সুশাসনের অন্তরায়গুলো হলো - স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি , অনিয়ম ইত্যাদি। অন্যদিকে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা হলো সুশাসনের বৈশিষ্ট্য।
3.একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো ----
a.স্বাধীনতা
b.ক্ষমতা
c.কর্মদক্ষতা
d.জনকল্যাণ
একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধগুলো হলো সততা ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি । তবে সবগুলো জনক্যাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হওয়ায় জনকল্যাণ - ই হবে একজন জনপ্রশাসকের প্রধান মৌলিক মূল্যবোধ।
4.সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে ---
a.অর্থনৈতিক উন্নয়ন
b.অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
c.সামাজিক উন্নয়ন
d.সবগুলোই
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হয় না। প্রশ্নের (ক) ও (গ) নং অপশন নং এ থাকায় সঠিক উত্তর হবে (খ) । ঘ নং অপশনটি যদি ভিন্ন কিছু নয় , কিন্তু আইকিউ বিবেচনায় সেটি ভুল হবে।
5.সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে -----
a.সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
b.আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
c.শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
d.কোনোটিই নয়
সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের , সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সম্পর্ক হতে পারে কয়েক ধরনের। তবে যেহেতু প্রশাসকের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা , বাক স্বাধীনতা , বিচার বিভাগের স্বাধীনতা , আইনের অনুশাসন প্রভৃতি ছাড়া একটি দেশের সুশাসন ভাবা যায় না , তাই সুশসান ব্যবস্থায় শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থায় সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে, সুশাসন তত মজবুত হবে।
6.মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ---
a.দুর্নীতি রোধ করা
b.সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
c.রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
d.সাংস্কৃতিক অবরোধ রক্ষণ করা
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য , উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার আচরণ ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।এই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
7.ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে ----
a.সামাজিক মূল্যবোধকে
b.গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে
c.ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
d.স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির স্বতন্ত্র মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে পালন করা হয়। যদি ও নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী, সংস্কৃতি , ধর্ম রাজনৈতিক দল, পরিবার , বন্ধু - বান্ধব, জাতীয়তা , ইতিহাস প্রভৃতি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ গঠনে সাহায্য করে। তথাপি সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজস্ব অর্জিত জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে ব্যক্তি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ মূল্যবোধের প্রধান পার্থক্য হলো ব্যক্তির স্বাধীনতা বা স্বকীয়তা । তাই সমাজের এক এক ব্যক্তির মূল্যবোধ এক এক রকম ।
8.নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics) বলতে বুঝায় ---
a.মৌলিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত সাধারণ বচন যা সংগঠনের পেশাগত ভূমিকাকে সংজ্ঞায়িত করে
b.বাস্তবতার নিরিখে নির্দিষ্ট আচরণের মানদণ্ড নির্ধারণ সংক্রান্ত আচরণবিধি
c.দৈনন্দিন কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করণে প্রণীত নৈতিক নিয়ম, মানদণ্ড বা আচরণবিধি
d.উপরের তিনটিই সঠিক
নৈতিক আচরণবিধি (Code of ethics ) বলতে বুঝায় কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পেশাগত দৈনন্দিন দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিচিতি ও প্রযোজ্য নিয়মনীতি। বাস্তবতার নিরিখে সকল প্রতিষ্ঠানের নৈতিক আচরণবিধি এক নাও হতে পারে। তাই সঠিক উত্তরটি হবে (ঘ) ।
9.সুবর্ণ মধ্যক' হলো ----
a.গাণিতিক মধ্যমান
b.দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
c.সম্ভাব্য সব ধরনের কাজের মধ্যমান
d.একটি দার্শনিক সম্প্রদায়ের নাম
'সুবর্ণ মধ্যক' হলো একটি দার্শনিক পরিশব্দ। ইংরেজিতে এটি হলো Golden Mean । এরিস্টিটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে সুবর্ণ মধ্যক (Golden mean ) বলেছেন। যেমন - একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এই দুই অবস্থার মাঝামাঝিটি হলো 'সুবর্ণ মধ্যক' ।
10.Power : A New Social Analysis' গ্রন্থটি কার লেখা?
a.ম্যাকিয়াভেলি
b.হবস
c.লক
d.রাসেল
'Power: A New Social Analysis ' হলো দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে। এই গ্রন্থে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন মানুষের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ লক্ষ্য হলো ক্ষমতা ।
11.নৈতিকভাবে বলা হয় মানবজীবনের----
a.নৈতিক শক্তি
b.নৈতিক বিধি
c.নৈতিক আদর্শ
d.সবগুলোই
ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব। শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা। ভালো - মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা , সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষ গুণ হলো নৈতিকতা। প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন বা অন্যান্য বিষয়ের উপর একে প্রাধান্য দেয়। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
12.জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো----
a.সুশাসন
b.আইনের শাসন
c.রাজনীতি
d.মানবাধিকার
জনগন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন। সুশাসন একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিষয় আইনের শাসন সুশাসনের - ই অংশ । যে শাসনব্যবস্থা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা , আইনের শাসন, প্রশাসনের বৈধতা, বাক স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় তাকে সুশাসন বলে।
13."সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়" ---উক্তিটি কার?
a.এরিস্টটল
b.জন স্টুয়ার্ট মিল
c.ম্যাককরনী
d.মেকিয়াভেলি
সুশাসনকে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে সুশাসনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করে ম্যাককরনী (Mac Corney) । তার মতে, 'সুশাসন বল রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের , সরকারের সাথে শান্তি জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায় (Good Governance is the relationship between civil society and the state, between government and governed , the ruler and ruled)।
14.নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান কি?
a.সততা ও নিষ্ঠা
b.কর্তব্যপরায়ণতা
c.মায়া ও মমতা
d.উদারতা
নৈতিকতা একটি ব্যাপকু অর্থবোধক বিষয় সমাজের প্রথা, আদর্শ ধর্ম ও ন্যায়বোধ থেকে নৈতিকতার জন্ম। নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হচ্ছে সততা ও নিষ্ঠা। নৈতিক শক্তির মূল প্রেরণা আসে ব্যক্তির সততা ও নিষ্ঠা থেকে। আর কর্তব্য পরায়ণতা সততা ও নিষ্ঠার মধ্যে অঙ্গীভূত । অপরপক্ষে, প্রদত্ত সম্ভব্য উত্তরগুলোর মধ্যে উদারতা এবং মায়া ও মমতা মানবীয় গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।
15.সরকারি চাকরিতে সততার মাপকাঠি কি?
a.যথা সময়ে অফিসে আগমন ও অফিস ত্যাগ করা
b.দাপ্তরিক কাজে কোনো অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা
c.নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা
d.ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশ প্রতিপালন করা
সরকারি চাকরিতে (Civil Service ) যুক্ত কর্মকান্ড কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের সেবক। সরকারি চাকরিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সবসময় নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। আর তাদের সততা মাপকাঠি হচ্ছে নিমোর্হ ও নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব যথাবিধি সম্পন্ন করা।
16.কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
a.পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
b.আইনের শাসন
c.সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
d.অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থ হচ্ছে ধর্ম - বর্ণ, নারী - পুরুষ , ধনী - নির্ধন নির্বিশেষে সকলকে একই মানদণ্ডে বিচার করা। আইনের দৃষ্টিতে সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ সমান এটিই ন্যায়পরায়ণতার মূলণীতি। এ (গ) তথা 'সুশাসনের জন্য উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ'ই সামঞ্জস্যপূর্ণ । অন্য উত্তরগুলো ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত।
17.UNDP সুশাসন নিশ্চিতকরণে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
a.৬ টি
b.৭টি
c.৮টি
d.৯টি
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) সুশাসন নিশ্চিকরণে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘের বিশেষায়িত এই উন্নয়ন সংস্থাটি ১৯৯৭ সালে ' Governance for Sustainable Human Development ' নামক কৌশলপত্রে প্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। UNDP তার গবেষণায় সুশাসনের ৯ টি উপাদান চিহ্নিত করে। যথা : ১. সমঅংশীদারিত্ব (Participation ) , ২. আইনের শাসন (Rule of Law), ৩. স্বচ্ছতা (Transparency), ৪. সংবেদনশীলতা (Responsiveness), ৫. সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য ( Consensus Orientation) , ৬. সমতা ও ন্যায্যতা ( Equity), ৭. কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness & Efficiency), ৮. জবাবদিহিতা (Accountability), ৯. কৌশলগত লক্ষ্য (Strategic Vision) উল্লেখ্য, সুশাসন নিশ্চতকরণে জাতিসংঘ (UN) ৮টি , বিশ্বব্যাংক (WB) ৪ টি এবং এডিবি (ADB) ও আইডিএ (IDA) ৬টি করে উপাদানের উল্লেখ করেছে।
18.সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
a.বিশ্বস্ততা
b.সৃজনশীলতা
c.নিরপেক্ষতা
d.জবাবদিহিতা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বস্ততা অপরিহার্য বিষয়। এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সৃজশীলতা এক্ষেত্রে গৌণ বিষয়।
19.রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ কাকে বলা হয়?
a.রাজনীতি
b.বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়
c.সংবাদ মাধ্যম
d.যুবশক্তি
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় গণমাধ্যম তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করা । সংবাদ মাধ্যম গণমাধ্যমেরই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। রাষ্ট্র তথা প্রজাতন্ত্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদ মাধ্যম পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে । রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সর্বোপরি সুশাসন যেমন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে ঠিক তেননি সংবাদ মাধ্যম সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে রাষ্ট্রকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করে। এদিক থেকে সংবাদ মাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ (Fourth Estate) বলা হয় । রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথশ নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক। তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে Fourth Estate প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।
20.আমাদের চিরন্তর মূল্যবোধ কোনটি?
a.সত্য ও ন্যায়
b.সার্থকতা
c.শঠতা
d.অসহিষ্ণুতা
মূল্যবোধ মানুষের জীবনারণের অংশ । মূল্যবোধ কোনো সমাজেই লিপিবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘ অনুশীলনের পর গ্রহণ - বর্জন প্রক্রিয়ায় সঠিক, উচিত, নৈতিক ও সমাজের কাঙ্কিত বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে মানুষের মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। সত্য ও ন্যায়, ভালো - মন্দ, ঠিক - বেঠিক, কাঙ্কিত বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে মানুষের মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। সত্য ও ন্যায়, ভালো - মন্দ ,ঠিক - বেঠিক, কাঙ্কিত - অনাকাঙ্কিত ইত্যাদি বিষয়গুলোকে মূল্যবোধের ভিত্তি ধরা হয়। সুতরাং সত্য ও ন্যায় নিষ্ঠা মানুষের চিরন্তন মূল্যবোধের একটি । পক্ষান্তরে, সার্থকতা শঠতা ও অসহিষ্ণুতা সুস্থ মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক।
21.একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
a.দায়িত্বশীলতা
b.নৈতিকতা
c.দক্ষতা
d.সরলতা
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা। নৈতিকতা (Ethics ) একটি ব্যাপক ধারণা, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণের পাশাপাশি মানব চিন্তাকে ও নিয়ন্ত্রণ করে। আর দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, সরলতা, কর্বত্যপরায়ণতা, ন্যায়নিষ্ঠা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকেই উদ্ভূত।
22.মূল্যবোধ পরীক্ষা করে--
a.ভাল ও মন্দ
b.ন্যায় ও অন্যায়
c.নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
d.উপরের সবগুলো
nullমূল্যবোধের অন্যতম উপাদান নীতি ও ঔচিত্যবোধের বিকাশ ভূমি বলা হয় সমাজকে। সমাজে কারো ক্ষতি না করা , কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাঝ থেকেই পেয়ে থাকে এর ফলে সে ন্যায় ও অন্যায় ভালো ও মন্দ, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।
23.জেরেমি বেন্থাম কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
a.জার্মানি
b.ফ্রান্স
c.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
d.যুক্তরাজ্য
বুর্জোয়া ন্যায়তত্ত্ব উপযোগবাদ বা Utilitarianism তত্ত্বের প্রবক্তা যুক্তরাজ্যের অধিবাসী জেরেমি বেন্থাম (১৭৪৮ - ১৮৩২) ছিলেন একাধারে দার্শনিক, বিচারক এবং সমাজ সংস্কারক।
24.নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
a.আইন
b.প্রতীক
c.ভাষা
d.মূল্যবোধ
পৃথিবীতে সর্বজনীন সংস্কৃতি বলে কিছু নেই। কেননা এক সমাজ ও রাষ্ট্রে যা সংস্কৃতি অন্য সমাজ ও রাষ্ট্রে তা অপ - সংস্কৃতি । এরপরে ওর সংস্কৃতির সাধারণ উপাদান আছে, যা সকল দেশে একই। যেমন - ভাষা, প্রতীক, আদর্শ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, প্রথা, শিল্পকলা ইত্যাদি। তবে সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে অনেকে সমাজতাত্ত্বিক আইনকে গ্রহণ করেছেন আবার কেউ তা অর্জন করেছেন।
25.নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
a.অংশগ্রহণ
b.স্বচ্ছতা
c.নৈতিক শাসন
d.জবাবদিহিতা
সুশাসনের মূল আটটি উপাদান রয়েছে। যেখানে নৈতিক শাসন বলে কোনো উপাদান নেই। ঐ আটটি উপাদানের প্রধান প্রধান উপাদান হলো - আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সাড়াাদান, দায়িত্বশীলতা ও অংশগ্রহণ।
26.নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
a.শাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
b.শাসন প্রক্রিয়া ও সুশাসন
c.শাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
d.শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
বিশ্বব্যাংকের ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন 'Sub - Saharan Africa : From Crisis to Sustainable Growth' - এ Good Governance বা সুশাসন প্রত্যয়টির প্রথম ব্যবহার করেন। তবে ১৯৯২ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গবেষণা পত্র Governance and Development বা শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
27.সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে?
a.অংশগ্রহণ
b.জবাবদিহিতা
c.স্বচ্ছতা
d.সাম্য ও সমতা
সুশাসনের স্বচ্ছতার নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের আয় - ব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রকাশ করার মাধ্যমে জবাবদিহিতা ,সাম্য ও সমতার বিষয়টিকেও নিশ্চিত করে।
28.ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে-
a.সুশাসনের শিক্ষা থেকে
b.আইনের শিক্ষা থেকে
c.মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে
d.কর্তব্যরোধ থেকে
সহনশীলতার শিক্ষা ব্যক্তি লাভ করে থাকে মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে। এটা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য। অন্যের মনোভাব ও মতামতকে শ্রদ্ধা করার মতে সহিষ্ণু থাকা এবং যেকোনাে বিষয়ে উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে সহনশীলত।
29.শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভুত তার অর্থ---
a.সব
b.কিছুই না
c.সর্বজনীন
d.কিছু
বাংলা শূন্যবাদ বা শূন্যতাবাদ ল্যাটিন শব্দ nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ nothing বা কিছুই না। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে রাশিয়ায় এ বিপ্লবী মতবাদ বিস্তার লাভ করে । এ মতবাদীরা কোনো ক্ষমতা, নীতি - নিয়ম বা ধর্ম মানতে অস্বীকার করতো এবং ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন বলে বিবেচনা করতো । এ মতবাদ আইভান তুর্গেনিকের 'ফাদারস অ্যান্ড সানস' উপন্যাসের মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করে।
30.কোন বছর ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?
a.1995
b.1997
c.1998
d.1999
জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা UNDP ১৯৯৭ সালে সুশাসনের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সেখানে 'টেকসই মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' উপ শিরোনামে যে পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক ,রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসন প্রক্রিয়া প্রতীয়মান হবে।
31.গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো--
a.সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
b.দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
c.ত্রিভুজের দুটি বাহন বূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
d.একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা UNDP ১৯৯৭ সালে সুশাসনের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সেখানে 'টেকসই মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' উপ শিরোনামে যে পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক ,রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসন প্রক্রিয়া প্রতীয়মান হবে।
32.নিচের কোনটি 'SMART Bangladesh' এর উপাদান?
a.Smart Democracy
b.Smart Politics
c.Smart Society
d.Smart Parliament
ডিজিটাল বাংলাদেশ এর পরিবর্তিত নাম 'স্মার্ট বাংলাদেশ' (Smart Bangladesh)। 'স্মার্ট বাংলাদেশ' এর ভিত্তি বা উপাদান ৪টি। যথা- Smart Citizen, Smart Government, Smart Economy, Smart Society.
33.সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল'-এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
a.জাতিসংঘ
b.জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি
c.বিশ্বব্যাংক
d.এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক (World Bank) রিপোর্টে সুশাসন এর ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলা হলঃ
(১) সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
(২) জবাবদিহিতা
(৩) অংশগ্রহণ
(৪) স্বচ্ছতা
ইউনেস্কো (UNESCO) বিশ্বব্যাংকের এই ৪টি উপাদানের সাথে আরও একটি যোগ করেছে (মোট ৫ টি) সেটি হলঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি উপাদান এর কথা বলেছেন এগুলা হলঃ
(১) বৈধতা
(২) জবাবদিহিতা
(৩) আইনের শাসন
(৪) মানবাধিকার
(৫) সাম্য
আইডিএ (IDP) সুশাসনের ৪টি উপাদান এর কথা বলেছেন এগুলা হলঃ
(১) জবাবদিহিতা
(২) স্বচ্ছতা
(৩) আইনের শাসন
(৪) অংশগ্রহণ
UNESCO - The United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization
UNDP - United Nations Development Programme
IDP - INTERNATIONAL DEVELOPMENT AGENCY
34."দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।"-উক্তিটি কে করেছেন?
a.আর. বি. পেরি
b.প্লেটো
c.সি. ডি. ব্রড
d.বাট্রান্ড রাসেল
বার্ট্রান্ড রাসেল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ এবং সাহিত্যিক। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে- 'Political Ideals', 'Proposed Roads to Freedom', 'Power: A New Social Analysis', 'Human Society in Ethics and Politics', 'My Philosophical Development' প্রভৃতি। বাট্রান্ড রাসেল এর ভাষায়, 'দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।'
35.জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নীতিমালা কত সালে পাশ হয়?
a.2010
b.2011
c.2012
d.2018
শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে।
36."মানুষ হও এবং মরে বাঁচ।" এটি কার উক্তি?
a.প্লেটো
b.হেগেল
c.জি. ই. ম্যুর
d.রাসেল
আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল। তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত। তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও। জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র“মানুষ হও” (Be a person): “মানুষ হও”-এ উক্তিটির মাধ্যমে হেগেল স্বাতন্ত্রবােধ ও ব্যক্তিত্ববােধের মধ্যকার পার্থক্য দেখানাের চেষ্টা করেন।
37.নিচের কোনটি সুশাসনের মূলনীতি?
a.স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
b.কর্তৃত্ববাদী শাসন
c.বেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
d.স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
Wold Bank 2000 সালে সুশাসনের চারটি স্তুম্ভের কথা বলেন, তা হলো-
১.দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা
৩. আইনি কাঠামো ও
৪.অংশগ্রহণ
38.বাংলাদেশের 'নব্য-নৈতিকতার' প্রবর্তক হলেন-
a.মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
b.জি. সি. দেব
c.আরজ আলী মাতুব্বর
d.আব্দুল মতীন
আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেঁকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্হলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য , ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন৷
তবে জর্জ সিরিজের বই অনুসারে (পৃষ্ঠা -০৪) নব নৈতিকতার জনক বাঙ্গালী দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেব বা জি.স.দেব।
নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। মানুষের আচরণ বা ঐচ্ছিক ক্রিয়া (Voluntary action) হচ্ছে নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
40.Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
a.হেগেল
b.কাস্ট
c.বেস্থাম
d.পিটার সিঙ্গার
অ্যানিমেল লিবারেশন: আ নিউ এথিক্স ফর আওয়ার ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিমালস অস্ট্রেলিয়ান দার্শনিক পিটার সিঙ্গার 1975 সালের বই। পশু মুক্তি আন্দোলনের মধ্যে এটিকে এর ধারণাগুলির প্রতিষ্ঠাতা দার্শনিক বিবৃতি হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়।
41.নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
a.সামাজিক অবক্ষয়ের
b.মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
c.সুশাসনের
d.শিক্ষার গুণগতমানের
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
42.সুশাসন' শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
a.জাতিসংঘ
b.ইউ.এন.ডি.পি
c.বিশ্বব্যাংক
d.আই.এম.এফ
সুশাসন' শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
43.Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে নিচের কোন বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়?
a.টেকসই উন্নয়ন
b.সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
c.ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
d.উপরের কোনোটিই নয়
Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে নিচের কোন বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়?
44." আইনের চোখে সব নাগরিক সমান।"----বাংলাদেশের সংবিধানের কত নম্বর ধারায় এ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে?
a.ধারা ০৭
b.ধারা ২৭
c.ধারা ৩৭
d.ধারা ৪৭
"আইনের চোখে সব নাগরিক সমান" ধারা টি বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৭ তম ধারাতে রয়েছে, যেখানে নাগরিক অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
45.সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals) অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?
a.সুশাসনের সামাজিক দিক
b.সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
c.সুশাসনের মূল্যবোধের দিক
d.সুশাসনের গণতান্ত্রিক দিক
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals) অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?
46.সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে---
a.মত প্রকাশের স্বাধীনতা
b.প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
c.নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
d.নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে---
47.সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কী?
a.আইনের শাসন
b.নৈতিকতা
c.সাম্য
d.উপরের সবগুলো
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কী?
48.মূল্যবোধ (Values) কী?
a.মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
b.শুধুমাত্র মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা
c.সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
d.মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
মূল্যবোধ (Values) কী?
49.মানুষের কোন ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়?
a.ঐচ্ছিক ক্রিয়া
b.অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
c.ইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া
d.ক ও গ নামক ক্রিয়া
মানুষের কোন ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়?
50.নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী?
a.মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান
b.মানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা
c.সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা
d.সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন
নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী?
51.সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো -
a.সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
b.নিজের অধিকার ভোগ করা
c.সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
d.নিয়মিত কর প্রদান করা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকগণের কর্তব্যগুলো হলো নিয়মিত কর প্রদান করা, আইন মান্য করা, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা, সন্তানদের শিক্ষাদান করা, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, আইন শৃংখলা রক্ষায় সাহায্য করা এবং সংবিধান মেনে চলা।
52.জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো -
a.দারিদ্র বিমোচন
b.মৌলিক অধিকার রক্ষা
c.মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
d.নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো " মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন "। জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে ।
53.মূল্যবোধ হলো -
a.মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
b.মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
c.সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
d.মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
মূল্যবোধ হলো - মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড । এর আদর্শে মানুষের আচার ব্যবহার, রীতি - নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় ।
54.অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
a.দুর্নীতি দূর হয়
b.বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
c.আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
d.কোনোটিই নয়
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে - বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়.
55.মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো-
a.উন্নয়ন
b.গণতন্ত্র
c.সংস্কৃতি
d.সুশাসন
মানুষ হিসেবে যে সকল কর্মকান্ড আমরা করে থাকি তা সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয়ে থাকে । সংস্কৃতিই যেহেতু মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায় তাই স্বাভাবিকভাবেই সংস্কৃতি মূল্যবোধের চালিকা শক্তি ।
56.বিপরীত বৈষম্য' এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়-
a.নারীদের ক্ষেত্রে
b.সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
c.প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে
d.পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
বিপরীত বৈষম্য নীতি প্রয়োগ করা হয় সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। সংখ্যাগরিষ্ঠের সুবিধা এবং সংখ্যালঘুদের বঞ্চনা ও ক্ষমতা হীনতা বোঝাতেই মূলত বিপরীত বৈষম্য নীতি প্রয়োগ করা হয়। কোন দেশ বা সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের তুলনায় বঞ্চিত বা হেই প্রতিপন্ন সম্প্রদায় বিশেষ হচ্ছে সংখ্যালঘু।
57.সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো -
a.গণতন্ত্র
b.বিচার ব্যবস্থা
c.সংবিধান
d.আইনের শাসন
সভ্য সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সমাজে বাস্তবায়িত হয় আইনের শাসনের মাধ্যমে। যথার্থ আইনের শাসন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে ৷
58."আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি।" এটি -
a.নৈতিক অনুশাসন
b.রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
c.আইনের শাসন
d.আইনের অধ্যাদেশ
নৈতিকতা একটি সামাজিক ব্যাপার। যে সমাজের বাইরে বাস করে তার কোনো নৈতিকতার প্রয়োজন নেই । নৈতিক অনুশাসন মানুষকে শিক্ষা দেয় মিথ্যা বলা ভালো না, চুরি করা খারাপ কাজ ইত্যাদি । নৈতিক অনুশাসন মূলত স্বতঃসিদ্ধ ও সমাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত নীতিবাক্য ।
59.বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন-
a.মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
b.জি.সি দেব
c.আরজ আলী মাতুব্বর
d.আবদুল মতীন
জর্জের বই অনুসারে (পৃষ্ঠা -০৪) নব নৈতিকতার জনক বাঙ্গালী দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেব বা জি.স.দেব।
60.তথ্য পাওয়া মানুষের কী ধরনের অধিকার ?
a.রাজনৈতিক অধিকার
b.অর্থনৈতিক অধিকার
c.মৌলিক অধিকার
d.সামাজিক অধিকার
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে, তথ্য অধিকার সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকার অংশের চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেজন্য তথ্য অধিকার মৌলিক অধিকার।
61.‘রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক’। কে এই উক্তি করেন?
a.এইচ. ডি. স্টেইন
b.এম. ডব্লিউ, পামফ্রে
c.মিশেল ক্যামডেসাস
d.জন স্মিথ
রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শ্বাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। যেসব কারণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্তজরুরি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন গড়া, সরকারের স্থিতিশীলতা আনয়নে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়া, নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহারে সচেষ্ট হওয়া ইত্যাদি ।
62.প্লেটো ‘সদগুণ’ বলতে বুঝিয়েছেন-
a.প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
b.আত্মপ্রত্যয়, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ
c.সুখ, ভালোত্ব ও প্রেম
d.প্রজ্ঞা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সুখ ও ন্যায়
বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন প্লেটো। তিনি ছিলেন দার্শনিক সক্রেটিসের যোগ্য শিষ্য। তাঁর প্রধান তত্ত্বসমূহ ছিলঃ ন্যায়তত্ত্ব, সাম্যবাদ তত্ত্ব, দার্শনিক রাজা, শিক্ষাতত্ত্ব, সর্বাত্মকবাদ তত্ত্ব, আদর্শ রাষ্ট্র। প্লেটো মনে করতেন, ন্যায়বিচার হলো যার যা পাওনা তা দিয়ে দেওয়া। যে ব্যক্তি যে কাজে যোগ্য তাকে সে কাজের দায়িত্ব দেওয়া। তিনি বলতেন, শাসক ন্যায়বান হলে আইন দরকার নেই। কিন্তু শাসক দুর্নীতিপরায়ণ হলে সেখানে আইন মূল্যহীন। তিনি মানবমনের 'ক্ষুধা, সাহস ও প্রজ্ঞা' এই তিন প্রবণতার কথাও বলেন।।
63.মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-
a.গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
b.সুশাসনের মাধ্যমে
c.ধর্মের মাধ্যমে
d.শিক্ষার মাধ্যমে
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় শিক্ষার মাধ্যমে। পরিবারের মাধ্যমে শিশুকাল থেকেই মূল্যবোধ গঠনের ভিত্তি রচিত হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কিছু মূল্যবোধ দৃঢ় হয় এবং কিছু মূল্যবোধ হারিয়ে যায়। আবার কিছু মূল্যবোধ পরিশোধিত হয়ে মার্জিত ও সুন্দর রূপ ধারণ করে। গবেষণায় দেখা যায়, কিছু মূল্যবোধ জন্মগত এবং কিছু মূল্যবোধ অর্জিত । মূল্যবোধ বিকাশের ভিত্তি হলোঃ ব্যক্তির জৈবিক ও জন্মগত চাহিদা; পারিবারিক ঐতিহ্য, রীতিনীতি, ধর্ম ও বিশ্বাস; দল: শিক্ষা ও সংস্কৃতি সাহিত্য, গণমাধ্যম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্পকলা, গবেষণা ইত্যাদি।
64.মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো-
a.বিভিন্নতা
b.পরিবর্তনশীলতা
c.আপেক্ষিকতা
d.সবগুলো
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যঃ ০১. পরিবর্তনশীলতাঃ পরিবর্তনশীলতা মূল্যবোধের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। সামাজিক পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে যে মূল্যবোধ আমাদের নিকট আকর্ষনীয় বলে গৃহীত হয়, কালের আবর্তে তাই আবার নিতান্ত অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। সামাজিক চাহিদার উপর ভিত্তি করে এটি পরিবর্তিত হয়। ০২. বিভিন্নতাঃ মূল্যবোধের ওপর একটি বৈশিষ্ট্য হলো ‘বিভিন্নতা'। মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ পাশ্চাত্য দেশ সমূহে মদ্যপান নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার কিন্তু আমাদের সমাজে এটিঘৃণার কাজ। তাই দেখা যায় যে, মূল্যবোধ স্থান কাল পাত্রভেদে বিভিন্নরূপ পরিগ্রহ করে। ০৩. সামাজিক মাপকাঠি। ০৪. নৈতিক প্রাধান্য । ০৫. সামাজিক সেতুবন্ধন। ০৬. আপেক্ষিকতাঃ মূল্যবোধ বৈচিত্রময় এবং আপেক্ষিক। আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচিত নাও হতে পারে।
65.গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
a.অনুচ্ছেদ ১৩
b.অনুচ্ছেদ ১৮
c.অনুচ্ছেদ ২০
d.অনুচ্ছেদ ২৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮নং অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
66."Political Ideals" গ্রন্থের লেখক কে?
a.মেকিয়াভেলি
b.রাসেল
c.প্লেটো
d.এরিস্টটল
"Political Ideals" গ্রন্থটি লিখেছেন ব্রিটিশ দার্শনিক Bertrand Russell. মেকিয়াভেলির সবচেয়ে বিখ্যাত বই হলো 'The Prince'. প্লেটোর সবচেয়ে বিখ্যাত বই হলো 'The Republic'. এরিস্টটলের সবচেয়ে বিখ্যাত বই হলো “The Politics'.
67.‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল’। এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
a.জাতিসংঘ
b.জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
c.এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
d.বিশ্বব্যাংক
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল'। এই অভিমত বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে। ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, গর্ডন্যান্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলোঃ দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণ।
68.সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো
a.সুশাসন
b.রাষ্ট্র
c.নৈতিকতা
d.সমাজ
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো সমাজ। কারণ সমাজের মাধ্যমে কোন একটি সভ্যতা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সমাজ ছাড়া কোনো সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এজন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন 'মানুষ স্বভাবতই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না, সে দেবতা না হয় পশু।
69.কে ‘কর্তব্যের নৈতিকতা’র ধারণা প্রবর্তন করেন?
a.হ্যারল্ড উইলসন
b.এডওয়ার্ড ওসবর্ন উইলসন
c.জন স্টুয়ার্ট মিল
d.ইমানুয়েল কান্ট
ইমানুয়েল কান্ট ‘কর্তব্যের নৈতিকতা'র ধারণা প্রবর্তন করেন। জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪ - ১৮০৪) আধুনিক দর্শনের কেন্দ্রীয় অবস্থানটি ধারণ করে আছেন। তার অন্যতম তিনটি বই হচ্ছে 'দি ক্রিটিক অব পিওর রিজন' (১৭৮১), 'দি ক্রিটিক অব প্র্যাকটিক্যাল রিজন' (১৭৮৮) এবং 'দি ক্রিটিক অব দি পাওয়ার অব জাজমেন্ট' (১৭৯০)।
70.কোন মূল্যবাধ রাষ্ট্র, সরকার ও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?
a.সামাজিক মূল্যবোধ
b.ইতিবাচক মূল্যবোধ
c.গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
d.নৈতিক মূল্যবোধ
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্যে ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সমাজের মানুষের আচরণের মানদণ্ড ও মাপকাঠি। সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি। সামাজিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে মানুষের কাজের ভাল মন্দের বিচার করা হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধঃ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে লক্ষ, চিন্তাভাবনা, উদ্দেশ্যে ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ সব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। নৈতিক মূল্যবোধঃ নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে নৈতিক মূল্যবোধকে বিবেচনা করা হয়। নৈতিক মূল্যবোধ ব্যক্তির জীবনকে উন্নত মানে নিয়ে যায়।
71.উৎপত্তি অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
a.ল্যাটিন
b.গ্রিক
c.হিব্রু
d.ফারসি
গ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিকগ্রিক গ্রিক গ্রিক
72.On Liberty' গ্রন্থের লেখক কে?
a.ইমানুয়েল কান্ট
b.টমাস হবস
c.জন স্টুয়ার্ট মিল
d.জেরেমি বেন্থাম
ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত On Liberry মছটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে তিনি স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় এবং উপযোগবাদের নৈতিক ব্যবস্থার দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
73.নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
a.সমাজ
b.নৈতিক চেতনা
c.রাষ্ট্র
d.ধর্ম
নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনে অনুসরণযোগ্য এমন কিছু আচরণ বিধি, মানুষের জীবন ব্যবস্থা ও জীবন পদ্ধতিকে সঠিক সুন্দর পথে পরিচালনা করে। ধর্মের কল্যাণধর্মী মর্মবাণী অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে মানুষের জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটে। ধর্ম থেকে উৎসারিত নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন - অগ্রগতি সাধন করে।
74.সুশাসনের মূল ভিত্তি কী?
a.মূল্যবোধ
b.আইনের শাসন
c.গণতন্ত্র
d.আমলাতন্ত্র
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক উপায়ে নিশ্চিত করে তাকে সুশাসন বলে। সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন। এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ। একটি দেশের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার কারণ এর মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারি ক্ষমতা ও আধিপতা রোধ করা যায়।
75.’শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন , আর শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর -এটি কে বলেছেন?
a.সক্রেটিস
b.প্লেটো
c.অ্যারিষ্টটল
d.বেনথাম
প্লেটোর মতে আদর্শ রাষ্ট্রের শাসন থাকবে দার্শনিক রাজাদের উপর। এদের প্রধান হল ক্ষমতার প্রতি তারা মোহান্বিত হবেন না। প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি। এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন। তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। কারণ প্লেটো মনে করতেন 'শাসক যদি মহৎগুণসম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি সম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর।
76.বিশ্বব্যাংকের মতে সুশানের উপাদান কয়টি?
a.৩টি
b.৫টি
c.৪টি
d.৬টি
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংকের Governance: The world Bank's Experience Report অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান চারটি। যথা: ১. সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ২. জবাবদিহিতা, ৩. আইনি কাঠামো, ৪. স্বচ্ছতা, ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি অঙ্কের কথা বলেছেন। যথা: ১. দায়িত্বশীলতা, ২. স্বচ্ছতা, ৩. আইনি কাঠামো, ৪. অংশগ্রহণ। বিশ্বব্যাংক (১৯৯৬ ২০০৮) দশকে ৬টি মাত্রার কথা উল্লেখ করেছে 1. বাক - স্বাধীনতা, ২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি, ৩. সরকারের কার্যকারিতা ৪. নিয়ন্ত্রণ নে. ৫. আইনের শাসন, ৬. দুর্নীতি।
77.বাংলাদেশে কত সালে জাতীয় শুদ্ধচারণ কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
a.2010
b.2011
c.2012
d.2013
রাষ্ট্রের সর্বত্র চাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সুখী - সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রায় বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে। এটি রাষ্ট্রের বিদ্যমান নিয়মনীতি ও আইন কানুনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
78.কোন নৈতিক মানদন্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?
a.আত্মস্বার্থবাদ
b.পরার্থবাদ
c.পূর্ণতাবাদ
d.উপযোগবাদ
উপযোগবাদের প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেস্থাম। তিনি ১৯৮৯ সালে তাঁর An Introduction to the Principles of Morals and Legislation 'মছে উপযোগবাদ (Utilitarianism) তথাটি প্রথম ব্যাখা করেন। উপযোগবাদের মতে, আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে। বেছাম সর্বাধিক লোকের সুখ নির্ধারণ করেন এর পরিমাপ দ্বারা। বেহামের মতে, সুখ পরিমাপের সাতটি উপায় রয়েছে। যা তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নিশ্চয়তা, নৈকটা, উর্বরতা, বিশুদ্ধতা ও বিস্তৃতি।
79.’ Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
a.প্লোটো
b.রুসো
c.বার্টান্ড রাসেল
d.জন স্টুয়াটৃ মিল
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল এর বিখ্যাত গ্রন্থ "Human Society in Ethics and Politics'' ১৯৫৪ সালে এ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এ মন্থে তিনি রাজনীতি, ধর্ম, নৈতিকতার আলোকে জ্ঞান ও আবেগের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করেছেন।
80.কর্তব্যের জন্য কর্তব্য - ধারাটির প্রবতক কে?
a.ইমানুয়েল কাস্ট
b.হার্বাট স্পেন্সার
c.বার্ট্রান্ড
d.অ্যারিস্টটল
জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট বলেছেন, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য করা উচিত। এক্ষেত্রে কোনো রকম আপোস করা চলবে না। উচিত কর্তব্য সম্পাদন নৈতিকতার দাবি।ধরুন, পিতা-মাতার সেবা করা আমাদের উচিত। এক্ষেত্রে সকল রকম চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা বা বিচেনায় না নিয়ে সেবা করতে হবে। কোনো কিছু লাভের আশায় পিতা-মাতার সেবা করলে এ কাজের নৈতিক মান শূন্য। পিতা-মাতার সেবা করে তাদের মৃত্যুর পর অনেক সম্পদ লাভ বা পিতা-মাতার আশীর্বাদ লাভ উদ্দেশ্য হলে কান্ট বলেছেন, এ কাজ কর্তব্যের জন্য কর্তব্য না হয়ে প্রত্যাশা পূরণের কাজ বলা যায়। লাভ-লোকসান বিবেচনার অর্থ তোমার মন জরাগ্রস্ত, ব্যাধিগ্রস্ত ও রোগাক্রান্ত। আগে মনের রোগ সারাতে হবে। পরিষ্কার মন নিয়ে কর্তব্যকর্ম নির্ধারণ করে কাজে অগ্রসর হতে হবে। ভালো কাজ করে মানসিক প্রশান্তি লাভ উদ্দেশ্য হলে এটি নৈতিক কর্ম না হয়ে লাভ-লোকসানের কর্ম হিসেব কান্ট বিবেচনা করেছেন।
81.সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest) এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে
a.সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজেরর বা পরিবারে সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
b.প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে
c.সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে
d.উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে।
সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest) এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজেরর বা পরিবারে সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে। স্বার্থে সংঘাত হলো সেই পরিস্থিতি যেখানে কোনো কর্মকর্তা নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালনের বাহিরে গিয়ে, স্ধিান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ পরিহার করে অন্য কোন ব্যাক্তি বা গ্রুপকে সুবিধা প্রদান করেন।
82.গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-
a.নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
b.স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
c.শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
d.পরমতসহিষ্ণুতা
মূল্যবোধের প্রকারভেদঃ
স্থান,কাল ও জাতিভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।আবার একই সমাজে বিভিন্ন প্রকার মূল্যবোধ পরিলক্ষিত হয়।যেমন -
১. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধঃ গণতন্ত্র থেকে উৎসারিত মূল্যবোধ হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।পরমত সহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রাখে এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।তাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি বলা হয়।সহনশীলতা,আনুগত্য প্রভৃতি হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
২.সামাজিক মূল্যবোধঃযে চিন্তা - ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য মানুষের সামাজিক আচার ব্যাবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।ন্যায়পরায়ণতা ,সততা ও শিষ্টাচার হল সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।এটি মূল্যবোধ মানুষের আচরণ বিচারের মানদন্ড।স্টুয়ারট সি ডড এর এর মতে,''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব রীতিনীতির সমস্টি যা ব্যাক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।' বড়দের সম্মান করা,আতিথেয়তা,সহনশীলতা, দানশীলতা প্রভৃতি হল সামাজিক মূল্যবোধ।সহনশীলতাকে সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গন্য করা হয়।
৩.বাহ্যিক মূল্যবোধঃপরিষ্কার - পরিচ্ছন্নতা, সরলতা ও পোশাক পরিচ্ছেদ প্রভৃতি হল বাহ্যিক মূল্যবোধ।
৪.রাজনৈতিক মূল্যবোধঃ আনুগত্য,রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক শৃংখলাবোধ প্রভৃতি হল রাজনৈতিক মূল্যবোধ। ব্যক্তির রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে জাতীয় মূল্যবোধ,জাতীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠে ।
৫.সাংস্কৃতিক মূল্যবোধঃমানুষ তার ধারণকৃত সংস্কৃতি থেকে যে মূল্যবোধ গ্রহণ করে তাই সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ।সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মুল্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
৬.ধর্মীয় মূল্যবোধঃধর্মীয় ঐতিহ্য,বিশ্বাস প্রভৃতি থেকে যে মূল্যবোধ গড়ে উঠে তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ।সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা,অন্যের ধর্ম পালনে বাধা না দেয়া,কোন ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রেষ্ট না ভাবা প্রভৃতি হল ধর্মীয় মূল্যবোধ ।
৭.শারীরিক ও বিনোদনমূলক মূল্যবোধঃএটি ব্যক্তি জীবনের জৈবিক ও মানসিক চাহিদা পরিতৃপ্তিতে সহায়তা করে।
৮.বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধঃ সত্যানুসন্ধ্যানের স্পৃহার সাথে সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিপ্রসূত মানবীয় আচরণের আদর্শিক দিকই বৌদ্ধিক মূল্যবোধ।
৯.পেশাগত মূল্যবোধঃপেশাগত মূল্যবোধ হল ব্যক্তির মুল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি ।
১০.নৈতিক মূল্যবোধঃব্যক্তির উচিত - অনুচিত,ভাল - মন্দ,ন্যায় - অন্যায় ইত্যাদি বিচারের যে মূল্যবোধ তা হল নৈতিক মূল্যবোধ।যেমন - ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,আর্তের সবা করা প্রভৃতি।
১১.ব্যক্তিগত মূল্যবোধঃআধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উপর।এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং প্রথমত পরিবার থেকেই শিশু এই মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।যেমন - সঞ্চয় করার প্রবনতা হল ব্যক্তিগত মূল্যবোধ।
জার্মান দার্শনিক ও সমাজ বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড স্পেন্সার মূল্যবোধকে ৬ ভাগে বিভক্ত করেছেন।যথা -
তাত্ত্বিক মূল্যবোধ,অর্থনৈতিক মূল্যবোধ,সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ,সামাজিক মূল্যবোধ,রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ।
Copied from SATT ACADEMY. Visit us at: https://sattacademy.com
83.জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম-
a.UNCLOS
b.UNCTAD
c.UNCAC
d.CEDAW
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) কনফারেন্স অব দ্য স্টেটস পার্টিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের অধীনে দুই বছর মেয়াদী এ দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাস।
84.অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
a.বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
b.দুর্নীতি দূর হয়
c.প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
d.যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে - বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়.
85.জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘ শুদ্ধাচার’ হচ্ছে-
a.শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
b.সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদন্ড
c.সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
d.দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদন্ড
শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
86.বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দন্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে যে বিধানে-
a.১৮৬০ সালে প্রণীত দন্ড
b.২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন
c.২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপীল ) বিধিমালা
d.উপরের সবগুলো
প্রশ্নে উল্লিখিত অপশনের সকল আইনের দুর্নীতি দুন্ডীয় অপরাধ।
87.যে গুণের মাধ্যমে মানুষ ‘ভুল’ ও ‘শুদ্ধ’ এর পার্থক্য নির্ধারন করতে পারে. তা হচ্ছে-
a.সততা
b.সদাচার
c.কর্তব্যবোধ
d.মূল্যবোধ
মূল্যবোধের কতগুলো সংজ্ঞা নিচে উল্লেখ করা হলো:
ব্যক্তির জানা, পরিচিত বা নিজের আয়ত্তে যা কিছু আছে, তার চেয়েও অধিকতর মূল্যবান, যা কিছু সঞ্চয় করে রাখার মতো তা হলো মূল্যবোধ।
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ডকে মূল্যবোধ বলে।
কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাসকে মূল্যবোধ বলে।
সমাজবিজ্ঞানী ডেবিড পোপেনো (David Popenoe) বলেছেন, “ভালো - মন্দ, ঠিক - বেঠিক, কাঙ্ক্ষিত - অনাকাঙ্ক্ষি সমাজের সদস্যদের যে ধারণা, তার নামই হলো মূল্যবোধ।
সমাজবিজ্ঞানী এফ. ই. স্পেন্সার বলেছেন, ” মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা আচরণের ভালো - মন্দ বিচারের এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন লক্ষ্য হতে কোনো একটি পছন্দ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
সমাজবিজ্ঞানী এফ. ই. মেরিল (F. E. Merril) - এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
88.সততার জন্য সদিচ্ছা’র কথা বলেছেন-
a.ডেকার্ট
b.ডেভিড হিউম
c.ইমানুয়েল কান্ট
d.জন লক
ইমানুয়েল কান্ট Good Will নিয়ে তত্ত্ব দিয়েছেন।
89.প্রাথমিকভাবে একজন মানুষের মানবীয় গুণাবলী ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে-
a.সমাজে বসবাসের মাধ্যমে
b.বিদ্যালয়ে
c.পরিবারে
d.রাষ্ট্রের মাধ্যমে
মূল্যবোধের উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবার, গোষ্ঠী, সমাজ, বিদ্যালয়, বন্ধু বা সঙ্গী - সাথী, আত্মীয় - স্বজন, প্রতিষ্ঠান, ধর্ম, বই ইত্যাদি।
90.রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী-
a.আইনের প্রয়োগের অভাব
b.নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব
c.দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
d.অসৎ নেতৃত্ব
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি প্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র আজ অবক্ষয়ের সম্মুখীন।
91.সুশাসনের মূলভিত্তি –
a.গণতন্ত্র
b.আমলাতন্ত্র
c.আইনের শাসন
d.মূলুবোধ
সুশাসনের মূল্যভিত্তি আইনের শাসন
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক উপায়ে নিশ্চিত করে তাকে সুশাসন বলে। সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন। এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ। একটি দেশের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন থাকা দরকার কারণ এর মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারি ক্ষমতা ও আধিপতা রোধ করা যায়।
92.শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
a.অ্যারিস্টটল
b.বার্ট্রান্ড রাসেল
c.হার্বার্ট স্পেন্সার
d.ইমানুয়েল কান্ট
শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট
93.মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
a.ধর্ম
b.সমাজ
c.নৈতিক চেতনা
d.রাষ্ট্র
মূল্যবোধের উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবার, গোষ্ঠী, সমাজ, বিদ্যালয়, বন্ধু বা সঙ্গী-সাথী, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিষ্ঠান, ধর্ম, বই ইত্যাদি। মূল্যবোধ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Value এটি গঠিত হয়েছে তিনটি ল্যাটিন শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের ভিত্তিতে।
94.নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
a.শুদ্ধাচার
b.মূল্যবোধ
c.মানবিকতা
d.সফলতা
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।
95.‘জ্ঞান হয় পুণ্য’—এই উক্তিটি কার?
a.বেশিস
b.সক্রেটিস
c.এ্যারিস্টটল
d.প্লেটো
এথেন্সের সক্রেটিস প্রাচীন গ্রীক দর্শনের বিকাশে অবদানের জন্য বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন যা সমস্ত পশ্চিমা দর্শনের ভিত্তি প্রদান করেছিল। তিনি প্রকৃতপক্ষে এই কারণে "পাশ্চাত্য দর্শনের জনক" হিসাবে পরিচিত।
96.সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
a.সামাজিক দিক
b.অর্থনৈতিক দিক
c.মূল্যবোধের দিক
d.গণতান্ত্রিক দিক
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের অর্থনৈতিক দিকটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা MDG এর প্রধান লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য নির্মূল করা। আর দরিদ্রতা দূর করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দারিদ্র্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারের উপর করতে হেব দারিদ্র্যসীমার মধ্য থেকে বের হয়ে আসার জন্য। আর এজন্যই MDG - এর লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের অর্থনৈতিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়।
Utilitarianism' গ্রন্থের লেখক হলো জন স্টুয়ার্ট মিল
John Stuart Mill's book Utilitarianism is a classic exposition and defence of utilitarianism in ethics. The essay first appeared as a series of three articles published in Fraser's Magazine in 1861 (vol. 64, p
99.শাসনের পূর্বশর্ত কী?
a.নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
b.নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
c.প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
d.মত প্রকাশের স্বাধীনতা
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সুশাসন হলো একটি কাঙ্কিত বিষয়, যা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয়গুলো পূর্ণমাত্রায় বজায় থাকলেও যদি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি না থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সুশাসন থাকে না। কেননা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় যাবতীয় কাজের সমালোচনা করে সুন্দর রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
100.ভালো-মন্দ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
a.নৈতিক
b.অর্থনৈতিক
c.রাজনৈতিক
d.সামাজিক
যে ধরনের মূল্যবোধের মাধ্যমে এই ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিচার করা যায়, তাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা হয়।