যাংক তৈরি হচ্ছে, আর এর মাঝখানে বিশাল সার্ভিস প্রদান করছে গ্লোবাল ব্যাংক। বর্তমানে আমাদের এই দেশ ও পিছিয়ে নেই। ভাবছি আমি তোমাকে একটা ল্যাপটপ কিনে দেব, যাতে তোমার শিক্ষা জীবনের পড়াশোনা করতে আরো উন্নতমানের করা যায়।"
১৪১.
"তুমি যে জ্ঞান অর্জন করেছো উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও বিষয় রয়েছে?" তোমার মতামত অনুযায়ী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে মানুষের দৈনন্দিন ও সমাজ জীবনের অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক কাজ কেবল ব্যাংক কিংবা মুদ্রা লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর বাইরেও অর্থনৈতিক জীবন ও ব্যবস্থার আরও বেশ কিছু দিক রয়েছে। যেমন— মানুষের বিভিন্ন প্রকার মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য মানুষকে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো গড়ে ওঠে। আবার, প্রতিটি মানুষের সমাজ ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মতাদর্শের অধীনে পরিচালিত হয়। যেমন— ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কিংবা মিশ্র সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই সকল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সাথে জড়িত উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ এবং সমাজ ব্যবস্থার অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদানসমূহও এর সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
১৪২.
উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক কোন বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক বিষয়টি মূলত মানুষ ও সমাজ জীবনের সাথে সম্পর্কিত। উদ্দীপকে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে নির্দেশ করা হয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের অগ্রগতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য যে কাজ করে, মূলত সেটাই মানুষের অর্থনৈতিক কাজ। উদ্দীপকে গ্লোবাল ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে এবং ব্যাংক মূলত একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা দেশের মানুষের অর্থনৈতিক কাজে সাহায্য করে। যেমন— ঋণ দেওয়া, আমানত গ্রহণ করা, সঞ্চয় জমানো এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগ করার জন্য মানুষের কাজের সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ ও সুবিধাজনক হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকে গ্লোবাল ব্যাংক ও নতুন নতুন মুদ্রার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৪৩.
জমিদারি প্রথা থেকে উৎপাদনশীল খাত কোনটি?
উত্তর: মানবজীবন অগ্রগতির অন্যতম মূলন্যায় হলো— শ্রমশক্তি ও উৎপাদনশীল খাতসমূহের মধ্যকার সমন্বয়ের রূপান্তর ঘটা। ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী উৎপাদন অর্থ হচ্ছে— এমন এক প্রকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদন সামগ্রী, যেমন জমি, কারখানা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে। পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদনকার্য পরিচালনা করা। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা নিজেদের লাভ ও মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিকদের নিয়োগ করে এবং তাদের শ্রমশক্তিকে ব্যবহার করে। পুঁজিবাদের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতার ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে।
১৪৪.
জমিদারি প্রথা থেকে উৎপাদনশীল খাত কোনটি?
উত্তর: জমিদারি প্রথা থেকে উৎপাদনশীল খাত হলো কৃষি।

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক)

📖 জুয়েল সেন একটি কারখানার শ্রমিক। তার কারখানার উৎপাদ... জুয়েল সেন একটি কারখানার শ্রমিক। তার কারখানার উৎপাদন মূলধন এবং সমস্ত বিষয়াবলি সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অপরপক্ষে, তার বন্ধু শ্যামলের দেশে সমস্ত উৎপাদন সংক্রান্ত কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। উৎপাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে সরকার কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে না।
১৪৫.
"উদ্দীপকে শ্যামলের দেশের প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে"— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামলের দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থায় দেশের জনগণ নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে। উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। এক্ষেত্রে উৎপাদকের উদ্দেশ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। ব্যক্তি সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করলে জাতীয় আয় বাড়ে। ফলে মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। উদ্দীপকে শ্যামলের দেশে সমস্ত উৎপাদনসংক্রান্ত কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ যেখানে ব্যক্তি তার মুনাফাকে সামনে রেখে উৎপাদন করে। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, শ্যামলের দেশে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেখানে দেশের প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে।
১৪৬.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: . উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েল সেনের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের ওপর সরকারের মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিদ্যমান। সে কারণে ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নেই। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় মুক্ত বাজারে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় না। বরং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দাম গ্রহণ করতে হয় এবং এ কারণে বেশি মুনাফার আশায় উৎপাদক ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারে না। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দেশের সকল কলকারখানা, খনিজ সম্পদ, জমি প্রভৃতি সামাজিক সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। উদ্দীপকে জুয়েল সেনের দেশে সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই, যা মূলত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বহন করে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েল সেনের দেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
১৪৭.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাগৃহপ্যতাকেই অর্থনীতিতে সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলে। মানুষের অভাব অসীম। এসব অভাব পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদের দরকার হয়। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় সম্পদ খুবই সীমিত। তাই সম্পদ স্বল্পতার সমস্যা দেখা দেয়। অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলতে সম্পদের স্বল্পতা বা অভাব পূরণের উপকরণের সীমাবদ্ধতাকেই বোঝায়।
১৪৮.
'Oikonomia' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: . 'Oikonomia' একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ স্থালির ব্যবস্থাপনা।
১.
"উদ্দীপকে শ্যামলের দেশের প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে"— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামলের দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থায় দেশের জনগণ নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে। উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। এক্ষেত্রে উৎপাদকের উদ্দেশ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। ব্যক্তি সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করলে জাতীয় আয় বাড়ে। ফলে মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। উদ্দীপকে শ্যামলের দেশে সমস্ত উৎপাদনসংক্রান্ত কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ যেখানে ব্যক্তি তার মুনাফাকে সামনে রেখে উৎপাদন করে। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, শ্যামলের দেশে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেখানে দেশের প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে।
২.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: . উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েল সেনের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের ওপর সরকারের মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিদ্যমান। সে কারণে ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নেই। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় মুক্ত বাজারে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় না। বরং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দাম গ্রহণ করতে হয় এবং এ কারণে বেশি মুনাফার আশায় উৎপাদক ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারে না। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দেশের সকল কলকারখানা, খনিজ সম্পদ, জমি প্রভৃতি সামাজিক সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। উদ্দীপকে জুয়েল সেনের দেশে সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই, যা মূলত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বহন করে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েল সেনের দেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
৩.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাগৃহপ্যতাকেই অর্থনীতিতে সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলে। মানুষের অভাব অসীম। এসব অভাব পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদের দরকার হয়। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় সম্পদ খুবই সীমিত। তাই সম্পদ স্বল্পতার সমস্যা দেখা দেয়। অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলতে সম্পদের স্বল্পতা বা অভাব পূরণের উপকরণের সীমাবদ্ধতাকেই বোঝায়।
৪.
'Oikonomia' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: . 'Oikonomia' একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ স্থালির ব্যবস্থাপনা।
১.
জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করতে চাচ্ছেন সে দেশের অর্থব্যবস্থা চিহ্নিতপূর্বক উক্ত অর্থব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ সাধিত হবে বলে কি তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করতে চাচ্ছেন তা হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ। উক্ত অর্থব্যবস্থায় অর্থাৎ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ সাধিত হবে না বলে আমি মনে করি। ধনতন্ত্রের অর্থনেতিক দর্শন অনুযায়ী, ব্যক্তির ইচ্ছামতো সম্পত্তি করায়ত্ত বা বৃদ্ধি করার ইচ্ছা তার কর্মোদ্যমের মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত এবং উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন, মানবকল্যাণ নয়। উৎপাদনের উপকরণসমূহের ব্যক্তিমালিকানা আইনের দ্বারা স্বীকৃত। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত হওয়ায় পুঁজিপতির সৃষ্টি হয়। মুনাফাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার ফলে পুঁজিপতিদের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয় বলে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রমিকশ্রেণির সৃষ্টি হয়। ধনতন্ত্রে শ্রমিকশ্রেণি অদৃশ্যভাবে পুঁজিপতিদের হাতে বন্দি। পুঁজিপতিরা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একজন শ্রমিকের যতটুকু মূল্য (Value added) হয়, মজুরি তা অপেক্ষা কম নির্ধারণ করে। উদ্দীপকে জনাব রাজীব সম্প্রতি এমন একটি দেশে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। প্রত্যেকে নিজের স্বার্থকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করেন। এসব বৈশিষ্ট্য ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় যেহেতু প্রত্যেকে নিজের স্বার্থকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে তাই এই অর্থব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ সাধন হবে না।
২.
জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশের অর্থব্যবস্থা কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জনাব রাজীব যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় উদ্যোগে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ অর্থব্যবস্থায় ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মতো সম্পত্তির ব্যক্তিমালিকানা, মুনাফা অর্জনের সুযোগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বাধীনতা স্বীকৃত। দেশের মৌলিক ও ভারী শিল্প, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। মিশ্র অর্থনীতিতে ধনতন্ত্রের ন্যায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার দ্বারা উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগ সম্পন্ন হয়। দ্রব্যের দাম তার চাহিদা ও জোগান দ্বারা নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকে জনাব রাজীবের দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবসায় পরিচালনা করা গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করে, যা মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সুতরাং দেখা যায়, জনাব রাজীবের দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
৩.
খ. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার অনুপস্থিতি কেন? ব্যাখ্যা
উত্তর: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যবসায় বাণিজ্যের সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র। তাই এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অনুপস্থিত। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে জাতীয় চাহিদা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের এবং সামাজিক মালিকানার অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফা থাকে না।
৪.
অর্থনীতি কাকে বলে?
উত্তর: যে শাস্ত্র মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি এবং সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের মধ্যে সমন্বয় সাধন সম্পর্কিত পঠন পাঠন ও বিশ্লেষণ করে তাকে অর্থনীতি বলে।
৫.
উদ্দীপকের 'খ' দেশে যে অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে তা চিহ্নিতপূর্বক উক্ত দেশে দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ভূমিকা আছে কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' দেশে যে অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে তা হচ্ছে মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থার দেশের দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা আছে। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ ও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি গণদ্রব্য ও সেবা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে দ্রব্যের মূল্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে দ্রব্যের উৎপাদন কিংবা ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। উদ্দীপকের সেলিম 'খ' দেশে বসবাস করেন এবং তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর বড় ছেলে সদ্য পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামের বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করেন। উদ্দীপকের এ বর্ণনার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে দ্রব্যমূল্যের একটা সীমানা নির্ধারণ করে দিতে পারে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে 'খ' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে যেখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ভূমিকা পালন করতে পারে।
৬.
'ক' দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের সম্পদ ও উৎপাদনের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে। শিল্পকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি নির্দেশেই পরিচালিত হয়। অর্থাৎ এখানে ব্যক্তিমালিকানার কোনো স্থান নেই। সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় শোষণের কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত উৎপাদিত দ্রব্যটি ভোগ করে থাকেন। কোনো ভোক্তা ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ ব্যয় করে কিছু ভোগ করতে পারেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন পরিচালিত হওয়ায় সেখানে বহু সংখ্যক বেসরকারি উদ্যোক্তার অবাধ প্রতিযোগিতা থাকে না। এছাড়া এ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না এবং কৃষিশিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান থাকে না। উদ্দীপকে 'ক' দেশের কারখানার মালিকেরা নিজের ইচ্ছামতো উৎপাদন কাজ পরিচালনা করতে পারেন না এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার সময় সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। উদ্দীপকের এ বিষয়টির সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, 'ক' দেশের সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। তাই 'ক' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
৭.
কানাডার মতো উন্নত দেশের মাথাপিছু আয় বেশি কেন?
উত্তর: কানাডার মতো উন্নত দেশে জাতীয় উৎপাদন অনেক বেশি বলে তাদের মাথাপিছু আয় বেশি। যেসব দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে এবং এই উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি অব্যাহত আছে এমন দেশকে উন্নত দেশ বলে। উন্নত দেশে ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগিয়ে অধিক উৎপাদন হয়, যার ফলে কানাডার মতো উন্নত দেশে মাথাপিছু আয় বেশি।
৮.
মুদ্রাস্ফীতি কী?
উত্তর: দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাই হলো মুদ্রাস্ফীতি।
৯.
জনাব 'খ'-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্যপূর্ণ কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: সঠিক নয়
১০.
জনাব 'ক'-এর দেশে যে ধরনের অর্থব্যবস্থা দেখা যায় তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . জনাব 'ক'-এর দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায়। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। ধনতান্ত্রিক দেশে কলকারখানা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনায় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। বাজারে চাহিদা ও জোগান দ্বারা দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক ভোক্তা তার নিজস্ব পছন্দ, ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকে জনাব 'ক' তাঁর নিজ দেশে পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। তাঁর দেখাদেখি তার কয়েকজন বন্ধু কারখানা স্থাপন করলেও সরকারি সরকার কোনোপ্রকার বিধিনিষেধ আরোপ করল না। এক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তার দেশে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য কোনো সরকারি বিধিনিষেধ নেই। যা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। সুতরাং দেখা যায়, জনাব 'ক'-এর দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাই এ দেশ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ।
১১.
অধ্যাপক এল. রবিন্স-এর অর্থনীতির সংজ্ঞাটি অধিক গ্রহণযোগ্য কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক এল. রবিন্স প্রদত্ত সংজ্ঞাটি সর্বাধিক বিজ্ঞানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অধ্যাপক এল. রবিন্স বলেন, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।" তিনি মানুষের অভাব পূরণের জন্য সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ জন্য অর্থনীতিবিদগণ তাঁর সংজ্ঞাকে বাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেছেন।
১২.
ইসলামী অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
১৩.
জামালের দেশের অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত'— উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে জামালের কারখানার উৎপাদিত পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়, যা সমাজতান্ত্রিক বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। তবে উদ্দীপকের উক্তিটিতে বলা হয়েছে 'জামালের দেশের অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত'— এই উক্তিটির সাথে পুরোপুরি একমত হওয়া যায় না। কারণ বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক নয়, বরং মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সম্পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক বা সম্পূর্ণ ধনতান্ত্রিক কোনো অর্থব্যবস্থাই এককভাবে উপযুক্ত নয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বেসরকারি উদ্যোগ ব্যাহত হয়, আবার ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিশ্র অর্থব্যবস্থাই সবচেয়ে উপযুক্ত, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি অবস্থান করে। এখানে ব্যক্তি যেমন স্বাধীনভাবে উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তেমনি জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা যেমন— যাতায়াত, জ্বালানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, কেবল জামালের দেশের সম্পূর্ণ রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থব্যবস্থা নয়, বরং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ও সহায়ক। ...প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। এর ফলে শ্রমিকদের প্রান্তিক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা তার আয় বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে। সুতরাং দেখা যায়, মোস্তফা সাহেবের প্রথম পদক্ষেপ অর্থাৎ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়।
১৪.
উদ্দীপকে জলির অর্থব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে জলির কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাজার চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং তা বেসরকারি মালিকানাধীন। এ বৈশিষ্ট্যটি মূলত ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এখানে বাজার ব্যবস্থার স্বাধীনতা থাকে এবং উৎপাদকের মূল লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা।
১৫.
"উৎপাদন উপাদানগুলোর বিকল্প ব্যবহার কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: উৎপাদনের উপকরণ বা উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) সাধারণত সীমিত এবং এদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে। এর অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট সম্পদ বা উপাদান একই সাথে একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। যেমন— একটি জমিতে ধান চাষ করা হলে একই সময়ে সেখানে গম চাষ করা সম্ভব নয়। তাই তীব্রতা বা গুরুত্ব অনুসারে সমাজকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, সম্পদটি কোন কাজে ব্যবহার করা সবচেয়ে লাভজনক বা বেশি জরুরি। বিকল্প ব্যবহারের ফলেই সীমিত সম্পদ দিয়ে সর্বোচ্চ অভাব পূরণ করা সম্ভব হয়।
১৬.
সুযোগ ব্যয় কাকে বলে?
উত্তর: কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ বা ভোগ ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগের পরিমাণ বা সুযোগকেই অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বলে।
১৭.
উদ্দীপকের কার্যাবলির মাধ্যমে কি এই ধরনের অর্থব্যবস্থার উন্নয়নশীলতা চিল তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হ্যাঁ, উদ্দীপকের কার্যাবলির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মিশ্র অর্থব্যবস্থাটি একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর এবং উন্নয়নশীল। মিশ্র অর্থনীতিতে একদিকে যেমন ব্যক্তিমালিকানা ও উদ্যোগের স্বাধীনতা থাকে, যা নতুন নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করে; তেমনি অন্যদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জনকল্যাণ সুনিশ্চিত হয়। বেসরকারি খাতের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন, আর সরকারি খাতের মূল উদ্দেশ্য থাকে জনগণের সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। এই দুই খাতের সুষম ও সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই একটি উন্নয়নশীল দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে ধাবিত হতে পারে, যা উদ্দীপকের মিশ্র অর্থনৈতিক কার্যাবলির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৮.
উদ্দীপকের মুনিক ও রানাকের দেশের অর্থব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মুনিক ও রানাকের দেশটিতে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মুনিক সরকারি বিমান সংস্থা (বাংলাদেশ বিমান)-এ টিকিট কাটে, যা রাষ্ট্রীয় খাতের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে রানাক বেসরকারি বিমান সংস্থা (নভোএয়ার)-এ টিকিট কাটে, যা বেসরকারি উদ্যোগের প্রকাশ ঘটায়। যেহেতু এই দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মালিকানা পাশাপাশি সহাবস্থান করছে, তাই এই দেশের অর্থব্যবস্থাটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা।
১৯.
"বিকল্প অর্থব্যবস্থা শিক্ষা চালাতে বা গিয়ে মাঠে চলতে হয়"— অর্থনৈতিক ইউনিক ও রচনাচক্র (এদের অর্থব্যবস্থার ধরন ব্যাখ্যা কর)।
উত্তর: সঠিক নয়
২০.
ইসলামি অর্থব্যবস্থা কী?
উত্তর: ইসলামী শরীয়াহ্র বিধি-বিধানের ওপর বিশ্বাসকে ভিত্তি করে মানুষের অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তোলার যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
২১.
জনাব আবুল হোসেনের অর্থনৈতিক কোন ধারণাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর এ সমস্যা দূর করতে পারবে বলে তুমি মনে কর? আলোচনা কর।
উত্তর: জনাব আবুল হোসেনের এই অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের সমস্যা দূর করতে হলে অর্থনীতির 'নির্বাচন বা বাছাই' (Choice) এবং 'সম্পদের দক্ষ বা বিকল্প ব্যবহার' ধারণাটি কাজে লাগাতে হবে। মানুষের জীবনে অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে তীব্রতা বা প্রয়োজনীয়তার আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে সবচেয়ে জরুরি অভাবগুলো প্রথমে পূরণ করতে হয় এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো পরবর্তীতে পূরণের জন্য স্থগিত রাখতে হয়। উদ্দীপকে আবুল হোসেনের যৌথ পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি এবং আয় কম হওয়ায় তাকে সংসার চালাতে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। তিনি যদি পরিবারের সকল অভাব একসাথে পূরণ করার চেষ্টা না করে, প্রথমে অভাবের তীব্রতা অনুযায়ী খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাছাই (নির্বাচন) করে পূরণ করেন এবং সীমিত সম্পদের সঠিক ও দক্ষ বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করেন, তবেই তাঁর এই পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
২২.
জনাব আবুল হোসেনের বর্ণিত সমস্যা সম্পদ ছাড়াও আর কোন উপাদানের অভাবের প্রকাশ তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায় যে, জনাব আবুল হোসেনের ক্ষেত্রে সম্পদ বা আয়ের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি 'জমির স্বল্পতা বা সীমাবদ্ধতা' ফুটিয়ে তুলেছে। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য ভূমি বা জমি অত্যন্ত মৌলিক একটি উপাদান। উদ্দীপকে আবুল হোসেন একজন দিনমজুর বা গরিব চাষা যার নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাকে অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। ফলে কঠোর পরিশ্রম করেও সে তার অসীম অভাব মেটাতে পারছে না। সুতরাং এখানে সম্পদের বা অর্থের অভাবের পাশাপাশি অন্যতম প্রধান উৎপাদন উপাদান 'ভূমি বা জমির' অভাবই তাঁর প্রধান অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার কারণ।
২৩.
অর্থব্যবস্থাকে কেন সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন?
উত্তর: ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় বা মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে অনেক সময় উৎপাদকেরা একচেটিয়া কারবার, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা সর্বোচ্চকরণের চেষ্টা করে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। এই ধরনের বাজার ব্যর্থতা দূরীকরণের লক্ষ্যে, দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অর্থনীতিতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
২৪.
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা কী?
উত্তর: যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে।
২৫.
ঘ. "সুমনের অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে"— ধারণাটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ...অভিজ্ঞতার নিরিখে বলা যায়, উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর মিশ্র অর্থব্যবস্থাই বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে দেশের আপামর জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক ও কল্যাণকর।
২৬.
সুমনের অভাব পূরণের ক্ষেত্রে কোনটি কার্যকর? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুমনের অভাব পূরণের ক্ষেত্রে অর্থনীতির 'নির্বাচন বা বাছাই' ধারণাটি কার্যকর। মানুষের জীবনে অভাব অসীম হলেও সম্পদ সীমিত হওয়ায় তীব্রতা অনুযায়ী জরুরি অভাবগুলো আগে পূরণ করতে হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
২৭.
মানুষ কেন অর্থনৈতিক কাজ করে?
উত্তর: মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান বা অভাবসমূহ মেটানোর লক্ষ্যেই মূলত অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে।
২৮.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়
উত্তর: মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
২৯.
সঠিক নয়
উত্তর: সঠিক নয়
৩০.
গ. জসীমের নির্দেশিত অর্থব্যবস্থাই আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত, জসীমের উক্তির কি তুমি মনে কর? সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায় যে, জসীম ও জলিলদের ক্ষেত্রে কলকারখানা তৈরির কোনো বিধিনিষেধ বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। যা মূলত ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত, যেখানে জসীমের নির্দেশিত অর্থব্যবস্থাই বাংলাদেশের জন্য একমাত্র উপযুক্ত ব্যবস্থা— এই উক্তির সাথে আমি একমত নই। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই
৩১.
সুযোগ ব্যয় বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ বা ভোগ ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগের পরিমাণ বা সুযোগকেই অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বলে।
৩২.
অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা, "অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।"
৩৩.
'Y' ও 'Z' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'Y' দেশটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার দেশ এবং 'Z' দেশটি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ। মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক পার্থক্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধরন: 'Y' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। অন্যদিকে, 'Z' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধরন হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। ২. সম্পদের মালিকানা: 'Y' দেশের তথা মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পদের রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত মালিকানা বিদ্যমান। অন্যদিকে, 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশের সম্পদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি মালিকানা বিদ্যমান। ৩. উদ্যোগ: 'Y' দেশের তথা মিশ্র উৎপাদন ব্যবস্থায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উভয় ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার শুধু সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে থাকে। ৪. ভোক্তার স্বাধীনতা: 'Y' দেশের তথা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। পক্ষান্তরে, 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশে ভোক্তার কোনো স্বাধীনতা নেই। ৫. স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা: 'Y' দেশের তথা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে, 'Z' দেশের তথা সমাজতান্ত্রিক দেশে দামব্যবস্থার কোনো অস্তিত্ব নেই। দেশের নাম অর্থনৈতিক অবস্থা X উৎপাদনের উদ্দেশ্য বেশি মুনাফা করা, ধনী ও দরিদ্র লোকদের আয়ের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি, রাষ্ট্র শুধু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি দেখাশোনা করে। Y ব্যক্তিমালিকানার কোনো অস্তিত্ব থাকে না, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
৩৪.
'X' দেশ কোন ধরনের অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: 'X' দেশ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে। ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সমাজের অধিকাংশ সম্পদ বা উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে। ব্যক্তি এগুলো হস্তান্তর ও ভোগ করে থাকে। ধনতন্ত্রে অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন— উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এসব উদ্যোগে সরকারের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এ ব্যবস্থায় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনে প্রথমে অনেক ফার্ম অবাধে প্রতিযোগিতা করে। ফলে তখন দ্রব্যের দাম কম থাকে এবং নতুন নতুন আবিষ্কার সম্ভব হয়। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষির মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। ধনতন্ত্রে উৎপাদক সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের জন্য উৎপাদন করে। প্রত্যেক ভোক্তা তার নিজস্ব পছন্দ, ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকে 'X' দেশের জনগণ ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ভোগ করে, যা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে বলা যায়, 'X' দেশ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে।
৩৫.
বাণিজ্যে সবাই কীভাবে উপকৃত হয়?
উত্তর: বাণিজ্যে সবাই বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সস্তায় গাড়ি তৈরি করে; তবে আমাদের রয়েছে সস্তায় পোশাক তৈরির সামর্থ্য। এখন আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সস্তা পোশাকের বিনিময়ে সস্তা গাড়ির বাণিজ্য করি তাহলে আমাদের উভয়েরই লাভ হবে। এভাবে বাণিজ্যে সবাই উপকৃত হয়।
৩৬.
অভাব নির্বাচন কী?
উত্তর: মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ অভাবের মধ্যে প্রয়োজনীয় ও অতি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো বাছাই করার প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।m
৩৭.
'Y' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি চিহ্নিত করে তার বৈশিষ্ট্যের ওপর আলোকপাত কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'Y' দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকের 'Y' দেশে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ রয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। নিচে মিশ্র অর্থব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো: ১. সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান: এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি যেমন নিজের কলকারখানা ও সম্পত্তি গড়ে তুলতে পারে, তেমনি পাশাপাশি রাষ্ট্রও জাতীয় স্বার্থে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। ২. ভোক্তার স্বাধীনতা: মিশ্র অর্থনীতিতে ভোক্তা তার আয় ও রুচি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈধ দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ৩. স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা: অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্রব্যের মূল্য বাজার চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে নির্ধারিত হলেও জনস্বার্থে সরকার মূল্যস্তর নির্ধারণ বা বাজার মনিটরিং করার ক্ষমতা রাখে। ৪. মুনাফা অর্জন ও জনকল্যাণ: বেসরকারি খাতের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা সর্বোচ্চকরণ, অন্যদিকে সরকারি খাতের মূল উদ্দেশ্য থাকে জনগণের সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
৩৮.
উদ্দীপকে 'X' দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে 'X' দেশে ধনтическая বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। উদ্দীপকে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, 'X' দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে পছন্দানুযায়ী উৎপাদন ও ভোগ করতে পারে এবং সেখানে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাজার প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাই এটি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল রূপকে নির্দেশ করে।
৩৯.
উৎপাদন উপাদানগুলোর বিকল্প ব্যবহার কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: উৎপাদনের উপকরণ বা উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) সাধারণত সীমিত এবং এদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে।এর অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট সম্পদ বা উপাদান একই সাথে একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায় না। যেমন— একটি জমিতে ধান চাষ করা হলে একই সময়ে সেখানে গম চাষ করা সম্ভব নয়। তাই তীব্রতা বা গুরুত্ব অনুসারে সমাজকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, সম্পদটি কোন কাজে ব্যবহার করা সবচেয়ে লাভজনক বা বেশি জরুরি। বিকল্প ব্যবহারের ফলেই সীমিত সম্পদ দিয়ে সর্বোচ্চ অভাব পূরণ করা সম্ভব হয়।
৪০.
সুযোগ ব্যয় কাকে বলে?
উত্তর: ক. কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ বা ভোগ ত্যাগ করতে হয়, এই ত্যাগের পরিমাণ বা সুযোগকেই অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় বলে।
৪১.
চিত্র-৩ ও চিত্র-৪ এর মধ্যে কোনটি অর্থনীতির দৃষ্টিতে অধিক যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।
উত্তর: . উদ্দীপকের চিত্র-৩ ও চিত্র-৪ এর মধ্যে চিত্র-৪ (কোভিড-১৯ এর সময় সরকারের ভর্তুকি প্রদান) অর্থনীতির দৃষ্টিতে অধিক যুক্তিযুক্ত। নিচে আমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো— চিত্র-৩ এ দেখানো হয়েছে যেখানে প্রতিযোগিতা বা বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একচেটিয়া বা অসম প্রতিযোগিতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা অনেক সময় সাধারণ ভোক্তা বা ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। পক্ষান্তরে, চিত্র-৪ এ কোভিড-১৯ এর মতো বৈশ্বিক অতিমারী বা চরম সংকটের সময়ে সরকার কর্তৃক উৎপাদনকালীন বাজারে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও উৎপাদন সচল রাখার জন্য ভর্তুকি বা প্রণোদনা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। মিশ্র বা কল্যাণমুখী অর্থব্যবস্থায় যেকোনো চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় বা মন্দা দূরীকরণে সরকারের এই ধরনের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের ভর্তুকি প্রদানের ফলে কলকারখানার উৎপাদন খরচ কমে, উৎপাদকরা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারে এবং পণ্যসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। এটি যেমন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সাহায্য করে, তেমনি জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অতএব, সামগ্রিক জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে চিত্র-৪ এর পদক্ষেপটি অর্থনীতির দৃষ্টিতে অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৪২.
চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর বিষয় দুটি কোন অর্থনৈতিক ধারণাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গ. উদ্দীপকের চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর বিষয় দুটি অর্থনীতির 'অভাব নির্বাচন ও পছন্দ' এবং 'স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা' ধারণাকে নির্দেশ করে। চিত্র-১ এ দেখা যায় আবিরের বাবা তাকে মোটরের পোশাক কিনে দিতে চাইল, যা মানুষের অসীম অভাবের মধ্যে তীব্রতা অনুসারে বিশেষ কোনো একটি অভাব পূরণের প্রয়াস বা নির্বাচনকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে চিত্র-২ এ পোশাকের দাম নির্ধারিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি দেখানো হয়েছে, যা মূলত মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষি বা চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত মূল্য বা দাম ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।
৪৩.
উৎপাদন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাধারণত উৎপাদন বলতে কোনো কিছু সৃষ্টি করাকে বোঝায়। তবে অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকে বোঝায়।আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে তার নতুন উপযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। যেমন— কাঠ থেকে মানুষ নতুন কোনো পদার্থ সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারে না, কেবল প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদের রূপ বা চেয়ার-টেবিল তৈরি করা হলে তার উপযোগ বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনীতিতে উৎপাদন হিসেবে পরিচিত।
৪৪.
অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো— অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।
৪৫.
খ দেশের অর্থব্যবস্থাটিই কি এ দেশের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধর।
উত্তর: উদ্দীপকের জনাবে আকরাম চৌধুরী তার শ্রমিকদের ভালো কাজের জন্য বোনাস বা বোনাসের অতিরিক্ত অংশ ঘোষণা দিয়েছেন, যা কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরি এবং লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর ফলে শ্রমিকদের কাজের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মালিকের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যার ফলে অতিরিক্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এবং মানুষ আনন্দ পাবে। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়। যা উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপ কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।
৪৬.
উদ্দীপকের ক দেশে কোন ধরণের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে জনাবে আকরাম চৌধুরী তার শ্রমিকদের ভালো কাজের জন্য বোনাস বা বোনাসের অতিরিক্ত অংশ ঘোষণা দিয়েছেন, যা কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরি এবং লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর ফলে শ্রমিকদের কাজের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মালিকের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যার ফলে অতিরিক্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এবং মানুষ আনন্দ পাবে। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়। যা উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপ কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।
৪৭.
মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় অভাবের কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়।
৪৮.
অর্থনৈতিক দুষ্প্রাপ্যতা কাকে বলে?
উত্তর: . মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
৪৯.
মি. Y-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য আছে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে মি. Y এর দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর আমরা জানি, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থাও হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। তাই মি. Y এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বাংলাদেশ ইত্যাদি। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকের মি. Y এর দেশেও ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে, তবে সরকার ধারাবাহিক উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থাৎ এতে ব্যক্তিস্বাধীনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও রয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির মূল রূপ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ঠিক একই নীতি অনুসরণ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, মি. Y-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
৫০.
মি. X-এর দেশে কোন ধরণের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে মি. X-এর দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা ন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এসব মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পদ বা অর্থের প্রয়োজন হয়। আর সেই প্রয়োজনীয় সম্পদ বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই মানুষকে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল, বাণিজ্যিক বা সেবাধর্মী অর্থনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হতে হয়। বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, বরং সমাজ বা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তাদের ইচ্ছামতো ভোগের স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. X-এর দেশে রাষ্ট্রের সকল কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং ভোক্তারা স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে পছন্দমতো কোনো দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। তাছাড়া সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
৫১.
মানুষ অর্থনৈতিক কাজ কেন করে?
উত্তর: . মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান বা অভাবসমূহ মেটানোর লক্ষ্যেই মূলত অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে।
৫২.
মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে
উত্তর: মূল্যস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। সাধারণ
৫৩.
. জনাব আকরাম চৌধুরী গৃহীত পদক্ষেপটি কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কীরূপ ভূমিকা রাখবে? ঘটনা-২ এর আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপটি কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো— অর্থনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো— "মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়" (People respond to incentives)। কোনো কাজে মানুষ অতিরিক্ত সুবিধা বা প্রণোদনা পেলে কাজটি অধিকতর যত্ন ও আগ্রহের সাথে সম্পন্ন করে। প্রণোদনা হলো মানুষের কাজের গতি বাড়ানোর একটি অতিরিক্ত উৎস। উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরী তাঁর শ্রমিকদের অতিরিক্ত শ্রমের বিনিময়ে তিনগুণ মজুরি এবং কোম্পানির লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অর্থনৈতিক প্রণোদনার ফলে শ্রমিকদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিকরা কারখানাকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে সর্বোচ্চ শ্রম দিতে উদ্বুদ্ধ হবে, যা শেষ পর্যন্ত কারখানার সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখবে। সুতরাং বলা যায়, জনাব আকরাম চৌধুরীর এই কল্যাণকর উদ্যোগটি "মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়" নীতি অনুসরণ করে কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ...উদহারণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের বাসের ভাড়া যদি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট না হয়ে বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো তাহলে তা জনগণের স্বার্থ বিরোধী হতো। তবে বাংলাদেশে এইক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করে ভাড়া জনবান্ধব করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্দীপকে জনাবে আকরাম চৌধুরী তার শ্রমিকদের ভালো কাজের জন্য বোনাস বা বোনাসের অতিরিক্ত অংশ ঘোষণা দিয়েছেন, যা কারখানায় কোনো শ্রমিক অতিরিক্ত শ্রম দিলে তাকে তিনগুণ মজুরি এবং লভ্যাংশের অংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর ফলে শ্রমিকদের কাজের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মালিকের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। যার ফলে অতিরিক্ত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এবং মানুষ আনন্দ পাবে। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়। যা উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জনাব আকরাম চৌধুরীর গৃহীত পদক্ষেপ কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে।
৫৪.
. উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ অর্থনীতির কোন মৌলিক নীতিটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ অর্থনীতির "কোনো কিছু পেতে হলে অন্য একটি জিনিস ত্যাগ করতে হয়" (People face trade-offs) মৌলিক নীতিটি প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সময় দিয়ে কোনো একটি দ্রব্যের ভোগ বৃদ্ধি করতে গেলে অন্য দ্রব্যের ভোগ যতটুকু ছাড়তে হয়, তাকেই সুযোগ ব্যয় বলে। উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ সাধারণ ক্রিকেট ম্যাচ দেখা পছন্দ করলেও বাবার আদেশে তাকে ম্যাচ দেখা বাদ দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। অর্থাৎ তাকে পড়াশোনার জন্য ম্যাচ দেখার আনন্দ ত্যাগ করতে হয়েছে। যা অর্থনীতির "কোনো কিছু পেতে হলে অন্য একটি জিনিস ত্যাগ করতে হয়" বা Trade-off নীতিকে নির্দেশ করে।
৫৫.
সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।
৫৬.
বেকার কাকে বলে?
উত্তর: কোনো ব্যক্তি প্রচলিত বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না— এমন পরিস্থিতিকে বেকার বলা হয়।
৫৭.
সঠিক নয়
উত্তর: সঠিক নয়
৫৮.
উদ্দীপক-২-এ যে অর্থব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে, তা কি জনকল্যাণের জন্য কলকারখানার স্বৈরাচারী রূপ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপক-২-এ 'X' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে জনকল্যাণের জন্য কলকারখানার স্বৈরাচারী রূপ বলা যায় না। এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো— সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র বা সমাজ। এখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে সমাজ তথা জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই মূল লক্ষ্য থাকে। এ ব্যবস্থায় কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে হবে এবং কার জন্য বণ্টিত হবে— তা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ বা সরকার সমাজকল্যাণকে সামনে রেখে নির্ধারণ করে দেয়। উদ্দীপকে নুশরাত সুলতানা 'X' দেশে বেড়াতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জ্যাকেট কিনতে চাইলে দোকানদার তা দিতে পারেনি এবং জানায় যে, সরকারের অনুমতি ব্যতীত দেশে কোনো পণ্য উৎপাদন করা যায় না। অর্থাৎ, সেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা ও অবাধ ভোগের সুযোগ সীমিত থাকায় বাহ্যিকভাবে একে স্বৈরাচারী মনে হতে পারে; কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং সম্পদের সুষম বণ্টন করা। অতএব বলা যায়, 'X' দেশের অর্থব্যবস্থাটি স্বৈরাচারী নয়, বরং এটি একটি সমাজকল্যাণমুখী ও পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা।
৫৯.
উদ্দীপক-১ এ উল্লিখিত দেশটিতে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপক-১ এ উল্লিখিত দেশটিতে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থায় মুক্ত বাজারে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় এবং ভোক্তার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। উদ্দীপক-১ এ দেখা যায়, সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় না এবং উচ্চ আয়ের ভোক্তারা তাদের পছন্দমতো দ্রব্য ভোগ করতে পারেন। এ বৈশিষ্ট্যগুলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অনুরূপ।
৬০.
অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: ক. অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা, "অর্থনীতি এমন একটি বজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।" ...হয়ে থাকে। যে পরিকল্পনা অনুসারে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া হয় না। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে কারখানাও স্থাপন করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিগত লাভের কোনো সুযোগ থাকে না। উৎপাদন পরিচালিত হয় সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে। উদ্দীপকে 'খ' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আমি 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না এবং ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থায় দেশের সকল কলকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক হলো সরকার। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে তা নির্ধারিত হয়। 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে আমার সমর্থনের কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষণহীন সমাজ গঠন: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজকে শোষণমুক্ত করা সম্ভব হয়। ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: এই ব্যবস্থায় উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুষমভাবে বণ্টিত হয়, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিশ্চিত ভূমিকা রাখে। ৩. বেকারত্ব দূরীকরণ: সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পায়।
৬১.
উদ্দীপকের মিতুর দেশের অর্থব্যবস্থায় 'ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সামাজিক স্বার্থ বা জনকল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে'— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মিতুর দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সামাজিক স্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো— সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না; সমস্ত সম্পদের মালিক হলো রাষ্ট্র। এই ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিগত মুনাফা বা শোষণের সুযোগ থাকে না। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে হবে এবং কার মধ্যে বণ্টিত হবে। উৎপাদকের মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত লাভ বা সম্পদ পাহাড় করা নয়, বরং সমাজের সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করা। উদ্দীপকে মিতুর দেশের সরকার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো কারখানা করতে দেয়নি, কারণ সেখানে সবকিছু রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় সরকার পূর্ণ কর্মসংস্থান, নিখরচায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে। পরিশেষে বলা যায়, মিতুর দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা ও মুনাফাখোরী দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
৬২.
দৃশ্যপট-১ এর অর্থনৈতিক অর্থব্যবস্থার ধরন বর্ণনা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, বরং সমাজ বা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তাদের ইচ্ছামতো ভোগের স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিতু ও তার বান্ধবী ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চাইলে সরকার তা অনুমোদন করেনি। তাদের দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎপাদন করার কোনো সুযোগ নেই এবং সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
৬৩.
সরকার কীভাবে বাজারব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন করতে পারে?
উত্তর: বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সরকার নানা ধরনের আইনি ও নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বাজারব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন করতে পারে।সাধারণত মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে একচেটিয়া কারবার, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এমতাবস্থায় সরকার ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় আইন প্রণয়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ (Price Ceiling), বাজার মনিটরিং এবং ভ্যাট বা শুল্ক হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারব্যবস্থার কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।
৬৪.
মুদ্রাস্ফীতি কী
উত্তর: . সাধারণ মূল্যস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
৬৫.
"তুমি যে জ্ঞান জনিকে অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর। অর্জন করেছো উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় ছাড়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও বিষয় রয়েছে"— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে মানুষের দৈনন্দিন ও সমাজ জীবনের অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক কাজ কেবল অভাব পূরণ কিংবা পছন্দ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর বাইরেও অর্থনৈতিক জীবন ও ব্যবস্থার আরও বেশ কিছু দিক রয়েছে। যেমন— মানুষের বিভিন্ন প্রকার মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য মানুষকে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো গড়ে ওঠে। আবার, প্রতিটি মানুষের সমাজ ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মতাদর্শের অধীনে পরিচালিত হয়। যেমন— ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কিংবা মিশ্র সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই সকল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সাথে জড়িত উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ এবং সমাজ ব্যবস্থার অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদানসমূহও এর সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ...উদ্দীপকের করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অর্থাৎ তাঁর সমগোত্রীয় ধারণার অর্থব্যবস্থা যেখানে সমষ্টিগত মালিকানা ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়, তা মূলত সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থারই বৈশিষ্ট্য।
৬৬.
জনিকে অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে জনিকে অভাবের তীব্রতা তীব্র করে আরও অনেক অভাবের মধ্যে বাছাই করতে হয়েছে— ধারণাটি মূলত অর্থনীতিতে 'অভাব নির্বাচন ও পছন্দ' (Choice) ধারণাকে নির্দেশ করে। মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় অভাবের কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। তখন মানুষকে তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। উদ্দীপকে জনির অনলাইন ক্লাসের জন্য সাইকেল বা স্কুল ড্রেসের প্রয়োজন হলেও বাবার পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি জনিকে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সাইকেলের অভাবটি পরে পূরণের সিদ্ধান্ত নেন। এখানে সাইকেলের চেয়ে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে, যা অর্থনীতির 'পছন্দ বা নির্বাচন' ধারণাকে নির্দেশ করে।
৬৭.
বাণিজ্য দ্বারা মানুষ কীভাবে উপকৃত হয়?
উত্তর: ans no
৬৮.
.অধ্যাপক রবিন্সের অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: . অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের মতে, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।"
৬৯.
তুমি কি 'খ' দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে 'খ' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আমি 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না এবং ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থায় দেশের সকল কলকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক হলো সরকার। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে তা নির্ধারিত হয়। 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে আমার সমর্থনের কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষণহীন সমাজ গঠন: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজকে শোষণমুক্ত করা সম্ভব হয়। ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: এই ব্যবস্থায় উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুষমভাবে বণ্টিত হয়, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিশ্চিত ভূমিকা রাখে। ৩. বেকারত্ব দূরীকরণ: সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পায়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি কল্যাণমুখী ও পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা যা দেশের আপামর জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই আমি 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি।
৭০.
দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকে 'ক' দেশে সম্পদ, উৎপাদন ও অন্যান্য উপকরণের ওপর ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করছে, তাই এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে।
৭১.
. সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝামায়?
উত্তর: . মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে।
৭২.
র্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো— অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।
৭৩.
. 'A' দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: ans no
৭৪.
. 'A' দেশে প্রচলিত অর্থব্যবস্থার স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ans no
৭৫.
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর: ans no
৭৬.
অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: ans no
৭৭.
উক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই কি সবচেয়ে উত্তম বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে জামিল সাহেবের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেশের উন্নয়নের জন্য কল্যাণকর হওয়ায় এই অর্থব্যবস্থা অধিক গ্রহণযোগ্য। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় উৎপাদন মুনাফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। মুনাফার প্রত্যাশায় উদ্যোক্তারা ঝুঁকি গ্রহণ করে এবং নতুন নতুন দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে। ফলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় বিভিন্ন উৎপাদনকারীর মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিরাজ করে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কম হয় এবং দ্রব্যমূল্য হ্রাস পায়। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় প্রত্যেকে ভোক্তা স্বাধীনভাবে তার রুচি ও ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারে। যা ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতীক খাদক ও বিক্রেতাগণ নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে। এতে একচেটিয়া একনায়কতন্ত্র হ্রাস পায়। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা অনুপস্থিত, যা সম্পদশালী ব্যক্তিদের নতুন কলকারখানা স্থাপনে নিরুৎসাহিত করতে পারে। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত আয়ের কোনো সুযোগ থাকে না। উপরন্তু, উৎপাদন প্রক্রিয়াসহ ভোক্তাদের ভোগও সরকার নির্ধারণ করে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভোক্তার স্বাধীনতা হ্রাস পাওয়ায় এই অর্থব্যবস্থার ধারণায় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ব্যাহত হয়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মনির দেশের তুলনায় জামিল দেশের অর্থব্যবস্থা অপেক্ষা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা অধিক কল্যাণকর।
৭৮.
উদ্দীপকে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে তা উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবাধে ভোগ করতে পারে ও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি গণদ্রব্য (মহাসড়ক) ও সেবা (স্বাস্থ্যসেবা) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রধানত সরকার পরিচালনা করে। উদ্দীপকে লিটু সরকারি বিমানের টিকিট কাটে, যা সম্পত্তির সরকারি মালিকানাকে নির্দেশ করে। আবার টিটু বেসরকারি বিমানের টিকিট কাটে, যা সম্পত্তির বেসরকারি মালিকানাকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ দেশটিতে সম্পত্তির সরকারি এবং বেসরকারি উভয় মালিকানা সহাবস্থান করে। উদ্দীপকের দেশটিতে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় মালিকানা বিরাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৭৯.
অ্যাডাম স্মিথকে অর্থনীতির জনক বলা হয় কেন?
উত্তর: . অ্যাডাম স্মিথের একটা বইয়ের মাধ্যমে অর্থনীতি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তাই তাকে অর্থনীতির জনক বলা হয়। প্রাচীন এবং মধ্যযুগে অর্থনীতিবিষয়ক আলোচনা ক্রমশ নানা বিষয়ের সমন্বয়ে জটিল হতে থাকে। রাজনৈতিক অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়, যখন ইংরেজি অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে তাঁর বিখ্যাত বই "An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations" রচনা করেন। আধুনিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি অ্যাডাম স্মিথের এ বইটি। তাই অ্যাডাম স্মিথকে অর্থনীতির জনক বলা হয়।
৮০.
অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো— অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে। অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় মানুষের অর্থ উপার্জনের এবং অভাব মোচনের জন্য সেই অর্থর ব্যয় অর্থাৎ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন।
৮১.
আলোকে তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।. তুমি কি মনে কর, প্রাণ ম্যাংগো জুস ও জামাল এবং কামালের পরিবার পরস্পর নির্ভরশীল? উদ্দীপকের
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২ এ আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে। হ্যাঁ, আমি মনে করি, প্রাণ ম্যাংগো জুস ও কামাল এবং কামালের পরিবার পরস্পর নির্ভরশীল। অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি থাকে। যথা— ফার্মসমূহ ও পরিবারসমূহ। ফার্ম বা ফার্মের মালিকরা উৎপাদনের উপাদানগুলো ক্রয় করেন। পরিবারসমূহ তাদের আয়-উপার্জনের সাহায্যে ফার্মের কাছ থেকে ক্রয় করেন দ্রব্য বা সেবা। এভাবে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা এবং আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহের মাধ্যমে সমগ্র অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। একেই আমরা নাম দিয়েছি "আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ।" উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি রয়েছে। যথা— প্রাণ ম্যাংগো জুস ও কামাল এবং কামালের পরিবার। প্রাণ ম্যাংগো জুসের মালিক কামাল ও কামালের পরিবারের কাছ থেকে জুস ফ্যাক্টরির জন্য শ্রমিক ক্রয় করে। উৎপাদনের উপাদানগুলো সংগঠিত জুস উৎপাদন করে এবং সেগুলোই জুসের বাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে, কামাল ও কামালের পরিবার তাদের শ্রম বিক্রি করে আয় করে। পরিবার তাদের আয়-উপার্জনের সাহায্যে জুসের বাজার থেকে জুস ক্রয় করে। এভাবে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা এবং আয়ের মাধ্যমে পরস্পর নির্ভরশীল থাকে। আর এ নির্ভরশীলতা অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। সুতরাং বলা যায়, প্রাণ ম্যাংগো জুস ও কামাল এবং কামালের পরিবার পরস্পর নির্ভরশীল।
৮২.
. দৃশ্যপট-১ দ্বারা অর্থনীতির কোন নীতিটি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর.
উত্তর: উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ দ্বারা অর্থনীতির "সমাজে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মধ্যে স্বল্পকালীন বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে" নীতিটি নির্দেশিত হয়েছে। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। আর কোনো শ্রমিক বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না— এরা হলো বেকার। সাধারণত অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমলে বেকারত্ব বাড়ে। আবার মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বেকারত্ব কমে। উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ এ ছকের মাধ্যমে মূল্যস্তর এবং কর্মহীন লোকের হারের মধ্যকার সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। লক্ষ করা যায়, মূল্যস্তর বাড়লে কর্মহীন লোকের হার কমে, আবার মূল্যস্তর কমলে কর্মহীন লোকের হার বাড়ে। অর্থাৎ মূল্যস্তর ও কর্মহীন লোকের হারের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে মূল্যস্তর ২০% হলে কর্মহীন লোকের হার ১২% হয়। মূল্যস্তর বেড়ে ২৫% হলে, কর্মহীন লোকের হারের সংখ্যা কমে ৮% হয়। আবার মূল্যস্তর আরও বেড়ে ৩০% হলে কর্মহীন লোকের হারের সংখ্যা আরও কমে ৫% হয়। অর্থাৎ মূল্যস্তরের হার যত বাড়তে থাকে, কর্মহীন লোকের হার তত কমতে থাকে। যা অর্থনীতির "সমাজে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মধ্যে স্বল্পকালীন বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে" নীতিকে নির্দেশ করে।
৮৩.
প্রণোদনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে কীরূপ ভূমিকা পালন করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . প্রণোদনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ প্রণোদনা দিলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিতে প্রতিটি কাজের জন্য উৎসাহ বা প্রণোদনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কাজে মানুষ প্রণোদনা পায় বলে কাজটি অধিকতর যত্নের সাথে করে। তখন কাজটি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। প্রণোদনা হলো একটি অতিরিক্ত প্রাপ্তি। আর এ অতিরিক্ত প্রাপ্তির জন্য মানুষ প্রণোদনায় সাড়া দেয়।
৮৪.
নির্বাচন কী?
উত্তর: অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিপ্রয়োজনীয় অভাবগুলো মানুষ অগ্রাধিকারভিত্তিতে পূরণ করে। এটাই হলো অভাব নির্বাচন বা বাছাই।
৮৫.
তুমি কি মজিদের দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের সাজিদ যে দেশে বসবাস করে সেই দেশটি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশ। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কী উৎপাদন হবে, তা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। এখানে সমস্ত সম্পদ ও উৎপাদন উপকরণের মালিক হচ্ছে রাষ্ট্র বা সমাজ। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত বিচারে কী উৎপাদিত হবে, তার জন্য কী প্রযুক্তি বাছাই হবে, কার কী দাম হবে, কার কী আয় ও ভোগ হবে ইত্যাদি সব নির্ধারণ করে দেয়। তাদের এ আদেশ অনেকটা আইনের মতো সকল অর্থনৈতিক খেলোয়াড়কে মেনে চলতে হয়। তাই এ ব্যবস্থাকে নির্দেশমূলক ব্যবস্থা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে জাতীয় চাহিদা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের এবং সামাজিক মালিকানার অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফা থাকে না।
৮৬.
উদ্দীপকের মারুফের দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে মাজেদের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ধরনের অর্থব্যবস্থাকে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বলে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমগ্র ইউরোপে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির সূত্রপাত ঘটে। এ অর্থব্যবস্থায় বাজার দ্বারাই উপকরণের মালিকদের এবং ক্রেতা-বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং উৎপাদনের বণ্টন কী রকম হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা হচ্ছেন ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত সম্পদের তথা উৎপাদন উপকরণের ব্যক্তি মালিক এবং বাজারে তাদের আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমেই এসবের দাম ও অন্য সবকিছু নির্ধারিত হয়। 'X' দেশের নাগরিক জনাব মাজেদের দেশে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। তাছাড়া উক্ত দেশটিতে জনগণের মধ্যে আয় বৈষম্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সমস্ত বৈশিষ্ট্য ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মাজেদের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
৮৭.
কীভাবে বাণিজ্যবাদ সবাইকে উপকৃত করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে বাণিজ্যে সবাই উপকৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সস্তায় গাড়ি তৈরি করে। অন্যদিকে তবে আমাদের রয়েছে সস্তায় পোশাক তৈরির সামর্থ্য। এখন আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সস্তায় পোশাকের বিনিময়ে সস্তা গাড়ির বাণিজ্য করি তাহলে আমাদের উভয়েরই লাভ হবে।
৮৮.
মিশ্র অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।
৮৯.
উদ্দীপক-২ এর ঘটনাটি কোন ধরনের অর্থনৈতিক মতাদর্শকে নির্দেশ করে? তোমার মতামতের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: . উদ্দীপক-২ এর ডালিম চাষের ঘটনাটি মূলত কল্যাণমুখী বা সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মতাদর্শের দিকে ইঙ্গিত করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো— উদ্দীপকে রিপন ডালিম চাষ করে মোট মুনাফা অর্জন করার পর, সেই মুনাফার একটি বড় অংশ নিজের ভোগের জন্য ব্যবহার না করে এলাকার দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার কাজে ব্যয় করেন। সাধারণত ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত লাভ বা মুনাফা অর্জন করাই মূল লক্ষ্য থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক বা কল্যাণমুখী অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামাজিক কল্যাণ ও মানবসেবাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রিপনের কাজের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা সর্বোচ্চকরণ ছিল না, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করা। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা মূলত কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, রিপনের এই কল্যাণকর উদ্যোগটি সমাজের বৈষম্য দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, যা সমাজতান্ত্রিক ও কল্যাণধর্মী অর্থনীতির মূল লক্ষ্য।
৯০.
. উদ্দীপক-১ এ অর্থনীতির যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপক-১ এ বাদলের বর্ণিত অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ও নীতিসমূহ প্রতিফলিত হয়েছে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদল তাঁর পোশাক কারখানার মালিক। তিনি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান ঠিক রাখতেন এবং বিক্রয় মূল্য কম রাখতেন। তাছাড়া পরিবেশের ক্ষতি যেন না হয়, সেজন্য কারখানায় ইটিপি স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ, এখানে ব্যক্তিগত মালিকানা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, যা ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থারই মূল পরিচয় বহন করে।
৯১.
অর্থনীতির দুই ধরনের প্রতিনিধির নাম লেখ।
উত্তর: খ. প্রতিনিধি অর্থনীতিতে দুই ধরনের থাকে। যথা— পরিবারসমূহ ও ব্যবসায়সমূহ (ফার্ম)।
৯২.
অ্যাডাম স্মিথের কী বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম
উত্তর: . অ্যাডাম স্মিথের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম হলো— "An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations"।
৯৩.
তুমি কি 'B' দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকের 'B' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। আমি 'B' দেশের অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত কোনো মালিকানা থাকে না এবং ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো স্থান নেই। এই ব্যবস্থায় দেশের সকল কলকারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক হলো সরকার। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে তা নির্ধারিত হয়। 'B' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পক্ষে আমার সমর্থনের কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো: ১. শোষণহীন সমাজ গঠন: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার সুযোগ না থাকায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজকে শোষণমুক্ত করা সম্ভব হয়। ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: এই ব্যবস্থায় উৎপাদিত সম্পদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সুষমভাবে বণ্টিত হয়, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিশ্চিত ভূমিকা রাখে। ৩. বেকারত্ব দূরীকরণ: সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে, যার ফলে দেশে বেকারত্বের হার হ্রাস পায়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি কল্যাণমুখী ও পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা যা দেশের আপামর জনসাধারণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই আমি 'B' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে সমর্থন করি। ...অনুমতি নিয়ে মি. মামুন তাঁর শ্রেণি (অন্যপক্ষে 'B' দেশের খনিজ খনির ব্যবস্থাপক) খনির কাজ পরিচালনা করছেন। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া হয় না। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে কারখানাও স্থাপন করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিগত লাভের কোনো সুযোগ থাকে না। উৎপাদন পরিচালিত হয় সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে। উদ্দীপকের মি. মামুন 'A' দেশে বাস করেন। তিনি সেখানকার কলকারখানা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো চালাতে পারেন না, সেখানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি মেনে উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালনা করতে হয়। আবার অন্যদিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, জনগণ সেখানে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও উপভোগ করে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করছে, তাই এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, মি. মামুন ও ডনের অর্থব্যবস্থা মিশ্র অর্থব্যবস্থা এবং 'B' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক ও নীতিগত পার্থক্য বিদ্যমান।
৯৪.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের অর্থব্যবস্থা অর্থনীতির ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: . উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একইসাথে ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করে। এই অর্থব্যবস্থায় একদিকে যেমন ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বজায় থাকে, তেমনি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে। উদ্দীপকে মি. মামুন 'A' দেশে বাস করেন। তিনি সেখানকার কলকারখানা সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো চালাতে পারেন না, সেখানে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিয়মনীতি মেনে উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালনা করতে হয়। আবার অন্যদিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, জনগণ সেখানে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার মতো কতগুলো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও উপভোগ করে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি অবস্থান করছে, তাই এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে।
৯৫.
দুষ্প্রাতা বলতে প্যকী বোঝায়?
উত্তর: . মানুষের অসীম অভাব পূরণের জন্য সম্পদের সীমিত প্রাপ্যতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।
৯৬.
. অর্থনীতিবিদেরা মূলধন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক. সাধারণত মূলধন বলতে টাকা-পয়সাকে বোঝায়, তবে অর্থনীতিতে মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের যে অংশ বর্তমান ভোগে ব্যবহার না করে অধিকতর উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
৯৭.
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাকিব সাহেবের বসবাসরত দেশের অর্থব্যবস্থাকে কি একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলা যায়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত রাকিব সাহেবের বসবাসরত দেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর আমরা জানি মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলা যায়। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে।
৯৮.
করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানগুলোর মালিক হলো সরকার। রাষ্ট্র বা সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে সকল পরিকল্পনা... (বাকি অংশ পরের পৃষ্ঠায়) ...করে থাকে। যে পরিকল্পনা অনুসারে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন পরিচালিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিমালিকানা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের অনুমতি দেওয়া হয় না। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করে কারখানাও স্থাপন করতে পারে না। ফলে ব্যক্তিগত লাভের কোনো সুযোগ থাকে না। উৎপাদন পরিচালিত হয় সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে। উদ্দীপকে করিম সাহেবের দেশে দেখা যায়, তিনি নিজের ইচ্ছায় বা স্বাধীনভাবে কোনো কলকারখানা স্থাপন করতে পারেননি। কারণ ওই দেশে বেসরকারি মালিকানায় কোনো শিল্প স্থাপন করা যায় না এবং সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, করিম সাহেবের বসবাসরত দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
৯৯.
বাণিজ্যবাদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত (১৫৯০-১৭৬০) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে প্রসার ঘটে, তাকে 'বাণিজ্যবাদ' বলা হয়। দেশের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্য উদ্বৃত্তকরণের লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা বেশি রপ্তানি করত এবং খুব সামান্যই আমদানি করত। ইংল্যান্ডের উৎপাদিত পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করে মূল্যবান ধাতু (সোনা, রুপা, হীরা ইত্যাদি) আমদানি করা হতো।
১০০.
ইসলামী অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ওপর বিশ্বাসকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে।
১০১.
ফয়সাল সাহেবের সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় অর্থনীতির ভাষায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেবের সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়কে অর্থনীতির ভাষায় নির্বাচন বা বাছাই বলা হয়। মানুষের অভাব অসীম; কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। সীমাহীন অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে দুষ্প্রাপ্য সম্পদের নিয়োগবিন্যাসই অর্থনীতির প্রধান সমস্যা। মানুষের অভাব পূরণের উপায়গুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য বলে পছন্দ বা নির্বাচনের সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে। মানুষের সব অভাবের গুরুত্ব এক রকম নয়। কোনোটির গুরুত্ব বেশি, আবার কোনোটির গুরুত্ব কম। কোনো উপকরণ দ্বারা একটি উদ্দেশ্য পূরণ করতে গেলে অন্য একটি উদ্দেশ্য ত্যাগ করতে হয়। এমতাবস্থায় যে উপকরণগুলোর প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক সে অনুযায়ী অভাব পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে সীমিত সম্পদের সাহায্যে অসীম অভাব পূরণ সম্ভব হবে। উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেব স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী; কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা একই সাথে অনেক অভাব বোধ করেন। ফলে তিনি মনে করেন এ টাকা তার জন্য যথেষ্ট নয়। এটিই হলো অর্থনীতির মূল সমস্যা। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থনীতিতে নির্বাচন ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সুতরাং নির্বাচনের মাধ্যমে উদ্দীপকে ফয়সাল সাহেব তার অভাব পূরণ করতে পারবে।
১০২.
উদ্দীপক-১ এ অর্থনীতির যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপক-১ এ অর্থনীতির আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে চিত্রে তা দেখানো হলো— ব্যয় দ্রব্য ও সেবার বিক্রয় ┌──────────────► বাজার ►──────────────┐ │ │ দ্রব্য ও সেবা বিক্রয় দ্রব্য ও সেবা ক্রয় │ │ ┌─────┴─────┐ ┌─────┴─────┐ │ কারখানা │ │ পরিবার │ │ (ফার্ম) │ │ │ └─────▲─────┘ └─────┬─────┘ │ │ উৎপাদনের উপকরণ শ্রম │ │ │ উৎপাদনের ▼ └◄───────────── উপকরণসমূহের ◄────────────────┘ মজুরি বাজার আয় উদ্দীপকে দেখা যায়, একপক্ষ দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে এবং অন্যপক্ষ অর্থাৎ পরিবার কাজ করে যে বেতন পায় তা দিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়। এক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, পরিবার কারখানার উপকরণ হিসেবে শ্রমের জোগান দেয়। কারখানা তা দিয়ে দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে জোগান দেয়। সেই দ্রব্যসামগ্রী আবার পরিবার তার প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা ক্রয় করে প্রয়োজন মেটায়। অতএব বলা যায়, পরিবার ও কারখানাটি আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ নির্দেশ করে যা চিত্রে দেখানো হয়েছে।
১০৩.
মুদ্রাস্ফীতির সাথে বেকারত্বের সম্পর্ক কীরূপ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মুদ্রাস্ফীতির সাথে বেকারত্বের সম্পর্ক বিপরীত। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। আর কোনো শ্রমিক বাজার মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না— এরা হলো বেকার। সাধারণত অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি কমলে বেকারত্ব বাড়ে। আবার মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বেকারত্ব কমে।
১০৪.
অ্যাডাম স্মিথের অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অ্যাডাম স্মিথ প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা, "অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।
১০৫.
মি. Y-এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য আছে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে মি. Y এর দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। আর আমরা জানি, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থাও হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। তাই মি. Y এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। অর্থাৎ এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বাংলাদেশ ইত্যাদি। মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বণ্টন, ভোগের অধিকারসহ অর্থনৈতিক কার্যাবলি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হতে দেওয়া হয়। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। দেশের মৌলিক ও জরুরি শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকের মি. Y এর দেশেও ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে, তবে সরকার ধারাবাহিক উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থাৎ এতে ব্যক্তিস্বাধীনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও রয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির মূল রূপ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ঠিক একই নীতি অনুসরণ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, মি. Y-এর দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সম্পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান। ...উদ্দীপকে মি. Y এর দেশে ভোক্তা জোগানের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে সরকারের প্রয়োজনে উৎপাদন ও জোগান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মি. Y এর দেশের অর্থব্যবস্থা আর বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা উভয়ই মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বহন করে। অর্থাৎ মি. Y এর দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার সাদৃশ্য আছে।
১০৬.
. উদ্দীপকের মি. X-এর দেশের অর্থব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মি. X অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ সম্পদ (ভূমি, কলকারখানা, খনি ইত্যাদি) ও উৎপাদনের উপাদানগুলোর এর দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। উদ্দীপকে সমাজতান্ত্রিক মালিকানা থাকে রাষ্ট্র বা সমাজের হাতে। এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকারি বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ভোক্তারা নিজের ইচ্ছামতো কলকারখানা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে না বা পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণ ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। উদ্দীপকে মি. X এর দেশেও দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের সকল কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয় এবং ভোক্তা স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে উৎপাদন বা ভোগ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুসারে উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ন্ত্রিত হয়, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য। তাই মি. X এর দেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।
১০৭.
সুযোগ ব্যয়ের ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: একটি মুদ্রা বা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য অন্য একটি পণ্য বা সেবার সুযোগ ত্যাগ করাকে বা ত্যাগের পরিমাণকে সুযোগ ব্যয় বলে। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ থেকে অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে নির্বাচন করতে হয়। কোনো একটি দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ বৃদ্ধি করতে গেলে অন্য দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ যতটুকু ছাড়তে হয়, তাকেই প্রথমোক্ত দ্রব্যের সুযোগ ব্যয় বলে।
১০৮.
অর্থনীতির মৌলিক নীতি কয়টি?
উত্তর: . অর্থনীতির মৌলিক নীতি ১০টি।
১০৯.
no
উত্তর: . উদ্দীপকে বসীরের সমস্যাটি তথা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের সমস্যা দূর করতে পারলে বা দূর করার ক্ষেত্রে অর্থনীতির ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো— আমাদের দেশে অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যেই নিহিত। তা শুধু আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাই নয় বরং গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক সমস্যা। মানুষের অভাব অসীম হলেও অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দ্বারা মানুষের সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করা যায় না। কাজেই সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতাই হলো মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। অন্যদিকে, এই সীমিত সম্পদ বিকল্প ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ একই সম্পদ বিভিন্ন অভাব পূরণের ব্যবহার করা হয়। সুতরাং সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের জন্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার বাড়াই করাও অর্থনৈতিক সমস্যা। প্রতিটি সমাজের মানুষ নিজের সীমিত সম্পদের সাহায্যে অসীম অভাব পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে পছন্দ বা নির্বাচন করতে হয়। অভাবে আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে তীব্র অভাবগুলো প্রথমে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য অভাব ত্যাগ করতে হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি তথা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। তা অর্থনীতির বিভিন্ন দিকসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাধান করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
১১০.
বসীরকে যে অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তা কী মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা? ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ. উদ্দীপকের বসীর কীভাবে তার পরিবারের সমস্যা দূর করতে পারবে তা অর্থনীতির ভাষায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: বসীরকে যে অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তা অবশ্যই মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। অর্থনীতিতে দুটি মৌলিক ধারণা 'দুষ্প্রাপ্যতা' ও 'পছন্দ'। ধরা যাক বসীর একজন দিনমজুর। বসীর কি প্রতিদিন সব কাজ করতে পারবে? না। বসীর ইচ্ছে করলেই পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারবে? না। বসীর যদি চাকরি করতে চায় তবে দোকানে বা ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে হবে। এগুলো হলো তার অভাব বা চাহিদা। আবার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক, মনে করি বসীরদের এক বিঘা জমি আছে। ওই জমিতে ধান চাষ করলে ২০ কুইন্টাল ধান উৎপাদন করা যায়। ওই জমিতে ধান চাষ না করে যদি গম চাষ করা হয় তবে ১০ কুইন্টাল গম উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে ২০ কুইন্টাল ধান উৎপাদন করতে গেলে ১০ কুইন্টাল গমের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়— এটিই মূলত সুযোগ ব্যয়। উদ্দীপকে বসীরকেও তার সীমিত আয়ের মধ্যে সর্বাধিক তীব্র অভাবটি নির্বাচন করে পূরণ করতে হয়েছে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো ত্যাগ করতে হয়েছে। যা মূলত পছন্দ ও নির্বাচনের সমস্যা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বসীরের সমস্যাটি অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।
১১১.
মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: "মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত"— ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।উদ্দীপকে বসীর একজন সাধারণ দিনমজুর বা শ্রমিক। সে যা বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভাব মেটাতে প্রায়ই তাকে অনেক অভাবের মধ্যে কাটছাঁট করতে হয় এবং একটি অভাব পূরণের সাথে সাথে আরেকটি নতুন অভাব দেখা দেয়। এটি মূলত অর্থনীতিতে সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা ও অসীম অভাবের ধারণাকে নির্দেশ করে। অর্থনীতিতে এ দুটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে তীব্রতা অনুসারে অভাব নির্বাচন বা বাছাই করতে হয়।
১১২.
. বাণিজ্যবাদ কাকে বলে?
উত্তর: ষোড়শ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত (১৫০০-১৭৫০) ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে অর্থনৈতিক কার্যকলাপে যে বিশেষ ধারা বা চিন্তা গড়ে উঠেছিল, তাকে 'বাণিজ্যবাদ' (Mercantilism) বলা হয়।
১১৩.
ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য কতটুকু? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থা হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান, যা নিচে আলোচনা করা হলো: • মালিকানার ক্ষেত্রে পার্থক্য: ইমরানের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা থাকার কারণে সেখানে বেসরকারি উদ্যোগে কোনো কলকারখানা স্থাপিত হতে পারে না, সমস্ত সম্পদ ও কারখানার মালিক রাষ্ট্র। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা থাকায় এখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি অবস্থান করে। ব্যক্তি এখানে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, আবার রাষ্ট্রও বিভিন্ন বড় বড় শিল্প নিয়ন্ত্রণ করে। • অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: ইমরানের দেশের অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার কোনো সুযোগ নেই, এর প্রধান লক্ষ্য সমাজ তথা মানুষের কল্যাণ সাধন। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন এবং সরকারি খাতের লক্ষ্য থাকে জনকল্যাণ। • ভোক্তার স্বাধীনতা: ইমরানের দেশে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে উৎপাদন ও বণ্টন নির্ধারিত হয় বলে ভোক্তার স্বাধীন পছন্দ বা ভোগের সুযোগ সীমিত। কিন্তু বাংলাদেশে ভোক্তাগণ তাদের আয় ও রুচি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈধ দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারেন। সুতরাং বলা যায়, ইমরানের দেশের সম্পূর্ণ রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সমন্বয়ের মিশ্র অর্থব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক ও নীতিগত ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। প্রশ্ন ১৩ । দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ বসীর একজন শ্রমিক। সে একটি কারখানায় অল্প বেতনে কাজ করে। সে যা বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভাব মেটাতে প্রায়ই তাকে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের অনেক অভাবের সাথে তাকে প্রায়ই কাটছাঁট করতে হয়। কিন্তু একটি অভাব পূরণের সাথে সাথে আরেকটি নতুন অভাব দেখা দেয়। ফলে অভাব পূরণের ক্ষেত্রে তাকে অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হয়।
১১৪.
. মাসুদ ও ডনের অর্থব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে মাসুদ ও ডনের দেশে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এই অর্থব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুনাফা অর্জন করা। উদ্দীপকে দেখা যায়, মাসুদ আর ডন একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন এবং সেখানে উৎপাদন সংক্রান্ত সকল কাজ কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যেহেতু এখানে ব্যক্তিমালিকানা ও উদ্যোগের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই এটি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।
১১৫.
একটি দ্রব্য ভোগ করতে হলে অন্য একটি দ্রব্য ত্যাগ করতে হয়"— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: একটি দ্রব্য ভোগ করতে হলে আরেকটি দ্রব্য ত্যাগ করতে হয়— এই বিষয়টি অর্থনীতিতে সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) ধারণাকে নির্দেশ করে। মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ তার সকল অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ দিয়ে কোনো একটি দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ বৃদ্ধি করতে গেলে অন্য দ্রব্যের উৎপাদন বা ভোগ যতটুকু ছাড়তে হয়, তাকেই প্রথমোক্ত দ্রব্যের সুযোগ ব্যয় বলে।
১১৬.
ইসলামিক অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামী শরীয়াহ্র বিধি-বিধানের ওপর ভিত্তি করে মানুষের অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তোলার যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে ইসলামিক অর্থব্যবস্থা বলে।
১১৭.
চিহ্নিত বিষয়টি বর্তমান বিশ্বে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়"— বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়সমূহের মধ্যে আয়-ব্যয়ের বৃত্তাকার প্রবাহের প্রবাহ, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। বিষয়টির সাথে আমি একমত পোষণ করছি। অর্থনীতিতে দুই ধরনের এজেন্সি (Agency) থাকে। যথা— ফার্মসমূহ ও পরিবারসমূহ। ফার্ম বা কলকারখানা মালিকরা উৎপাদনের উপাদানসমূহ ক্রয় করেন। পরিবারসমূহ সেগুলো সম্বলিত করে সেবা উৎপাদন করে এবং উৎপাদনকারী বাজারে তা বিক্রয় করেন। অন্যদিকে... (বাকি অংশ ছবির নিচে কেটে গেছে) ...পরিবারসমূহ সেবা উৎপাদন করে এবং উৎপাদনকারী বাজারে তা বিক্রয় করে। অন্যদিকে, পরিবারসমূহ ফার্ম বা কলকারখানার নিকট হতে উপাদান ক্রয়ের মাধ্যমে বা উপাদানের মালিক হিসেবে আয় লাভ করে। আবার পরিবারসমূহ ফার্মের নিকট হতে উৎপাদিত দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করার জন্য বা ভোগ করার জন্য যে ব্যয় করে, তা ব্যবসায়ী বা ফার্মের আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে। এভাবে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ সচল থাকে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে এশিয়ার অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে।
১১৮.
. উদ্দীপকে বিদ্যমান বিষয়গুলো তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ধারণার সাথে সম্পর্কিত? চিহ্নিত করে আলোচনা করো।
উত্তর: বাজার ব্যবস্থায় কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত দামের যে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, তাকে স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা বলে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের বিষয়গুলো আমার পাঠ্যবইয়ের 'অর্থনৈতিক কার্যাবলি' এবং 'উৎপাদনের উপাদান বা উপকরণসমূহের' ধারণার সাথে সম্পর্কিত। নিচে বিষয়টি আলোচনা করা হলো— ব্যয় ও সেবা বিক্রয় ┌──────────────────────────────┐ │ ▼ ┌────┴────┐ ┌──────────┐ │ পরিবার │ │ ব্যবসায় │ └────┬────┘ └──────────▲ ▲ │ └──────────────────────────────┘ আয় ও উপাদান সরবরাহ চিত্র অনুসারে মানুষের পরিবার উৎপাদনের বাজারে শ্রম বিক্রি করে আয় লাভ করে থাকে। আবার তাদের কার্যপরিচালনাপ্রসূত উপকরণসমূহ বাজারে ওষুধ প্রদান করে উৎপাদকের উপকরণ হিসেবে কাজ করে। ওষুধের ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদনের উপকরণ ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করে। তারা ওষুধ বাজার বা ওষুধের দোকানে বিক্রয়ের মাধ্যমে আয় লাভ করে। এটাকে আমরা ব্যবসায় বা বাজার ব্যবস্থা বলতে পারি। আবার অন্য ডাক্তার তার উপকরণের উপকরণ এর বিনিময়ে সেবা তৈরি করা ওষুধ ও ভোক্তাদের সেবা দান করছে। অতএব বলা যায়, সাধারণ ফার্মাসিউটিক্যালস, বর্তমান গ্যারেজের পরিবর্তে ওষুধের দোকান, ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা, উৎপাদনের উপকরণের বাজার এবং বিভিন্ন ফার্মের আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ নির্দেশ করে।
১১৯.
স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বাজার ব্যবস্থায় কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত দামের যে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, তাকে স্বয়ংক্রিয় মূল্যব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা বলে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দ্রব্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
১২০.
মুদ্রাস্ফীতি কী?
উত্তর: সাধারণ মূল্যস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
১২১.
ঘটনা-২-এর সমস্যাটি নিবারণে সরকার কীভাবে ভূমিকা ঘটনা-১-এ অর্থনীতির কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। রাখতে পারে? মতামত দাও।
উত্তর: ans no
১২২.
এ অর্থনীতির কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ অর্থনীতির অত্যন্ত মৌলিক বিষয় 'অভাব নির্বাচন ও পছন্দ' (Choice) প্রকাশ পেয়েছে। মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় অভাবের কোনো শেষ নেই। কিন্তু সেই অভাব পূরণের উপকরণ বা সম্পদ সীমিত। এ কারণে মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। তখন মানুষকে তীব্রতা অনুসারে অধিক জরুরি অভাবটি আগে পূরণ করতে হয় এবং অন্য অভাবটি ত্যাগ করতে হয়। উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দীপ্তর অনলাইন ক্লাসের জন্য স্মার্টফোন প্রয়োজন হলেও বাবার পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি দীপ্তকে সময়মতো স্কুলে যাতায়াতের জন্য সাইকেল কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীপ্তও তা মেনে নেয়। এখানে স্মার্টফোনের চেয়ে সাইকেলের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে, যা অর্থনীতির 'পছন্দ বা নির্বাচন' ধারণাকে নির্দেশ করে।
১২৩.
সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষের সব অভাব পূরণ করা যায় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . মানুষের অভাব অসীম কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না বলেই মানুষকে অভাবের তীব্রতা বা গুরুত্ব অনুযায়ী তা নির্বাচন বা বাছাই করে. অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।" নিতে হয়। যে অভাবটি মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি জরুরি, সীমিত সম্পদ দিয়ে প্রথমে সেই অভাবটি পূরণ করা হয় এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো পরবর্তীতে পূরণের জন্য ত্যাগ করা হয়। সম্পদের সঠিক ও বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল সীমিত সম্পদ দিয়ে তীব্র অভাবসমূহ দূর করা সম্ভব হয়।
১২৪.
. অধ্যাপক মার্শাল কর্তৃক প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।"
১২৫.
'A' রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার কি কোনো মিল রয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: 'A' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার কিছু ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। যেমন— (i) ব্যক্তিগত উদ্যোগের অভাব: বাংলাদেশে 'A' রাষ্ট্রের মতো উৎপাদনের উপাদান, যেমন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি মালিকানা বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়। (ii) জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিকল্পনা করার মাধ্যমে মূলত জনকল্যাণ অর্জনের চেষ্টা করা হয় এবং তা অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকে। (iii) বাজারের স্বাধীনতা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও পুরোপুরি অবাধ উৎপাদন ও জোগানের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার অনেক সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (iv) স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও কোনো কোনো পণ্য-সেবার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (v) সম্পদের মালিকানা: 'A' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও কিছু সম্পদ বা উৎপাদন বা কলকারখানা সম্পূর্ণ সরকারি বা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থেকে দেশ ও সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে পরিচালিত হতে দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, 'A' রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে।
১২৬.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' রাষ্ট্রে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়, বরং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভোক্তাদের ইচ্ছামতো ভোগের স্বাধীনতা থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, রবিন দেশের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার পর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটির স্বার্থে কোনো নতুন কলকারখানা প্রতিষ্ঠা বা ইচ্ছেমতো উৎপাদনে হাত বাড়াতে পারছেন না। এমনকি উৎপাদন প্রক্রিয়াও ভোক্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো ভোগ করতে পারেন না এবং এখানে কোনো মুক্ত বাজার ব্যবস্থা বা দাম ব্যবস্থা কাজ করে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থনীতির নির্দেশক। অতএব বলা যায়, 'A' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
১২৭.
মানুষ কেন অর্থনৈতিক কাজ করে?
উত্তর: মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপাদান বা অভাবসমূহ মেটানোর লক্ষ্যেই মূলত অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে। জীবনধারণের প্রধান প্রধান উপাদান হলো— অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এসব মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পদ বা অর্থের প্রয়োজন হয়। আর সেই প্রয়োজনীয় সম্পদ বা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই মানুষকে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল, বাণিজ্যিক বা সেবাধর্মী অর্থনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হতে হয়।
১২৮.
অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।"
১২৯.
"আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যে নিহিত"— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: . "আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যেই নিহিত"— উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি মূলত অসীম অভাব এবং সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। মানুষের অভাব অসীম হলেও অভাব পূরণের জন্য সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দ্বারা মানুষের সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করা যায় না। কাজেই সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতাই হলো মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। অন্যদিকে, এই সীমিত সম্পদ বিকল্প ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ একই সম্পদ বিভিন্ন অভাব পূরণের ব্যবহার করা হয়। সুতরাং সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের জন্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার বাড়াই করাও অর্থনৈতিক সমস্যা। প্রতিটি সমাজের মানুষ নিজের সীমিত সম্পদের সাহায্যে অসীম অভাব পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ জন্য সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাব পূরণের ক্ষেত্রে মানুষকে পছন্দ বা নির্বাচন করতে হয়। অভাবে আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে তীব্র অভাবগুলো প্রথমে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য অভাব ত্যাগ করতে হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি তথা অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। তা শুধু আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাই নয় বরং গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক সমস্যা। সুতরাং বলা যায়, আমাদের দেশের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা উদ্দীপকের মধ্যেই নিহিত— উক্তিটি যথার্থ।
১৩০.
. উদ্দীপকের ঘটনাটি কোন অর্থনীতিবিদের সংজ্ঞার অনুরূপ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ঘটনাটি অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের সংজ্ঞার অনুরূপ। অধ্যাপক এল. রবিন্স অর্থনীতির অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তার মতে, "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা মানুষের... ...বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয়সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।" এ সংজ্ঞায়িত অর্থনৈতিক ধারণার মূল কথা হলো অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদ। উদ্দীপকের রনি স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগসহ একটি নতুন সাইকেলের আবদার করলেও পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাবা তাকে রনিকে বুঝিয়ে ড্রেস ও ব্যাগ ক্রয় করে দিলেন। যা মূলত অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধনকে নির্দেশ করে। আর আমরা জানি, অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের সংজ্ঞায় মানুষের অভাব অসীম এবং অভাবের প্রকৃতি ও পরিমাণ বিভিন্ন রকমের। অভাব পূরণকারী সম্পদ ও সময় খুবই সীমিত। এই বৈশিষ্ট্য উল্লেখ আছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি অর্থনীতিবিদ এল. রবিন্সের সংজ্ঞার অনুরূপ।
১৩১.
মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূনেমিকা পালন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। যেমন— যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বাংলাদেশ, ভারত ইত্যাদি। অনেকে এ অর্থব্যবস্থাকে একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলে করে।
১৩২.
অধ্যাপক প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ। মার্শাল
উত্তর: অধ্যাপক মার্শালের মতে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।"
১৩৩.
জসির দৈনন্দিন জীবনে উক্ত সমস্যা সমাধানের কারণ বদলে তুমি হলে কী করতে? অর্থনৈতিক আলোকে বিষণ শ্লেকমের।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত মুদ্রাস্ফীতির সমস্যাটি জসিমের মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আমি যদি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতাম, তবে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতাম: ১. ব্যয় সংকোচন ও বাজেট প্রণয়ন: মুদ্রাস্ফীতির সময়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়। তাই বিলাসবহুল বা অপ্রয়োজনীয় ভোগ বাদ দিয়ে কেবল মৌলিক ও অপরিহার্য চাহিদাসমূহ পূরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করতাম এবং কঠোরভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতাম। ২. বিকল্প দ্রব্যের ব্যবহার: কোনো নির্দিষ্ট দ্রব্যের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে তার সমগুণসম্পন্ন তুলনামূলক কম দামি বিকল্প দ্রব্য (Substitutes) ব্যবহার করার চেষ্টা করতাম। ৩. অতিরিক্ত আয়ের উৎস খোঁজা: তথ্যপ্রযুক্তির বা আইটি ক্ষেত্রের দক্ষতা ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং বা পার্ট-টাইম কোনো কাজের মাধ্যমে মূল আয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতাম, যাতে বর্ধিত ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়। ৪. সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার: নগদ অর্থ হাত বা ঘরে জমিয়ে না রেখে তা কোনো উৎপাদনশীল বা লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতাম, কারণ মুদ্রাস্ফীতির সময়ে নগদ টাকার মান কমে যায়, কিন্তু সম্পদের মূল্য বজায় থাকে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা ও মিতব্যয়িতাই একমাত্র উপায়, যা জসিমের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারত।
১৩৪.
উদ্দীপকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ পাঠ্যবইয়ের আলোকে চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: . উদ্দীপকে বর্ণিত দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণটি হলো 'মুদ্রাস্ফীতি' (Inflation)। পাঠ্যবইয়ের আলোকে, যখন বাজারে পণ্য ও সেবার জোগানের তুলনায় অর্থের বা মুদ্রার সরবরাহ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়, তখন অর্থের মূল্য বা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সাধারণ মূল্যস্তর বা দ্রব্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এই অবস্থাকেই মুদ্রাস্ফীতি বলে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, কোভিড পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক বাজারে মুদ্রা বা অর্থের সরবরাহ বেড়ে গেছে। বাজারে অর্থের পরিমাণ বাড়লেও সেই অনুপাতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বাড়েনি। ফলে অতিরিক্ত অর্থের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়লেও বাজারে দ্রব্যের ঘাটতি দেখা দেয় এবং দ্রব্যের দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। উদ্দীপকের এই পরিস্থিতিটি অর্থনীতির মুদ্রাস্ফীতির ধারণাকেই নির্দেশ করে।
১৩৫.
ব্যাংক আমানত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ব্যাংক আমানত বলতে বোঝায়, জনগণ বা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্বৃত্ত বা সঞ্চিত অর্থ যখন নিরাপত্তার জন্য অথবা মুনাফা বা সুদের আশায় ব্যাংকের কাছে জমা রাখে। ব্যাংক আমানত মূলত তিন প্রকার হয়ে থাকে— চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত এবং স্থায়ী আমানত। ব্যাংক এই আমানতের বিপরীতে আমানতকারীকে নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফা প্রদান করে থাকে এবং জনগণের এই সঞ্চিত অর্থ পরবর্তীতে ব্যাংক বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করে।
১৩৬.
'ক্রেডিট কোন ধরনের মুদ্রা?
উত্তর: 'ক্রেডিট কার্ড' হলো এক ধরনের ইলেকট্রনিক বা হিসাব মুদ্রা (হস্তান্তরযোগ্য ঋণপত্র বা প্লাস্টিক মানি)।
১৩৭.
'A' দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: 'A' দেশের অর্থব্যবস্থার (সমাজতান্ত্রিক) সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার (মিশ্র) পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত, যেখানে সমস্ত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সম্পদের মালিকানা সরকারের হাতে থাকে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy)। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র— উভয় ব্যবস্থারই একটি সুষম সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। এই দুই অর্থব্যবস্থার মূল পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ: • মালিকানার ক্ষেত্রে পার্থক্য: 'A' দেশে বা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা থাকে, কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না (যেমনটি উদ্দীপকে কারখানার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতায় দেখা গেছে)। কিন্তু বাংলাদেশে বা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় বেসরকারি ও সরকারি মালিকানা পাশাপাশি সহাবস্থান করে। এখানে ব্যক্তি নিজের নামে সম্পত্তি ও কলকারখানা গড়ে তুলতে পারে, আবার পাশাপাশি রাষ্ট্রও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। • ভোক্তার স্বাধীনতা: 'A' দেশে ভোক্তার পূর্ণ স্বাধীনতা নেই; সে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা থাকার কারণে ভোক্তাগণ তাদের পছন্দ, রুচি ও আয় অনুযায়ী যেকোনো বৈধ দ্রব্য স্বাধীনভাবে ক্রয় ও ভোগ করতে পারেন। • মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া: 'A' দেশে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তে সরকার বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্রব্যের দাম নির্ধারণ করে দেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থা বা চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রব্যের মূল্য নির্ধারিত হয়, তবে বিশেষ প্রয়োজনে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। পরিশেষে বলা যায়, 'A' দেশের অর্থব্যবস্থা যেখানে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ও ব্যক্তিস্বাধীনতাহীন, সেখানে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের এক অপূর্ব সমন্বয়। তাই 'A' দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার ব্যাপক ও মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
১৩৮.
দেশের স্বরূপ বর্ণ'A' না কর।
উত্তর: 'A' দেশের অর্থনৈতিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ বর্ণনা করা হলো: উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশের অর্থব্যবস্থাটি মূলত সমাজতান্ত্রিক (Socialist) বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা। রুবেলের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, সেখানকার অর্থনীতিতে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ প্রকাশ করে:১. কাজ করেন, সেই কারখানার মালিকপক্ষকে কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে সরকারের অনুমতি নিতে হয়েছে। ২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ: এই অর্থব্যবস্থায় কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা: সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের প্রধান উপাদান বা সম্পদগুলোর ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না, বরং তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, রুবেল যে প্রতিষ্ঠানে হবে এবং কার জন্য হবে— তা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ বা সরকার নির্ধারণ করে। ৩. ভোক্তার স্বাধীনতার অভাব: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন ভোক্তা নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। সরকার মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে যে সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী বাজারে সরবরাহ করে, ভোক্তাকে তা থেকেই পছন্দ করতে হয়। উদ্দীপকে স্পষ্ট বলা আছে, রুবেল তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দ্রব্য ভোগ করতে পারে না। অতএব, সরকারি নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং ভোক্তার সীমিত স্বাধীনতা— এই উপাদানগুলোর মাধ্যমে 'A' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
১৩৯.
'A' দেশে প্রচলিত অর্থনীতির সংজ্ঞা অর্থনৈতিক অর্থব্যবস্থার দাও।
উত্তর: 'A' দেশে প্রচলিত অর্থনীতি হলো সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সংজ্ঞা নিম্নরূপ: যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ তথা সমাজ বা রাষ্ট্রের সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় বা সমষ্টিগত মালিকানায় থাকে এবং সরকারি বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক বা নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা বলে।
১৪০.
অর্থনীতির প্রথম দিককার গ্রন্থখানি লেখ।
উত্তর: প্রথম অর্থনীতির গ্রন্থখানি হলো— অ্যাডাম স্মিথ-এর "An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations" (১৭৭৬)। দিককার
১৪১.
"তুমি যে জ্ঞান অর্জন করেছো উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও বিষয় রয়েছে?" তোমার মতামত অনুযায়ী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সাথে মানুষের দৈনন্দিন ও সমাজ জীবনের অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক কাজ কেবল ব্যাংক কিংবা মুদ্রা লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর বাইরেও অর্থনৈতিক জীবন ও ব্যবস্থার আরও বেশ কিছু দিক রয়েছে। যেমন— মানুষের বিভিন্ন প্রকার মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য মানুষকে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো গড়ে ওঠে। আবার, প্রতিটি মানুষের সমাজ ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মতাদর্শের অধীনে পরিচালিত হয়। যেমন— ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কিংবা মিশ্র সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই সকল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সাথে জড়িত উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ এবং সমাজ ব্যবস্থার অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদানসমূহও এর সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
১৪২.
উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক কোন বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক বিষয়টি মূলত মানুষ ও সমাজ জীবনের সাথে সম্পর্কিত। উদ্দীপকে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দিকে নির্দেশ করা হয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের অগ্রগতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য যে কাজ করে, মূলত সেটাই মানুষের অর্থনৈতিক কাজ। উদ্দীপকে গ্লোবাল ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে এবং ব্যাংক মূলত একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা দেশের মানুষের অর্থনৈতিক কাজে সাহায্য করে। যেমন— ঋণ দেওয়া, আমানত গ্রহণ করা, সঞ্চয় জমানো এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগ করার জন্য মানুষের কাজের সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ ও সুবিধাজনক হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকে গ্লোবাল ব্যাংক ও নতুন নতুন মুদ্রার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৪৩.
জমিদারি প্রথা থেকে উৎপাদনশীল খাত কোনটি?
উত্তর: মানবজীবন অগ্রগতির অন্যতম মূলন্যায় হলো— শ্রমশক্তি ও উৎপাদনশীল খাতসমূহের মধ্যকার সমন্বয়ের রূপান্তর ঘটা। ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী উৎপাদন অর্থ হচ্ছে— এমন এক প্রকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদন সামগ্রী, যেমন জমি, কারখানা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে। পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদনকার্য পরিচালনা করা। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা নিজেদের লাভ ও মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিকদের নিয়োগ করে এবং তাদের শ্রমশক্তিকে ব্যবহার করে। পুঁজিবাদের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতার ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে।
১৪৪.
জমিদারি প্রথা থেকে উৎপাদনশীল খাত কোনটি?
উত্তর: জমিদারি প্রথা থেকে উৎপাদনশীল খাত হলো কৃষি।
📄

পিডিএফ তৈরি হচ্ছে...

অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।